কিংবদন্তি চলচ্চিত্ৰ অভিনেতা
কিংবদন্তি চলচ্চিত্ৰ অভিনেতা
সূচীপত্র
চলচ্চিত্র শিল্পের
পিতৃপুরুষ পৃথ্বীরাজ কাপুর-
অশোক কুমার-
বলরাজ সাহনী-
কিংবদন্তি অভিনেতা
প্রাণ সিকান্দ-
দিলীপ কুমার-
দেব আনন্দ-
রাজ কাপুর-
রাজ কুমার-
সুনীল দত্ত-
রাজেন্দ্র কুমার-
কিংবদন্তি অভিনেতা
ধর্মেন্দ্ৰ-
মনোজ কুমার-
শশী কাপুর-
প্রারম্ভিকা
আমাদের ছেলেবেলা
সিনেমা দেখাটা
সৌভাগ্যের ব্যাপার
ছিলো। শহরের ছেলে-মেয়েদের যদিও
সিনেমা দেখার
সুযোগ ছিলো,
গ্রামের ছেলে-মেয়েদের মুঠেই
সে সুযোগ
ছিলনা। তখন গ্রামে
রেডিও পর্যন্ত
ছিলনা। একেবারে যে
ছিলনা, তা নয়,
হাতে গুণা
এক দুইজন
ধনী শিক্ষিত
লোকের বাড়ীতে
অবশ্যে রেড়িও
ছিল। তখন এক
দুইজন অশিক্ষিত
ধনী লোকেরা
শখ করে
গ্রামোফোন কিনত
এবং গ্রামোফোন
নিয়ে আত্মীয়-
স্বজনদের বাড়ী
গিয়ে গান
শোনাত।
তখন ছেলে-মেয়েরা গ্রামোফোনের
চারপাশে গোল
করে বসে
গান শুনত। কেউ কেউ আবার
গ্রামোফোনের ভেতরে
কে গান
গাইছে, তা দেখার জন্য
গ্রামোফোনের চারপাশে
ঘুরে ঘুরে
দেখত। এমনই ছিলো
আমাদের ছেলেবেলার
অবস্থা ।
আমার জন্ম
১৯৫১ সালের
১২ নভেম্বর। আমি প্রথম সিনেমা
দেখেছিলাম ১৯৬৬
সালে আমার
ছোট মামা
ফয়জল হকের
সাথে, বরপেটার ইন্দ্রপূরী (মনমোহন)
সিনেমা গৃহে। সিনেমাটা ছিলো ‘খানদান’- সুনীল দত্ত,
নূতন, প্রাণ এবং অন্যান্য
অভিনেতাদের অভিনীত। পরে অনেকবার অনেক
সিনেমা দেখেছি। তখন সিনেমার নায়কদের
বিষয়ে জানার
খুবই আগ্রহ
হতো,
তবে জানার
উপায় ছিলনা। তাই সে সকল
কিংবদন্তি নায়কদের
বিষয়ে জানতে
গিয়েই আমি
‘কিংবদন্তি চলচ্চিত্র
অভিনেতা' গ্রন্থটি লেখার প্রেরণা
পেয়েছি। গ্রন্থটিতে ১৯৪০
সালের আগে
পর্যন্ত জন্ম
গ্রহণ করা
১৩জন অভিনেতার
সংক্ষিপ্ত জীবনী
সন্নিবিষ্ট করা
হয়েছে। বিভিন্ন উৎস
বিশেষ করে
উকিপেডিয়া থেকে
তথ্য সংগ্রহ
করা হয়েছে। তথ্য বিভ্রাটের জন্য
আমি সদাশয়
পাঠকের নিকট
ক্ষমাপ্রার্থী। ভুল-ত্রুটিগুলো শুধরে
দিয়ে আমায়
উৎসাহিত করার
জন্য আবেদন
রইল।
বিনীত
আবুল হোসেইন
যতিগাঁও, বরপেটা, আসাম ।
চলচ্চিত্র শিল্পের পিতৃপুরুষ
পৃথ্বীরাজ কাপুর
কিংবদন্তি চলচ্চিত্র
অভিনেতা পৃথ্বীরাজ
কাপুরের জন্ম
ব্রিটিশ শাসিত
ভারতের পাঞ্জাবের
লায়লপুর জেলার
সমুদ্রি তহসিলে
১৯০৬ সালের
৩ নভেম্বর-এ। তিনি ভারতীয়
থিয়েটার এবং
সিনেমার পথিকৃত
ছিলেন। তিনি প্রথমে
লায়লপুরে অবস্থিত
খালসা কলেজে
পড়াশোনা করেন
এবং পরে
পেশোয়ারের এডওয়ার্ডস
কলেজে ভর্তি
হন। খালসা কলেজ
বর্তমান সরকারি
পৌর ডিগ্রী
কলেজ নামে
পরিচিত। হিন্দী সিনেমার
নির্বাক যুগে
পৃথ্বীরাজ কাপুর
অভিনেতা হিসাবে
কেরিয়ার শুরু
করেছিলেন। তিনি ইন্ডিয়ান
পিপলচ্ থিয়েটার
এসোসিয়েশন(আইপিটিএ)-এর সদস্য
ছিলেন এবং
ভ্রাম্যমাণ থিয়েটার
সংস্থা পৃথ্বী
থিয়েটার-এর প্রতিষ্ঠাতা পৃথ্বী
থিয়েটার ১৯৪৪
সালে প্রতিষ্ঠা
করা হয়েছিল। আইপিটিএ ভারতীয় নাট্য-শিল্পীদের প্রাচীনতম
সমিতি। আইপিটিএ ১৯৪৩
সালে স্বাধীনতাপূর্ব ভারতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল
এবং সমিতিটি
স্বাধীনতা সংগ্রামের
সাথে সম্পৃক্ত
বিষয়গুলিকে প্রচার
করত। ভারতীয় জনগণের
মধ্যে সাংস্কৃতিক
জাগরণ সৃষ্টি
করাই ছিল
আইপিটিএর মূল
লক্ষ্য। পৃথ্বীরাজ কাপুর
ভারতীয় হিন্দী
সিনেমা এবং
কাপুর পরিবারের
পিতৃপুরুষ ছিলেন। কাপুর পরিবার চারটি
প্রজন্ম ধরে
হিন্দী সিনেমা
জগত-এ সক্রিয় ভূমিকা পালন
করে আসছেন। পৃথ্বীরাজ কাপুর কানাড়া
চলচ্চিত্র ‘সাক্ষাতকার'-এও অভিনয়
করেছেন। তাঁর পিতার
নাম বশেশ্বরনাথ। তিনি পেশোয়ার শহরে
ইম্পেরিয়াল পুলিশে
অফিসারের দায়িত্ব
পালন করেছিলেন। বশেশ্বরনাথ কাপুরও ‘আওড়া’ ছবিতে একটি
ছোট চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে অবদানের
জন্য ভারত
সরকার পৃথ্বীরাজ
কাপুরকে ১৯৬৯
সালে পদ্মভূষণ
এবং ১৯৭১
সালে দাদাসাহেব
ফালকে পুরস্কারে
ভূষিত করেছেন।
পৃথ্বীরাজ কাপুর
লায়লপুর ও
পেশোয়ারের প্রেক্ষাগৃহে
প্রথমে অভিনয়
কেরিয়ার শুরু
করেছিলেন। খালা আম্মার
কাছ থেকে
টাকা কর্জ
নিয়ে তিনি
১৯২৮ সালে
বোম্বে চলে
আসেন। বোম্বে এসে
প্রথমে তিনি
ইম্পেরিয়াল ফিল্মস
সংস্থায় যোগদান
করেন এবং
মুভিতে ছোটখাটো
চরিত্রে অভিনয়
শুরু করেন। ১৯২৮ সালে তিনি
তাঁর প্রথম
ছবি
‘বে ধারি
তলোয়ার’-এ অভিনয়ের সূচনা
করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি
সিনেমা গার্ল,
শের-এ-আরব এবং
প্রিন্স বিজয়
কুমার সহ
নয়টি ছবিতে
অভিনয় করেন। ১৯২৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত
‘সিনেমা গার্ল'
ছবিতে তিনি
মুখ্য ভূমিকায়
অভিনয় করেছিলেন।
১৯৩১ সালে
মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম
সবাক ছবি
‘আলমআরা’ মুভিতে পৃথ্বীরাজ কাপুর
সহ-চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। ১৯৩৭ সালে
মুক্তিপ্রাপ্ত বিদ্যাপতি
ছবিতেও তিনি
অভিনয় করেছিলেন
এবং তাঁর
অভিনয় খুবই
প্রশংসিতও হয়েছিল। সম্ভবতঃ তাঁর সর্বাধিক
পরিচিতি আসে
সোহরাব মোদী
পরিচালিত ১৯৪১
সালে মুক্তিপ্রাপ্ত
‘আলেকজেন্ডার দ্য
গ্রেট' ছবি থেকে। তিনি গ্রান্ট
এন্ডারসন সংস্থা
থিয়েটার কোম্পানীতে
যোগাদান করেছিলেন। সংস্থাটি ছিল ইংরেজি
নাট্য সংস্থা। এটি এক বছরের
জন্য বোম্বেতে
ছিল। এই এক
বছর কাপুর
থিয়েটারের প্রতি
খুবই অনুরক্ত
ছিলেন এবং
তিনি নিয়মিতভাবে
মঞ্চে অভিনয়
করতেন। ফলে তিনি
মঞ্চ এবং
পর্দা উভয়
ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম
এবং বহুমুখী
প্রতিভা সম্পন্ন
অভিনেতা হিসাবে
খ্যাতি অর্জন
করেছিলেন। ১৯৪৪ সালে
পৃথ্বীরাজ কাপুর
তাঁর নিজস্ব
থিয়েটার দল
পৃথ্বীরাজ থিয়েটার
গঠন করেন। পৃথ্বীরাজ “থিয়েটারে অভিনীত
প্রথম নাটক
ছিল
'অভিজ্ঞানশকুন্ততাম'।
পৃথ্বী থিয়েটার
ভারতব্যাপী সুনাম
অর্জন করেছিল। নাটকগুলি অত্যন্ত প্রভাবশালী
ছিল এবং
তরুণদের ভারত
ত্যাগ আন্দোলনে
অংশগ্রহণ করতে
অনুপ্রাণিত করত। পৃথ্বী থিয়েটারে ১৬
বছরের কিছু
অধিক সময়ে
২৬৬২ টি
নাটক অভিনীত
হয়েছিল। পৃথ্বী থিয়েটারে
অভিনীত নাটকগুলির
মাঝে পাঠান
নাটকটি অন্যতম
ছিল। নাটকটি ৬০০
বার অভিনীত
হয়েছিল। নাটকটি একজন
হিন্দু এবং
মুছলমান বন্ধুর
গল্প নিয়ে
রচনা করা
হয়েছিল। পৃথ্বীরাজ কাপুর
প্রতিটি প্রদর্শনীতে
মুখ্য চরিত্রে
অভিনয় করতেন। ১৯৪৬ সাল থেকে
পৃথ্বীরাজ কাপুরের
বড় ছেলে
রাজ কাপুর
পিতৃর কাজে
অংশগ্রহণ করতে
শুরু করেছিলেন।
১৯৫০-এর দশকের শেষের
দিকে ৮০
জন ব্যক্তির
একটি দল
নিয়ে চার
থেকে ছয়
মাস দেশ
ভ্রমণ করাটা
আর্থিকভাবে অসম্ভব
হয়ে উঠে। টিকেট বিক্রীর টাকা
এবং পূর্ববর্তী
ভারতীয় রাজপুত্র
শ্রেণীর পৃষ্টপোষকদরে
আর্থিক সাহায্য
দল চালানোর
পক্ষে সম্ভব
ছিলনা ।
তদুপরি পৃথ্বীরাজ
থিয়েটারের দক্ষ
অভিনেতা এবং
কলা-
কুশলীরা সিনেমাগুলিতে
অংশগ্রহণ করতে
শুরু করে। তাই তিনি ধীরে
ধীরে থিয়েটারের
কার্যক্রম বন্ধ
করে পুত্রদেরসহ
চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণ
করতে শুরু
করেন। ১৯৫১ সালে
‘আওয়ারা' চলচ্চিত্রে তিনি পুত্র
রাজ কাপুরসহ
অংশগ্রহণ করেন। পৃথ্বী থিয়েটার পরে
তাঁর পুত্র
শশী কাপুর
এবং পুত্রবধূ
জেনিফার কেন্ডালের
অধীনে ভারতীয়
শেক্সপিয়ের থিয়েটার
সংস্থা ‘শেক্সপীয়ারিনা’র সাথে একীভূত হয়
এবং ১৯৭৮
সালের ৫
নভেম্বরে মুম্বাইয়ে
একটি স্থায়ী
প্রেক্ষগৃহের শুভ
উদ্বোধন করে। পৃথ্বী থিয়েটারের সুবর্ণজয়ন্তী
উপলক্ষে ভারতীয়
ডাক বিভাগ
১৯৯৬ সালে
দুই টাকার
ডাক টিকিট
জারি করেছিল। ডাক টিকিটটিতে থিয়েটারের
লগো এবং
পৃথ্বীরাজ কাপুরের
ফটো প্রদর্শন
করা হয়েছিল।
পৃথ্বীরাজ কাপুর
চলচ্চিত্র অভিনেতা
হিসাবে অনেক
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছেন। ১৯৬০ সালে
মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মুঘল-ই-আজম’-এ তিনি মুঘল সম্রাট
আকবরের চরিত্রে
স্মরণীয় অভিনয়
করেছেন। ১৯৬৩ সালে
তিনি ‘হরিশ্চন্দ্র- তারামতী' চলচ্চিত্রে মুখ্য ভূমিকায়
অভিনয় করেছেন। ১৯৬৫ সালে সিকান্দার-ই-আজম-এ তিনি পুরুসের মতো
একটি স্মরণীয়
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। ১৯৭১ সালে
তিনি ‘কাল আজ আর
কাল’
ছবিতে তিনি
পুত্র রাজ
কাপুর এবং
নাতি রণধীর
কাপুরের সাথে
অভিনয় করেছেন। পৃথ্বীরাজ কাপুর ১৯৬৯
সালে মুক্তিপ্রাপ্ত
কিংবদন্তি পাঞ্জাবি
ধর্মীয় ছবি
‘নানক নাম
জাহাজ হ্যায়’-এ অভিনয় করেছেন। ছবিটি পাঞ্জাবে
এতটাই জনপ্রিয়
হয়েছিল যে,
টিকিট কেনার
জন্য বহু
কিলোমিটার দীর্ঘ
লাইন লাগতো। এছাড়াও ১৯৭০ সালে
তিনি পাঞ্জাবি
ছবি
‘নানক দুখিয়া
সাব সংসার'-এ অভিনয় করেছেন। ১৯৭১ সালে
তিনি পুতত্না
কানাগাল পরিচালিত
কানাড়া চলচ্চিত্র
‘সাক্ষাতকার’-এ
অভিনয় করেছেন। উক্ত ছবিতে তিনি
অভিনেতা পুত্র
রাজ কুমারের
বাবা হিসাবে
অভিনয় করেছিলেন।
পৃথ্বীরাজ কাপুর
১৭ বছর
বয়সে ১৫
বছর বয়সী
রামসার্ণি মেহেরার
সাথে বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হয়েছিলেন। ১৯২৪ সালের
২৪ ডিসেম্বরে
বড় ছেলে
রাজ কাপুর
জন্ম গ্রহণ
করেন। পৃথ্বীরাজ কাপুর
১৯২৭ সালে
পরিবারসহ মুম্বাই
চলে আসেন। মুম্বাই আসার সময়
তিনি তিন
সন্তানের পিতৃ
ছিলেন। মুম্বাই আসার
পরে রামসার্ণি
চতুর্থবারের জন্য
গর্ভবতী হয়েছিলেন। তাঁদের দুই সন্তান
এক সপ্তাহের
ব্যবধানে মারা
যায়। শিশু দেবীন্দ্র
(দেবী) ডাবল নিউমোনিয়া হয়ে
মারা যায়
এবং অন্যজন
শিশু রবীন্দ্র
(বিন্দি) বাগানের মধ্যে ইঁদুর
মারার জন্য
রাখা ইঁদুর-বিষের বড়ি
খেয়ে মারা
যায়। এই দম্পত্তির
পরে আরও
তিনটি সন্তান
ক্রমে শাম্মী
কাপুর, শশী কাপুর এবং
মেয়ে উর্মিলা
সিয়ালের জন্ম
হয়। এদের মধ্যে
শমসের রাজ
(শাম্মী কাপুর)
এবং বলবীর
রাজ(শশী কাপুর)
অভিনেতা এবং
চলচ্চিত্র নির্মাতা
হয়ে উঠেছিলেন।
অবসর গ্রহণের
পরে পৃথ্বীরাজ
কাপুর জুহু
সমুদ্র সৈকতের
কাছে পৃথ্বী
ঝোনপ্রা নামে
একটি কটেজে
বাসকরতেন। সম্পত্তিটি প্রথমে
ইজারাতে ছিল
এবং পরে
শশী কাপুর
এটি কিনে
নিয়েছিল। এটি পরবর্তী
পর্যায়ে একটি
ছোট পৃথ্বী
থিয়েটারে পরিণত
করেছিলেন। পৃথ্বীরাজ কাপুর
এবং রামসার্ণি
উভয়েরই ক্যান্সার
হয়েছিল এবং
পনের দিনের
ব্যবধানে উভয়ে
মারা যান। পৃথ্বীরাজ কাপুর ১৯৭২
সালের ২৯
মে মারা
গিয়েছেন।
পৃথ্বীরাজ কাপুরের
বড় ছেলে
রাজ কাপুর
পিতৃ-মাতৃর স্মৃতি স্মরণীয়
করে রাখতে
তাঁদের পারিবারিক
খামার ‘রাজবৌ' (উদ্যানের রাজা)-এ সমাধি (স্মৃতিসৌধ) নির্মাণ করেছেন। স্মৃতিসৌধটি এমআইটি
আর্ট ডিজাইন
এন্ড টেকনোলজি
ইউনিভার্সিটির অভ্যন্তরে
অবস্থিত। রাজবৌ মহারাষ্ট্রের
পুণে থেকে
৩০ কিলোমিটার
দূরের মুলা-মুথা নদী-তীরের লুনি
কালভোর গ্রামে
অবস্থিত। কাপুর পরিবার
রাজবৌর ১২৫
একর জমির
কিছু অংশ
এমআইটি ওয়ার্ল্ড
পীস ইউনিভার্সিটিকে বিক্রী করে দিয়েছে। কুকিলকণ্ঠী সুগায়িকা লতা
মাঙ্গেশকর ২০১৪
সালে কাপুর
পরিবারের উপস্থিতিতে
স্মারকটি উন্মোচন
করেছেন। কাপুর পরিবারের
স্মৃতিসৌধে ৭
টি প্যাগোডা
রয়েছে। যেখানে রাজ
কাপুর ১৯৪৫
সাল থেকে
১৯৯০ সাল
পর্যন্ত নির্মিত
চলচ্চিত্রের উপাদান
এবং কাপুর
পরিবারের ফটো
রয়েছে। সেগুলো প্রদর্শনের
জন্য একটি
গ্যালারি আছে।। এখানে
সত্যম শিবম
সুন্দরম, মেরা নাম জোকার,
ববী,
প্রেমরোগ প্রভৃতি
অন্যান্য অনেক
চলচ্চিত্রের শ্যুটিং
করেছেন। ‘হাম তুম
এক কমরে
মে বন্ধ
হো'
জনপ্রিয় গীতটি
এখানে শ্যুটিং
করা হয়েছিল।
পৃথ্বীরাজ কাপুর
অভিনীত চলচ্চিত্রসমূহ- দো ধারি
তরোয়াল(১৯২৮), সিনেমা গার্ল
(১৯২৯), আলম আরা(১৯৩১), দ্রৌপদী(১৯৩১), রাজরাণী মীরা(১৯৩৩), ডাকু মনসুর(১৯৩৪), সীতা(১৯৩৪), মনজিল (১৯৩৬), মিলাপ (১৯৩৭), প্রেসিডেন্ট(১৯৩৭), বিদ্যাপতি(১৯৩৭), দুশমন(১৯৩৯), চিগারি (১৯৪০), সজনি(১৯৪০), রাজ নর্তকী (১৯৪১), সিকান্দার (১৯৪১), ইশারা(১৯৪৩), মহারথী কর্ণ(১৯৪৪), দহেজ(১৯৫০), আওরা(১৯৫১), আনন্দ মঠ(১৯৫২), ছত্রপতি শিবাজী(১৯৫৩), পরদেশী(১৯৬০), জগ্গা ডাকু(১৯৫৯), মুঘল-ই-আজম(১৯৬০), হরিশ্চন্দ্র(১৯৬৩), রুস্তম সোহরাব(১৯৬৩), প্যার কিয়া
তো ডরনা
ক্যায়া(১৯৬৩), গজল(১৯৬৪), জাহানআরা(১৯৬৪), জিন্দগী(১৯৬৪), জানওয়ার(১৯৬৫), সিকান্দার- ই-আজম
(১৯৬৫), খাকান(১৯৬৫), ডাকু মংগল সিংহ(১৯৬৬). লাল বাঙলা(১৯৬৬), ইয়ে রাত
ফির না
আয়েগি(১৯৬৬), তিন বহুরূপীয়া(১৯৬৮), পাঞ্জাবী ছবি নানক
নাম জাহাজ
হ্যায়(১৯৬৯), হীর রানঝা(১৯৭০), কানাড়া ছবি সাক্ষাতকার(১৯৭১), কাল আজ আউর
কাল(১৯৭১), পাঞ্জাবি মেলে মিত্রন
দে(১৯৭২) প্রভৃতি।
সন্মান-১৯৫৪
সালে সংগীত
নাটক অ্যাকাডেমির
দ্বারা পথ্বীরাজ
কাপুরকে সংগীত
নাটক অ্যাকাডেমি
ফেলোশিপ এবং
১৯৬৯ সালে
ভারত সরকার
পদ্মভূষণ সন্মানে
ভূষিত করেছেন। ১৯৫৬ সালে সংগীত
নাটক অ্যাকাডেমি
পুরস্কার প্রদান
করেছেন। ভারতীয় সিনেমা
এবং নাটকে
বিশেষ অবদানের
জন্য তাঁকে
মরণোত্তরভাবে ১৯৭২
সালে দাদা
সাহেব ফালকে
পুরস্কার প্রদান
করেছেন। পৃথ্বীরাজ কাপুর
রাজ্যসভার মনোনীত
সদস্য হিসাবে
৮ বছর কার্যনির্বাহ করেছেন।•
অশোক
কুমার
কিংবদন্তি অভিনেতা
অশোক কুমারের
জন্ম ব্রিটিশ
শাসিত ভারতের
বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির
ভাগলপুরে ১৯১১
সালের ১৩
অক্টোবর-এ একটি বেঙ্গলী
হিন্দু পরিবারে। তার প্রকৃত নাম
কুমুদলাল গাঙ্গুলী। চলচ্চিত্র শিল্পে তিনি অশোক
কুমার নামে
পরিচিত ছিলেন। অনেকে তাঁকে ‘দাদামণি' বলেও সম্বোধন
করতেন। তিনি চলচ্চিত্র
শিল্পের ‘আইকন' সদৃশ ছিলেন। তিনি ছিলেন ভারতীয়
চলচ্চিত্র জগতের
প্রথম একমাত্র
মেগা এবং
কিংবদন্তি অভিনেতা। তাঁর পিতৃর নাম
কুঞ্জলাল গাঙ্গুলী
এবং মাতৃর
নাম গৌরী
দেবী। তাঁর বাবা
পেশায় একজন
অধিবক্তা এবং
মাতৃ গৃহিণী
ছিলেন। কুমুদলাল চারজন
বাই-বোনের মাঝে
জ্যেষ্ঠ ছিলেন। বোন সতী দেবী
তাঁর চেয়ে
মাত্র কয়েক
বছরের ছোট
ছিলেন এবং
অল্প বয়সে
তিনি শশধর
মুখোপাধ্যায়ের সাথে
বিবাহ বন্ধনে
আবদ্ধ হয়েছিলেন। এর পরে তাঁর
ছোট ভাই
কল্যাণ গাঙ্গুলী
তাঁর চেয়ে
১৪ বছরের
ছোট ছিলো। যিনি চলচ্চিত্র শিল্পে
অনুপ কুমার
নামে পরিচিত। তাঁর পরের ভ্রাতার
নাম ছিলো
আভাস। চলচ্চিত্র শিল্পে
যিনি কিশোর
কুমার নামে
পরিচিত ছিলেন। কিশোর কুমার হিন্দী
চলচ্চিত্র শিল্পে
সফল নেপথ্য
গায়ক ছিলেন। কিশোর কুমার ১৯৮৭
সালে মারা
যান। কিশোর কুমারের
মৃত্যুর পর
অশোক কুমার
জন্মদিন পালন
বন্ধ করে
দিয়েছিলেন।
কিশোর বয়সেই
