বুরকিনা ফাসোর জাতীয় নায়ক থমাস সানকারা

 


 (বুরকিনা ফাসো পশ্চিম আফ্রিকা একটি ছোট দেশ চারদিকে স্থল দ্বারা বেষ্টিত এর পরিধি ,৭৪,২০০ বর্গকিলোমিটার দেশটির উত্তরপশ্চিমে মালি, উত্তরপূৰ্বে নাইজার, দক্ষিণপূৰ্বে বেনিন, দক্ষিণে ট ও ঘানা এবং দক্ষিণপশ্চিমে আইভরি কোস্ট। জন সংখ্যা ২০২১ সালের তথ্য অনুসারে ২,০৩,২১,৩৭৮ জন।)

 বুরকিনা ফাসোর জাতীয় নায়ক থমাস    

                সানকারা

থমাস ইসিডোর নোয়েল সানকারার জন্ম ১৯৪৯ সালের ২১ ডিসেম্বর ফ্রেঞ্চ আপার ভোল্টার ইয়াকোতে। তার পিতার নাম জোসেফ সানকারা এবং মাতৃমার্গুয়েরিট কিণ্ডা সানকারাতিনি পিতা-মাতার দশ সন্তানের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। তার পিতা জোসেফ সানকারা  জেন্ডারমে মিশ্র মোসি-ফুলানী (সিলমি-মোয়াগা) ঐতিহ্যের অধিকারী ছিলেন এবং তার মা মার্গুয়েরিট কিন্ডা ছিলেন সরাসরি মসি বংশোদ্ভূততাঁর পিতা গাউয়া নামক একটি শহরে শান্তিরক্ষক সিপাহি হিসাবে কর্মরত ছিলেন তাই তিনি তাঁর প্রাথমিক জীবন গাউয়াতেই অতিবাহিত করেছিলেনঔপনিবেশিক রাষ্ট্র দ্বারা নিযুক্ত আফ্রিকান কর্মীর সন্তান হিসাবে শৈশবে  তিনি তুলনামূলকভাবে আড়ম্বরপূর্ণ জীবন উপভোগ করেছিলেন। পরিবারটি অন্যান্য শান্তিরক্ষক সিপাহি পরিবারের সাথে গাউয়ার পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি ইটের বাড়িতে বসবাস করতেন

থমাস সানকরা দেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র বোবো-দিউলাসোর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। তিনি পড়াশুনায় খুবই ভালো ছিলেন এবং গণিত ফরাসি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তিনি প্রায়ই গীর্জায় যেতেনথমাস সানকারার মেধাশক্তি এবং শেখার আগ্রহ দেখে মুগ্ধ হয়ে  কিছু পুরোহিত প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করার পরে তাঁকে সেমিনারী স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। তিনি ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থায় ষষ্ঠ শ্রেণীতে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় অবতীর্ণ হোন এবং সেই প্রবেশ পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণন।লাইসি ওয়েজিন কুলিবালি(স্বাধীনতা-পূর্ব জাতীয়তাবাদীর নামানুসারে)তে শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর জীবনের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হিসাবে প্রমাণিত হয়েছিল। এই পদক্ষেপটি তাঁকে তার পিতার পরিবার থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলো, যেহেতু লাইসি দেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র বোবো-ডিওলাসোতে ছিল। লাইসিতে থমাস সানকারার অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন, যার মধ্যে ফিদেল টু অ্ন্যতম ছিলেন ফিদেল টুকে তিনি পরে তাঁর সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন

    অধ্যয়ন শেষে তাঁর বাবা তাঁকে একজন রোমান ক্যাথলিক যাজক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে উসাহিত করেছিলেন, কিন্তু তিনি সামরিক বাহিনীতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেনসামরিক বাহিনী সেই সময়ে খুবই জনপ্রিয় ছিল এবং রাষ্ট্রপতি মাউরিচ নাবালাগম্বা ইয়েমেগু(১৯৫৯-১৯৬৬)কে(রিপাবলিক অফ আপার ভোণ্টা, বর্তমান বুরকিনা ফাসোর প্রথম রাষ্ট্রপতি)কে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। সামরিক বাহিনীকে তরুণ বুদ্ধিজীবীরা একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবেও বিবেচনা করেছিলেন যারদ্বারা অদক্ষ এবং দুর্নীতিগ্রস্ত আমলাতন্ত্রকে শৃঙ্খলাবদ্ধ, ঐতিহ্যবাহী প্রধানদের অত্যধিক প্রভাবকে প্রতিহত এবং সাধারণত দেশকে আধুনিকীকরণে সহায়তা করা সম্ভব বলে বিবেচনা করতেনএছাড়াও মিলিটারি একাডেমিতে ভর্তি হলে স্কলারশিপও পাওয়া যেতোযারদ্বারা সহজে পরবর্তী শিক্ষার খরচ বহন করতে পারবেন বলে থমাস সানকারা আশাবাদী ছিলেনতিনি মিলিটারি একাডেমিতে প্রবেশ পরীক্ষায় অবতীর্ণ হোন এবং তিনি প্রবেশ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হোন।

১৯৬৬ সালে ১৭ বছর বয়সে থমাস সানকারা ওয়াগাডুগোর কাদিওগোর সামরিক একাডেমিতে ভর্তি হোনসেখানে অধ্যয়নকালে তিনি ১৯৬৬ সালের জানুয়ারি লেফটেন্যান্ট-কর্নেল সাঙ্গোলে লামিজানার নেতৃত্বে আপার ভোল্টায় সংঘটিত প্রথম সামরিক অভ্যুত্থান প্রত্যক্ষ করেছিলেনশিক্ষানবিশ কর্মকর্তাদের সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয়গুলি বেসামরিক অধ্যাপকরা পড়াতেন। আদামা টুরে ইতিহাস ও ভূগোল পড়াতেন তিনি প্রগতিশীল চিন্তাধারার জন্য পরিচিত ছিলেন, যদিও তিনি সেগুলি প্রকাশ্যে শেয়ার করতেন না সেই সময়ে তিনি একাডেমিক ডিরেক্টর ছিলেন। তিনি তাঁর কয়েকজন প্রতিভাসম্পন্ন এবং রাজনৈতিক বিষয়ে আগ্রহী ছাত্রদের নিয়ে আলোচনা করতেন সেই ছাত্রদের মধ্যে থমাস সানকারাও অন্যতম ছিলেন আদামা আদামা টুরে সাম্রাজ্যবাদ, নব্য উপনিবেশবাদ, সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজম, সোভিয়েত এবং চীনা বিপ্লব, আফ্রিকার মুক্তি আন্দোলন এবং ক্লাসরুমের বাইরে অনুরূপ বিষয় সম্পর্কিত অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় যোগ দিতেনথমাস সানকারা সেই আলোচনার মাধ্যমেই পদ্ধতিগতভাবে আপার ভোল্টা এবং বিশ্বের বৈপ্লবিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে পরিচিত হয়েছিলেনথমাস সানকারা তখনই একাডেমিক এবং পাঠ্যক্রমের বহির্ভূত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সঙ্গীতের প্রতিও আকৃষ্ট হয়েছিলেন এবং তিনি গিটার বাজাতে শিখেছিলেন

১৯৭০ সালে ২০ বছর বয়সী থমাস সানকারা মাদাগাস্কারের অ্যান্টসিরাবে অবস্থিত সামরিক একাডেমিতে অধিক উন্নত সামরিক অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হোন এবং সেখান থেকে তিনি ১৯৭৩ সালে জুনিয়র অফিসার হিসাবে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেনঅ্যান্টসিরাব একাডেমিতে তিনি  সামরিক বিষয়ের বাইরেও কৃষি বিষয়ে অধ্যয়ন করেছিলেন কৃষি বিষয়ের মধ্যে তিনি কীভাবে ফসলের ফলন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জীবন উন্নত করণ প্রভৃতি বিষয়গুলি অধ্যয়ন করেছিলেন এবং পরবর্তী জীবনে সেগুলো তিনি তাঁর প্রশাসন এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রগতিতে ব্যবহার করেছিলেন। সেই সময়কালে, তিনি ইতিহাস এবং সামরিক কৌশলের উপর প্রচুর পরিমাণে অধ্যয়ন করেছিলেন এবং তিনি রাজৈনতিক ধারণা ও বিশ্লেষণমূলক কৌশল অর্জন করেছিলেন সেগুলি তিনি পরবর্তী জীবনে বুর্কিনাবের রাজনৈতিক ইতিহাস পুনর্গঠনের জন্য ব্যবহার করেছিলেন।

