মুসলিম নোবেল বিজয়ী

 

 


মুসলিম নোবেল বিজয়ী

 

আমি কেন মুসলিম নোবেল বিজয়ীর জীবনী লেখলাম ?

আজ থেকে একশত বিশ বছর আগে অর্থাৎ ১৯০১ সাল থেকে আলফ্রেড নোবেল-এর ১৮৯৫ সালেরউইলঅনুসারে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ফিজিয়লজী তথা মেডিসিন, সাহিত্য এবং শান্তির ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার প্রদান চালু হয়েছে নোবেল প্রাইজ বিশ্বের সবচেয়ে সন্মানীত পুরস্কার ১৯৬৮ সাল থেকে নতুন করে অর্থনীতি বিষয়েনোবেল মেমোরিয়াল প্রাইজ' চালু হয়েছে ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট ৬০৩ টি পুরস্কার ৯৬২ জন বিশেষ ব্যক্তিকে প্রদান করা হয়েছে তবে, দুঃখের বিষয় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সম্প্রদায় মুসলমানদের শুধুমাত্র ১২ জন ব্যক্তি নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছে অথচ একরা অর্থাৎপড়শব্দের জরিয়তে আজ থেকে চৌধ্যশ বছর আগে ইসলাম-এর অভ্যুত্থান হয়েছে শিক্ষা-দীক্ষা এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিশ্বের উন্নত দেশের তালিকায় আছে আমেরিকা, জার্মানী, নরওয়ে, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, কানাডা, সুইডেন, ফিনল্যান্ড প্রভৃতি এর মধ্যে একটিও মুসলিম রাষ্ট্র নাই এই অনগ্রসরতার প্রধান কারণ হিসাবে শিক্ষাকে চিহ্নিত করতে পারি ৫৭ টি মুসলিম রাষ্ট্রের মধ্যে মাত্র ৫০০ টি কারিকরি শিক্ষার অনুষ্ঠান য়েছে, পক্ষান্তরে ৩৪ কোটি মানুষের দেশ অ্যামেরিকায় য়েছে ৮০০০ টি কারিকরি শিক্ষার অনুষ্ঠান তাই মুসলমানদের কারিকরি শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্য আমি মুসলিম নোবেল বিজয়ীদের জীবনী লিখতে প্রয়াস করেছি

আমি তথ্যগুলি বিশেষ করে ওইকি পেডিয়া থেকে সংগ্রহ করেছি তাই অনুবাদ করার সময় হয়তো অনেক ভুলত্রুটি রয়ে গেছে তদুপরি আমি বিজ্ঞানের ছাত্র নই তাই বিজ্ঞান বিষয়ক তথ্যগুলিতে হয়তো আরও অনেক ভুলত্রুটি রয়ে গেছে তাই আমি আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য সদাশয় পাঠকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী কেউ ভুলগুলি শুধরে দিলে তার কাছে আমি চিরঋণী হয়ে থাকব এবং পরবর্তী পর্যায়ে ভুলগুলি শুদ্ধ করার চেষ্টা করব

                                    বিনত

                                আবুল হোসেইন

                                   সাং-যতিগাঁও,

     বরপেটা, আসাম

 

           সূচীপত্র

আনোয়ার আল সাদাত-

নোবেল বিজয়ী মহান বিজ্ঞানী আব্দুস সালাম-

নাগুইব মাহফুজের জীবন এবং কর্ম-

ইয়াসির আরাফাতের জীবন এবং কর্ম-

নোবেল বিজয়ী আহম্মদ হাসান জেওয়াইল-

শিরিন ইবাদি-

মহম্মদ এলবারাদেই-

ডক্টর মহম্মদ ইউনূস-

ফেরিট ওরহান পামুক-

নোবেল বিজয়ী তাওয়াক্কুল কারমান-

মালালা ইউসুফজাই-

নোবেল বিজয়ী আজিজ সানকার-

 

 

আনোয়ার আল সাদাত

মুসলিম বিশ্বের প্রথম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আনোয়ার আল সাদাতের জন্ম ১৯১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর ইজিপ্তের কাইরো থেকে ৪০ মাইল উত্তরে অবস্থিত মিট আবু আল নামে একটি ছোট গ্রামে, একটি দরিদ্র পরিয়ালে মিট আবু আল গ্রামটা নীল নদীর অববাহিকা অঞ্চলে অবস্থিত আনোয়ার সাদাতরাঁ ১৩ জন ভাই বোন ছিলেন সাদাতের পিতা স্থানীয় মিলিটারী হসপিটালের কেরানি ছিলেন আনোয়ার সাদাতের জন্মের সময়ে ইজিপ্ত ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিল ভাইদেঁর মাঝে আতেফ সাদাত একজন পাইলট ছিলেন ১৯৭৩ সালের ১৪ অক্টোবর- ইজিপ্ত এবং ইসরাইলের মধ্যে সিনান পেনিনসুলায় যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল সেই যুদ্ধে আতেফ সাদাত নিহত হয়েছিলেন সাদাতের বাবা আনোয়ার মহম্মদ ইজিপ্তের এবং মা সিট আল বেরাইন জন্মসূত্রে সুদানের অধিবাসী ছিলেন

আনোয়ার আল সাদাত কাইরোর রয়েল মিলিটারি একাডেমি(ইজিপ্ত এবং আফ্রিকার প্রাচীন এবং বিখ্যাত সামরিক শিক্ষার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠানটি ব্রিটিশরা নির্মাণ করে ছিল এবং সাদাত অনুষ্ঠানটির প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন) রয়েল মিলিটারি একাডেমিতে তখন গণিত বিজ্ঞানের বাইরেও প্রত্যেকজন শিক্ষার্থীকে যুদ্ধের বিশ্লেষণ শিক্ষা করাটা বাধ্যতামূলক ছিল সাদাত আমেরিকার সিভিল ওয়ারের টার্নিং পইণ্টব্যাটেল অফ গেট্টিসবার্গ' সম্পর্কে অধ্যয়ন করেছিলেন ১৯৩৮ সালে সাদাত স্নাতক ডিগ্রী লাভ করে এবং সুদানে দ্বিতীয় লেফটেনেণ্ট অফিসার হিসাবে যোগদান করে তখন ইজিপ্ত এবং সুদান একটিই দেশ ছিল সেখানে তিনি গামাল আবদেল নাসের এবং অন্যান্য জুনিয়র অফিসারদেঁর সান্নিধ্যে আসে গামাল আবদেল নাসের এবং অন্যান্যরা ইজিপ্তকে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসন রাজকীয় শোষণ থেকে মুক্তির জন্যগোপন অফিসারে একটি দল গঠন করেছিল গোপন অফিসারের দলে ছিলেন মোনেইম আবদেল রৌফ, গামাল আবদেল নাসের, হোসেইন হামৌদা, খালেদ মহিউদিন, কামাল আল দ্বীন হোসেইন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে আনোয়ার আল সাদাত জার্মানীদেঁর সাহায্যে ব্রিটিশদের দেশ থেকে বিতাড়নের ষড়যন্ত্র করেছিলেন ফলে ব্রিটিশরা ১৯৪২ সালে তাঁকে বন্দী করে কারাগারে নিক্ষেপ করে দুই বছর পরে মুক্তি পেয়ে তিনি জেল থেকে বেড়িয়ে আসেন ১৯৪৬ সালে সাদাত ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসকের মিনিষ্টার আমীন উথম্যানকে গোপনে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে ফলে ব্রিটিশরা তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিক্ষেপ করে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত তিনি কারাবাসে থাকেন দ্বিতীয় বার কারাবাসে থাকাকালীন তিনি ফ্রেন্স এবং ইংলিশ ভাষা শেখেন জেলের একাকিত্ব জীবনে অতিষ্ঠ হয়ে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি সাধারণ নাগরিক জীবনে ফিরে যান এবং বিভিন্ন ব্যাবস্যার সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন এই সময়ে তাঁর জিহান সাদাতের সাথে সাক্ষাত হয় এবং তিনি জিহানকে জীবন সংগিনী হিসাবে গ্রহণ করেন

ইতিমধ্যে আবদেল নাসেরেরফ্রি অফিসার' দল অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল তাই সাদাত আবারফ্রি অফিসার’-এর দলে যোগদান করেন ১৯৫২ সালে ফ্রি অফিসারের দল প্রত্যক্ষ বিপ্লবের সূচনা করে এবং বাদশাহ ফারুককে উক্ত সালেরই ২৩ জুলাই ক্ষমতাচ্যুত করে এই অভ্যূত্থানের সময়ে আনোয়ার সাদাতকে বেতাঁর যোগে বিদ্রোহের খবর সাধারণ জনতার মাঝে প্রচারের দায়িত্ব দিয়েছিল আনোয়ার সাদাতমুসলিম ব্রাদারহুড’, ফেচিষ্ট ইয়ং ইজিপ্ত, দ্যা প্রু-প্যালেস আইরন গার্ড অফ ইজিপ্ত, সেক্রেট মিলিটারি গ্রুপ প্রভৃতিরো সদস্য ছিলেন আনোয়ার সাদাত ১৯৮১ সালে মুসলিম ব্রদারহুডের সদস্যের হাতেই নিহত হয়েছিলেন

বাদশাহ ফারুককে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ১৯৫৩ সালের ১৮ জুন ইজিপ্তের প্রথম প্রেসিডেণ্ট হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন মহম্মদ নগুইব তিনি বছর ১৪৯ দিন কার্যনির্বাহ করার পরে ১৯৫৪ সালের নবেম্বর মাসে উক্ত পদ থেকে ইস্তফা দেন তখন উক্ত সালের ১৪ নবেম্বর গামাল আবদেল নাসের প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন উক্ত সালেই আনোয়ার আল সাদাতকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বভার অর্পণ করা হয় তখন তিনি নুতন করে প্রতিষ্ঠিত প্রাত্যহিক খবরের কাগজ আল গমহুরিয়ার সম্পাদকের দায়িত্বেও ছিল ১৯৫৯ সালে তিনি জাতীয় ইউনিয়ন- (দ্য ন্যাশন্যাল ইউনিয়ন)এর সচিবের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন সাদাত ১৯৬০ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত 'ন্যাশনাল এসেম্বলি' সভাপতি ছিলেন ন্যাশন্যাল এসেম্বলির সভাপতি থাকাকালীন ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত তিনি সহ-রাষ্ট্রপতি প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের সদস্যও ছিলেন ১৯৬৯ সালে তাঁকে সহ-রাষ্ট্রপতি হিসাবে পুনঃনির্বাচন করা হয় ১৯৭০ সালের ২৮ সেপ্তেম্বরে প্রেসিডেন্ট নাসেরের মৃত্যু হয় তখন তিনি কার্যকরি প্রেসিডেন্ট হিসাবে কার্যনির্বাহ করে এবং পরে ১৯৭০ সালের ১৫ অক্টোবরে ইজিপ্তের তৃতীয় প্রেসিডেণ্ট হিসাবে নির্বাচিত হন তিনি রাষ্ট্রপতি হিসাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তাঁর মধ্যে ছিল, সংশোধনমূলক বিপ্লব, মিশরের দীর্ঘকালীন মিত্র রাশিয়ার সৈন্যদের দেশ থেকে বিতাড়ন, ১৯৭৩ সালের অক্টোবরের যুদ্ধ, মিশরের অর্থনীতি (ইনফিটাহ) সংস্কার প্রভৃতি

আনোয়ার সাদাত প্রেসিডেন্ট হিসাবে বেশি দিন টিকে থাকতে পারবেনা বলে অনেকে ধারণা করেছিলেন কারণ তিনি প্রেসিডেন্ট নাসেরের হাতের পুতলা স্বরূপ ছিলেন প্রেসিডেণ্ট নাসেরের অনুরাগীরা ভেবেছিলেন সাদাতকে সহজেই হাতের মুঠোয় রাখা যাবে, কিন্তু সাদাত কয়েকটা চমকপ্রদ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নিজের রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে সমর্থ হন ত্রুটিমুক্ত সরকারের জন্য তিনি সংশোধনবাদী বিপ্লবের (কারেক্টিভ রিভোলেশ্বন) (সাফাই আন্দোলন)' কথা ঘোষণা করেন রাজনৈতিক সুরক্ষাজনিত কারণে উগ্র নাসেরপন্থীদের সরকার থেকে বরখাস্ত করেন তাঁর মধ্যে দু'জন খুবই ক্ষমতাশালী ব্যক্তি ছিলেন সোভিয়েত রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্কযুক্ত অতি ক্ষমতাশালী সহ-রাষ্ট্রপতি প্রেসিডেন্ট আলী সাব্রি এবং গোপন পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করা অভ্যন্তরীন মন্ত্রী সাব্রি গোমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করে সবাইকে আশ্চর্যচকিত করে দেন তিনি ঘৃণিত গোপন পুলিশের ক্ষমতা হ্রাস করেন এবং তার ফলে তাঁর জনপ্রিয়তা অধিক বৃদ্ধি পায় সোভিয়েত মিলিটারি দেশ থেকে বিতাড়ন করেন ইসরাইলি সেনাদের মোকাবিলার জন্য ইজিপসিয়ান সেনাবাহিনীকে সংস্কার করে নুতন করে গড়ে তোলে প্রেসিডেন্ট নাসেরের শাসনকালে ইসলামিক আন্দোলনকে দমন করে রাখা হয়েছিল রাজনৈতিক সহযোগিতার বিনিময়ে সাদাত প্রেসিডেন্ট নাসেরের সময়ে দমন করে রাখা ইসলামিক আন্দোলনকে উৎসাহিত করেন এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের সাংস্কৃতিক এবং আদর্শগত স্বায়ত্ব-শাসন প্রদান করেন

প্রেসিডেণ্ট নাসেরের সময়ে ইরানের সাথে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল সাদাত প্রেসিডেন্ট হিসাবে কার্যভার গ্রহণ করার পর ইরানের শ্বাহের সাথে সম্পর্ক মধুর করে তোলেন ১৯৭১ সালে সাদাত ইরানের পার্লামেন্টে পার্শি ভাষায় বক্তৃতা প্রদান করে দুই দেশের ২৫০০ বছরের ইতিহাস বর্ণনা করেন ইরান এবং ইজিপ্তের সম্পর্ক এতই মধুর হয়েছিল যে, ইরানের শ্বাহ মহম্মদ রেজা পাহলবী সাদাতকেডিয়ার ব্রাদারবলে সম্বোধন করতেন ১৯৭৩ সালের যুদ্ধের পরে ইরান স্বেচ্ছায় প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে বন্ধ সুয়েজ খাল পুনরায় খোলার ব্যবস্থা করে ইরানের শ্বাহের প্রথমা পত্নী রাজকুমারি ফউজিয়া ইজিপ্তের সুলতান ফউদ- এর বড় মেয়ে ছিলেন

তিনি এঘার বছর প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং এই এঘার বছরে তিনি রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইজিপ্তের অনেক পরিবর্তন সাধন করে গেছেন তিনি বহুদলীয় প্রথার পুনঃনির্মাণ ইনফিতাহ’(অপেন ডোর ইকনমিক প্রোগ্রাম) অর্থনৈতিক পলিসি প্রবর্তন করেছিলেন ১৯৬৭ সালে ইসরাইল ছয় দিনের যুদ্ধে ইজিপ্তের ছিনাই পেনিনছুলা দখল করেছিল তিনি সিরিয়ার হাফেজ আল আসাদের সাথে সংযুক্তভাবে ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে মিশরীয় সিনাই উপদ্বীপ দখলকারী ইসরাইলের বিরুদ্ধে অতর্কিতে যুদ্ধ ঘোষণা করেন ইউম কিপ্পু’– যুদ্ধ নামে খ্যাত সেই যুদ্ধে সিরিয়ার গোলান হাইটসহ ইসরাইলের দ্বারা ছয়দিনের যুদ্ধে দখল করা হৃত ভূমি পুনরায় দখল করেন যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে মিশরীয় সিরিয়ানদের যুদ্ধের কৌশল দেখে ইসরাইল আরব বিশ্ব হতবাক হয়ে গিয়েছিল মিশরীয় সামরিক বাহিনী সিনাই উপদ্বীপের ১৫ কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিল এবংবার লেভলাইন ধ্বংস করেছিল বার লেভ লাই সুয়েজ খালের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত এই বার লেভ লাইন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামূলক দুর্ভেদ্য দূর্গ বলে বিবেচিত হত যুদ্ধে মিশর সিরিয়ার বিজয়ের ফলে সমগ্র মিশর এবং আরব বিশ্বের মনোবলকে বৃদ্ধি করেছিল এবং সাদাত ইজিপ্তসহ সমগ্র আরব বিশ্বেক্রুসিঙের বীর' অর্থাৎ জাতীয় বীর হিসাবে পরিচিত হয়েছিল

এই যুদ্ধের ফলে ইসরাইল মিশরকে শক্তিশালী শত্রুরূপে স্বীকৃতি দেয় এবং শান্তি চুক্তির মাধ্যমে সুয়েজ খাল পুননির্মাণ পুনরায় চালু করার জন্য আলোচনা শুরু হয়

১৯৭৮ সালের সেপ্তেম্বরে আনোয়ার সাদাত এবং ইসরাইলের প্রধান মন্ত্রী মোনাখেম বেগিন ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির খসরা প্রস্তুত করে ১৯৭৯ সালের মার্স মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের মধ্যস্থতায়কেম্প ডেভিড চুক্তিনামে খ্যাত ইসরাইল-ইজিপ্ত শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন চুক্তির মূল বৈশিষ্ঠগুৱি ছিল, একে অপরের দেশকে স্বীকৃতি প্রদান, ১৯৪৮ সাল থেকে চলে আসা আরব-ইসরাইলর মাঝে বিদ্যমান যুদ্ধের অবসান, সুয়েজ খালের মধ্য দিয়ে ইসরালি জাহাজ বিনা খরচে যাতায়াতের স্বীকৃতি প্রদান, তিরান উপকূলীয় আকাবা উপসাগরকে আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসাবে স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা, এই চুক্তি মর্মে ইজিপ্ত ইসরাইলকে আরব দেশ হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান ইজিপ্ত এই চুক্তিমর্মে ইসরাইলকে সিনাই উপদ্বীপ ছেড়ে দিতে হয় এই শান্তি চুক্তির জন্য আনোয়ার সাদাত এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী মোনাখেম বেগিনকে ১৯৭৮ সালে যৌথভাবে শান্তির নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় আনোয়ার সাদাত মুসলিম বিশ্বের প্রথম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মুসলিম

সাধারণভাবে মিশরীয়দের কাছে এই শান্তি চুক্তি জনপ্রিয় হলেও মুসলিম ব্রাদারহুড নামের একটি গোড়া মুসলিম সংগঠন বামপন্থীরা এই চুক্তি প্রত্যাখান করে মুসলিম ব্রাদহুড হলো মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবিত জনপ্রিয় ইসলামপন্থী আন্দোলন ১৯২৮ সালে হাসান আল বান্না মিশরে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে এর সদস্য সংখ্যা ছিল ২০ লাখ আরব বিশ্বের সাথে আগাম আলোচনা না করে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার ফলে একমাত্র সুডানের বাইরে মুসলিম ব্রাদারহুড, আরব এবং পেলেষ্টাইন লিবারেশ্বন অর্গেনাইজেশন (পিএলও) এর তীব্র বিরোধিতা করে সাদাতকে তাঁরা ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করার জন্য আহ্বান জানায় কিন্তু সাদাত এই আলোচনার আহ্বান প্রত্যাখান করেন ফলে ইজিপ্তকে ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত আরব লীগের সদস্য পদ থেকে সরিয়ে রাখা হয়

 

১৯৮১ সালের অক্টোবর কাইরোতে এক প্যারেডে অংশ গ্রহণ করার সময় মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য খালিদ ইসলামবৌলি নামের একজন আততায়ীর নেতৃত্বে আসা আততায়ীরা তাঁকে অটাম্যাটিক রাইফল দিয়ে গুলী করে হত্যা করে সাদাত ছাড়াও সেই আক্রমণে কিউবার রাষ্ট্রদূত, একজন ওমানি জেনেরেল, কপটিক অর্থডক্স বিশপ এবং মিশরের কেন্দ্রীয় অডিটিং এজেঞ্চির প্রধান সেলিম হেলমি সহ এঘার জনকে হত্যা করা হয়েছিল সহ-রাষ্ট্রপতি হোসনি মোবারক, আইরিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেমস টুলি এবং চারজন মার্কিন সামরিক যোগাযোগ কর্মকর্তা আহত হয়েছিলেন ইসরাইল-ইজিপ্ত শান্তি চুক্তিই ছিল আনোয়ার সাদাত হত্যার প্রধান কারণ আনোয়ার সাদাতের মৃত্যুতে সমগ্র বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে পরেছিল ১৯৮২ সালের এপ্রিলে ইসলাম বৌলিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃতুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এবং তাকে গুলী করে হত্যা করা হয়েছিল

 

সাদাতের জানাজায় সারা বিশ্বের রেকর্ড সংখ্যক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন তিনজন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি- জেরাল্ড ফোর্ড, জিমি কার্টার এবং নিকসন জানাজায় উপস্থিত ছিলেন আরব রাষ্ট্র প্রধানদের মধ্যে একমাত্র সুদানের রাষ্ট্রপতি গফার নিমেরিই উপস্থিত ছিলেন আরব লীগের ২৪ টি দেশের মধ্যে মাত্র ওমান, সোমালিয়া এবং সুদান প্রতিনিধি প্রেরণ করেছিল সাদাতকে অজানা সৈনিকের স্মৃতিসৌধে সমাধিস্থ করা হয়েছে

 

               সংক্ষেপে জীবন বৃত্তান্ত

সম্পাদক আল জুমহুরিয়া আল টাহরির- ১৯৫৫-৫৬

মিনিষ্টার অফ স্ট্যাট- ১৯৫৫-৫৬

ভাইস চেয়ারম্যান ন্যাশন্যাল এসেম্বলি- ১৯৫৭-৬০

চেয়ারম্যান ন্যাশ্বন্যাল এসেম্বলি- ১৯৬০-৬৮

জেনেরেল সেক্রেটারী ইজিপসিয়ান ন্যাশন্যাল ইউনিয়ন- ১৯৫৭-৬১

চেয়ারম্যান এফ্রো-এশিয়ান সলিডিরিটি কাউন্সিল- ১৯৬১

মেম্বার অফ প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল- ১৯৬২-৬৪

ভাইস প্রেসিডেণ্ট- ১৯৬৪-৬৬, ১৯৬৯-৭০

প্রেসিডেণ্ট- ১৯৭০

প্রাইম মিনিষ্টার- ১৯৭০-৭৪

চেয়ারম্যান আরব সোসিয়ালিষ্ট ইউনিয়ন- ১৯৭০

মেম্বার অফ হাইয়ার কাউন্সিল অফ নিউক্লিয়ার এনার্জি- ১৯৭৫

পিতা- আনোয়ার মহমেদ আল সাদাত

মাতা- ছিট আল বেরেইন

পত্নী-ইকবাল মাদী, জিহান সাদাত ইকবাল মাদীর সাথে তালাক হওয়ার পরে জিহান সাদাতকে দ্বিতীয় পত্নী হিসাবে গ্রহণ করে

সন্তান- কমেলিয়া সাদাত, গামাল সাদাত, জেলিয়ান সাদাত, লুবনা সাদাত, নোহা সাদাত, রাবিয়া সাদাত, রুকিয়া সাদাত

 

 নোবেল বিজয়ী মহান

                    বিজ্ঞানী আব্দুস সালাম

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মহম্মদ আব্দুস সালামের জন্ম ১৯২৬ সালের ২৯ জানুয়ারী ব্রিটিশ শাসিত ভারতের (বর্তমান পাকিস্থান) পাঞ্জাবের ঝংগে তাঁর বাবার নাম চৌধুরি মহম্মদ হোসেইন এবং মার নাম হাজিরা হোসেইন সালামের বাবা মহম্মদ হোসেইন পাঞ্জাব রাজ্যের কৃষি প্রধান একটি অনুন্নত দরিদ্র জেলার শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তা ছিলেন সালামের দাদা গুল মহম্মদ ধার্মিক পাণ্ডিতের পাশাপাশি একজন সুচিকিৎসক ছিলেন তাঁরা আহমদীয়া সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন

সালাম পাঞ্জাব এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অসামান্য একাডেমিক প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন মাত্র চৈধ্য বছর বয়েসে সালাম পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যাট্রিক (প্রবেশিকা) পরীক্ষায় রেকর্ড সংখ্যক সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তিনি পাঞ্জাবের লাহোরের সরকারী কলেজের বাকি অর্জন করেছিলেন তিনি ছিলেন একজন বহুমুখী পণ্ডিত তিনি উর্দু, ইংরাজী হিসাবে বেচে নিয়েছিলেন তাঁর পরামর্শদাতা এবং করুক, তবে তিনি গণিতের সাথে তাল মিলিয়ে যাওয় সমস্যা নিয়ে কাজ করেন এবং ১৯৪৪ সালে তিনি চুড়ান্ত পরীক্ষায় গণিতে ৩০০ নম্বরের মধ্যে ৩০০ এর করেছিলেন এই কৃত্বিত্বের জন্য তিনি বৃত্তিসহ কেম কলেজ’- অধ্যয়নের সুযোগ লাভ করেন

সালামের বাবা চেয়েছিলেন তিনি ভারতীয় সিভিল আইসিএস নাগরিক সমাজে একটি সন্মানিত সরকারী সালামের বাবা চেয়েছিলেন তিনি ভারতীয় সিভিল

করুক কারণ তখন আইসিএস নাগিক সমাজে একটি সন্মানিত সকাী পদবী ছিলো। তাঁ বাব ইচ্ছাকে সন্মান জানিয়ে তিনি ইণ্ডিয়ান রেলওয়েতে যোগদানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মেডিক্যাল অপটিক্যাল টেষ্টে ব্যর্থ হওয়াতে তিনি রেলওয়েতে যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন কারণ তিনি ছোটবেলা থেকেই চশমা ব্যবহার করতেন তদুপরি রেলওয়ের চাকরির জন্য তাঁর বয়সো কম ছিলেন লাহোরে থাকাকালীন তিনি সরকারী কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৬ সালে গণিত বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন একই বছর তিনি কেমব্রিজের সেণ্ট কলেজ থেকে বৃত্তি অর্জন করেন এবং ১৯৪৯ সালে গণিত এবং পদার্থ বিজ্ঞানে অনার্সসহ ফার্স্ট-ক্লাস স্নাতক ডাবল ডিগ্রী অর্জন করেন ১৯৫০ সালে তিনি পদার্থ বিজ্ঞানে অসামান্য প্রাক-ডক্টরেল অবদানের জন্য কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্মিথের পুরস্কার অর্জন করেছিলেন ডিগ্রী অর্জন করার পরে প্রফেসর ফ্রেড হোয়েল সালামকে আরও এক বছর ক্যাভেনডিশ ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষামূলক পদার্থ বিজ্ঞানে গবেষণা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, তবে পরীক্ষাগারে দীর্ঘসময় পরীক্ষা চালানোর জন্য তাঁর ধৈর্য ছিল না তিনি পাঞ্জাবের ঝংগে ফিরে এসে তাঁর বৃত্তি নবায়ন করে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জনের জন্য আবার যুক্তরাজ্যে চলে যান

সালামকেমব্রিজের ক্যাভেনডিশ ল্যাবরেটরী থেকে তাত্ত্বিক(থিয়র'টিক্যাল)পদার্থ বিজ্ঞানে ১৯৫১ সালে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেনক্ষেত্রের কোয়ান্টাম তত্ত্বের বিকাশ' শিরোনামে তাঁর ডক্টরাল থিসিসে কোয়ান্টাম তড়িৎবিদ্যায়ণ(কোয়ান্টাম ইলেকট্রোডাইনামিক) সম্পর্কিত বিস্তৃত এবং মৌলিক কাজ ছিল ১৯৫১ সালে সেই থেসিস প্রকাশিত হওয়ার পরে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন এবং অ্যাডামস পুরস্কার লাভ করেন ডক্টরাল অধ্যয়ন কালে, তাঁর পরামর্শদাতারা তাঁকে থেসিস এক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ করার জন্য চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ছিলেন, যা পল ডাইরাক এবং রিচার্ড ফেনম্যানের মতো দুর্দান্ত বিজ্ঞানীরা করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন সালাম ছয় মাসের মধ্যে মেসন তত্ত্বের সমস্যা সমাধানের জন্য একটি সমাধান সূত্র খুঁজে পেয়েছিলেন সমাধানটি সমাধানের প্রস্তাব দেওয়ার সময় তিনি ক্যাভেনডিশ ল্যাবরেটরীতে হ্যান্স বেথে, জে, রবার্ট ওপেনহেইমার এবং ডায়রাকের মতো বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন

ডক্টরেট ডিগ্রী প্রাপ্তির পরে সালাম লাহোরের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অধ্যাপনা করেন ১৯৫২ সালে তিনি পাশের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক এবং চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন পরবর্তীতে তিনি কোয়ান্টাম মেকানিক্সে একটি কোর্স প্রবর্তন করে স্নাতক পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সালামের এই প্রচেষ্টা উপাচার্য দ্বারা প্রত্যাখাত হয় এবং ফলে তিনি কোয়ান্টাম মেকানিক্সে নিয়মিত পাঠ্যক্রমের পরিবর্তে সন্ধ্যাকালীন কোর্স পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন সালাম তাঁর দ্বারা প্রভাবিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার তদারকি শুরু করেন ফলস্বরূপ রিয়াজউদ্দীন কালামের একমাত্র ছাত্র ছিলেন যিনি লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কোয়ান্টাম মেকানিক্সে নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন এবং পরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছিলেন ১৯৫৩ সালে সালাম লাহোরে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি এই ক্ষেত্রে সহকর্মীদের বিরোধিতার সম্মুখীন হন ফলে তিনি সেই উদ্যোগ থেকে বিরত হন ১৯৫৪ সালে সালাম ফোলোশ্বিপ গ্রহণ করেন এবংপাকিস্থান একাডেমি অফ সায়েন্সে' প্রথম ফেলো হিসাবে নিযুক্ত হন ১৯৫৩ সালে লাহোরের আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দাঙ্গা শুরু হয় এক সময় দাঙ্গা লাহোরের বাইরেও পাঞ্জাবের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পরে দাঙ্গা উপশম হওয়ার পরে সালাম কেমব্রিজে ফিরে যান এবং সেণ্ট জনস কলেজে যোগদান করেন ১৯৫৪ সালে সেখানে তিনি গণিতের অধ্যাপক নিযুক্ত হন ১৯৫৭ সালে সালামকে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের তরফ থেকে সভাপতি পদ গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় তিনি আমন্ত্রণের প্রতি সাড়া দিয়ে সেখানে সভাপতির পদ গ্রহণ করেন এবং তিনি পল ম্যাথিউস ইম্পেরিয়াল কলেজে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ স্থাপন করেন সময়ের সাথে সাথে বিভাগটি অন্যতম মর্যদাপূর্ণ গবেষণা বিভাগে পরিণত হয় এবং স্টিভেন ওয়েইনবার্গ, টম কিবল, জেরাল্ড গুরালনিক, সি আর হেগেন, রিয়াজউদ্দীন এবং জন ওয়ার্ডের মতো প্রখ্যাত পদার্থবিদরা সেখানে অন্তর্ভূক্ত হন

১৯৫৭ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে সালামকে সন্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করা হয় উক্ত সালেই সালাম তাঁর শুভাকাংক্ষীদের সহায়তায় পাকিস্থানের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালু করেন সালাম পাকিস্থানের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন এবং সময়ে সময়েই পাকিস্থান সফর করেছিলেন সালাম কেমব্রিজ এবং ইম্পেরিয়াল কলেজে তাত্ত্বিক পদার্থবিদদের একটি দল গঠন করেছিলেন, যার বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই পাকিস্থানী ছিল ৩৩ বছর বয়েসে সালাম ১৯৫৯ সালে রয়েল সোসাইটি (এফআরএস) ফেলো নির্বাচিত হয়ে সর্বকনিষ্ঠ ফেলোর মর্যদা অর্জন করেছিলেন ১৯৫৯ সালে সালাম প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলোশিপ গ্রহণ করেছিলেন সেখানে তাঁর জে, রবার্ট ওপেনহেইমারের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল এবং তিনি ওপেনহেইমারের সাথে বৈদ্যুতিন বিদ্যাভিত্তিক সমস্যা এবং তাঁর সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছিলেন সালামের উৎসর্গকৃত ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন জিন বোকলি ১৯৮০ সালে সালাম বাংলাদেশ একাডেমি অফ সায়েন্সের ফেলো নির্বাচিত হয়েছিলেন

বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন-ক্যারিয়ারের শুরুতে সালাম কোয়ান্টাম ইলেট্রোডাইনামিক্স এবং কোয়ান্টাম ফিল্ড তত্ত্বের ক্ষেত্রে কণা এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ এবং উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন পাকিস্থানে তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুতে গাণিতিক সিরিজ এবং পদার্থবিজ্ঞানের সম্পর্কের প্রতি ব্যাপক আগ্রহী ছিলেন সালাম পাকিস্থানে পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে আরও গবেষণার জন্য মনোনিবেশ করেছিলেন তবে তিনি ইতিমধ্যে ঘটে যাওয়া পারমাণবিক পদার্থজ্ঞিান(পারমাণবিক বিচ্ছেদ এবং পারমাণবিক শক্তি)কে পদার্থবিজ্ঞানের -পথিকৃত হিসাবে বিবেচনা করেছিলেন এমনকি পাকিস্থানেও সালাম পাকিস্থানের তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের শীর্ষস্থানীয় চালিকাশক্তি ছিলেন অনেক বিজ্ঞানীকে তিনি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ওপড়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রভাবিত এবং উৎসাহিত করেছিলেন

তাত্ত্বিক এবং উচ্চ-শক্তিসম্পন্ন পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে সালাম দীর্ঘদিন গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন সালাম নিউট্রনের তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেছিলেন ১৯৩০-এর দশকে উলফগাং পাওলি একটি অধরা (টলৌবাজি) কণা নিয়ে কাগজে পোষ্ট করেছিলেন সালাম নিউট্রোস তত্ত্বে চিরাল পরিমিত(প্রতিসাম্য) প্রবর্তন করেছিলেন সালামচিরাল প্রতিসাম্য ইলেট্রোওইক' তত্ত্বের পরবর্তী বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল পরে সালাম তাঁর কাজ রিয়াজউদ্দীনের হাতে হস্তান্তর করেছিলেন রিয়াজউদ্দীন নিউট্রোনুস- অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন সালাম মডেল স্ট্যান্ডার্ড তত্ত্বের সাথে ভারী হিগস বোসন প্রবর্তন করেছিলেন যেখানে তিনি পরবর্তীতে প্রোটন ক্ষয়ের অস্তিত্বের পূর্বাভাস পেয়েছিলেন ১৯৬৩ সালে সালাম ভেক্টর মেসনে তাঁর তাত্ত্বিক কাজ প্রকাশ করেছিলেন ভেক্টর মেসন, ফোটন (ভেক্টর ইলেট্রোডায়নামিক্স) এবং ইণ্টারেক্টের পরে ভেক্টর মেসনের পরিচিত ভরগুলির পুনঃবিকীরণের সূচনা করে বলে সালাম সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন ১৯৬১ সালে সালাম জন ক্লাইভ ওয়ার্ডের সাথে চিমিত্রিক এবং ইলেট্রোয়িক একীকরণের কাজ শুরু করেছিলেন ১৯৬৪ সালে সালাম এবং ওয়ার্ড দুর্বল তড়িৎ চৌম্বকীয় মিথস্ক্রিয়তার জন্য একটি গজ (gauge) তত্ত্বের ওপড় কাজ করেছিলেন পরবর্তীতে এসইউ()x ইউ()মডেল তৈরি করেছিলেন সালাম নিশ্চিত হয়েছিলেন যে সমস্ত প্রাথমিক কণার ইন্টারঅ্যাকশন আসলে গজ ইন্টারঅ্যাকশন

১৯৬৮ সালে উইনবার্গ এবং শেল্ডন গ্লাশোর সাথে সালাম অবশেষে তাদের কাজের গাণিতিক ধারণাটি তৈরি করেছিলেন ইম্পেরিয়াল কলেজে, গ্লাশো এবং জেফ্রি গোল্ডস্টোন-এর সাথে মিলে সালাম গাণিতিকভাবে গোল্ডস্টোনের উপপাদ্যকে প্রমাণ করেছিলেন যে ভরবিহীন স্পিন-শূন্য বস্তু একটি ভাঙার ফলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিচ্ছিন্ন গ্লোবাল প্রতিসাম্য তত্ত্বে উপনীত হবে ১৯৬০ সালে সালাম এবং উইনবার্গ গ্লাশোর আবিষ্কার হিগস প্রক্রিয়াটি সংহত করে বৈদ্যুতিন তত্ত্বে আধুনিক রূপ দিয়েছিলেন এবং এইভাবে স্ট্যাণ্ডার্ড মডেলটিকে তাত্ত্বিক করেছিলেন

১৯৭২ সালে সালাম ভারতীয় বংশোদ্ভব আমেরিকান তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানী যোগেশ পাটির সাথে কাজ শুরু করেছিলেন পাটি সালামের নির্দেশনায় কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে সালামকে একাধিকবার চিঠি লিখেছিলেন এর প্রতিক্রিয়া হিসাবে সালাম অবশেষে পাটিকে পাকিস্থানের আইসিটিপি সেমিনারে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সালাম পার্টিকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে প্রোটন এবং ইলেকট্রোনগুলি এত আলাদা, কিন্তু সমান বিপরীত বৈদ্যুতিক চার্জ বহন করে, এর কিছু গভীর কারণ থাকতে হবে প্রোটন কোয়ার্ক বহন করে, তবে বৈদ্যুতিন তত্ত্বটি কেবল ইলেকট্রন নিউট্রিন নিয়েই উদ্বিগ্ন ছিল যদি প্রকৃতির সমস্ত উপাদান একটি নতুন প্রতিসামগ্রীতে একত্রিত করা যায়, তবে এটি এই কণাগুলির বিভিন্ন বৈশিষ্ট এবং তাদের অনুভূত শক্তির বিভিন্ন কারণের কারণ প্রকাশ হতে পারে ১৯৭৩ সালে সালাম এবং যোগেশ পাটি প্রথম লক্ষ্য করেছিলেন যে কোয়ার্ক এবং লেপটনের খুবই অনুরূপ এসইউ () x ইউ() উপস্থাপনের বিষয়বস্তু রয়েছে, তাই তাদের সাদৃশ্য অস্তিত্ব থাকতে পারে তাঁরা কোয়ার্ক-লেপটন প্রতিসাম্যের একটি সহজ উপলব্ধি সরবরাহ করেছিলেন