অশোক কুমার
একই রকম
পারিবারিক পটভূমির
বাঙ্গালি ব্রাহ্মণ
পরিবারের মেয়ে
শোভার সাথে
আনুষ্ঠানিক বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হয়েছিলেন। চলচ্চিত্র শিল্পে
ব্যস্ত থাকা
সত্ত্বেও তাঁদের
বিবাহ বন্ধন
সৌহৃদ্যপূর্ণ এবং
আন্তরিক ছিলো। তাঁদের এক ছেলে,
অরূপ গাঙ্গুলী
এবং তিন
মেয়ে, ভারতী প্যাটেল, রূপা ভার্মা এবং
প্রীতি গাঙ্গুলী। চলচ্চিত্র শিল্পের সাথে
জড়িত থাকা
সত্ত্বেও তাঁরা
মধ্যবিত্ত পরিবারের
মতো জীবনযাপন
করতেন এবং
ছেলে-মেয়েদের মূল্যবোধের শিক্ষা
দিয়েছিলেন। অরূপ গাঙ্গুলী
১৯৬২ সালে
‘বেজুবান’ শিরোনামে একটি চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেছিলেন,
তবে চলচ্চিত্রটি
বক্স অফিসে
ফ্লপ হয়েছিলো। পরে তিনি আর
অভিনয় করেননি,
কর্পোরেট বিশ্বে
ক্যারিয়ার গড়ে
তুলেছিলেন। বড় মেয়ে
ভারতী প্যাটেল
অভিনেত্রী অনুরাধা
প্যাটেলের মাতৃ
। দ্বিতীয় কন্যা রূপা
ভার্মা কমেডিয়ান
অভিনেতা দেবেন
ভার্মার মাতৃ। ছোট মেয়ে প্রীতি
গাঙ্গুলী চলচ্চিত্র
শিল্পে প্রবেশ
করেছিলেন। তিনি ১৯৭০-১৯৮০-র দশকে বেশ
কয়েটি হিন্দী
চলচ্চিত্রে কৌতুক
অভিনেত্রী হিসাবে
অভিনয় করেছিলেন। তিনি অবিবাহিতা ছিলেন। ২০১২ সালে তিনি
মারা গিয়াছেন।
অশোক কুমারের
বড় মেয়ে
দুইবার বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হয়েছেন। প্রথমে একজন
গুজরাটী ভদ্রলোক
মিস্টার প্যাটেলের
সাথে বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হয়েছিলেন। তাঁদের এক
মেয়ে অনুরাধা
প্যাটেল। অনুরাধা প্যাটেল
অভিনেতা কানওয়ালজিৎ
সিংয়ের সাথে
বিবাহ বন্ধনে
আবদ্ধ হয়েছিলেন। ভারতী তাঁর পরিবারের
আপত্তি সত্ত্বেও
অভিনেতা সাঈদ
জাফ্রির ভ্রাতা
হামিদ জাফ্রি
নামের একজন
মুসলমানের সাথে
দ্বিতীয়বার বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হয়েছিলেন। হামিদ জাফ্রির
প্রথমা স্ত্রী
ভ্যালেরি সালওয়ে
স্কটিশ, আইরিশ, পর্তুগীজ এবং
ইটালীয়ান ঐতিহ্যের
মহিলা ছিলেন। ভ্যালেরির দুই কন্যা
জেনেভিভ এবং
সাহিন। জেনেভিভ সিন্ধি
ব্যবসায়ী জগদীপ
আদভানির সাথে
বিবাহ বন্ধনে
আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের এক মেয়ে
অভিনেত্রী কায়িরা
আদভানি। তাই কায়িরা
আদভানির সাথে
অশোক কুমারের
কোনো রক্তের
সম্পর্ক নেই,
যদিও কায়িরা
অশোক কুমারের
নাতনি বলে
মাঝে মাঝে
গুজব রটেছে।
দাদামণি হিসাবে
পরিচিত অশোক
কুমার কলকাতার
প্রেসিডেন্সি কলেজে
পড়শোনা করেছেন। তবে তিনি পড়াশোনার
চেয়ে সিনেমার
প্রতি অধিক
আগ্রহী ছিলেন
এবং তিনি
একজন প্রযুক্তিবিদ
হওয়ার স্বপ্ন
দেখেছিলেন। তাঁর বাবা
একজন আইনজীবী
ছিলেন, তাই অশোক কুমারকেও
আইনজীবী হওয়ার
জন্য উৎসাহিত
করেছিলেন এবং
আইন কলেজে
ভর্তি করে
দিয়েছিলেন। তবে,
অশোক কুমার
আইনের পরীক্ষায়
ব্যর্থ হন। তাঁর বোন সতী
তাঁর স্বামীর
সাথে বোম্বাইয়ে
বসবাস করতেন। পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে
অভিভাকের শাসন
থেকে বাঁচতে
পুনরায় পরীক্ষা
অনুষ্ঠিত না
হওয়া পর্যন্ত
অশোক কুমার
বোনের সাথে
বসবাস করতে
বোম্বাই চলে
আসেন। ভগ্নীপতি শশধর
মুখোপাধ্যায় ভারতীয়
চলচ্চিত্র স্টুডিওর
শীর্ষস্থানীয় বোম্বাই
টকিজে টেকনিক্যাল
বিভাগে সিনিয়র
পদে কর্মরত
ছিলেন। অশোক কুমার
নিজের জন্য
কিছু অর্থ
উপার্জন করতে
চেয়েছিলেন, তাই
শশধর মুখোপাধ্যায়,
অশোক কুমারের
জন্য বোম্বাই
টকিজের পরীক্ষাগার
সহায়কের চাকরির
জন্য সুপারিশ করেন এবং চাকরিটা
হয়ে যায়। ১৯৩০-এর দশকের
গোড়ার দিকে
হলেও বেতন
মোটা-মুটি ভালোই ছিলো। অশোক কুমারের কাছে
কাজটি আকর্ষণীয়
মনে হয়
এবং তিনি
মনযোগের সাথে
কাজ করতে
শুরু করেন। তবে তাঁর বাবা
তাঁর এই
কাজে সন্তুষ্ট
ছিলেন না। তাই তিনি পরীক্ষাগার
সহায়কের কাজ
ছেড়ে দিয়ে
পুনরায় পড়াশোনা
করতে তাগিদা
দিতে থাকেন। অশোক কুমার তখন
তাঁর বাবাকে
বোঝানোর চেষ্টা
করেছিলেন যে,
তিনি আইনজীবী
হিসাবে সফল
হতে পারবেন
না,
বরং প্রযুক্তিবিদ
হিসাবেই তিনি
সফল হতে
পারবেন। তবে তাঁর
বাবা তাঁর
কথা মানতে
রাজি ছিলনা। অবশ্যে পরে শশধর
মুখোপাধ্যায়ের সুপারিশে
তাঁর বাবা
কাজটি মেনে
নিতে বাধ্য
হয়। তাই অভিনেতা
হিসাবে নয়,
অশোক কুমার
প্রযুক্তিবিদ হিসাবে
কর্মজীবন শুরু
করেছিলেন।
অশোক কুমার
পরীক্ষাগার সহায়ক
হিসাবে কাজ
করে সন্তুষ্ট
ছিলেন এবং
তিনি উক্ত
কাজে পাঁচ
বছর নিয়োজিত
ছিলেন। তাঁর অভিনয়
জীবন দুর্ঘটনাক্রমে
হঠাৎ শুরু
হয়েছিলো। ১৯৩৬ সালে
বোম্বে টকিজ
প্রোডাকশনের বেনারে
‘জীবন নাইয়া’র শ্যুটিং চলছিল। সেখানে নায়কের
চরিত্রে অভিনয়
করছিলেন নাজম-
উল-হাসান এবং
সহ-অভিনেত্রী হিসাবে
অভিনয় করছিলেন
বোম্বাই টকিজের
কোটিপতি মালিক
হিমাংশু রায়ের
স্ত্রী দেবীকা
রাণী। নাজম-উল-হাসান হঠাৎ
একদিন সহ-অভিনেত্রী দেবীকা
রাণীকে নিয়ে
পালিয়ে যায়। কিছুদিন পরে দেবীকা
রাণী স্বামীর
কাছে ফিরে
আসেন। তখন স্বাভাকিভাবেই
নাজম-উল-হাসানকে উক্ত
কাজ থেকে
বরখাস্ত করা
হয় এবং
অশোক কুমারকে
উক্ত চরিত্রে
অভিনয় করার
জন্য নিয়োগ
করার পরামর্শ
দেওয়া হয়। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছিলেন
ফ্রাঞ্জ ওয়েস্টেন। একজন যুবকের চরিত্রে
অভিনয় করার
জন্য অশোক
কুমারের চেহেরা
মানানসই নয়
বলে প্রথমে
ফ্রাঞ্জ ওয়েস্টেন
আপত্তি করছিলেন। পরে অবশ্যে মালিকের
নির্দেশে অশোক
কুমারকেই উক্ত
চরিত্রে অভিনয়
করার জন্য
নিয়োগ করা
হয়। তখন অভিনেতারা
আসল নাম
লুকিয়ে পর্দার
পেছনের নাম
রাখার এক
পরম্পরা চলছিল। যুগের প্রবণতার সাথে
তাল মিলিয়ে
কুমুদলাল গাঙ্গুলী
অশোক কুমার
নামে চলচ্চিত্র
শিল্পে প্রবেশ
করেন।
জীবন নাইয়ার
পরে অশোক
কুমার ‘অচ্যুত কন্যা’চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেন। তাঁর বিপরীতে অভিনেত্রী
ছিলেন দেবীকা
রাণী। অচ্যুত কন্যা
হিন্দী চলচ্চিত্র
জগতের প্রথম
ব্লকবাস্টার ছিলো। সেই যুগের অন্যান্য
চলচ্চিত্রের মতো
একজন সংস্কারবাদী
ব্রাহ্মণ যুবক
এবং একজন
অস্পৃশ্য কন্যার
প্রেম কাহিনী
নিয়ে চলচ্চিত্রটি
নির্মাণ করা
হয়েছিলো। চলচ্চিত্র খুবই
সফল হয়েছিলো। অচ্যুত কন্যার সাফল্যের
পরে অশোক
কুমার এবং
দেবীকা রাণী
সেই যুগের
সবচেয়ে জনপ্রিয়
অনস্ক্রিন জুটি
হিসাবে চিহ্নিত
হয়েছিলো।
অশোক কুমার এবং দেবীকা রাণী মিলে
জনমভূমি(১৯৩৬), ইজ্জত(১৯৩৭),সাবিত্রী(১৯৩৭),বচন(১৯৩৮)এবংনির্মলা(১৯৩৮)শিরোনামে কয়েকটি জনপ্রিয়
চলচ্চিত্র উপহার
দিয়েছিলেন। ১৯৪১ সালে
উক্ত জুটি
‘আনজান’ চলচ্চিত্রটি উপহার দেন,
তবে চলচ্চিত্রটি
বক্স অফিস
ব্যর্থ হয়
এবং এই
ব্যর্থতাই কিংবদন্তি
অনস্ক্রিন জুটির
অবসান হয়। দেবীকা রাণী স্পষ্টতই
অশোক কুমারের
চেয়ে বড়
তারকা ছিলেন
এবং অশোক
কুমার তাঁর
ছত্ৰছায়ায় কাজ করছিলেন।
দেবীকা রাণীর
ছায়া থেকে
সরে আসার
জন্য অশোক
কুমার তাঁর
চেয়ে বয়সে
বড় অভিনেত্রী
লীনা চিতনিসের
সাথে জুটি
বাধেন। তাঁরা ‘কঙ্গন’(১৯৩৯), ‘বন্ধন’(১৯৪০) এবং ‘আজাদ’(১৯৪০) শিরোনামে তিনটি
চলচ্চিত্রে কাজ
করেন। চলচ্চিত্র তিনটি
সফল হয়
এবং অশোক
কুমার নিজের
প্রতিভায় জনপ্রিয়
অভিনেতা হিসাবে
আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৪১ সালে লীনা
চিতনিসের সাথে
অভিনীত ‘ঝুলা’র সাফল্যই অশোক কুমারকে
সেই যুগের
সবচেয়ে দামী
অভিনেতা হিসাবে
প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
১৯৪৩ সালে
জ্ঞান মুখার্জী
পরিচালিত ‘কিসমত' চলচ্চিত্রে অশোক
কুমার প্রথম
‘অ্যান্টি হিরো'
হিসাবে অভিনয়
করেন। চলচ্চিত্রটি সফল
হয় এবং
অশোক কুমার
ভারতীয় চলচ্চিত্র
শিল্পের প্রথম
‘অ্যান্টি হিরো'
হিসাবে চিহ্নিত
হয়। চলচ্চিত্রটি পূর্বের সকল
রেকর্ড ভংগ
করেছিলো এবং
১ কোটি টাকা আয়ের
প্রথম হিন্দী
চলচ্চিত্র হয়ে উঠেছিলো।
কিসমতের সাফল্যই
অশোক কুমারকে
হিন্দী চলচ্চিত্র
জগতের প্রথম
সুপারস্টার হিসাবে
চিহ্নিত করেছিলো। তাঁর জনপ্রিয়তা এতোই
বেড়েছিলো যে,
সাদাত হাসান
মন্টো বলেছিলেন-
“অশোক কুমারের
জনপ্রিয়তা দিন
দিন বেড়েই
চলছিলো। তখন তিনি
খুবই কম
বাইরে বেরোতেন। বাইরে বেরোলেই ‘ট্ৰেফিকজাম’ হয়ে যেতো
এবং অনুরাগীদের
সামলাতে পুলিসকে
লাঠিচার্জ পর্যন্ত
করতে হতো।'
কিসমতের পরে
অশোক কুমার
‘চল চলরে
নও জোয়ান’(১৯৪৪), ‘শিকারি’(১৯৪৬), ‘সাজন’(১৯৪৭), ‘মহল’(১৯৪৯), মশাল’(১৯৫০), ‘সংগ্রাম’(১৯৫০) এবং ‘সমাধি’(১৯৫০) প্রভৃতি চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রগুলি বক্স অফিস
সফল হয়েছিলো
এবং তিনি
সবচেয়ে দামী
অভিনেতা হিসাবে
প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। মশাল চলচ্চিত্রে তিনি
সুমিত্রা দেবীর
বিপরীতে অভিনয়
করেছিলেন।
অশোক কুমার
বোম্বাই টকিজের
জন্য 'জিদ্দি’(১৯৪৮)সহ কয়েকটি চলচ্চিত্র
প্রযোজনা করেছিলেন। তিনি ‘নীল কমল’(১৯৪৭) চলচ্চিত্রের জরিয়তে দেব
আনন্দ এবং
প্রাণের ক্যারিয়ার
প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ১৯৪৯ সালে তিনি
মহল চলচ্চিত্র-এর জরিয়তে
রাজ কাপুরের
ক্যারিয়ার পৰিতিষ্ঠা
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে তিনি
মধুবালার বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন।
১৯৫০-এর দশকে অশোক
কুমার অভিনেতা
হিসাবে আরও
পরিপক্ক হয়ে
উঠেছিলেন। দেব আনন্দ,
দিলীপ কুমার,
রাজ কাপুরের
মতো যুব
অভিনেতা থাকা
সত্ত্বেও তিনি
‘আফসানা’(১৯৫১), ‘নৌবহর’(১৯৫২), ‘পরিণীতা’(১৯৫৩), ‘বন্দিশ’(১৯৫৫), ‘এক হি
রাস্তা’(১৯৫৬), ‘এক সাল’(১৯৫৭), 'হাওড়া ব্রিজ’(১৯৫৮)প্রভৃতি চলচ্চিত্রে
মুখ্য চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন।
‘হাওড়া ব্রীজ'
চলচ্চিত্রে তিনি
মধুবালার বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে
তাঁর সবচেয়ে
সফল চলচ্চিত্র
ছিলো ‘দিদার’(১৯৫১)। চলচ্চিত্রটিতে তিনি
দিলীপ কুমারের
সাথে দ্বিতীয়
মুখ্য অভিনেতা
ছিলেন।
১৯৫০-এর দশকে অশোক
কুমার নলিনী
জয়বন্তের বিপরীতে
কয়েকটি চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেছেন। ১৯৫২ সালে তামশা
চলচ্চিত্র থেকে
শুরু করে
১৯৭২ সালে
অভিনীত পাকিজা
পর্যন্ত এই
বিশ বছরে
তিনি মধুবালার
১৭ টি
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছেন। ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি
তিনি ধূমপানকারী
অপরাধী (সিগারেট স্মোকিং ক্রিমিন্যাল)
এবং পুলিশ
অফিসারের অনেক
চরিত্রে অভিনয়
করেছেন। তখন ভারতীয়
চলচ্চিত্রে ‘নইর
মুভমেন্ট' (Noir Movement)চলছিলো।
১৯৬০-এর দশক থেকে
অশোক কুমার
অভিনয়ের চরিত্র
পাল্টে দিয়েছিলেন। তিনি মুখ্য চরিত্রে
অভিনয় ছেড়ে
পিতা, চাচা এবং পিতামহের
চরিত্রে অভিনয়
শুরু করছিলেন। ১৯৬০ সালে ‘কানুন’চলচ্চিত্রে বিচারক
এবং ১৯৬৩
সালে বন্দিনী
চলচ্চিত্রে বয়স্ক
মুক্তিযোদ্ধা, মেহবুব(১৯৬৩) চলচ্চিত্রে একজন স্নেহশীল
ভাই,
চিত্রলেখা(১৯৬৪) চলচ্চিত্রে একজন
বৃদ্ধ বয়সী
পুরোহিত, জবাব(১৯৭০)-এ একজন জঘন্য
জমিদার এবং
১৯৭১ সালে
‘ভিক্টোরিয়া ২০৩'
চলচ্চিত্রে একজন
অপরাধীর চরিত্রে
অভিনয় করছিলেন।
অশোক কুমার
১৯৬০-৭০-এর দশকে
বিভিন্ন ল্যান্ডমার্ক
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছেন। জুয়েল থীফ(১৯৬৭),, আশীর্বাদ(১৯৬৮), পূরব আউর পশ্চিম(১৯৭০), পাকিজা(১৯৭২), মিলি(১৯৭৫), ছোটি সি বাত(১৯৭৫) এবং খুসুরত(১৯৮০)। আশীর্বাদ চলচ্চিত্রের জন্য
১৯৬৯ সালে
তিনি ফিল্মফেয়ার
অ্যাওয়ার্ডের পাশাপাশি
জাতীয় পুরস্কার
অর্জন করেছিলেন
।
২৭
টি চলচ্চিত্রে
একসাথে অভিনয়
করেছিলেন। তার মাঝে
২০ টি
চলচ্চিত্র সুপারহিট
হয়েছিলো। পূরব আউর
পশ্চিম, ভিক্টোরিয়া ২০৩,
চোর কে
ঘর চোর,
চুরি মেরা
কাম,
অধিকার(১৯৭১), ‘মান গয়ে
ওস্তাদ’ প্রভৃতি চলচ্চিত্র সুপারহিট
হয়েছিলো। ১৯৭০ সাল
থেকে ১৯৮০
সাল পর্যন্ত
তিনি শশী
কাপুর এবং
রাজেশ খান্নার
সাথে বেশ
কয়েকটি চলচ্চিত্রে
প্রধান সহায়ক
অভিনেতা হিসাবে
অভিনয় করেছিলেন।
মাঝে
তিনি টেলিভিছনে উপস্থিত
হয়েছেন। ১৯৮৪ সালে
সর্বাধিক জনপ্রিয়
‘ভারতীয় সোপ
অপেরা'র প্রথম ধারাবাহিক
‘হাম লোগ’-এ তিনি এঙ্করিং করেছেন। তিনি ১৯৮৬ সালে
নির্মিত অবিস্মরণীয়
ধারাবাহিক ‘বাহাদুর সাহ জাফর’-এ নাম ভূমিকায় অভিনয়
করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে
নির্মিত ডিটেকেটিভ
টিভি ধারাবাহিক
‘তহহিকাত’- এর ‘লাকি ড্র-
মার্ডার আফটার
লাকি ড্র'তে তিনটি
পর্বে তিনি
বিজয় আনন্দ
এবং সৌরভ
শুক্লার সাথে
অভিনয় করেছিলেন।
অশোক কুমার
১৯৯৭ সালে
‘আঁখো মে
তুম হো'
চলচ্চিত্রে শেষ
অভিনয় করেছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি
একজন ভালো
চিত্রশিল্পী ছিলেন
এবং হোমিওপ্যাথির
অনুশীলন করতেন। তিনি একজন দক্ষ
হোমিওপ্যাথ ছিলেন
এবং তাঁর
ঔষুধে অলৌকিক
নিরাময়ের জন্য
সুনাম অর্জন
করেছিলেন। সব মিলিয়ে
তিনি ২৭৫-টিরও অধিক
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছেন। তিনি কলকাতার
ধাকুরিয়ায় ৩০-টিরও অধিক
নাটকে অভিনয়
করেছেন।
অশোক কুমার
হিন্দী চলচ্চিত্রে
অকৃত্রিম (ন্যাচারেল) অভিনয় প্রবর্তনকারী
একজন অগ্রগণী
অভিনেতা হিসাবে
বিবেচিত। তিনি হিন্দী
চলচ্চিত্র জগতের
প্রথম সুপারস্টারের
পাশাপাশি অ্যান্টি-হিরো চরিত্রে
মুখ্য চরিত্রে
অভিনয়কারী প্রথম
অভিনেতা ছিলেন। চরিত্র অভিনেতা হিসাবে
দীর্ঘ এবং
বিশাল সফল
ক্যারিয়ারের পর
তিনি প্রথম
তারকা হিসাবে
প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।
বেশ কয়েকজন
ব্যক্তিকে ভারতীয়
চলচ্চিত্রে নিজের
প্রতিভার স্বাক্ষর
রাখতে তিনি
ভূমিকা গ্রহণ
করেছিলেন। বোম্বাই টকিজের
প্রযোজক হিসাবে
তিনি 'জিদ্দি’ চলচ্চিত্রে দেব
আনন্দকে প্রথম
সুযোগ দিয়েছিলেন। তিনি প্রাণকে যুগের
শ্রেষ্ঠ খলনায়ক
হিসাবে প্রতিষ্ঠিত
করেছিলেন। ১৯৪৯ সালে
বোম্বাই টকিজের
নজরদারিতে নির্মিত
‘মহল’
চলচ্চিত্রের মাধ্যমে
তিনি ১৯৫০
দশকের অন্যতম
সফল অভিনত্রৌ
মধুবালার ক্যারিয়ার
শুরু করিয়েছিলেন। মহলের ‘আয়েগা আনেয়ালা’
শীর্ষক গানটি
ছিলো কিংবদন্তি
কুকিলকণ্ঠী গায়িকা
লতা মাঙ্গেশকারের
ক্যারিয়ারের টার্নিং
পইন্ট। চলচ্চিত্র সমালোচক
এবং ব্যর্থ
চলচ্চিত্রকার বি,
আর,
চোপ্রাকে তিনি
আফসানা(১৯৫১) চলচ্চিত্র পরিচালনা
করার সুযোগ
দিয়েছিলেন এবং
আফসানা চলচ্চিত্রটি
সফল হওয়ার
পর বি,
আর.