১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণের পর, থমাস সানকারা ১৯ বছর বয়সে সামরিক কর্মজীবন শুরু করেন এবং এক বছর পর অফিসার হিসাবে সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য তাঁকে মাদাগাস্কারের আন্টসিরাবেতে পাঠানো হয় সেখানে ১৯৭১ এবং ১৯৭২ সালে ফিলিবার্ট সিরানানা(ফিলবার্ট সিরানানা ১৯৫৮ সাল থেক ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত প্রধান মন্ত্রী এবং ১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মাদাগাস্কারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন) সরকারের বিরুদ্ধে জনপ্রিয় বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিলো এই সমযে তিনি কার্ল মার্কস এবং ভ্লাদিমির লেনিনের লেখাগুলো পড়েছিলেন এবং লেখাগুলো বৰ্তী জীবনে তাঁর রাজনৈতিক মতামতকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

১৯৭২ সালে আপার ভোল্টায় ফিরে এসে তিনি ১৯৭৪  সালে আপার ভোল্টা এবং মালির মধ্যে সংঘটিত সীমান্ত যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। যুদ্ধের সময় প্রদর্শিত পারফরম্যান্স(পারদর্শিতা)এর জন্য তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, কিন্তু কয়েক বছর পরে তিনি যুদ্ধকে 'অকার্যকর এবং অন্যায্য' বলে পরিত্যাগ করেছিলন, যা তাঁর পরিপক্ক বুদ্ধির প্রতিফলন ছিলোরাজনৈতিক চেতনার জন্য তিনি রাজধানী ওয়াগাদুগুতেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেনথমাস সানকারা একজন দক্ষ গিটারিস্ট ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে টাউট-এ-কপ জ্যাজ নামে একটি ব্যান্ডপার্টি দল প্ৰতিষ্ঠা করেছিলেন

১৯৭৬ সালে তিনি পি,ও(দক্ষিণ বুরকানা ফাসোর একটি শহর)- এর কমান্ডো ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ডার হিসাবে যোগদান করেনএকই বছরে তিনি মরক্কোতে ব্লেইজ কমপাওর(রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তিনি ১৯৮৭  সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বুরকিনা ফাসোর রাষ্ট্রপিত ছিলেন)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। কর্নেল সায়ে জারবো(সায়ে জারবো ১৯৮০ সালের ২৫ নভেম্ববর থেকে ১৯৮২ সালের ৭ নভেম্বর পৰ্যন্ত বুরকিনাবে ফাসোর রাষ্ট্রপতি ছিলেন)রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন একদল তরুণ অফিসারদের নিয়ে 'কমিউনিস্ট অফিসার্স গ্রুপ' (Regroupement des officiers communistes, or ROC) নামে একটি গোপন সংগঠন গঠন করা হয়েছিলো, যার সবচেয়ে প্রমুখ সদস্য ছিলেন হেনরি জঙ্গো, জিন-ব্যাপটিস্ট, বুকারি লিঙ্গানি, ব্লেইসে কমপাওর এবং থমাস সানকারা

থমাস সানকারা ১৯৮১ সালের সেপ্তেম্বর মাসে সায়ে জারবোর সামরিক সরকারের তথ্যমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেনথমাস সানকারা অন্যান্য সরকারি আধিকারিকদের থেকে অনেক ক্ষেত্রে পৃথক ছিলেন তিনি গাড়ী চালানো পরিবৰ্তে প্রতিদিন বাইক চালিয়ে কাজে যেতেনতাঁর পূর্বসূরিরা সাংবাদিক ও সংবাদপত্র সেন্সর করতেন, থমাস সানকারা অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করতেন এবং কার্যক্ষেত্রে যা পাওয়া যেতো, তা ছাপানোর জন্য মিডিয়াকে অনুমতি দিতেনএর ফলে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উভয় সংবাদপত্র সরকারী কেলেঙ্কারি প্রকাশের ক্ষেত্রে সাহিত হতেন১৯৮২ সালের ১২ এপ্রিলে তিনি শাসকের শ্রম-বিরোধী প্রবণতার বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেছিলেন

১৯৮২ সালে নভেম্বরে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের দ্বারা মেজর-ডক্টর জিন-ব্যাপটিস্ট ওয়েড্রোগো ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থমাস সানকারা ১৯৮৩ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং তিনি উক্ত সালেরই ১৭ মেতে বরখাস্ত হয়েছিলেন চার মাস তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং এই চার মাসের মধ্যে তিনি প্রগতিশীল সংস্কারের জন্য ওয়েড্রাওগো সরকারকে চাপ দিয়েছিলেনফরাসি প্রেসিডেন্টের আফ্রিকান বিষয়ক উপদেষ্টা গাই পেনে, কর্নেল ইয়োরিয়ান সোমের সাথে দেখা করার পর সানকারাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলোএই সময়ে হেনরি জোঙ্গো এবং জিন-ব্যাপটিস্ট বুকারি লিঙ্গানিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। থমাস সানকারাকে গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্তটি সামরিক শাসকের তরুণ অফিসারদের কাছে খুব অজনপ্রিয় বলে প্রমাণিত হয়েছিল এবং তিনি কারাবাসে থাকাকালীন তাঁর বন্ধু ব্লেইস কমপাওরেকে আরেকটি অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব প্রদানের জন্য উৎসাহিত করেছিল।

               রাষ্ট্রপতি

ব্লেইস ক্যামপাওরে(Blaise Compaoré) দ্বারা সংগঠিত সামরিক অভ্যুত্থানের পর ১৯৮৩ সালের আগস্ট তারিখে ৩৩ বছর বয়সী থমাস সানকারাকে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত করা হয়অভ্যুত্থানটি লিবিয়া দ্বারা সমর্থিত ছিল এবং তখন চাদ(চাদ মধ্য আফ্রিকার স্থলবেষ্টিত একটি দেশ। আনুষ্ঠানিকভাবে চাদ প্রজাতন্ত্র নামে পরিচিতএর উত্তরে লিবিয়া, পূর্বে সুদান, দক্ষিণে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণ-পশ্চিমে ক্যামেরুন ও নাইজেরিয়া এবং পশ্চিমে নাইজার। সমুদ্র থেকে এর দূরত্ব এবং এর জলবায়ু ব্যাপকভাবে মরুভূমির দ্বারা প্রভাবিত কারণে, দেশটিকে কখনও কখনও "ডেড হার্ট অফ আফ্রিকা" বলা হয়।)ফ্রান্সের সাথে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

থমাস সানকারা নিজেকে একজন বিপ্লবী হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন এবং তিনি কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো, চে গুয়েভারা এবং ঘানার সামরিক নেতা জেরি রাওলিংসের আদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত হযেছিলেনরাষ্ট্রপতি হিসাবে, তিনি 'গণতান্ত্রিক এবং জনপ্রিয় বিপ্লব' (Révolution démocratique et populaire, or RDP) প্রচার করেছিলেন। ১৯৮৩ সালের  অক্টোবর-এ তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ভালেরে সোমে দ্বারা লেখা ডিসকোর্স ডি'অরিয়েন্টেশন পলিটিক(DOP)বক্তৃতায় তিনি থমাস সানকারার বিপ্লবের মতাদর্শকে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন।থমাস সানকারার নীতি ছিল, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং সংস্কারের জন্য অহোপুরুষার্থ