পদার্থ বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করছিলেন যে প্রকৃতির চারটি মৌলিক শক্তি রয়েছে: মহাকর্ষ শক্তি, শক্তিশালী দুর্বল পারমাণবিক শক্তি এবং তড়িৎ চৌম্বকীয় শক্তি সালাম ১৯৫৯ সাল থেকে গ্লাশো এবং উইনবার্গের সাথে মিলে এই শক্তিগুলোর একীকরণের জন্য কাজ করছিলেন সালাম সফলভাবে প্রমাণ করেছিলেন যে দুর্বল পারমাণবিক শক্তিগুলি তড়িৎচুম্বকীয় শক্তির চেয়ে প্রকৃতার্থে আলাদা নয় এবং দু'টি আন্তঃ-রূপান্তর করতে পারে সালাম সিদ্ধান্তে এসেছিলেন যে প্রকৃতির দু'টি মৌলিক শক্তি, দুর্বল পারমাণবিক শক্তি এবং তড়িৎ চৌম্বকীয় শক্তিকে একে অপরের সাথে একীকরণ দেখায় গ্লাশোও একই কাজ করেছিলেন ১৯৬৬ সালে এই দুজনের সিদ্ধান্ত একীকরণ করা হয় ১৯৬৭ সালে সালাম ইলেকট্রোউইক একীকরণ তত্ত্বকে গণিতের সাথে প্রমাণ করেন এবং গবেষণাগুলি কাগজে প্রকাশ করেন এই কৃতিত্বের জন্য সালাম, গ্লাশো এবং উইনবার্গকে ১৯৭৯ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়েছিল

সালাম ১৯৬০ সালে রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান কর্তৃক প্রদান করা একটি সরকারী কাজের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য পাকিস্থান ফিরে আসেন ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পরে পাকিস্থানের কোনো সুসংহত বিজ্ঞান নীতি ছিলনা বিজ্ঞানের গবেষণা এবং উন্নয়নের জন্য পাকিস্থানের জিডিপির মাত্র শতাংশ ব্যয় করা হতো ১০ জনেরও কম বিজ্ঞানী মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানের ধারণাগুলি নিয়ে কাজ করতো এমনকি পাকিস্থান পারমাণবিক কমিশনের(পি,,, সি) সদর দপ্তর একটি ছোট ঘরে অবস্থিত ছিল বিজ্ঞান পরামর্শদাতা সলিমুজ্জামান সিদ্দিকিকে সড়িয়ে সালাম পিএইসির সদস্য হন সালাম পদার্থ বিজ্ঞানের গবেষণা বিকাশের জন্য ৫০০-এরও অধিক বিজ্ঞানীকে বিদেশে প্রেরণ করেন জাতীয় মহাকাশ সংস্থা স্থাপনের জন্য ১৯৬১ সালে সালাম রাষ্ট্রপতির সাথে যোগাযোগ করেন ১৯৬১ সালের ১৯ সেপ্তেম্বর- স্পেস এণ্ড আপার এটমসফিয়ার রিসার্চ কমিসন(সুপোরকো)প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং সালামকে এর পরিচালক হিসাবে দায়িত্বভার অর্পণ করা হয় সুইজারল্যাণ্ডে কর্মরত পারমাণবিক পদার্থবিদ ইশফাক আহমদকে সালাম পাকিস্থানে ফিরিয়ে আনেন এবং ইশফাক আহমেদ সিআরএন- যোগদান করেন সালামের প্রচেষ্টায় লাহোরে পিএইসি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ইশফাক আহমেদকে এর পরিচালক হিসাবে দায়িত্বভার অর্পণ করা হয় ১৯৬৭ সালে সালাম তাত্ত্বিক কণা পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একটি কেন্দ্রীয় এবং প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন কায়দে--আজম বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার করা হয় ফলে সাথে সাথে তাত্ত্বিক এবং কণা পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণা শুরু হয় সালোমন-এর নির্দেশে পদার্থবিজ্ঞানীরা পদার্থ বিজ্ঞান এবং গণিতে সর্বাধিক অসামান্য সমস্যা মোকাবেলা করেন এবং তাদের পদার্থ বিজ্ঞানের গবেষণা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে বিশ্বব্যাপী পাকিস্থানী পদার্থ বিজ্ঞানীরা স্বীকৃতি পান

সালাম সারা দেশে গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করেন সালামের নির্দেশে ইশরাত হুসেন উসমানী সারা দেশে প্লুটোনিয়াম এবং ইউরেনিয়াম অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেন ১৯৬১ সালের অক্টোবর মাসে সালাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করেন এবং পাকিস্থান আমেরিকার মধ্যে স্পেস সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন ১৯৬১ সালের নভেম্বরে মার্কিন জাতীয় অ্যারোনটিকস অ্যাও স্পেস অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন (নাসা) বেলুসিস্থান প্রদেশের শহর সোনমিয়ানিতে একটি স্পেস ফ্লাইট টেষ্ট সেণ্টার তৈরি শুরু করেন সালাম এর প্রথম প্রযুক্তি পরিচালক হিসাবে দাযিত্ব পালন করেন

সালাম শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পাকিস্থানের পারমাণবিক শক্তির উন্নয়নে প্রভাবশালী এবং ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করেছেন ১৯৬৪ সালে তাঁকে পাকিস্থানের আইএইএ প্রতিনিধি দলের প্রধান করা হয় একই বছরে সালাম তাঁর সমসাময়িক এবং আজীবন বন্ধু মুনির আহমেদের সাথে যোগ দেন আইএইএর মধ্যে মুনির আহমেদই একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন. যিনি ইটালির ট্রিটিতেইন্টারনেশন্যাল সেন্টার ফর থিওরিটিক্যাল ফিজিক্স’(আইসিটিপি)পদার্থ বিজ্ঞান সংস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির পদার্থবিদদের সহায়তার জন্য আইএইএর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইটালির ট্রিটিতে আইসিটিপি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছিল সালাম আইসিটিপির প্রথম পরিচালক ছিলেন আইএইএতে সালাম তাঁর দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গুরুত্বকে সমর্থন করেছিলেন তাঁর প্রচেষ্টার জন্যই ১৯৬৫ সালে কানাডা পাকিস্থান পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল সালাম তাঁর নিজের সহকর্মীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি আয়ুব খানের কাছ থেকে করাচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি নিয়েছিলেন ১৯৬৫ সালে সালামের নেতৃত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্থান একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্থানকে একটি ছোট গবেষণা চুল্লি (পিএআরআর-) সরবরাহ করেছিলেন বহু অনুষ্ঠানের জন্য একটি গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য সালামের বহুদিনের স্বপ্ন ছিল ১৯৬৫ সালে সালাম আবার পাকিস্থানের নিলুরে পাকিস্থান পারমাণবিক বিজ্ঞান প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য স্থপতি এডওয়ার্ড ডুরেল স্টোনের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন

১৯৬১ সালের নভেম্বর মাসে সালাম জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে তাঁর বাসায় সাক্ষাত করেছিল এবং ভূট্টোর পরামর্শ অনুসারে তিনি ভারত-পাকিস্থান যুদ্ধ এড়ানোর জন্য আমেরিকা গিয়েছিলেন ১৯৭২ সালে পাকিস্থান সরকার ভারতীয় পারমাণবিক বোমা কার্যসূচির বিকাশ সম্পর্কে জানতে পারে ১৯৭২ সালের ২০শে জানুয়ারী সালাম পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতির বিজ্ঞান পরামর্শদাতা হিসাবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভূট্টোর সাথে মুলতান সভা নামে খ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানীদের একটি গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন সেই বৈঠকে সালামের পরামর্শ অনুযায়ী মুনির খানকে পরমাণু বোমা কর্মসূচির প্রধান হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল বৈঠকের কয়েক মাস পরে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কে অবগতের জন্য সালাম, মুনির খান রিয়াজউদ্দিন ভূট্টোর সাথে তাঁর বাসায় সাক্ষাত করেছিলেন এই বৈঠকের পরে সালাম পিএইসিতেতাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞান গ্রুপ’(টিপিজি)প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সালাম ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত টিপিজির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন

ভুট্টোর নির্দেশ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে সালামের জন্য একটি কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল সালামফিছন অস্ত্রের বিকাশের জন্য পিএইসির সাথে কাজ করার জন্য বিজ্ঞানীদের উদ্বুদ্ধ আমন্ত্রণ জানাতে শুরু করেছিলেন নিউট্রন গণনা, হাইড্রোডাইনামিক্স (চেইনের দ্বারা উৎপাদিত বিস্ফোরণটি কীভাবে আচরণ করতে পারে), নিউট্রন বিস্তারের সমস্যা এবং পাকিস্থানের পারমাণবিক অস্ত্র ডিভাইসের তাত্ত্বিক বিকাশের নক্সা সম্পর্কে গবেষণার জন্য টিপিজিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পারমাণবিক অস্ত্রের তাত্ত্বিক নক্সার কাজ ১৯৭৭ সালে শেষ হয়েছিল ১৯৭৪ সালে ভারতের বিস্ময়কর পরীক্ষা পোখরান- এর পরে মুনির খান পারমাণবিক বোমার কাজ শুরু করার জন্য একটি বৈঠক আহ্বান করেন সালাম সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং মহম্মদ হাফিজ কুরেশীকে পিএইসিতে কারিগরি উন্নয়ন অধিদপ্তরের(ডিটিডি) প্রধান হিসাবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন ১৯৭৪ সালের মার্স মাসে সালাম এবং খান বাহিনী ওয়াহ গ্রুপ সায়েন্টিস্ট প্রতিষ্ঠা করেন সালাম ১৯৭৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র প্রোগ্রামের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন পাকিস্থানী সংসদ কর্তৃক আহমদি জামাতকে -মুসলিম ঘোষণার পরে ভুট্টোর সাথে সালামের সম্পর্ক ছিন্ন হয় এবং প্রকাশ্য শত্রুতে পরিণত হয় তা সত্ত্বেও সালাম পিএইসি-তে তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন এবং পারমাণবিক বোমার পারফরম্যান্স গণনা করার জন্য প্রয়োজনীয় গণনার অবস্থান সম্পর্কে যোগাযোগ রেখেছিলেন ভারত-পাকিস্থান যুদ্ধ, উত্তর পাকিস্থানের সিয়াচীন দ্বন্দ্ব, ভারতের অপারেশন ব্রাসট্যাকস দেখার পরে সালাম পারমাণবিক বোমা প্রকল্পে কর্মরত প্রবীণ বিজ্ঞানীদের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করে তুলেছিলেন ১৯৮০-এর দশকে সালাম ব্যক্তিগতভাবে আইসিটিপি এবং সিইআরএন- এর সহযোগিতা প্রোগ্রামে অনেক নিয়োগ এবং পাকিস্থানী বিজ্ঞানীদের বিশাল অংশগ্রহণকে অনুমোদন দিয়েছিলেন এবং আইসিপিটিতে তাঁর ছাত্রদের সাথে তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের গবেষণায় নিযুক্ত ছিলেন

সালাম জীবদ্দশায় অনেক পুরস্কার পেয়েছেন-

পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার (স্টকহোম, সুইডেন, ১৯৭৯)

১৯৫৭- ১৯৫৮-এর সময়ে পদার্থবিদ্যায় সর্বাধিক অসামান্য অবদানের জন্যহপকিন্স প্রাইজ' (কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৫৮)

অ্যাডামস প্রাইজ (কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৫৮)

রয়েল সোসাইটির ফেলো, ১৯৫৯

স্মিথের পুরস্কার (কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৫০)

পাকিস্থানে বিজ্ঞানের অবদানের জন্য পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি দ্বারা সিতারা--পাকিস্থান, ১৯৫৯

পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রাইড অফ পারফরম্যান্স পুরস্কার, ১৯৫৮

ম্যাক্সওয়েল পদক এবং পুরস্কার (ফিজিক্যাল সোসাইটি, লণ্ডন, ১৯৬১)

হিউজেস মেডেল(রয়েল সোসাইটি, লণ্ডন, ১৯৬৪)

পিস ফাউন্ডেশনের জন্য পরমাণু শান্তি পুরস্কার, ১৯৬৮

জে, রবার্ট ওপেনহেইমার মেমোরিয়াল পুরস্কার এণ্ড মেডেল (মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৭৬)

স্যার দেবপ্রসাদ সরকারী অধিকার স্বর্ণপদক (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৭৭)

মাত্মসি পদক(অ্যাকাডেমিয়া নাজিওনালে দে লিনসি, রোম, ১৯৭৮)

জন টরেন্স টেট মেডেল (অ্যামেরিকান ইনস্টিটিউট অফ ফিজিক্স, ১৯৭৮)

রয়েল মেডেল (রয়েল সোসাইটি, লণ্ডন, ১৯৭৮)

পাকিস্থানের বৈজ্ঞানিক প্রকল্পে অসামান্য পারফরম্যান্সের জন্য পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি দ্বারা নিশান--ইমতিয়াজ, ১৯৭৯

আইনস্টাইন পদক (ইউনেস্কো, প্যারিস, ১৯৭৯)

শ্রী আর ডি বিড়লা পুরস্কার (ইণ্ডিয়া ফিজিক্স অ্যাসোসিয়েশন, ১৯৭৯)

অর্ডার অফ আড্রেস বেলো (ভেনিজুয়েলা, ১৯৮০)

ইন্তিকালালের আদেশ (জর্ডান, ১৯৮০)

ক্যাভালিয়ের ডি গ্রান ক্রুস ডেল(অর্ডাইন আল মেরিটো ডেলা রেপাব্লিকা ইটালিয়ানা, ১৯৮০)

জোছেফ স্টেফান পদক (জোছেফ স্টিফান ইনস্টিটিউট, লুবুলিজানা, ১৯৮০)

পদার্থ বিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের জন্য(চেকোশ্লোভাকঅ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস, প্রাগ, ১৯৮০)

পিস মেডেল (চার্লস বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাগ, ১৯৮১)

লোমনোসভ স্বর্ণপদক (ইউএসএসআর অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস, ১৯৮৩)

প্রিমিও উবার্তো বিয়ানকামানো (ইটালি, ১৯৮৬)

দায়েমি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার(বাংলাদেশ, ১৯৮৬)

প্রথম এডিনবার্গ পদক এবং পুরস্কার (স্কটল্যাণ্ড, ১৯৮৮)

জেনোয়াআন্তর্জাতিক পুরস্কার (ইটালি, ১৯৮৮)

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আদেশের অনারারি নাইট কমাণ্ডার, ১৯৮৯

কাতালুনিয়া আন্তর্জাতিক পুরস্কার (স্পেন, ১৯৯০)

কোপলে পদক(রয়্যাল সোসাইটি, লণ্ডন, ১৯৯০)

আব্দুস সালামের নামে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে-

আব্দুস সালাম ফিজিক্স সেন্টার (পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ), কয়েদ--আজম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামাবাদ,পাকিস্থান

আব্দুস সালাম জাতীয় গণিত কেন্দ্র (এএসএনসিএম), সরকারী কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, লাহোর, পাকিস্থান

আব্দুস সালাম চেয়ার ইন ফিজিক্স (এএসসিপি), সরকারী কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, লাহোর, পাকিস্থান

আব্দুস সালাম আন্তর্জাতিক থিয়রিটিক্যাল ফিজিক্স সেন্টার, ট্রিস্টে, ইটালি

আব্দুস সালাম স্কুল অফ ম্যাথমেটিক্যাল সায়েন্সেস, লাহোর, পাকিস্থান

এডওয়ার্ড বাউচেট আব্দুস সালাম ইনস্টিটিউট, (ইবিএএসআই), হেডকোয়ার্টার ট্রিস্টে, ইটালি

আব্দুস সালাম ব্যক্তিগত জীবনে একান্তই ব্যক্তিগত ব্যক্তি ছিলেন তিনি আহমদি মুসলিম ছিলেন ১৯৭৮ সালে পাকিস্থান সংসদ পাকিস্থান সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী মাধ্যমে আহমদিকে -মুসলিম ঘোষণা করেন এর প্রতিবাদে তিনি পাকিস্থান ছেড়ে লণ্ডন চলে যান লণ্ডন চলে যাওয়ার পরেও তিনি পাকিস্থানের সাথে কখনও যোগাযোগ ছিন্ন করেননি তিনি তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞান গোষ্ঠী তথা পাকিস্থান পরমাণু শক্তি কমিশনের অ্যাকাডেমিক বিজ্ঞানীদের সাথে সর্বদা ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেছিলেন

একমাত্র আহমদি মুসলিম হওয়ার জন্য ঐতিহাসিক নোবেল পুরস্কার অর্জনের পরে পাকিস্থানের সাইন্টিস্ট কর্মকাণ্ডের মূল ব্যক্তিত্ব সালামকে স্বাগতের জন্য কোনো অনুষ্ঠান করা হয়নি তবে, সালাম জন্মভূমি পাকিস্থানকে খুবই ভালো বাসত এই ভালোবাসার জন্যেই ইংল্যাণ্ড এবং ইটালি থেকে নাগরিকত্বের আহ্বান পাওয়ার পরেও তিনি সেই দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি তিনি সর্বদা পাকিস্থানের পাসপোর্ট নিয়েই চলাফেরা করতেন নিজের দেশের পক্ষপাতদুষ্ট উদাসীন আচরণ সত্ত্বেও তিনি কোনোদিন পাকিস্থানের বিরুদ্ধে কোনো বিরূপ মন্তবও করেননি

১৯৯৬ সালের নভেম্বর মাসের ২১ তারিখে ইংল্যাণ্ডের অক্সফোর্ডে মহান বিজ্ঞানী সালাম মৃত্যুবরণ করেন তাঁর মরদেহ পাকিস্থানে এনে দারুল জিয়াফতে রাখা হয় সেখানে ১৩,০০০ পুরুষ, মহিলা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হয়েছিলেন তাঁর জানাঝায় প্রায় ৩০,০০০ লোক অংশগ্রহণ করেছিল সালামকে পাকিস্থানের পাঞ্জাবের রাবওয়াহে তাঁর মা বাবার কবরের পাশে আহমদিয়া সম্প্রদায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কবরস্থান বাহিতি মকবাড়ায় দাফন করা হয়েছে তাঁর সমাধির এটিটাফে প্রথমেপ্রথম মুসলিম নোবেল বিজয়ী' লেখেছিলেন পাকিস্থান সরকার 'মুসলিম' শব্দটি সরিয়ে কেবলমাত্র তাঁর নামটি হেডস্টোন- রেখেছেন পাকিস্থানই একমাত্র জাতি যারা আহমদিদের -মুসলিম বলেছেন ১৯৮৪ সালের আধ্যাদেশের অধীনে একজন আহমদি হওয়ার কারণে পাকিস্থানের সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী সালামকে -মুসলিম বলে বিবেচনা করা হয়েছিল

সালাম তাঁর দেশ মাটিকে প্রাণদিয়ে ভালো বেসেছিলেন তাই মৃত্যুর পরে পাকিস্থানে সমাধিস্থ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে গিয়েছিলেন তাঁর এই শেষ ইচ্ছার দ্বারা তিনি সবচেয়ে বেশি প্রতীকী হয়ে উঠেছেন সালাম তরুণ বিজ্ঞানীদের কাছে চিরদিন একজন নায়ক, একজন বাবা এবং রোল মডেল হয়ে থাকবে

 

      নাগুইব মাহফুজের জীবন এবং কর্ম

নোবেল বিজয়ী নাগুইব মাহফুজের জন্ম ১৯১১ সালের ১১ ডিসেম্বর ইজিপ্তের পুরানো কায়রোর একটি মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিয়ালে চারজন ভাই এবং দুজন বোনের মধ্যে মাহফুজ কনিষ্টতম সন্তান ছিল ভাই এবং বোনেরা তাঁর চেয়ে বয়েসে অনেক বড় ছিল পরিবারটি কায়রোর দু'টি জনপ্রিয় জেলায় বাস করত প্রথমত, পুরানা শহরের গামালিয়া পাড়ায়, সেখান থেকে তাঁরা ১৯২৪ সালে আবাবসেরায় চলে এসেছিল তারপরে পুরানো শহরের উত্তরে একটি শহরতলিতে এমন অবস্থানগুলি মাহফুজের পরবর্তী লেখক জীবনের জন্য পটভূমি হিসাবে কাজ করেছিল মাহফুজের বাবা আবদেল আজিজ ইব্রাহীম একজন সরকারী কর্মচারী ছিলেন মাহফুজ তাঁর বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ১৯৩৪ সালে সরকারী চাকরিতে যোগদান করেন মাহফুজের মা ফাতিমা ছিলেন আল-মোস্তফা কাশীশের মেয়ে আবদেল আজিজ ইব্রাহীম নিজে নিরক্ষর হলেও শৈশবে ছেলে মাহফুজকে মিশরের বিভিন্ন স্থান যথা যাদুঘর এবং মিশরের বিখ্যাত পিরামিডগুলো দেখিয়ে বেড়াতেন

মাহফুজের পরিবার ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছিলেন এবং মাহফুজকেও কঠোরভাবে ধর্মীয় বিধিনিষেধ মেনে চলতে হত একটি সাক্ষাৎকারে তিনি শৈশবকালে বাড়িতে কেমন ধর্মীয় আবহাওয়া ছিল সে বিষয়ে বর্ণনা করেছিলেন তিনি বলেছিলেন- ‘আমি কখনও ভাবতাম না যে এমন একটি পরিবার থেকে আমি শিল্পী হয়ে উঠে আসব

মাহফুজের উপর ১৯১৯ সালের মিশরীয় বিপ্লবের যথেষ্ট প্রভাব পড়েছিল, যদিও তখন তাঁর বয়স মাত্র সাত বছর ছিল ব্রিটিশ সৈন্যরা বিক্ষোভকারী পুরুষ মহিলাদের লক্ষ্য করে গুলি চালনা করা তিনি খিড়কি দিয়ে প্রত্যক্ষ করতেন পরে তিনি বলেছিলেন-‘১৯১৯ সালের বিপ্লব আমার শৈশবের সুরক্ষাকে আলোড়িত করত' তাঁর জীবনের প্রথম বছরগুলি হাবিব নাজিব, তাহা হোসেইন এবং ফ্যাবিয়ার বুদ্ধিজীবী সালামা মুছা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল

মাধ্যমিক পড়াশোনা শেষ করার পর মাহফুজ ১৯৩০ সালে মিশরীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে (সম্প্রতি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়)ভর্তি হন ১৯৩৪ সালে তিনি দর্শনে স্নাতক এবং ১৯৩৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করার পরে তিনি একজন পেশাদার লেখক হয়ে উঠেন তিনি আল- রিসালার সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করেন এবং সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি আল-হিলাল আল- আহরামে ছোট গল্প লেখতেন

১৯৩৪ সালে স্নাতক ডিগ্রী অর্জনের পরে মাহফুজ মিশরীয় সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়েছিলেন এবং ১৯৭১ সালে অবসর গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন পদে মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন তিনি প্রথমে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে কেরানি হিসাবে কাজ শুরু করেছিলেন এবং ১৯৩৮ সালে ইসলামিক অনুদান মন্ত্রীর(আওকাফ) সংসদীয় সচিব হিসাবে নিযুক্ত হয়েছিলেন ১৯৪৫ সালে তিনি আল-গুরি মাওসোলিয়াম গ্রন্থাগারে বদলি হয়েছিলেন ১৯৫০-এর দশকে তিনিসেনসরশিপ ইন দ্যা ব্যুরো অফ আর্টস এবং চলচ্চিত্রের সমর্থনের জন্য নির্মিত ফাউণ্ডেশন-এর পরিচালক হিসাবে কার্যনির্বাহ করেছেন অবশেষে তিনি সাংস্কৃতিক মন্ত্রকের পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করেছেন

মাহফুজ তাঁর ৭০ বছরের লেখক জীবনে ৩৪ টি উপন্যাস, ৩৫০ টিরও বেশি ছোট গল্প, কয়েক ডজন মুভি স্ক্রিপ্ত এবং পাঁচটি নাটক প্রকাশ করেছেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৫২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাদশাহ ফারুককে ক্ষমতাচ্যুত করা পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবারের তিন প্রজন্মের জীবনকে চিত্রিত করাকায়রো ট্রিলজি' সম্ভবত তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা তিনি ডার আল-মারেফ প্রকাশক গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন তাঁর অনেক উপন্যাস আল-আহরামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হয়েছিল এবং তাঁর লেখাগুলোওপয়েন্ট অফ ভিউ সাপ্তাহিক কলামে প্রকাশ হত নোবেল পুরস্কার অর্জনের আগে তাঁর কয়েটি উপন্যাস পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে প্রকাশিত হয়েছিল

মাহফুজের বেশির ভাগ প্রাথমিক রচনা কায়রোর পটভূমিতেই সম্পূর্ণ করেছিল আবাত আল-আকদার (১৯৩৯), রাডোপিস (১০৪৩) এবং কিফাহ টিবা(১৯৪৪) এগুলো ঐতিহাসিক উপন্যাস স্যার ওয়াল্টার স্কট(১৭৭১-১৮৩২) দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মাহফুজ একাধিক বইয়ে মিশরের সম্পূর্ণ ইতিহাস তোলে ধরার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁর রচনাগুলি সমাজতন্ত্র, সমকামিতা এবং ঈশ্বরের মতো বিতর্কিত এবং নিষিদ্ধ বিষয়গুলির ওপড় বিস্তৃত কারণ মিশরে এই বিষয়গুলির কয়েকটি বিষয়ে লেখা নিষিদ্ধ ছিল

মাহফুজের রচনাগুলির প্রায় সবগুলি রচনাই মিশরের বিংশ শতাব্দীর উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত এবং পূর্ব পশ্চিম উভয় দেশের মিলিত বৌদ্ধিক সাংস্কৃতিক প্রভাব সুস্পষ্ট তাঁর যৌবনে তিনি বিদেশী সাহিত্যের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন তিনি পাশ্চ্যাত্যের গোয়েন্দা গল্প, রাশিয়ান দ্রুপদী এবং আধুনিকতাবাদী লেখক মার্সেল প্রস্ট, ফ্রাঞ্জ কাফকা এবং জেমস জয়েসের দ্বারা প্রভাবিত উৎসাহিত হয়েছিলেন মাহফুজের গল্পগুলি প্রায় সর্বদা কায়রো শহরের জনবহুল অঞ্চলের পটভুমিতে রচিত এবং তাঁর চরিত্রগুলি সাধারণত সাধারণ মনুষ্য সমাজের আধুনিকীকরণ এবং পশ্চিমা মূল্যবোধের প্রলোভনের সাথে লড়াইয়ে প্রবৃত্ত

মাহফুজের ১৯৫০-এর দশকের মুখ্য রচনা ছিলকায়রো ট্রিলজি উপন্যাসগুলির রচনা জুলাই বিপ্লবের আগে শেষ করেছিল উপন্যাসগুলির শিরোনাম রাস্তার নামের সাথে যুক্ত ছিল প্যালেস ওয়াক, প্যালেস অফ ডিজায়ার এবং সুগার স্ট্রিট মাহফুজ কায়রোর যে অঞ্চলে বড় হয়েছিলেন সেখানকার পটভূমিতে উপন্যাসগুলি রচনা করা হয়েছিল উপন্যাসগুলিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৫০-এর দশকে বাদশাহ ফারুককে ক্ষমতাচ্যুত করা সময় পর্যন্ত আল সৈয়দ আহমেদ আবদেল গ্যাবালাওই এবং তাঁর পরিবারের জীবনকে চিত্রায়িত করেছিলেন ট্রিলজি শেষ করার পরে ১৯৫২ সালে রাজতন্ত্রকে উৎখাত করে নাসের ক্ষমতা দখল করে ফলে মাহফুজ হতাশ হয়ে কিছুদিন লেখা-লেখি থেকে নিবৃত্ত ছিলেন

১৯৫৯ সাল থেকে মাহফুজ পুনরায় লেখা-লেখি শুরু করেন তিনি উপন্যাস, ছোট গল্প, প্রবন্ধ, স্মৃতিচারণ, সাংবাদিকতা এবং চিত্রনাট্য রচনায় মনোনিবেশ করেছিলেন ১৯৯৯ সালে তিনি একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনুভব করে আসছেন যে নাসের ইতিহাসের সেরা রাজনৈতিক নেতা সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করার পর থেকে আমি তাঁর প্রশংসা করতে শুরু করেছি

মাহফুজের উপন্যাসথারথার ফওক আল-নল(অ্যাড্রিফট অন নীল নদ) তাঁর সেরা রচনা আনোয়ার সাদাতের আমলেচিটচাট' শিরোনামে উপন্যাসটির ওপড়ে একটি ছবি নির্মাণ করা হয় উপন্যাসটিতে নাসের আমলের মিশরীয় সমাজের অবক্ষয়কে সমালোচনা করা হয়েছে ফলে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি নাসেরের সমর্থকদের উস্কানি এড়ানোর জন্য সাদাত বইটি নিষিদ্ধ করেছিল ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে বইটি পাওয়া খুব শক্ত ছিল

চিলড্রেন অফ গ্যাবালাওই (১৯৫৯ সালে প্রকাশিত বইটিচিলড্রেন অফ অ্যালি' নামেও পরিচিত) মাহফুজের অন্যতম সেরা রচনা পিতৃপুরুষ গ্যাবালাওই এবং তাঁর সন্তানদের চরিত্র চিত্রিত করেছেন বইটিতে বইটিতে সাধারণ মিশরীয়দের জীবন প্রতিফলিত হয়েছে গ্যাবালাওই অনুর্বর মরুভূমির মাঝে একটি প্রাসাদ তৈরি করে; তাঁর এস্টেট প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পারিবারিক কলহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় বইটি একমাত্র লেবাননের বাহিরে সমগ্র আরব বিশ্বে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছিল কারণ বইটিতে রূপক চিত্রের মাধ্যমে ইহুদি, খ্রীস্টান ইসলামের একত্ববাদী বিশ্বাসকে নিন্দা করেছিলেন ১৯৬০-এর দশকে মাহফুজ তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তুগুলি ঈশ্বর থেকে আরও দূরে সরে গিয়ে মানবতার প্রতিপাদ্যর দিকে বিকশিত হয় দ্যা থীপ এণ্ড দ্যা ডগ'(১৯৬১) উপন্যাসটিতে তিনি একজন মার্ক্সবাদী চোরের ভাগ্য চিত্রিত করেছেন চোরটি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে প্রতিশোধের পরিকল্পনা করেছিলেন

১৯৬০-৭০-এর দশকে মাহফুজ তাঁর উপন্যাস রচনায় আরও মুক্ত এবং স্বাগতোক্তি ব্যবহার শুরু করেন মিরামার (১৯৬৭)- তিনি একাধিক প্রথম ব্যক্তির বিবরণ বর্ণনা করেছেন চারজন বর্ণনাকারী তাদের মধ্যে একজন সমাজতান্ত্রিক এবং নাসেরীয় সুবিধাবাদী, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতামতের প্রতিনিধিত্ব করেন উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একজন আকর্ষণীয় আয়াআরবীয় নাইটস এণ্ড ডেজেস’(১৯৮১) এবংদ্যা জার্নি অফ ইবনে ফতুমা’(১৯৮৩)- তিনি আরবীয় ঐতিহ্যকে বর্ণনা করেছেন আখেনাতেন(সত্যের বাসিন্দা) (১৯৮৫)- তিনি পুরানো এবং নতুন ধর্মীয় বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব চিত্রিত করেছেন তাঁর অনেক উপন্যাস ছিরিয়ালাইজড আকারে প্রকাশিত হয়েছে মাহফুজ স্বীকার করেছেন-আমার লেখায় আপনি রাজনীতি খুঁজে পাবেন আপনি এমন একটি গল্প খুঁজে পেতে পারেন, যা প্রেম বা অন্য কোনও বিষয়কে অগ্রাহ্য করে, তবে রাজনীতিকে নয় রাজনীতি আমাদের চিন্তার একেবারে অক্ষ(কেন্দ্ৰবিন্দু)'

মাহফুজ তাঁর রচনায় মিশরীয় জাতীয়বাদকে সমর্থন করেছিলেন এবং বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ওয়াফদ পার্টীর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছিলেন যৌবনের প্রথম দিকে তিনি সমাজতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রভাব তাঁর প্রথম দু'টি উপন্যাস আল-খলিলি এবং নিউ কায়রো এবং অন্যান্য উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে সমাজতন্ত্র গণতন্ত্রের প্রতি সহানুভূতির সমান্তরালভাবে ইসলামিক চরমপন্থীদের প্রতি ছিল তাঁর বিতৃষ্ণা

যৌবনে মাহফুজ ব্যক্তিগতভাবে সাইয়িদ কুতুবকে জানতেন তখন সাইয়িদ কুতুব মৌলবাদের চেয়ে সাহিত্য সমালোচনার প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন পরবর্তীকালে কুতুব সাইয়িদ মুসলিম ব্রাদারহুডের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন ১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি কুতুব মাহফুজের প্রতিভাকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম সমালোচকদের মধ্যে একজন ছিলেন ১৯৬০-এর শেষের দিকে কুতুবের জীবনের অন্তিম পর্যায়ে তিনি কুতুবকে হাসপাতালেও দেখতে গিয়েছিলেন তবে, পরে তাঁর আধা আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস মিররস- তিনি কুতুব-এর নেতিবাচক প্রতিকৃতি অংকন করেন ১৯৫২ সালের বিপ্লব এবং ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধে মিশরের পরাজয়ের ফলে তিনি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি হতাশ হয়ে বলেছিলেন, মূল আদর্শের সাথে অনুশীলনগুলি বেঁচে থাকতে ব্যর্থ হয়েছে মাহফুজের লেখায় মিশরের আইনজীবীদের নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করেছিল, যার মধ্যে ছিল নাবিল মাউনির এবং রেদা আসলান

মাহফুজের অনুবাদকৃত রচনা আমেরিকান সমালোচকদের কাছ থেকে প্রশংসা অর্জন করেছে

মাহফুজ ১৯৮৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিনি ছিলেন একমাত্র আরব লেখক যিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন নোবেল পুরস্কার অর্জনের পরে তিনি বলেছিলেন, আমার জীবনের প্রথম আমাকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে আমার জীবনে প্রথমবারের মতো এই অনুভূতি সঞ্চার হয়েছে যে আমার সাহিত্য আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসা অর্জন করতে পারে আরব বিশ্বও আমার সাথে নোবেল জিতেছে আমি বিশ্বাস করি যে আরব সাহিত্যের জন্য আন্তর্জাতিক দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে এবং এখন থেকে শিক্ষিতরা আরব সাহিত্যকেও স্বীকৃতি দিবেন সেই স্বীকৃতি আমাদের প্রাপ্য

সুইডেন থেকে মাহফুজেরসমৃদ্ধ এবং জটিল কাজ’-এর জন্য প্রশংসা পত্র প্রেরণ করা হয়েছিল-

আমাদের জীবনের মৌলিক বিষয়গুলির ওপড় আলোকপাত করার জন্য আমরা আপনাকে স্বাগত জানাই সময় এবং প্রেমের প্রকৃতি, সমাজ এবং রীতি, জ্ঞান এবং বিশ্বাসের মতো থিমগুলি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আপনি পুনরুত্থান করেছেন এবং চিন্তাভাবনা, উদ্দীপনা স্পষ্ট এবং সাহসীভাবে উপস্থাপন করেছেন আপনার গদ্যের কাব্যিক গুণ ভাষার বাধা পেরিয়ে অনভূত হয় নোবেল প্রাপ্তির জন্য আপনাকেসমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য আরবীয় আখ্যান শিল্প গঠনের কৃতিত্ব' দেওয়া হলো' বয়েসের জন্য ভ্রমণে অসুবিধা হওয়ার কারণে মাহফুজ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করতে পারেননি

মাহফুজ বিতর্কের জন্য কখনো সঙ্কুচিত হননি ১৯৭৮ সালে আনোয়ার সাদাত এবং ইসরাইলের মধ্যে সম্পাদিত ক্যাম্প ডেভিড শান্তিচুক্তিকে মাহফুজ সমর্থন করেছিলেন ফলে তিনি নোবেল পুরস্কার অর্জনের আগে পর্যন্ত তাঁর অনেক বই বহু আরব দেশে নিষিদ্ধ ছিল অনেক মিশরীয় লেখক বুদ্ধিজীবীর মতো মাহফুজ ইসলামী মৌলবাদীদেরমৃত্যুর তালিকায়' ছিলেন

১৯৮৯ সালে ভারতীয় বংশোদ্ভব ব্রিটিশ লেখক সলমান রুশদীর বিরুদ্ধে ইরানের আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেইনি মৃত্যুর ফতোয়া জারি করেছিলেন তখন মাহফুজ সলমান রুশদীর পক্ষ নিয়েছিলেন তবে, রুশদির উপন্যাসস্যাটেনিক ভার্সেস'কে ইসলামের জন্য অবমাননাকর বলে সমালোচনাও করেছিলেন মাহফুজ মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন যদিও রুশদির কাজের সাথে ব্যক্তিগতভাবে একমত ছিলেন না তবুও তিনি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেইনির মৃত্যু দণ্ডাদেশের নিন্দা করেছিলেন রুশদির সাথে প্রকাশকদের হত্যার আহ্বান জানানোর পরে মাহফুজ আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেইনিকে সন্ত্রাসবাদী বলে অভিহিত করেছিলেন এর অল্প সময় পরে ৮০ জন বুদ্ধিজীবীর সাথে যোগ দিয়ে মাহফুজ বলেছিলেন- ‘কোনও লেখককে হত্য করার জন্য ফতোয়া জারি করার পর ইসলাম মুসলমানদের পক্ষ থেকে এতটুকু নিন্দা জানানো হয় না

স্যাটেনিক ভার্সেসের বিতর্কের মধ্যে মাহফুজের উপন্যাসচিলড্রেন অফ গ্যাবালাওই' বিতর্ককে পুনরুজ্জীবিত করেছিল তাঁকে এবং মিশরীয় বংশোদ্ভবঅন্ধ শেখওমর আবদুল রহমানের বিরুদ্ধে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়েছিল তখন মাহফুজকে পুলিশী সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল, তার মাঝেই ১৯৯৪ সালে কায়রোর বাড়ির বাইরে ৮২ বছর বয়সী ঔপন্যাসিক মাহফুজকে একজন উগ্রপন্থী গলায় ছুরিকাঘাত করেছিল তিনি মৃত্যুর হাত থেকে সেযাত্রা বেঁচে গিয়েছিলেন যদিও, তাঁর ডান দিকের ওপড়ের স্নায়ু স্থায়ীভাবে প্রভাবিত হয়েছিল ফলে তিনি দিনে কয়েক মিনিটের বেশি লেখতে পারতেন না ফলস্বরূপ তিনি কাজের মাত্রা কমিয়ে দিয়েছিলেন পরবর্তীকালে তিনি সবসময় দেহরক্ষীর পহরায় থাকতেন তিনি ২০০৬ সালের প্রারম্ভে একটি উপন্যাস প্রকাশ করেন উপন্যাসটির ভূমিকা লেখেছিলেন আহমেদ কামাল আবুল-ম্যাগদে মৃত্যুর ভাবুকির পর থেকে মাহফুজ কায়রোতে তাঁর আইনজীবী নাবিল মাউনির সাথে বসবাস করতেন মাহফুজ এবং নাবিল মাউনি বেশির ভাগ সময় মাউনির অফিসে কাটাতেন মাহফুজ নাবিল মাউনির গ্রন্থগারটি ব্যবহার করতেন মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি মাউনির সাথেই ছিলেন ২০০৬ সালের ৩০ আগষ্টে নোবেল বিজয়ী মহান ঔপন্যাসিকের দেহাবসান হয়