চোপ্রা চলচ্চিত্র
নির্মাতা হিসাবে
প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। আফসানা চলচ্চিত্রের জন্য
অশোক কুমার
সেরা সাপোর্টিং
অভিনেতার পুরস্কার
অর্জন করেছিলেন। বোম্বাই টকিজের সহকারী
হৃষিকেশ মুখার্জি
অশোক কুমারের
পরামর্শেই হিন্দী
চলচ্চিত্রের অন্যতম
সেরা পরিচালক
হয়ে ওঠেছিলেন। ১৯৫০-এর দশকের
শেষের দিকে
প্রতিশ্রুতিবান তরুণ
পরিচালক শক্তি
সামন্তের জন্য
তিনি ‘মাসকট’ছিলেন। ‘ইন্সপেক্টর’(১৯৫৬),
‘হাওড়া ব্রিজ’(১৯৫৮), ‘ডিটেকটিভ’(১৯৫৮) প্রভৃতি হিট ফিল্ম
উপহার দেওয়ার
পর শক্তি
সামন্ত পরিচালক
হিসাবে প্রতিষ্ঠিত
হয়েছিলেন। আজ ক্লাসিক
হিসাবে পরিচিত
বেশ কয়েকটি
সফল চলচ্চিত্র
১৯৬০-৭০-এর দশকে
তিনি উপহার
দিয়েছিলেন।
অশোক কুমার
বি,
আর,
চোপ্রা পরিচালিত
আফসানা(১৯৫১)চলচ্চিত্রের জন্য
১৯৬৯ সালে
সেরা সাপোর্টিং
অভিনেতার পুরস্কার
অর্জন করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে তাঁর বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন
বীণা, প্ৰাণ, কুলদীপ নায়ার
প্রভৃতি অভিনেতারা। ভীমসিং পরিচালিত রাখী(১৯৬২) চলচ্চিত্রের জন্য তিনি
সেরা অভিনেতার
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
অর্জন করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে তাঁর বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন
ওয়াহিদা রেহমান,
প্রদীপ কুমার,
মেহমুদ প্রভৃতি
অভিনেতারা। বি,
আর,
চোপ্রা পরিচালিত
গুমরাহ(১৯৬৩) চলচ্চিত্রের জন্য
তিনি বেঙ্গল
ফিল্ম জার্নালিস্টস
এসোসিয়েশন কর্তৃক
সেরা অভিনেতার
পুরস্কার অর্জন
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন
মালা সিনহা,
সুনীল দত্ত
প্রভৃতিরা। হৃষীকেশ মুখার্জী
পরিচালিত আশীর্বাদ(১৯৬৮) চলচ্চিত্রের জন্য তিনি
সেরা অভিনেতার
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
অর্জন করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে তাঁর বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন
সুমিতা সান্যাল
এবং সুনীল
দত্ত।
অশোক কুমার
তাঁর ছোট
ভাই কল্যাণ
(অনুপ) এবং কিশোর কুমারের
ক্যারিয়ার প্রশস্ত
করেছিলেন। ‘চলতি কা
নাম গাড়ি’(১৯৫৮) চলচ্চিত্রের জন্য অনুপ
কুমারকে স্মরণ
করা হলেও
কিশোর কুমার
কিংবদন্তি গায়ক হয়ে
ওঠেছিলেন। ভাইদের মাঝে
কিশোর কুমারই
এখন সবচেয়ে
জনপ্রিয় ।
অশোক কুমার
তাঁর শেষ
জীবনে যে
স্বতন্ত্র স্টাইল
এবং পদ্ধতি
অবলম্বন করেছিলেন
তা এখনও
‘মিমিক্রি’ শিল্পীদের মাঝে জনপ্রিয়।
পুরস্কার এবং সন্মান
-
১৯৫৯ সালে
সংগীত নাটক
অ্যাকাডেমি পুরস্কার
।
১৯৬২ সালে
এ,
ভীমসিং পরিচালিত
রাখী চলচ্চিত্রের
জন্য সেরা
অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
অ্যাওয়ার্ড।
১৯৬২ সালে
ভারতীয় চলচ্চিত্রে
আজীবন পরিষেবার
জন্য ভারত
সরকার কর্তৃক
পদ্মশ্রী সন্মান।
১৯৬৩ সালে
‘গুমরাহ’চলচ্চিত্রের জন্য বেঙ্গল
ফিল্ম জার্নালিস্টস
এসোসিয়েশন কর্তৃক
সেরা অভিনেতার
পুরস্কার।
১৯৬৬ সালে
‘আফসানা' চলচ্চিত্রের জন্য সেরা
সাপোর্টিং অভিনেতার
পুরস্কার।
১৯৬৯ সালে
‘আশীর্বাদ' চলচ্চিত্রের জন্য সেরা
অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার।
১৯৬৯ সালে
‘আশীর্বাদ' চলচ্চিত্রের জন্য বেঙ্গল
ফিল্ম জার্নালিস্টস
এসোসিয়েশন কর্তৃক
সেরা অভিনেতার
পুরস্কার ।
১৯৬৯ সালে
আশীর্বাদ চলচ্চিত্রের
জন্য সেরা
অভিনেতার জাতীয়
পুরস্কার।
১৯৮৮ সালে
ভারত সরকার
কর্তৃক দাদা
সাহেব ফালকে
অ্যাওয়ার্ড।
১৯৯৪ সালে
স্টার স্ক্রিন
লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট
অ্যাওয়ার্ড।
১৯৯৫ সালে
ফিল্মফেয়ার লাইফটাইম
অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড।
১৯৯৯ সালে
ভারত সরকার
কর্তৃক পদ্মভূষণ
সন্মান ৷
২০০১ সালে
উত্তর প্রদেশ
সরকার কর্তৃক
অবধ সন্মান
৷
২০০৭ সালে
স্টার স্ক্রিন
অ্যাওয়ার্ড কর্তৃক
‘স্পেশ্যাল অ্যাওয়ার্ড’।
অশোক কুমার
২০০১ সালের
১০ ডিসেম্বর-এ ৯০ বছর বয়সে
তাঁর চেম্বুরের
বাসভবন-এ হৃদরোগের কারণে
মৃত্যু বরণ
করেছেন। তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী
অটল বিহারী
বাজপেয়ী তাঁকে
‘বহু প্রজন্মের
উচ্চাভিলাষী অভিনতাদের
প্রেরণা' হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন।
•
বলরাজ সাহনী
বলরাজ সাহনীর
জন্ম ১৯১৩
সালের ১-ই মে ব্রিটিশ শাসিত
ভারতের পাঞ্জাবের
রাওলপিন্ডিতে। তিনি লাহোরের
সরকারী কলেজ
থেকে ইংরাজী
সাহিত্যে স্নাতকোত্তর
ডিগ্রী অর্জন
করার পরে
রাওলপিন্ডি ফিরে
গিয়ে পারিবারিক
ব্যবসায় যোগদান
করেছিলেন। এই সময়ে
তিনি হিন্দী
সাহিত্যেও স্নাতক
ডিগ্রী অর্জন
করেন এবং
দময়ন্তী সাহনীর
সাথে বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হন।
১৯৩০ সালে
বলরাজ সাহনী
সহধর্মিনী দময়ন্তী
সাহনীর সাথে
বেঙ্গল চলে
আসেন এবং
রবীন্দ্র নাথ
ঠাকুরের বিশ্বভারতী
বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি
নিকেতনে ইংরাজী
এবং হিন্দী
শিক্ষক পদে
যোগদান করেন। এই সময়েই তাঁদের
বড় ছেলে
পরীক্ষিত সাহনীর
জন্ম হয়
এবং দময়ন্তী
সাহনী স্নাতক
ডিগ্রী অর্জন
করেন। বলরাজ সাহনী
১৯৩৮ সালে
এক বছরের
জন্য মহাত্মা
গান্ধীর সান্নিধ্যে
আসেন এবং
মহাত্মা গান্ধীর
সহযোগেলন্ডনের বিবিসি
রেডিওর হিন্দী
ঘোষক হিসাবে
যোগদান করেন। ১৯৪৩ সালে তিনি
ভারতে ফিরে
আসেন ।
বলরাজ সাহনী
অভিনয়ের প্রতি
পূর্ব থেকেই
আগ্রহী ছিলেন। ঘটনাক্রমে তাঁর স্ত্রী
দময়ন্তী আগে
থেকেই আইপিটিএ(ইন্ডিয়ান পিপলচ্
থিয়েটার এসোচিয়েশন)র অভিনেত্রী হিসাবে সুপরিচিত
ছিলেন। তাই বলরাজ
সাহনী বোম্বাই
এসে আইপিটিএ
যোগদান করেন
এবং নাটক
দিয়ে তাঁর
অভিনয় ক্যারিয়ার
শুরু করেন। পরে তিনি ১৯৪৬
সালে ‘ইনসাফ’ চলচ্চিত্র দিয়ে
তাঁর চলচ্চিত্র
অভিনয় ক্যারিয়ার
শুরু করেন। পরে একই সালে
কে,
এ,
আব্বাস পরিচালিত
‘ধরতী কে
লাল'
চলচ্চিত্রে তাঁর
স্ত্রী দময়ন্তী
এবং তৃপ্তি
মিত্রর বিপরীতে
অভিনয় করেন। ফণি মজুমদার পরিচালিত
‘দূর চলে’(১৯৪৬) চলচ্চিত্রে নাসিম বানুর
বিপরীতে অভিনয়
করেন। তবে তিনি
তাঁর অভিনয়
প্রতিভা প্রকাশের
সুযোগ পান
১৯৫৩ সালে
বিমল রায়
পরিচালিত ‘দু বিঘা জমিন’
চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। চলচ্চিত্রটি কেনেস ফিল্ম
ফেস্টিভেলে আন্তর্জাতিক
পুরস্কার অর্জন
করতে সক্ষম
হয়েছিলো। ১৯৬১ সালে
তিনি রবীন্দ্র
ঠাকুরের লেখা
কাবুলিয়ালা(১৯৬১)
চলচ্চিত্রে আব্দুল
রেহমান খানের
চরিত্রে অভিনয়
করে সুনাম
অর্জন করেন।
বলরাজ সাহনীর
স্ত্রী দময়ন্তী
সাহনী ১৯৪৭
সালে নির্মিত
‘গুড়িয়া' চলচ্চিত্রে বলরাজ সাহনীর
বিপরীতে নায়িকা
ছিলেন। দময়ন্তী সাহনী
এই চলচ্চিত্রে
অভিনয়ের পরে
মৃত্যু বরণ
করেন। দুই বছর
পর বলরাজ
সাহনী তাঁর
চাচাতো বোন
সন্তোষ চান্ধোকের
সাথে বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হন। সন্তোষ চান্ধোক
পরে একজন
প্রখ্যাত লেখক
এবং টেলিভিছন
লেখক হিসাবে
জনাজাত হয়েছিলেন।
বলরাজ সাহনী
অভিনেত্রী পদ্মিনী
কোলাপুরে, নুতন, মীনা কুমারী,
বৈজয়ন্তীমালা এবং
নার্গিসের বিপরীতে
বিন্দা(১৯৫৫), সীমা(১৯৫৫), সোনে কি
চিড়িয়া(১৯৫৮), ছাট্টা বাজার(১৯৫৯), ভাবী কি চুড়িয়া(১৯৬১), কাঠপুতলি(১৯৫৭), লাজবতী(১৯৫৮) এবং ঘর-সংসার(১৯৫৮) প্রভৃতি চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেছেন। নীল কমল(১৯৬৮), ঘর ঘরকী কাহানী(১৯৭০), দো রাস্তে(১৯৬৯) এবং এক
ফুল দো
মালি(১৯৬৯) প্রভৃতি চলচ্চিত্রে
তিনি চরিত্র
(ক্যারেক্টার আর্টিস্ট)অভিনেতা হিসাবে
অভিনয় করেছিলেন। তাঁর অভিনয় খুবই
প্রশংসিত হয়েছিলো। তিনি ওয়াক্ত(১৯৬৫) চলচ্চিত্রে ‘এ
মেরা জোহরা
জবীন' শীর্ষক গীতটি অচলা
সচদেবের বিপরীতে
চিত্রায়ন করেছিলেন। গীতটি খুবই হিট
হয়েছিলো।
তিনি পাঞ্জাবী
ক্লাসিক চলচ্চিত্র
'সাতলুজ দে
কান্দে’(১৯৬৪) চলচ্চিত্রে রামপ্রকাশ
মালহোত্রার চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন
এবং নানক
দুখিয়া সাব
সংসার'(১৯৭০)চলচ্চিত্রে সুবেদার
বৈরাম সিংয়ের
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। চলচ্চিত্র দুটিতে
করা তাঁর
অভিনয় সমালোচকদের
দ্বারা প্রশংসতি
হয়েছিলো। তাঁর শেষ
চলচ্চিত্র ‘গরম হাওয়া (১৯৭৩) চলচ্চিত্রে তিনি
একজন রাগি
মুসলিম সেলিম
মির্জার চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। সেলিম মির্জা দেশ
বিভাজনের পরে
পাকিস্থান যেতে
অস্বীকার করছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে সেলিম মির্জার
চরিত্রে করা
অভিনয় সমালোচকরা
বলরাজ সাহনীর
সেরা অভিনয়
বলে অভিহিত
করেছেন। তিনি তাঁর
শেষ অভিনীত
চলচ্চিত্রটির অভিনয়
দেখে যেতে
পারেননি। চলচ্চিত্রটির ডাবিঙের
কাজ শেষ
হওয়ার পরের
দিন তিনি
মারা গিয়েছিলেন। তাঁর সর্বশেষ রেকর্ডকৃত
লাইনটি ছিলো-‘ইনসান কব
তক অকেলা
জী সাকতা
হ্যায়'।
বলরাজ সাহনী
একজন প্রতিভাবান
লেখকও ছিলেন। তিনি প্রথমে ইংরাজীতে
লেখা-মেলা করতেন যদিও
পরবর্তী জীবনে
তিনি পাঞ্জাবী
সাহিত্যে খ্যাতিমান
লেখক হিসাবে
পরিচিতি লাভ
করেছিলেন। তিনি ১৯৬০
সালে পাকিস্থান
সফর করেছিলেন। সেই সফরের অভিজ্ঞতা
তিনি ‘মেরা পাকিস্থানী সফরনামায়
লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তিনি ১৯৬৯ সালে
সোভিয়েত ইউনিয়ন
সফর করেছিলেন। সেই সফরের অভিজ্ঞতা
তিনি ‘মেরা রুশি সফরনামা'য় লিপিবদ্ধ
করেছিলেন। গ্রন্থটির জন্য
তিনি ‘সোভিয়েত ল্যান্ড নেহরু'
পুরস্কার অর্জন
করেছিলেন। তিনি ম্যাগাজিনে
অনেক কবিতা
এবং প্রবন্ধ
লিখেছিলেন। তিনি ‘ফিল্মী আত্মকথা' শিরোনামে আত্মজীবনীও লিখেছেন। তিনি চিত্রনাট্যও রচনা
করেছিলেন। তিনি ‘বাজি’(১৯৫১)চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখেছিলেন। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছিলেন
গুরু দত্ত
এবং দেব
আনন্দ, গীতা বালি, কল্পনা কার্তিক এবং
অন্যান্যরা অভিনয়
করেছিলেন। ১৯৫০ সালে
তিনি সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য দিল্লীতে একটি
গ্রন্থাগার এবং
স্ট্যাডি সেন্টার
উদ্বোধন করেছিলেন। তিনি পাঞ্জাবী পত্রিকা
প্রীতিলারীতেও লেখা-মেলা করতেন। তিনি ১৯৭৩ সালে
বোম্বাইতে ‘পাঞ্জাবী কলাকেন্দ্র' প্রতিষ্ঠা
করেছিলেন। কলাকেন্দ্রটি বার্ষিকভাবে
বলরাজ সাহনী
পুরস্কার প্রদান
করে। এছাড়াও ‘অল ইন্ডিয়া আর্টিস্ট
অ্যাসোচিয়েশন' বলরাজ
সাহনী পুরস্কার
প্রদান করে
। ১৯৬৯ সালে ভারত
সরকার তাঁকে
পদ্মশ্রী সন্মান
প্রদান করেছিলেন। তিনি অধ্যয়নশীল এবং
রাজনৈতিকভাবে সচেতন
ব্যক্তি ছিলেন।
বলরাজ সাহনী
এবং পি,
কে,
বাসুদেবন-এর সহযোগিতায় কমরেড
গুরু রাধা
কিষান দিল্লীতে
এআইওয়াইএফ(অল
ইন্ডিয়া ইয়ূথ
ফেডারেশন)-এর প্রথম জাতীয়
সন্মেলন অনুষ্ঠিত
করেছিলেন। এই অধিবেশনে
ভারতের বিভিন্ন
রাজ্যের বেশ
কয়েকটি যুবসংস্থার
২৫০ জন
প্রতিনিধি এবং
পর্যবেক্ষকরা যোগদান
করেছিলেন। তিনি ভারতীয়
কমিউনিস্ট পার্টীর
যুব শাখার
‘অল ইন্ডিয়া
ইয়ুথ ফেডারেশন'-এর প্রথম
সভাপতি নির্বাচিত
হয়েছিলেন। সংগঠনটি বিশাল
সাফল্য পেয়েছিলো
এবং সংগঠনটির
দৃঢ় উপস্থিতি
অন্যান্য রাজনৈতিক
দল এবং
প্রবীণ কমিউনিস্ট
নেতবৃন্দের লক্ষ্যবস্তু
হয়েছিলো।
দো বিঘা
জমিন এবং
গরম হাওয়া
চলচ্চিত্রে করা
অভিনয় তাঁর
অভিনয় জীবনের
সাফল্যের মাফকাঠি
হিসাবে বিবেচনা
করা হয়। তিনি নব্য রিয়েলিস্টিক
সিনেমায় বিশ্বাসী
ছিলেন।
বলরাজ সাহনী
অভিনীত চলচ্চিত্র-
১৯৪৬ সাল-
খাজা আহম্মদ
আব্বাছ পরিচালিত
ধরতী কে
লাল,
ফণি মজুদার
পরিচালিত দূর
চলে এবং
মঞ্জু পরিচালিত
বদনামী। ১৯৪৭ সাল-
ইদ্দি বিল্লিমুড়িয়া পরিচালিত গুড়িয়া। ১৯৪৮ সাল-
ভি,
সি দেশাই
পরিচালিত গুঞ্জন। ১৯৫০ সাল-খাজা আহম্মদ
আব্বাছ পরিচালিত
ধরতী কে
লাল এবং
অমিত মৈত্র
পরিচালিত ফিশার
ফিল্ম মালধার। ১৯৫১ সাল-জিয়া সরহাদি
পরিচালিত হাম
লোগ এবং
এস,
কে ওঝা
পরিচালিত হালচাল। ১৯৫২ সাল-ইকবাল শেহজাদ
পরিচালিত বদনাম,
আকাশ এবং
কে,
এ,
আব্বাছ পরিচালিত
রাহি। ১৯৫৩ সাল-
বিমল রায়
পরিচালিত দো
বিঘা জমিন,
হোমি ওয়াদিয়া
পরিচালিত চালিশ
বাবা এক
চোর এবং
দত্ত ধর্মাধিকারী
পরিচালিত ভাগ্যবান। ১৯৫৪ সাল-
রাম দরিয়ানি
পরিচালিত মজবুরি,
মোহন সেহগাল
পরিচালিত আওলাদ,
বিমল রায়
পরিচালিত নৌকরি
এবং রামানন্দ
সাগর পরিচালিত
বাজুবন্ধ। ১৯৫৫ সাল-
লেখরাজ ভাকরি
পরিচালিত টাঙ্গেওয়ালী,
অমিয় চক্রবর্তী
পরিচালিত সীমা,
চেতন আনন্দ
পরিচালিত ফিশার
ফিল্ম জরু
কা ভাই,
ইসমাইল মেমন
পরিচালিত ফিশার
ফিল্ম জবাব
এবং অমর
কুমার পরিচালিত
গরম কোট। ১৯৫৬ সাল—
হেমেন গুপ্তা
পরিচালিত টাকশাল
এবং ভূপেন
হাজরিকা পরিচালিত
অসমীয়া ফিল্ম
এরা বাটর
সুর। ১৯৫৭ সাল-
শান্তি কুমার
পরিচালিত কৃষ্ণ-সুদামা, খাজা আহম্মদ আব্বাছ
পরিচালিত পরদেশী,
ও,
পি নায়ার
পরিচালিত মাই
বাপ,
কৃষ্ণন চোপ্রা
পরিচালিত লাল
বাত্তি, নিতিন বোস/অমিয় চক্রবর্তী
পরিচালিত কাঠ
পুতলি, ইসমাইল মেমন পরিচালিত
দো রুটি
এবং কৃষ্ণন-পাঞ্জু পরিচালিত
ভাবী। ১৯৫৮ সাল-
সাহিদ লতিফ
পরিচালিত সোনে
কি চিড়িয়া,
এস,
কে,
কাল্লা পরিচালিত
নয়া কদম,
নরেন্দ্র সুরী
পরিচালিত লাজবতী,