থমাস সানকারা রাষ্ট্রপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার প্রথম বার্ষিকীতে ১৯৮৪ সালের আগস্ট  তিনি দেশে নাম পরিবৰ্তন করে দেশের দুটি প্রধান ভাষা মুরে এবং ডিউলা ভাষায় বুর্কিনা ফাসো হিসেবে নামকরণ করেছিলে যার অর্থ 'সঠিক লোকের দেশ' তিনি দেশের জন্য একটি নতুন পতাকা এবং একটি নতুন জাতীয় সঙ্গীত সৃষ্টি করেছিলেন

             বিপ্লব পরিষদ

১৯৮৩ সালে৪ঠা আগস্ট ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থমাস সানকারা দেশের নেতৃত্বের নাম দেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ (সিএনআর)জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ নামকরণের দ্বারা তিনি ইঙ্গিত দেন যে,তিনি রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করতে চলেছেন। সিএনআর, বেসামরিক সাধারণ মানুষ এবং সৈন্য উভয়ের সমন্বয়ে গঠিত দল ছিলো, কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ-এর সদস্য সংখ্যা গোপনে রাখা হয়েছিল শুধুমাত্র থমাস সানকারা নিজে এবং তার অভ্যন্তরীণ বৃত্তের ঘণিষ্ট কয়েকজন সহযোগি সদস্য সংখ্যার বিষয়ে অবগত ছিলেন

     স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারী কাজ

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সানকারার প্রথম অগ্রাধিকার ছিল দেশের লোকেদের খাদ্য, আবাসন এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান থমাস সানকারা পোলিও, মেনিনজাইটিস এবং হাম নির্মূল করার জন্য গণ টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছিলেন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে বুরকিনাবে ২ মিলিয়ন লোককে টিকা প্রদান করা হয়েছিল।

সানকারা রাষ্ট্রপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগে বুরকিনা ফাসোতে শিশুমৃত্যুর হার ছিল প্রায় ২০.৮ শতাংশ; তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর এই সংখ্যা ১৪.৫ শতাংশে নেমে এসেছিলোসানকারা প্রশাসন প্রথম আফ্রিকান সরকার ছিলেন, যারা এইডস মহামারীকে আফ্রিকার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি প্ৰদান করেছিলেন

বড় আকারের আবাসন ও অবকাঠামো প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছিল। শহুরে বস্তি এলাকার বাড়ি তৈরিতে সাহায্য করার জন্য ইট তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বনাঞ্চল ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রয়াসে ৭০০০ টি গ্রামে চারা সরবরাহ করার জন্য দ্য পিপলস হার্ভেস্ট অফ ফরেস্ট নার্সারি তৈরি করা হয়েছিল এবং কয়েক মিলিয়ন গাছ লাগানোর আয়োজন করা হয়েছিল। দেশের সমস্ত অঞ্চল বিস্তীর্ণ সড়ক এবং রেল লাইন নির্মাণ কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল। কোনো বিদেশী সাহায্য বা বাইরের অর্থ সাহায্য ছাড়াই বুরকিনাবে জনগণের জন্য ম্যাঙ্গানিজ উত্তোলনের সুবিধার্থে রেলওয়ের যুদ্ধ" ('দ্য ব্যাটল অফ দ্য রেল'-) নামে কর্মসূচী দ্বারা ৭০০ কিলোমিটার (৪৩০ মাইল)-এরও বেশি রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছিলোএই কর্মসূচীগুলির দ্বারা প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল যে, আফ্রিকান দেশগুলি বিদেশী অর্থ সাহায্য ছাড়াই সমৃদ্ধ হতে পারে।

থমাস সানকারা দেশের ৯০ শতাংশ নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে মোকাবেলা করার জন্য শিক্ষা কার্যক্রমও চালু করেছিলেনএই কার্যক্রমগুলি দুর্দান্ত সাফল্য লাভ করেছিলোথমাস সানকারাকে হত্যার পরপরই  নতুন প্রশাসনের শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহের জন্য ব্যাপকভাবে শিক্ষকদের ধর্মঘট, 'বিপ্লবী শিক্ষক' শুরু হয়েছিলোশিক্ষকদের ধর্মঘটের কারণে ১৯৯৬ সালে প্রায় ২,৫০০ শিক্ষককে বহিস্কার করা হয়েছিলো এবং খালি পদ পূরণের জন্য কলেজের ডিগ্রিধারী যে কাউকে পাঠদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলস্বেচ্ছাসেবকরা শিক্ষাদান শুরু করার আগে শুধুমাত্র ১০ ​​দিনের প্রশিক্ষণ কোর্স করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

থমাস সানকারা প্রশাসনের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে সাক্ষরতার হার ১৯৮৩ সালে ১৩ শতাংশ থেকে ১৯৮৭ সালে ৭৩ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত হয়েছিলো

          গণবিপ্লবী ট্রাইব্যুনাল

থমাস সানকরা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয় বিপ্লবী ট্রাইব্যুনাল নামে পরিচিত আদালতের ব্যবস্থা করা হয়েছিলেআদালতগুলি মূলত বিপ্লবে সময় শত্ৰুতা আচরণ করা প্রাক্তন সরকারী আধিকারিকদেরকে সরাসরিভাবে বিচার করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল দুর্নীতি, কর ফাঁকি বা প্রতিবিপ্লবী কার্যকলাপের জন্য আসামীদের বিচার করার ব্যবস্থা করা হয়েছিলোপ্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তি হালকা এবং প্রায়ই স্থগিত করা হয়েছিল। ফলে ট্রাইব্যুনালগুলিকে শুধুমাত্র শো ট্রায়াল বলে অভিযোগ করা হয়েছিলো

যুক্তরাষ্ট্রের(ইউএস) স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই বিচার পদ্ধতিকে, বিশেষ করে অভিযুক্তদের আইনি সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে সমালোচনা করেছিলোআসামীরা নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করতে হয়েছিল যে, যে অপরাধের জন্য তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে সেই অপরাধের সাথে তারা জড়িত ছিল না। প্রথমাবস্থায় আদালতগুলি মূলত বুরকিনাবে জনগণের কাছ থেকে শ্রদ্ধা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলো,কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আদালতগুলি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং নিপীড়ক হয়ে উঠেছিলোতথাকথিত 'অলস শ্রমিকদের' বিচার করা হয়েছিল এবং শাস্তি হিসেবে বিনামূল্যে কাজ নইলে তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছিল। অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং কেউ কেউ এমনকি তাদের শত্রুদের অপমান করার জন্যও অভিলেখ সংখ্যক নিজস্ব আদালত তৈরি করেছিলো

           মসিদের সাথে সম্পর্ক

থমাস সানকারা প্রশাসন যেভাবে মসি জাতিগোষ্ঠীকে পরিচালনা করেছিলেন সেই বিষয়টি বিতর্কিত ছিলোমসিরা হল বুরকিনা ফাসোর বৃহত্তম নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী  এবং তারা কঠোরভাবে ঐতিহ্যগত শ্রেণিবদ্ধ সামাজিক ব্যবস্থা মেনে চলে। শ্রেণিবিন্যাসের শীর্ষে রয়েছে মসি জনগণের প্রধান বা রাজা মোরহো নাবাথমাস সানকরা এই ব্যবস্থাকে জাতীয় ঐক্যের প্রতিবন্ধক হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন এবং তিনি মসি অভিজাতদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলেনমোরহো নাবাকে আদালত পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং স্থানীয় গ্রাম প্রধানদের কাছ থেকে তাদের নির্বাহী ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে সিডিআর(কমিটি ফর দ্য ডিফেন্স অফ দ্য রিভিউলসন বিপ্লবের প্রতিরক্ষা কমিটি, স্থানীয় বিপ্লবী কোষের একটি ব্যবস্থা, যা বুর্কিনা ফাসোতে মার্কসবাদী-লেনিনবাদী এবং প্যান-আফ্রিকানবাদী নেতা দেশের রাষ্ট্রপতি থমাস সানকারা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।)কে প্রদান করা হয়েছিলো