মাহফুজ ৪৩ বছর বয়স পর্যন্ত অবিবাহিত ছিলেন কারণ তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে বৈবাহিক জীবনের বিধি-নিষেধ এবং সীমাবদ্ধতাই তাঁর সাহিত্যের ভবিষ্যতকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে তিনি বলেছিলে- ‘আমি বিবাহকে ভয় পেতাম...বিশেষতঃ যখন আমি আমার ভাই-বোনদের বৈবাহিক জীবনের জন্য সামাজিক জীবনে অনেক ব্যস্ত থাকতে দেখতাম আমি তাঁদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ এবং পার্টিতে ব্যস্ত থাকতে দেখেছি'

তবে, ১৯৫৪ সালে মাহফুজ আলেকজেন্দ্রিয়ার একজন কপটিক গোড়া আয়াতুল্লাহ ইব্রাহীমের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বিবাহের পরে তাঁরা নীল নদীর পশ্চিম তীরে কায়রোর আগুজা বিভাগে একটি জাহাজবোটে বাস করতেন পরে তাঁরা একই এলাকার নদীর তীরে অবস্থিত একটি এপার্টমেন্টে বসবাস করেতেন মাহফুজ জনসাধারণের সংস্পর্শ এড়াতে, বিশেষ করে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এড়াতে, জার্নাল এবং রেডিওর প্রোগ্রামগুলি এড়িয়ে চলতেন

            মাহফুজের সাহিত্য কর্ম-

জেমস বাইকির প্রাচীন মিশরের আরবী অনুবাদ (১৯৩২), হুইস্পার অফ মাডনেস (১৯৩৮), ফেটস অফ মকারি (১৯৩৯ সালে প্রকাশিত একটি পূর্ণ দৈর্ঘ উপন্যাস, ইংরাজীতে খুফু শিরোনামে অনুবাদিত), নুবিয়ার রাদোপিস(১৯৪৩), স্ট্রাগল অফ থিবস(১৯৪৪), কায়রো মডার্ণ(১৯৪৫), খান আল-খলিলি (১৯৪৫), মিডাক অ্যালি(১৯৪৭), মেরাজ (১৯৪৮), শুরু এবং শেষ (১৯৫০), প্যালেস ওয়াক(১৯৫৬ সালে প্রকাশিত কায়রো ট্রিলজি, পর্ব-), প্যালেস অফ ডিজায়ার(১৯৫৭ সালে প্রকাশিত কায়রো ট্রিলজি, পর্ব-), সুগার স্ট্রিট (১৯৫৬ সালে প্রকাশিত কায়রো ট্রিলজি, পর্ব -), গ্যাবালওইর সন্তানরা (১৯৫৯), দ্য থিফস এণ্ড দ্য ডগস(১৯৬১), এটুমন কোইল (১৯৬২), গডস ওয়ার্ল্ড(১৯৬২), জাবালাবি(১৯৬৩), দ্য ছার্জ (১৯৬৪), দ্য বেগার (১৯৬৫), এড্রিপ্ট অন দ্য নীল(১৯৬৬), মিরামার (১৯৬৭), দ্য পাব অফ দ্য ব্লাক ক্যাট(১৯৬৯), ষ্টরি উইথআউট বিগিনিং এণ্ড ইনডিং(১৯৭১), দ্য হানিমুন(১৯৭২), মিররস (১৯৭২), লাভ ইন দ্য রেইন (১৯৭৩), দ্য ক্রাইম (১৯৭৩), কারনাক কেফে (১৯৭৪), ষ্টরিজ ফ্রম আওয়ার নেইভারহুড(১৯৭৫), রেসপেক্টেড স্যার(১৯৭৫), দ্য হারাফিশ (১৯৭৭), লাভ এবভ দ্য পিরামিড প্যালেসু (১৯৭৯), দ্য ডেভিল প্ৰিছেস(১৯৭৯), আরাবীয়ান নাইটস এন্ড ডে (১৯৭৯), লাভ এণ্ড দ্য ভেইল (১৯৮০), ওয়েডিং ছং (১৯৮১), আই ড্রিম (১৯৮২ সালে প্রকাশিত, ‘কিসমতি এন্ড নসিবি' ছোট গল্পসহ), ওয়ান আওয়ার রিমেইনস (১৯৮২), দ্য জার্নি অফ ইবনে ফতৌমা(১৯৮৩), আখেনাতন, ডোয়েলার ইন ট্রুথ(১৯৮৫), দ্য ডে দ্য লিডার ওয়াজ কিল্ড(১৯৮৫), দ্য হাংগার(১৯৮৬), মর্নিং এন্ড ইভেনিং টক(১৯৮৭), ইকোস অফ এন অটোবায়োগ্রাফি(১৯৯৪), ইকোস অফ ফরগেটনেস(১৯৯৯), ড্রিমস অফ রিহেবিলেটেশন পিিয়ড (২০০৪) দ্য সেভেনথ হেভেন(২০০৫)

মৃত্যুর পরে প্রকাশিত বই- ড্রিমস অফ ডিপারসার(২০০৭) বিফো  দ্য থ্ৰোন(২০০৯)ইন দ্যা টাইম অফ লাভ(২০১০),হার্ট অফ দ্য নাইট(২০১১), দ্য কোয়াটারস (ছোট গল্প, ২০১৯ সালে প্ৰকাশিত।)

 

 

ইয়াসির আরাফাতের জীবন এবং কর্ম

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইয়াসির আরাফাতের জন্ম ১৯২৯ সালের ২৪ আগষ্ট বৃটিশ শাসিত ইজিপ্তের কাইরোতে আরাফাতের পিতা আবদেল রৌফ আল কুদওয়া আল হোসেইনী প্যালেস্টানী ছিলেন এবং গাজা সহরের অধিবাসী ছিলেন আবদেল রৌফ আল কুদওয়ার মাতৃ অর্থাৎ ইয়াসিরের দাদী ইজিপ্তের অধিবাসী ছিলেন আবদেল রৌফ আল কুদওয়া ইজিপ্তের সাকাকানি জেলায় কাপড়ের ব্যবসা করতেন সাত জন ভাই বোনের মাঝে আরাফাত দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন আরাফাতের মাতা জহওয়া আবুল সৌদ জন্মসূত্রে জেরুজালেমের অধিবাসী ছিলেন আরাফাতের জন্মের চার বছর পরে অর্থাৎ ১৯৩৩ সালে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে জহওয়া আবুল সৌদের মৃত্যু হয় মাতৃ বিয়োগের পরে ইয়াসির এবং তাঁর ভ্রাতৃ ফাতিকে পালন-পোষণের জন্য জেরুজালেম- অবস্থিত মাতুলালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয় সেখানে তাঁরা মামা সেলিম আবুল সৌদের তত্ত্বাবধানে চার বছর কাটায় বড় বোন ইনামের তত্ত্বাবধানে পালন পোষণের জন্য ১৯৩৭ সালে তাঁকে পিতৃ আলয়ে ফিরিয়ে আনা হয় কিন্তু পিতার সাথে তিনি কোনোদিন নিকট সম্বন্ধ গড়ে তোলতে পারেন নি ১৯৫২ সালে পিতৃ বিয়োগের পরেও তিনি পিতার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন না এমনকি গাজায় আসার পরেও তিনি পিতার সমাধি সৌধ জিয়ারত করতে যাননি ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ এলান হার্ট এই বিষয়ে তাঁর বোন ইনামকে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেছিলেন, ছোটবেলা আরাফাত কায়রোতে ইহুদিদের কোয়ার্টারে যেতেন এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করতেন তাঁর বাবা এসব পসন্দ করত না তাই তাঁর বাবা মারধোর করতেন আরাফাত ছোটবেলা থেকেই ইহুদিদের মানসিকতা অধ্যয়ন করতে চাইতেন

আরাফাতের সম্পূর্ণ নাম ছিল মোহাম্মদ আবদেল রহমান আবদেল রৌফ আরাফাত আল কুদওয়া আল হোসেইনি মোহাম্মদ আবদেল রহমান ছিল তাঁর প্রথম নাম, আবদেল রৌফ ছিল তাঁর পিতার নাম এবং আরাফাত ছিল তাঁর দাদার নাম আল কুদওয়া ছিল তাঁদের উপজাতির নাম এবং আল হোসেইনি ছিল তাঁদেরগোত্রের নাম এই আল হোসেইনি জেরুজালেমের বিখ্যাত আল হোসেইনি মূলের উপজাতি নয়, এই আল হোসেইনি গাজা মূলের উপজাতি

ইয়াসির আরাফাত কাইরোতে অবস্থান গ্রহণের পরে তাঁর নামের প্রথম অংশ আবদেল রহমান আবদেল রৌফ ত্যাগ করে কারণ তখন ইজিপ্তে নামের প্রথম অংশ মোহাম্মদ এবং আহম্মদ বাদ দেওয়ার রীতি প্রচলন ছিল আনোয়ার সাদাত এবং হোসনি মুবারকের মতো মিশরীয়রাও নামের প্রথম অংশ মোহম্মদ এবং আহমদ বাদ দিয়েছিল ১৯৫০ সালের শুরুতে আরাফাত ইয়াসির নাম গ্রহণ করে

১৯৪৪ সালে আরাফাত ইউনিভার্সিটি অফ ফাওয়াদে- নামভর্তি করেন ১৯৫০ সালে স্নাতক ডিগ্রী প্রাপ্ত হন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন কালে তিনি ইহুদিদের আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করতেন প্রখ্যাত ইহুদি পণ্ডিতদের দ্বারা প্রকাশিত থিওডর হার্জি এবং অন্যান্য বিশিষ্টজিওনিষ্টদে প্রকাশনা নিয়মিত অধ্যয়ন করতেন ১৯৪৬ সালে তিনি আরব জাতীয়তাবাদী ছিলেন এবং মাত্র ১৭ বছর বয়েসে আরবের হায়ার কমিটি এবংহলি ওয়ারে সৈনিকদের ব্যবহারের অস্ত্র যোগান ধরতেন ১৯৪৮ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় আরাফাত বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যায় এংব অন্যান্য আরবদের সাথে ইসরাইলী সেনা এবং ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বাহিনীতে যোগদান করতে ফিলিস্তিনে প্রবেশের চেষ্টা করে তবে ফিলিস্তিন ফিদাইন সেনার পক্ষ নিয়ে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করে, মুসলিম ব্রাদারহুডের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন তিনি গাজা অঞ্চলে সংঘটিত যুদ্ধে সন্মুখ সমরে অবতীর্ণ হয়েছিলেন ১৯৪৯ সালে যুদ্ধের শুরুতে যুদ্ধের হাওয়া ইসরাইলের অনুকূলে বইতে শুরু করে ফলে তিনি যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করে কাইরো চলে আসেন

কাইরো এসে তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশুনা শুরু করে এবং তিনি ১৯৫২ থেকে ৫৬ সাল পর্যন্ত জেনেরেল ইউনিয়ন অফ প্যালেস্টিনিয়ান ছাত্র (জিইউপিএস) দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ছাত্র দলের সভাপতি হিসাবে প্রথম বর্ষের কার্যকালেফ্রি অফিসারদলের আন্দোলন শুরু হয় এবং বাদশাহ ফারুককে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এই সময়েই ইউনিভার্সিটি অফ ফাওয়াদ- নাম পরিবর্তন করে কাইরো ইউনিভার্সিটি রাখা হয় ১৯৫৬ সালে আরাফাত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী প্রাপ্ত হন এবং তিনি প্রথমে ইজিপ্তে কর্মজীবন শুরু করেন ইজিপ্তে কিছুদিন কার্যনির্বাহের পর তিনি কুয়েতে চলে যান সেখানে তিনি প্রথমে পাবলিক ওয়ার্ক্সের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং পরে নিজের কনষ্ট্রাকশন ফার্ম খোলেন তখন অবসর সময় তিনি রাজনৈতিক কাজে অতিবাহিত করতেন এবং তিনি ব্যবসায়ের লাভের অধিকাংশ টাকা রাজনৈতিক কাজে খরচ করতেন ১৯৫৮ সালে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে তিনি বন্ধুদের সাথে মিলে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলআল ফাতাহ' নামে গেরিলা বাহিনী গঠন করেন ফাতাহ আরব দেশগুলির মধ্যে পরিচালিত ছিল সেখান থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিক্ষিপ্ত আক্রমণ পরিচালনা করত ইসরাইলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিপ্লবের জন্য জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করতে ১৯৫৯ সালে তাঁরা একটি মেগাজিনও প্রকাশের কাজ শুরু করেছিলেন ইসরাইলের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য পরিপূর্ণ বিপ্লবী হয়ে তিনি ১৯৬৪ সালে কুয়েত ত্যাগ করে জর্ডানে অবস্থান গ্রহণ করেন

১৯৬৪ সালের জুনে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে আরব লীগের সহায়তায় সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যেফিলিস্তিন লিবারেশ্বন অর্গেনাইজেশ্বন’ (সংক্ষেপে পিএলও) গঠন করা হয়েছিল তখন পিএলও আরব রাষ্ট্রের হাতের পুতুলের মতো ছিল এবং আরব রাষ্ট্র পিএলওর দলের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলত ১৯৬৭ সালের জুন- মিশরের বিমান বাহিনীর বিরুদ্ধে ইসরাইল আক্রমণ করলে ছয়দিনের যুদ্ধ শুরু হয় ছয়দিনের যুদ্ধে পশ্চিম তীর(ওয়েস্ট ব্যাংক) এবং গাজা উপত্যকাসহ কয়েকটি আরব অঞ্চল ইসরাইল দখল করে নেয় জর্জ হাবাসের আরব জাতীয়াতাবাদী সংগঠন, হজ আমিন আল হোসনির আরব উচ্চতর কমিটি, ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট এবং সিরিয়ার সমর্থিত কয়েকটি দলসহ ছয়দিনের যুদ্ধে ইসরাইলের কাছে পরাজয়ের পরে কার্যত চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল

আরব ইসরাইলের কাছে পরাজিত হওয়ার পরে আরাফাত ছদ্মবেশে জর্ডান নদী পার হয়ে পশ্চিম তীরে প্রবেশ করে সেখানে আরাফাত হিব্রোন, জেরুজালেম অঞ্চল এবং নবলুসে নিয়োগ কেন্দ্র স্থাপন করে ফাতাহ দলের পক্ষে সদস্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেন ফলে আরাফাত যোদ্ধা অর্থদাতা উভয়েরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং ফাতাহ দল শক্তিশালীরূপে প্রকাশ্যে আত্মপ্রকাশ করে তখন মিশরের প্রেসিডেণ্ট নাসের তাঁর প্রাক্তন উপদেষ্টা মোহাম্মদ হাইকালের মাধ্যমে আরাফাতের সাথে যোগাযাগ করে এবং নাসের তাঁকে ফিলিস্তিনিদের নেতা হিসাবে ঘোষণা করেন ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বরে আহম্মদ শুকাইরিপিএলও চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ইয়াহিয়া মাহমুদা তাঁর জায়গা নিয়ে আরাফাতকে সংগঠনে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানান ফাতাহ দলকে পিএলও কার্যবাহী কমিটির ১০৫ টি আসনের মধ্যে ৩৩ টি আসন অন্যান্য ৫৭ টি আসন অন্যান্য গেরিলা দলগুলির জন্য ছেড়ে দেওয়া হয় ১৯৬৯ সালে আরাফাত পিএলওর কার্যকরী কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন

তখন আর পিএলও আরব রাষ্ট্রে হাতের পুতুল ছিলনা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে কাজ করা অন্যান্য কিছু দলকে সংগঠিত করে আরাফাত পিএলও সংগঠনকে শক্তিশালী করে এবং জর্ডানকে ভিত্তি করে শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী সংগঠন হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে আরাফাত স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গুলীবাজি, বোমাবাজি গোপন হত্যায় লিপ্ত হয়ে পড়ে এবং আরাফাত বিতর্কিত হয়ে পরে ফলে জর্ডানের বাদশাহ হোসেইনের সাথে মত পার্থক্যজনিত কারণে আরাফাত জর্ডান থেকে বিতাড়িত হয়ে ১৯৭০ সালে লেবাননে অবস্থান গ্রহণ করেন লেবাননেও আরাফাত পিএলও সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন লেবাননের গৃহযুদ্ধের সময় ফাতাহ দল লেবাননের জাতীয় আন্দোলনে সহায়তা করে ফলে ১৯৭৮ ১৯৮২ সালে তিনি তাঁর ফাতাহ দল ইসরাইলের আগ্রাসনের শিকার হন তখন তিনি পিএলওর হেড কোয়ার্টার টিউনিসে স্থানান্তর করে ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল অবধি আরাফাত টিউনিসে ছিলেন এবং ইসরাইল সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভংগী বদলাতে শুরু করেন ১৯৮৮ সালে আরাফাত ইসরাইলের অস্তিত্ব স্বীকার করে এবং ইসরাইলের সাথে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব ছেড়ে ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন

একশরো বেশি দেশ পিএলওকে ফিলিস্তিনীদের ন্যায় সংগত প্রতিনিধি হিসাবে ঘোষণা করেছে এই সংগঠনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে ১৯৭৪ সালে এই সংগঠন জাতিসংঘে পর্যবেক্ষকের মর্যদাও লাভ করেছে ১৯৯১ সালের মাদ্রিদ সন্মেলনের আগে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল এই সংগঠনকে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসাবে বিবেচনা করেছে ১৯৯৩ সালে পিএলও ইসরাইলের অস্তিত্ব মেনে নেয় এবং জাতিসংঘের ২৪২ ৩৩৮ নম্বর প্রস্তাব মেনে নিয়ে সহিংসতা ত্যাগ করে এর প্রতিক্রিয়া হিসাবে ইসরাইল সরকারিভাবে পিএলওকে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধি হিসাবে স্বীকার করেছে

১৯৯০ সালে আরাফাত প্যালেস্টাইনী খৃস্টান সোহা টাওয়িলের সাথে বিবাহ পাশে আবদ্ধ হন তখন আরাফাতের বয়েস ছিল ৬১ এবং সোহা টাওয়িলের ২৭ বছর সোহার সাথে আরাফাতের ফ্রান্সে পরিচয় হয়েছিল এবং পরে টিউনিসে আরাফাতের সেক্রেটারি হিসাবে কাজ করেছিল সোহা টাওয়িল আগে থেকেই বাড়িতে জরুরি মানব হিতৈষী কাজের সাথে জড়িত ছিলেন বিয়ের আগে সোহা টাওয়িল ৫০ জন পিতৃ- মাতৃহীন অনাথ শিশুর প্রতিপালনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ১৯৯৫ সালের ২৪ জুলাই সোহা টাওয়িল ফ্রান্সের নিউলি-সুর-সেইনে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয় আরাফাত তাঁর মার নামের অনুকরণে কন্যা সন্তানের নাম জাহবা রেখেছিলেন

১৯৯৪ সালে আরাফাত টিউনিস থেকে ফিলিস্তিন ফিরে আসেন এবং গাজা সিটিতে বসতি স্থাপন করেন জীবনের শেষভাগে আরাফাত ইসরাইলী সরকারের সাথে কয়েক দফায় শান্তি আলোচনায় মিলিত হন ১৯৯১ সালের জাতিসংঘের মাদ্রিদ সন্মেলন, ১৯৯৩ সালেরঅসলো চুক্তি' এবং ২০০০ সালের ক্যাম্প ডেভিড সন্মেলন এর মাধ্যমে আরাফাত ইসরাইলীদের সাথে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটানোর প্রয়াস করেন ইসরাইলীদের সাথে এই সমঝোতা স্থাপনের জন্য আরাফাতের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর নতজানু নীতির তীব্র নিন্দা করে অসলো শান্তি চুক্তির জন্য ১৯৯৪ সালে আরাফাত, আইজাক রবিন শিমন পেরেজের সাথে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন অসলো চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ১৯৯৬ সালের প্রথম ভাগে প্যালেস্টাইনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই নির্বাচনে আরাফাত প্যালেস্টাইন অথরিটির প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হন

১৯৮৭ সালে শ্বেখ আহম্মদ ইয়াসিন এবং অন্যান্যদের নেতৃত্বে গঠিত হামাস অন্যান্য জংগীবাদী সংগঠন অসলো চুক্তির পরেই মাথা চাড়া দিয়ে উঠে এবং তাঁরা ফাতাহ দল আরাফাতের ক্ষমতা দুর্বল করে ফিলিস্তিনীদের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে

২০০২ হতে ২০০৪ সালের শেষভাগে আরাফাত ইসরাইলী সেনা বাহিনীর হাতে তাঁর রামাল্লার দপ্তরে কার্যত গৃহবন্দী হয়ে থাকেন ২০০৩ সালে আরাফাত তাঁর পিএলওর চেয়ারম্যান পদ হস্তান্তর করে অৱশ্যে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি প্যালেস্টাইন অথরিটির প্রেসিডেন্ট পদে বাহাল ছিলেন ২০০৪ সালের শেষভাগে আরাফাত অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কোমায় চলে যায় আরাফাতের অসুস্থতা এবং মৃত্যুৰ সুনিৰ্দ্দিষ্ট কোনো কারণ প্রকাশ হয়নি চিকিৎসকদের মতে, তিনি ইডিওপ্যাথিক থ্রম্বোসাইটোপেনিক পারপুরা এবং সিরোসিস রোগে ভোগছিলেন তিনি ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর প্যারিসে চিকিৎসারত অবস্থায় ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন

মৃত্যুর নয় বছর পর তেজস্ক্রিয় পদার্থ প্রয়োগের ফলে ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের নেতা ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যু হয়েছে বলে সুইস গবেষকরা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রতিবেদনে সুইজারল্যাণ্ডের বৈজ্ঞানিকরা বলেছেন, তাঁরা ইয়াসির আরাফাতের দেহাবশেষ গবেষণার পর তাঁর হাড়ে বিষাক্ত পোলোনিয়ামের সন্ধান পেয়েছেন ইয়াসির আরাফাত প্যারিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তখন মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যু হয়েছে বলে বলা হয়েছিল, কিন্তু তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে বিতর্ক চলে আসছিল বিষ প্রয়োগে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে, এমন সন্দেহ ওঠায় মৃত্যুর প্রায় আঠ বছর পর ২০১২ সালে ইয়াসির আরাফাতের দেহাবশেষ কবর থেকে তোলা হয়েছিল এক বছর তাতে গবেষণার পর ২০১৩ সালের নভেম্বরে সুইস বিজ্ঞানীরা বলেছেন, তাঁর হাড়ে যে পরিমাণ পোলিনিয়াম নামে একটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়া গিয়াছে, যা মানব দেহের স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ১৮ গুণ বেশি তাই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে

আরাফাতের জীবন খুবই সংঘর্ষপূর্ণ ছিল প্যালেস্টাইনীদের স্বার্থের জন্য তিনি সারা জীবন সংঘর্ষ করে গিয়েছন এবং এদেশ থেকে দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন কিন্তু সব সময়েই তিনি তাঁর এই ভ্রমণের কথা গোপনে রাখতেন এমনকি সোহা টাবিলের সাথে বিবাহের কথাও তিনি প্রায় পনের মাস গোপন রেখেছিলেন আরাফাত কয়েকবার নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকেও রক্ষা পড়েছিলেন একবার বিমান দুর্ঘটনা, কয়েকবার ইসরাইলি ইন্টালিজেঞ্চ এজেন্সির গোপন হত্যার প্রচেষ্টা এবং একবার মারাত্মক স্ট্রোক থেকেও তিনি বেচে উঠেছিলেন

দল-মত নির্বিশেষে ফিলিস্তিনী জনসাধারণের অধিকাংশ মানুষ আরাফাতকে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ফিলিস্তিনীদের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হিসাবে সন্মান করে থাকে তবে অনেক ইসরাইলী তাঁকে সন্ত্রাসবাদী হিসাবে অভিহিত করে থাকে আরাফাত ১৯৫৯ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ফাতাহ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন

 

 

নোবেল বিজয়ী আহম্মদ হাসান জেওয়াইল

ফেমটোকেমিষ্ট্রর জনক হিসাবে খ্যাত আহম্মদ হাসান জেওয়াইল-এর জন্ম ১৯৪৬ সালের ২৬ শে ফেব্রুয়ারি ইজিপ্তের দামানহুরে জেওয়াইলের পিতার নাম হাসান জেওয়াইল এবং মার নাম রওহিয়া দর তাঁর বাবা বেসামরিক সরকারী চাকরিয়াল ছিলেন ১৯৯২ সালের ২২ শে অক্টোবরে তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন

জেওয়াইল আলেকজেন্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৭ সালে রসায়নে স্নাতক এবং ১৯৬৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেছিলেন স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জনের পরে তিনি উক্ত অনুষ্ঠানে ইন্সট্রাক্টর হিসাবে দুই বছর কাজে নিয়োজিত ছিলেন তিনি আমেরিকার পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবিন এম. হচষ্ট্রেসের তত্ত্বাবধানে ১৯৭৪ সালে পিএইসডি ডিগ্রী অর্জন করেন পরে ১৯৭৮ সালে ব্রাকলের কালিফর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার্লস বি. হেরিসের তত্ত্বাবধানে পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসাবেও জেওয়াইল রসায়নের প্রতি আগ্রহী ছিলেন

জেওয়াইল ১৯৭৬ সালে কালিফোর্নিয়ার ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিত- রাসায়নিক পদার্থবিজ্ঞান (কেমিক্যাল ফিজিক্স )বিভাগে ফেকাল্টি হিসাবে যোগদান করেন ১৯৯০ সালে তিনি ইনস্টিটিউটের রসায়ন পদার্থ বিজ্ঞানের লিনাস পাওলিং চেয়ারে ভূষিত হয়েছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই চেয়ারে ছিলেন লিনাস কার্ল পাওলিং ১৯৫৪ সালে রসায়নে এবং ১৯৬২ সালে শান্তির (দুবারের) নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এবং কুরি শতিকার শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন ছিলেন টেক্সাস এণ্ড এএম বিশ্ববিদ্যালয়, আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং কায়রোর অ্যামেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জেওয়াইল ভিজিটিং অধ্যাপক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন জেওয়াইল কালিফর্নিয়ার মর্যদাপূর্ণ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির আল্ট্রাফাস্ট সায়েন্স এণ্ড টেকনোলজির ফিজিক্যাল বায়োলজির পরিচালক ছিলেন তিনি ২০১১ সালে কায়রোতে একটি প্রিমিয়ার প্রযুক্তির ইনস্টিটিউটজেওয়াইল সিটি অফ সায়েন্স অ্যাণ্ড টেকনোলজি' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র জেওয়াইলকে ১৯৮২ সালের মার্চে প্রকৃতিকায়িত নাগরিকের মর্যদা প্রদান করেছিলেন

জেওয়াইল ফেমটোকেমিষ্ট্রির একজন অগ্রণী এবং পথপ্রদর্শক ফেমটোকেমিষ্ট্রি হলো অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য রাসায়নিক প্রতিক্রিয়াগুলির অধ্যয়ন রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলি কেবল ১০ থেকে ১০০ ফেমটোসেকেণ্ড(এফএস) স্থায়ী হয়-একটি ফেমটোসেকেণ্ডের সময় মান হলো .০০০০০০০০০০০০০০১ সেকেণ্ড জেওয়াইলের এই উদ্ভাবনের আগে অনেকে প্রতিক্রিয়াগুলির গঠনের ঘটনাগুলি অধ্যয়ন করা অসম্ভব মনে করেছিলেন তবে ১৯৮০ এর দশকের শেষের দিকে জেওয়াইল নতুন লেজার প্রযুক্তির ওপড় ভিত্তি করে একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে ১০ ফেমটোসেকেণ্ডের আলো প্রজ্জ্বলিত করে নতুন অণু এবং পরমাণুগুলোর গতি দেখতে সক্ষম হন এই প্রক্রিয়ার সময়, ফেমটোসেকেণ্ড স্পেকট্রোস্কপি হিসাবে পরিচিত, একটি ভ্যাকুয়াম নলের মধ্যে অণুগুলিকে একত্রে মিশ্রিত করে একটি আলট্রাফাষ্ট লেজার বীম (রশ্মি) ফায়ার করে দুটি পাচ সৃষ্টি করা হয় প্রথম পাচ প্রতিক্রিয়াটির শক্তি সরবরাহ করে এবং দ্বিতীয় পাচটি চলমান ক্রিয়াটি পরীক্ষা করে এই প্রক্রিয়ার সাহায্যে অণুগুলির বৈশিষ্ট্যযুক্ত বর্ণালী বা হালকা নিদর্শনগুলির কাঠামোগত পরিবর্তনগুলি অধ্যয়ন করা হয় জেওয়ালির এই আবিষ্কার- বিজ্ঞানীদের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলাফলের ওপড় আরও নিয়ন্ত্রণ সক্ষম করে তুলেছিল এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োগের সম্ভাবনা প্রকট করে তুলেছিল শারীরিক, রাসায়নিক, এবং জৈবিক রূপান্তরগুলির জটিলতা এবং প্রকৃতি বুঝার জন্য ১৯৯১ সালে জেওয়াইল ফেমটোকেমিষ্টির উপাদানগুলি ব্যবহার করে চতুর্মাত্রিক (৪ডি) আলট্রাফাস্ট ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ আবিষ্কার করেছিলেন, যার সাহায্যে অপারেটররা পূর্বের মাইক্রোস্কোপের তুলনায় এক বিলিয়ন গুণ দ্রুত গতিতে পরমাণুর গতিবিদ্যা সম্পর্কে অধ্যয়ন করতে সক্ষম হয়েছিল জেওয়াইলের বই৪ডি ভিজুয়েলেশন অফ ম্যাটার' ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়েছে

৪ডি বৈদ্যুতিন মাইক্রোস্কোপ-এর সাহায্যে ফেমটোসেকেণ্ড স্পেকট্রোস্কপি(বর্ণালী) প্রতিক্রিয়ার বাধা পেরিয়ে যাওয়ার সময় কি ঘটে, তা অতি প্রথম মন্থর গতিতে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিল বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা ফেমটোসেকেণ্ড স্পেকট্রোস্কপির সাহায্যে তরল গোটা গ্যাস, পলিমারগুলির প্রক্রিয়াগুলি অধ্যয়ন করেন অ্যাপ্লিকেশনগুলি কীভাবে অনুঘটককারীর কাজ করে এবং আণবিক বৈদ্যুতিন উপাদানগুলি কীভাবে ডিজাইন করা উচিত, জীবন প্রক্রিয়াগুলির সবচেয়ে সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতের ঔষুধগুলি কীভাবে উৎপাদন করা উচিত বিজ্ঞানীরা তা নির্ধারণ করেন

জেওয়াইল তাঁর বাবার মতো সরকারী কাজে নিয়োজিত ছিলেন ২০০৯ সালের জুলাই- রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণের সময় সারা বিশ্বের মুসলিম এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান রাষ্ট্রদূতদের একটি নতুন কার্যসূচি ঘোষণা করেছিলেন পরের বছর জানুয়ারিতে ব্রুস অ্যালবার্টস, ইলিয়াস জেরহৌনি এবং জেওয়াইল মুসলমানদের প্রথম রাষ্ট্রদূত হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০০১ সালে জেওয়াইল রয়্যাল সোসাইটির বিদেশি সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন

জেওয়াইল তাঁর জীবনকালে ৬০০ আর্টিক্যাল এবং ১৪ টি বই প্রকাশ করে গেছেন ১৯৯২ সালেদ্যা কেমিক্যাল বণ্ডঃ ষ্ট্রাকচার এণ্ড ডায়নামিক' এবং ২০০৮ সালেফিজিক্যাল এণ্ড বায়োলজিঃ ফ্রম এটম টু মেডিসিন' প্রকাশিত হয়েছে

ফেমটোকেমিষ্ট্রিঃ এটমিক-স্কেল ডায়নামিক অফ দ্যা কেমিক্যাল বণ্ড ইউজিং আল্ট্রাফাষ্ট লেজার' উদ্ভাবনের জন্য ১৯৯৯ সালে জেওয়াইলকে কেমিস্ট্রিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে তিনি ইজিপ্তের তৃতীয় এবং বিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী তিনি তাঁর কাজের জন্য অন্যান্য অনেক পুরস্কার এবং স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি ১৯৯৯ সালে ইজিপ্তের সর্বোচ্চ পুরস্কার 'দ্যা গ্র্যাণ্ড কলার অফ দ্যা নীল' পুরস্কারে ভুষিত হয়েছেন ১৯৮৯ সালে কিং ফায়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ১৯৯৩ সালে ওল্ফ ফাউণ্ডেশন কর্তৃক কেমিস্ট্রিতে পুরস্কার পেয়েছেন ২০০০ সালে আমেরিকান একাডেমি অফ এচিভমেন্টের গোল্ডেন প্লেট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ২০০৬ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ২০০৯ সালে ওথমার স্বর্ণপদক ২০১১ সালে প্রিস্টলি পদক ২০১১ সালে রাসায়নিক সোসাইটি এবং রয়েল সোসাইটির ডেভি মেডেল ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০১১ সালে পুনর্জীবিত শহরটি জেওয়াইলের সন্মানেবিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি শহর' নামে নামকরণ করা হয়েছে

জেওয়াইলকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সন্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করা হয়েছে

২০০২ সালে হিরিয়ট-ওয়াট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সন্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী, ২০০৩ সালের মে মাসে সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডক্টরেট ডিগ্রীএবং সুইডিশ বিজ্ঞান একাডেমি রয়্যালের বিদেশী সদস্য পদ প্রদান করা হয়েছে ২০০৬ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানের সন্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী, ২০০৮ সালের মে মাসে মাদ্রিদের কমপ্লাটিস ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট ডিগ্রী, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেওয়াইলকে কলা বিজ্ঞান বিভাগে ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করেছে ২০১১ সালের অক্টোবরে গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে সন্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী এবং ২০১৪ সালের ১৯ মে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সন্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করা হয়েছে

জেওয়াইলকে নিন্মলিখিত সংস্থাগুলি সন্মানসূচক ডিগ্রী প্রদান করেছে-

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য-১৯৯১, মিশরের কায়রো আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়-১৯৯৩, বেলজিয়ামের কাঠোলিকে বিশ্ববিদ্যালয়, লেউভেন-১৯৯৭, পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র- ১৯৯৭, লাউজেন বিশ্ববিদ্যালয়, সুইজারল্যাণ্ড-১৯৯৭, সুইনবার্ন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, অষ্ট্ৰেলিয়া-১৯৯৯, আরব অ্যাকাডেমি ফর সায়েন্স, টেকনোলজি এবং মেরিটাইম ট্রেন্সপোর্ট, মিশর-১৯৯৯, ডি.এসসি ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ব্রান্সউইক, কানাডা-২০০০, সাপিয়েজা বিশ্ববিদ্যালয় অফ রোম, ইটালি-২০০০, লিগ বিশ্ববিদ্যালয়, বেলজিয়াম-২০০০

জেওয়াইল ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আমেরিকান পিসিএএসটি বা বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ক প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের উপদেষ্টা সদস্য ছিলেন এটি হলো আমেরিকার অগ্রণী শীর্ষস্থানীয় গ্রুপ যারা রাষ্ট্রপতি এবং সহ-রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি আবিষ্কারের ক্ষেত্রে দিক নির্দেশ করেন

২০১১ সালের মিশরীয় বিপ্লবের সময় জেওয়াইল দেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি এপ্রিলের যুব বিপ্লবের সময় তিনি মহম্মদ এল বারদেইর সমর্থক ছিলেন মিশরীয় বিপ্লবের পরে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের সময় জেওয়াইল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে গুজব উঠেছিল তখন জেওয়াইল বলেছিল, ‘আমি একজন স্বাধীন মনের মানুষ, আমার কোনো রাজনৈতিক প্রত্যাশা নেই' আবারও জোর দিয়ে বলছি, ‘আমি শুধু বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মিশরের সেবা করতে চাই এবং বিজ্ঞানী হয়েই মরতে চাই' আইম্যানে নূরের নেতৃত্বে গঠিত সংবিধান প্রণয়ন কমিটিতে তিনি সদস্য ছিলেন আইম্যান নূর পেশায় একজন অধিবক্তা ছিলেন এবং তিনি ২০০৫ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোবারকের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন

জেওয়াইল ১৯৮৯ সালে দেমা ( নী ফাহিমে) সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন দেমা পেশায় একজন চিকিৎসক ছিলেন তাঁদের চার সন্তান- মহা, আমানী, নবেল এবং হানি

আজীবন বিজ্ঞানের সেবায় উৎসর্গিত প্রাণ নোবেল বিজয়ী জেওয়াইল ২০১৬ সালের আগষ্ট সত্তর বছর বয়সে কেন্সারে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পেসাডেনায় মৃত্যু বরণ করেছেন তাঁকে সামরিক মর্যদায় মিশরের কায়রোর এল-মোশি তানতাভি মসজিদে সমাধিস্থ করা হয়েছে তাঁর জানাজায় রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি, প্রধানমন্ত্রী শরিফ ইসমাইল, আল আজহারের গ্রাণ্ড ইমাম আহম্মদ আল-তায়েব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সেডকি সোবি, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি অ্যাডলি মনসুর, প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রী ইব্রাহিম মাহ্লাব এবং হার্ট সার্জন মাগদি ইয়াকুব উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন গ্রাণ্ড মুফতি আলী গোমা তাঁর জানাজার নামাজ সমাধা করেছিলেন

তিনি নশ্বর দেহ ত্যাগ করলেও তাঁর কর্মরাজি যুগ যুগ ধরে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকবে

 

 

    নোবেল বিজয়ী শিরিন ইবাদি

মুসলিম বিশ্ব এবং ইরানের প্রথম মহিলা নোবেল বিজয়ী শিরিন ইবাদির জন্ম ১৯৪৭ সালের ২১ জুন ইরানের হামাদানে একটি শিক্ষিত পরিয়ালে তাঁর বাবা একজন লেখক ব্যবসায়িক আইন কলেজের প্রবক্তা ছিলেন শিরিন ইবাদির শিশু অবস্থায় তাঁরা তেহরানে চলে আসে শিরিন ইবাদিআনোশিরাভন দাদগর' এবংরেজা শাহ কবিরস্কুলে শিক্ষা জীবন শুরু করেন এবং পরে ১৯৬৫ সালে ঐতিহ্যমণ্ডিত তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন সেখান থেকে ১৯৬৯ সালে তিনি আইনের স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন স্নাতক ডিগ্রীর পরে উক্ত সালেই জাষ্টিস বিভাগে মাস শিক্ষানবিশী করার পর উক্ত সালেই মহিলা জজ হিসাবে কর্মে যোগদান করেন তিনি ছিলেন ইরানের প্রথম মহিলা বিচারপতি ১৯৭১ সালে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ব্যক্তিগত আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রীও লাভ করেন ১৯৭৫ সালে তিনি তেহরান সিটি কোর্টের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হয় এবং ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সিটি কোর্টের প্রধান হিসাবে কার্যনির্বাহ করেন

১৯৭৮-৭৯ সালে ইরানে পহলবী বংশের শ্বাহ মহম্মদ রেজা পহলবী এবং তাঁর সরকারকে উৎখাতের জন্য আয়াতুল্যা রুহুল্যা খোমেইনীর নেতৃত্বে ধারাবাহিক আন্দোলন সংঘটিত হয়। আন্দোলনেে ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামিক রিপাব্লিক প্রতিষ্ঠা হয় তখন নুতন সকা মহিলাা জজ হিসাবে কৰ্যনিৰ্বাহ কাটা ইসলামিক আইনের পরিপন্থী বলে বিবেচনা করে এবং শিিন ইবাদিকে বলপ্ৰয়োগভাবে জজে পদ থেকে সরিয়ে কোর্টে কেরানি হিসাবে নিয়োগ করে শিরিন ইবাদি এবং অন্যান্য মহিলা জজেরাঁ সকা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সাব্যস্ত করে ফলে তাঁদের আইন বিভাগে উচ্চ পদে নিয়োগ কে, কিন্তু জজ হিসাবে কাৰ্যনিৰ্বাঙ কা থেকে বিাখে। ইবাদি আন্দোলনে পথ ত্যাগ কে উকালতি ক কথা ভাবেন এবং আন্দোলন থেক সসে দাঁড়ান। তবুও কৰ্তৃপক্ষ তাঁকে উকালতি অনুজ্ঞাপত্ৰ দিতে অস্বীকাে।