প্রেম নারায়ন
আরোরা পরিচালিত
খাজাঞ্চি, ভি, এম,
ব্যাস পরিচালিত
ঘর-সংসার, গুঞ্জল পরিচালিত ঘর-গৃহস্তী এবং
কেদার কাপুর
পরিচালিত দেবর-ভাবী। ১৯৫৯ সাল-
লেখরাজ ভাকরি
পরিচালিত চান্দ,
নিসার আহম্মদ
আনসারি পরিচালিত
ব্ল্যাক ক্যাট
এবং রবীন্দ্র
ডাভে পরিচালিত
সাত্তা বাজার,
কৃষ্ণন চোপ্রা
পরিচালিত হীরা
মোতি, এল, ভি,
প্রসাদ পরিচালিত
ছোটী বেহেন
এবং রবীন্দ্র
ডাভে পরিচালিত
সিআইডি গার্ল। ১৯৬০ সাল-
পি,
এল,
সন্তোষী পরিচালিত
নই মা,
অর্জুন হিংগোরানি
পরিচালিত দিল
ভি টেরা
হাম ভি
টেরা, কৃষ্ণন-পাঞ্জু পরিচালিত
বিন্দিয়া এবং
হৃষীকেশ মুখার্জী
পরিচালিত অনুরাধা।
১৯৬১ সাল-
হেমেন গুপ্তা
পরিচালিত কাবুলিওয়ালা,
আর,
কৃষ্ণ-পি, পাঞ্জু পরিচালিত
সোহাগ সিন্দুর,
কেদার কাপুর
পরিচালিত স্বপনে
সোহানে এবং
সদাশিব জে,
রাও কাভি
পরিচালিত ভাবী
কি চুড়িয়া। ১৯৬২ সাল-
কৃষ্ণ-পাঞ্জু পরিচালিত শাদী
এবং মোহন
কুমার পরিচালিত
আনপড়। ১৯৬৩ সাল-
জয় বী
পরিচালিত অকেলা। ১৯৬৪ সাল--
এম,
এম,
বিল্লু মেহরা
পরিচালিত পাঞ্জাবী
ফিল্ম সাটলুজ
দে কান্দে,
এ,চি,
ত্রিলোকচন্দর পরিচালিত
মেই ভি
লাড়কী হু,
রবীন্দ্র ডাভে
পরিচালিত পুনর
মিলন এবং
চেতন আনন্দ
পরিচালিত এবং
প্রযোজিত ফিল্ম
হকীকত। ১৯৬৫ সাল-
জুল ভেল্লানি
পরিচালিত ডাক
ঘর,
যশ চোপ্রা
পরিচালিত ওয়াক্ত
এবং পিনাকী
ভূষণ মুখার্জী
পরিচালিত ফেরার। ১৯৬৬ সাল-
রঘুনাথ ঝালানি
পরিচালিত আয়ে
দিন বাহার
কে,
সলিল চৌধুরি
পরিচালিত পিঞ্জরে
কে পক্ষী,
শিব সাহনি
পরিচালিত নীদ
হামারি খোয়াম
তুমহারে, আর, কৃষ্ণ-পি,পাঞ্জু পরিচালিত
পাকিস্থানী ফিল্ম
লাডলা এবং
সত্যেন বোস
পরিচালিত আসরা। ১৯৬৭ সাল-বি,
আর,
চোপ্রা পরিচালিত
হামরাজ, রাজ মারব্রোজ পরিচালিত
নানিহাল, জগদেব ভামব্রি পরিচালিত
ঘর কা
চিরাগ এবং
মোহন কুমার
পরিচালিত আমন। ১৯৬৮ সাল-
টি,
প্রকাশ রাও
পরিচালিত ইজ্জত,
এইস,
এস,
রাওয়াইল পরিচালিত
সংঘর্ষ, রাম মহেশ্বরী পরিচালিত
নীল কমল
এবং টি,
প্রকাশ রাও
পরিচালিত দুনিয়া।
১৯৬৯ সাল-
দেবেন্দর গোয়েল
পরিচালিত এক
ফুল দো
মালি, রাজ খোসলা পরিচালিত
দো রাস্তে,
ও,
পি,
রালহান পরিচালিত
তালাশ, টি, প্রকাশ রাও
পরিচালিত ননহা
ফরিস্তা এবং
দলজিৎ পরিচালিত
হাম এক
হ্যায়। ১৯৭০ সাল-
দারা সিং
পরিচালিত পাঞ্জাবী
ফিল্ম নানক
দুখিয়া সব
সংসার, হরসুখ জাগেনশ্বর ভাট
পরিচালিত হোলী
আয়েরে, দুলাল গুহ পরিচালিত
মেরে হাম
সফর,
সোহনলাল কৌর
পরিচালিত পেহচান,
রাজেন্দ্র ভাটিয়া
পরিচালিত পবিত্র
পাপী, খালিদ আকতার পরিচালিত
নয়া রাস্তা,
টি,
প্রকাশ রাও
পরিচালতি ঘর
ঘর কী
কাহানী এবং
চি,
ভি,
শ্রীধর পরিচালিত
ধরতী। ১৯৭১ সাল-
রাজেন্দ্র ভাটিয়া
পরিচালিত পরায়া
ধন এবং
ভাপ্পি সনি
পরিচালিত জওয়ান
মহব্বত। ১৯৭২ সাল-নরেন্দ্র বেদী
পরিচালিত জওয়ানী
দিওয়ানী, রাজেন্দ্র ভাটিয়া পরিচালিত
জংঘল মে
মঙ্গল, প্রভাত মুখার্জী পরিচালিত
শায়ের-এ-কাশ্মীর মজহুর
এবং রূপা
সাইন পরিচালিত
মাঙ্গেতর। ১৯৭৩ সাল-
প্রভাত মুখার্জী
পরিচালিত চিমনী
কা ধোঁয়া,
সুলতান আহম্মদ
পরিচালিত প্যার
কি রিস্তা,
চেতন আনন্দ
পরিচালিত হিন্দুস্থান
কি কসম
এবং হাঁসতে
জখম,
বিনোদ কুমার
পরিচালিত দামন
আউর আগ
এবং এম,
এস,
সঞ্জু পরিচালিত
গরম হাওয়া। ১৯৭৭ সাল-
শত্রুজিৎ পাল
পরিচালিত আমানত
এবং বলরাজ
টাহ পরিচালিত
জালিয়ানওয়ালা বাগ
।
বলরাজ সাহনীর
ভ্রাতা বিষম
সাহনী একজন
প্রখ্যাত লেখক
ছিলেন। বলরাজ সাহনীর
ছেলে পরীক্ষিত
সাহনী একজন
চলচ্চিত্র অভিনেতা। মেয়ে শবনম ‘ব্রেইন হেমারেজ’ হয়ে অকাল মৃত্যু
বরণ করেছিলেন। মেয়ের অকাল মৃত্যুতে
তিনি হতাশ
হয়ে পরেছিলেন।
বলরাজ সাহনী
তাঁর ৬০
সংখ্যক জন্মদিনের
কিছুদিন আগে
১৯৭৩ সালের
১৩ই এপ্রিল-এ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে
মৃত্যু বরণ
করেছেন।•
কিংবদন্তি অভিনেতা প্রাণ
সিকান্দ
ভারতীয় চলচ্চিত্র
জগতে খলনায়ক
এবং চরিত্র
অভিনেতা হিসাবে
খ্যাত প্রাণ
ক্রিষান সিকান্দ-এর জন্ম
নতুন দিল্লীর
বল্লিমারান-এ
১৯২০ সালের
১২ই ফেব্রুয়ারি
একটি ধনী
হিন্দু ব্রাহ্মণ
পরিবারে। প্রাণ ক্রিযান
সিকান্দ ‘প্রাণ’ হিসাবেই অধিক
পরিচিত। তাঁর পিতৃর
নাম কেয়াল
ক্রিযান সিকান্দ। কেয়াল ক্রিযান সিকান্দ
একজন সিভিল
ইঞ্জিনিয়ার এবং
সরকারি কন্ট্রাক্টর
ছিলেন। তাঁর মাতৃর
নাম রামেশ্বরী। প্রাণরাঁ সাত জন
ভাই-
বোন ছিলেন। প্রাণ ১৯৪০ সাল
থেকে ১৯৪৭
সাল পর্যন্ত
মুখ্য চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৪২ সাল থেকে
১৯৯১ সাল
পর্যন্ত খলনায়ক
এবং ১৯৪৮
সাল থেকে
২০০৭ সাল
পর্যন্ত তিনি
সাপোর্টিং(সহায়ক) হিসাবেও অভিনয়
করেছেন।
প্রাণ অ্যাকাডেমিকভাবে খুবই মেধাবী ছাত্র
ছিলো। তিনি গণিত
বিষয়ে খুবই
ভালো ছিলো। তাঁর পিতৃর বদলির
চাকরি ছিলো,
তাই তিনি
দেরাদুন, কাপুরথালা মিরাট এবং
উত্তর প্রদেশের
উন্নাও প্রভৃতি
স্কুলে পড়াশোনা
করেছেন এবং
উত্তর প্রদেশের
রামপুরের হামিদ
স্কুল থেকে
ম্যাট্রিক পাশ
করেছিলেন। তিনি পেশাদার
ফটোগ্রাফার হওয়ার
জন্য দিল্লীর
দাস এন্ড
কোম্পানীতে শিক্ষানবিশী
হিসাবে যোগদান
করেছিলেন। তিনি শিমলায়
‘রামলীলা' নাটকে সীতার ভূমিকায়
অভিনয় করেছিলেন। সেই নাটকে মদন
পুরি রামের
ভূমিকায় অবতীর্ণ
হয়েছিলেন। লাহোরের দোকানি
ও লেখক ওয়ালি মহম্মদ
ওয়ালির সাথে
১৯৪০ সালে
আকস্মিকভাবে সাক্ষাৎ
হওয়ার পরে
তিনি ডাল
সুখ এম,
পাঞ্চলির পাঞ্জাবি
চলচ্চিত্র যামলা
জাট-এ অভিনয় করার সুযোগ
পান ।
চলচ্চিত্রটি পরিচালনা
করেছিলেন মতি
বি.
গিদওয়ানি। চলচ্চিত্রটিতে তাঁর
সাথে অভিনয়
করেছিলো দূর্গাখোটে
এবং শিশু
শিল্পী হিসাবে
অবতীর্ণ হয়েছিলেন
নূর জাহান। এর পরে ১৯৪১
সালে ‘চৌধুরি এন্ড খাজাঞ্চি’
চলচ্চিত্রে একটি
ছোট চরিত্রে
অভিনয় করেন। এম, পাঞ্চুলি তাঁকে
১৯৪২ সালে
আবার তাঁকে
‘খানদান’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করার
সুযোগ দেন। খানদানই ছিলো তাঁর
প্রথম হিন্দী
চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটিতে তিনি
নূর জাহানের
বিপরীতে একজন
রোমান্টিক নায়ক
হিসাবে অভিনয়
করেছিলেন। তখন নূর
জাহানের বয়স
মাত্র পনের
বছর ছিলো
এবং উচ্চতায়
প্রাণের চেয়ে
অনেক ছোট
ছিলো ।
তাই নূর
জাহানকে ইটের
ওপরে দাঁড়িয়ে
ক্লজ-আপ শট দিতে
হয়েছিলো। দেশ বিভাগের
পূর্বে পরিচালক
গিদওয়ানি তাঁকে
কেইসে কহো(১৯৪৪) এবং খামোশ নিগাহে(১৯৪৬) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ
দিয়েছিলেন।
প্রাণ ১৯৪২
সাল থেকে
১৯৪৬ সাল
পর্যন্ত ২২
টি চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারত
বিভাগের পরে
তাঁর অভিনয়
ক্যারিয়ারে কিছুটা
বিরতি পরেছিলো। ১৯৪৪ সাল থেকে
১৯৪৭ সাল
পর্যন্ত প্রাণ
অভিনীত চলচ্চিত্রগুলি
ভারতে মুক্তি
পেয়েছিলো। তবে,
তরাশ(১৯৫১) এবং খানাবাদোশ(১৯৫২) পাকিস্থানে মুক্তি পেয়েছিলো। এই দুটি চলচ্চিত্রে
তাঁর বিপরীতে
সহ-অভিনেত্রী ছিলো
মনোরমা। তিনি পরে
লাহোর থেকে
বোম্বাই চলে
আসেন। বোম্বাই আসার
কয়েক মাস
পরে তিনি
অভিনয়ের সুযোগ
খোঁজতে থাকেন। অভিনয় জগতে প্রবেশের
আগে তিনি
ডেলিমার এবং
মেরিন ড্রাইভ
হোটেল-এ আঠ মাস
চাকরি করেছিলেন। তিনি ১৯৪৮ সালে
অভিনয়ের সুযোগ
পান।
প্রাণ তাঁর
অভিনয় জীবনে
৩৬২ টিরও
অধিক চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেছেন। তিনি ১৯৪২ সালে
নির্মিত খানদান,
১৯৫৪ সালে
নির্মিত পিলপিলি
সাহেব ও
হালাকু(১৯৫৬) চলচ্চিত্রে মুখ্য
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। মধুমতি(১৯৫৮), জিস দেশ
মে গঙ্গা
বেহতী হ্যায়(১৯৬০), উপকার(১৯৬৭), শহিদ(১৯৬৫), পূরব আউর পশ্চিম
(১৯৭০), রাম আউর শ্যাম(১৯৬৭), আসুঁ বন গয়ে
ফুল(১৯৬৯), জনি মেরা নাম(১৯৭০), ভিক্টোরিয়া নম্বর ২০৩(১৯৭২), বে-ইমান(১৯৭২), জঞ্জির(১৯৭৩), ডন(১৯৭৮), অমর আকবর অ্যান্টনি(১৯৭৭), দুনিয়া(১৯৮৪) প্রভৃতি চলচ্চিত্রে তিনি
অসামান্য অভিনয়
করেছেন। তাঁর কিছু
কিছু অভিনয়
চির স্মরণীয়
হয়ে আছে।
প্রাণ তাঁর
অভিনয় জীবনে
অনেক পুরস্কার
এবং সন্মান
পেয়েছেন। তিনি ১৯৬৭,
১৯৬৯ এবং
১৯৭২ সালে
‘বেস্ট সাপোর্টিং'
অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার অর্জন
করেছেন। ১৯৯৭ সালে
তিনি ‘ফিল্মফেয়ার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট'
পুরস্কার অর্জন
করেছেন। তাঁকে ২০০০
সালে স্টারডাস্ট
কর্তৃক ‘ভিলেইন অফ দ্য
মিলেনিয়াম' পুরস্কার
প্রদান করা
হয়েছে। চলচ্চিত্র জগতে
বিশেষ পরিষেবার
জন্য ভারত
সরকার তাঁকে
২০০১ সালে
পদ্মভূষণ এবং
২০১৩ সালে
‘দাদা সাহেব
ফালকে' পুরস্কার প্রদান করেছে। ২০১০ সালে সিএনএন
কর্তৃক তাঁকে
এশিয়ার সর্বকালের
২৫ জন
শ্রেষ্ঠ অভিনেতার
মাঝে তালিকাভূক্ত
করেছে।
লেখক সাদাত
হাসান মন্টো
এবং অভিনেতা
শ্যামের সাহায্যে
প্রাণ বোম্বে
টকিজ ফিল্ম
নির্মিত এবং
সাহিদ লতিফ
নির্দেশিত ‘জিদ্দি'(১৯৪৮) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ
পেয়েছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে তাঁর
সাথে দেব
আনন্দ এবং
কামিনী কৌশল
অভিনয় করেছিলেন। এই চলচ্চিত্রের জরিয়েত
প্রাণ বোম্বাইয়ে
চলচ্চিত্র অভিনয়
সূচনা করেছিলেন। ঘটনাক্রমে এই চলিচ্চিত্রটির
জরিয়তে দেব
আনন্দও নিজেকে
নায়ক হিসাবে
প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জিদ্দি চলচ্চিত্র মুক্তি
পাওয়ার এক
সপ্তাহ পরে
প্রাণ তিনিটি
চলচ্চিত্র সই
করেছিলেন। চলচ্চিত্রগুলি হলো
এস,
এম ইউসূফ
পরিচালিত গৃহস্তী(১৯৪৮), যশবন্ত পটকার পরিচালিত
অপরাধী(১৯৪৯), ওয়ালি মহম্মদ
পরিচালিত পুতলি(১৯৪৯)। গৃহস্তী চলচ্চিত্রটি
হীরক জয়ন্তী
হিট হয়েছিল। গৃহস্তী চলচ্চিত্রটি সফল
হওয়ার পরে
মহালক্ষ্মী রেসকোর্সের
পাশে ওয়ালি
মহম্মদ একটি
অফিস খোলে
চলচ্চিত্র প্রযোজনা
শুরু করেছিলেন। ১৯৫০-এর দশক
থেকে প্রাণ
খলনায়ক হিসাবে
অভিনয় ক্যারিয়ার
শুরু করেছিলেন।
১৯৪৮ সালে
শ্রদ্ধার অভিনীত
গৃহস্তী চলচ্চিত্রের
রোমান্টিক ডুয়েট
গান
‘তেরে নাজ
উঠানে কো
জী চাহতা
হ্যায়' এবং খানদান চলচ্চিত্রে
নূর জাহানের
বিপরীতে অভিনীত
রোমানিন্টক গানগুলি
খুবই জনপ্রিয়
হয়েছিলো। ১৯৫০ সালে
নির্মিত ‘শীশ মহল'
চলচ্চিত্রে তাঁর
সংলাপ, ১৯৫৮ সালে নির্মিত
আদালত চলচ্চিত্রে
তাঁর ছদ্মবেশ
ধারণ, ১৯৫৫ সালে কূলদ্বীপ
কৌর-এর মতো
অভিনেত্রীর বিপরীতে
‘জশন'
চলচ্চিত্রে তাঁর
অভিনয় খুবই
প্রাণবন্ত হয়েছিলো
এবং তিনি
নিজেকে একজন
বহুমুখী অভিনেতা
হিসাবে প্রতিষ্ঠা
করতে সক্ষম
হয়েছিলেন।
খলনায়ক হিসাবে
প্রাণের সফলতা
এসেছিলো জিদ্দি(১৯৪৮) এবং বড়ি বেহেন(১৯৪৯) চলচ্চিত্র-এর জরিয়তে। প্রাণের ‘স্মোক রিং’
পরবর্তী চলচ্চিত্র
গুলিতে ট্রেডমার্ক
হিসাবে বিবেচিত
হয়েছিলো। ১৯৫০ এবং
১৯৬০-এর দশকে খলনায়ক
অথবা নেতিবাচক
চরিত্রে দিলীপ
কুমার, দেব আনন্দ এবং
রাজ কাপুরের
বিপরীতে অভিনয়ের
জন্য তাঁকে
নিয়মিতভাবে প্রস্তাব
দেওয়া হতো। ১৯৫০-এর দশক
থেকে এম,
ভি,
রহমান, নানবতী ভাট,
কালিদাস, রবীন্দ্র দুভে, আই, এস,
জোহর এবং
বিমল রায়-এর মতো
পরিচালকরা তাঁকে
নিয়মিতভাবে খলনায়ক
চরিত্রে প্রক্ষেপ
করতেন। ১৯৬০-এর দশকে এ,
ভীম সিং,
শক্তি সামন্ত,
ভাপ্পি সোনি,
কে,
অমরনাথ,নাসির হোসেন প্রভৃতি
পরিচালকরা তাঁকে
তাঁদের পরিচালিত
চলচ্চিত্রে প্রক্ষেপ
করতেন ।
১৯৭০-এর দশকে যদিও
প্রাণ উচ্চহারে
মাননি দাবি
করতেন তবুও
নবীন-প্রবীণ পরিচালকরা ১৯৬৮
থেকে ১৯৮২
সাল পর্যন্ত
তাঁকে খলনায়ক
এবং সহ-অভিনেতা হিসাবে
প্রক্ষেপ করতেন।
প্রাণ নেতিবাচক
চরিত্রে করা
অভিনয় খুবই
প্রশংসিত হয়েছিলো,
বিশেষ করে
দিলীপ কুমার
অভিনীত আজাদ(১৯৫৫), দেবদাস(১৯৫৫), মধুমতি(১৯৫৮), দিল দিয়া দর্দ
লিয়া(১৯৬৬), রাম আউর
শ্যাম(১৯৬৭) এবং আদমি(১৯৬৮) এবং দেব আনন্দ
অভিনীত জিদ্দি(১৯৪৮), মুনিমজি(১৯৫৫), অমর দীপ(১৯৫৮), জব প্যার কিসি
সে হোতা
হ্যায় (১৯৬১) প্রভৃতি চলচ্চিত্রে
করা অভিনয়
প্রশংসিত হয়েছিল। রাজ কাপুর মুখ্য
চরিত্রে অভিনীত
চলচ্চিত্র আহ(১৯৫৩), চুরি চুরি(১৯৫৬), জাগতে রহো(১৯৫৬), চালিয়া(১৯৬০), জিস দেশ মে
গঙ্গা বেহতী
হ্যায়(১৯৬০), পিসপিলি সাহেব(১৯৫৪), হালাকু(১৯৫৪) প্রভৃতি চলচ্চিত্র খুবই
হিট হয়েছিল। প্রাণ বিভিন্ন ধারার
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছেন। সিন্দাবাদ দ্য
সেইলর(১৯৫৬), এবং ডটার
অফ সিন্দবাদ(১৯৫৮)-এ প্রাণ জলদস্যুর
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। অ্যাকশন প্যাকড
থ্রিলার মুভি
আজাদ(১৯৫৫), ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র
আন(১৯৫২) ও রাজ তিলক(১৯৫৮) এবং সামাজিক চলচ্চিত্র
বেরাদরি(১৯৫৫), হালকা রোমান্টিক
চলচ্চিত্র মুনিমজি(১৯৫৫) এবং আশা(১৯৫৭)ই তাঁর অভিনয়
খুবই প্রশংসতি
হয়েছিলো। ১৯৬০ এবং
১৯৭০-এর দশকের গোড়ার
দিকে ৪০
বছর বয়সে
তিনি ২৫-৩০ বছরের
যুব অভিনেতা
শাম্মী কাপুর,
জয় মুখার্জি,
রাজেন্দ্র কুমার
এবং ধমেন্দ্র
মুখ্য ভূমিকায়
অভিনীত চলচ্চিত্রগুলিতে খলনায়কের চরিত্রে সাবলীল
অভিনয় করেছেন। ১৯৫০-এর দশকের
গোড়ার দিক
থেকে ১৯৭০-এর দশক
পর্যন্ত তিনি
খলনায়ক হিসাবে
খ্যাতি অর্জন
করেছিলেন। ১৯৬৪ সালে
‘পূজা কে
ফুল’
এবং
‘কাশ্মীর কী
কলি’
চলচ্চিত্রে নেতিবাচক