            নারী অধিকার

থমাস সানকারা ব্যাপকভাবে নারী অধিকারের জন্য কাজ করেছিলেন এবং ঘোষণা করেছিলেন যে,"নারীর মুক্তি ছাড়া সত্যিকারের সামাজিক বিপ্লব সম্ভব নয়"

বুরকিনাবের সমাজের নারীর অবস্থার উন্নতি থমাস সানকারার অন্যতম সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছিল এবং তাঁর সরকার পশ্চিম আফ্রিকায় বিপুল সংখ্যক নারীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূর্বে না থাকা অভূতপূর্ব নীতির অন্তর্ভুক্ত করেছিল। তাঁর সরকার মহিলাদের যৌনাঙ্গচ্ছেদ, জোরপূর্বক বিবাহ এবং বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করেছিল এবং মহিলাদের উচ্চ সরকারী পদে নিয়োগ করেছিলো নারীদের বাড়ির বাইরে কাজ করতে এবং গর্ভবতী অবস্থায়ও স্কুলে উপস্থিত থাকতে উৎসাহিত করেছিল। থমাস সানকারা গর্ভনিরোধের জন্যও প্রচার করেছিলেন মহিলাদের বাজারে যেতে এবং খাদ্য প্রস্তুত করতে যেসব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তা অনুভব করার জন্য সানকারা সরকার স্বামীদের খাদ্য প্রস্তুত করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেনথমাস সানকারা ১৯৮৭ সালের ৮ ঠা মার্চ ওয়াগাডুগুতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রদান করা তাঁর বিখ্যাত ভাষণে আফ্রিকান মহিলারা সন্মুখীন হওয়া প্রত্যাহ্বানগুলিকে স্বীকৃতি প্রদান করেছিলেন। থমাস সানকারা একটি রাজনৈতিক বক্তৃতায় হাজার হাজার নারীর সাথে কথা বলেছিলেন যেখানে তিনি বলেছিলেন যে, বুর্কিনাবে নারী বিপ্লব 'নতুন সামাজিক সম্পর্ক স্থাপন' করেছে, যা 'পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে কর্তৃত্বের সম্পর্ককে বিপর্যস্ত করবে এবং প্রত্যেককে উভয়ের প্রকৃতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে। এই কাজ কঠিন, কিন্তু খুবেই প্রয়োজনীয়'থমাস সানকারা ছিলেন প্রথম আফ্রিকান নেতা যিনি মহিলাদের তাঁর মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করেছিলেন এবং মহিলাদের সামরিক বাহিনীতে সক্রিয়ভাবে জন্য অংশগ্রহণ করার জন্য উসাহিত করেছিলেন।

          আগাচা স্ট্ৰিপ যুদ্ধ-

আগাচার স্ট্রিপের বিতর্কিত অঞ্চল নিয়ে বুরকিনা ফাসো এবং মালির মধ্যে ১৯৭৪ সালে সংঘটিত সংঘর্ষের পর, ‘অর্গানাইজেশন অফ আফ্রিকান ইউনিটি উভয় দেশের মধ্যেকার মতবিরোধ সমাধান এবং স্বাধীন, নিরপেক্ষ সীমান্ত সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি মধ্যস্থতা কমিশন গঠন করেছিলেনউভয় সরকারই ঘোষণা করেছিলেন যে, তারা বিরোধের অবসান ঘটাতে সশস্ত্র শক্তি প্রয়োগ করবে না।

তা সত্ত্বেও, ১৯৮৩ সাল নাগাদ কমিশনের কাজ নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। সানকারা ব্যক্তিগতভাবে মালিয়ার প্রেসিডেন্ট মুসা ট্রাওরেকেও অপছন্দ করতেন, যিনি মোদিবো কেইতা(মোদিবো কেইতা (জন্ম জুন ১৯১৫ মৃত্যু ১৬ মে ১৯৭৭ তিনি একজন মালিয়ান রাজনীতিবিদ ছিলেন এবং ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত মালির প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি আফ্রিকান সমাজতন্ত্রের সমর্থক করেছিলেন। ১৯৬৮ সালে মুসা ট্রাওরে একটি অভ্যুত্থান দ্বারা তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন)র বাম-পন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। ১৭ সেপ্টেম্বর থমাস সানকারা মালি সফর করেন এবং ট্রাওরের সাথে দেখা করেন। আলজেরিয়ার মধ্যস্থতায় উভয় দেশেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালত দ্বারা সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সম্মত হন এবং পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের জন্য আবেদন করেন।

বুরকিনা ফাসো প্রশাসনকে সমালোচনা করার জন্য ১৯৮৫ সালের জুলাই মাসে বুরকিনা ফাসো সরকার পশ্চিম আফ্রিকার অর্থনৈতিক সম্প্রদায়ের মালিয়ান মহাসচিব দ্রিসা কেইতাকে একজন ব্যক্তিত্বহীন ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছিলন সেপ্টেম্বরের বক্তৃতায় থমাস সানকারা মালিতে বিপ্লবের আহ্বান জানিয়েছিলেনমালিয়ান নেতারা তখন উত্তেজনামূলক বক্তব্যের প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল ছিলেন, কারণ তাঁদের দেশ তখন সামাজিক অস্থিরতার সম্মুখীন হয়েছিলেনপ্রায় একই সময়ে থমাস সানকারা এবং জাতীয় বিপ্লব পরিষদ(CNR)-এর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নিশ্চিত হন যে, মুসা ট্রাওরে বামাকো(মালির একটি বৃহ শহর)তে বুরকিনা ফাসো প্রশাসনের বিরোধিতা করছেন এবং সীমান্তে যুদ্ধ উস্কে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন

বুরকিনাবের একজন নাগরিক সৌম প্রদেশের সীমান্তের কাছে নিহত হওয়ার পর ২৪ নভেম্বর থেকে সীমান্তে প্রথম উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেমালিয়ান পুলিশ হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করার জন্য সীমানা অতিক্রম করে এবং বিপ্লবকে প্রতিহত করার জন্য স্থানীয় একটি ট্রাইব্যুনাল কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্যকে আটক করে তিন দিন পর মালিয়ান পুলিশ আইন শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের  জন্য কাউনিয়ায় প্রবেশ করে। বুরকিনা ফাসো ঘটনাগুলো নিয়ে মালির কাছে কূটনৈতিক প্রতিনিধি প্রেরণ করে, কিন্তু তাঁরা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেনি বুরকিনা ফাসো ডিসেম্বরের শুরুতে মালি এবং আশেপাশের অন্যান্য দেশগুলিকে জানিয়ে দেন যে, তাঁরা ১০ ​​থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁদের দশকীয় জাতীয় আদমশুমারি অনুষ্ঠিত করবে

১৪ ডিসেম্বর সামরিক কর্মীরা আদমশুমারিতে সহায়তা করার জন্য আগাচরে প্রবেশ করে। সীমান্তবৰ্তী গ্রামে মালিয়ান নাগরিকদের আদমশুমারিতে নিবন্ধনের জন্য বুরকিনা ফাসো সামরিক কর্তৃপক্ষ চাপ সৃষ্টি করা বলে বুরকিনা ফাসো সামরিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মালি অভিযোগ করে,  এই অভিযোগ বুর্কিনা ফাসোতে বিতর্কিত ছিলোউত্তেজনা কমানোর প্রয়াসে  ANAD (একটি পশ্চিম আফ্রিকান চুক্তি সংস্থা) মধ্যস্থতা করার জন্য বামাকো এবং ওয়াগাডুগুতে একটি প্রতিনিধি দল পাঠায়। আলজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি চাদলি বেনজেদিদও শান্তিপূর্ণ সমাধানকে উৎসাহিত করার জন্য সানকারা এবং ট্রাওরের সাথে যোগাযোগ করেন। ANAD সদস্যদের অনুরোধে, বুর্কিনা ফাসো বিতর্কিত অঞ্চল থেকে সমস্ত সামরিক কর্মীদের প্রত্যাহার করার কথা ঘোষণা করে