অনেক বছর আন্দোলনের পর ১৯৯৩ সালে তাঁকে উকালতি করার জন্য অনুজ্ঞাপত্র প্রদান করা হয় এবং তিনি উকালতি শুরু করেন উকালতির সমান্তরালভাবে তিনি তখন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন এবংসিভিল রাইটে জন্য উকালতি করতেন ইবাদি কোর্টে মহিলা, নির্যাতিত শিশু এবং তাঁর মতো ইরান সরকারের ভুলের শিকার হওয়া লোকদের জন্য বিনা পয়সায় উকালতি করতেন তিনি তাঁর অবসর সময় গ্রন্থ এবং সাময়িক প্রসংগ নিয়ে প্রবন্ধ লেখে অতিবাহিত করতেন তিনি তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবক্তা হিসাবে কার্যনির্বাহ করার সময়ে মহিলা শিশুদের ন্যায়িক মর্যদা প্রদানের জন্য সংগঠনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন ১৯৯৭ সালের মে মাসের ২৩ তারিখে অনুষ্ঠিত ইরানের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন

১৯৯৯ সালে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এক সময় হিংসাত্মক ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করে এবং ইরানের সর্বত্র সেই আন্দোলন প্রসারিত হয় ১৯৭৮- ৭৯ বর্ষের ইরান বিপ্লবের পরে এটাই ছিল ইরানের সর্বাধিক প্রভাবিত বহুল প্রসারিত আন্দোলন সেই আন্দোলনে ইজ্জাত ইব্রাহীম-নিজাত নামের একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল আনসার--হিজবুল্যার সদস্য আমীর ইব্রাহীমি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের আদেশে ইজ্জাত ইব্রাহীম-নিজাতসহ খাত্তামি কেবিনেটের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছিল বলে স্বীকার করেছিল শিরিন ইবাদি ইজ্জাত ইব্রাহীম-নিজাতের পরিয়ালের হয়ে সেই কেস লড়েছিল শিরিন ইবাদি সেই কেসে আমীর ইব্রহীমির স্বীকারোক্তি কোর্টে দাখিল করার জন্যভিডিওট্যাপ' করেছিলেনভিডিও মেকার' নামে সেই কেসে ভিডিওট্যাপ কারসাজি করা হয়েছে বলে দোষী সাব্যস্ত করে ২০০০ সালে ইবাদিকে তিন সপ্তাহের কারাদণ্ড দিয়েছিল এবং পাঁচ বছরের জন্য তাঁর উকালতির অনুজ্ঞাপত্র বাতিল করেছিল অবশ্যে পরে ইরানের ইসলামী বিচার বিভাগের সুপ্রিম কোর্টে উকালতির অনুজ্ঞাপত্র বাতিল কেস থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল এই মামলা বিদেশে মানব অধিকার সংস্থাগুলির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল

ইরানিয়ান মিনিষ্ট্রি অফ ইন্টালিজেঞ্চের সদস্য দ্বারা বুদ্ধিজীবী রাজনীতিবিদ দারিউস ফরোহর এবং তাঁর পরিবারকে হত্যা করা হয়েছিল সেই কেসও ইবাদি লড়েছিল সেই কেসে কোর্টে আনার আগেই ইরানিয়ান মিনিষ্ট্রি অফ ইন্টালিজেঞ্চের মুরব্বী সৈয়দ ইনামী আত্মহত্যা করেছিলেন

ইবাদি শিশু নির্যাতনের কেসও লড়েছে এরিয়ান গুলশানী নামের একটি শিশুকে তাঁর বাবা সৎ মা দীর্ঘদিন নির্যাতন করে আসছিল শেষে তার বাবা এবং সৎ ভাই মিলে তাঁকে হত্যা করেছিল এই কেস আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল এবং ইরানে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল ইবাদি এই মামলাটির দ্বারা ইরানের সমস্যাযুক্ত শিশু হেফাজত আইনগুলি তোলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন

লাইলা নামের একটি কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছিল লাইলার পরিয়াল কেসের খরচ যোগার করতে করতে গৃহছাড়া হয়েছিল ইবাদি সেই কেস লড়েছিলেন, কিন্তু তিনি সেই কেসে হেরেছিলেন অবশ্যে তিনি এই কেসে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছিলেন ইবাদি খবরের কাগজ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধেও আইনী যুদ্ধ লড়েছেন ২০০৩ সালে তিনি ইরানী বংশোদ্ভব কানাডিয়ান ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার জহরা কাজেমীর হত্যার মামলা লড়েছিল ২০০৩ সালে জহরা কাজমী নামের একজন কানাডিয়ান ফটোগ্রাফারের পুলিশ কাষ্টডিতে থাকাকালীন পুলিশী নির্যাতনের ফলে ইরানিয়ান বাগিয়াটোল্যা আল-আজাম মিলিটারি হসপিটালে মৃত্যু হয়েছিল সেই কেস ইবাদি জহরা কাজেমীর পরিয়ালের হয়ে লড়েছিল ২০০৪ সালের জুলাই মাসে সেই মামলার বিচার কাজ স্থগিত করা হয়েছিল তখন ইবাদি এবং তাঁর দল সাক্ষীর শুনানি গ্রহণ না করার জন্য প্রতিবাদ করে কোর্ট থেকে বেড়িয়ে এসেছিল

সহযোগ নামের এনজিও পরিচালিত ছোট মেয়েদের একটি স্কুলে ২০০৪ সালে ইবাদি মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু দিবসটি আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস হিসাবে পালন করার জন্য প্রস্তাব রেখেছিলেন এই প্রস্তাবটি প্যারিসের ছোট বাচ্চাদের কাছ থেকে ভারতীয় শিক্ষক অক্ষয় বাকয়া এনেছিলেন বছর পরে ২০০৭ সালের জানুয়ারীতে দিল্লীতে অনুষ্ঠিত সত্যাগ্রহ কনভেনশনে সোনিয়া গান্ধী এবং আর্চবিশপ ডেসমণ্ড টুটু এই ধারণাটি প্রকাশ করেছিলেন অবশ্যে তখন তাঁরা মহাত্মা গান্ধীর জন্ম দিবসটির ওপড়ে বিশেষভাবে প্রাধান্য দিয়েছিলেন ২০০৭ সালের ১৫ জুন জাতিসংঘের জেনেরেল এসেম্বলি মহাত্মা গান্ধীর জন্ম দিবস অক্টোবর আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস হিসাবে পালন করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে

২০০৫ সালের বসন্তে ইবাদি এরিজুনার জেমচ রগার কলেজেইসলাম এবং মানবাধিকার' সম্পর্কে এক কোর্স শিখিয়েছিলন

২০০৬ সালে ইবাদি এবং অন্য পাঁচ জন শান্তির নোবেল বিজয়ী বেট্টি উইলিয়ামস, মেইরিড করিগান ম্যাগুয়ের, ওয়াংগারি মাথাই, জোডি উইলিয়ামস এবং রিগুবার্টা মেঞ্চ টুমের সাথে মিলে বিশ্বব্যাপী নারীর অধিকারের সমর্থনে নোবেল উইমেন্স ইনিশিয়েটিভ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্য প্রাচ্য এবং আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বকারী এই নোবেল বিজয়ী নারীরাঁ ঐক্যবদ্ধভাবে নারীর ন্যায়বিচার

27এবং সমতার জন্য লড়াই করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন

ইবাদি পাশ্চাত্যর অর্থ সাহায্যে ১৯৯৪ সালেসোসাইটি ফর প্রটেক্টিং দ্য রাইটস অফ দ্যা সাইল্ড’ (এসপিআরসি) এবং ২০০১ সালেহিউম্যান রাইটস সেন্টার' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি শিশু শোষণ নির্যাতন রোধ আইনের খসরা প্রস্তুত করতে ইরান সরকারকে সহায় করেছিলেন এবং সেই খসরা ২০০২ সালে ইরানের পার্লামেন্টে গৃহীত হয়েছিল তিনি ইরান পার্লামেন্টের মহিলা সদস্যাদের অনুরোধে মহিলারা তাঁদের স্বামীদের কিভাবে তালাক দিতে পারে এই সম্বদ্ধে ইসলামিক আইনের ব্যাখ্যার খসরা প্রস্তুত করতে বলেছিলেন মহিলা সদস্যাদের অনুরোধ রক্ষা করে তিনি খসরা প্রস্তুত করে ইরান পার্লামেন্টে পেশ করেছিলেন কিন্তু পুরুষ সদস্যরা সেই খসরা অনুমোদন না করে ফেলে রেখেছিল

ইবাদি তাঁরইরান এওয়াকেনিং' গ্রন্থে রাজনৈতিক, ইসলামের ধর্মীয় উদ্দেশ্য, গণতন্ত্র, লিংগ সমতার ব্যাখ্যা করেছেন তিনি লেখেছেন, তাঁকে জজের পদ থেকে সড়ানোর পরে ২৩ বছর তিনি তেহরানের বিদ্রোহী কোর্টে যুদ্ধ করেছেন ইসলাম পরস্পর ঐক্য, সমতা এবং গণতন্ত্রের ওপড় বিশ্বাসী ইসলাম মহিলাদের পর্দার আড়ালে রাখতে বলেনি, কিন্তু কিছু কিছু মৌখিক ব্যাখ্যার জড়িয়তে মহিলাদের পর্দার আড়ালে বন্দী করে রাখতে পুরুষরা সচেষ্ট হয়ে আছে এক সময় ইরান তাঁর কাজের গুরুত্ব হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে এবং তখন শান্তিপূর্ণভাবে ইরানে পরিবর্তন আসবে

নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পরে তিনি একটি প্রেস কনফারেন্সে বলেছিলেন, তিনি ইরানের অভ্যন্তরীন বিষয়ে বিদেশের হস্তক্ষেপ পসন্দ করেন না ইরানের জনতাই ইরানের মানব অধিকারের জন্য লড়বে, আমরা বিদেশীদের যেকোনো হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে এই বক্তব্য থেকে ইবাদির দেশপ্রেম সম্পর্কে ধারণা করতে অসুবিধা হয় না

ইবাদি ইরানের পারমানবিক উন্নয়ন কার্যসূচিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিকভাবে ন্যায়সংগত না হলেও একটি প্রাচীন জাতির জন্য এটি একটি গৌরবময় ইতিহাস এবং গর্বের কারণ কোনো আদর্শ বা কোনো গণতান্ত্রিক প্রত্যয় নির্বিশেষে কোনো সরকারই ইরানের এই কার্যসূচি বন্ধ করার সাহস করবে না

২০১২ সালের একটি সাক্ষাৎকারে ইবাদি বলেছেন- জনগণ সমৃদ্ধি বন্ধ করতে চায়, কিন্তু সরকার তাতে কাণ দেয়না ইরান একটি ফল্ট লাইনের ওপড় দাঁড়িয়ে আছে এবং জনগণ ফুকুশিমা ধরণের পরিস্থিতি দেখে ভয় পায় আমরা শান্তি, সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক কল্যাণ চাই পারমানবিক শক্তির জন্য আমরা অন্যান্য অধিকারকে বিসর্জন দিতে পারিনা সরকার দাবি করছে যে, এরাঁ বোমা তৈরী করছেনা, আমি সরকারের সদস্য নই, তাই আমি প্রত্যক্ষভাবে বিষয়ে কিছু বলতে পারিনা আশংকা হলো, যদি তাঁরা এটা ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে, তাহলে ইসরাইল ধ্বংস হয়ে যাবে যদি ইরানী জনগণ সরকার পতন করতে সক্ষম হয়, তবে এই পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে ২০০৯ সালে জনগণ জেগে উঠেছিল এবং খারাপভাবে চাপাও পড়েছিল এই মুহূর্তে, কারাগারে সর্বাধিক সাংবাদিকের দেশ ইরান

ইবাদি পরোক্ষভাবে ইসরাইল-প্যালেস্টাইন সংঘর্ষ নিয়ে তাঁর মতামত প্রকাশ করেছেন ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী শিক্ষার্থীরা ইসরাইলী প্রতিরক্ষা বাহিনীকে প্রযুক্তি সরবরাহকারী সংস্থাগুলির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন এবং তাদের যুদ্ধ অপরাধী হিসাবে গণ্য করে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়নের জন্য একটি বিল পাস করেছিলেন নোবেল বিজয়ী শিরিন ইবাদিসহ অন্য তিনজন নোবেল বিজয়ী সেই বিল সমর্থন করেছিলেন

ইরানের শিয়া ধর্ম সম্পর্কে ইবাদি বলেছেন, আরবরা আসার পরে আমরা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছি, পূর্বে আমরা আলাদা ছিলাম সুন্নি সম্প্রদায়ের মুসলিমরা মুসলমান ছিল, তবে আমরা ইরানিয়ান ছিলাম

২০১৩ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে হাসান রোহানির বিজয়ের পরে শিরিন ইবাদি বিভিন্ন প্রসংগে ইরানে বর্দ্ধিত মানবাধিকার লংঘন সম্পর্কে ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার দিবসে লেইডেন বিশ্বদ্যিালয়ে ক্ষোভের সাথে বলেছিলেন- আমি চুপ থাকব, তবে ইরানের সমস্যা সমাধান হবে না৷

আইএসআইএস-এর ক্রমবর্দ্ধমান শক্তির আলোকে ইবাদি ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে বন্দুক এবং বোমার সাথে লড়াইয়ের চেয়ে পাশ্চাত্য বিশ্বের উচিত অর্থের জন্য অর্থ ব্যয় করে দূর্নীতি অবসান করা তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, যেহেতু ইসলামিক স্টেট ইসলামের ভুল ব্যাখ্যার ভিত্তিতে একটি আদর্শ থেকে উঠে এসেছে, তাই শারীরিক শক্তি দিয়ে আইএসআইএসকে শেষ করতে পারবে না কারণ শারীরিক শক্তি তাঁদের বিশ্বাসকে শেষ করতে পারবে না

২০১৮ সালে ইবাদি ব্লুমবার্গের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর বিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে এখন এটি -সংস্কারযোগ্য ইবাদি ইসলামী প্রজাতন্ত্রে গণভোটের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন

২০০৩ সালের ১০ই অক্টোবরে শিরিন ইবাদিকে গণতন্ত্র মানবিক অধিকার, বিশেষভাবে নারী শিশুদের অধিকারের জন্য তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে বাছাই কমিটি তাঁকেসাহসী ব্যক্তিহিসাবে প্রশংসা করেছিলেন, যে নিজের নিরাপত্তা হুমকির প্রতি কখনও মনোযোগ দেয়নি তিনি এখন পাশ্চাত্য দেশে ভ্রমণরত তিনি বল পূর্বক শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের নীতির বিরুদ্ধে নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী কিছু পর্যবেক্ষককে অবাক করে দিয়েছিল পোপ দ্বিতীয় জন পলের মৃত্যু সন্নিকটে বলে জল্পনা ছড়িয়ে দিয়ে নোবেল পুরস্কার জয়ের প্রত্যাশা করেছিলেন কিছু পর্যবেক্ষক ইবাদির নির্বাচনকে শ্রুতলিপি এবং রাজনৈতিক হিসাবে দেখেছিলেন তাঁরা পরামর্শ দিয়েছিলেন যে ইবাদির কার্যক্রমগুলো পুরস্কারের লক্ষ্যের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, যা মূলত আলফ্রেড নোবেল প্রকাশ করেছিলেন

ইবাদি নোবেল নির্বাচক কমিটির কাছেগণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আধুনিক ইরানে ইসলাম' শীর্ষক একটি বই উপস্থাপন করেছিলেন বইটিতে ইরানের মনস্তাতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভংগী উপস্থাপন করা হয়েছিল বইটিতে সাইরাস দারিউস থেকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং তেল শিল্পকে জাতীয়করণকারী আধুনিক ইরানের প্রধান মন্ত্রী মোসাদ্দেকের সময় পর্যন্ত ২৫০০ বছরের ইতিহাস ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক ভিত্তিতে নথিভূক্ত করেছিলেন

ইবাদির নোবেল বিজয়ের পরে ইরান ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা হয় মনে মনে ছিলেন, নয়তো ইবাদির নোবেল বিজয়কে পশ্চাত্য অনুষ্ঠানের রাজনৈতিক কারসাজি বলে অভিহিত করেছিলেন নোবেল প্রদান অনুষ্ঠানে ইবাদি চুল আলগা রেখে অংশ গ্রহণ করেছিলেন, এটা নিয়েও তিনি সমালোচিত হয়েছিলেন সংস্কারবাদী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ খাত্তামি অফিসিয়ালভাবে ইবাদিকে স্বাগত জানান নি তিনি বলেছিলেন বিজ্ঞানভিত্তিক নোবেল বেশি জরুরি, শান্তির নোবেল তেমন জরুরি নয় একমাত্র উপ-রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আলী আবতাহি ইবাদিকে অফিসিয়ালি স্বাগত জানিয়েছিলেনঅবশ্যে দেশের জনগণ তাঁকে বিমান বন্দরে অভ্যর্থনা জানিয়েছিল

নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পরে ইবাদি ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশ ভ্রমণ করেছেন সেখানে তিনি শ্রোতাদের সাথে মত বিনিময় করেছেন তিনি ইংরাজীতে একটি আত্মজীবনী প্রকাশ করেছেন নারীদের শান্তি, ন্যায়বিচার এবং সমতার জন্য নোবেল উইম্যানসিয়েটিভ তৈরী করেছেন ২০০৮ সালে ইবাদি ইরানে আশ্রিত আফগান শরণার্থীর অধিকার নিয়েরিফিউজি রাইটস' নামে একটি বই প্রকাশ করেছেন

২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে ইবাদি রয়টার সংবাদ সংস্থাকে বলেছিলেন যে গত দুই বছরে ইরানে মানবাধিকার রেকর্ডসংখ্যকভাবে অবনিত হয়েছে

২০০৮ সালের ২১ ডিসেম্বরে ইরান সরকার ইবাদির মানবাধিকার প্রতিরক্ষা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিল

২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে ইবাদি এক বিবৃতি দিয়েছিলেন, কিছুদিন আগে বাহাই সম্প্রদায়ের হয়ে কথা বলার জন্য আমার আমার পরিয়ালের লোকদের সুরক্ষার প্রতি ভাবুকি এসেছে ইরান সরকার দ্বারা গ্রেপ্তারকৃত বাহাই সম্প্রদায়ের লোকদের সুরক্ষা দিতে ইরান সন্মত নয় বলে ২০০৮ সালের মে মাসে ইবাদি মতপোষণ করেছিলেন ২০০৮ সালের আগষ্ট মাসেইরানা সংবাদ সংস্থা' ইরানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বাহাইদের সুরক্ষা নিয়ে বিদেশে কথা বলার জন্য ইবাদিকে সতর্ক করে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিল পশ্চিমা দেশের সহায় চাওয়ার জন্যও প্রবন্ধটিতে ইবাদিকে সমালোচনা করা হয়েছিল ২০০৯ সালের নভেম্বরে ইবাদি লণ্ডনে বলেছিলেন, তাঁর নোবেল পুরস্কার পদক ডিপ্লোমা ব্যাংক থেকে জব্দ করা হয়েছে তাঁর ব্যাংক একাউণ্টও বন্ধ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছিলেন অবশ্যে ইরানের বিদেশ মন্ত্রী ইবাদির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল

ইরানী নাগরিকদের ওপড় অত্যাচার বৃদ্ধির জন্য ২০০৯ সালের জুন মাস থেকে ইবাদি যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছেন

ইবাদি স্বদেশে অবহেলিত হলেও মানবাধিকারের জন্য আপোসহীন সংগ্রামের জন্য বিদেশ থেকে তিনি অনেক পুরস্কার এবং সন্মান পেয়েছেন

২০০৪ সালে ফোবর্স মেগাজিন বিশ্বের ১০০ জন শক্তিশালী মহিলার নাম তালিকাভূক্ত করেছিল, সেই তালিকায় ইবাদিকেও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল বিশ্বের সর্বকালের ১০০ জন মহিলার তালিকায়ও তিনি অন্তর্ভূক্ত হয়েছিলেন

২০০৫ সালের ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের নাসভাইলের টেনেসিতে ভানডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ক্লাস দিবসে ইবাদি শিক্ষার্থীদের সম্বোধন করেছিলেন মানবাধিকারের জন্য আপোসহীন কাজ করার জন্য ভানডারবিল্ট বিশ্বদ্যিালয়ের ভাইস চেঞ্চেলর গর্ডন গী ইবাদিকেচেঞ্চেলর মেডেল' দিয়ে সন্মানিত করেছিলেন

২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের গ্লোবেল ইন্টালেকসুয়ালচ পুলচ দ্বারা ইবাদি বিশ্বের ১২ তম বুদ্ধিজীবী হিসাবে বিবেচিত হয়েছিল

২০০৬ সালে রেনডম হাউস ইবাদিরইরান এওয়াকেনিংঃ মেমোয়ের অফ রেভোলেশ্বন এণ্ড হোপ(ইরান জাগরণঃ বিপ্লব আশার স্মৃতি) শীর্ষক বইটি পাশ্চাত্যের দর্শকের জন্য প্রকাশ করা হয়েছিল ২০০৬ সালের সেপ্তেম্বরে বিবিসি রেডিও -এরবুক অফ দ্য সপ্তাহ' হিসাবে বইটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেছিল আমেরিকান ঔপন্যাসিক ডেভিড এবারশফ বইটির সম্পাদক হিসাবে কাজ করেছিলেন

আপনে আপ উইম্যান ওয়ার্ল্ড ওয়াইড আন্তর্জাতিক এডভাইজরি বোর্ডের সহ-অধ্যক্ষ আরোরা পুরস্কারের নির্বাচন কমিটির সদস্য (২০১৫), বিজিনেস ফর পীচ পুরস্কার কমিটির সদস্য (২০০৯), রিপোর্ট উইথআউট বর্ডার (আরডব্লিউবি), এমেরিটাস বোর্ডের সদস্য ছিলেন

হিউম্যান রাইটস ওয়াস, ১৯৯৬ দ্বারা পুরস্কার প্রাপ্ত প্লেট

হিউম্যান রাইটস ওয়াস, ১৯৯৬ অফিসিয়াল দর্শক

২০১৫ সাল পর্যন্ত আরোরা প্রাইজ নির্বাচন কমিটির সদস্য

নুরেমবার্গ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রাইটস এওয়ার্ডের জুরির সদস্য

রিপোটার্স উইথআউট বর্ডার (আরডব্লিউবি), এমিরিটাস বোর্ডের সদস্য

স্কলার এট রিক্স(এসএআর), রাষ্ট্রদূত কাউন্সিলের সদস্য

২০০১ সালে নরওয়ের দ্বারা রাটো পুরস্কার, (মানবাধিকার পুরস্কার) প্রদান

নোবেল শান্তি পুরস্কার- ২০০৩

একৈশ শতাব্দী পুরস্কার, ২০০৪ এর জন্য মহিলাদের -নিউজ ২১ নেতা আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র পুরস্কার, ২০০৪

নিউ ইয়র্কের ইণ্টারফেইথ সেন্টার, ২০০৪ থেকে জেমস পার্কস মর্টন ইন্টারফেইথ পুরস্কার

বছরের সেরা আইনজীবী পুরস্কার, ২০০৪

ইউসিআই সিটিজেন পিস বিল্ডিং পুরস্কার, ২০০৫

একাডেমি অফ অ্যাচিভমেণ্ট, ২০০৪ দ্বারা গোল্ডেন প্লেট পুরস্কার

লিজন অফ অনার এওয়ার্ড, ২০০৬

টলারানজপ্রিস ডার ইভানগেলিসচেন অ্যাকাডেমি টুটজিং পুরস্কার, ২০০৮

মানবাধিকারের গ্লোবেল ডিফেন্সের জন্য আন্তর্জাতিক পরিষেবা পুরস্কার, ২০০৯

ওলফগ্যাং ফ্রিডম্যান মেমোরিয়াল পুরস্কার, কলম্বিয়া জার্ণাল অফ ট্রান্সন্যাশন্যাল , ২০১৩

 

                সন্মান

আইনবিদ, উইলিয়ামস কলেজ, ২০০৪

ডক্টর অফ লস, ব্রাউন ইউনিভার্সিটি, ২০০৪

আইনবিদ, ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্বদ্যিালয়, ২০০৪

সন্মানসূচক ডক্টরেট, মেরিল্যাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ পার্ক, ২০০৪

সন্মানসূচক ডক্টরেট, টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০৪

সন্মানসূচক ডক্টরেট, সিমন ফ্রেজার বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০৪

সন্মানসূচক ডক্টরেট,আকুরেয়রি বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০৪

সন্মানসূচক ডক্টরেট, অষ্ট্রেলিয়ান ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০৫

সন্মানসূচক ডক্টরেট, সান ফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০৫

সন্মানসূচক ডক্টরেট, কনকরডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০৫

সন্মানসূচক ডক্টরেট, ইউনিভার্সিটি অফ ইয়র্ক, ২০০৫

সন্মানসূচক ডক্টরেট, কানাডা বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০৫

সন্মানসূচক ডক্টরেট, জীন মৌলিন বিশ্ববিদ্যালয়, লিয়ন, ২০০৫

সন্মানসূচক ডক্টরেট, তওলা বিশ্ববিদ্যালয়, সিকাগো, ২০০৭

সন্মানসূচক ডক্টরেট, নিউ স্কুল বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০৭

সন্মানসূচক ডক্টরেট অফ , মারকুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০৯

সন্মানসূচক ডক্টরেট অফ , কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, ২০১১

সন্মানসূচক ডক্টরেট, স্কুল অফ ওরিয়েট্যাল এণ্ড আফ্রিকান স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়, লণ্ডন, ২০১২

সন্মানসূচক ডক্টরেট অফ , সোসাইটি আপার কানাডা, ২০১২

প্রকাশিত বই- ইরান এওয়াকেনিংঃ ওয়ান উইম্যান জার্নি টু রিক্লেইম হার লাইপ ওল্ কাউট্রি-(২০০৭)

রিফিউজি রাইটস ইন ইরান-(২০০৮)

দ্যা গোল্ডেন কেইজঃ থ্রি ব্রাদার্স, থ্রি সইছেস, ওয়ান ডিষ্টিনি- (২০১১)

আনটিল উই আর ফ্রি- (২০১৬)

 

 

                 মহম্মদ এলবারাদেই

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মহম্মদ এলবারাদেইর জন্ম ১৯৪২ সালের ১৭ জুন- ইজিপ্তের কাইরোর গিজায় এলবারাদেইর বাবা মোস্তফা এলবারাদেই ইজিপ্তের উকিল সংস্থার প্রধান ছিলেন এবং তিনি মিশরে গণতান্ত্রিক অধিকারের সমর্থক ছিলেন এলবারাদেই পিতামাতৃর পাঁচ সন্তানের মধ্যে একজন ছিলেন মহম্মদ এলবারাদেই ১৯৬২ সালে কাইরো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী এবং জেনেভার আন্তর্জাতিক বিকাশ স্টাডিজের স্নাতকোত্তর ইনস্টিটিউট থেকে আন্তর্জাতিক আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন ১৯৭৪ সালে নিউইয়র্কেরে স্কুল অফ থেকে আন্তর্জাতিক আইনে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল-‘দ্য রাইট অফ প্যাছেজ থ্র স্ট্রেইটস ইন টাইম অফ পিস এলবারাদেই স্থানীয় ভাষার সুবক্তা ছিলেন এবং ইংরাজী ফরাসি ভাষাতেও পারদর্শী ছিলেন

১৯৬৪ সালে বিদেশ মন্ত্রক থেকে এলবারাদেইর কূটনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল তিনি নিউইয়র্কের জাতিসংঘে মিশরের স্থায়ী মিশন এবং জেনেভাতে রাজনৈতিক, আইনী অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি বিদেশ মন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ছিলেন ১৯৮০ সালে তিনি জাতিসংঘের প্রশিক্ষণ গবেষণা ইনস্টিটিউটে আন্তর্জাতিক আইন প্রোগ্রামের সিনিয়র ফেলো হিসাবে নিযুক্ত হয়েছিলেন ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনিনিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ' ইনস্টিটিউটে আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন ১৯৪৪ সালে এলবারাদেই আইএইএ(ইন্টান্যাশনাল এটমিক এনার্জি এজেন্সি) সচিবালয়ের সিনিয়র স্টাফ সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এজেন্সিটির আইনী উপদেষ্টা এবং ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বহিরাগত সম্পর্কের সহকারী মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এলবারদেই বর্তমান আন্তর্জাতিক আইন সমিতি এবং আমেরিকান সোসাইটি অফ ইন্টারন্যাশনাল উভয়েরই সদস্য

সুইডেনের হান্স ব্লিকের অবসরের পরে এলবারাদেই ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিন বার ভিয়েনার আইএইএ(আন্তর্জাাতিক এটমিক এনার্জি এজেন্সি)-এর মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এলবারদেইর কার্যকাল হাই-প্রফাইল, -বিস্তার বিস্তারের দ্বারা চিহ্নিত হয়েছে, যার মধ্যে ইরাকের ২০০৩ সালের মার্স মাসের আক্রমণ এবং ইরানের পারমানবিক কার্যসূচিও অন্তর্ভুক্ত ছিল প্রথম বার আইএইএ-এর মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি বলেছিলেন- আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি আইএইএ- এর সদস্যদের আস্থা সমর্থন উপভোগ করতে হলে তাঁদের সদস্যদের প্রয়োজনে সাড়া দিতে হবে কার্যক্রমে স্থূল সাফল্য দেখাতে হবে, কার্যক্রম পরিশোধিত ব্যয়বহুল উপায়ে পরিচালনা করতে হবে এবং ন্যায়সংগত উপস্থাপনা, স্বচ্ছতা মুক্ত কথোপকথনের প্রক্রিয়াটিকে সন্মান করতে হবে ১১ সেপ্তেম্বরের আক্রমণের দু'মাস পরে ২০০১ সালের নভেম্বরে এলবারদেইর প্রথম কার্যকালের মেয়াদ শেষ হয়েছিল এই আক্রমণে স্পষ্ট করেছিল যে পারমানবিক পদার্থ এবং ইনস্টলেশন(কলকৌশল)গুলি চুরি বা সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য আরও বেশি সতর্ক হওয়া দর্কার ফলস্বরূপ এলবারাদেই পারমাণবিক তেজস্ক্রিয় পদার্থ এবং স্থাপনাগুলির পরমাণু সুরক্ষা তহবিল জোরদার করার জন্য সদস্য দেশগুলিকে সহায় করে পারমাণবিক সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য একটি পারমাণবিক সুরক্ষা কর্মসুচী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন

এলবারদেই আইএইএ-এর মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের দু'মাস আগেমডেল অতিরিক্ত প্রেটোকল' গৃহীত হয়েছিল ফলে অঘোষিত পারমাণবিক ক্রিয়াকলাপ সন্ধানের জন্য একটি নতুন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল এলবারাদেই মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পরে আইএইএ-এর বিস্তৃত সুরক্ষার চুক্তিগুলিকে সদ্য গৃহীত অতিরিক্ত প্রোটোকলের সাথে সংযুক্ত করেইন্টিগ্রেটেড সেফগার্ড' প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কর্মসূচী চালু করেছিলেন ১৯৯৮ সালে জেনেরেল কনফারেন্সে তাঁর বিবৃতিতে তিনি সমগ্র রাষ্ট্রকে অতিরিক্ত প্রোটোকল সফল করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, জোরালো সুরক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যগুলির সাথে বিশ্বব্যাপী আনুগত্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে আরও ভালোভাবে সফলতা অর্জন করা যেতে পারে তাই আমি সমগ্র রাষ্ট্রকে অনুরোধ করব, রাষ্ট্রগুলি প্রোটোকলের বিষয়ে তাঁদের বিবেচনা ত্বরান্বিত এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এজেন্সির সাথে পরামর্শ করার জন্য ২০০০ সালের মধ্যে আমাদের একসাথে কাজ করা উচিত তা নিশ্চিত করার জন্য ২০০৯ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ৯৩ টি দেশে অতিরিক্ত প্রোটোকল কার্যকর হয়েছিল

এলবারাদেই হ্যান্স ব্লিক্সসহ জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শকের একটি দলকে ইরাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তখন ২০০২ সালে ইরাক নিরস্ত্রীকরণ সংকট এবং ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ করার জন্য তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমালোচনা করেছিলেন এলবারদেই ২০০৩ সালের মার্স মাসে জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলকে বলেছিলেন যে ইরাক নাইজারের কাছ থেকে ইউরেনিয়াম অর্জনের চেষ্টা করেছিল তা প্রমাণের জন্য যে দলিলগুলি প্রমাণ হিসাবে নেওয়া হয়েছিল তা খাঁটি নয়

২০০৩ সালের অক্টোবরে কাইরো টাইমসে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে এলবারাদেই বলেছিলেন, সুরক্ষার চূড়ান্ত অনুভূতি তখনই হবে যখন আমরা বুঝতে পারব যে আমরা সবাই মানব জাতির অংশ আমাদের প্রাথমিক আনুগত্য মানব জাতির প্রতি হওয়া উচিত, একটি বিশেষ বর্ণের প্রতি নয় আমি মনে করি, যত তারাতারি আমরা এই বিভিন্ন পরিচয়ের পবিত্রতা ত্যাগ করব এবং মানব জাতির সাথে নিজেকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করব, তত তারাতারি আমরা আরও একটি উন্নত এবং নিরাপদ বিশ্ব পাব

এলবারাদেই ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনকে এভাবে বর্ণনা করেছিলেন, অনেক ক্ষেত্রে বল প্রয়োগের ফলে সমস্যা সমাধান হওয়ার পরিবর্তে সমস্যাটিকে আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়, ইরাক আক্রমণ তার এক স্পষ্ট উদাহরণ এলবারাদেই আরও বলেছিলেন, আমরা ইরাক থেকে শিখেছি, একটি পরিদর্শন সময় সাপেক্ষ, তাই আসলে ধৈর্যের সাথে কাজ করা উচিত সাদ্দাম হোসেন তাঁর পারমাণবিক কার্যসূচী পুনরুদ্ধার করেননি এই বিষয়ে এলবারাদেই বৈধতা প্রকাশ করেছিলেন

পারমাণবিক বিস্তারজনিত বিপদের বিষয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ২০০৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী এলবারাদই বলেছিলেন যে ধ্বংসাত্মক অস্ত্র অনুশীলন করাটা কিছু কিছু দেশের জন্য নৈতিকভাবে নিন্দনীয়, তবুও সুরক্ষার জন্য সেগুলির গ্রহণযোগ্যতা অন্যদের নৈতিকভাবে তাদের ওপড় নির্ভর করা উচিত প্রকৃতপক্ষে তাদের সক্ষমতা সংশোধন এবং ব্যবহারের জন্য পরিকল্পনা সজ্জিত করা অব্যাহত রাখাটা প্রয়োজন তিনি আরও বলেছিলেন, বিশ্ব যদি তা পরিবর্তন না করে, তবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আমরা নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যাব

মহাপরিচালক হিসাবে এলবারাদেইর তৃতীয় এবং চূড়ান্ত মেয়াদের কার্যক্রম-

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় চার বছরের মেয়াদে এলবারাদেইর নির্বাচনের বিরোধিতা করেছিল ২০০৫ সালের মে মাসে মার্কিন সিনেটের বিদেশ সম্পর্কিত সম্পর্ক কমিটির কর্মীদের সাথে সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন পররাষ্ট্র মন্ত্রী কলিন পাওলের কর্মচারীপ্রধান লরেন্স উইলকারসন, এলবারাদেইকে স্থানচ্যূত করতে গোপনে পরিকল্পনা করার জন্য অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক সুরক্ষার সাবেক উপসচিব জন বোল্টনকে অভিযুক্ত করেছিলেন তিনি বলেছিলেন, এলবারাদেই মহাসচিব হিসাবে পুনঃনিযুক্ত হতে বাধা দেওয়ার জন্য জন বোল্টন গ্রহণ করা পদক্ষেপ এবং কূটকৌশল সীমা ছাড়িয়ে গেছেন ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে ওয়াসিংটন পোস্ট জানিয়েছিল যে বুশ প্রশাসন ইরানি কূটনীতিবিদদের সাথে এলবারাদেইর কয়েক ডজন ফোনকল বন্ধ করে দিয়েছিল

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ ছিল যারা এলবারাদেইর পুনরায় নিয়োগের বিরোধিতা করেছিল অবশ্যে তারা অন্যান্য দেশগুলির পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয় ২০০৫ সালের জুন- এলবারাদেইর সাথে অনুষ্ঠিত হওয়া বৈঠকে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অফ স্টেট অফ কণ্ডোলিজজা রাইস এলবারাদেইর এই অভিযোগ বাতিল করেছিল এলবারদেইকে সমর্থনকারী দেশেগুলির মধ্যে ছিল, চীন, রাশিয়া, জার্মানি এবং ফ্রান্স চীন এলবারাদেইর নেতৃত্ব এবং উদ্দেশ্যগুলির প্রশংসা এবং যথেষ্ট পরিমাণে ফলপ্রসূ কাজ করার জন্য তাঁকে সমর্থন করেছে, যার দ্বারা আন্তর্জাতিক -বিস্তার বিস্তারে এজেন্সির ভূমিকা সম্ভ্রম বজায় ছিল চীন পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার উন্নয়নের জন্যও প্রচার করেছে ফ্রান্স, জার্মানি এবং কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশও এলবারাদেইর প্রতি সমর্থন স্পষ্ট করে দিয়েছিল রাশিয়া এলবারাদেইকে পুনরায় নির্বাচন করার পক্ষে একটি কড়া বক্তব্য জারি করেছিল ২০০৫ সালের ১৩ জুন- সর্বসম্মতিক্রমে এলবারাদেই আই,,, বোর্ড কর্তৃক পুনরায় নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০০৮ সালে এলবারাদেই বলেছিলেন যে তিনি মহা পরিচালক হিসাবে চতুর্থবার পদ দাবি করবেন না

জাতীয় পরিবর্তনের জন্য জাতীয় জোঁটের নেতা এলবারাদেই ২০০৯ সাল থেকে মিশরে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য একটি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং ২০১১ সালের বিক্ষোভ চলাকালীন একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাঁর এক চূড়ান্ত ইতিহাস রয়েছে এলবারাদেই এমন কিছু নীতি সমর্থন করেন, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে সমর্থন করেনা আইএইএ-এর মহাপরিচালক(১৯৯৭-২০০৯) থাকাকালীন এলবারদেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সাম্ভাব্য সামরিক মাত্রা প্রসারের দাবি অস্বীকার করেছিলেন টাইম ম্যাগাজিনের ২০০৩ সালের ৩রা জুলাই-এর একটি নিবন্ধ অনুসারে বুশ প্রশাসনের দাবির বিরোধিতা করে এলবারদেই বলেছিলেন, ২০০৩ সালের যুদ্ধের আগে ইরাকে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু হয়নি এলবারদেই ২০১০ সালের ১২ জুলাই-জার্মান নিউজ ম্যাগাজিন ডের স্পিগেলের সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে তিনি মিশর সীমান্তস্থিত গাজা উপত্যকা খোলতে চেয়েছিলেন এবং ইসরাইলের পারমাণবিক অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যের জন্য হুমকি বলে অভিযুক্ত করেছিলেন ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিকল্পনা করার জন্য এলবারাদেই বুশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্য আহ্বান জানিয়ে ছিলেন