চরিত্রে তিনি
হাস্যকর দিকও
এনেছিলেন। ১৯৬০-এর দশকের শেষের
দিক থেকে
দিলীপ কুমার
এবং রাজ
কাপুরের নায়ক
হিসাবে গুরুত্ব
হ্রাস পেয়েছিলো
এবং রাজেন্দ্র
কুমার এবং
শাম্মী কাপুরও
১৯৭৩ সাল
থেকে নায়কের
চরিত্রে অভিনয়
ছেড়ে দিয়েছিলো,
তবে প্রাণ
তাঁর অভিনয়
আগের মতোই
চালিয়ে যাচ্ছিল। দেব আনন্দের সাথে
তাঁর প্রথম
অভিনয় শুরু
হয়েছিলো ১৯৪৮
সালে। তিনি ১৯৭০
এবং ১৯৮০-এর দশকেও
জনি মেরা
নাম(১৯৭০), ইয়ে গুলিস্তাঁ হামারা(১৯৭২), জুশিলা(১৯৭৩), ওয়ারেন্ট(১৯৭৫) এবং দেশ পরদেশ(১৯৭৮) প্রভৃতি চলচ্চিত্রে দেব
আনন্দ-এর সাথে অভিনয়
করেছেন।
কিশোর কুমার
এবং মেহমুদ
অভিনীত কমেডি
চলচ্চিত্রে প্রাণ
মুখ্য চরিত্রে
অভিনয় করেছেন। তিনি মেহমুদের সাথে
সাধু আউর
শয়তান(১৯৬৮), লাখো মে
এক(১৯৭১) চলচ্চিত্রে মেহমুদের সাথে
এবং চম
চমা চম(১৯৫২), আশা(১৯৫৭), বেকুফ(১৯৬০), হাফ টিকেট(১৯৬২) এবং মন-মৌজি(১৯৬২)চলচ্চিত্রে তিনি
কিশোর কুমারের
সাথে অভিনয়
করেছেন। ১৯৬০ সালে
তিনি মনোজ
কুমারের চলচ্চিত্র
উপকার-এ মালং চাচার
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। কল্যাণজি-আনন্দজির গীত
‘কসমে ওয়াদে
প্যার ওয়াফা'
তিনি চিত্রিত
করেছিলেন। তিনি অনেক
সহানুভূতিশীল চরিত্রেও
অভিনয় করেছেন। উপকার(১৯৬৭) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য
তিনি প্রথম
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
অর্জন করেছিলেন। তিনি মনোজ কুমারের
‘পূরব আউর
পশ্চিম(১৯৭০), বে-ইমান(১৯৭২), সন্ন্যাসী(১৯৬২) এবং দশ
নাম্বারি(১৯৬২) চলচ্চিত্রে মুখ্য
ভূমিকায় অভিনয়
করেছেন। তিনি অসীম
বন্দোপাধ্যায়ের বাংলা
চলচ্চিত্র সোনাই
দীঘি(ৰাছজ্জ)তে অভিনয়
করেছিলেন। এটিই ছিলো
বাংলা চলচ্চিত্রে
তাঁর প্রথম
অভিনয়। সোনাই দিঘীতে
জয় মুখার্জি
তাঁর বিপরীতে
মুখ্য ভূমিকায়
অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
প্রাণ মূলতঃ
খলনায়কের চরিত্রে
অভিনয় করলেও
ননহা ফরিস্তা(১৯৬৯), জংঘল মে মংগল(১৯৭২), ধর্ম(১৯৭৩), এক কুয়ারি এক
কুয়ারা(১৯৭৩), রাহু-কেতু (১৯৭৮)প্রভৃতি চলচ্চিত্রে তাঁকে
মুখ্য চরিত্রে
অভিনয় করার
প্রস্তাব দেওয়া
হয়েছিলো।
প্রাণ এবং
আশোক কুমার
বাস্তব ও
পেশাদার জীবনে
ঘনিষ্ট বন্ধু
ছিলো। আফসানা দিয়ে
শুরু করে
তাঁরা ১৯৫১
সাল থেকে
১৯৮৭ সাল
পর্যন্ত ২৭
টি চলচ্চিত্রে
একসাথে অভিনয়
করেছেন। তাঁদের অন্যান্য
চলচ্চিত্র ছিলো
মিস্টার এক্স(১৯৫৭), অধিকার(১৯৭১), ভিক্টোরিয়া নম্বর ২০৩
(১৯৭২), চুরি মেরা কাম(১৯৭৫), রাজা আউর রং(১৯৮৪) প্রভৃতি চলচ্চিত্রে তাঁরা
এক সাথে
অভিনয় করেছেন। কিশোর কুমার কসুটি(১৯৭৪) চলচ্চিত্রে ‘হাম বুলেগা
তু বুলোগে
কে বোলতা
হ্যায়’এবং মজবুর(১৯৭৪) চলচ্চিত্রে কণ্ঠদান
করা গীত
‘মিশেল দারু
পিতা হ্যায়'
শীৰ্ষক গীতে
প্রাণ অভিনয়
করেছিলো এবং
গীতগুলি খুবই
জনপ্রিয় হয়েছিলো।
১৯৬৯ সাল
থেকে ১৯৮২
সাল পর্যন্ত
প্রাণ বলিউডের
সর্বাধিক বেশি
মাননি দাবি
করা অভিনেতা
ছিলেন। তিনি ‘আউরত’(১৯৬৭) চলচ্চিত্রে মুখ্য ভূমিকায়
অভিনয় করেছিলেন। তাঁর বিপরীতে অভিনয়
করেছিলো পদ্মিনী
কোলাপুরে ।
সেই চলচ্চিত্রে
রাজেশ খান্না
সহ-অভিনেতা ছিলেন
। মর্যদা(১৯৭১), জানওয়ার(১৯৮৩), সৌতেন(১৯৮৩), বেওয়াফাই(১৯৮৫), দূর্গা(১৯৮৫)প্রভৃতি চলচ্চিত্রে প্রাণ
এবং রাজেশ
খান্না এক
সাথে কাজ
করেছেন। ১৯৭৩ সালে
তিনি জঞ্জির
চলচ্চিত্রে অমিতাভ
বচ্চনকে বিজয়ের
চরিত্রে অভিনয়
করার সুযোগ
দেওয়ার জন্য
প্রকাশ মেহরাকে
সুপারিশ করেছিলেন। এর আগে দেব
আনন্দ এবং
ধর্মেন্দ্র-এর
জন্যও সুপারিশ
করেছিলেন। জঞ্জির, ডন(১৯৭৮), অমর আকবর এন্থনি(১৯৭৭), দাস্তানা(১৯৮০), নসিব(১৯৮১)এবং শরাবি প্রভৃতি
১৪ টি
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রে
প্রাণ এবং
অমিতাভ বচ্চন
এক সাথে
অভিনয় করেছেন।
প্রাণ ১৯৭১
সাল থেকে
১৯৯২ সাল
পর্যন্ত বিরোধী
ভূমিকায় অভিনয়
করেছেন। মর্যদা, নয়া জামানা, জওয়ান মুহাব্বত, আন বান,
রূপ তেরা
মস্তানা, ইয়ে গুলিস্তাঁ হামারা,
গাদ্দার, রাহু-কেতু, অন্ধা কানুন(১৯৮৩), দুনিয়া(১৯৮৪), ইনসাফ কৌন
করেগা, দূর্গা, বেওয়াফাই, হুসিয়ার, ধর্ম অধিকারী
এবং আজাদ
দেশ কে
গোলাম প্রভৃতি
চলচ্চিত্রে প্রাণ
খলনায়কের ভূমিকায়
অভিনয় করেছেন। খুন কা রিস্তা,
ইনসাফ এবং
জংঘল মে
মংগল চলচ্চিত্রে
তিনি দ্বৈত
ভূমিকায় অভিনয়
করেছেন। তিনি তাঁর
চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে
১৯৯১ সালে
‘লক্ষ্মণ রেখা'
শিরোনামে শুধু
একটি চলচ্চিত্র
প্রযোজনা করেছেন। চলচ্চিত্রটিতে তিনি কিষাণলাল
শর্মার ভূমিকায়
অভিনয় করেছিলেন।
১৯৯০-এর দশকে অমিতাভ
বচ্চনের ক্যারিয়ার
নিয়ে সংকট
দেখা দিয়েছিলো। তাই অমিতাভ বচ্চন
তাঁর হোম
প্রোডাকশনে অভিনয়ের
জন্য প্রাণকে
অনুরোধ করেছিলেন। অমিতাভ বচ্চনের অনুরোধ
রক্ষা করে
তিনি ‘তেরে মেরে স্বপনে’(১৯৯৬) এবং ‘মৃত্যুদাতা’(১৯৯৭
) চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। চলচ্চিত্র দুটিতে
তিনি অসাধারণ
অভিনয় করেছিলেন। মৃত্যুদাতা চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়
করার সময়
বাস্তব জীবনে
প্রাণের পা
কাঁপতো, তাই তাঁর বাস্তব
জীবনের সাথে
সামঞ্জস্য রেখে
চরিত্রটি প্রবর্তন
করা হয়েছিলো। তেরে মেরে স্বপনে
চলচ্চিত্রটিতে তিনি
শটগুলি বসে
বসে দিয়েছিলেন। ১৯৯৮ সালে ৭৮
বছর বয়সে
তিনি হৃদরোগে
আক্রান্ত হয়েছিলেন
। পরে তিনি বয়স
সংক্রান্ত কারণে
অনেক চলচ্চিত্রের
প্রস্তাব প্রত্যাখান
করেছিলেন। তবে ২০০০-এর দশকে
তিনি কিছু
কিছু চলচ্চিত্রে
অতিথি শিল্পী
হিসাবে অংশগ্রহণ
করেছিলেন।
ছয় দশকের
ক্যারিয়ারে প্রাণ
হিন্দী চলচ্চিত্র
জগতের অন্যতম
বিখ্যাত অভিনেতা
ছিলেন। কথিত আছে
যে,
তিনি নেতিবাচক
চরিত্রে অভিনয়
করার জন্য
অনেকে ‘প্রাণ' নামটি রাখতে
দ্বিধাবোধ করতো। ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রির লোকেরা
তাঁকে ‘প্রাণ সাহেব’বলে সম্বোধন করতো। তাঁর ‘বরখুরধার' শব্দটি খুবই জনপ্রিয়
হয়েছিলো।
ভারতীয় চলচ্চিত্র
জগতে অপরিসীম
অবদানের জন্য
তাঁকে ফিল্মফেয়ার,
স্টার স্ক্রিন,
জি সিনেমা
অ্যাওয়ার্ডসহ ফিল্ম
লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট
পুরস্কারে ভূষিত
করেছেন। প্রাণ নেতিবাচক
চরিত্রে অভিনয়ের
জন্য নানা
পুরস্কারে ভূষিত
হয়েছেন। উপকার, আঁসু বন গই
ফুল এবং
বে-ইমান চলচ্চিত্রে
অভিনয়ের জন্য
তিনি সেরা
সহায়ক অভিনেতা
বিভাগে তিনটি
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
জিতেছেন। ১৯৭৩ সালে
বে-ইমান চলচ্চিত্রে
কনস্টেবল রাম
সিংয়ের ভূমিকায়
অবতীর্ণ হওয়ার
জন্য যখন
তাঁকে পুরস্কার
প্রদান করা
হয়েছিলো তখন
তিনি পুরস্কার
গ্রহণ করতে
অস্বীকার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে,
সেরা সংগীত
পরিচালকের ফিল্মফেয়ারের
অ্যাওয়ার্ডটি পাকিজার
সংগীত পরিচালক
গোলাম মহম্মদকে
প্রদান করা
উচিত ছিলো,
‘বে-
ইমানে’র বাদ্যযন্ত্র বিভাগে
শংকর জয়কিষাণকে
নয়। সহায়ক ভূমিকায়
অভিনয়ের জন্য
‘বেঙ্গল ফিল্ম
জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন'
তাঁকে সেরা
সহায়ক ভূমিকার
তিনটি অ্যাওয়ার্ডে
ভূষিত করেছেন।
ভারতীয় চলচ্চিত্রে
পরিষেবার জন্য
২০০১ সালে
ভারত সরকার
তাঁকে পদ্মভূষণ
সন্মানে ভূষিত
করেছেন। ভারত সরকার
২০১৩ সালের
এপ্রিলে তাঁকে
মর্যদাপূর্ণ দাদা
সাহেব ফালকে
সন্মানে ভূষিত
করার কথা
ঘোষণা দেওয়া
হয়েছিলো। ৬০ সংখ্যক
জাতীয় ফিল্ম
অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে
তাঁকে চলচ্চিত্র
জগতে লাইফটাইম
অবদানের জন্য
এই পুরস্কার
প্রদান করা
হয়েছিলো। এই পুরস্কারে
ভূষিত হওয়ার
জন্য সেলিব্রিটিরা
তাঁকে অভিনন্দন
জানিয়েছিলেন এবং
অমিতাভ বচ্চন
তাঁর টুইটে
প্রাণকে ‘ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের
বড় স্তম্ভ'
বলে অভিহিত
করেছিলেন।
প্রাপ্ত পুরস্কারসমূহ
-
২০০১ সালে
পদ্ম ভূষণ
।
২০১৩ সালে
দাদা সাহেব
ফালকে লাইফটাইম
অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার।
১৯৬৭ সালে
উপকার চলচ্চিত্রে
অভিনয়ের জন্য
সেরা সহায়ক
ভূমিকার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার।
১৯৬৯ সালে
আঁসু বন
গই ফুল
চলচ্চিত্রে অভিনয়ের
জন্য সেরা
সহায়ক ভূমিকার
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।
১৯৭২ সালে
বে-ইমান চলচ্চিত্রে
অভিনয়ের জন্য
সেরা সহায়ক
ভূমিকার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার। ১৯৯৭ সালে
ফিল্মফেয়ার বিশেষ
পুরস্কার।
১৯৬১ সালে
‘জিস দেশ
মে গংগা
বেহতী হ্যায়'
চলচিত্রে অভিনয়ের
জন্য ‘বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস
অ্যাসোসিয়েশন' কর্তৃক
সেরা সহায়ক
ভূমিকার অ্যাওয়ার্ড।
১৯৬৬ সালে
‘শহিদ’ চলচিত্রে অভিনয়ের জন্য
‘বেঙ্গল ফিল্ম
জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন'
কর্তৃক সেরা
সহায়ক ভূমিকার
অ্যাওয়ার্ড।
১৯৭৩ সালে
'জঞ্জির' চলচিত্রে অভিনয়ের জন্য
'বেঙ্গল ফিল্ম
জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন'
কর্তৃক সেরা
সহায়ক ভূমিকার
অ্যাওয়ার্ড।
অন্যান্য পুরস্কার এবং সন্মান
১৯৭২-৭৩ সালে আহমেদাবাদের
চিত্রলোক চিনে
চার্কেল কর্তৃক
‘বেস্ট ক্যারেক্টার
আর্টিস্ট' অ্যাওয়ার্ড।
১৯৭৫-৭৬ সালে বোম্বে
ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড
কর্তৃক ‘সেরা দক্ষ অভিনেতা’
পুরস্কার।
১১৯৭৮ সালে
নর্থ বোম্বে
জয়চিস কর্তৃক
‘সেরা চরিত্র
অভিনেতা’ পুরস্কার।
১৯৮৪ সালে
বোম্বে ফিল্ম
অ্যাওয়ার্ড কর্তৃক
‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি স্পেশাল
অ্যাওয়ার্ড এজ
উইজার্ড অফ
এক্টিং' পুরস্কার।
১৯৮৪ সালে
ফিল্মগোয়ের অ্যাওয়ার্ড
কর্তৃক ‘অভিনয় সম্রাট' সন্মান।
১৯৮৫ সালে
পাঞ্জাব কলা
সংগম কর্তৃক
‘কলা ভূষণ’
অ্যাওয়ার্ড।
১৯৮৭ সালে
নর্থ বোম্বে
জয়চিস কর্তৃক
‘আউটস্টান্ডিং পারফরমেন্স
অফ ডেকেড'
সন্মান। ইনরিসিং হিউম্যান
লাইফ এবং
আউটস্ট্যান্ডিং এটেনমেন্টস
ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ
সোসাইটি কর্তৃক
‘বিজয়শ্রী অ্যাওয়ার্ড'।
১৯৯০ সালে
পঞ্জাব কলা
সংগম-এর স্বর্ণ জয়ন্তী
উপলক্ষ্যে ‘কলা রতন'
সন্মান।
১৯৯০ সালে
লন্ডনের সাউথহল
লায়ন্স ক্লাব
কর্তৃক চলচ্চিত্র
শিল্পে তাঁর
পরিষেবার সুবর্ণ
জয়ন্তী উদযাপন
উপলক্ষ্যে তাঁকে
অমূল্য পরিষেবার
স্বীকৃতি প্রদান
।
১৯৯১ সালে
চিনেগোয়ের্স কর্তৃক
‘অভিনয় সম্রাট
গোল্ডেন জুবিলী'
অ্যাওয়ার্ড।
১৯৯২ সালে
ভারতীয় চলচ্চিত্র
শিল্পে ইন্ডিয়ান
মোশন পিকসার্স
প্রযোজনা সমিতিতে
অসামান্য অবদানের
জন্য পুরস্কার।
২০০০ সালে
‘স্টার স্ক্রিন
লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট
অ্যাওয়ার্ড।
২০০০ সালে
জি চিনে
লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট
অ্যাওয়ার্ড।
২০০০ সালে
স্টারডাস্ট অ্যাওয়ার্ড
কর্তৃক ‘ ভিলেইন অফ দ্য
মিলেনিয়াম' পুরস্কার।
২০০৪ সালে
মহারাষ্ট্র সরকার
কর্তৃক ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট' অ্যাওয়ার্ড।
২০১০ সালে
দাদা সাহেব
ফালকে অ্যাকাডেমি
কর্তৃক ‘ফালকে আইকন এবং
কিংবদন্তি ভার্সেটাইল
সিনেমা স্টার
অ্যাওয়ার্ড।
প্রাণ ১৯৪৫
সালে শুক্লা
আহুলিয়ার সাথে
বিবাহ বন্ধনে
আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের দুই ছেলে
অরবিন্দ এবং
সনীল সিকান্দ। এক মেয়ে পিংকি।
২০১৩ সালে
শারীরিক অবস্থার
অবনতির জন্য
কয়েক মাসে
কয়েকবার তাঁকে
লীলাবতী হাসপাতালে
ভর্তি করা
হয়েছিলো ।
এক পর্যায়ে
তিনি নিউমোনিয়ায়
আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২০১৩ সালের ১২
ই জুলাই ৯৩ বছর
বয়সে দীর্ঘদিন
বার্ধক্যজনিত রোগে
ভোগে প্রাণ
মুম্বাইর লীলাবতী
হাস্পতাল-এ শেষনিশ্বাস ত্যাগ
করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে
রাষ্ট্রনায়ক এবং
তাঁর গুণমুগ্ধরা
সমবেদনা জানিয়েছিলেন। তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী
মনমোহন সিং
তাঁর মৃত্যুতে
সমবেদনা জানিয়ে
তাঁকে ‘আইকন’ আখ্যা দিয়েছিলেন। অমিতাভ বচ্চন তাঁকে
ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রির
‘দুর্দান্ত স্তম্ভ'
বলে টুইট
করেছিলেন। •
দিলীপ কুমার
সর্বজন হিতকারী,
অতি উদার
প্রকৃতির কিংবদন্তি
অভিনেতা দিলীপ
কুমারের জন্ম
ব্রিটিশ শাসিত
উত্তর- পূব সীমান্ত প্রদেশের
পেশোয়ারের কিসা
খাওয়নি বাজারে
১৯২২ সালের
১১ ডিসেম্বর-এ। দিলীপ কুমারের
প্রকৃত নাম
ছিল ইউসফ
খান। দিলীপ কুমারের
বাবার নাম
ছিল লালা
গোলাম সরোয়ার
খান এবং
মার নাম
আয়েশা বেগম। ইউসূফ খান পিতৃ-মাতৃর ১২
জন সন্তানের
একজন ছিলেন। গোলাম ছারোয়ার ভূস্বামী
ছিলেন এবং
তিনি ফলের
চাষ করতেন। নাশিকের নিকটে পেশোয়ার
এবং দেওলালিতে
তাঁর ফলের
বাগান ছিল। ইউসূফ খানকে নাশিকের
দেওলালির বার্নস
স্কুলে ভর্তি
করা হয়েছিল। রাজ কাপুর তাঁর
শৈশবের বন্ধু
ছিলেন এবং
পরবর্তী জীবনে
চলচ্চিত্র জগতে
সহকর্মী ছিলেন।
১৯৪০ সালের
শেষের দিকে
বাবার সাথে
মনোমালিন্য হওয়ার