সেনা প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করা সত্ত্বেও, বুর্কিনাবে এবং মালিয়ান কর্তৃপক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক বার্তা বিনিময়ের ফলে দুই দেশের মধ্যে 'কমিউনিকের যুদ্ধ' শুরু হয়। থমাস সানকারা থেকে হুমকি অনুভব করে, মুসা ট্রাওরে মালিকে বুরকিনা ফাসোর সাথে শত্রুতা করার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন তাঁরা তিনটি সেনাদল দল গঠন করেছিলো এবং বুরকিনা ফাসো আক্রমণ করার জন্য বোবো-ডিওলাসো শহরে একত্রিত হওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সেখানে তাঁরা বুরকিনাবে বিরোধী বাহিনীকে সমাবেশ করে ওয়াগাডুগুকে দখল করে থমাস সানকারাকে উৎখাত করার পরিকল্পনা করেছিলোথমাস সানকারার প্রাক্তন সহকারী পল মিচৌড লিখেছেন যে, বুরকিনাবের প্রেসিডেন্ট মুসা ট্রাওরে প্রকৃতার্থে তাঁর শাসনের স্বপক্ষে জনসমর্থন জোগাড় করার লক্ষ্যে মালিকে সংঘাতের জন্য উস্কে দিতে চেয়েছিলেন। লেখকের মতে "একজন কর্মকর্তা এবং নির্ভরযোগ্য মালিয়ান সূত্র রিপোর্ট করেছিলেন যে, ১৯ ডিসেম্বর সংঘবদ্ধকরণ নথি যুদ্ধ পরবর্তী সময় বুর্কিনাবের সৈন্যদের মৃতদেহের উপর পাওয়া গিয়েছিলো

থমাস সানকারার প্রমাণ প্রদানের প্রচেষ্টাকে পরিকল্পিতভাবে ক্ষুন্ন করা হয়েছিল। মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিওনার্দো নেহার বলেছেন, 'এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে, মালিয়ান কর্তৃপক্ষের জানা নেই যে, মিথ্যা গুজব ছড়ানো হচ্ছে' সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)র তথ্য অনুসারে, বামাকো(মালির বৃহত্তম শহর)র বুর্কিনা ফাসোতে অভ্যুত্থান ঘটানোর উদ্দেশ্য থেকে যুদ্ধ সৃষ্টি হয়েছিল

১৯৮৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ভোরে, প্রায় ১৫০টি মালিয়ান আর্মি ট্যাঙ্ক সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে আক্রমণ করে। মালিয়ান সৈন্যরা দুই দিক থেকে আক্রমণ করে বোবো-ডিওলাসোকে দখল করার চেষ্টা করেছিল। বুরকিনা ফাসোর সেনাবাহিনী উচ্চতর পর্যায়ের মালিয়ান ফায়ারপাওয়ারের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য সংগ্রাম লিপ্ত হয় এবং উত্তর ফ্রন্টে মালিয়ান বাহিনীকে ঘিরে ধরে; মালিয়ান বাহিনী আগাচের ডিওনাওগা, সেলবা, কৌনা শহর দ্রুত দখল করেওয়াগাডুগুতে বুরকিনাবে সরকার প্রায় ১৩:00 ঘটিকায় শত্রুর উপস্থিতির সম্ভেদ পেয়েছিল এবং অবিলম্বে নিজের সেনাদের সমাবেশ করার জন্য আদেশ জারি করেছিলোসারাদেশে রাত্রিকালীন ব্ল্যাকআউট(যুদ্ধের সময় সতর্কতামূলকভাবে বাইরের আলো নিভানো) সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্ৰহণ করা হয়েছিল। বুরকিনাবে বাহিনী পাল্টা আক্রমণের জন্য ডিওনৌগা এলাকায় পুনরায় সংগঠিত হয়। ক্যাপ্টেন ক্যামপাওরে পশ্চিম ফ্রন্টের কমান্ডের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেতার নেতৃত্বে সৈন্যরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে মালিয়ান ট্যাঙ্কের বিরুদ্ধে গেরিলা কৌশল প্রয়োগ করেছিলেন

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই অন্যান্য আফ্রিকান নেতারা যুদ্ধবিরতির জন্য চেষ্টা শুরু করেন। ৩০ ডিসেম্বর সকালে বুর্কিনা ফাসো এবং মালি ANAD-এর মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি প্রকাশ করেততক্ষণে মালি আগাচার স্ট্রিপের বেশিরভাগ অঞ্চল দখল করে নিয়েছিলোযুদ্ধের সময় বুরকিনাব-এর ১০০ জনরও বেশি সৈন্য এবং প্রায় ৪০ জন মালিয়ান সৈন্য ও বেসামরিক লোক নিহত হয়। বুরকিনাবের উয়াহিগুয়া, জিবো এবং নাসাম্বু শহরগুলি যুদ্ধের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মুসা ট্রাওরে এবং সানকারা ইয়ামুসউক্রোতে অনুষ্ঠিত ANAD-এর শীর্ষ সম্মেলনে সাক্ষাৎ করেন এবং শত্রুতা শেষ করার জন্য একটি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করেন। ইণ্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস(ICJ)পরে আগাচারকে দুই ভাগে বিভক্ত করে; মালি লাভ করে ঘনবসতিপূর্ণ পশ্চিম অংশ এবং বুরকিনা ফাসো লাভ করে পূর্ব অংশ বেলি নদী(বেলি নদী হল উত্তর বুরকিনা ফাসোর একটি মৌসুমী নদী, মালিয়ান সীমান্তের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিতএটি নাইজার নদীর পশ্চিম উপকূলের একটি উপনদী এটি নাইজারের আয়ুরুর শহরের নিকটে নাইজার নদীর সাথে মিলিত হয়েছে)পর্যন্তউভয় দেশই এই রায়ে তাঁদের সন্তুষ্টির ইঙ্গিত বহন করে

বুরকিনা ফাসো সরকার ঘোষণা করে যে, যুদ্ধটি ছিল থমাস সানকারা সরকারকে পতন করার জন্য একটি 'আন্তর্জাতিক চক্রান্তের' অংশ। যুদ্ধটি আগাচরের গুজবপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে সংঘটিত হয়েছিল বলে যে অনুমান করা হয়েছিলো তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিলোযুদ্ধে তুলনামূলকভাবে CNR এর দুর্বল পারফরম্যান্সের জন্য দেশে CNR এর অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিলো। যুদ্ধকে আরও আক্রমনাত্মকভাবে পরিচালনা করে মালির বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণে ব্যর্থ হওয়ার জন্য বুরকিনাবের কিছু সৈন্য থমাস সানকারার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছিল।সিএনআর-এর নীতি এবং লক্ষ্যগুলির জন্য বিদেশে বুরকিনাবের মধ্যমপন্থী চিত্র তৈরি হয়েছিলো যুদ্ধের পর অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে, থমাস সানকারা স্বীকার করেছিলেন যে, তাঁর দেশের সামরিক বাহিনীর পর্যাপ্তভাবে অস্ত্রশস্ত্র ছিল না তিনি অসংখ্য রাজনৈতিক বন্দির সাজা কমানোর কথা ঘোষণা রেছিলেন

        অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক

থমাস সানকারা তাঁর কর্মসূচিকে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছিলেনএই ক্ষেত্রে বিপ্লবের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছিলো ফ্রান্সকারণ ফ্রান্স দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধানমন্ত্রী পিটার বোথা এবং ফ্রান্সের ইউএনআইটি(অ্যাঙ্গোলার সম্পূৰ্ণ স্বাধীনতার জন্য জাতীয় ইউনিয়ন)-এর নেতা জোনাস সাভিম্বিকে সমর্থন করেছিলোউভয়ই মাথা থেকে পা পর্যন্ত রক্তে রঞ্জিত ছিলোযারজন্য থমাস সানকারা ফ্ৰান্সের এই নীতির প্ৰচণ্ডভাবে সমালোচনা করেছিলেন ফলে ১৯৮৬ সালের নভেম্বরে ফ্রাঙ্কোইস মিটাররান্ড বুর্কিনা ফাসো সফর এসেছিলেন এবং  ১৯৮৩ ১৯৮৫ সালের মধ্যে ফরাসি অর্থনৈতিক সাহায্য ৮০% হ্রাস করা হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁসোয়া মিটাররান্ডের আফ্রিকান বিষয়ক উপদেষ্টা গাই পেনে, ডিজিএসই(জেনারেল ডিরেক্টরেট ফর এক্সটার্নাল সিকিউরিটি,)-এর সহযোগিতায় মাস সানকারাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ফ্রান্সে একটি মিডিয়া প্রচারাভিযানের আয়োজন করেছিলেন থমাস সানকারার বিরুদ্ধে ইন্ধন যোগানোর উদ্দেশ্যে নিবন্ধ প্রকাশের জন্য অনুমিত নৃশংসতার উপর একাধিক নথিপত্র প্রেসকে সরবরাহ করেছিল

কিউবার সাথে সুসম্পর্ক গঢ়ে তোলা হয়েছিল। ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে সাক্ষাতের পর থমাস সানকারা ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বরে পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য তরুণ বুরকিনাবাসীদের কিউবায় প্রেরণ করা হয়েছিলো, যাতে তাঁরা দেশে ফিরে এসে দেশের উন্নয়নে কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার এতিম ও শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে কার্য সম্পাদনের জন্য স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছিল। প্রায় ৬০০ টি কিশোরকে ডাক্তার, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ এবং স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে দক্ষতা অর্জনের উদ্দেশ্যে পেশাদার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার জন্য কিউবায় প্রেরণ করা হয়েছিলো

ইসরায়েল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের নিন্দা করে থমাস সানকারা ১৯৮৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক বয়কট করার জন্য আফ্রিকান দেশগুলির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেনজাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেনাডা(১৯৮৩ সালে মাৰ্কিন যুক্তরাষ্ট্ৰ গ্রেনাডা আক্ৰমণ করেছিলো।) আক্রমণেরও নিন্দা করেছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বুরকিনা ফাসোর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে এই নিন্দার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছিলোএছাড়াও তিনি বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোকে প্ৰদান করা ভেটো ক্ষমতা অবসানের জন্য জাতিসংঘের নিকট আহ্বান জানিয়েছিলেনথমাস সানকারা পশ্চিম সাহারা, ফিলিস্তিন, নিকারাগুয়ান স্যান্ডিনিস্তাস এবং দক্ষিণ আফ্রিকার এএনসি(আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেছ)এর 'জনগণের সার্বভৌমত্বের অধিকার' নামক জাতীয় দাবিকে সমর্থন করেছিলেন। ঘানার নেতা জেরি রাওলিংস এবং লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সাথে তাঁর সম্পর্ক ভালো থাকলেও পশ্চিম আফ্রিকায় তিনি তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। ফ্রান্সের ঘনিষ্ঠ নেতারা, যেমন কোটে ডি'আইভরির হাউফোয়েট-বোইগনি এবং মরক্কোর হাসান দ্বিতীয় তাঁর প্রতি বিশেষভাবে শত্রুতা পোষণ করতেন

         পরিবেশ রক্ষা হেতু পদক্ষেপ

১৯৮০-এর দশকে পরিবেশগত সচেতনতা খুব কম ছিল কযেকজন আফ্রিকান নেতার মধ্যে মাস সানকারা পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। তিনি তিনটি প্রধান কার্যের প্রতি জোর দিয়েছিলেন: বুশ ফায়ার(অনিয়ন্ত্রিত আগুন)কে অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করেছিলেন এবং অপরাধের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদেরকে শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করেছিলেন; মানুষের অনুপস্থিতিতে মানুষের অধিকার লঙ্ঘন করে প্রকৃতিকে ধ্বংস করা গবাদি পশুর অবাধ বিচরণের বিরুদ্ধে এবং অবৈধভাবে গাছ কর্ত্তন নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে গাছ কর্ত্তনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন এই 'বিপ্লব' চলাকালীন উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসাবে জনসংখ্যার একটি বড় অংশকে এই কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত রে পনের মাসে বুরকিনা ফাসোতে দশ মিলিয়ন গাছ রোপণ করা হয়েছিল। অগ্রসরমান মরুভূমি এবং বারবার সংঘটিত খরা মোকাবেলা করার জন্য থমাস সানকারা পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার এলেকায় কাঠের স্ট্রিপ রোপণের জন্য প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি এই গাছপালা বেল্টকে অন্যান্য দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত করার কথাও ভেবেছিলেনশস্য উৎপাদন ১৯৮৩ সালের ১.১ বিলিয়ন টন থেকে ১৯৮৭ সালে ১.৬ বিলিয়ন টন পৰ্যন্ত বৃদ্ধি হয়েছিলোজাতিসংঘের খাদ্য অধিকারের সাবেক সমন্বয়ক জিন জিগলারও দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠার জন্য জোর দিয়েছিলেন

১৯৮৪ সালের অক্টোবর থেকে শুরু করে  পনের মাসের ব্যবধানে থমাস সানকারা সরকার বনায়নের জন্য দশ মিলিয়ন গাছ রোপণ করেছিল। সানকারা বলেছিলেন, "বুরকিনায় কাঠই আমাদের শক্তির একমাত্র উৎস। এর জন্য প্রকৃতির রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন করে গাছ রোপণের কথা আমাদের প্রত্যেকজন ব্যক্তিকে ক্রমাগতভাবে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে"।

               সমালোচনা

ব্রিটিশ উন্নয়ন সংস্থা অক্সফাম(অক্সফাম হলো, ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠিত ২১ দাতব্য সংস্থার একটি)১৯৮৭ সালে ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের গ্রেপ্তারের রেকর্ড করেছিলো১৯৮৪ সালে পূর্ববর্তী শাসনের সাথে যুক্ত সাতজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল এবং একটি সংক্ষিপ্ত বিচারের পরে তাঁদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছিল। বেসরকারী সংস্থা এবং ইউনিয়নগুলিকে হয়রানি করা হয়েছিল বা বিপ্লব প্রতিরক্ষা কমিটিগুলির কর্তৃত্বের অধীনে রাখা হয়েছিলএর শাখাগুলি প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিতরা হয়েছিল এবং এই শাখাগুলি 'রাজনৈতিক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অঙ্গ' হিসাবে কাজ করেছিল।

সারা দেশে সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত জনপ্রিয় বিপ্লবী ট্রাইব্যুনাল, দুর্নীতি, কর ফাঁকি বা 'প্ৰতি-বিপ্লবী' কার্যকলাপের জন্য আসামীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করা হয়েছিলোএই বিচারের প্রক্রিয়াগুলি, বিশেষ করে অভিযুক্তদের আইনি সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না বলে অভিযোগ করা হয়েছিলোঅর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর ক্রিশ্চিয়ান মরিসন এবং জিন-পল আজমের মতে, অবিপ্লবী আচরণের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মতো দুর্ভাগ্যজনক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে 'জরুরি এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে অবিলম্বে অনেক শাস্তি কার্যকর করা হয়েছিলসন্ত্রাসের রাজত্বের সময় ফরাসি বিপ্লবের সবচেয়ে খারাপ দিনগুলিতে যা ঘটেছিল তার সাথে এই প্ৰক্ৰিয়া কিছু সাদৃশ্য রয়েছে বলে সমালোচনা করা হয়েছিলোযদিও অল্প সংখ্যক লোক নিহত হয়েছিল, তবে  সহিংসতা ছিল ব্যাপক'

     ব্যক্তিগত ইমেজ এবং জনপ্রিয়তা

 

থমাস সানকারার ব্যক্তিগত উদ্যোগসহ  তাঁর অনেকগুলি মূল উদ্যোগ ছিল যা তার জনপ্রিয়তায় অবদান রেখেছিল এবং কিছু আন্তর্জাতিক মিডিয়া তার সরকারের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করতে বাধ্য হয়েছিলো