এলবারাদেইর কাজ কেবল পারমাণবিক শক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলনা ২০০৪ সালে এলবারাদেই পারমাণবিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি বিস্তৃতগ্লোবেল উদ্যোগ’,‘প্রোগ্রাম অফ অ্যাকশন ফর ক্যান্সার থেরাপি' (পিএসিটি) অপারেশন শুরু(স্পন্সর) করেছিলেন এক বিবৃতিতে এলবারাদেই বলেছিলেন, ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য এক নীরব সংকট উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিদ্যমান এবং তা প্রতি বছরই তীব্রতর হচ্ছে ক্যান্সার আক্রান্তের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ রেডিওথেরাপি থেকে উপকৃত হতে পারে তবে, বেশির ভাগ উন্নয়নশীল দেশে পর্যাপ্ত রেডিওথেরাপি মেশিন, যথেষ্ট বিশেষজ্ঞ অন্যান্য পেশাদার স্বাস্থ্য কর্মী নেই এই অপারেশনের প্রথম বছরেপিএসিটি২০০৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের আইএইএ-এর অংশীদারি ব্যবহার করে সাত সদস্য দেশগুলিতে ক্যান্সার চিকিৎসার সুবিধা সরবরাহ করেছিলেন

২০০৮ সালের সাধারণ সন্মেলনে এলবারাদেই তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমগুলি আমাদের কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে যায় আমাদের সংস্থান গুলি সমর্থনের জন্য আসা অনুরোধের সাথে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্তভাবে তাল মিলিয়ে চলতে পারছেনা আমরা দেশ থেকে দেশের অন্যান্য সংস্থাগুলির সাথে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং ক্রমবর্দ্ধমানভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি আমি আবারও জোর দিয়ে বলছি যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দর কষাকষির বিষয় নয়, এটা হলো রাজনৈতিক ভারসাম্যের মধ্য দিয়ে এজেন্সিটির উন্নয়ন এবং সুরক্ষা কার্যক্রমের অংশ

এলবারদেই বার্ষিক ১৫ মিলিয়ন ডলার বাজেট উপভোগ করা একটি বেসরকারী সংস্থা আন্তর্জাতিক সংকট গ্রুপের ট্রাস্টি বোর্ডের দায়িত্ব পালন করেছেন কার্নেগি ফোর্ড ফাউনডেশন, বিল এণ্ড মেরিণ্ডা গেটস ফাউনডেশন এবং জর্জ সোরোস দ্বারা ব্যাংকলডওপেন সোসাইটি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী সদস্য হিসাবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন

মিশরীয় বিপ্লবের প্রথম দিনগুলোতে এলবারাদেইর ভাষণকার এবং দীর্ঘ সময়ের সহযোগী লাবান কোবলেণ্টজ এবং আইএইএ-এর অন্যান্য সহকর্মীরা এলবারদেই মিশরীয় রাজনীতিতে জড়িত হয়েছেন বলে বিরোধিতা করেছিলেন তিনি তখন বলেছিলেন যে তিনি তাঁর নিজের দেশের প্রয়োজনের জন্য কখনো মানবাধিকারের ঘাটতিগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করতে ভোলে যাননি

২০১১ সালের ২৫ শে জানুয়ারী ইজিপ্তে প্রেসিডেণ্ট হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে হাজার হাজার জনতা রাস্তায় বের হয়ে এসেছিল এবং ৩০ বছরের মধ্যে সর্ববৃহৎ গণ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল তখন জাতীয় এই সংকটের সময় এলবারদেই ১৭ জানুয়ারী ইজিপ্তে আসেন এবং তিনি ঘোষণা করেন যে যদি জাতি চায়, তাহলে তিনি পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত আছে পরবর্তী পর্যায়েশুক্রবারের বিক্ষোভ' নামে খ্যাত বিক্ষোভে শুক্রবারের নমাজের পরে এলবারদেই অংশ গ্রহণ করেন পুলিশ তাঁর উপড়ে জল কামান নিক্ষেপ এবং তাঁকে ঘিরে থাকা তাঁর কিছু সমর্থকের ওপড় লাঠিচার্জ করে পরে মোবারক সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে যোগ দিতে তিনি কাইরোর তাহরির স্কোয়ারে আসেন এবং জনতার সাথে সরাসরি কথা বলেন তখন মিশরের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন এলবারদেইকে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানা

২০১১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কায়রোতে এলবারাদেইর বাসায় বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতা এবং বুদ্ধিজীবীর সাথে বৈঠক হয় এবং সেই বৈঠকেন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর চেঞ্জ’(‘জাতীয় উদ্ধার') নামে একটি নতুন নির্দলীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক দৃশ্যপটের সাধারণ সংস্কার মিশরীয় সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদে, যা অবাধ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ সৃষ্টি করে তার সংস্কার নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী মুসলিম ব্রাদারহুড এই সভায় প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন

২০১১ সালেওএনটিভির সাথে এক অনলাইন সাক্ষাৎকারে ২০১২সালের নির্বাচনে এলবারাদেই রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল যদিও শেষ মুহূর্তে ২০১২ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছিনে ২০১১-১২ সালের নির্বাচনে মুসলিম ব্রাদহুডের তরফ থেকে গঠিতফ্রিডম এণ্ড জাস্টিস' পাটির মহম্মদ মুরসি, মুবারক সরকারের শাসনকালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা' আহম্মদ শফিককে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হন মুরসি ইজিপ্তের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি মাত্র এক বছর রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন কিন্তু দেশের দুর্বল অর্থনীতি, অব্যস্থাপনার বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ, মুরসির জোঁট সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখান, মুসলিম ব্রাদারহুডের কর্তৃত্ববাদী প্রভাবের বিরুদ্ধে গণ বিক্ষোভ শুরু হয় এবং তাঁর কার্যকালের প্রথম বর্ষপূর্তির দিন মিলিটারি অভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে তাঁকে সরকার থেকে বরখাস্ত করা হয় এলবারাদেই মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত এবং সুপ্রিম সাংবিধানিক আদালতের প্রধান বিচারপতি অ্যাডলি মনসুরকে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রক্ষেপ এবংরাজনৈতিক সড়ক মানচিত্র নির্মাণ' প্রভৃতির জন্য সামরিক পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছিলেন

২০১৩ সালের মিশরীয় অভ্যূত্থানের পরে ২০১৩ সালের ৪ই জুলাই এলবারাদেইকে ট্রানজিশনাল মিশরীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল, কিন্তু এলবারাদেই সেই আগ্রহ অস্বীকার করেছিল ২০১৩ সালের ১৪ জুলাই তিনি সহ-রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছিল উক্ত সালেরই ১৪ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি মহম্মদ মুরসির সমর্থক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সহিংস আক্রমণ হয় উক্ত আক্রমণে ৫২৫ জন লোক নিহত হয় ফলে এলবারাদেই সহ-রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন

মহম্মদ এলবারাদেই গ্লোবেল লিডারশিপ ফাউনডেশন এবং ঔষধ নীতি সম্পর্কিত গ্রোবেল কমিটির সদস্য ছিলেন

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক থাকাকালীন এলবারাদেই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তার জন্য তিনি অনেক পুরস্কার পেয়েছেন ২০০৫ সালের অক্টোবর, সামরিক উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার রোধের প্রচেষ্টা এবং শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তি নিরাপদতম ব্যবহার সম্ভব করার জন্য এলবারাদেই এবংআইএইএকে যৌথভাবে শান্তির নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় এলবারাদেই তাঁর পুরস্কারের ধন কায়রোতে একটি এতিমখানা তৈরির জন্য দান করেছেন আইএইএর পুরস্কারের ধন ক্যান্সার এবং অপুষ্টি মোকাবেলায় পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কৌশল আয়ত্বের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলির বিজ্ঞানীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের জন্য দান করেছেন আনোয়ার সাদাত (শান্তিতে ১৯৭৮), নাগুইব মাহফুজ(সাহিত্যে ১৯৮৮) এবং আহমেদ জেওয়াইল(রসায়ন ১৯৯৯) পরে এলবারাদেই হচ্ছে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত চতুর্থজন মিশরীয়

এলবারাদেই তাঁর নোবেল বক্তৃতায় বলেছিলেন, পারমাণবিক -বিস্তার নিরস্ত্রীকরণের পরিবর্তিত প্রাকৃতিক দৃশ্যকে পারমাণবিক উপাদান সরঞ্জামের বিস্তৃত কালোবাজারের উত্থান রোধ, পারমাণবিক অস্ত্র সংবেদশীল পারমাণবিক প্রযুক্তির বিস্তার স্থবিরতার দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে তিনি পারমাণবিক রেডিওলজিক্যাল উপাদানগুলিকে চরমপন্থী গোষ্ঠীর হাত থেকে দূরে রাখতে, অস্ত্রগুলিতে ব্যবহার হতে পারে এমন পারমাণবিক পদার্থ উৎপাদনের ওপড় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং নিরস্ত্রীকরণের প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি আরও বলেছিলেন যে নতুন অস্ত্র তৈরির জন্য যে অর্থ ব্যয় করা হয়. তার এক শতাংশ দিয়েই পুরো বিশ্বকে খাওয়ানো সম্ভব আমরা যদি আত্ম-ধ্বংস থেকে বাঁচার আশা করি, তবে পারমাণবিক অস্ত্রের স্থান আমাদের বিবেকে থাকতে পারে না

জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনেরেল কফি আন্নান বলেছিলেন, জাতিসংঘের পারমাণবিক প্রহরী সংস্থা এবং এলবারাদেই ২০০৫ সালের শান্তির নোবেল পুরস্কার লাভের জন্য তিনি আনন্দিত আন্নানের একজন মুখপাত্র বলেছিলেন, বিশ্ব শান্তিতে অবদানের জন্য এলবারাদেই এবং জাতিসংঘের অতীত এবং বর্তমানের পুরো কর্মীদের মহাসচিব অভিনন্দন জানিয়েছেন

ইজিপ্ত সরকার ২০০৫ সালের অক্টোবর এলবারাদেইর নোবেল পুরস্কার অর্জনের স্মরণে দুটি ডাক টিকেট জারি করেছে

এলবারাদেই আইএইএর মহাপরিচালক হিসাবে তাঁর কাজের জন্য অনেক পুরস্কার পেয়েছেন-

অস্ট্রিয়া প্রজাতন্ত্রের পরিষেবাগুলির জন্য সজ্জা(বেজ্জ(Badge)সহ সোনার গ্র্যাণ্ড সজ্জা), ২০০৯

ফেডারেল রিপাব্লিক অফ জার্মানির মেধা অর্ডার (গ্র্যাণ্ড ক্রস উইথ স্টার এবং বেজ্জ(Badge))(২০১০)

আলজেরিয়ার জাতীয় পুরস্কারগুলির মধ্যে একটি জাতীয় অর্ডার অফ মেরিটেরএল আথির' পুরস্কার

ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট ফ্রিডম পুরস্কার (২০০০)

জেমস পার্ক মর্টন ইন্টারফেইথ পুরস্কার

আমেরিকান একাডেমি অফ অ্যাচিভমেন্ট গোল্ডেন প্লেট পুরস্কার

কূটনৈতিক আচরণে স্বতন্ত্রতার জন্য জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জিত ট্রেনার পুরস্কার

মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের পক্ষ থেকে মানব সুরক্ষা পুরস্কার

ক্র্যানস মণ্টনা ফোরামের প্রিক্স ডি লা ফাউন্ডেশন পুরস্কার ইতালির রাষ্ট্রপতির কাছ থেকেগোল্ডেন ডভ অফ পিস' পুরস্কার

পূর্ববর্তী নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ডেসমণ্ড টুটু এবং জন হিউমের পদক্ষেপে ডাবলিন ট্রিনিটি কলেজের ইউনিভার্সিটি ফিলোসফিক্যাল সোসাইটির সন্মানিত পৃষ্ঠপোষক, ২০০০

ইতালীয় গবেষণা ইনস্টিটিউট আর্কাইভ ডিসারমো কর্তৃক গোল্ডেন ডভস, ২০০৭

গ্র্যাণ্ড কর্ডন অফ দ্যা অর্ডার অফ নীল, মিশর সরকার কর্তৃক ভূষিত সর্ব্বোচ্চ মিশরীয় বেসামরিক সাজসজ্জা

পারমাণবিক প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বিশিষ্ট অবদানের জন্য ২০০৭ সালের সেপ্তেম্বরে ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক পুরস্কার ২০০৬ সালে স্বাধীনতা পদক

দ্যা মোস্টার সেন্টার ফর পিস অ্যাণ্ড মাল্টিথেটনিক কো-অপারেশন এর মোস্টার ২০০৭ আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার

ইস্ট ওয়েস্ট ইনস্টিটিউটের ২০০৮ সালের পিস বিল্ডিং পুরস্কার

শান্তি, সুরক্ষা এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপের জন্য আন্তর্জাতিক সিভিল নোডো পুরস্কার

শান্তি, নিরস্ত্রীকরণ এবং উন্নয়নের জন্য ২০০৮ সালের ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার

জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডেল্টা এয়ার লাইন্স দ্বারা স্পনসর করা গ্লোবেল বোঝাপড়ার জন্য ২০০৯-এর ডেল্টা পুরস্কার

আন্তর্জাতিক গ্রুপো কমপোস্টেলা-শুন্টা ডি গ্যালিসিয়া পুরস্কার

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রকেরআন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অবদান' এর ব্রেস্টপ্লেট

ফ্রান্সিসকো স্কোরেনা অর্ডার (বেলারুশ)

মানুষের বন্ধুত্বের আদেশ (বেলারুশ)

এলবারাদেই ট্রিনিটি কলেজ অফ ডাবলিন থেকে সন্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রিও অর্জন করেছেন নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়, মেরিল্যাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়, কাইরো আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়, ইতালির বারির ফ্রি ভূমধ্যসাগরীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের সোকা বিশ্ববিদ্যালয়, বেইজিঙের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়, বুখারেষ্ট, সিওলের কনকুক বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্লোরেন্স বিশ্ববিদ্যালয়, বুনেস আয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়, আর্জেন্টিনার নূন্যতম বিশ্ববিদ্যালয়, আমহার্স্ট কলেজ এবং কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সন্মানসূচক ডিগ্রী অর্জন করেছেন এলবারদেই ইব্রাহীম ফাউণ্ডেশনের পুরস্কার কমিটির সদস্যও রয়েছেন

এলবারাদেই বেশ কয়েকটি বইয়ের লেখক এবং সম্পাদক-

দ্যা এজ অফ ডিচেপশনঃ নিউক্লিয়ার ডিপ্লোমেসি ইন ট্রিছেরাস টাইমস, মেট্রোপলিটান বুকস/ হেনরি হল্ট এণ্ড কোম্পানী, ২০১১

সম্পাদনা- দ্য ইন্টারনেশন্যাল অফ নিউক্লিয়ার এনার্জিঃ বেসিক ডকুমেন্ট

এটমস ' পিসঃ পিক্টোরিয়াল হিষ্টরী অফ দ্যা ইন্টারন্যাশন্যাল অ্যাটোমিক এনার্জি (১৯৫৭-২০০৭), ভিয়েনা

এলবারাদেই তাঁর বাল্যকালের শিক্ষিকা আইডা এল-কাছেফের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছেঃ একটি মেয়ে লাইলা, তিনি লণ্ডনে বসবাসরত আইনজীবী এবং একটি ছেলে মোস্তাফা, যিনি কায়রোতে বসবাসরত আইটি ম্যানেজার তাঁদের দু'টি নাতিনী রয়েছে, মায়া এবং নিনা

 

 

                   ডক্টর মহম্মদ ইউনুস

ডক্টর মহম্মদ ইউনূসের জন্ম ১৯৪০ সালের ২৮ জুন ব্রিটিশ ইণ্ডিয়ার বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত চিটাগাঙের বাথুয়া গ্রামের একটি বাঙালি মুসলিম পরিবারে তিনি পিতা-মাতার নয়জন সন্তানের মধ্যে তৃতীয় সন্তান ছিলেন তাঁর বাবার নাম হাজি দুলা মিয়া সদাগর এবং মার নাম সুফিয়া খাতুন তাঁর বাবা পেশায় একজন জহুরি ছিলেন ইউনূসের বাল্যকাল গ্রামে কেটেছে ১৯৪৪ সালে তাঁদের পরিবার চিটাগাং শহরে চলে আসে তখন তিনি গ্রামের স্কুল ছেড়ে শহরের লামাবাজার প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হন ১৯৪৯ সালের মধ্যে তাঁর মা মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি পূর্ববংগের চিটাগাং কলেজিয়েট স্কুল থেকে ৩৯,০০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৬ সংখ্যক স্থান দখল করে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তিনি স্কুল জীবনে সক্রিয়বয় স্কাউটছিলেন এবং ১৯৫২ সালে পশ্চিম পাকিস্থান এবং ভারত ভ্রমণ করেছিলেন ১৯৫৫ সালে তিনি খেলা-ধুলায় অংশ গ্রহণ করার জন্য বয় স্কাউট দলের সাথে কানাডা ভ্রমণ করেছিলেন চিটাগাং কলেজে অধ্যয়ন কালে তিনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন এবং নাটকের জন্য পুরস্কার জিতেছিলেন ১৯৫৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন ১৯৬০ সালে স্নাতক এবং ১৯৬১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন

স্নাতক ডিগ্রী অর্জনের পরে ইউনূস অর্থনীতি ব্যুরোতে প্রফেসর নুরুল ইসলাম এবং রেহমান সোভানের তত্ত্বাবধানে অর্থনীতি গবেষণার গবেষণা সহায়ক হিসাবে যোগদান করেন পরে ১৯৬১ সালে চিটাগাং কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন এই সময়ে তিনি লাভজনক প্যাকেজিং ফেক্টরী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৯৬৫ সালে তিনিফুলব্রাইট স্কলারশিপ' অর্জন করে অধ্যয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি ভ্যাণ্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭১ সালে গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম ইন ইকনোমিক ডেভেলপমেন্টে (জিপিইডি) ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মুফরিসবারোর মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসাবে কার্যনির্বাহ করেন

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ মুক্তি যুদ্ধেৰ সময় ইউনূস একটি নাগরিক কমিটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অন্যান্য বাংলাদেশীদের নিয়ে একটি তথ্য কেন্দ্র পরিচালনা করেছিলেন তিনি তাঁর নাসভেলির বাড়ী থেকেবাংলাদেশ নিউজ লেটার' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেছিলেন যুদ্ধের পরে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে সরকারের প্ল্যানিং কমিশনে যোগদান করেন তবে, তিনি কাজটা একঘেয়ে পান এবং সেখান থেকে পদত্যাগ করে চিটাগাং বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের প্রধান হিসাবে যোগদান করেন ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় তিনি দারিদ্রতা লাঘবের জন্য গবেষণামূলক প্রকল্প হিসাবেগ্রাম্য অর্থনীতি প্রোগ্রাম' শুরু করেন ১৯৭৫ সালে তিনি নবযুগ তেভাগা খামার প্রতিষ্ঠা করেন, যা সরকার প্যাকেজড ইনপুট প্রোগ্রাম' হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন প্রকল্পটি আরও কার্যকর করার জন্য ইউনূস এবং তাঁর সহযোগীরা সরকারের কাছেগ্রাম সরকার' কর্মসূচির প্রস্তাব দিয়েছিলেন ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্মসূচিটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৪০,৯৯২ টি গ্রাম সরকারকে সরকারের চতুর্থ স্তর হিসাবে গঠন করেছিলেন তবে, ২০০৫ সালের আগস্ট বাংলাদেশ লিগ্যাল এইডস এণ্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টে(বিএলএসটি) আবেদনের জবাবে হাইকোর্ট গ্রাম সরকারগুলিকে অবৈধ এবং অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন

 

ইউনূসের এই নতুন মাইক্রোক্রেডিটে(ক্ষুদ্রঋণ) ধারণাটি ইনফো লেডি সামাজিক উদ্যোক্তা প্রোগ্রামের মতো অনেক উন্নয়নশীল দেশের উদ্ভাবকদের অণুপ্রাণিত করেছিল

১৯৭৬ সালে ইউনূস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী জোবড়া গ্রামে দরিদ্রতম পরিয়ালগুলি পরিদর্শনের সময় আবিষ্কার করেছিলেন যে খুব স্বল্প ঋণ দরিদ্র ব্যক্তির ক্ষেত্রে এক অসামান্য পরিবর্তন সাধন করতে পারে বাঁশের আসবাব তৈরির জন্য গ্রামীণ মহিলারা ঋণ নিতে হয় এবং ঋণ দাতাদের মুনাফার অধিক অংশ পরিশোধ করতে হয় ঐতিহ্যবাহী ব্যাংকগুলি ঋণ খেলাপির উচ্চ ঝুঁকির জন্য দরিদ্রদের ঋণ দিতে চায়না তবে ইউনূস বিশ্বাস করেছিলেন যে ঋণের সুযোগ পেলে দরিদ্ররা অর্থ ফেরত দেবে তাই তিনি ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবসায়িক মডেল প্রস্তুত করেছিলেন ইউনূস তাঁর ২৭ মার্কিন ডলার ৪২ জন মহিলাকে ঋণ দিয়েছিলেন তারা .৫০ ডলার করে আয় করেছিল তাই ইউনূসকে ক্ষুদ্রঋণের ধারণার কৃতিত্ব দেওয়া হয়

১৯৭৬ সালের ডিসেম্বরে অবশেষে জোবড়া গ্রামের মহিলাদের ঋণ দেওয়ার জন্য ইউনূস সরকারী জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেন অনুষ্ঠানটি তাদের প্রকল্পগুলি চালিয়ে যাওয়ার জন্য অন্যান্য ব্যাংক থেকেও ঋণ গ্রহণ করে ১৯৮২ সালের মধ্যে তাদের সদস্য সংখ্যা ২৮,০০০ হয়ে যায় ১৯৮৩ সালের অক্টোবর পাইলট প্রকল্পটি দরিদ্র ব্যাংলাদেশীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসাবে কাজ শুরু করে যার নাম দেওয়া হয়েছিল গ্রামীণ ব্যাংক ২০০৭ সালের জুলাই মাসে গ্রামীণ ব্যাংক . মিলিয়ন ঋণগ্রহিতাদের মধ্যে .৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ প্রদান করে ঋণ পরিশোধ নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংকসংহত গোষ্ঠী' সিস্টেম ব্যবহার করে এই ছোট ছোট দলগুলি ঋণের জন্য একসাথে আবেদন করতে হয় এবং প্রত্যেক জন সদস্য প্রত্যেক জন সদস্যের ঋণ পরিশোধের সহ-গ্রাণ্টর হিসাবে কাজ করে এবং অর্থনৈতিক স্ব-উন্নতিতে একে অপরের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে

১৯৮০ দশকের শেষের দিকে গ্রামীণ ব্যাংক মৎস্য পালন করা জলাশয় এবং অগভীর নলকূপের জন্য ঋণ প্রদান করে কাজে বৈচিত্র আনে ১৯৮৯ সালে এই বিচিত্র প্রকল্পের বিভিন্ন নামকরণ করা হয় জলাশয় প্রকল্পকে গ্রামীণ মৎস্য সংস্থা(গ্রামীণ ফিশারি ফাউণ্ডেশন) এবং সেচ প্রকল্পকে গ্রামীণ কৃষি সংস্থা(গ্রামীণ কৃষি ফাউন্ডেশন) হিসাবে নামকরণ করা হয় সময়ের সাথে সাথে গ্রামীণ উদ্যোগ, গ্রামীণ ট্রাস্ট এবং গ্রামীণ ফাণ্ডের মতো বড় প্রকল্প গ্রামীণ সফ্টওয়্যার লিমিেিটড, গ্রামীণ সাইবারনেট লিমিটেড এবং গ্রামীণ নেটওয়ের লিমিটেড চালু করে যেমন গ্রামীণ টেলিকম, বাংলাদেশের গ্রামীণ টেলিফোন পরিচালনা করে গ্রামীণ টেলিফোন বাংলাদেশের বড় বেসরকারী ফোন সংস্থা গ্রামীণ টেলিফোন ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে গ্রামীণ পল্লীফোন হিসাবে কাজ শুরু করেছে এবং বাংলাদেশের ৫০,০০০ টি গ্রামের ২৬০,০০ জন গ্রাহকের মধ্যে সম্প্রসারিত হয়েছে

ড০ মহম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক স্থাপনের পেছনের কারণ সম্পর্কে বলেছেন- ‘১৯৭৪ সালে আমরা দেশে দুর্ভিক্ষ দেখেছি লোকেরা ক্ষুধায় মারা যাচ্ছিল, তবে খাওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিলনা এটি একটি ভয়ংকর পরিস্থিতি আমরা অর্থনীতির মার্জিত তত্ত্বগুলি শেখাই, তবে ক্ষুধার্ত লোকদের সেই তত্ত্ব কাজে আসে না সুতরাং আমি দেখতে চেয়েছিলাম, একজন ব্যক্তি হিসাবে, একজন মানুষ হিসাবে, আমি লোকদের যদি কিছু একটা কাজে লাগতে পারি'

ইউনূসের মাইক্রোফাইন্যান্সের সাফল্য উন্নত দেশ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের উন্নয়নশীল ১০০ টি দেশকে অনুপ্রাণিত করে অনেক ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প মহিলাদের ঋণ দেওয়ার বিষয়ে জোর দেয় গ্রামীণ ঋণের ৯৪ শতাংশেরও অধিক ঋণ মহিলাদের দেওয়া হয়েছে, যারা দারিদ্রতার শিকার ছিলেন এবং পুরুষদের চেয়েও তাদের উপার্জন কাজে লাগার সম্ভাবনা অধিক

গ্রামীণদের সাথে তাঁর কাজের জন্য ইউনূসকে ২০০১ সালে পাব্লিক গ্লোব্যাল একাডেমিদ্বারাঅশোকঃ জনগণের জন্য উদ্ভাবক' নামকরণ করা হয়েছিলগ্রামীণ সোস্যাল বিজিনেস মডেল' (জিএসবিএম)বইটির লেখক রাশিদুল বারি লেখেছেন যে গ্রামীণ সামাজিক ব্যবসায়িক মডেল তত্ত্ব থেকে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় যেমন, গ্রাসগো, ফ্রাঙ্ক রিবউদ, কর্পোরেশন ড্যামোন দ্বারা বিশ্বব্যাপী অনুপ্রেরণামূলক অনুশীলনে চলে গেছে রাশিদুল বারি দাবি করেছেন যে ইউনূস গ্রামীণ সোস্যাল বিজিনেস মডেল দ্বারা কীভাবে দরিদ্র মহিলাদের ক্ষমতায়ন এবং দারিদ্র দূরীকরণের মনোভাবকে শক্তিশালী করতে পারে তা প্রদর্শন করেছে রশিদুল বারি ইউনূসের ধারণাগুলি থেকে মনযোগ আকর্ষণ করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে দরিদ্ররাবনশাই গাছের মতো, তারা যদি সামাজিক ব্যবসায় প্রবেশ করতে পারে, তারা স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষমতা রাখে

ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক বিকাশের প্রচেষ্টার জন্য ২০০৬ সালে ইউনূসকে শান্তির নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে নোবেল কমিটি বলেছিল যে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী দারিদ্র থেকে মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত স্থায়ী শান্তি অর্জন করা সম্ভব নয় ইউনূস এবং তাঁর গ্রামীণ ব্যাংক দেখিয়ে দিয়েছে যে দরিদ্রতমদের মধ্যেও কাজ করার আগ্রহ আছে এবং তারা নিজের উন্নয়ন নিজেই সাধন করতে পারে

ইউনূস বাংলাদেশীদের মধ্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার বিজেতা নোবেল পুরস্কারের খবর পাওয়ার পরে ইউনূস ঘোষণা করেছিলেন যে, তাঁর পুরস্কারের ধনের একটি অংশ দিয়ে দরিদ্রদের জন্য স্বল্প ব্যয়ে উচ্চ পুষ্টিযুক্ত খাবার তৈরির একটি সংস্থা গঠন করবে এবং বাকি ধন দিয়ে তাঁর নিজ জেলায় ইউনূস বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাংলাদেশের দরিদ্রদের জন্য একটি চক্ষু হাসপাতাল স্থাপন করবে

ইউনূসকে নোবেল পুরস্কার প্রদানের জন্য আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন সোচ্চার প্রবক্তা ছিলেন তিনি রোলিং স্টোন ম্যাগাজিনের পাশাপাশি তাঁর আত্মজীবনী 'মাই লাইফ'- এই কথা প্রকাশ করেছেন ২০০২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলেতে দেওয়া এক ভাষণে রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন ইউনূস সম্পর্কে উল্লেখ করেছিলেন যে ইউনূস এমন একজন ব্যক্তি যাকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা উচিত নোবেল কমিটি তাঁকে এটা না দেওয়া পর্যন্ত আমি এটা বলতে থাকব নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পরে অর্থনীতিবিদরা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে ইউনূস যখন দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য দুর্দান্ত কাজ করেছে, তখন তাঁকে শান্তির পুরস্কার দেওয়া ঠিক হয়নি....

ইউনূস নোবেল শান্তি পুরস্কার, প্রেসিডেন্সিয়াল ফ্রিডম অফ ফ্রিডম এবং কংগ্রেসনাল স্বর্ণপদক অর্জনকারী সাতজন ব্যক্তির মধ্যে একজন অন্যান্য পুরস্কারগুলির মধ্যে রয়েছে- ১৯৮৪ সালের ম্যাগসেসে পুরস্কার, ১৯৯৬ সালের বিশ্বখাদ্য এবং আন্তর্জাতিক বলিভার পুরস্কার, ১৯৯৯ সালের আন্তর্জাতিক আন্তুরিয়াস এবং সিডনি শান্তি পুরস্কার, ২০০৬ সালেরসিউল পিস প্রাইজ' প্রভৃতি ইউনূস আরও বেশ কয়েকটি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সন্মান পেয়েছেন ২০০৯ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল মেডিক্যাল মেডেল এবং ২০১০ সালে কংগ্রেসনাল স্বর্ণ পদক অর্জন করেছেন

 

২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাস্কিয়া ব্রুস্টেন, সোফি আইজেনম্যান এবং হান্স বিটিজের সাথে মিলে ইউনূস সামাজিক ব্যবসা গ্রোব্যাল ইনিশিয়েটিভস (ওয়াইএসবি) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ওয়াইএসবি বিশ্বব্যাপী সামাজিক ব্যবসাগুলি তৈরি ক্ষমতাশালী করার পাশাপাশি সামাজিক সমস্যাগুলি সমাধান করে ওয়াইএসবি উন্নয়নশীল দেশগুলিতে সামাজিক ব্যবসায়ের জন্য ইনকিউবেটর তহবিল পরিচালনা করে এবং সরকার এনজিওগুলিকে পরামর্শমূলক পরিষেবা সরবরাহ করে

২০১২ সালে ইউনূস গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যাঞ্চেলর হিসাবে নিযুক্তি পেয়েছিলেন এবং ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি তাঁর আর্থিক কাজ সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ করেছেন তিনি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পাব্লিক চ্যারিটি ইউনাইটেড নেশনস ফাউনডেশনের বোর্ড অফ ডিরেক্টর ছিলেন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি জেনেরেল বান কি-মুন ইউনূসকে এমডিজির প্রবক্তা হিসাবে দায়িত্ব প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলেন ইউনাইটেড ন্যাশনস ফাউন্ডেশন, সোয়াব ফাউন্ডেশন, মোনাকো ফাউণ্ডেশন-দ্বিতীয় প্রিন্স অ্যালবার্ট, গ্রামীণ ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল মাইক্রোক্রেডিট ফাউন্ডেশনের বোর্ডে তিনি অধিষ্ঠিত রয়েছেন বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ফ্রান্সের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জ্যাক চিরাক দ্বারা ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চিরাক ফাউণ্ডেশনের তিনি সন্মানিত সদস্য ২০১১ সালে বাংলাদেশ সরকার বয়েসের অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে গ্রামীণ ব্যাংকের ডিরেক্টর পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন

ইউনূস প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব তিনি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অসংখ্য বক্তৃতা প্রদান করেছেন তিনি জনপ্রিয় টেলিভিজন অনুষ্ঠান, যেমন ২০০৬ সালে দ্য ডেইলি শো উইথ জন স্টুয়ার্ট এবং দ্য ওপরাঙ উইনফ্রে শোতে অংশ গ্রহণ করেছেন।। ২০০৮ সালে কলবার্ট রিপোর্ট, ২০০৯ সালে বিল মাহেরের সাথে রিয়েল টাইম এবং ২০০৯ সালে দ্য সিম্পসনস শোতে অংশগ্রহণ করেছেন বিশ্বব্যাপী গোগোল- ২০ মিলিয়নেরও অধিক লোকে ইউনূসকে অনুসরণ করে

২০০৬ সালের গোড়ার দিকে ইউনূস প্রফেসর রেহমান সোবহান, বিচারপতি হাবিবুর রহমান, ডাঃ কামাল হোসেন, মতিউর রহমান, মাহফুজ আনাম, দেবপ্রিয়া ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য সদস্যদের সাথে জাতীয় নির্বাচনে সৎ স্বচ্ছ প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে অংশগ্রহণ করেছিলেন এর পরের বছর তিনি রাজনীতিতে প্রবেশের বিষয়টি বিবেচনা করছিলেন ২০০৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশি সংবাদপত্র ডেইলি স্টারে একটি খোলা চিঠি লেখে তিনি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সঠিক নেতৃত্ব এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য একটি রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনার বিষয়ে নাগরিকদের মতামত চেয়েছিলেন তাঁর রাজনৈতিক কাজ সম্পর্কে কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে এবং কীভাবে নাগরিকরা এই বিষয়ে অবদান রাখতে পারে, এর সংক্ষিপ্ত রূপরেখা প্রদানের জন্য তিনি প্রত্যেকের কাছে আহ্বান জানিয়ে ছিলেন ইউনূস অবশেষে ২০০৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিঘোষণা করেছিলেন যে তিনি নাগরিক শক্তি নামে একটি রাজনৈতিক দল চালু করতে ইচ্ছুক সেনাবাহিনী ইউনূসের রাজনীতিতে প্রবেশের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে ছিলেন তবে মে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান ফখরুদ্দিনের সাথে বৈঠকের পরে তিনি তাঁর এই রাজনৈতিক পরিকল্পনা ত্যাগ করেছিলেন

২০০৭ সালের জুলাই মাসে নেলশন মেণ্ডেলা, গ্রাচা মাচেল এবং ডেসমণ্ড টুটু দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গে বিশ্বের কিছু কঠিন সমস্যা মোকাবেলার জন্য একদল বিশ্ব নেতাকে তাঁদের জ্ঞান, স্বাধীন নেতৃত্ব, অখণ্ডতা অবদানের জন্য আহ্বান জানিয়ে ছিলেন নেলশন মেণ্ডেলা তাঁর ৮৯ তম জন্মদিনে একটি এল্ডার্স গ্রুপ গঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন ইউনূস সেই দলের সদস্য ছিলেন তবে বয়েসের জন্য ২০০৯ সালে তিনি তাঁর সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন

ইউনূসআফ্রিকা প্রোগ্রেছ প্যানেলের সদস্য এই প্যানেল দশ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা গঠিত, যারা আফ্রিকার নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য উন্নয়নের সর্বোচ্চ স্তরে প্রতিনিধিত্ব করেন প্যানেলটি প্রতি বছর আফ্রিকার প্রগতির প্রতিবেদন প্রকাশ করে ২০০৯ সালের জুলাই মাসে ইউনূস দারিদ্র হ্রাস কাজের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করা আন্তর্জাতিকএসএনভি নেদারল্যাণ্ড উন্নয়ন সংস্থা' উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন ২০১০ সাল থেকে ইউনূস ব্রডব্যাণ্ড কমিশন ফর ডিজিটাল ডেভেলপমেন্টের কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন এই কমিশন সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি বৃদ্ধির জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদান করে ২০১৬ সালে তিনি জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনেরেল বান কি মুন দ্বারা স্বাস্থ্য কর্মসংস্থান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উচ্চস্তরের কমিশনে নিযুক্ত হয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সোইস হল্যাণ্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাকব জুমার এই কমিশনে সহ-সভাপতিত্ব করেছেন ২০১৬-১৭ সালে ইউনূস মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন

ইউনূসকে ২০ টি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫০ টি সন্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী এবং ১০ টি দেশের রাষ্ট্রীয় সন্মানসহ ২৬ টি বিভিন্ন দেশের ১১৩ টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে বাংলাদেশ সরকার তাঁর নোবেল পুরস্কারের জন্য একটি স্মারক স্ট্যাম্প বের করেছে ২০০৮ সালে ১৪ জানুয়ারি হাস্টন, টেক্সাসমহম্মদ ইউনূস ডে' হিসাবে ঘোষণা করেছে ২০০৮ সালে ফরেইন পলিসি ম্যাগাজিনের বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয় ১০০ চিন্তাবিদের তালিকায় ইউনূসকে দ্বিতীয়তম স্থান প্রদান করা হয়েছিল

১৯৬৭ সালে ভ্যাণ্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় আমেরিকার নিউ জার্সির টেনটনে বসবাসরত রাশিয়ান অভিবাসীদের মেয়ে ভ্যাণ্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাশিয়ান সাহিত্যের শিক্ষার্থী ভেরা ফোরস্টেনকোর সাথে ইউনূসের পরিচয় হয়েছিল এবং ১৯৭০ সালে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল ১৯৭৯ সালে চিটাগাঙে তাঁদের মেয়ে মণিকার জন্ম হয় মণিকার জন্মের পরে ভেরা নিউ জার্সিতে ফিরে গিয়ে দাবি করেছিল যেবাংলাদেশ বাচ্চা প্রতিপালনের জন্য উপযুক্ত স্থান নয় তার পরে ভেরা আর ফিরে আসেনি তাই ইউনূস পরে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের গবেষক আফরোজী ইউনূসকে বিয়ে করেন বিয়ের পরে আফরোজী জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসাবে নিযুক্ত হন তাঁদের মেয়ে দীনা আফরোজ ইউনূস ১৯৮৬ সালে জন্ম গ্রহণ করেছে

ইউনূসের ভাই মহম্মদ ইব্রাহীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের প্রাক্তন অধ্যাপক তিনি 'দ্য সেন্টার ফর ম্যাছ এডুকেশন ইন সায়েন্সে' প্রতিষ্ঠাতা এই অনুষ্ঠানটি গ্রামের কৈশোর বয়সী মেয়েদের জন্য বিজ্ঞান শিক্ষার ব্যবস্থা করে ইউনূসের অন্য একজন ভাই মহম্মদ জাহাঙ্গীর বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপস্থাপক একজন সমাজ কর্মী ছিলেন তিনি ২০১৯ সালে মৃত্যু বরণ করেছেন