দরুন দিলীপ
কুমার মহারাষ্ট্রের
পুণের উদ্দেশ্যে
বাড়ী থেকে
বেড়িয়ে আসেন। পুণে এসে তিনি
প্রবীণ এংলো
ইন্ডিয়ান পার্সি
কেফে মালিক
দম্পত্তির সহায়তায়
একজন কেন্টিন
ঠিকাদারের সাথে
সাক্ষাত করেন। উক্ত ঠিকাদাৰ দিলীপ
কুমারের ইংরাজি
ভাষাজ্ঞান এবং
ভাল লেখার
যোগ্যতার ভিত্তিতে
পরিবারের বিষয়ে
না জেনেই
একটি ষ্টল
খোলার অনুমতি
প্রদান করেন। দিলীপ কমার আর্মি
ক্লাবের নিকট
একটি স্যান্ডউইস
ষ্টল খোলেন। চুক্তি শেষে তাঁর
হাতে ৫০০০
টাকা জমা
হয় ৷
জমানো টাকা
নিয়ে ১৯৪০
সালের গোড়ার
দিকে বাবাকে
আর্থিক সাহায্য
করার জন্য
দিলীপ কুমার
বোম্বাই চলে
আসেন এবং
দক্ষিণ বোম্বাইতে
অবস্থিত চার্চগেট
স্টেশনে তিনি
ডাঃ মাসানির
সাথে দেখা
করেন। ডাঃ মাসানি
তাঁকে মালাদে
অবস্থিত বোম্বাই
টকিজে যাওয়ার
জন্য পরামর্শ
দেন। সেখানে তিনি
বোম্বাই টকিজের
মালিক অভিনেত্রী
দেবিকা রাণীর
সাথে সাক্ষাত
করেন। মাসিক ১২৫০
টাকা বেতনে
উক্ত কোম্পানীতে
তিনি চুক্তিবদ্ধ
হন। এর পরে
তিনি আশোক
কুমারের সাথে
সাক্ষাত করেন। সাবলীল অভিনয় শৈলীর
জন্য তিনি
আশোক কুমার
এবং ফিল্ম
প্রযোজক শশধর
মুখোপাধ্যায় দ্বারা
প্রশংসিত হন। ধীরে ধীরে দিলীপ
কুমার এবং
আশোক কুমারের
মাঝে সৌহৃদ্য
বৃদ্ধি পায়। উর্দু ভাষায় দক্ষতার
কারণে প্রথমে
তিনি গল্প
রচনা ও
স্ক্রিপ্ট বিভাগে
সহায়তা করেছিলেন। দেবিকা রাণী তাঁকে
নাম পরিবর্তন
করে দিলীপ
কুমার রাখার
জন্য পরামর্শ
দেন। নাম পরিবর্তনের
পরে তিনি
১৯৪৪ সালে
‘জোয়ার ভাটা’
ছবিতে প্রথম
মুখ্য চরিত্রে
অভিনয় করেন। ১৯৪৭ সালে অভিনেত্রী
নুরজাহানের সাথে
‘জুগনু’ ছবিতে অভিনয় করেন। ছবিটি বক্স অফিসে
হিট হয়েছিল
। তার পরে তাঁর
হিট ছবি
ছিল শহীদ
এবং মেলা। ১৯৪৯ সালে মেহবুব
খানের আন্দাজ
ছবিতে রাজ
কাপুর, নার্গিসের সাথে অভিনয়
করেন। সেই বছরই
দিলীপ কুমার
অভিনীত অন্য
একটি ‘হিট ছবি শবনম'
মুক্তি পেয়েছিল।
দিলীপ কুমার ১৯৫০-এর দশকে জোগান (১৯৫০), বাবুল(১৯৫০), হলচল(১৯৫১), দিদার(১৯৫১), তরানা (১৯৫১), দাগ(১৯৫২), সংদিল-এর মতো
বক্স অফিস
হিট ফিল্ম-এ মুখ্য ভূমিকা পালন
করেছিলেন। শিকস্ট(১৯৫৩), অমর(১৯৫৪), উরান খাটোলা(১৯৫৫), ইনসানিয়াত(১৯৫৫),
দেবদাস(১৯৫৫), নয়া দৌর(১৯৫৭), ইয়াহুদি(১৯৫৮), পইগাম(১৯৫৯) প্রভৃতি কয়েকটি চলচ্চিত্রে
অভিনয়ের পরে
তিনি ‘ট্রেজেডি কিং'
হিসাবে পরিচিত
হয়েছিলেন। অনেক ট্রেজেডি
চরিত্র-এ অভিনয় করার
জন্য তিনি
মানসিক হতাশায়
ভূগছিলেন। তখন মনোরোগ
চিকিৎসকের পরামর্শে
তিনি হালকা
ছবিতে অভিনয়
শুরু করেছিলেন। ১৯৫২ সালে নির্মিত
মেহবুব খানের
বিগ বাজেটের
চলচ্চিত্র 'শ্বচবাকলিং আন'
মিউজিক্যাল ফিশার
ফিল্ম'-এ তিনি প্রথম
হালকা চরিত্রে
অভিনয় করছিলেন। তিনি ১৯৫৫ সালে
কমেডি ফিল্ম
আজাদে একজন
চোরের চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৬০ সালে তিনি
রোমান্টিক মিউজিক্যাল
ফিল্ম কহিনূরে
রাজ কুমারের
চরিত্রে অভিনয়
করে সাফল্য
অর্জন করেছিলেন। তাঁর প্রথম টেকনিক
কালারের ছবি
ইউরোপ জুড়ে
চমকপ্রদ প্রিমিয়ারের
মাধ্যমে প্রকাশ
হয়েছিল।
দিলীপ কুমার
কে,
আশিফের বিগ
বাজেটের ঐতিহাসিক
ছবি মুঘল-ই-আজমে সেলিমের
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। ছবিটি ১৯৭১
সালে নির্মিত
হাতী মেরে
সাথী এবং
১৯৭৫ সালে
নির্মিত শোলের
আগে পর্যন্ত
সবচেয়ে বেশি
আয় করা
ছবি ছিল। ছবিটি প্রথমে কালো-সাদা হিসাবে
নির্মিত হয়েছিল। ৪৪ বছর পরে
২০০৪ সালের
প্রথমভাগে ছবিটির
কিছু অংশ
রঙিন করা
হয়েছিল। রঙিন করার
পরে ২০১১
সালে ১০০০
কোটি টাকার
অধিক আয়
করেছিল।
তিনিই প্রথম
অভিনেতা যিনি
দাগ ছবিতে
অভিনয় করার
পর সেরা
অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার জিতেছিলেন। এর পরে তিনি
আরও সাতবার
এই পুরস্কার
জিতেছেন। তিনি সেই
সময়ে বৈজয়ন্তীমালা,
মধুবালা, নার্গিস, নিম্মি, মীনা কুমারী এবং
কামিনী প্রভৃতি
দক্ষ অভিনেত্রীর
সাথে জনপ্রিয়
জুটি বেধেছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে
তাঁর নয়টি
ছবি দশকের
সেরা এবং
৩০ টি
ছবি সর্বোচ্চ
উপার্জনকারী চলচ্চিত্রের
শীর্ষে স্থান
পেয়েছিল। ১৯৫০-এর দশকে তিনি
প্রতিটি ছবির
জন্য ১
লাখ করে
পারিতোষিক নিতেন।
১৯৬১ সালে
দিলীপ কুমার
নিজে প্রযোজিত
এবং অভিনীত
গংগা যমুনা
ছবিতে শীর্ষস্থানীয়
মহিলা বৈজয়ন্তীমালা
এবং সহোদর
নাসির খানের
বিপরীতে অভিনয়
করেছিলেন। ১৯৬২ সালে
ব্রিটিশ পরিচালক
ডেভিড লেন
তাঁর 'লরেন্স অফ আরবীয়া’চলচ্চিত্রে শরিফ
আলির চরিত্রে
অভিনয় করার
জন্য প্রস্তাব
দিয়েছিল, তবে তিনি সেই
ছবিতে অভিনয়
করতে অস্বীকার
করেছিল। সেই চরিত্রে
অবশেষে মিশরের
অভিনেতা ওমর
শরিফ অভিনয়
করেছিলেন।
১৯৬৪ সালে
নির্মিত ‘লিডার’ ছবি তাঁর
গড় রেকর্ড
আয়ের চেয়ে
বক্স অফিসে
কম আয়
করেছিল। তিনি ১৯৬৬
সালে আব্দুল
রশিদ কারদারের
সাথে ‘দিল দিয়া দিল
লিয়া' ছবি পরিচালনা করেছিলেন,
তবে পরিচালক
হিসাবে তিনি
তেমন সফল
হতে পারেননি। ১৯৬৭ সালে দিলীপ
কুমার ‘রাম ঔর শ্যাম’
ছবিতে যমজ
দ্বৈত ছরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। ছবিটি বক্স অফিসে
হিট হয়েছিল। তিনি ১৯৬৮ সালে
আদমী ছবিতে
মনোজ কুমার
এবং ওয়াহিদা
রহমানের বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন। একই বছর তিনি
বৈজয়ন্তীমালার সাথে
জুটি বেধে
‘শুনগৌরশে’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। তাঁরা জুটি বেধে
মোট সাতটি
হিট চলচ্চিত্র
নির্মাণ করেছিলেন। শুনগৌরশেই ছিল বৈজয়ন্তীমালার সাথে দিলীপ কুমারের
অন্তিম ছবি
।
১৯৭০-এর দশকে দিলীপ
কুমার ‘দাস্তান’ ছবিতে অভিনয়
করেন, তবে ছবিটি বক্স
অফিসে ব্যর্থ
হয়। ১৯৭০ সালে
তিনি স্ত্রী
সায়রা বানুর
সাথে ‘গোপী’তে অভিনয়
করেছিলেন। তাঁরা ১৯৭০
সালে বাংলা
চলচ্চিত্র ‘সাগিনা মাহাতো'-এ আবার জুটি
বেধেছিল। একই কাস্ট
দিয়ে ১৯৭৪
সালে সাগিনার
একটি হিন্দী
রিমেক তৈরি
করা হয়েছিল। ১৯৭৬ সালে তিনি
‘বৈরাগ’ চলচ্চিত্রে বাবা, এবং তাঁর দুই
পুত্রের ট্রিপল
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। অবশ্যে ছবিটি
বক্স অফিস
সফল হতে
পারেনি। ‘রাম ঔর
শ্যাম’ ছবিতে রামের ভীতু
চরিত্র-এ অভিনয় করে
প্রশংসিত হলেও
রাম এবং
শ্যামের চেয়ে
তিনি এম,
জি রামচন্দ্রনের
বৈরাগের ভীতু
চরিত্র এঙ্গা
পিল্লাইর চরিত্রকে
অধিক সন্মান
দিয়েছেন। ১৯৬৮ সাল
থেকে ১৯৮৭
সাল পর্যন্ত
অভিনেতা রাজেশ
খান্না এবং
সঞ্জীব কুমার
মুখ্য চরিত্রে
অভিনয় করার
ফলে তিনি
অনেক চলচ্চিত্রের
প্রস্তাব হারিয়েছিলেন।
১৯৮১ সালে
বছরের সবচেয়ে
ছুপার হিট
ফিল্ম ‘ক্রান্তি’ চলচ্চিত্রের জরিয়তে
দিলীপ কুমার
আবার চলচ্চিত্র
জগতে প্রত্যাবর্তন
করেন। চলচ্চিত্রটিতে তিনি
মনোজ কুমার,
শশী কাপুর,
হেমা মালিনী
এবং শত্রুঘ্ন
সিনহার মতো
দক্ষ অভিনেতা-অভিনেত্রীর বিপরীতে
একটি বিপ্লবী
চরিত্রের নাম
ভূমিকায় অবতীর্ণ
হয়েছিলেন। এর পরে
তিনি ১৯৮২
সালে সুভাষ
ঘাইর ‘বিধাতা' চলচ্চিত্রে সঞ্জয়
দত্ত, সঞ্জীব কুমার এবং
শাম্মী কাপুরের
সাথে সাফল্যের
সাথে অভিনয়
করেন। বছরের শেষের
দিকে তিনি
রমেশ সিপ্পীর
‘শক্তি’ চলচ্চিত্রে অমিতাভ বচ্চন-এর সাথে
অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটি খুবই হিট
হয়েছিল এবং
চলচ্চিত্রটির জন্য
অষ্টম এবং
চূড়ান্ত ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার জিতেছিলেন। ১৯৮৪ সালে যশ
চোপ্রা পরিচালিত
সামাজিক ক্রাইম
ড্রামা ফিল্ম
‘মশাল’- এ অনিল কাপুরের
বিপরীতে অভিনয়
করেন। চলচ্চিত্রটি বক্স
অফিসে ব্যর্থ
হয়েছিল যদিও
তাঁর অভিনয়
সমালোচকদের দ্বারা
প্রশংসিত হয়েছিল। ১৯৮৪ সালে তিনি
‘দুনিয়া’ চলচ্চিত্রে ঋষি কাপুরের
সাথে এবং
১৯৮৬ সালে
‘ধর্ম অধিকারী'
ছবিতে জিতেন্দ্র-এর সাথে
অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
দিলীপ কুমার
১৯৮৬ সালে
সুভাষ ঘাই
প্রযোজিত দ্বিতীয়
ছবি
‘কর্মায় অভিনয়
করেন। কর্মায় তিনি
প্রখ্যাত প্রবীণ
অভিনেত্রী নূতন-এর সাথে
জুটি বেধেছিলেন। তিন দশক আগে
অবশ্যে একটি
অসম্পূর্ণ ছবি
‘শিকওয়াতে’ও তাঁরা জুটি
বেধেছিল। ১৯৮৯ সালে
‘কানুন আপনা
আপনা' ছবিতে আবার তিনি
নূতন-এর বিপরীতে অভিনয়
করেছেন।
১৯৯১ সালে
সুভাষ ঘাই
প্রযোজিত ‘সৌদাগর’ ছবিতে দিলীপ
কুমার রাজ
কুমারের বিপরীতে
অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯৫৯ সালে নির্মিত
পইগাম ছবির
পরে এটা
রাজ কুমারের
সাথে তাঁর
দ্বিতীয় ছবি
ছিল। সৌদাগর বক্স
অফিস-এ হিট হয়েছিল। এই ছবিতে অভিনয়ের
পরে পঞ্চাশ
দশক চলচ্চিত্র
জগত-এ বিশেষ অবদানের জন্য
তিনি ফিল্মফেয়ার
‘লাইভ টাইম
অ্যাচিভমেন্ট' পুরস্কার
অর্জন করেছিলেন। ১৯৯৮ সালে দিলীপ
কুমার ‘কিলা’ ছবিতে অবতীর্ণ
হয়েছিলেন, তবে ছবিটি বক্স
অফিসে প্রভাব
ফেলতে পারেনি। ২০০১ সালে অজয়
দেবগন এবং
প্রিয়ংকা চোপ্রার
সাথে ‘অসার’ ছবিতে অবতীর্ণ
হয়েছিলেন। তাঁর ক্লাসিক
চলচ্চিত্র মোলগ-ই-আজম এবং
নয়া দৌড়
যথাক্রমে ২০০৪
এবং ২০০৮
সালে রঙিন
হয়ে মুক্তি
পেয়েছিল। ১৯৯০ সালে
‘আগ কা
দরিয়া’ শিরোনাম-এ নির্মিত একটি ছবি
২০১৩ সালে
নাট্যমঞ্চে মুক্তি
পাওয়ার জন্য
প্রস্তুত করা
হয়েছিল, তবে ছবিটি আজ
অবধি মুক্তি
পায়নি। দিলীপ কুমার
সুভাষ ঘাইর
ছবি
‘মাদার ল্যান্ড’-এ অমিতাভ বচ্চন এবং
শাহরুখ খানের
পাশাপাশি অবতীর্ণ
হওয়ার জন্য
প্রস্তুত করা
হয়েছিল, তবে শাহরুখ খান
প্রকল্পটি ছাড়ার
সিদ্ধান্ত নেওয়ার
পরে চলচ্চিত্রটি
বন্ধ করে
দেওয়া হয়েছিল।
মুঘল-ই-আজম ছবিতে
শ্যুটিং চলার
সময় দিলীপ
কুমার মধুবালার
প্রেমে পড়েছিল। সাত বছর এই
সম্পর্ক চলছিল। নয়া দৌড় ছবির
মামলায় মধুবালা
এবং তাঁর
বাবার বিরুদ্ধে
সাক্ষী দেওয়ার
পরে তাঁদের
সম্পর্ক শেষ
হয়ে যায়। মুঘ-ই-আজম-এর পরে
তাঁরা আর
একসঙ্গে কাজ
করেনি। ১৯৫০-এর দশকের শেষের
দিকে গসিপ
ম্যাগাজিনগুলোতে কুমার
এবং বৈজয়ন্তীমালার সাথে প্রেমের সম্পর্ক
প্রকাশ পেয়েছিল। অন্যান্য অভিনেত্রীর তুলনায়
বৈজয়ন্তীমালার সাথেই
তিনি বেশি
ছবি করেছেন। কামিনী কৌশল এবং
মধুবালার পরে
বৈজয়ন্তীমালার সাথে
ছিল তাঁর
তৃতীয় প্রেম।
১৯৬৬ সালে
দিলীপ কুমার
তাঁর থেকে
২২ বছর
ছোট অভিনেত্রী
সায়রা বানুর
সাথে বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হয়েছেন। তাঁর পরে
হায়দরাবাদের সামাজিক
কর্মী আসলা
সাহিবাকে ১৯৮১
সালে দ্বিতীয়
স্ত্রী হিসাবে
গ্রহণ করেছিলেন,
তবে ১৯৮৩
সালের জানুয়ারিতে
এই সম্পর্ক
শেষ হয়েছিল। তিনি এবং তাঁর
স্ত্রী সায়রা
বানু বর্তমান
বান্দ্রায় বসবাস
করেন। দিলীপ কুমারের
কোনো সন্তান
নেই। তাঁর জীবনী
গ্রন্থ ‘দিলীপ কুমারঃ দ্য
সাবস্ট্যান্স এন্ড
শেডো'তে তিনি উল্লেখ
করেছেন যে,
সায়রা বানু
১৯৭২ সালে
গর্ভধারণ করেছিল,
তবে গর্ভাবস্থার
অষ্টম মাসে
সায়রা বানুর
উচ্চ রক্তচাপ
বেড়ে গিয়েছিল,
তাই চিকিৎকরা
সন্তানটিকে শ্বাসরোধ
করে হত্যা
করেছিল।
দিলীপ কুমার
উর্দু, হিন্দি, হিন্দিকো(তাঁর প্রথম ভাষা),
পাঞ্জাবি, অবধি, ভোজপুরি, মারাঠি, ইংরেজি, বাংলা, গুজরাটি, পশতু এবং ফারসি
ভাষায় সাবলীলভাবে
কথা বলতে
পারেন। তাঁর ছোট
ভাই নাসির
খান(১৯২৪-১৯৭৪)একজন প্রখ্যাত
অভিনেতা ছিলেন। কোভিড-১৯-এর ইতিবাচক
পরীক্ষার পরে
তাঁর অন্য
দুই সহোদর
আসলাম খান
২০২০ সালের
আগস্টে এবং
এহসান খান
২০২০ সালের
সেপ্তেম্বর-এ
মারা গিয়াছেন।
দিলীপ কুমার
২০০০ থেকে
২০০৬ সাল
পর্যন্ত ভারতীয়
জাতীয় কংগ্রেছের
দ্বারা রাজ্যসভার
মনোনীত সদস্য
ছিলেন। তবে,
রাজ্য সভা
সম্পর্কিত বিষয়গুলির
জন্য ভারত
সরকার আয়োজিত
পৃষ্ঠায় তাঁর
নাম অন্তর্ভূক্ত
করা হয়নি। তাই তিনি রাজ্যসভার
সদস্য ছিলেন
কিনা তা
পরিষ্কার নয়। দিলীপ কুমার বেশ
কয়েকটি দাতব্য
এবং সামাজিক
কাজের সাথে
জড়িত। সুনীল দত্ত
এবং অলিভার
অ্যাড্রেসের সাথে
মিলে তিনি
জোগার্স পার্কের
পরিকল্পনা করেছিলেন। দিলীপ কুমার তাঁর
এমপিএলডি তহবিলের
একটি উল্লেখযোগ্য
অংশ বান্দ্রার
ব্যান্ডস্ট্যান্ড প্রমেনেডে
এবং বাগানগুলি
নির্মাণ এবং
উন্নতির জন্য
খরচ করেছেন।
দিলীপ কুমারকে
হিন্দী সিনেমা
ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ
অভিনেতা হিসাবে
বিবেচনা করা
হয়। ভারতীয় অভিনেতার
সর্বোচ্চ সংখ্যক
পুরস্কার জয়ের
জন্য তিনি
গিনিস বুক
অফ ওয়ার্ল্ড
রেকর্ডে অন্তর্ভূক্ত
হয়েছেন। তাঁর পুরো
কেরিয়ার জুড়ে
তিনি অনেক
পুরস্কার অর্জন
করেছেন। ১৯৬১ সালে
নির্মিত গঙ্গা
যমুনা ছবির
কাহিনী তিনি
নিজে লেখেছিলেন,
প্রযোজনা করেছিলেন
এবং অভিনয়
করেছিলেন। ছবিটি দ্বিতীয়
উত্তম হিন্দী
ফিশার ফিল্ম
হিসাবে মনোনীত
হয়েছিল এবং
জাতীয় পুরস্কার
জিতেছিল। ছবিটি বোস্টন
আন্তর্জাতিক ফিল্ম
ফেস্টিভেলে সিলভার
বাউল, পেরাগুয়ের চেকোশ্লাভিয়া অ্যাকাডেমি
অফ আর্টচ
দ্বারা বিশেষ
সন্মান ডিপ্লমা
এবং কালভরি
ভারি আন্তর্জাতিক
ফিল্ম ফেস্টিভেলে
বিশেষ পুরস্কার
জিতেছিল। অভিনেতা হিসাবে
কেরিয়ার শুরু
করার পর
থেকে শাহরুখ
খান দিলীপ
কুমারকে অনুপ্রেরণা
হিসাবে বিবেচনা
করে আসছে
এবং তাঁর
অভিনয়ের ক্ষেত্রে
কেরিয়ার গড়ার
মূল হিসাবে
উল্লেখ করেছেন।
খান আব্দুল
গফুর ১৯৬০
সালে চেন্নাইর
মীনাবাক্কাম বিমান
বন্দরে অবতীর্ণ
হওয়ার পরে
দিলীপ কুমার