কিউবা সরকা থমাস সানকারাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান অর্ডার অফ জোসে মার্টি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন

 দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কিছু পদক্ষেপ

তিনি সরকারি মার্সিডিজ গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছিলেন এবং রেনল্ট ৫ (তৎকালীন বুরকিনা ফাসোতে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে সস্তা গাড়ি) মন্ত্রীদের অফিসিয়াল সার্ভিস গাড়িতে পরিণত করেছিলেন।

তিনি সচ্ছল সরকারি কর্মচারীদের বেতন হ্রাস করেছিলেন(তাঁর নিজের বেতন সহ) এবং সরকারি চালক এবং প্রথম শ্রেণীর বিমান টিকিট ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিলেন।

তিনি বিদেশী সাহায্যের বিরোধিতা করেছিলেন, এই বলে যে 'যিনি তোমাকে খাওয়ায়, তিনি তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করে'

তিনি পশ্চিমা বাণিজ্য ও অর্থের মাধ্যমে আফ্রিকা নিওকলোনিয়ালিস্ট অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আফ্রিকান ঐক্য সংস্থার ফোরামে বক্তৃতা প্রদান করেছিলেন।

তিনি পশ্চিমাদের বৈদেশিক ঋণ প্রত্যাখ্যান করার জন্য আফ্রিকান দেশগুলিকে নিয়ে একটি ঐক্যফ্রন্ট গঠনের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, দরিদ্র এবং শোষিতদের ধনী এবং শোষকদের অর্থ পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা নেই।

মাস সানকারা জানতেন, কিভাবে তাঁর দেশের লোক ইচ্ছাশক্তি, সাহস, সততা এবং কাজের মাধ্যমে মর্যাদাবান এবং গর্বিত হতে পারে।

থমাস সানকারা ওয়াগাডুগু সেনাবাহিনীর প্রভিশনিং স্টোরকে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সুপার মার্কেটে রূপান্তরিত করেছিলেন মাৰ্কেটটি দেশর প্রথম সুপার মার্কেট ছিলো এবং সবার জন্য উন্মুক্ত ছিলো

তিনি সচ্ছল সরকারি কর্মচারীদের সরকারি প্রকল্পে এক মাসের বেতন অনুদান হিসেবে দেওয়ার জন্য বাধ্য করেছিলেন।

তিনি তার অফিসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ( air condition)ব্যবহার করতে অস্বীকার করেছিলেন, এই কারণে যে, এই ধরনের বিলাসিতা সামগ্ৰী মুষ্টিমেয় বুকিনাবাসী  ছাড়া অন্য আর কেউ ব্যবহার করে না

রাষ্ট্রপতি হিসাবে তিনি তার বেতন প্রতি মাসে ৪৫০ ডলাকমিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী একটি গাড়ি, চারটি বাইক, তিনটি গিটার, একটি রেফ্রিজারেটর এবং একটি ভাঙা ফ্রিজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন।

তিনি বুর্কিনাবে তুলা থেকে বোনা এবং বুর্কিনাবে কারিগরদের দ্বারা সেলাই করা ঐতিহ্যবাহী টিউনিক পরিধান করাটা সরকারী কর্মচারীদের জন্য বাধ্যতামূলক করেছিলেন।

                 ব্যক্তিগত আচরণ

তিনি তার ট্র্যাক স্যুট এবং তার মাদার-অফ-পার্ল পিস্তল সঙ্গে নিয়ে সঙ্গী ছাড়া একাই জগিং করার জন্য পরিচিত ছিলেন

থমাস সানকারাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, অন্যান্য আফ্রিকান নেতাদের মতো তিনি কেন তার প্রতিকৃতি জনসাধারণের জায়গায়(পাবলিক প্ল্যাচ) ঝুলিয়ে রাখতে পসন্দ করেন না? তখন থমাস সানকারা উত্তর বলেছিলেন: "বুরকিনা ফাসোতে সাত মিলিয়ন থমাস সানকারা আছে"

থমাস সানকারা একজন দক্ষ গিটারিস্ট ছিলেন এবং তিনি নিজেই নতুন জাতীয় সঙ্গীত রচনা করেছিলেন

         আফ্রিকার চে গুয়েভারা

থমাস সানকারাকে প্রায়ই "আফ্রিকার চে গুয়েভারা" বলা হয়। ১৯৬৭ সালে ৯ অক্টোবর চে গুয়েভারার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিলোথমাস সানকারা ১৯৮৭ সালে ১৫ অক্টোবর-এ তাঁর নিজের হত্যার এক সপ্তাহ আগে চে গুয়েভারার ২০ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে চে গুয়েভারার প্রতি সম্মান জানিয়ে বক্তৃতা প্রদান করেছিলেন

                   হত্যা

১৯৮৭ সালের ১৫ অক্টোবর-এ সানকারার প্রাক্তন সহকর্মী ব্লেইস ক্যামপাওরে এবং তাঁর বারোজন সহযোগি কর্মকর্তা দ্বারা সংগঠিত অভ্যুত্থানে সময় থমাস সানকারা সশস্ত্র গোষ্ঠীর দ্বারা নিহত হয়েছিলেনহত্যার পর ব্লেইস ক্যামপাওরে বলেছিলেন যে, থমাস সানকারা ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স এবং প্রতিবেশী আইভরি কোস্টের সাথে বৈদেশিক সম্পর্ককে বিপদে ফেলেছিলেন এবং তিনি বিরোধীদের হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন।

সাবেক লাইবেরিয়ান যুদ্ধবাজ চার্লস টেলরের সহযোগী এবং লাইবেরিয়ার রাষ্ট্রপতি স্যামুয়েল ডো-এর হত্যাকারী, প্রিন্স জনসন লাইবেরিয়ার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনকে বলেছিলেন যে, হত্যাকাণ্ডটি চার্লস টেলর দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল। অভ্যুত্থানের পরে থমাস সানকারা মারা গেছে বলে জানার পরেও কিছু সিডিআর বাহিনী কিছুদিন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলো

সানকারার হত্যার একমাত্র জীবিত সাক্ষী হ্যালোনা ট্রাওরে-এর মতে, থমাস সানকারা সেদিন কনসিল দে ল'এন্টেন্তের সাথে একটি বৈঠকে যোগদান করছিলেন। ঘাতকরা থমাস সানকারাকে চিনাক্ত করে হত্যা করেছিলোঘাতকরা সেদিন মিটিংয়ে উপস্থিত অন্যান্যদের উপর গুলি চালিয়েছিলো এবং আরও ১২ জনকে হত্যা করেছিলোথমাস সানকারার পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল এবং তাকে দ্রুত একটি অচিনাক্ত কবরে দাফন করা হয়েছিলো থমাস সানকারার বিধবা স্ত্রী মরিয়ম তাঁর দুই সন্তান নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন 'ছিন্নভিন্ন' অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করার জন্য 'অত্যাবশ্যকীয়' তহবিল সংগ্ৰহ করার উদ্দেশ্যে ক্যামপাওরে থমাস সানকারার জাতীয়করণনীতির পাশাপাশি প্রায় সমস্ত নীতিকে পাল্টে দিয়েছিলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের সাথে পুনরায় সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলো এবং ২০১৪ সালে জনপ্রিয় বিক্ষোভ দ্বারা উৎখাতের আগে পর্যন্ত ২৭ বছর ধরে ক্যামপাওরে একনায়কত্বভাবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।

                       হত্যার বিচার

থমাস সানকারার বিধবা স্ত্রী মরিয়ম, থমাস সানকারার হত্যার মূল পরিকল্পনার জন্য ফ্রান্সকে অভিযুক্ত করেছিলেন২০১৭ সালে বুর্কিনা ফাসো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফরাসি সরকারকে সানকারা হত্যা সম্বলিত সামরিক নথি প্রকাশ করতে বলেছিলেন