 

 

ফেরিট ওরহান পামুক

ওরহান পামুকের জন্ম ১৯৫২ সালের জুন তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পামুকের পিতামহ, বাবা এবং চাচা পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন তাঁর পিতামহই পরিবারের ভাগ্য নির্ধারণ করেছিলেন পামুক ইস্তাম্বুলের রবার্ট কলেজ(আমেরিকান স্কুল ইন ইস্তাম্বুল)থেকে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হয়ে একজন পেশাদারী পেইন্টার হওয়ার উদ্দেশ্যে ইস্তাম্বুলের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে আর্কিটেকসার বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন তবে তিন বছর পরে তিনি অধ্যয়ন ছেড়ে দিয়ে একজন ফুল টাইম লেখক হওয়ার উদ্দেশ্যে ইস্তাম্বুল ইউনিভার্সিটিতে জার্নালিজম বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৭৬ সালে জার্নালিজমে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন ২২ থেকে ৩০ বছর বয়েস পর্যন্ত পামুক তাঁর মায়ের সাথে থাকতেন এই সময়ে তিনি তাঁর প্রথম উপন্যাস লেখেছিলেন এবং একজন প্রকাশকের সন্ধান করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি ঈশ্বরের সাথে ব্যক্তিগত সংযোগে বিশ্বাস না করে, নিজেকে একজন ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক মুসলিম হিসাবে পরিচয় দিতেন পামুক ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল অবধি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন এবং কলম্বিয়া এবং আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগে রবার্টইয়িক- ফং টামপ্রফেসর ছিলেন তিনি সেখানে লেখালেখি তুলনামূলক সাহিত্য শেখাতেন তিনি ২০১৪ সালেআমেরিকান ফিলোসফিক্যাল সোসাইটি' সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন

পামুক ১৯৭৪ সালে নিয়মিতভাবে লেখা শুরু করেন তাঁর প্রথম উপন্যাসটি ছিলকরণালক ওয়ে আইক’ (ডার্কনেস এণ্ড লাইট) ১৯৭৯ সালের মিলিয়াত প্রেস উপন্যাস প্রতিযোগিতায় সহ-বিজয়ী হয়েছিলেন মহমেট ইরোলু ছিলেন অন্যজন বিজয়ী এই উপন্যাসটি ১৯৮২ সালেসিভডিউ বেয়ে ওউল্লারি' (মিঃ শেভেদেট অ্যাণ্ড হিজ সন্স) নাম দিয়ে প্রকাশ করা হয় এই উপন্যাসটিতে পামুক ইস্তাম্বুল জেলার নিসানটাসিতে বসবাসকারী এক ধনী ইস্তাম্বুল পরিবারের তিন প্রজন্মের কাহিনী বর্ণনা করেছিলেন ১৯৮৩ সালে উপন্যাসটির জন্যওড়ান কামাল উপন্যাস' পুরস্কার জিতেছিলেন ১৯৮৩ সালে তিনিসেসিজ ইভ (সাইলেন্ট হাউজ) রচনা করেছিলেন ১৯৮০ সালে তুর্কি সামরিক অভ্যুত্থানের প্রাকমুহূর্তের ঘটনাক্রম নিয়ে তিনজন বর্ণনাকারীর বর্ণনা সন্নিবিষ্ট করেছিলেন উপন্যাসটিতে ১৯৮৫ সালে রচিতদ্য হোয়াইট ক্যাসলে' জরিয়তে তিনি আন্তর্জাতিক খাতি অর্জন করেছিলেন ১৯৯৩ সালে ওরহান পামুক সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন তাঁর উপন্যাসমাই নেম ইজ রেডএর জন্য ২০০২ সালেপ্রিক্স ডু মেলিউর লিভ্রে আটরঙ্গার’, ‘প্রিমিও গ্রিনজেন ক্যাভরএবং ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক ডাবলিন পুরস্কার জিতেছিলেন

পামুক তাঁর প্রথম রচনার জন্য বেশ কয়েকটি সমালোচনামূলক পুরস্কার অর্জন করেছিলেন ১৯৮৪ সালে তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাসসিসিজ ইভ' (সাইলেণ্ট হাউজ)এর জন্য মাদারলি পুরস্কার' এবং ১৯৯১ সালে এই উপন্যাসটি ফরাসিতে অনুবাদের পরেপ্রিক্স ডে লা ডেকুভার্ট ইউরোপেন্ন' পুরস্কার অর্জন করেছিলেন ১৯৮৫ সালে তুর্কি ভাষায় প্রকাশিত তাঁর ঐতিহাসিক উপন্যাস বেয়াজ কালে (দ্য হোয়াইট ক্যাসেল)এর জন্য বিদেশী কথা সাহিত্যের স্বতন্ত্র পুরস্কার লাভ করেন এবং বিদেশে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে ১৯৯১ সালের ১৯ মেদ্য নিউইয়র্ক টাইমস বুক রিভিউতে বলা হয়েছিল-‘পূর্ব দিকে একটি নতুন তারকা উদয় হয়েছে- ওরহান পামুক' তিনি তাঁর উপন্যাসগুলিতে উত্তর আধুনিক কৌশল নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন, যা তাঁর প্রাথমিক রচনার কঠোর প্রকৃতিবাদ থেকে পরিবর্তিত হয়েছিল

পামুকের কাছে জনপ্রিয় সাফল্য আসতে আরও খানিকটা সময় লেগেছিল, তবে ১৯৯০ সালে তুর্কি ভাষায় রচিত উপন্যাসকারা কিতাপ’ (দ্য ব্ল্যাক বুক)এর জটিলতা ঐশ্বর্যের জন্য বইটি তুর্কি সাহিত্যের অন্যতম বিতর্কিত এবং জনপ্রিয় বই হয়ে উঠেছিল ১৯৯০ সালে প্রকাশিত ইস্তাম্বুলের ঘন চিত্র, ইয়েনি হায়াট (দ্য নিউ লাইফ) এবং ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত বেনিম আদম কার্মিজ' (মাই নেম ইজ রেড) ব্যাপকভাবে অনুবাদ হয়েছিল রেড হেয়ার্ড ওম্যান, দ্য হোয়াইট ক্যাসল, দ্য মিউজিয়াম অফ ইনোসেন্ট, সাইলেন্ট হাউস, স্নো, ষ্ট্ৰেজনেছ ইন মাই মাইণ্ড প্রভৃতি তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাসপামুকের অনেক উপন্যাস আত্মজীবনীমূলক জটিলভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে তাঁর উপন্যাসে প্রাশ্চাত্য এবং প্রাচ্যর মূল্যবোধের দ্বন্দ্ব প্রতিফলিত হয়েছেমাই নেম ইজ রেড' উপন্যাস ২৪ টি ভাষায় অনুবাদ হয়েছে বইটির জন্য ২০০২ সালে প্রিক্স ডু মেলিউর লিভরে এন্ট্রানজ্ঞার, প্রিমিও গ্রিনজানে কেভ' এবং ২০০৩ সালে বিশ্বের অন্যতম লাভজনক আন্তর্জাতিক ডাবলিন সাহিত্য পুরস্কার জিতেছেন পুরস্কারের বর্তমান মূল্য ১২৭,০০ ডলার

১৯৯২ সালে তিনি কারা কিতাপের ওপড় ভিত্তি করেগিজলি ফেস' চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লেখেছিলেন চিত্রনাট্যটি তুর্কি পরিচালক ইমর কাভুর পরিচালনা করেছিলেন পামুকের পঞ্চম উপন্যাসইয়েনি হায়াট’ (নতুন জীবন) ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হওয়ার পরে তুরস্কে এক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল এবং তুর্কি ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত বিক্রিত বইয়ের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছিল এই সময়ের মধ্যে পামুক কুর্দি রাজনৈতিক অধিকারের পক্ষ সমর্থন করার জন্য তুরস্কের একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন ১৯৯৫ সালে পামুক কুর্দিদের সাথে তুরস্কের আচরণের সমালোচনা করে প্রবন্ধ লেখা শুরু করেছিলেন প্রবন্ধগুলি ১৯৯৯ সালেওটেকি রেঙ্কার' (অন্যান্য রং) শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর বই ৬৩ টি ভাষায় ১৩ মিলিয়নরেও বেশি বিক্রী হয়েছে তাঁর সময়ে তাঁর বই তুরস্কের সবচেয়ে বেশি বিক্রীত বইয়ের তালিকায় ছিল

পামুক ২০০৩ সালেহাতিরালার ভে সাহিরশিরোনামে স্মৃতিকথা তথা ভ্রমণমূলক বই প্রকাশ করেছিলেনইস্তাম্বুল- মেমোরিজ অ্যাণ্ড দ্য সিটি' শিরোনামে বইটি ২০০৫ সালে ইংরাজিতে প্রকাশিত হয়েছিল বইটি সম্পর্কে পামুক বলেছেন, আমি ভেবেছিলাম বইটি ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ করব, তবে বইটি সম্পূর্ণ হতে এক বছর সময় লেগেছে আমি তখন বার ঘণ্টা কাজ করেছিলাম তখন অনেক কিছুর কারণে আমার জীবন সংকটে পড়েছিল পিতার মৃত্যু, বিবাহবিচ্ছেদ পেশাদার সমস্যা সবকিছুই খারাপ ছিল আমি তখন ভেবেছিলাম, আমি যদি দুর্বল হই, তবে হতাশার সৃষ্টি হবে তখন আমি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠতাম, শীতল জলের সাওয়ারে স্নান করতাম এবং লিখতে বসতাম ভাবতাম লেখতাম সর্বদা বইয়ের সৌন্দর্যে মনোযোগ দিতাম আমি আমার মাকে পরিবারকে আঘাত করতে পারি আমার বাবা তখন মৃত, তবে আমার মা জীবিত ছিলেন কিন্তু আমি তাঁর যত্ন নিতে পারতামনা সর্বদা বইয়ের সৌন্দর্যের প্রতি যত্নশীল ছিলাম

২০০৫ সালে অটোমান সাম্রাজ্যে আর্মেনীয় এবং কুর্দি গণহত্যা সম্পর্কিত তাঁর বক্তব্য নিয়ে পামুকের বিরুদ্ধে আইনজীবী কামাল কেরিনেসিজ চূড়ান্ত জাতীয়তাবাদী মামলা দায়ের করেছিলেন পামুকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফলে আন্তর্জাতিক হৈ চৈ পড়ে গিয়েছিল তখন পামুক বলেছিলেন যে তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল তাঁর নিজের জন্মভূমিতে বাক্স্বাধীনতা সম্পর্কিত বিষয়গুলি তুলে ধরা ৩০ নভেম্বর ইউরোপীয় সংসদ ঘোষণা করেছিল যে এই বিচারটি পর্যবেক্ষণের জন্য ইউলিংসের নেতৃত্বে পাঁচজন সংসদের একটি প্রতিনিধি দল পাঠাবে ১৩ ডিসেম্বর আটজন বিশ্ববিখ্যাত লেখক- জোসে সরামাগো, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ, গেণ্টার গ্রাস, উবার্তো ইকো, কার্লোস ফুয়েন্তেস, জুয়ান গয়েটিসোলা, জন আপডিকে এবং মারিও ভর্গস ললোসা একটি যৌথ বিবৃতি জারি করে পামুককে সমর্থন করেছিলেন ফলে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অভিযোগগুলি ২০০৬-এর ২২ জানুয়ারী বাতিল করা হয়েছিল পরে আইনজীবী কামাল কেরিনেসিজ সুপ্রিমকোর্টে আপিলের আবেদন করেছিলেন বাদীর সন্মান অবমাননা করার জন্য সুপ্রিমকোর্ট পামুককে ২০১১ সালে ,০০০ লিরা ক্ষতি পূরণ দেওয়ার আদেশ দিয়েছিল তিনি সলমন রুশদির ফতোয়ার বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের লেখকদের মধ্যে প্রথম সোচ্চার হয়েছিলেন

২০০৬ সালের ১২ অক্টোবর সুইডিশ অ্যাকাডেমি সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ডিসেম্বর পামুক স্টকহোমের সুইডিশ অ্যাকাডেমিতে নোবেল বক্তৃতা প্রদান করেছিলেন বক্তৃতাটি বাবামিন বাভুলু(মাই ফাদার সুইটকেস) শিরোনামে পরিচিত বক্তৃতাটিতে তাঁর বাবার সাথে তাঁর সম্পর্ককে রূপক হিসাবে নিয়ে প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বন্দ্ব প্রকাশ করেছিল

২০০৮ সালের জানুয়ারিতে পামুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা কামাল কেরিনেসিজসহ ১৩ জন আলট্রাণালাইস্টকে তুরস্কের আণ্ডারগ্রাউণ্ড সংস্থায় অংশগ্রহণ করার জন্য তুরস্ক সরকার গ্রেপ্তার করেছিল তাঁরা বেশ কয়েকজন খ্রীষ্টান মিশনারী এবং আর্মেনিয়ান বুদ্ধিজীবী হ্রাণ্ট ডিংকসহ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে তাঁরা পামুককেও হত্যার পরিকল্পনা করেছিল

একদল লেখক দাবি করেছিলেন যে, পামুকের রচনা অন্যান্য লেখকের দ্বারা প্রচুরভাবে প্রভাবিত হয়েছে এবং কিছু অংশ অন্যান্য বই থেকে প্রায় সম্পূর্ণ উদ্ধৃত হয়েছে তখন পামুক বলেছিলেন যে তাঁর রচনাগুলি বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের লেখা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে জাতীয়তাবাদী জনপ্রিয় ইতিহাসবিদ মুরাত বারদাকা নামে একজন লেখক তুর্কি সংবাদপত্রে তাঁর বিরুদ্ধে নকল চুরির অভিযোগ করেছিলেন আরেকটি অভিযোগ হলো, পামুকের উপন্যাস 'দ্য হোয়াইট ক্যাসলে' ফুয়াদ কারিমেরকানুনি দেবরিন্দ ইস্তাম্বুল (দ্য টাইম ইন দ্য কানুনির ইস্তাম্বুল)এর সঠিক অনুচ্ছেদ রয়েছে ২০০৯ সালে বোস্টন ফেস্টিভেলে এই অভিযোগ করা হয়েছিল তখন পামুক বলেছিলেন যে না, আমি করিনি

১৯৮২ সালের মার্চে পামুক ইতিহাসবিদ আইলিন টুরেগানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ২০০১ সালে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে তাঁদের রুয়া নামের একটি মেয়ে সন্তান আছে রুয়ার জন্ম ১৯৯১ সালে

২০০১ সালে টাইমস পত্রিকা পামুককেটাইম ১০০ঃ দ্য পিপল হু শেপ আওয়ার ওয়ার্ল্ড'-এর কভার নিবন্ধেহিরোস পাইওনিয়ার্স' বিভাগে কথা বলার জন্য তালিকাভূক্ত করেছিল ২০০৭ সালের মে মাসে পামুক ব্রিটিশ পরিচালক স্টিফেন ফোয়র্সের নেতৃত্বে পরিচালিত কান ফিল্ম ফেস্টিভেলের জুরির সদস্য ছিলেন দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসস্নোবইটিকে ২০০৪ সালের দশটি বই-এর মধ্যে একটি ভালো বই হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছিল ২০০৬ সালের ১৯-২০ ডিসেম্বর - ইস্তাম্বুলের সাবাসি ইউনিভার্সিতে ওরহান পামুক এবং তাঁর কাজের বিষয়ে একটি দার্শনিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে পামুক নিজেই সমাপনী বক্তব্য রেখেছিলেন

পামুক তাঁর প্রায় প্রতিটি উপন্যাস এবং স্ক্রিন প্লে লেখার জন্য নিজের দেশ বিদেশ থেকে অনেক পুরস্কার জিতেছেন দেশ-বিদেশের তেরটিরও অধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সন্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী এবং অনেক অনুষ্ঠান পামুককে সন্মানসূচক সদস্য পদ প্রদান করেছে

 

 

     নোবেল বিজয়ী তাওয়াক্কুল কারমান

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী তাওয়াক্কুল কারমান-এর জন্ম ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারী ইয়েমেনের তায়েজ শহরের কাছে সারাব আস সালামে তিনি ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তায়েজ- বড় হয়েছেন ছোটবেলা তায়েজে পড়াশেনা করেছেন তিনি আইনজীবী রাজনীতিবিদ আবদেল সালাম কারমানের কন্যা আবদেল সালাম এক সময় আলী আবদুল্লাহ সালেহের মন্ত্রীসভার আইন মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং বিশেষ কারণবশতঃ পদত্যাগ করেছিলেন তাওয়াক্কুল কারমান কবি তারিক কারমান এবং সাফা কারমানের বোন সাফা কারমান একজন আইনজীবী এবং হাভার্ড স্কুল থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করা প্রথম ইয়েমেনী নাগরিক তিনি একজন সাংবাদিক এবং আল-জাজিরার হয়ে সাংবাদিকতা করেছেন

তাওয়াক্কুল কারমান সানার বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিষয়ে ১৯৯৯ সালে স্নাতক এবং সানা' বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেছেন ২০১২ সালে তিনি কানাডার আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে সন্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী পেয়েছেন তিনি মহম্মদ আল নাহিমের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং এখন তিনি তিন সন্তানের জননী

তাওয়াক্কুল কারমান ২০০৫ সালে আল থাওরাহ পত্রিকার সাথে জড়িত ছিলেন তিনি ইয়েমেন সাংবাদিক সিণ্ডিকেটের সদস্যও ছিলেন ২০০৫ সালের মার্চ মাসে তিনি অন্য সাতজন মহিলা সাংবাদিকের সাথে মিলে উইম্যান জার্নালিস্ট উইথআউট চেইন' (ডব্লিউজেডব্লিউসি)নামে হিউম্যান রাইটস গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এই সংগঠনের লক্ষ্য ছিল, স্বাধীন মত মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ অর্জন করা প্রথমে যদিও সংগঠনের নামউইম্যান জার্নালিস্ট উইথআউট চেইন' রাখা হয়েছিল সরকারী লাইসেন্স অর্জনের জন্য সংগঠনের নাম পরিবর্তন করেবর্ডারবিহীন মহিলা রিপোটার্স রাখা হয়েছিল ২০০৫ সালে তিনি মোবাইল সংবাদ সেবা প্রবর্তন করেছিলেন, কিন্তু ২০০৭ সালে সরকার সেটা বাতিল করে দেয় ডব্লিউজেডব্লিউসির তরফ থেকে একটি সংবাদ পত্র এবং রেডিও স্টেশন প্রতিষ্ঠার জন্য অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু সরকার সেই আবেদন অগ্রাহ্য করেছিল কারমান সরকারের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকার করে সরকারের বিরুদ্ধে ২০০৭ সাল থেকে বিক্ষোভ আরম্ভ করে এর জন্য কারমান সরকারের তরফ থেকে হুমকি এবং প্রলোভন পেয়েছেন এবং টেলিফোন চিঠির মাধ্যমে ইয়েমেন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে হয়রানির শিকার হয়েছেন এই দলটি এসএমএস সংবাদ পরিষেবার স্বাধীনতার পক্ষে ছিল, যেগুলি ১৯৯০ সালের প্রেস আইনের আওতায় ছিলনা তবুও ইয়েমেন সরকার সেগুলি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছিল ডব্লিউজেডব্লিউসি লাইসেন্সবিহীনভাবে একটি পাঠ্য পরিষেবা এক বছর যাবত চালিয়ে যাচ্ছিল এবং সরকার সেটা বন্ধ করে দিয়েছিল ২০০৫ সাল থেকে ইয়েমেনের প্রেসের স্বাধীনতার অপব্যবহার করা হয়েছে বলে ২০০৭ সালে ডব্লিউজেডব্লিউসি একটি সমালোচনা প্রকাশ করেছিল সরকার সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে নিয়েছে বলে ২০০৯ সালে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করেছিলেন ২০০৭ সাল থেকে কারমান সানা' তাহরির স্কোয়ারে নিয়মিতভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন এবং বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছেন

তাওয়াক্কুল কারমান তাঁদের দেশে প্রেসের স্বাধীনতার সমান্তরালভাবে অন্যান্য বিষয় নিয়েও বিরোধ করেছেন মুখ দেখা যায় এমন বর্ণিল হিজাবের পক্ষ সমর্থন করে তিনি ঐতিহ্যবাহী হিজাব পরা বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি একটি সন্মেলনে নিকাব ছাড়াই অংশ গ্রহণ করেছিলেন তিনি ২০১০ সালে ইয়েমেন টাইমসকে বলে ছিলেন যে সম্পূর্ণ আচ্ছাদন এক সংস্কৃতি এবং এটা ইসলাম কর্তৃক নির্ধারিত নয়

কারমান বলেছিলেন যে মহিলারা সমস্যার অংশ, এরূপ ভাবনা ত্যাগ করে সমস্যা সমাধানের অংশ হওয়া উচিত আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক হয়ে পড়েছি এখন সময় এসেছে, নারীরা তাদের গ্রহণযোগ্যতার কথা নাভেবে কারও অনুমতি ব্যতিরেকেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে এবং সক্রিয় হয়ে উঠতে হবে এটিই একমাত্র উপায় যা আমরা সমাজকে ফিরিয়ে দেব এবং ইয়েমেনের যে দুর্দান্ত সম্ভাবনা রয়েছে আমরা তাকে সেখানে পৌঁছে দেব

তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, অনেক ইয়েমেনি মেয়েরা অপুষ্টিতে ভুগছে এবং নিরক্ষতার হার বাড়ছে দুই তৃতীয়াংশ মেয়েরা লেখাপড়া করতে পারেনা ১৭ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে আইন করে বন্ধ করে দেওয়া উচিত মানবাধিকার গবেষণা প্রতিনিধিত্ব করা গোষ্ঠী হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে ইয়েমেনের বিপ্লব শুধু রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য ঘটেনি, বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য ঘটেছে তিনি বলেছিলেন যে তাঁর দলটি মহিলাদের পক্ষে সর্বাধিক উন্মুক্ত

তিনি সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন ইলব শহরের আশেপাশের পরিবারগুলির জমি একজন স্থানীয় দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা কর্তৃক দখল করার পরে রাষ্ট্রপতি সালেহকে ক্ষমতাচ্যুত করার পক্ষে তাঁর অবস্থান আরও দৃঢ় হয় তিনি সর্বদা বিদেশী প্রভাব থেকে মুক্ত ছিলেন আমেরিকার রাষ্ট্রদূত, পররাষ্ট্র দপ্তরের আধিকারিক, মানবাধিকার সুরক্ষার সাথে জড়িত আমেরিকান সংস্থা এবং আরব দেশগুলির সাথে তাঁর কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে, তবে তিনি তাঁদের অধীন নয় তিনি বলেন, ‘পৃথিবী আমার দেশ, এবং মানবতা আমার জাতি

কারমান ২০১২-১৩ সালের মিশরীয় বিক্ষোভ এবং ২০১৩ সালের মিশরীয় অভ্যূত্থানের সমর্থক ছিলেন তিনি ৩০সে জুন মিশরীয় রাষ্ট্রপতি মহম্মদ মুরশির পদত্যাগের দাবিতে সংঘটিত বিক্ষোভের সমর্থক ছিলেন, তবে সামরিক বাহিনীর দ্বারা মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত এবং সংবিধান স্থগিতকরণ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন মুরসি মিশরের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন এবং ৬০ শতাংশ জনগণ সংবিধানকে সমর্থন করেছিল সামরিক অভ্যুত্থান জনগণের মনে গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা হ্রাস করতে পারে এবং উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি এই অভ্যূত্থানের বিরুদ্ধে সংঘটিত বিক্ষোভে অংশগ্রহণের জন্য মিশরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন, তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে মিশরীয় বাহিনী তাঁকে মিশরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল তিনি মুরসির সমর্থকদের দখলকৃত অঞ্চলগুলিতে মুসলিম ব্রাদারহুডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার এবং বিক্ষোভকারীদের ওপড় সেনাবহিনীর সহিংসতার নিন্দা করেছিলেন

কারমান নিয়মিতভাবে ইয়েমেনের হাউদি বিদ্রোহ এবং আরব উপদ্বীপে আল কায়দার উপস্থিতির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং উভয় সংগঠনকে ইয়েমেনের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেছেন আরবীয়ান পেনিনসুলা দেশগুলিকে অস্থির এবং ইয়েমেন সরকারকে উৎখাত করার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে বলে তিনি উভয় দলের নিন্দা করেছেন হাউথি বিদ্রোহীরা ইরান সরকারের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়ারও তিনি নিন্দা করেছেন ইয়েমেনী সরকার হাউথি বিদ্রোহীদেরকে সরকারী সেনাবহিনীতে অন্তর্ভূক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, হাউথিরা যদি অস্ত্র সমর্পণ না করে তাহলে তাদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভূক্ত করা ঠিক হবেনা ২০১৫ সালের জানুয়ারীতে ইয়েমেনী অভ্যূত্থানের প্রতিক্রিয়া হিসাবে তিনি ২০১১ সালের বিপ্লবকে পূর্বাবস্থায় ফেলার জন্য প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি সালেহ এবং হাউথি বিদ্রোহীদের সহযোগিতাকে দায়ী করেছেন

ইয়েমেনে মার্কিন ড্রোন নীতির ব্যবহার অগ্রহণযোগ্য বলে তিনি সমালোচনা করেছেন এবং যুক্তি প্রদর্শন করেছেন যে জনবহুল অঞ্চলে এগুলোর ব্যবহার মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনকে লংঘন করে ২০১৩ সালের আগষ্টে ড্রোন হামলা বৃদ্ধির পরে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে বোমা হামলা ইয়েমেনের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করছে এবং দেশটিতে আল কায়দার নিয়োগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে

কারমান ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হস্তক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, দুর্ভাগ্যক্রমে, এই জোট পরিণতির কথা উপেক্ষা করে বোমা এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে যুদ্ধ করছে তিনি জোটের বিমান হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন

২০১১ সালের ইয়েমেনীয় বিক্ষোভ চলাকালীন তাওয়াক্কুল কারমান সালেহ সরকারের দীর্ঘকালীন একনায়কত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সানায় ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন ২২ জনুয়ারী তিনি তাঁর স্বামীর সাথে গাড়ী চােিলয় যাওয়ার সময় পুলিশ, পরিচয় ছাড়াই তাঁর গাড়ী থামিয়ে কারাগারে নিয়ে যায় তখন দেশের বেশিরভাগ প্রদেশে ছাত্র, সমাজকর্মী এবং রাজনীতিবিদেরা তাঁর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অবশেষে ৩৬ ঘণ্টা আবদ্ধ করে রেখে ২৪ জানুয়ারী তাঁকে জামিনে মুক্তি দেয় আটকাধীন অবস্থায় তাঁকে শিকল দিয়ে বেধে রাখা হয়েছিল

২৯ জানুয়ারী তিনি আরেকটি প্রতিবাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যেখানে ফেব্রুয়ারিডে অফ রেঞ্জ' দিবস পালনের আহ্বান জানিয়েছিলেন বিক্ষোভ চলাকালীন মার্চে তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এই বিদ্রোহের কথা বলতে গিয়ে কারমান বলেছিলেন, আলী আবদুল্লাহ সালেহের পতনের আগমুহূর্ত পর্যন্ত আমরা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখব কারমান বলেছেন, একনায়কত্ববাদ, দুর্নীতি, দারিদ্র এবং বেকারত্বের সংমিশ্রণে এই বিপ্লব সৃষ্টি হয়েছে এটি আগ্নেয়গিরির মতো একটি ভালো জীবনের সুযোগ শেষ হওয়ার সাথে সাথে অন্যায় এবং দুর্নীতি বিস্ফোরিত হচ্ছে

সরকার বাহিনী কর্তৃক বিক্ষোভকারীদের হত্যার প্রতিক্রিয়া হিসাবে মে মাসে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রতিবাদ সাব্যস্ত করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল তখন অন্যান্য সংগঠকদের সাথে কারমানের কিছুটা দ্বন্দ্ব হয়েছিল ১৮ জুন তিনি নিউইয়র্ক টাইমসেইয়েমেনের অসমাপ্ত বিপ্লব' শিরোনামে একটি নিবন্ধ লেখেছিলেন সেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত সালেহ সরকারকে সমর্থন করার জন্য তিনি আমেরিকা এবং সৌদি আরবকে অভিযুক্ত করেছিলেন পরিবর্তনের সমর্থক প্রতিবাদকারীর মধ্যে ৩০ শতাংশ মহিলা প্রতিবাদকারী ছিল ১৬ অক্টোবরে সরকারী স্নাইপাররা তাইজ-আজিজা ওথম্যান কালিবনামের একজন মহিলাকে গুলি করে হত্যা করেছিল তিনি সরকারী বাহিনীর হাতে নিহত প্রথম মহিলা প্রতিবাদকারী ছিল দশদিন পরে মহিলারা সানার ম্যাকরামা পুড়িয়ে দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হিংসাত্মক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সাব্যস্ত করেছিল কারমান তখন ওয়াশিংটন ডিসিতে ছিল তিনি তখন বলেছিলেন, মহিলারা ম্যাকরামা জ্বালিয়ে সালেহ সরকার তাদের উপড় যে অন্যায় চাপিয়েছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে এটি ইয়েমেনী মহিলাদের জন্য একটি নতুন মঞ্চ৷ তারা আর ওড়না, দেয়াল বা অন্য কিছুর আড়ালে থাকতে চাইছেনা

বিক্ষোভের কাছে নতি স্বীকার করে রাষ্ট্রপতি আলি আবদুল্লাহ সালেহ ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর আরবের রিয়াদে উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিলের পরিকল্পনায় স্বাক্ষর করেন চুক্তির ছয়দিন পরে আলি আবদুল্লাহ সালেহ আমেরিকা যান এবং চুক্তির শর্তাবলী অনুসারে ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি সহ-রাষ্ট্রপতি আব্দুল আল রব মনসুর আল-হাদীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন

নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার পরে, রাষ্ট্রপতি সালেহকে ক্ষমত্যচ্যুত করতে এবং তাঁকে আন্তর্জাতিক আদালতে হাজির করার জন্য বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করার জন্য তাওয়াক্কুল কারমান বিশ্ব মতামত এবং জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্যদের সমর্থন আদায়ের কাজে জড়িত হয়ে পড়েছিলেন

তিনি জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তদবির করেছিলেন যে কোনও চুক্তি যাতে সালেহকে ক্ষমা না করে তাঁকে জাবাবদিহি করুন তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করুন জাতিসংঘ সুরক্ষা কাউন্সিল ২০১৪ সালের ২১শে অক্টোবর প্রতিবাদকারীর বিরুদ্ধে মারাত্মক শক্তি ব্যবহার করার জন্যে ১৫- ভোটের ব্যবধানে তীব্র নিন্দা জানিয়ে রেজুলেশন পাশ করেছিল তবে উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল সালেহ পদত্যাগ করা উচিত বলে প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল কিন্তু কারমান এই সিদ্ধান্তের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে সালেহকে দাঁড় করানোর পক্ষে ছিলেন

২০১৪ সালের ২৮ অক্টোবর- কারমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনের সাথে জাতিসংঘের প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তখন হিলারি ক্লিন্টন বলেছিলেন, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে গণতান্ত্রিক উত্তরণ, মানুষের অধিকার এবং তাঁদের নিজস্ব নেতা ভবিষ্যত নির্ধারণ করাটাকে সমর্থন করে কারমান ইয়েমেনী প্রেসের মাধ্যমে এই মন্তব্যের জবাবে বলেছিলেন, ইয়েমেনে লোকদের স্কোয়ারে নয় মাস কেটে গেছে ওবামা ইয়েমেনী জনগণের আত্মত্যাগের যে মূল্য দেওয়ার কথা বলে গেছেন এখন পর্যন্ত আমরা সেই কথার প্রতিফলন দেখিনি, বরং আমেরিকান প্রশাসন সালেহর পক্ষে কথা বলছে

কারমান, এলেন জনসন সেরলিফ এবং লেমাহ গবোইর সাথে যুক্তভাবে ২০১১ সালের শান্তির নোবেল পুরস্কারের সহ-প্রাপক ছিলেননারীর সুরক্ষা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে নারীর অধিকারের জন্য অহিংস সংগ্রাম' অব্যাহত রাখার জন্য তিনারা এই শান্তির নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন কারমান আরব বিশ্বের তৎকালীন দ্বিতীয় এবং সর্বকনিষ্ঠ নোবেল পুরস্কার অর্জনকারী মহিলা ছিলেন নোবেল পুরস্কার অর্জনের সময় কারমানের বয়েস ছিল মাত্র ৩২ বছর অবশ্যে ২০১৪ সালে মালালা ইউসুফজাই ১৭ বছর বয়েসে নোবেল পুরস্কার বিজয়ের পরে তাঁর সর্বকনিষ্ঠ নোবেল প্রাপকের রেকর্ডটি ভংগ হয় ১৯০৫ সালে বার্থ ভন সত্তনার এবং ১৯৪৬ সালে এমিলি গ্রিন বাচের পরে কারমান তৃতীয় নোবেল বিজয়ী মহিলা সাংবাদিক ছিলেন ২০১১ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার আগে ১১০ বছরে মাত্র ১২ জন মহিলা এই সন্মানের অধিকারী হয়েছিলেন

পুরস্কার প্রদানের পরে নোবেল কমিটি কারমানের বিষয়ে বলেছিলেন, আরব বসন্তে(আরব বসন্ত হলো ২০১০ সালের আগে সংঘটিত আরব বিশ্ব সরকার বিরোধী বিক্ষোভ) আগে এবং আরব বসন্তের সময়ে সর্বাধিক খারাব পরিস্থিতিতে তাওয়াক্কুল কারমান নারীর অধিকার এবং ইয়েমেনে গণতন্ত্র শান্তি প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন জাতিসংঘ সুরক্ষা কাউন্সিল ২০০০ সালে গৃহীত ১৩২৫ নম্বর রেজুলেশনে বলেছিলেন, ‘যুদ্ধ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে নারী শিশুরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে মহিলাদের অবশ্যেই বৃহত্তর প্রভাব ভূমিকা রাখতে হবে' নোবেল কমিটি জাতিসংঘের এই প্রস্তাবটির উদ্ধৃতিও দিয়েছিলেন পুরস্কার ঘোষণার পরে কমিটির চেয়ারম্যান থরবজন জাগল্যাণ্ড বলেছিলেন, ‘নারীরা সমাজের সর্বস্তরে পুরুষদের মতো একই সুযোগ না পেলে আমরা বিশ্বে গণতন্ত্র স্থায়ী শান্তি অর্জন করতে পারবনা' তিনি আরও বলেছিলেন, সারা বিশ্বের মহিলাদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আশাব্যঞ্জক সংকেত

পুরস্কার ঘোষণার সময় কারমান সানায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন পুরস্কার ঘোষণার পরে তিনি বলেছিলেন, আমি এটি আশা করিনি এটি আমার জন্য খুবই আশ্চর্যের বিষয় এটি বিশ্বব্যাপী আরবদের জয় এবং এই বিজয় আরব মহিলাদের জন্য এই পুরস্কার আমাদের শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের বিজয় আমি খুব খুশি আমি এই পুরস্কার যুব সমাজ এবং আরব বিশ্বের মিশর, তিওনিসিয়ার নারীদের জন্য উপহার দিচ্ছি আমরা শান্তি অবিহনে আমাদের এবং বিশ্বের কোনো দেশ গড়ে তুলতে পারিনা তিনি আরও যোগ করেছিলেন যে, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং সকল যুব সমাজ মহিলাদের নাগরিকত্ব এবং মানবাধিকারের দাবিতে এটি একটি বিজয় ইয়েমেনের গণতান্ত্রিক লড়াই অব্যাহত থাকবে তিনি তিনার পুরস্কার আরব বসন্তের সমস্ত শহীদ আহতদের জন্য, তিউনিসিয়া, ইজিপ্ত, ইয়েমেন, লিবিয়া এবং সিরিয়ার স্বাধীনতা অধিকারের জন্য সংগ্রামরত মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন তিনি বলেছিলেন, আমি এই পুরস্কারটিকে সমস্ত ইয়েমেনীদের জন্য উৎসর্গ করছি, যারা স্লিপারদের মুখোমুখি হয়েও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে এটি সমস্ত ইয়েমেনী মহিলা এবং তিউনিসিয়া, মিশর এবং সমগ্র আরব বিশ্বের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীর জন্য মহিলাদের ইস্যুগুলি একমাত্র অবাধ গণতান্ত্রিক সমাজেই সমাধান সম্ভব, যেখানে মানব শক্তি, নারী পুরুষ উভয়েরই শক্তি মুক্ত হয় আমাদের সভ্যতাটিকে মানব সভ্যতা বলা হয়, এটি কেবল পুরুষ বা নারীর দ্বারা সম্ভব নয়

তিনি নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়নের বিষয়ে জানতেন না টেলিভিশনের মাধ্যমে তিনি পুরস্কারের বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন

পুরস্কার ঘোষণার পরে কারমান কাতারে গিয়েছিলেন সেখানে তিনি শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং দোহায় একটি টেলিভিশন এবং রেডিও স্টেশন প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন করেছিলেন মহিলা সাংবাদিকদের সহায়তা প্রশিক্ষণের জন্যও আবেদন করেছিলেন

২০১১ সালের ২৫ অক্টোবর ইণ্টারনেশন্যাল ফেডারেশন অফ হিউম্যান রাইটস,(এফআইডিএইচ), অবর্জাভেটরি ফর দ্যা প্রটেকশন অফ হিউম্যান রাইটস (ওবিএস), এবং ওয়ার্ল্ড অর্গেনাইজেশন এগেইনষ্ট টরশারের ওয়াশিংটন ডিচিতে ১৪ সংখ্যক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে কারমান একটি ভিডিও বার্তা প্রেরণ করেছিলেন ওয়ার্ল্ড অর্গেনাইজেশন এগেইনষ্ট টরশারের প্রতিবেদনে আরব বসন্ত, ইয়েমেন এবং কারমান সম্পর্কিত তথ্য অন্তর্ভূক্ত ছিল

কারমান বিশ্বব্যাপী কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নারী, মানবাধিকার এবং আরব বিপ্লব সম্পর্কিত বক্তৃতা প্রদান করেছেন

কারমান এমবিআই আল জাবের ফাউণ্ডেশনের সাথে সন্মিলিতভাবে ইয়েমেনের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ইস্তাম্বুল আইডান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার করার সুযোগ প্রদান করেন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নিখরচায় প্রশিক্ষণ প্রদান করে এমন একটি অনুষ্ঠান ইয়েমেনের এমবিআই আল জাবের মিডিয়া ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা বোর্ডের তিনি সদস্য

কারমানের জীবনের প্রতিও ভাবুকি এসেছে ২০১০ সালে একটি প্রতিবাদী মিছিলে অংশগ্রহণের সময় একজন মহিলা কারমানকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করেছিল, তবে কারমানের সমর্থকরা এই আক্রমণ ব্যর্থ করতে সফল হয়েছিল কারমানের ভাই তারিক কারমানের মতে, জনগণের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকাকালীন একজন প্রবীণ ইয়েমেনী কর্মকর্তা তার বোন কারমানকে ২০১১ সালের জানুয়ারি টেলিফোনে মৃত্যুর ভাবুকি দিয়েছিল অনেক ইয়েমেনির মতে, হাথি বিদ্রোহীদের দ্বারা রাজধানী দখলের পরে অবনতিমান পরিস্থিতির মধ্যে কারমান দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রজেক্ট রাভেনঃ গুপ্তচর তদারকি হেকিং অপারেশন দ্বারা আরব আমিরাতের রাজতন্ত্র সরকারের সমালোচনা করা জংগীবাদ এবং মানবাধিকার কর্মীদের লক্ষ্য করা হয়েছিল কর্ম নামক একটি অত্যাধুনিক গুপ্তচর বৃত্তির সরঞ্জাম দ্বারা কারমানের আইফোন হ্যাক করতে সক্ষম হয়েছিল