তাঁকে অভ্যর্থনা
জানিয়েছিলেন।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের
ক্ষেত্রে বিশেষ
অবদানের জন্য
১৯৯১ সালে
দিলীপ কুমারকে
ভারতের তৃতীয়
সর্বোচ্চ বেসামরিক
পদ্মভূষণ সন্মান
প্রদান করা
হয়েছে।
২০১৫ সালে
ভারতের দ্বিতীয়
বেসামরিক সন্মান
পদ্ম বিভূষণ
সন্মান প্রদান
করা হয়েছে।
১৯৭৯-১৯৮২ সালে মহারাষ্ট্রের
গভর্ণর দ্বারা
দিলীপ কুমার
বোম্বাইর শেরিফ
নিযুক্ত হয়েছিলেন।
১৯৯৮ সালে
দিলীপ কুমারকে
পাকিস্থানের সর্ব্বোচ্চ
বেসামরিক সন্মান
নিশান-ই-ইমতিয়াজ সন্মান
প্রদান করা
হয়েছে।
১৯৯৭ সালে
অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার
দিলীপ কুমারকে
এনটিআর ন্যাশনাল
অ্যাওয়ার্ড প্রদান
করেছে।
২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি
শাহরুখ খান
৪ টি সেরা অভিনেতার
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
অর্জন আগে
পর্যন্ত একমাত্র
দিলীপ কুমারই
৪ টি সেরা অভিনেতার
ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের
অধিকারী ছিলেন
।
দিলীপ কুমার
বর্ণিত এবং
উদয়তারা নায়ার
লিপিবদ্ধকৃত ‘দ্য
সাবস্ট্যান্স এন্ড
শ্যাডো' আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ২০১৪
সালে ‘হেই হাউস পাাবলিশার্স(ইন্ডিয়া)প্রাইভেট সলিমিটেড' কর্তৃক প্রকাশিত
হয়েছে।
২০২১ সালের ৭ জুলাই তিনি এন্তেকাল করেছেন। •
দেব আনন্দ
চির সবুজ
চলচ্চিত্র অভিনেতা
দেব আনন্দ-এর জন্ম
ব্রিটিশ শাসিত
ভারতের পাঞ্জাবের
গুরুদাসপুর জেলার
শকড়গড় তহশীল-এ ১৯২৩ সালের ২৬
শে সেপ্তেম্বর-এ। তাঁর বাবা
পিশোরিলাল আনন্দ
পেশায় একজন
প্রখ্যাত আইনজীবী
ছিলেন। দেব আনন্দ
চারজন ভ্রাতার
মাঝে তৃতীয়
ছিলেন। তাঁর ছোট
বোন শীলকান্ত
কাপুর ফিল্ম
নির্দেশক শেখর
কাপুরের মাতৃ। তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা
মনমোহন আনন্দ
গুরুদাসপুর জেলায়
আইনজীবী হিসাবে
কর্মরত ছিলেন। তাঁর মাজু ভ্রাতার
নাম চেতন
আনন্দ এবং
ছোট ভ্রাতার
নাম বিজয়
আনন্দ। তিনি ডেলহাউসির
সেক্রেড হার্ট
স্কুল থেকে
ম্যাট্রিক পর্যন্ত
পড়ার পরে
ধরমশালার সরকারী
কলেজে পড়াশোনা
করেছিলেন। পরে দেব
আনন্দ ব্রিটিশ
শাসিত ভারতের
লাহোরের সরকারী
কলেজ থেকে
ইংরেজিতে স্নাতক
ডিগ্রী অর্জন
করেন।
স্নাতক ডিগ্রী
অর্জনের পরে
দেব আনন্দ
১৯৪০ সালের
গোড়ার দিকে
গৃহ শহর
ছেড়ে বোম্বে
চলে আসেন
এবং চার্চগেট
মিলিটারি সেন্সর
অফিসে মাসিক
৬৫ টাকা
বেতন-এ কেরাণি হিসাবে
কর্ম জীবন
শুরু করেন। পরে তিনি উক্ত
প্রতিষ্ঠানে একাউন্টিং
কেরাণি হিসাবে
মাসিক ৮৫
টাকা বেতনে
চাকরি করেন। তিনি তাঁর বড়
ভাই চেতন
আনন্দকে ইন্ডিয়ান
পিপলচ এসোচিএসনে
যোগদান করান। দেব আনন্দ অশোক
কুমারের ‘অচ্যুত কন্যা’ এবং ‘কিসমত’ চলচ্চিত্রের অভিনয় দেখে
অভিনয়ের প্রতি
আকৃষ্ট হোন। দেব আনন্দ একটি
সাক্ষাতকারে বলেছেন-
আমার মনে
পড়ে, আমি প্রথম প্রভাত
ফিল্ম স্টুডিওর
অফিসে প্রবেশের
সময় বাবু
রাও পাই
আমার দিকে
তাকিয়ে ছিল
এবং মনে
মনে ভেবেছিলো,
এই ছেলেটি
নিশ্চয় ফিল্মে
কাজ করার
জন্য দাবিদার। বাবুরাও পাই পরে
বলেছিলেন, ছেলেটির হাসি, সুন্দর চোখ এবং
তাঁর প্রচন্ড
আত্মবিশ্বাস আমাকে
প্রভাবিত করেছিলো। ১৯৪৬ সালে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য
নিয়ে একটি
চলচ্চিত্র নির্মাণ
করা হয়। চলচ্চিত্রটির শিরোনাম ছিলো
‘হাম এক
হ্যায়'। সেখানে দেব
আনন্দ একটি
হিন্দু ছেলের
চরিত্রে কমলা
কুটনিসের সাথে
জুটি বেধেছিলো। এই চলচ্চিত্রের শ্যুটিঙের
সময় অভিনেতা
গুরুদত্তের সাথে
দেব আনন্দের
বন্ধুত্ব গঢ়ে
উঠে। তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হোন যে,
তাঁদের মধ্যে
যে সিনেমায়
সফল হবে,
সে অন্যকে
সফল হওয়ার
জন্য সহায়
করবেন। তাঁরা আরও
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হোন
যে,
দেব আনন্দ
ফিল্ম প্রযোজনা
করলে গুরুদত্ত
সেখানে নির্দেশনা করবেন
এবং গুরুদত্ত
প্রযোজনা করলে
দেব আনন্দ
সেখানে অভিনয়
করবেন।
১৯৪০-এর দশকের শেষের
দিকে একটি
নারীপ্রধান চলচ্চিত্রে
দেব আনন্দকে
গায়িকা-অভিনেত্রী সুরাইয়ার সাথে
অভিনয় করার
জন্য প্রস্তাব
দেওয়া হয়। তাঁরা দুজনে জুটি
বেঁধে ‘বিদ্যা’(১৯৪৮), ‘জিদ্দি ’(১৯৪৯), ‘শায়ের’(১৯৪৯), ‘আফসার’(১৯৫০), ‘নিলি’(১৯৫০),‘দো সিতারে’(১৯৫১), এবং
‘সোনম’(১৯৫১)প্রভৃতি চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রগুলি বক্স অফিসে
হিট হয়। এই চলচ্চিত্রগুলিতে সুরাইয়া
বেশি মাননি
পেতেন এবং
সুরাইয়া সব
সময় ইংঙ্গিত
করতেন যে
তিনি দেব
আনন্দের চেয়ে
বড় তারকা।
‘বিদ্যা’চলচ্চিত্রের ‘কিনারে কিনারে
চলে জায়েঙ্গে'
গীতটি শ্যুটিঙের
সময় তাঁরা
যে নৌকায়
চড়ে গীতটি
শ্যূটিং করছিল
সেই নৌকাটি
ডুবে যেতে
বসেছিল, তখন দেব আনন্দ
সুরাইকে ডুবে
যাওয়ার হাত
থেকে বাচিয়েছিলো। সেখান থেকেই তাঁদের
মধ্যে প্রেমের
সম্পর্ক গঢ়ে
উঠেছিলো। প্রথম দিকে
সুরাইয়ার পরিবার
দেব আনন্দকে
বাড়িতে সমাদর
করতো। ‘জিত'
চলচিত্রের শ্যুটিঙের
সময় তাঁরা
বিয়ের পরিকল্পনা
পর্যন্ত করে
ফেলেছিলো। তাঁরা দুজনে
সহ-অভিনেত্রী দূর্গ
খোটে এবং
কামিনী কৌশলের
সহযোগে চিঠিপত্র
আদান-প্রদান করতো ।
আফসার চলচ্চিত্র-এর শ্যূটিঙ
চলাকালীন দেব
আনন্দ সুরাইকে
৩০০০ টাকা
মূল্যের হীরার
আংটিও উপহার
দিয়েছিলো। কিন্তু দেব
আনন্দ হিন্দু
এবং সুরাইয়া
মুসলমান কারণে
সুরাইয়ার মাতামহী
এই সম্পর্কের
বিরোধিতা করেন
৷ ফলে সুরাইয়া দেব
আনন্দের সাথে
অভিনয় বন্ধ
করে দেন। তাঁরা একসাথে সিতারে
চলচ্চিত্রে শেষ
অভিনয় করেছিলো
এবং সুরাইয়া
চির জীবন
অবিবাহিত থাকার
সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত
সুরাইয়া তাঁর
এই সিদ্ধান্তে
অটল ছিলো। প্রযোজক এবং পরিচালকরা
সুরাইয়ার সাথে
অভিনীত চলচ্চিত্রগুলি
সফল হওয়ার
পেছনে সুরাইয়ার
অভিনয় দক্ষতাকে
উল্লেখ করেছেন। ফলে দেব আনন্দ
অভিনয় দক্ষতা
সম্পর্কে তাঁর
সংশয় কাটিয়ে
উঠতে একটি
চলচ্চিত্রের সন্ধান
করতে থাকেন।
দেব আনন্দ
প্রায়শই সুরাইয়া
এবং তাঁর
প্রেমের সম্পর্ক
নিয়ে বিভিন্ন
সাক্ষাতকারে কথা
বলতেন। সুরাইয়া জীবিত
থাকা কালে
১৯৭২ সালে
স্টারডাস্ট মেগাজিনের
জুন সংখ্যয়,
স্টার এন্ড
স্টাইল মেগাজিনের
১৯৮৭ সালের
ফেব্রুয়ারি সংখ্যায়
এবং ২০০২
সালে করণ
থাপারের সাথে
টিভি সাক্ষাতকারে
তাঁদের প্রেমের
সম্পর্কে উল্লেখ
করেছেন। সুরাইয়ার মৃত্যুর
পরে সিমি
গারওয়ালকে দেওয়া
টিভি সাক্ষাতকারে
এবং অন্যান্য
টিভি সাক্ষাতকারে
তাঁদের এই
প্রেমের সম্পর্কের
কথা উল্লেখ
করেছেন।
দেব আনন্দকে
প্রথম ব্রেকআউট
দেন অশোক
কুমার। ১৯৪৮ সালে
অশোক কুমার
তাঁকে বোম্বে
টকিজ প্রোডাকশনের
ব্যানারে নির্মিত
‘জিদ্দি’ চলচ্চিত্রে কামিনী কৌশলের
বিপরীতে মুখ্য
চরিত্রে অভিনয়
করার সুযোগ
দেন। চলচ্চিত্রটি তাৎক্ষণিকভাবে
বক্স অফিসে
সফল হয়। জিদ্দি চলচ্চিত্রের সফলতার
পরে দেব
আনন্দ নিজেই
চলচ্চিত্র প্রয়োজনা
শুরু করেন। জিদ্দি চলচ্চিত্রে ‘ইয়ে
কৌন আয়া
করকে ইয়ে
শোলা সিংহর’
শীর্ষক গীতটি
লতা মাঙ্গেকর
এবং কিশোর
কুমার প্রথম
দ্বৈত কণ্ঠে
রেকর্ড করেছিল। গীতটি তাৎক্ষণিকভাবে খুবই
হিট হয়েছিল। ফলে দেব আনন্দ
উভয়কে নেপথ্য
(প্লেব্যাক) গায়ক হিসাবে বেচে
নেন। কিশোর কুমার
এবং লতা
মাঙ্গেশকর জুটি
প্রায় চার
দশক স্থায়ী
ছিল। কিশোর কুমারের
সাথে দেব
আনন্দের বন্ধুত্ব
শুরু হয়েছিলো
জিদ্দি চলচিত্রের
‘মরনে কি
দুয়ায়ে’ গীতটি শ্যুটিং করার
সময় থেকে। চলচ্চিত্রটি নির্মাণের সময়
কিশোর কুমারের
সাথে দেব
আনন্দের বন্ধুত্বের
সম্পর্ক অধিক
দৃঢ় হয়। ১৯৪৯ সালে দেব
আনন্দ তাঁর
নিজস্ব ফিল্ম
সংস্থা নবকেতন
শুরু করেন। সংস্থাটির নাম রেখেছিলো
তাঁর বড়
ভাই চেতনের
ছেলে কেতনের
নাম অনুসারে। যার অর্থ ছিলো
‘নতুন ব্যানার’। এই সংস্থাটি ২০১১
সাল পর্যন্ত
৩৫ টি
চলচ্চিত্র প্রযোজনা
করেছে। ১৯৫০ সালে
নির্মিত ‘নিরালা’ চলচ্চিত্রের জরিয়তে
দেব আনন্দ
মধুবালার সাথে
জুটি বেঁধেছিলেন। তাঁরা পরে অনেক
জনপ্রিয় ছবি
উপহার দিয়েছেন।
১৯৫১ সালে
নির্মিত ক্রাইম
থ্রিলার ছবি
‘বাজি' চলচিত্র পরিচালনার জন্য
দেব আনন্দ
গুরুদত্তকে বেচে নিয়েছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে দেব আনন্দ,
গীতা বালি,
কল্পনা কার্তিক
অভিনয় করেছিলো। অভিনীত চলচ্চিত্রটি ‘ট্রেন্ডসেটার’
ছিলো, যা ১৯৫০-এর দশকে বলিউডের
'নগর অপরাধে'র চলচ্চিত্রগুলির অগ্রদূত হিসাবে
বিবেচিত হয়েছিলো। বাজি চলচ্চিত্রে কল্পনা
কার্তিক(উরফে মোনা সিংহ)
প্রথম নায়িকা
এবং গুরুদত্ত
প্রথম পরিচালক
হিসাবে আত্মপ্রকাশ
করেছিলো। চলচ্চিত্রটি সফল
হয়েছিলো এবং
পরে দেব
আনন্দ ও
কল্পনা কার্তিককে
অনেক চলচ্চিত্রে
অভিনয় করার
জন্য প্রস্তাব
দেওয়া হয়েছিলো। তাঁরা সেইসব চলচ্চিত্রগুলির জন্য স্বাক্ষর করেন
এবং তাঁদের
অভিনীত ‘আন্ধিয়া’ (১৯৫২), ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’(১৯৫৪), ‘হাউস নম্বর
৪৪’(১৯৫৫), নও দো গায়রাহ(১৯৫৭) চলচ্চিত্রগুলি খুবই হিট
হয়। ট্যাক্সি ড্রাইভার
চলচ্চিত্র নির্মাণের
সময় উভয়ে
প্রেমে পড়েন
এবং দেব
আনন্দ নায়িকা
কল্পনা কার্তিককে
বিয়ের প্রস্তাব
দেন। ১৯৫৪ সালে
ট্যাক্সি ড্রাইভার
চলচ্চিত্রটি মুক্তি
পায় এবং
মুক্তির পরেই
হিট হয়ে
যায়। তাঁরা অনাড়ম্বরভাবে
বিবাহ বন্ধনে
আবদ্ধ হোন
। এই দম্পত্তির ১৯৫৬
সালে একটি
পুত্র সন্তান
লাভ করেন। পুত্রের নাম সুনীল
আনন্দ রাখা
হয় ৷
পরে দেবীনা
নামের একটি
কন্যা সন্তান
লাভ করেন। বিয়ের পরে কল্পনা
কার্তিক অভিনয়
জগত থেকে
সরে আসেন।
‘নও দো
গায়রহ'ই ছিল তাঁদের
জুটির সর্বশেষ
চলচ্চিত্র।
দ্রুত কথা
বলার ভংগী,
কথা বলার
সময় ঝাঁকুনি
ছিল দেব
আনন্দের বৈশিষ্ট্য। তিনি অভিনীত হাউস
নম্বর ৪৪(১৯৫৫), পকেট মার(১৯৫৬), মুনিমজি(১৯৫৫), ফানটোস(১৯৫৬), সিআইডি(১৯৫৬), প্যায়িং গেস্ট(১৯৫৭) প্রভৃতি চলচ্চিত্র
খুবই জনপ্রিয়
হয়েছিলো। ১৯৫০-এর দশকে তিনি
অভিনীত চলচ্চিত্রগুলি
রহস্যভিত্তিক এবং
হালকা প্রেমের
কাহিনী সমৃদ্ধ
সামাজিক চলচ্চিত্র
ছিল। ফানটুশ(১৯৫৬) এবং
‘এক কে
বাদ এক
(১৯৫৯), চলচ্চিত্র দুটি তেমনই
সামাজিক প্রাসঙ্গিক
চলচ্চিত্র ছিলো। তাঁর স্টাইল শ্রোতাদের
দ্বারা খুবই
সমাদৃত হয়েছিলো। ১৯৫৬ সালে তিনি
নবাগতা ওয়াহিদা
রেহমানের বিপরীতে
সিআইডি চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। এই জুটি সিআইডির
পরে ষোলয়া
সাল
(১৯৫৮), ‘কালা বাজার’(১৯৬০) এবং
‘বাত এক
রাত কী(১৯৬২) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এই জুটি ‘রূপ কী রাণী
চোরো কা
রাজা’(১৯৬১) এবং প্রেম
পূজারি চলচ্চিত্রেও
অভিনয় করেছিলেন।
দেব আনন্দ
১৯৫৫ সালে
নির্মিত ‘ইনসানিয়াত’চলচ্চিত্রে দিলীপ
কুমারের সাথে
সহ-অভিনেতা ছিলেন। মধুবালা এবং নলিনী
জয়ন্তের সাথে
১৯৫৮ সালে
‘কালা পানী’
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটি বক্স
অফিস হিট
হয়েছিলো। এই চলচ্চিত্রে
অভিনয়ের জন্য
তিনি সেরা
অভিনেতার প্রথম
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
অর্জন করেছিলেন। মাঝেমধ্যে তিনি ট্র্যাজিক
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছেন। যেমন- পকেট মার
(১৯৫৬), কালাপানী(১৯৫৮), বোম্বাই কা বাবু(১৯৬০), শরাবি(১৯৬৪)প্রভৃতি চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রগুলিতে তিনি
সাফল্যও পেয়েছিলেন। দেব আনন্দ নেতিবাচক
কয়েকটি চলচ্চিত্রেও
অভিনয় করেছেন। যেমন-জাল(১৯৫২)। এখানে তিনি
একজন চেরাচালানীর
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। দুশমন (১৯৫৭) চলচ্চিত্রে তিনি
পলাতক গ্যাঙের
সদস্য ছিলেন। কালা বাজার চলচ্চিত্রে
তিনি কালো
বাজারি হিসাবে
অভিনয় করেছিলেন। সুরাইয়া এবং কল্পনা
কার্তিকের সাথে
জুটি বাঁধা
ছাড়াও তিনি
১৯৫০ এবং
১৯৬০-এর দশকে নুতন
এবং ওয়াহিদা
রেহমানের সাথে
জুটি বেঁধে
জনপ্রিয় ছবি
উপহার দিয়েছেন। তাঁর চলচ্চিত্র রাহি(১৯৫২) এবং আন্ধিয়ান(১৯৫২) রাজ কাপুরের
চলচ্চিত্র ‘আওয়ারা'র সাথে তুলনীয় ছিল। পঞ্চাশের দশকের গোড়ার
দিক থেকে
ষাঠের দশকের
মাঝামাঝি পর্যন্ত
চলচ্চিত্র জগতে
দিলীপ কুমার,
রাজ কাপুর
এবং দেব
আনন্দের রাজত্ব
ছিলো।
‘মঞ্জিল’ এবং ‘তেরে ঘরকে
সামনে' নুতনের সাথে, ‘কিনারে কিনারে’ মীনাকুমারীর সাথে, ‘মায়া’ মালা সিনহার
সাথে, ‘আসলি-নকলি' সাধনা শিবদাসানীর সাথে,
‘জব প্যার
কিসি সে
হোতা হ্যায়'
ও
‘মহল’
আশা পারেখের
সাথে এবং
‘তিন দেবীয়া’
চলচ্চিত্র-এ কল্পনা, সিমি গারেয়াল এবং
নন্দার সাথে
জুটি বেঁধে
ষাটের দশকে
দেব আনন্দ
রোমান্টিক ইমেজ
অর্জন করেছিলেন। তিন দেবীয়া চলচ্চিত্রে
তিনি একজন
প্লেবয়-এর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ষাটের দশকের গোড়ার
দিকে দেবা
আনন্দ অভিনীত
একটি উল্লেখযোগ্য
চলচ্চিত্র ছিলো
‘হাম দোনু’(১৯৬১)। চলচ্চিত্রটি তিনি
নিজে পরিচালনা
এবং অভিনয়
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে তিনি
সাধনা শিবদাসানির
বিপরীতে অভিনয়
করেছিলেন। প্রেমিকার পিতৃ
কর্তৃক প্রেমে
বাধাপ্রাপ্ত হয়ে
তিনি সেনা
বাহিনীতে ভর্তি