সানকারা হত্যার ৩৪ বছর পর, ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে,  বুরকিনা ফাসোর সাবেক রাষ্ট্রপতি ক্যামপাওরে এবং অন্যান্য ১৩ জনকে সানকারা হত্যার পাশাপাশি অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অন্যান্য অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছিল। হত্যার বিচারের এই অগ্রগতি রাষ্ট্রপতি রোস কেমবুর-এর 'জাতীয় পুনর্মিলন' কাঠামোর অংশ হিসাবে গণ্য করা হয়

২০২১ সালের অক্টোবরে ক্যামপাওরে এবং অন্য ১৩জনের বিরুদ্ধেয়াগাডুগুতে বিচার শুরু হয়েছিলো এবং ক্যামপাওরে-এ অনুপস্থিতিতে এই বিচার প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়েছিলসাবেক রাষ্ট্রপতি ক্যামপাওরে-এ নিরাপত্তা বিষয়ক প্রধান হিয়াচিন্থে কাফণ্ডোও(Hyacinthe Kafondo) বিচার প্রক্রিয়ার সময় অনুপস্থিতি ছিলেন বিচার প্ৰক্ৰিযা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে, ক্যামপাওরে-এ আইনজীবীরা বলেছিলেন যে, তিনি বিচারে অংশ গ্রহণ করবেন নাবিচার প্রক্রিয়াকে তারা ত্রুটিযুক্ত বলে চিহ্নিত করেছিলেন এবং রাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রধান হওয়া তিনি অনাক্রমণীয় বলে তার বিশেষাধিকারের উপর জোর দিয়েছিলেনডিফেন্স অ্যাটর্নিদের দ্বারা তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থন করার জন্য আরও সময় দেওয়ার অনুরোধ করার পর শুনানি ২০২২ সালে ১ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছিল।

২০২২ সালে৬ এপ্রিল ক্যামপাওরে এবং অন্য দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল এবং ক্যামপাওরে-এর অনুপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল। অন্য আটজনকে ৩ থেকে ২০ বছরের কারাদণ্ড প্ৰদান করা হয়েছে। তিনজনকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে

        দেহাবশেষ উত্তোলন

২০১৫ সালের ২৫ মে তারিখে  আফ্রিকান মুক্তি দিবসে থমাস সানকারার দেহাবশেষ ধারণা করে সেই দেহাবশেষ সমাধি থেকে উত্তোলন করা হয়েছিল।থমাস সানকারার উত্তরাধিকারী ব্লেইস ক্যামপাওরে-এর শাসনামলে মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছিলো যদিও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।মৃতদেহ উদ্ধারের ফলে সানকারার পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে দেহাবশেষ শনাক্ত করতে পারবে বলে ধারণা করা হয়েছিলো, যা তাঁর পরিবার এবং সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো

২০১৫ সালের অক্টোবরে থমাস সানকারার বিধবা স্ত্রী মরিয়মের একজন আইনজীবী রিপোর্ট করেছিলেন যে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে থমাস সানকারার দেহ 'এক ডজনেরও বেশি' গুলি বিদ্ধ করা  হয়েছিল বলে জানা গেছে

                 উত্তরাধিকার

থমাস সানকারা হত্যার বিশ বছর পর ২০০৭ সালের ১৫ অক্টোবর-এ বুরকিনা ফাসো, মালি, সেনেগাল, নাইজার, তানজানিয়া, বুরুন্ডি, ফ্রান্স, কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে থমাস সানকারাকে স্মরণ করা হয়েছিলো

২০১৯ সালে য়াগাডুগু যেস্থানে থমাস সানকারাকে হত্যা করা হয়েছিল, সেখানে তাঁর একটি প্রতিমূর্তি উন্মোচন করা হয়েছিল; তবে সেই মূর্তির মুখমণ্ডল থমাস সানকারার মুখের বৈশিষ্ট্যগুলির সাথে মিল ছিল না বলে অভিযোগ উঠার ফলে তামুখের বৈশিষ্ট্যগুলির সাথে মিল থাকা অন্য একটি নতুন মূর্তি উন্মোচন করা হয়েছিল

২০২৩ সালে, বুর্কিনা ফাসো সরকার থমাস সানকারাকে আনুষ্ঠানিকভাবে "জাতির নায়ক" হিসেবে ঘোষণা করেছে

২০২৩ সালের অক্টোবরে, তাঁর হত্যার ৩৬ তম বার্ষিকীতে বুরকিনা ফাসো সরকার থমাস সানকারার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য ওয়াগাডুগুর একটি প্রধান সড়কের নাম পরিবর্তন করে থমাস সানকারার নামে নামকরণ করেছে সড়কটি পূর্বে বুলভার্ড চার্লস ডি গল নামে পরিচিত ছিল এখন সড়কটি বুলেভার্ড ক্যাপিটাইন থমাস ইসিডোর নোয়েল সানকারা নামে পরিচিত।

                     সমাপ্ত

  ধর্ম আজ রাজপথে

ধর্ম আজ উঠেছে রাজপথে

মন্দির, মসজিদ, (গীর্জা)ছেড়ে

তাইতো এত বাড়ছে ব্যবধান

রাজপথে মানুষে মরে।

মোল্লাহ পুরোহিত যাজক ভিক্ষু

যত ধর্মের ঠিকাদার

ধর্মের নামে খোলে বসেছে

মোটা অংকের কারবার।

সিংহরা আজ শিকারির ভয়ে

আছে গুহায় ঢোকে

তাইতো শিয়াল (আজ )দেয় না হুয়া

কুকুরের মত ভুকে।

তথ্যে আজ নাইকো বিশ্বাস

নিজের মতে অংক কষে

আইন আদালত চুলোয় দিয়ে

আবেগের স্রোতে ভাসে।

সব মানুষই স্রষ্টার সৃষ্টি

জন্মেছে দুহাত নিয়ে

নিজের শ্রমেই ভরায় পেট

খায় না কারও কেড়ে (নিয়ে)

তবে কেন আজ জাতধর্মের নামে

এতো হিংসা বিদ্বেষ

একজন আরেকজনকে মেরে

করতে চায় নিঃশেষ??

      রচনা- আবুল হোসেইন, বরপেটা, আসাম

         মোবাইল নং-৭০০২১-১২০১২

 

রচনা- আবুল হোসেইন, বরপেটা, আসাম

     মোবাইল নং-৭০০২১-১২০১২

  অসুর নাশের বাজাও ডঙ্কা

কি পেলাম আমি তোমারে ভজে?

পদে পদে লাঞ্ছনা বঞ্ছনার পাহাড়

রক্তেরাঙা রাজপথ

মোর বিশ্বাসের পাঁজরে করছে

বারে বারে কশাঘাত।

ইরাক সিরিয়া লিবিয়া পেলেষ্টাইনে

দানবের হুংকার

অতি পাষাণের কাঁপে হৃদয়

ভয় করে সঞ্চার।

মিয়ানমারে খেলেছ রক্তের হোলী

কেড়েছ নিষ্পাপ জান

শিশু বনিতার আর্তনাদ দেখেও কি

কাঁপেনি তোমার প্রাণ?

শক্তিমান তুমি বিশ্ব-পালক

জগত ইশ্বারায় চলে

গাছের পাতাও নড়ে না শুনি

তোমার হুকুম না পেলে।

গাছের পাতায় পাষাণের বুকে

একেঁছ তোমার নাম

উত্থান পতনের নায়ক তুমি!

কুর্ণিশে বিশ্বধাম।

আব্রাহারে তুমি করেছিলে যেমত

ভুসি তুঁষের মত

অত্যাচারি জালিমেরে সেমত

কর তুমি ধূলীভূত

প্রকাশ্ তোমার মহিমা প্রভু

দেখাও শক্তির কামাল

অসুর নাশের বাজাও ডঙ্কা

দূরাচারিরে কর বেহাল।।

 

                                                          

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেলেবেলা সান্নিধ্যে আসা মুরব্বীদের সংক্ষিপ্ত পরিচয়।

ভাৰত তথা অসমৰ সাধাৰণ নিৰ্বাচনৰ সাৰাংশ-১৯৫২-২০২৪

শাস্তি (অনুবাদ উপন্যাস)