তুর্কি সরকার কারমানকে তুরস্কের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল এবং ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী তাঁর নাগরিকত্বের নথি পাঠিয়েছিল ২০১৯ সালে সামাজিক উদ্যোক্তা হিসাবে কারমানকে এশীয় পুরস্কারে সন্মানিত করা হয়েছে ইয়েমেনের চলচ্চিত্র নির্মাতা খাদিজা আল সালামি ইয়েমেনের অভ্যূত্থানের সময় নারীরা যে ভূমিকা নিয়েছিল তার উপড়দ্য স্ক্রিম' শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছিল সেখানে কারমানের সাক্ষাতকার নিয়েছিল ২০১২ সালে দুবাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেই তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়েছিল ২০২০ সালের মে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কারমানকে ফেসবুকের তদারকি বোর্ডে নিয়োগ করেছেন

কারমানের প্রকাশিত লেখা-

বার্নি এমবেসিস ইজ নট দ্যা ওয়ে', ইয়েমেন টাইমসে ২০০৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত

আওয়ার রিভোলেশনস ডুইং হোয়াট সালেহ কানট- আপরাইজিং ইয়েমেন’- দ্যা গার্ডিয়ান, এপ্রিল-২০১১

ইয়েমেনস আনফিনিসড রিভোলেশন'- নিউইয়র্ক টাইমস, ১৮ জুন- ২০১১

দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট নট ফরগেট ইয়েমেনস ষ্ট্রাগল ফর ফ্রিডম', দ্যা গার্ডিয়ান, নভেম্বর-২০১১ তা

ওয়াক্কুল কারমান নোবেল লেকচার, ১০ ডিসেম্বর-২০১১

ইন দ্যা এবসেন্স অফ ফ্রি প্রেস, দিয়ার ইজ নো ডেমোক্রেসি, ওয়ার্ল্ড এসোচিয়েশন অফ নিউজ পেপারস এণ্ড নিউজ পাব্লিশারস, ৩মে- ২০১২

ইজিপ্তস কউপ হ্যাজ ক্রাসড অল দ্যা ফ্রিডমস ইন দ্যা রিভোলেশন', দ্যা গার্ডিয়ান, আগষ্ট-২০১৩

মুরসি ইজ দ্য আরব ওয়ার্ল্ড মেণ্ডেলা', ফরেইন পলিসি, আগষ্ট-২০১৩

ইমপাওয়ারিং কমপেনটেন্সি অর্কিং টোয়ার্ড জাস্ট এণ্ড ইফেক্টিভ ডেভেলপমেণ্ট’, ২০ মার্চ ২০১৭- ইমপেক্টারে প্রকাশিত

২০১১ সালের বিপ্লবের সময় কিছু ইয়েমেনি তাঁকেআয়রন মহিলাএবং বিপ্লবের জনক' হিসাবে অভিহিত করেছিলেন বলে জানা যায়

 

 

মালালা ইউসুফজাই

নোবেল বিজয়ী মামালা ইউসুফজাইর জন্ম ১৯৯৭ সালের ১২ জুলাই পাকিস্থানের সোয়াট উপত্যকার খাইবার পাখতুনখোয়ার সোয়াট জেলার মিঙ্গোরায় ইরানী বংশোদ্ভব পাশতুন পরিবারে পাশতুনরা মূল ইরানী জাতির আফগান ইউসূফজাইর বাবার নাম জিয়া উদ্দিন ইউসুফজাই এবং মার নাম টুর পেকাই ইউসুফজাই তাঁরা সুন্নি মুসলিম মালালার জন্মের সময় হাসপাতালে জন্ম দেবার মতো তাঁদের অর্থ সংস্থান ছিলনা, তাই বাড়িতেই ধাইয়ের সহায়তায় মালালা জন্ম গ্রহণ করেছিল মালালা ইসুফজাইর প্রথম নাম মালালা (শোক কবলিত) নামটি দক্ষিণ আফগানিস্থানের মাইভাণ্ডের খ্যাতনামা পাশতুন মহিলা কবি যোদ্ধা মালালাইর নামে রেখেছিল মিঙ্গোরার বাড়িতে তিনি তাঁর বাবা-মা এবং দুই ছোট ভাই খুশাল এবং অটলের সাথে বাস করতেন মালালার বাবা জিয়া উদ্দিন ইউসুফজাই একজন কবি ছিলেন এবং তিনি খুশাল পাব্লিক স্কুল নামে একটি বেসরকারী স্কুল চালাতেন

সোয়াত জেলা পাকিস্থানের পাখতুনখোয়া প্রদেশের মালকাণ্ড ডিভিজনে অবস্থিত ২০০৯ সালে তালিবানরা সোয়াট জেলা দখল করেছিল তখন তালিবানরা সেই অঞ্চলে নারীদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল

মহম্মদ আলী জিন্নাহ এবং বেনজির ভট্টোকে রোল মডেল বিবেচনা করে মালালা ইউসুফজাই বিশেষত তাঁর বাবার চিন্তাভাবনা এবং মানবিক কাজের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন ২০০৯ সালের গোড়ার দিকে যখন তিনি ১১-১২ বছর বয়সী ছিলেন, তখন পাকিস্থানী তালিবানরা সোয়াত দখলের সময় তিনি তাঁর জীবন কাহিনী বর্ণনা করে বিবিসি উর্দু ছদ্মনামে একটি ব্লগ লেখেছিলেন পরের গ্রীষ্মে, সোয়াত জেলার দখল নিয়ে তালিবান মিলিট্যান্ট এবং পাকিস্থানী সেনার মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং সেই যুদ্ধ শান্তিচুক্তির মাধ্যমে সমাপ্ত হয় সোয়াত অঞ্চলে পাকিস্থানী সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের পরে মালালার জীবন সম্পর্কে নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক অ্যাডাম বি এলিক একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করেছিলেন তখন প্রিন্ট মিডিয়া এবং টেলিভিশনে সাক্ষাতকার প্রদানের ফলে ইউসুফজাই সুনাম অর্জন করেছিলেন এবং ডেসমন্ড টুটু তাঁকে আন্তর্জাাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার প্রদানের জন্য মনোনীত করেছিলেন

২০১২ সালের অক্টোবরে পরীক্ষা দিয়ে বাসে করে বাড়ি যাওয়ার সময় প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ইউসূফজাই এবং দুটি মেয়েকে হত্যার প্রয়াসে আততায়ীরা গুলি করে পালিয়ে যায় ইউসূফজাইর মাথায় গুলি লেগেছিল এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন তখন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য রাওয়ালপিণ্ডি ইনস্টিটিউট অফ কার্ডলজিতে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর অবস্থা যথেষ্ট উন্নত হওয়ার পরে তাঁকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের এলিজাবেথ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাঁর এই অবস্থার জন্য আন্তর্জাাতিক মহলে তাঁর সমর্থন প্রসারিত হয় ডিউটস ওয়েল ২০১৩ সালের জানুয়ারি জানিয়েছিল যে মামালা সম্ভবতবিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত কিশোর হয়ে উঠেছে হত্যার প্রচেষ্টার কয়েক সপ্তাহ পরে পাকিস্থানের শীর্ষ মুসলিম আলেমদের একটি দল, যারা হত্যার চেষ্টা করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছিল পাকিস্থান সরকার, মানবাধিকার সংগঠন এবং নারীবাদী সংগঠনগুলি মালালা হত্যার প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দা করেছিল পাকিস্থানী তালিবান কর্মকর্তারা এই নিন্দার জবাবে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা হিসাবে হত্যা করাটা ন্যায্য ছিল বলে দাবি করে সাম্ভাব্য দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার ইংগিত দিয়েছিল তাদের এই ধরণের বক্তব্যের ফলে আরও আন্তর্জাতিক নিন্দা হয়েছিল

অবস্থা উন্নত হওয়ার পরে মালালা ইউসুফজাই শিক্ষার অধিকারের বিশিষ্ট কর্মী হয়ে উঠেন তিনি শিজা শহীদকে নিয়ে একটি অলাভজনক সংস্থা মালালা তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন ২০১৩ সালে তিনি শিজা শাহীদের সাথে মিলেআই এম মালালা' গ্রন্থটি লেখেন গ্রন্থটি তখন আন্তর্জাতিক বাজারে সেরা বিক্রীত গ্রন্থের তালিকায় ছিল (সিজা শাহীদ একজন সামাজিক কর্মী এবং মালালা ফান্ডের সিইও) ২০১২ সালে মালালা পাকিস্থানের জাতীয় যুব শান্তি পুরস্কার এবং ২০১৩ সালে সাখারভ পুরস্কার লাভ করেন ২০১৪ সালে তিনি ভারতের কৈলাশ সত্যার্থীর সাথে নোবেল শান্তি পুরস্কারের সহ-প্রাপক ছিলেন ১৭ বছর বয়সে তিনি সর্বকালের সর্বকনিষ্ঠ নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ২০১৫ সালে তিনি অস্কার শর্টলিস্টেড ডকুমেণ্টরিহি নেমড মি মালালা' বিষয়বস্তু ছিল টাইম ম্যাগাজিন ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালের সংখ্যায় তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসাবে চিহ্নিত করেছিল ২০১৭ সালে তিনি সন্মানিত কানাডিয়ান নাগরিকত্ব পেয়েছেন এবংকানাডার হাউস অফ কমন্স'কে তিনি সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি হিসাবে সম্বোধন করেছেন

মালালা পশতু, উর্দু এবং ইংরাজি সাবলীলভাবে বলতে পারেন একটি সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন যে ছোটবেলা তিনি চিকিৎসক হওয়ার জন্য উৎসাহী ছিলেন পরবর্তীতে তাঁর বাবা তাঁকে রাজনীতিবিদ হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন

পাকিস্থানের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলী জিন্নাহ এবং পাকিস্থানের দুইবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভট্টোর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মালালা ২০০৮ সালের সেপ্তেম্বরের প্রথম দিক থেকে শিক্ষার অধিকার নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছিলেন তাঁর বাবা তাঁকে স্থানীয় প্রেসক্লাবে বক্তৃতা প্রদানের জন্য পেশোয়ার নিয়ে গিয়েছিলেন সংবাদ পত্র এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলি দ্বারা কভার করা ভাষণে ইউসুফজাইতালিবানরা কীভাবে আমার শিক্ষার মৌলিক অধিকার হরণ করবে?’শ্রোতাদেরকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন ২০০৯ সালে ইউসুফজাইইনস্টিটিউট ফর ওয়ার অ্যাণ্ড পিস রিপোর্টিঙে একজন প্রশিক্ষার্থী ছিলেন এবং পরে সেখানেপিয়ার শিক্ষিকা' হিসাবে কাজ শুরু করেছিলেনইনস্টিটিউট ফর ওয়ার অ্যাণ্ড পিস রিপোর্টিঙপাকিস্থানের একটি ওপেন মাইণ্ডস যুব কর্মসুচী, যা সেই অঞ্চলের স্কুলগুলিতে সাংবাদিকতার সরঞ্জামগুলির মাধ্যমে তরুণদের সামাজিক বিষয়গুলির উপর গঠনমূলক আলোচনায় জড়িত করার কাজ করছিলেন

২০০৮ সালের শেষের দিকে বিবিসি উর্দূ ওয়েবসাইটের আমের আহমেদ এবং তাঁর সহকর্মীরা সোয়াতে পাকিস্থানী তালিবানদের ক্রমবর্দ্ধমান প্রভাবকভারিং' করার জন্য এক অভিনব উপায় নিয়ে এসেছিল তাঁরা সেখানকার স্কুল ছাত্রীদের বেনামে ব্লগ লিখতে বলেছিল তাঁরা তাদের পেশোয়ারের সংবাদদাতা আব্দুল হাই কাকার এবং স্থানীয় স্কুল শিক্ষক জিয়া উদ্দিন ইউসুফজাইর সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ করেছিলেন তবে পরিবারের পক্ষে বিপদজনক হবে বলে বিবেচনা করে ছাত্রীরা কাজটা করতে রাজি হয়নি তখন জিয়া উদ্দিন ইউসুফজাই তাঁর ১১ বছর বয়সী মেয়ে মালালাকে কাজটা করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন সেই সময় মাওলানা ফজলুল্লাহর নেতৃত্বে তালিবানরা সোয়াত উপত্যকা দখল করেছিল এবং তারা মেয়েদের টেলিভিশন, সংগীত এবং পড়াশোনা করতে নিষেধ করেছিল এমনকি মেয়েদের কেনাকাটা করতেও নিষেধ করেছিল তারা সোয়াতের অবস্থা তখন খুবই মর্মান্তিক ছিল শহরের চত্বরে পুলিশের মৃতদেহ প্রদর্শিত করা হচ্ছিল প্রথমে জিয়া উদ্দিন ইউসুফজাইর স্কুল থেকে আয়েশা নামের একটি মেয়ে ডায়েরি লিখতে রাজি হয়েছিল তবে তার মা-বাবার ওপর তালিবানরা প্রতিশোধ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করে কাজটি থেকে বিরত হয়েছিল তখন একমাত্র বিকল্প ছিল মালালা ইউসুফজাই মালালা আয়েশার চেয়ে চার বছরের ছোট এবং তখন তিনি সপ্তম শ্রেণীতে পড়তেন বিবিসি সম্পাদকগণ একমত হয়ে পরে বলেছিলেন যে- আমরা সোয়াতের সহিংসতা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করলেও, সাধারণ মানুষ তালিবানদের অধীনে কীভাবে বাস করত সে বিষয়ে আমরা বিশেষ জানতে পারিনি বিবিসির প্রাক্তন সম্পাদক মির্জা ওয়াহিদ বলেছিলেন যে আমরা ইসুফজাইর সুরক্ষার বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম তাই তাঁকে ব্লগটির ক্ষেত্রে ছদ্মনামে ব্যবহার করতে পরামর্শ দিয়েছিলাম ব্লগটিগুল মাকাই” (উর্দুতে কর্নফ্লাওয়ার) ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়েছিল নামটি পশতুন লোককথার একটি চরিত্র থেকে নেওয়া হয়েছিল

ইউসুফজাইর প্রথম ব্লগ বিবিসির উর্দূ ওয়েবসাইটে পোস্ট করা হয়েছিল ইউসুফজাই প্রথমে হাতে লিখে কোনো প্রতিবেদকের কাছে পাঠাতেন, তখন প্রতিবেদক স্কেন করে ইমেইলে বিবিসির উর্দূ ওয়েবসাইটে পাঠাতেন ব্লগটিতে সোয়াতের প্রথম যুদ্ধের সময় ইউসুফজাইর চিন্তাভাবনা রেকর্ড করা হতো যেহেতু যুদ্ধ চলছে, তাই কম মেয়েই তখন স্কুলে যেতো, অবশেষে স্কুলটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল একবার তিনি বিবিসি ব্লগে লিখেছিল- ‘আমি গতকাল সামরিক হেলিকপ্টার এবং তালিবানদের নিয়ে একটি ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখেছিলাম সোয়াতে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে আমি এরকম স্বপ্ন দেখছি পরের দিন আমার মা আমাকে ব্রেকফাষ্ট করানোর পরে আমি স্কুলে যাওয়ার জন্য রওনা হই তবে আমি স্কুলে যেতে ভয় করছিলাম কারণ তালিবানরা মেয়েদের স্কুলে যেতে বারণ করে ফতোয়া জারি করেছিল পাকিস্থানী তালিবানরা ফতোয়া জারির পরে ২৭ জন ছাত্রীর মধ্যে শুধু ১১ জন স্কুলে উপস্থিত হয়েছিল ফতোয়া ঘোষণার পরে আমার তিন জন বন্ধুকে তাদের পরিবার পেশোয়ার, লাহোর এবং রাওয়ালপিন্ডিতে স্থানান্তরিত করেছিল

২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারির পরে কোনো মেয়ে স্কুলে যেতে পারবেনা বলে পাকিস্থানী তালিবানরা মিঙ্গোরায় ফতোয়া জারি করেছে এই গোষ্ঠীটি ইতিমধ্যে মেয়েদের শতাধিক স্কুল উড়িয়ে দিয়েছে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগের রাতে আর্টিলারি ফায়ারের শব্দে অঞ্চলটা ভরে উঠেছে, আমি রাতে কয়েকবার জেগে উঠেছি'

পরের দিন ইউসুফজাই প্রথমবারের মতো একটি স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর ব্লগের অংশগুলি পড়েছিলেন

ফতোয়া জারির পরে তালিবানরা আরও বেশ কয়েকটি স্কুল ধ্বংস করে দিয়েছিল ২০০৯ সালের ২৪ শে জানুয়ারি ইউসুফজই বিবিসি ব্লগে লেখেছিলেন- ‘আমাদের বার্ষিক পরীক্ষা ছুটির পরে অনুষ্ঠিত হবে, তবে পাকিস্থানী তালিবানরা মেয়েদের স্কুলে যেতে দিলে এটা সম্ভব হবে আমাদের পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট অধ্যায় প্রস্তুত করার কথা বলা হয়েছিল, তবে আমার মনে হয় অধ্যয়ন সম্ভব হবে না

সেনাবাহিনী আমাদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করার আগে কয়েক ডজন স্কুল ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং আরও কয়েকশো স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে সেনাবাহিনী যদি এখানে যথাযথভাবে তাদের অপারেশন পরিচালনা করত, তবে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না'

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মেয়েদের স্কুলগুলি তখনও বন্ধ ছেলেদের বেসরকারি স্কুলগুলি ফেব্রুয়ারি পর্যন্তনা খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ফেব্রুয়ারি ইউসুফজাই মিঙ্গোরা শহরের পরিবেশ এভাবে বর্ণনা করেছিল- রাস্তাগুলি নির্জন ছিল এবং এক ভয়ঙ্কর নীরবতা বিরাজ করছিল মালালা লিখেছে- আমরা মায়ের জন্য কিছু একটা উপহার কিনতে সুপারমার্কেট গিয়েছিলাম, সেখানে দোকানগুলি বন্ধ ছিল তবে আগে দোকানগুলি অনেক দেরি পর্যন্ত খোলা থাকত আরও অনেক দোকান বন্ধ ছিল তিনি তাঁর ব্লগে লিখেছিলেন- তাঁদের বাড়িতে ছিনতাই হয়েছে এবং তাঁদের টেলিভিশন চুরি হয়ে গিয়াছে

ছেলেদের স্কুলগুলি চালু হওয়ার পরে যেখানে সহ-শিক্ষার ব্যবস্থা ছিলো সেখানে পাকিস্থানী তালিবানরা মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষার নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নিয়েছিল কেবলমাত্র মেয়েদের স্কুল বন্ধ ছিল ইউসুফজাই লিখেছেন- ৭০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে কেবল ৭০ জন শিক্ষার্থী নাম ভর্তি করেছিল

১৫ ফেব্রুয়ারি রাস্তায় গুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল তবে ইউসুফজাইর বাবা তাঁকে আশ্বস্ত করে বলছিলেন- “ভয় পাবেনা, এটা শান্তির জন্য গুলি চালাচ্ছে' তাঁর বাবা পত্রিকায় পড়েছিলেন যে পরের দিন সরকার এবং জঙ্গীরা একটি শান্তিচুক্তি করতে যাচ্ছে পরে সেই রাতেই তালিবানরা তাদের এফএম রেডিওতে শান্তিচুক্তির কথা ঘোষণা করার পরে, বাইরে গুলি চালানো শুরু হয়েছিল ইউসুফজাই ১৮ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় কারেন্ট এফেয়ার্স অনুষ্ঠানের ক্যাপিটাল টকশো অনুষ্ঠানে পাকিস্থানী তালিবানদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছিলেন তিন দিন পরে, তালিবান নেতা মাওলানা ফজলুল্লা তার এফএম রেডিওতে মহিলা শিক্ষার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে বলে ঘোষণা করেছিলেন এবং ১৭ মার্চ পরীক্ষার আগে পর্যন্ত মেয়েদের স্কুলে ভর্তি হতে দেওয়া হয়েছিল, তবে তাদের বোরকা পড়তে হয়েছিল

২৫ শে ফেব্রুয়ারি ইউসুফজাই তাঁর ব্লগে লিখেছিলেন- তিনি এবং তাঁর সহপাঠীরা ক্লাসে প্রচুর খেলতেন এবং আগের মতো উপভোগ করতেন ইউসুফজাইদের ক্লাসে মার্চ নাগাদ ২৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জন উপস্থিত থাকতেন, কিন্তু তালিবানরা তখনও সেই অঞ্চলে সক্রিয় ছিলো গোলা-গুলি চলছিল এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের ব্যবহৃত ত্রাণ সামগ্রী লুট করা হচ্ছিল দু'দিন পরে ইউসুফজাই লিখেছিলেন যে সেনা এবং তালিবানদের মধ্যে সংঘাত চলছে এবং মর্টার শেলের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে লোকেরা আবার ভয় পাচ্ছে, শান্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে! কিছু লোক বলছিল শান্তিচুক্তি স্থায়ী নয়, এটি লড়াইয়ের বিরতি মাত্র

মার্চ ইউসুফজাই একটি বিজ্ঞান গবেষণামূলক প্রবন্ধ সম্পর্কে লিখেছিলেন যে তিনি ভালো অভিনয় করেছেন এবং আরও যোগ করেছিলেন যে তালিবানরা এখন আগের মতো যান-বাহন অনুসন্ধান করছে না তাঁর ব্লগটি ২০০৯ সালের ১২ মার্চ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল

বিবিসির ডায়েরি শেষ হওয়ার পরে নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক অ্যাডাম বি এলিক একটি ডকুমেন্টরি ফিল্ম করার বিষয়ে ইউসুফজাই এবং তাঁর বাবার সাথে যোগাযোগ করেছিল মে মাসে সোয়াতের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে তালিবানদের বিরুদ্ধে পাকিস্থানী সেনা বাহিনী দ্বিতীয়বার অভিযান শুরু করে তখন মিঙ্গোরা থেকে লোকজন সরিয়ে দেওয়া হয় ফলে ইউসুফজাইর পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ে পরে যখন তাঁদের আত্মীয়দের সাথে বসবাসের জন্য গ্রামাঞ্চলে প্রেরণ করা হয় তখন তাঁর বাবা প্রতিবাদ এবং সমর্থনের জন্য লবি করতে পেশোয়ার যান ইউসুফজাই তখন লিখেছেন- ‘আমি সত্যিই বিরক্ত হয়েছিলাম, কারণ আমার কাছে পড়ার মতো বই ছিলনা' ইউসুফজাই ডকুমেন্টরিতে এইভাবেই চিত্রায়িত করেছে

ওই মাসে, এক সংবাদ সন্মেলনে জঙ্গিদের সমালোচনার পরে ইউসুফজাইর বাবা পাকিস্থানি তালিবান কামান্ডারের কাছ থেকে রেডিওতে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছিলেন তখন ইউসুফজাই তাঁর বাবার কর্মের দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করে প্রথমবারের মতো রাজনীতিবিদ হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত হয়ে ওঠেন তখন তিনি লেখেন- আমার নতুন স্বপ্ন তৈরি হয়েছে....এই দেশকে বাচাতে আমার নিশ্চয় রাজনীতিবিদ হতে হবে আমার দেশ সংকটে রয়েছে আমি সংকটগুলি অপসারণ করতে চাই

জুলাইয়ের শেষের দিকে শরণার্থী শিবিরগুলি পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল তখন পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, সোয়াত অঞ্চলে ফিরে যাওয়া এখন নিরাপদ পাকিস্থানী সামরিক বাহিনী তালিবানদের শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে ঠেলে দিয়েছে তখন ইউসুফজাইর পরিবার আবার একত্রিত হয় এবং ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই তাঁরা বাড়ি ফিরে যায় বাড়ি যাওয়ার পথে তাঁরা অন্যান্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিশেষ প্রতিনিধি রিচার্ড হলব্রকের সাথে সাক্ষাত করার জন্য আমন্ত্রিত হন তখন ইউসুফজাই রিচার্ড হলব্রকের কাছে সোয়াতের পরিস্থিতির উপর হস্তক্ষেপ করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে বলেন- ‘শ্রদ্ধেয় রাষ্ট্রদূত, আপনি যদি আমাদের শিক্ষার জন্য সহায়তা করতে পারেন, তবে দয়া করে সহায় করুন

তাঁদের পরিবার বাড়ি ফিরে এসে দেখতে পেলেন যে তাঁদের স্কুলের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি, সামান্যই ক্ষতি হয়েছে

তথ্যচিত্র নির্মাণের পরে, জাতীয় পশতু ভাষার স্টেশন এভিটি খাইবার, উর্দু ভাষার দৈনিক আজ এবং কানাডার টরেন্টো স্টারে ইউসুফজাইর সাক্ষাতকার নেওয়া হয়েছিল ২০০৯ সালের ১৯ জুলাই ক্যাপিটাল টক- ইউসুফজাইর দ্বিতীয় সাক্ষাতকার নেওয়া হয় ২০০৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বিবিসির ব্লগে সেগুলি প্রকাশিত হয় তিনি তখন টেলিভিশনে প্রকাশ্যে মহিলা শিক্ষার পক্ষে পরামর্শ দিতে শুরু করেন ইউসুফজাই ২০০৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি খপল কোর ফাউন্ডেশনের জেলা শিশু পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন

২০১১ সালে ইউসুফজাই গোলালা ইসমাইল পরিচালিত স্থানীয় মেয়েদের ক্ষমতায়ন সংস্থা আওয়ার গার্লসকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন, যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিরোধিতা করার জন্য মহিলাদের অধিকার ক্ষমতায়নের পরামর্শ দেওয়া হতো

২০১১ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মী আর্চবিশপ ডেসমণ্ড টুটু ইউসুফজাইকে 'ডাচ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি গ্রুপের কিডস্রাইটস ফাউন্ডেশনে' আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিলেন তিনিই ছিলেন একমাত্র পাকিস্থানী মেয়ে, যিনি এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন ঘোষণায় বলা হয়েছিল- ‘মামালা নিজের জন্য অন্যান্য মেয়েদের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস করেছে এবং মেয়েদেরও স্কুলে যাওয়ার অধিকার থাকার কথা বিশ্বকে অবগত করাতে জাতীয় এবং আন্তর্জাাতিক মিডিয়া ব্যবহার করেছেদক্ষিণ আফ্রিকার মাইকেল মাইক্রফ্টও এই পুরস্কার জিতেছিলেন

ইসুফজাইর পাব্লিক প্রফাইল আরও বেড়ে যায়, যখন তাঁকে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার অর্জনের দু'মাস পরে পাকিস্থানের প্রথম জাতীয় যুব পুরস্কার প্রদান করা হয় ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি তাঁকে জাতীয় যুব শান্তি পুরস্কার প্রদান করেন ইউসুফজাই পুরস্কার প্রদানের পরে বলেছিলেন যে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন, তবে তিনি শিক্ষা বিস্তারের জন্য একটি জাতীয় দল খোলার জন্য আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী গিলানি ইউসুফজাইর অনুরোধেসোয়াত ডিগ্রী কলেজ ফর উইম্যান'- একটি আইটি ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং ইউসুফজাইর সন্মানে একটি মাধ্যমিক স্কুলের নামকরণ করা হয়েছিল ২০১২ সালের মধ্যে ইউসুফজাই দরিদ্র মেয়েদের সহায়তা করার জন্যমালালা এডুকেশন ফাউন্ডেশন' সংগঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন ২০১২ সালে ইউসুফজাই আন্তর্জাতিক মার্ক্সসিস্ট টেন্ডেন্সি জাতীয় গ্রীষ্মকালীন স্কুলে যোগদান করেছিলেন

ইউসুফজাইর পরিচিতি বাড়ার পাশাপাশি তাঁর বিপদ বাড়তে থাকে তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুর হুমকি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় তিনি ফেসবুকের সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিলেন ফেসবুকে তিনি মৃত্যুর হুমকি পেয়েছিলেন শেষ পর্যন্ত তালিবান মুখপাত্র বলেছিলেন যে তাঁরা এরকম কাজ করতে বাধ্য হয়েছিল ২০১২ সালের গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে তালিবান নেতারা তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে হত্যা করার বিষয়ে একমত হয়েছিল

ইউসুফজাই বলেছেন- তিনি প্রায়শঃই স্পষ্টভাবে এই সম্পর্কে চিন্তা করতেন তারা যদি হত্যা করতে আসে, তবে আমি তাদের বলব যে তারা যা করার চেষ্টা করছে তা ভুল, শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার

২০১২ সালের ৯ই অক্টোবর পাকিস্থানের সোয়াত উপত্যকায় অবস্থিত স্কুল থেকে পরীক্ষা দিয়ে বাসে উঠার পরে একজন তালিবান বন্দুকধারী তাঁকে গুলি করে ইউসুফজাইর বয়েস তখন মাত্র পনের বছর খবরে বলা হয়েছিল, একজন মুখোশধারী বাসে উঠে চিৎকার করে বলেছিল-‘আপনাদের মধ্যে মালালা কে? আপনি কথা বলুন, নইলে আপনাদের সবাইকে গুলি করব' শনাক্ত হওয়ার পরে মালালাকে গুলি করা হয়েছিল গুলি ১৮ ইঞ্চি ভ্রমণ করে তাঁর বাম চোখের পাশে দিয়ে ঘাড় হয়ে কাঁধ দিয়ে পার হয়ে গিয়েছিল গুলির জন্য আরও দু'টি শিক্ষার্থী আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল তাঁদের নাম ছিল কাইনাট রিয়াজ এবং শাজিয়া রহমান তাঁরা স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল এবং হামলার বিষয়ে কথা বলতে সক্ষম ছিল

গুলির পরে ইউসুফজাইকে এয়ারক্রাফট- করে পেশোয়ারের একটি সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে ডাক্তররা তাঁর গুলিবিদ্ধ ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচার করতে বাধ্য হয় পাঁচ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পরে ডাক্তাররা সফলভাবে তাঁর কাঁধের মেরুদণ্ডের পাশ থেকে গুলি বের করে ১২ অক্টোবর পাকিস্থান ব্রিটিশ চিকিৎসকরা ইউসুফজাইকে রাওয়ালপিণ্ডির আর্মড ফোর্স ইনস্টিটিউট অফ কার্ডিওলজিতে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয় চিকিৎসক মমতাজ খান বলেছিলেন যে তাঁর বেচে থাকার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেছিলেন যে কিছু সুস্থ হওয়ার সাথে সাথে তাঁকে সর্বোত্তম চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে স্থানান্তর করা হবে একদল চিকিৎসক তাঁর সাথে যাবে এবং চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় সরকার বহন করবে ১৩ অক্টোবর চিকিৎসকরা ইউসুফজাইর চারটিলিম্বস' সরিয়ে ফেলেছিলেন

ইউসুফজাইর চিকিৎসার জন্য সমগ্র বিশ্ব থেকে অফার এসেছিল ১৫ অক্টোবর ইউসুফজাইর পরিবার এবং চিকিৎসকদের অনুমোদন সাপেক্ষে ইউসুফজাইকে যুক্তরাজ্য নিয়ে যাওয়া হয় এবং ইংল্যাণ্ডের বার্মিংহামের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয় এই হাসপাতালের বিশেষত্ব হলো, এখানে সংঘর্ষে আহত সামরিক কর্মীদের চিকিৎসা প্রদান করা হয় তৎকালীন মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে যুক্তরাজ্য জানিয়েছিল যে, যুক্তরাজ্য এবং পাকিস্থান সরকার মালালা তাঁর দলের সমস্ত পরিবহন, মাইগ্রেশন, মেডিকেল, আবাসন এবং জীবনযাত্রার সমস্ত ব্যয় বহন করবে ১৭ অক্টোবর চিকিৎসকরা জানিয়েছিল যে চিকিৎসার ফলে ইউসুফজাই মস্তিষ্কের কোনো ক্ষতি ছাড়াই সুস্থ হয়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে পরে ২০ এবং ২১ অক্টোবর চিকিৎসকরা জানিয়েছিল যে ইউসুফজাইর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে, এখন ইনফেকশনের চিকিৎসা চলছে নভেম্বর ইসুফজাই বিছানায় বসে ফটো তোলেন ১১ নভেম্বর ইউসুফজাইর মুখের স্নায়ু মেরামতের জন্য সাড়ে আট ঘণ্টা অস্ত্রোপচার করা হয়

২০১৩ সালের জানুয়ারি ইউসুফজাইকে তাঁদের পশ্চিম মিডল্যাণ্ডের অস্থায়ী বাড়িতে পরিবারের সাথে বসবাসের জন্য হাসপাতাল থেকে ছাড় দেওয়া হয় সেখানে তাঁকে সাপ্তাহিক ফিজিওথেরাপি দেওয়া হতো মাথার খুলি পুনর্গঠন এবং কোচলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট দ্বারা তাঁর শ্রবণশক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য ফেব্রুয়ারি পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘ অস্ত্রোপচার চালিয়ে তাঁর মুখমণ্ডলের নার্ভ ৯৬ শতাংশ মেরামত করা হয়

ইউসুফজাইর হত্যার প্রচেষ্টাকে বিশ্বব্যাপী মিডিয়া কভারেজ করেছিল এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল আক্রমণের পরের দিন পাকিস্থানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছিল এবং মিলিয়নেরও অধিক লোক শিক্ষার অধিকার প্রচারের আবেদনে স্বাক্ষর করেছিল এবং পাকিস্থান সরকার শিক্ষার অধিকার বিলে অনুমোদন জানিয়েছিল আক্রমণকারীদের গ্রেপ্তারের তথ্যের জন্য পাকিস্থানি কর্মকর্তারা ১০মিলিয়ন টাকা (১০৫, ০০০ ডলার) পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ইউসুফজাইর বাবা বলেছিলেন-‘আমার মেয়ে বেচে থাকলে বা না বেচে থাকলেও আমরা দেশ ছেড়ে যাবনা আমাদের একটি আদর্শ রয়েছে, যা শান্তির পক্ষে তালিবানরা গুলির জোর দিয়ে সমস্ত স্বতন্ত্র কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পারবেনা' পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি আশিফ আলী জার্দারি গুলির ঘটনাকেসভ্য মানুষে' বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনেরাল বান কি মুন গুলির ঘটনাকে 'নিন্দনীয়, করুণ কাপুরুষোচিত কাজ' বলে অভিহিত করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আক্রণটিকেনিন্দনীয়, জঘন্য করুণ' আখ্যা দিয়েছিলেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব উইলিয়াম হেগ গুলির ঘটনাটিকে 'বর্বর' বলে অভিহিত করেছিলেন

হামলার দিন লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি অনুষ্ঠানে মার্কিন সংগীত শিল্পী ম্যাডোনা তাঁরমানব প্রকৃতি' গানটি ইউসুফজাইর নামে উৎসর্গ করেছিলেন তাঁর পিঠে একটি অস্থায়ী মালালা টাটুও এঁকেছিলেন অ্যামেরিকান অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলা জোলি তাঁর বাচ্চাদের কাছে এই ঘটনাটি ব্যাখ্যা করার জন্যপুরুষরা কেন মালালাকে হত্যার প্রয়োজন মনে করেছিলেন ?' এই জাতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন এবং পরে মেয়েদের শিক্ষার জন্য ২০০,০০০ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি লারা বুশ ওয়াশিংটন পোষ্টে অপ-এড পিস লিখেছিলেন, তাতে তিনি ইউসুফজাইকে হোলকাস্ট ডিয়ারিস্ট এবং অ্যানি ফ্রাঙ্কেরে সাথে তুলনা করেছিলেন ভারতীয় পরিচালক আমজাদ খান ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি ইউসুফজাইর জীবন অবলম্বনে একটি জীবনী চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন

পাকিস্থানি তালিবানের প্রধান মুখপাত্র এহসানউল্লাহ এহসান এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে বলেছিলেন যে ইউসুফজাইকাফের অশ্লীলতা' প্রতীক হামলার পরের দিনগুলোতে তালিবানরা তাদের হামলার ন্যায্যতা প্রদানের জন্য বলেছিলেন যে ইউসুফজাই তাঁর পিতারব্রেইন ওয়াশকরেছে আমরা তাঁকে, তাঁর মেয়েকে আমাদের বিরুদ্ধে নোংরা ভাষা ব্যবহার না করার জন্য কয়েকবার সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু সে আমাদের কথা শোনেনি তাই আমরা চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছি তালিবানরা ধর্মীয় গ্রন্থের অংশ হিসাবে আক্রমণকে ন্যায়সংগত বলে দাবি করে কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়েছিল- ‘কুরআন বলেছে, ইসলাম ইসলামী লোকদের বিরুদ্ধে প্রচারকারী লোকদের হত্যা করা হবে' তিনি আরও বলেছিলেন যে শরিয়া আইন এমনও বলেছে, যদি কোনো শিশুও ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচার চালায় তাকেও হত্যা করা যেতে পারে!

২০১২ সালের ১২ অক্টোবর পাকিস্থানের ৫০ জন ইসলামিক আলেমের একটি দল ইউসুফজাইকে হত্যার চেষ্টা করা তালিবান বন্দুকধারীদের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছিল সুন্নি ইত্তিহাদ কাউন্সিলের ইসলামী পণ্ডিতরা ইউসুফজাই এবং তাঁর দুই সহপাঠীকে গুলি চালানোর ঘটনাকে ন্যায্যতা প্রদান করা আলেমদের প্রকাশ্যে নিন্দা করেছিলেন

২০১২ সালের ১৫ অক্টোবর ইউনাইটেড গ্লোব্যাল এডুকেশনের বিশেষ দূত প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধান মন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন ইউসুফজাই হাসপাতালে থাকাকালীন সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং মালালা যে শিক্ষার জন্য লড়াই করেছিলেন তার সমর্থনে একটিআমি মালালাপিটিশন চালু করেছিলেন পিটিশনের প্রধান দাবি ছিল, ২০১৫ সালের মধ্যে কোনো শিশু স্কুলের বাইরে থাকবেনা মালালার মতো মেয়েরা শিগগিরই স্কুলে যাবে ব্রাউন ইসলামাবাদে পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি জার্দারির কাছে আবেদনটি হস্তান্তর করেছিলেন

আবেদনটিতে তিনটি দাবি ছিল- () প্রত্যেক সন্তানের জন্য শিক্ষা প্রদানের পরিকল্পনায় সন্মত হওয়ার জন্য পাকিস্থানের প্রতি আহ্বান জানাই () আমরা সকল দেশকে মেয়েদের প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে আহ্বান জানাই () ২০১৫ সালের মধ্যে ৬১ মিলিয়ন স্কুল বহির্ভূত শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির প্রতি আহ্বান জানাই

গুলি চালনার পরের দিন পাকিস্থানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেছিলেন যে যারা ইউসুফজাইকে গুলিবিদ্ধ করেছে তাদের চিনাক্ত করা হয়েছে পুলিশ বন্দুকধারী হিসাবে রসায়নের স্নাতক আত্তা উল্লাহ খানকে চিনাক্ত করেছিল ২০১৫ সাল পর্যন্ত সম্ভবত সে আফগানিস্থানে লুকিয়ে ছিল হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তবে প্রমাণের অভাবে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল ২০১২ সালের নভেম্বরে মার্কিন সূত্র নিশ্চিত করেছিল যে ইউসুফজাইর উপর হামলার নির্দেশকারী মোল্লাহ ফজলুল্লাহ পূর্ব আফগানিস্থানে লুকিয়ে ছিল ২০১৮ সালের জুন মাসে মার্কিন-আফগানিস্থানের বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন

২০১৪ সালের ১২ সেপ্তেম্বর আইএসপিআর-এর পরিচালক মেজর জেনারেল অসীম বাজওয়া ইসমলামাবাদে সংবাদ মাধ্যমের সন্মুখে বলেছিলেন যে ১০ জন হামলাকারীশুরানামের একটি জঙ্গি সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত জেনেরেল বাজওয়া আরও বলেছিলেন যে ইসরারুর রেহমান ছিলেন প্রথম সংগঠনের সদস্য, যিনি সেনাবাহিনী দ্বারা চিহ্নিত গ্রেপ্তার হয়েছিল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ কালে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল গ্রেপ্তার অভিযান আইএসআই, পুলিশ এবং সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত একটি গোয়েন্দা ভিত্তিক যৌথ অভিযান ছিল

২০১৫ সালের এপ্রিলে গ্রেপ্তার হওয়া দশ জনকে সাম্ভাব্য সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আমিন কুণ্ডি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছিলেন শাস্তিপ্রাপ্তদের দশজনের মধ্যে প্রকৃত হত্যাকারী ছিল কি না তা জানা যায়নি ২০১৫ সালের জুনে গোপন সূত্রে প্রকাশ হয়েছিল যে হত্যার প্রচেষ্টার মাষ্টারমাইণ্ডকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল এটা বিশ্বাস করা হয় যে ইউসুফজাইকে গুলি করা অন্য সমস্ত ব্যক্তিরা আফগানিস্থানে পালিয়ে গিয়েছিল এবং তাদের কখনও গ্রেপ্তার করা হয়নিলন্ডন ডেইলি মিরর' কারাগারে থাকা লোকদের শনাক্ত করার চেষ্টা করার পরে সন্দেহভাজনদের মুক্তির তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা সেলিম খান বলেছিলেন যে আটজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, কারণ তাদের আক্রমণে জড়িত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি

লন্ডনে বালিকা সন্মেলনে ইউসুফজাই বলেছিলেন- ‘ঐতিহ্য স্বর্গ থেকে প্রেরণ করা হয়না, ঈশ্বরের কাছ থেকেও প্রেরিত হয়না আমরা সংস্কৃতি তৈরি করি এবং এটি পরিবর্তন করার অধিকার আমাদের রয়েছে এবং আমাদের পরিবর্তন করা উচিত'

পাকিস্থানে সন্ত্রাসবাদীর বিরুদ্ধে ড্রোন হামলার সময় বারাক ওবামার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে মালালা বলেছিল- এই কাজগুলিতে নিরীহ শিকার হয় এবং পাকিস্থানী জনগণের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয় আমরা যদি শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিই তবে এটা বড় প্রভাব ফেলবে ড্রোন হামলা সন্ত্রাসবাদকে বাড়িয়ে তুলছে

ইউসুফজাই লাহোরে পাকিস্থানি মার্ক্সবাদীদের একটি বৈঠকে চিঠিতে সমাজতন্ত্রের প্রতি তাঁর বিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেছেন- আমি বিশ্বাসী যে সমাজতন্ত্রই একমাত্র উত্তর এবং আমি সমস্ত সহযোদ্ধাকে এই সংগ্রামকে একটি বিজয়ী সিদ্ধান্তে নিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানাই এটিই আমাদেরকে ধর্মান্ধতা এবং শোষণের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করবে

ইউসুফজাই ২০১৩ সালের জুলাই মাসে জাতিসংঘের সামনে বক্তব্য রেখেছিলেন এবং বার্মিংহাম প্যালেসে দ্বিতীয় এলিজাবেথের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন সেপ্তেম্বরে তিনি হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃত্য প্রদান করেছিলেন অক্টোবরে তিনি মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা তাঁর পরিবারের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন এবং সেই বৈঠকে তিনি পাকিস্থানে ড্রোন হামলার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন ডিসেম্বরে তিনি অক্সফোর্ড ইউনিয়নকে সম্বোধন করেছিলেন ২০১৪ সালের জুলাই- ইউসুফজাই লন্ডনে বালিকা সন্মেলনে বক্তৃত প্রদান করেছিলেন ২০১৪ সালের অক্টোবর- তিনি গাজা উপত্যকার স্কুলগুলি পুননির্মাণের জন্য ৫০,০০০ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন তিনি মাহিলাদের অধিকারের পাশাপাশি শিশুদের অধিকারের জন্যও লড়াই করছেন

২০১৫ সালের ১২ জুলাই তাঁর ১৮ তম জন্মদিনে ইউসুফজাই সিরিয়া সীমান্তের নিকটবর্তী লেবাননের বেকা উপত্যকায় সিরিয়ার শরণার্থীদের জন্য একটি স্কুল খোলেছেন অলাভজনক মালালা তহবিল দ্বারা অর্থায়ন করা স্কুলটি ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী মেয়েদের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করে ইউসুফজাই বিশ্বনেতাদেরবুলেটে নয়' বইতে বিনিয়োগ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন

ইউসুফজাই বারবার মিয়ানম্যারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের নিন্দা করেছেন তিনি ২০১৫ সালের জুন-মালালা তহবিলে' একটি বিবৃতি প্রকাশ করে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, রোহিঙ্গা জনগণ যে দেশে জন্মগ্রহণ করেছে এবং প্রজন্ম ধরে বসবাস করে আসছে, তাঁরা সে দেশে সমান অধিকার এবং সমান সুযোগের পাশাপাশি নাগরিকত্বের অধিকারী তিনি বিশ্বনেতাদের বার্মার মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগণের উপর অমানবিক নির্যাতন বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ২০১৭ সালের সেপ্তেম্বর অক্সফোর্ডে বক্তৃতা প্রদান করে বলেছেন- এটা মানবাধিকারের বিষয় হওয়া উচিত সরকার এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত তাঁরা বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে ইউসুফজাই রোহিঙ্গা জনগণের প্রতি করা আচরণের নিন্দা করে নোবেল বিজয়ী অং সান সুচির প্রতি টুইটারে একটি পোস্ট করেছিলেন সুচি এই বিরোধের পক্ষ নেওয়া বা রোহিঙ্গা জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা করা এড়িয়ে চলেন বলে সমালোচনা করেছিলেন

২০১৪ সালে ইউসুফজাই বলেছিলেন যে তিনি যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে আসতে চান বেনজির ভট্টোর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য বিবেচনা করার বিষয়েও মত প্রকাশ করেছেন- আমি যদি সরকারে যোগ দিয়ে বা প্রধানমন্ত্রী হয়ে আমার দেশকে সাহায্য করতে পারি, তবে অবশ্যেই এই কাজের পক্ষে থাকব তিনি তাঁর এই লক্ষ্যের কথা ২০১৫ এবং ২০১৬ সালেও ব্যক্ত করেছিলেন

২০১৮ সালে ইউসুফজাই উল্লেখ করেছেন- আমি বিশ্ব জুড়ে অনেক রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীদের সাথে সাক্ষাত করেছি, কেবল মনে হয়েছে এই বিষয়গুলি সহজ নয় এমন অন্যান্য কি উপায় আছে যার দ্বারা পরিবর্তন আনতে পারি তা আমি দেখতে চাই ডেভিড লেটারম্যানের সাথে একটি সাক্ষাতকারে ইউসুফজাইকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল- আপনি কি কখনও রাজনৈতিক পদে আসতে চান? তখন তিনি বলেছিলেন- না

২০১৩ সালের ১২ জুলাই ইউসুফজাই বিশ্বব্যাপী শিক্ষা বিস্তারের জন্য জাতিসংঘে আহ্বান জানিয়েছিলেন সেদিন মালালা বেনজির ভুট্টোর শাল পরে গিয়েছিলেন হামলার পরে সেটিই ছিল জনসমক্ষে তাঁর প্রথম বক্তব্য সেদিন বিশ্বজুড়ে ৫০০-এরও বেশি শিক্ষাব্রতী শ্রোতাসহ জাতিসংঘের প্রথম যুব টেকওভারের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মালালা বক্তৃতায় বলেছিলেন- সন্ত্রাসীরা ভেবেছিল যে তারা আমার লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তন করবে এবং আমার উচ্চাকাঙ্খা বন্ধ করবে, ভয়, দুর্বলতা, হতাশার মৃত্যু ছাড়া আমার জীবনের কিছুই পরিবর্তন হয়নি শক্তি এবং সাহসের জন্ম হয়েছে.... আমি কারও বিরুদ্ধে নই, তালিবান এবং অন্য কোনও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার পক্ষে এখনও আমি নেই আমি এখানে প্রতিটি সন্তানের শিক্ষার অধিকারের পক্ষে কথা বলতে এসেছি আমি তালিবান এবং সমস্ত সন্ত্রাসবাদী চরমপন্থীদের ছেলে মেয়েদের জন্য শিক্ষা চাই সেদিন জাতিসংঘমালালা ডে' ঘোষণা করেছিলেনমালালা ডেসম্পর্কে তিনি বলেছিলেন- মালালা দিনটি আমার দিন নয়, প্রতিটি ছেলে এবং যারা তাদের অধিকারের জন্য আওয়াজ তুলেছে তাদের দিন

ইউসুফজাইর বক্তৃতার শব্দগুলিস্পিক আউট' গানের সুর হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল কেট হুইটলির একটি গান বিবিসি রেডিও দ্বারা কমিশন করা হয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস, ২০১৭ তে সম্প্রচারিত হয়েছিল

ইউসুফজাই বেশ কয়েকবার হর্ষধ্বনি পেয়েছিলেন বন কি মুন সেই অধিবেশনে বক্তৃতা প্রদান করেছিলেন তিনি মালালাকে নায়ক হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন

২০১৩ সালের মে ১৬ বছর বয়সী ইউসুফজাই জন স্টুয়ার্ডের ডেইলি শো'তে অংশগ্রহণ করেছিলেন সেখানে তিনি তাঁর বইআই এম মালালাপ্রমোড করতে গিয়েছিলেন সেই প্রোগ্রামে তাঁর হত্যার প্রচেষ্টা, মানবাধিকার এবং মহিলাদের শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তালিবানরা তাঁকে হত্যার চেষ্টা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি জন স্টুয়ার্টকে হতবাক করে দিয়েছিল

ইউসুফজাই বলছিলেন- আমি ভাবতাম, তালিবানরা আসবে, তারা আমাকে মেরে ফেলবেন তবে আমি বলতাম- তারা যদি আসে, তবে তুমি কি করবে? তারপরে আমি নিজেই জবাব দিতাম, মালালা, কেবল একটি জুতো দিয়ে তাদের আঘাত করবে তবে আমি বলতাম- যদি তুমি জুতা দিয়ে কোন তালিবানকে আঘাত কর, তবে তোমার আর তালিবানদের মধ্যে কোনও তফাত থাকবেনা তুমি তাদের সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করবেনা এতো কঠোরতার সাথে তোমাকে অবশ্যে লড়াই করতে হবে না তবে শান্তির মাধ্যমে, সংলাপের মাধ্যমে এবং শিক্ষার মাধ্যমে লড়াই করতে হবে আমি বলব, শিক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এমনকি আমি আপনার বাচ্চাদের জন্যও শিক্ষা চাই এবং আমি তাঁকে বলব, এটি আমি আপনাকে বলতে চাই, এখন আপনি যা চান তা করতে পারেন

স্টুয়ার্ট মুগ্ধ হয়ে ইউসুফজাইর কথা শুনছিলেন এবং তাঁর কথা শেষে বলছিলেন- আমি আপনার সাথে কথা বলে বিনীত

২০১৫ সালে চার্লস্টন চার্চ শোটিঙের পরে আবার ইউসুফজাইকে অতিথি হিসাবে পেয়েছিলেন আমাদের অতিথি এমন একজন অবিশ্বাস্য ব্যক্তি, যিনি চরমপন্থীদের দ্বারা অবর্ণনীয় সহিংসতা ভোগ করেছেন এবং তার মধ্য দিয়ে তিনি অধ্যবসায়, দৃঢ় সংকল্প এবং অবিশ্বাস্য প্রেরণার সাথে সেগুলির মোকাবিলা করেছেন আমি মনে করিনা যে আজ রাত্রে আমি মালালার বাইরে পৃথিবীতে আর কারও সাথে কথা বলব তাই আজ আমরা যা বলব, কোনো রসিকতা দিয়ে দুঃখিত করবনা' এভাবে বলেই তিনি শোটিং শুরু করেছিলেন

শিশু এবং যুবক-যুবতীদের দমনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সকল শিশুর শিক্ষার অধিকারের জন্য ইউসুফজাই ২০১৪ সালে শান্তির নোবেল পুরস্কারের সহ-প্রাপক ছিলেন ১৭ বছর বয়সী ইউসুফজাই হলেন সর্বকনিষ্ঠ নোবেল বিজয়ী ১৯৭৯ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী আব্দুস সালামের পরে তিনি হলেন পাকিস্থানের দ্বিতীয় নোবেল বিজয়ী

মালালাকে নোবেল পুরস্কার প্রদানের পরে তিনি প্রশংসিত হয়েছিলেন, তবে এই সিদ্ধান্তের কিছু অস্বীকৃতিও রয়েছে নরওয়ের একজন বিচারপতি ফ্রেডরিক হেফারমেল ইউসুফজাই নোবেল পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছিলেন- এটি ভালো লোকদের পক্ষে নয়, যারা ভালো কাজ করেছে এবং তা পেয়ে আনন্দিত এই সবই অপ্রাসঙ্গিক এটি এমন একটি পুরস্কার, নোবেল চেয়েছিলেন, যা বিশ্বকে নিরস্ত্রীকরণ করতে উৎসাহিত করবে

মেস্কিকো সিটির কলেজ শিক্ষার্থী অ্যাডন কর্টেস ২০১৪ সালে মেস্কিকোয় সংঘটিত ইগোয়ালা গণ অপহরণের প্রতিবাদে ইউসুফজাইর নোবেল শান্তি পুরস্কারের অনুষ্ঠানে বাধা প্রদান করেছিলেন, তবে নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে দ্রুত সরিয়ে নিয়েছিলেন ইউসুফজাই পরে অ্যাডন কর্টেসের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেছিলেন, সারা বিশ্বেই তরুণরা আজ সমস্যার সন্মুখীন হচ্ছে মেক্সিকোতে সমস্যা রয়েছে, এমনকি আমেরিকা এবং নরওয়েতেও সমস্যা রয়েছে শিশুরা তাদের প্রতিবাদ সাব্যস্ত করাটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ

পাকিস্থানে ইউসুফজাইর অভ্যর্থনা বেশিরভাগ নেতিবাচক তালিবান নীতির বিরুদ্ধে ইউসুফজাইর বিরোধিতা, তালিবানদের প্রতি সহানুভূতিশীলদের মধ্যে তাঁকে অপ্রিয় করে তোলেছিল ২০১৫ সালে সমস্ত পাকিস্থানী প্রাইভেট স্কুলেআই এম মালালা' গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করেছিল এবং রাষ্ট্রপতি মির্জা কাশিফআই এম নট মালালা' বইটি প্রকাশ করেছিল

হামলার পরে প্রথমবারের মতো ২০১৮ সালের ২৯শে মার্চ ইউসুফজাই পাকিস্থান ফিরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকনের সাথে সাক্ষাত করে একটি বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন- ‘কোনও রকম ভয় ছাড়াই তাঁর ফিরে আসার স্বপ্ন ছিল এর পরে ইউসুফজাই সোয়াত উপত্যকায় তাঁর নিজ শহর মিঙ্গোরা পরিদর্শন করেছিলেন পাকিস্থানের ১৭৩০০০ প্রাইভেট স্কুলের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন এপিএসএফ ৩০ শে মার্চআমি মালালা নইদিবসের আয়োজন করেছিল ইউসুফজাই এর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিল- আমি আমার ধর্ম নিয়ে গর্বিত, এবং আমি আমার দেশের জন্য গর্বিত

২০১৯ সালের আগস্ট ভারত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা বাতিল করার পরে ইউসুফজাই কাশ্মীরে শান্তি নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাাতিক সম্প্রদায়ের কাছ আবেদন জানিয়েছিলেন

২০১৩ সালে ইউসুফজইকে সন্মান জানাতে আর্জেণ্টিনায় আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব অনুষ্ঠিত করেছিল ইউসুফজাইর স্মৃতিতে ব্রিটিশ সাংবাদিক ক্রিষ্টিনা ল্যাম্বের সহ-রচনাহিস্টরী অফ দ্য গার্ল হু স্টুড আপ ফর এডুকেশন এন্ড ওয়াছ শট বাই দ্য তালিবান' বইটি ২০১৩ সালের অক্টোবর- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লিটল ব্রাউন এন্ড কোম্পানী এবং যুক্তরাজ্যের ওয়েনফিল্ড এন্ড নিকলসন দ্বারা প্রকাশিত হয়েছিল ফাতিমা ভট্টো দ্য গার্ডিয়ানের পক্ষে বইটির পর্যালোচনা করে বইটিকে 'নির্ভীক' বলে অভিহিত করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে বিদ্বেষী ষড়যন্ত্রকারী তাত্ত্বিকরা বইটি পড়লে ভালো হবে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের আরানা বইটিকে রিভেটিং বলে অভিহিত করেছিলেন

মালালার স্মৃতিতে ২০১৪ সালে বইটির শিশু সংস্করণআই এম মালালাঃ হাউ ওয়ান গার্ল স্টুড আপ ফর এডুকেশন এন্ড চ্যাঞ্জ দ্য ওয়ার্ল্ড' প্রকাশিত হয়েছিল পাবলিশার্স ওইকলির অনুসারে ২০১৭ সালে বইটির মিলিয়ন কপি বিক্রী হয়েছিল এবং ৭৫০, ০০০ কপি মুদ্রিত হয়েছিল

২০১৫ সালের ডকুমেন্টরিহি নেমড মি মালালাসেরা ডকুমেন্টরি ফিচার হিসাবে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছিল ২০১৭ সালে রীম সমীর শেইখ চিত্রিত করা হিন্দী বায়োফিক ফিল্মগুল মাকাই কথা ঘোষণা করা হয়েছিল

২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবরে ইউসুফজাই 'ম্যাজিক পেন্সিল' নামে একটি বই প্রকাশ করেছিলেন বইটির ব্যাখ্যা করেছিলেন কেরাসকোট ২০১৮ সালের মার্চ মাসের মধ্যে বইটির ৫০০০ কপি বিক্রী হয়েছিল বলে দ্য বুক সেলার জানিয়েছিল ২০১৮ সালেউই আর ডিসপ্লেডঃ ট্রু হিস্টোরিজ অফ রিফিউজি লাইভ' শিরোনামে একটি বই প্রকাশের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল বইটি ইউসুফজাইর সাথে দেখা হওয়া শরণার্থী সম্পর্কে ইউসুফজাইর নিজের জীবনের গল্পও আছে বইটিতে বইটি ২০১৯ সালের জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে

এতো ব্যস্ততার মধ্যেও ইউসুফজাই নিজের অধ্যয়ন অব্যাহত রেখেছিলেন ২০১৩ সালের মার্চ থেকে ২০১৭ সালের জুলাই পর্যন্ত ইউসুফজাই বার্মিংহামের এজবাস্টন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে জিসিএস লেবেল- *এস এবং এএস পেয়েছিলেন উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে তিনি ভূগোল, ইতিহাস, গণিত এবং ধর্মীয় শিক্ষা অধ্যয়ন করেছিলেন ২০২০ সালে তিনি লেডি মার্গারেট হলের শিক্ষার্থী হিসাবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন, রাজনীতি অর্থনীতি(পিপিই)তে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেছেন

ইউসুফজাই অনেক পুরস্কার এবং সন্মান পেয়েছেন-

২০১১ সালে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার ২০১১ সালে যুব শান্তি পুরস্কার ২০১২ সালের জানুয়ারিতে নৈতিক সাহসের জন্য অ্যান ফ্রাঙ্ক পুরস্কার ২০১২ সালের অক্টোবর- সিতারা--সুজাত, পাকিস্থানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সাহসী পুরস্কার ২০১২ সালের নভেম্বরে- ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন দ্বারা বিশ্বের ১০০ চিন্তাবিদের তালিকায় স্থান লাভ ২০১২ সালের ডিসেম্বরে টাইম ম্যাগাজিন দ্বারাপার্সন অফ দ্য ইয়ার'- ২০১২ শর্টলিস্টে অন্তর্ভূক্ত ২০১২ সালের নভেম্বরে ন্যায় বিচারের জন্যমাদার টেরেশাপুরস্কার ২০১২ সালের ডিসেম্বরে শান্তি এবং মানবিক ক্রিয়াকলাপের জন্য রোমের পুরস্কার ২০১৩ সালে গ্লোবাল ইংলিশের বার্ষিক সমীক্ষায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নাম ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে সিমন ডি বেভভায়ার পুরস্কার ২০১৩ সালে মেমিঞ্জার ফ্রেইটসপ্রেসিস পুরস্কার ২০১৩ সালে 'ইনডেক্স অন সেন্সরশিপ' ডুটি স্ট্রিট অ্যাডভোকেসি অ্যাওয়ার্ড ২০১৩ সালে ইউকে ন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ টিচার্সেরফ্রেড এন্ড অ্যান জার্ভিস অ্যাওয়ার্ড, সালের এপ্রিলে ভাইট্যাল ভয়েসেস গ্লোব্যাল লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডস, গ্লোব্যাল ট্রেইলব্লেজার ২০১৩ সালের এপ্রিলে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তির সন্মান ২০১৩ সালের মে মাসে কাতালোনিয়ার প্রিমি ইন্টারনাসিয়োনাল ক্যাটালিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০১৩ সালের জুনেআন্তর্জাতিক ওপেক ফান্ড উন্নয়ন' বার্ষিক পুরস্কার ২০১৩ সালের জুনে আন্তর্জাতিক বর্ষসেরা প্রচারক, ২০১৩ সালে পর্যবেক্ষণকারী নৈতিক পুরস্কার ২০১৩ সালের আগস্টে ২০১২ সালের জন্য টিপ্পেরি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার, আয়ারল্যান্ড টিপ্পেরি শান্তি সন্মেলন ২০১৩ সালে লন্ডনের ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারীতে জোনাথন ইওয়ের দ্বারা ইউসুফজাইর প্রতিকৃতি প্রদর্শিত ২০১৩ সালের সেপ্তেম্বরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর তরফ থেকে অ্যাম্বেসেডর অফ কনসায়েন্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৩ সালে আন্তর্জাাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার ২০১৩ সালে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের তরফ থেকে গ্লোব্যাল সিটিজেন অ্যাওয়ার্ডস ২০১৩ সালের সেপ্তেম্বরে হাভার্ড ফাউন্ডেশনের পিটার গোমেস হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানবিক পুরস্কার ২০১৩ সালে আনা পলিটকভস্কায়া পুরস্কার ২০১৩ সালে ওকলাহোমা সিটি জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং জাদুঘরের পক্ষ থেকেরিফ্লেকশন অফ হোপ অ্যাওয়ার্ড ২০১৩ সালে ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে সাখারভ প্রাইজ অফ ফ্রিডম অফ থট অর্জন ২০১৩ সালে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সন্মানিত সন্মানসূচক মাস্টার ডিগ্রী প্রদান ২০১৩ সালেপ্রাইড অফ ব্রিটেইনসন্মান ২০১৩ সালে গ্ল্যামার ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকেওইম্যান অফ দ্য ইয়ের' সন্মান ২০১৩ সালের নভেম্বরে জিজি লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০১৩ সালে শান্তি অবৈষম্যের জন্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার ২০১৪ সালে শিশুদের নোবেল পুরস্কার হিসাবে খ্যাত বিশ্ব শিশু পুরস্কার

২০১৪ সালে পিএসইইউ (আয়ারল্যাণ্ড) কর্তৃক সন্মানিত আজীবন সদস্য পদ লাভ ২০১৪ সালে স্কল গ্লোব্যাল ট্রেজার অ্যওয়ার্ড ২০১৪ সালে অনারারি ডক্টরেট অফ সিভিল , ইউনিভার্সিটি অফ কিংস কলেজ, হ্যালিফ্যাক্স, নোভা স্কটিয়া, কানাডা ২০১৪ সালে শান্তি নোবেল পুরস্কার ২০১৪ সালে ফিলাডেলফিয়া লিবার্টি মেডেল

২০১৪ সালে এশিয়া গেম চেঞ্জার অ্যাওয়ার্ড ২০১৪ সালে ওয়ান টাইমস ম্যাগাজিন দ্বারা ২০১৪ সালের বিশ্বের প্রভাবশালী ২৫ জন সেরা শিশু হিসাবে মনোনীত ২০১৪ সালে কানাডার সন্মানিত নাগরিকত্ব লাভ ২০১৫ সালে গ্রহাণু৩১৬২০১মালালার সন্মানে নামকরণ ২০১৫ সালে তাঁর বইআই এম মালালার অডিও ভার্সন সেরা অ্যালবামের গ্রামি পুরস্কার অর্জন করেছে ২০১৬ সালে শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়িনের সন্মানিত সভাপতি হিসাবে মনোনীত ২০১৬ সালেঅর্ডার অফ দ্য স্মাইল' পুরস্কার ২০১৭ সালে সর্বকালের সর্বকনিষ্ঠ জাতিসংঘের শান্তির দূত ২০১৭ সালে অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সন্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ ২০১৭ সালে এলিস আইল্যাণ্ড ইন্টারন্যাশনাল মেডেল অফ অনার লাভ ২০১৭ সালে অ্যামেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বছরের সেরা উয়ঙ্ক ২০১৭ সালে হার্পারস বাজার মালালাকেযুক্তরাজ্যের সর্বাধিক প্রভাশালী মহিলা নেতাদের মধ্যে ১৫০' তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছে ২০১৮ সালে সোয়াতের রাজকন্যা জেবুনিসা, সোয়াত রিলিফ ইনিশিয়েটিভ ফাউন্ডেশন, প্রিন্সটন, নিউ জার্সির উপদেষ্টা ২০১৮ সালে হাভার্ড কেনেডি স্কুল অফ পাবলিক লিডারশিপ কেন্দ্রের গ্লিটসম্যান অ্যাওয়ার্ড ২০১৯ সালের মার্চ মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহিলা জাতীয় ফুটবল দলের প্রতিটি মহিলা ইউসুফজাইর নামাঙ্কিত জার্সি পরেছিলেন ২০২০ সালে টেক্সাসের ফোর্ট বেন্ড কাউন্টিতে মালালা ইউসুফজাই প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু হয়েছে স্কুলটি মালালা প্রাথমিক স্কুল নামে পরিচিত

 

         নোবেল বিজয়ী আজিজ সানকার

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আজিজ সানকারের জন্ম দক্ষিণ-পূর্ব তুর্কীর মারডিন প্রদেশের সাভুর শহরে একটি নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিয়ালে ১৯৪৬ সালের সেপ্তেম্বরে আজিজ সানকারের বাবার নাম আব্দুল গণি এবং মার নাম মরিয়াম সানকার আঠ জন ভাইবোনের মধ্যে আজিজ সানকার সপ্তম সন্তান ছিল তিনি তাঁর মা বাবার সাথে বাড়িতে আরবীতে এবং ভাইবোনদের সাথে তুর্কী ভাষায় কথা বলতেন তাঁর বড় বাই কেনান সানকার তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনেরেল ছিলেন তিনি রাজনীতিবিদ মিঠত সানকারেরকাজিনছিলেন আজিজ সানকার হাইস্কুল জীবনে ফুটবলের প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং একজন ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তবে পরে বিজ্ঞান অধ্যয়ন করার সিদ্ধান্ত নেন এবং ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করেন

আজিজ সানকারের মা বাবা অশিক্ষিত ছিলেন যদিও তাঁরা শিক্ষার প্রতি খুবই আগ্রহী ছিলেন সানকার তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা নিজের শহর সাভুরে শুরু করেছিলেন সানকার ছোটবেলা আদর্শ শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন তিনি পরে বলেছেন, শিক্ষকরা তাঁর অনুপ্রেরণার উৎস ছিল স্কুল জীবনে সানকার দুর্দান্ত একাডেমিক সাফল্য অর্জন করেছিলেন তিনি হাইস্কুলে রসায়ন পড়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, তবে তিনি তাঁর পাঁচজন সহপাঠীর সাথে মেডিসিন বিষয়ে অধ্যয়ন করতে হয়েছিল তিনি তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন বিষয়ে অধ্যয়ন করেছিলেন ১৯৬৯ সালে ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যলয় থেকে তিনি এমডি ডিগ্রী অর্জন করেন

ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিসিনে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করে তিনি সাভুরে ফিরে আসেন তিনি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে নিজের শহরে ডাক্তারী করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয় এবং তিনি সাভুর অঞ্চলে প্রাথমিক হেল্থ কেয়ার সেন্টারে দেড় বছর ডাক্তারী করেন টুবিটাকের তরফ থেকে বৃত্তি অর্জন করে তিনি ডালাসের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োকেমিষ্ট্রি বিষয়ে অধ্যয়ন করতে যান, তবে সামাজিক সমস্যা এবং আমেরিকান জীবনযাত্রার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে না পারার দরুন দেড় বছর পরে তিনি আবার সাভুরে ফিরে আসেন তিনি আমেরিকা যাওয়ার পরে প্রথমাবস্থায় কেবল ফরাসি ভাষায় কথা বলতেন, তবে পরে জন হপকিন্সে অধ্যয়নের সময় তিনি ইংরাজি শিখেছিলেন

তিনি রূপ্টকে ডিএনএ মেরামত আবিষ্কারের সাথে জড়িত ছিলেন সানকারের সময়ে রূপ্টক জন হপকিন্সে ছিলেন, পরে ডালাসের টেক্সাসে চলে গিয়েছিলেন সানকার আণবিক জীববিদ্যায় পিএইসডি করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে রূপ্টকে চিঠি লেখেছিলেন তাঁর আবেদন গৃহীত হয় এবং তিনি ১৯৭৭ সালে ক্লাউড স্টান রুপার্টের তত্ত্বাবধানে ডালাসের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে কোলির আলোকিতকরণ এনজাইমে পিএইসডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি মারাত্মক অতিবেগুনি রশ্মি বিকিরণের সংস্পর্শে আসা নীল আলোর ব্যাক্টিরিয়া পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করেছিলেন ১৯৭৬ সালে তিনি ফটোলিয়াসের জন্য জিনটির এমন একটি প্রতিলিপি তৈয়ার করতে সক্ষম হন, যা অতিবেগুনি রশ্মির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত থাইমাইন ডাইমারগুলি মেরামত করে

পিএইসডি শেষ করার পরে সানকার পোস্টডক্টরাল পদের জন্য তিনবার আবেদন করেন, তবে তিনবারই তিনি প্রত্যাখাত হন এবং তারপরে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষাগার টেকনিসিয়ান হিসাবে কাজ শুরু করেন তিনি পাঁচ বছর ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছেন সেখানে তিনি নিউক্লিওটাইড এক্সিজেন মেরামত নিয়ে গবেষণা করেন, যা এমন একটি ডিএনএ মেরামত প্রক্রিয়া যা অন্ধকারে কাজ করে তিনি এই প্রক্রিয়াটির বিশদ আণবিক ব্যাখ্যা করেছেন, যা ইউক্র্যাবিসি(uvrABC) এণ্ডোনুক্লিজ এবং এর জিনগুলির কোড সনাক্ত করে তিনি আরও আবিষ্কার করেন যে এই এনজাইমগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএর স্ট্রাণ্ডে দুবার কাটা পরে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে অন্তর্ভূক্ত ১২-১৩ নিউক্লিওটাইডকে অপসারণ করে

নিউক্লিওটাইড এক্সচেঞ্জ মেরামতের তাঁর এই বিশদ যান্ত্রিক বর্ণনার পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চ্যাপেল হিল- অবস্থিত নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যায়ে প্রভাষক হিসাবে কাজ করার সুযোগ পান তিনি বলেছেন যে তাঁর ইংরেজি উচ্চারণ প্রভাষক হিসাবে কাজ করার জন্য ক্ষতিকারক ছিল চ্যাপেল হিল- সানকার ব্যাকটিরিয়ায় নিউক্লিওটাইডস এক্সিজেন করার জন্য পদক্ষেপগুলি আবিষ্কার করেছেন এবং মানুষের মধ্যে এই মেরামত ব্যবস্থার আরও জটিল সংস্করণে কাজ করেছেন

সানকারের দীর্ঘকালের অধ্যয়ন ফটোলিজেন্স এবং ফটো-রিএক্টিভেশন পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত তাঁর পিএনএএস-এর উদ্বোধনী প্রবন্ধে সানকার প্রায় বিশ বছর ধরে ফটোলিজকে অনুসরণ করে কাজ করেছেন এবং থাইমাইন ডাইমার মেরামতের জন্য ফটোসাইকেলের সরাসরি পর্যবেক্ষণ সরবরাহ করেছিলেন সানকার এবং তাঁর রিসার্চ টীম আবিষ্কার করেছিলেন যে পিরিয়ড এবং ক্রিপ্টোক্রোম সমস্ত মানব কোষের সার্কিডিয়ান ঘড়িগুলি যথাযথ ছন্দে রাখে এবং দিনরাত ২৪ ঘণ্টা এবং সমস্ত মরশুমে সিঙ্ক(syncing)রাখে তাঁদের গবেষণাগুলি জেনস এণ্ড ডেভেলপমেণ্ট জার্নালে ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্তেম্বরে প্রকাশ করেছিল সানকারের গবেষণা মানবদেহের সার্কিডিয়ান ঘড়িগুলির কাজ সম্পর্কে একটি সম্পূর্ণ উপলব্ধি প্রদান করেছে, যা বিভিন্ন অসুস্থতা এবং ব্যাধি যেমন, ‘এফেক্টিভ ডিজঅরডার যথা জেট-লাগ(Jet- lag), ঋতুজনিত এফেক্টিভ ডিজঅরডারএবং কেন্সার নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন কেন্সার চিকিৎসায় কাজ করে

আজিজ সানকার প্রথম তুর্কি-আমেরিকান সদস্য হিসাবে ২০০৫ সালে জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমিতে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি চ্যাপেল হিল-এর নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োকেমিষ্টি বিভাগের সারাহ গ্রাহাম কেনান (নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৬৫ সালে সারাহ গ্রাহাম কেনান প্রফেসরশিপ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে )অধ্যাপক সানকার ১৯৭৮ সালে নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়েরবায়কেমিষ্ট্রি এবং বায়ফিজিক্সের প্রফেসর গয়ে বোলেস সানকারের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন গয়ে বোলেসের সাথে ডালাসে পিএইসডি করার সময় সাক্ষাৎ হয়েছিল সেখানে তিনি আণবিক জীববিজ্ঞানও অধ্যয়ন করেছিলেন তাঁরা দু'জনে মিলে ইউএনসি-সিএইস-এর ক্যাম্পাসের পাশে একটি স্থায়ী তুর্কি আবাসন কেন্দ্র স্থাপন করেছেন, সেখানে চারজন তুর্কি স্নাতক গবেষককে বসবাসের সুযোগ প্রদান করার সাথে তুর্কি পরিদর্শনকারী আলেমদের স্বল্পমেয়াদী অতিথি পরিষেবা সরবরাহ করা হয়

পুরস্কার- ডিএনএ মেরামত সংক্রান্ত গবেষণার জন্য টমাস লিণ্ডাল এবং পল এল মোডরিসের সাথে ২০১৫ সালে আজিজ সানকার রসায়নে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন ১৯৮৪ সালে তাঁকে আণবিক বায়োফিজিক্সে জাতীয় বিজ্ঞান ফাউণ্ডেশনের তরফ থেকে রাষ্ট্রপতি যুব তদন্তকারী পুরস্কার প্রদান করা হয়েছিল ওরহান পামুকের পরে সানকার দ্বিতীয় তুর্কি নোবেল বিজয়ী নোবেল পুরস্কার অর্জনের পরে সানকারের জাতিসত্ত্বা নিয়ে তাঁকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছিল তখন সানকার বলেছিলেন, তিনি যে সব কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন, তাতে বিশেষত তাঁর জাতিগত পটভূমি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে বিবিসির পক্ষ থেকে যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনিতুর্কি না অর্ধ-আরব'? তখন সানকার উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আমি আরবী বা কুর্দি ভাষা বলিনা, তবে আমি একজন তুর্ক আজিজ সানকারের ভাই তাহির একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তাদের পরিবার মধ্য এশিয়া থেকে কোনও এক সময় ওঘুজ তুর্কি পরিবার থেকে এসেছিল তিনি আরও বলেছিলেন যে তাঁর ভাইয়ের নোবেল পুরস্কার কুর্দিসহ তুরস্কের সকলের জন্য সন্মান বয়ে এনেছে অন্য একটি সাক্ষাৎকারে সানকার বলেছিলেন, যৌবনে তিনি জাতীয়তাবাদী ছিলেন, তবে তিনি কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন নি

আজিজ সানকার তাঁর নোবেল পুরস্কারের স্বর্ণপদক প্রশংসাপত্র মোস্তাফা কামাল আতাতুর্কের ৯৭তম জন্মবার্ষিকিতে ২০১৬ সালের ১৯ মে তাঁর সমাধিতে দান করেছেন তিনি তাঁর নোবেল পুরস্কার পদক এবং প্রশংসাপত্রের একটি প্রতিলিপি ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি এমডি ডিগ্রী অর্জন করেছিলেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারাল সরকারের জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশন কর্তৃক ১৯৮৪ সালে আজিজ সানকারকে রাষ্ট্রপতি যুব তদন্তকারী পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে প্রোগ্রামটি ১৯৮৪ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছিল এবং এনএসএফ ইয়ং ইনভেস্টিগেটর(এনওয়াইআই) এবং প্রেসিডেন্সিয়াল ফ্যাকাল্টি ফেলো প্রোগ্রামদ্বারা পুরস্কারটি প্রতিস্থাপিত করা হয়েছিল পুরস্কারটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত হোয়াইট হাউস কর্তৃক প্রাপ্ত প্রশংসাপত্রের সাথে প্রতি বছরের জন্য ন্যূনতম ২৫,০০০ মার্কিন ডলার অনুদান অন্তর্ভুক্ত ছিল

মানব কল্যাণের জন্য উৎসৰ্গিত প্ৰাণ নোবেল বিজয়ী এই মহান বিজ্ঞানীর দীৰ্ঘ জীবন কামনা করছি।

-সমাপ্ত-

 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেলেবেলা সান্নিধ্যে আসা মুরব্বীদের সংক্ষিপ্ত পরিচয়।

ভাৰত তথা অসমৰ সাধাৰণ নিৰ্বাচনৰ সাৰাংশ-১৯৫২-২০২৪

শাস্তি (অনুবাদ উপন্যাস)