হয়েছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে তিনি
দ্বৈত চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। চলচ্চিত্রটির সংগীত পরিচালনা
করেছিলেন জয়দেব। চলচ্চিত্রটি বক্স অফিস
হিট হয়েছিলো।
দেব আনন্দের
প্রথম রঙিন
চলচ্চিত্র ছিলো
‘গাইড’। চলচ্চিত্রটি আর,
কে নারায়নয়ের
একই নামের
বই থেকে
দেব আনন্দ
নিজে চলচ্চিত্র
সংস্করণ তৈরি
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে ওয়াহিদা
রেহমান তাঁর
বিপরীতে অভিনয়
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটি একই
সময়ে হিন্দী
এবং ইংরেজিতে
শ্যূট করা
হয়েছিলো এবং
১৯৬৫ সালে
মুক্তি পেয়েছিলো। চলচ্চিত্রটি তাঁর ছোট
ভাই বিজয়
আনন্দ পরিচালনা
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটি খুবই
প্রশংসতি হয়েছিলো। চলচ্চিত্রটিতে দেব আনন্দ
রাজু নামে
একজন অনর্গল
কথা বলা
গাইডের চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। যিনি রোজি(ওয়াহিদা রেহমান)কে আদেশ করার
স্বাধীনতা প্রদান
করেছিলেন। তিনি ব্যক্তিগত
লাভের জন্য
শোষণ করার
উর্দ্ধে ছিলেননা। চলচ্চিত্রটিতে দেব আনন্দ
পদার্থের সাথে
শৈলীর মিশ্রণে
প্রেম, লজ্জা এবং দাসত্বের
মাধ্যমে আবেগের
সাথে ঝাঁপিয়ে
পড়া একজন
ব্যক্তি হিসাবে
প্রভাবশালী অভিনয়
করেছিলেন। বিজয় আনন্দ
পরিচালিত থ্রিলার
ঘরানার চলচ্চিত্র
'জুয়েল থিফ'
চলচ্চিত্রটিতে তিনি
বৈজয়ন্তীমালা, তনুজা,
অঞ্জু মাহেন্দু,
ফরিয়াল এবং
হেলেনের সাথে
অভিনয় করেছিলেন। চলচ্চিত্রটি বক্স অফিস
সফল হয়েছিলো। এর পরে ১৯৭০
সালে থ্রিলার
চলচ্চিত্র ‘জনি মেরা নাম'
চলচ্চিত্রে দেব
আনন্দ হেমা
মালিনীর সাথে
জুটি বেঁধেছিলেন। চলচ্চিটি খুবই জনপ্রিয়
হয়েছিলো। এই চলচ্চিত্রটিতে
অভিনয়ের পরেই
হেমা মালিনী
বড় তারকা
হয়ে উঠেছিলেন। ১৯৬৯ সালে দেব
আনন্দ ৬
সংখ্যক মস্কো
আন্তর্জাাতিক ফিল্ম
ফেস্টিভেলে জুরির
সদস্য ছিলেন।
দেব আনন্দ
পরিচালিত ‘গুপ্তচর বৃত্তি’ নাটক বক্স অফিসে
বিফল হলেও
বছরের পর
বছর ধরে
এক সংস্কৃতি
গঢ়ে তুলেছিলো। তিনি জাহিদা এবং
ওয়াহিদা রেহমানকে
মহিলা শিল্পী
হিসাবে পরিচয়
করিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে
দেবা আনন্দ
পরিচালিত ‘হরে রাম হরে
কৃষ্ণ’চলচ্চিত্রটি সাফল হয়েছিলো। চলচ্চিত্রটি স্বামীভূনাথ এবং
ভক্তপুরে নেপালের
আশেপাশে শ্যূট
করা হয়েছিলো। চলচ্চিত্রটিতে প্রচলিত হিপ্পী
সংস্কৃতি সম্পর্কে
আলোচনা করা
হয়েছে। চলচ্চিত্রটিতে জিন্নত
আমান মিনি-স্কার্ট, স্পোর্টিং পরিধান করেছিলো
এবং ধূমপান
করে রাতারাতি
দর্শক-শ্রোতার কাছে পরিচিত
হয়েছিলো। দেব আনন্দ
প্রখর টপিক্যাল
থিম সমৃদ্ধ
চলচ্চিত্র নির্মাতা
হিসাবে পরিচিতি
লাভ করেছিলেন। এর পরের বছর
তিনি এ,
জে ক্রুনিনের
‘দ্য চিটাডেল'
উপন্যাসের ভিত্তিতে
নির্মিত ‘মেরে স্বপ্ন' চলচ্চিত্রে মমতাজের সাথে
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি
‘গেম্বলার’ চলচ্চিত্রে জাহিদার সাথে
অভিনয় করেছিলেন। চলচ্চিত্রটি বক্স অফিস
সফল হয়েছিলো
।
সত্তরের দশকে
রাজ কাপুর
বাবার চরিত্রে
অভিনয় শুরু
করেছিলেন। যেমন আজ
কাল আউর
কাল(১৯৭১), ধরম করম(১৯৭৪)। দিলীপ কুমারকে
মুখ্য চরিত্র
হিসাবে প্রক্ষেপ
করে দাস্তান
এবং বৈরাগ
নির্মাণ করেছিলেন। চলচ্চিত্রগুলি বক্স অফিসে
তেমন প্রভাব
ফেলতে পারেনি। তখন দেব আনন্দ
এবং হেমা
মালিনীকে নিয়ে
তড়িগড়ি নির্মিত
তিনটি চলচ্চিত্র
‘শরিফ বদমাশ’,
‘জানেমন', ‘জুশিলা’চলচ্চিত্রও তেমন
সফল হতে
পারেনি। দেব আনন্দ
এবং জিন্নত
আমানকে নিয়ে
নির্মিত ‘ইস্ক ইস্ক ইস্ক’
ও
‘প্রেমশাস্ত্র’, এবং
দেব আনন্দ
এবং প্রিয়া
রাজবন্সকে নিয়ে
নির্মিত ‘সাহেব বাহাদুর’ চলচ্চিত্রও ফ্লপ হয়। সিনেমা জগতের নেতৃস্থানীয়
হিসাবে তখন
দেব আনন্দের
ক্যারিয়ার নিয়ে
হুমকি দেখা
দেয়। ১৯৭৩ সালে
শংকর মুখার্জি
পরিচালিত এবং
প্রযোজিত ‘বানারশি বাবু’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেব
আনন্দ তাঁর
সুনাম পুনরুদ্ধার
করতে সক্ষম
হন। চলচ্চিত্রটিতে দেব
আনন্দ দ্বৈত
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। বানারশি বাবু
চলচ্চিত্রে রাখী
এবং যোগিতাবালি
তাঁর সাথে
অভিনয় করেছিলেন। চলচ্চিত্রটি বক্স
অফিস সফল
হয়। এর পরে
দেব আনন্দ
নবাগতা শর্মিলা
ঠাকুরের সাথে
ইয়ে গোলিস্তাঁ
হামারা', হেমা মালিনীর সাথে
চোপা রুস্তম(১৯৭৩) এবং আমীর-গরীব(১৯৭৪), জিন্নত আমানের সাথে
‘হীরা-পান্না’(১৯৭৩), ‘ওয়ারেন্ট’(১৯৭৫), ‘কলাবাজ’ এবং ডার্লিং
ডার্লিং(১৯৭৭), পারভীন বাবির
সাথে ‘বুলেট’(১৯৭৬) প্রভৃতি চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেন। চলচ্চিত্রগুলি বাণিজ্যিকভাবে
সফল হয়। জিন্নত আমান, টিনা মুনিম, রাখী, হেমা মালিনী,
পারভীন বাবির
মতো সুন্দরী
তরুণীদের সাথে
তাঁর অন-স্ক্রিন রসায়ন
পঞ্চাশোর্দ্ধ দেব
আনন্দের চির
সবুজ ইমেজ
সৃষ্টি করেছিলো। ১৯৭৮ সালে ৫৫
বছর বয়সে
টিনা মুনিমের
সাথে ‘দেশ পরদেশ' চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। চলচ্চিত্রটি বছরের সেরা
পাঁচটি চলচ্চিত্রের
মধ্যে স্থান
লাভ করেছিলো। তিনি বিভিন্ন ধরণের
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছেন, তাই তিনি বহুমুখী
প্রতিভাবান নায়ক
হিসাবেও পরিচিতি
লাভ করেছিলেন।
১৯৭৫ সালের
২৫ জুন-এ তদানীন্তন প্রধান মন্ত্রী
ইন্দিরা গান্ধী
দেশে অভ্যন্তরীন
জরুরি অবস্থা
ঘোষণা করেছিলেন। তখন দেব আনন্দ
জরুরি অবস্থার
বিরুদ্ধে সোচ্চার
হয়ে উঠেছিলেন। ১৯৭৭ সালের লোকসভা
নির্বাচনে তিনি
সক্রিয়ভাবে ইন্দিরা
গান্ধীর বিরুদ্ধে
প্রচার করেছিলেন। তিনি 'ন্যাশনাল পার্টি
অফ ইন্ডিয়া'
নামে একটি
রাজনৈতিক দলও
গঠন করেছিলেন। অবশ্যে পরে সেই
দল ভেঙে
দিয়েছিলেন।
১৯৭৮ সালে
দেব আনন্দ
নিজে পরিচালিত
এবং প্রযোজিত
‘দেশ পরদেশ'
চলচ্চিত্রে টিনা
মুনিমের সাথে
অভিনয়ের পরে
তিনি চির
সবুজ নায়ক
হিসাবে পরিচিতি
লাভ করেছিলো। ফলে বাসু চ্যাটার্জি
পরিচালিত ‘মন পসন্দ’(১৯৮০) চলচ্চিত্রে তাঁকে
মুখ্য চরিত্রে
অভিনয় করার
জন্য প্রস্তাব
দিয়েছিলো। পরে দেব
আনন্দ নিজে
‘লুটমার’ চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। চলচ্চিত্র দুটি বক্স
অফিস সফল
হয়। মন পসন্দ
এবং লুটমার
চলচ্চিত্রে তিনি
টিনা মুনিম-এর বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৮২ সালে দেব
আনন্দ স্বামী
দাদা' চলচ্চিত্রটি পরিচালনা এবং
প্রযোজনা করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে দেব আনন্দ,
মিথুন চক্রবর্তী,
নাসিরুদ্দিন শাহ,
পদ্মিনী কোলাপুরে,
জেকি প্রুফ
এবং রতি
অগ্নিহোত্রী অভিনয়
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটি চূড়ান্তভাবে
বক্স অফিসে
হিট হয়েছিলো।
১৯৮০-এর দশকেও নায়ক
হিসাবে দেব
আনন্দের দাবি
কম হয়নি। তবে তিনি পুত্র
সুনীল আনন্দকে
চলচ্চিত্র জগতে
নায়ক হিসাবে
প্রক্ষেপের সিদ্ধান্ত
নেন ৷
‘আনন্দ আউর
আনন্দ’চলচ্চিত্রে তিনি সুনীল
আনন্দকে নায়ক
হিসাবে প্রক্ষেপ
করেন। চলচ্চিত্রটি দেব
আনন্দ নিজে
প্রযোজনা এবং
প্রযোজনা করেছিলেন। সংগীত পরিচালনা করেছিলেন
আর,
ডি,
বর্মন। চলচ্চিত্রটি বক্স
অফিস হিট
হবে বলে
তিনি আশা
করেছিলেন। তবে তাঁর
সেই প্রতাশা
পূরণ হয়নি। ফলে সুনীল এর
পরে আর
কোনো চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেনি।
তবে দেব
আনন্দ মুখ্য
চরিত্রে অভিনীত
‘হাম নওজোয়ান’(১৯৮৫) এবং ‘লস্কর’(১৯৮৯) চূড়ান্তভাবে বক্স
অফিসে সফল
হয়েছিলো। ১৯৯০ সালে
নির্মিত ‘আওয়াল নম্বর' চলচ্চিত্রে তিনি আদিত্য
পাঞ্চলি এবং
আমির খানের
সাথে সহ-অভিনেতা ছিলেন। চলচ্চিত্রটি ১৯৯০ সালে
গড় উপার্জন
করেছিলো। পরে আমির
খান একটি
সাক্ষাতকারে বলেছেন-
‘আমি স্ক্রিপ্ট
না পড়েই
চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়ের
জন্য সই
করেছিলোম ।
কারণ চলচ্চিত্রটি
প্রবীণ অভিনেতা
দেব আনন্দ
পরিচালনা করেছিলেন। দেব আনন্দ সাহেব
বহু প্রজন্মের
কাছে আইকন
ছিলেন এবং
আমাদের সারা
জীবন অনেক
বিনোদন করেছেন।'
১৯৮৩ সালে
৬০ বছর
বয়েসে তিনি
সাহেব দাদা
চলচ্চিত্রে ক্রিস্টিন
ও’নীলের সাথে
এবং রতি
অগ্নিহোত্রী ও
পদ্মিনী কোলাপুরের
সাথে অভিনয়
করেছিলেন। ১৯৮৯ সালে
তিনি ‘সচে কা বোলবালা'
চলচ্চিত্র পরিচালনা
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের
দ্বারা প্রশংসতি
হলেও বক্স
অফিসে সফল
হয়নি। ১৯৮৯ সালে
তিনি জগদীশ
কাদর পরিচালিত
‘লস্কর’চলচ্চিত্রে অধ্যাপকের ভূমিকায়
করা অভিনয়
খুবই প্রশংসিত
এবং বক্স
অফিস হিট
হয়েছিলো। লস্কর চলচ্চিত্রটি
তিনি মুখ্য
চরিত্রে অভিনয়
করা সর্বশেষ
হিট চলচ্চিত্র
ছিলো।
১৯৯৩ সালে
দেব আনন্দ
কোনো চরিত্রে
অভিনয় না
করেই ‘প্যার কা তরানা'
চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছিলেন। তিনি ১৯৯৫ সালে
পরিচালিত গ্যাংস্টার
চলচ্চিত্রটি একজন
অখ্যাত অভিনেত্রীর
বিরুদ্ধে সংঘটিত
নগ্ন ধর্ষণের
দৃশ্যের জন্য
বিতর্কিত হয়েছিলো। তিনি ‘রিটার্ণ অফ
জুয়েল থিফ'
এবং
‘আমনকে ফরিস্তে’
চলচ্চিত্রে মুখ্য
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। প্রথম চলচ্চিত্রটি
বক্স অফিস
সফল হয়নি
এবং দ্বিতীয়
চলচ্চিত্রটি সম্পূর্ণ
হলেও ১৯৯৩
সালে মুক্তি
পায়নি।
১৯৯২ সাল
পর্যন্ত দেব
আনন্দ পরিচালিত
৭ টি চলচ্চিত্র বক্স
অফিসে অসফল
হয়েছিল। তবে,
১৯৯১ সালে
দেব আনন্দ
পরিচালিত এবং
অভিনীত চলচ্চিত্র
‘শৌ ক্রোড়’
এবং ২০০০
সালে নির্মিত
‘সেন্সর’ খুবই প্রশংসিত হয়েছিলো। ১৯৮৮ সালের ২৮
জুলাই-এ ব্যাডমিন্টন তারকা
সৈয়দ মোদীকে
২৬ বছর
বয়সে তাঁর
স্ত্রী এবং
প্রাক্তন প্রেমিক
মিলে গুলি
করে হত্যা
করেছিলো। শৌ ক্রোড়
চলচ্চিত্রটি এই
হত্যার সত্যিকার
কাহিনী অবলম্বনে
নির্মিত হয়েছিলো। নায়ক হিসাবে দেব
আনন্দের সর্বশেষ
বাণিজ্যিক হিট
চলচ্চিত্র ছিলো
শৌ ক্রোড়। দেব আনন্দ পরিচালিত
এবং অভিনীত
সর্বশেষ চলচ্চিত্র
চার্জশিট(২০১১) ২০১১ সালের
৩০ সেপ্তেম্বর-এ মুক্তি পেয়েছিলো। চলচ্চিত্রটি একই
সময়ে বিভিন্ন
জায়গায় মুক্তি
পাওয়ার জন্য
বাণিজ্যিকভাবে সফল
হতে পারেনি।
দেব আনন্দ
১৯৭০সালে ল্যামবার্টো
এভেলান্না পরিচালিত
ইন্ডো-ফিলিপাইনো ড্রামা ফিল্ম
‘দ্য ইভিল
উইদিন' শীর্ষক ইংরেজি চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। তাঁর সাথে অভিনয়
করেছিলো ভিয়েতনামী
অভিনেত্রী কিউ
চিহ্ন এবং
ভারতীয় অভিনেত্রী
জিন্নত আমান। তিনি ৬ দশক জুড়ে ১১৪
টি হিন্দী
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছিলেন, তার মধ্যে ‘কহি আউর চল’(১৯৬৮)চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেতে
দেরি হয়েছিলো। চলচ্চিত্রটি ১৯৭০ দশকের
গোড়ার দিকে
মুক্তি পেয়েছিলো।
‘শ্রমণজি’(১৯৬৮)চলচ্চিত্রে তিনি
অতিথি শিল্পী
হিসাবে উপস্থিত
হয়েছিলেন। তিনি দ্বৈত
ভূমিকায় অভিনীত
চলচ্চিত্র ‘এক দো তিন
চার’(১৯৮০)চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়নি। ২০১১ সাল পর্যন্ত
তিনি ৯২
টি চলচ্চিত্রে
একক মুখ্য
চরিত্রে অভিনয়
করেছেন। একক মুখ্য
চরিত্রে অভিনয়
করার রেকর্ডটি
রয়েছে রাজেশ
খান্নার নামে। রাজেশ খান্না ১০৬
টি চলচ্চিত্রে
একক মুখ্য
চরিত্রে অভিনয়
করেছেন।
দেব আনন্দকে
বিশ্ব বিখ্যাত
গ্রেগরি পেকে-এর সাথে
তুলনা করা
হতো। তখন দেব
আনন্দ বলতো-
‘আমি ভারতের
গ্রেগরি পেক
হিসাবে পরিচিত
হতে চাইনা,
আমি দেব
আনন্দ হিসাবেই
পরিচিত হয়ে
থাকতে চাই।'
গ্রেগরি পেকের
সাথে দেব
আনন্দের তিন
বার সাক্ষাত
হয়েছিলো। প্রথম বার
সাক্ষাত হয়েছিলো
১৯৯৪ সালে
মুম্বাইর ওয়েলিংটন
ক্লাবে। তখন সুরাইয়া
দেব আনন্দের
সাথে ছিলো। দ্বিতীয় বার দেখা
হয়েছিলো রোম-এ,
ভেনিস ফিল্ম
ফেস্টিভেল থেকে
ফেরার পথে। তৃতীয় বার দেখা
হয়েছিলো লন্ডন-এ ।
দেব আনন্দ
১৯ টি
চলচ্চিত্র পরিচালনা
এবং ৩৫
টি চলচ্চিত্র
প্রযোজনা করেছিলেন। তিনি পরিচালনা করা
১৯ টি
চলচ্চিত্রের মাঝে
১০ টি
এবং তিনি
প্রযোজনা করা
৩৫ টি
চলচ্চিত্রের মাঝে
১৯ হিট
হয়েছিলো। তিনি ১৩
টি চলচ্চিত্রের
জন্য গল্প
লিখেছেন। সমালোচকরা বলেছেন
যে,
তিনি পরিচালনা
করা উদ্যোগগুলি
তাদের সময়ের
চেয়ে এগিয়ে
ছিলো। দেব আনন্দের
চলচ্চিত্রগুলি হিট
গানের জন্য
সুপরিচিত। তিনি বেশ
কয়েকটি চলচ্চিত্রের
সংগীত সেসনে
সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ
করেছিলেন। সংগীত সুরকার
শংকর-জয়কিষাণ, ও,পি,
নায়ার, কল্যাণজি-আনন্দজি, শচীন দেব বর্মন
এবং শচীন
দেব বর্মনের
ছেলে রাহুল
দেব বর্মন,
গীতিকার হসরত
জয়পুরি, মজরুহ সুলতানপুরি, গোপালদাস
নিরজ, শৈলেন্দ্র, আনন্দ বাগচি
এবং নেপথ্য
গায়ক মহম্মদ
রফি,
হেমন্ত কুমার
এবং কিশোর
কুমার বেশ
কয়েকটি জনপ্রিয়
গীত বাণীবদ্ধ
করেছিলেন। গুরুদত্ত, মহম্মদ রফি,
প্রাণ, দিলীপ কুমার, রাজ কাপুর, সুনীল দত্ত, নারগিস, কিশোর কুমার,
এস,
ডি,
বর্মন এবং
আর,
ডি,
বর্মন ফিল্ম
ইন্ডাষ্ট্রির ঘনিষ্টতম
বন্ধু ছিলেন।
২০০৭ সালের
সেপ্তেম্বর-এ
তাঁর জন্মদিনের
পার্টিতে তৎকালীন
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন
সিংয়ের উপস্থিতিতে
তাঁর আত্মজীবনী
‘রোমান্সিং উইথ
লাইফ' প্রকাশ পেয়েছে। ১৯৬১ সালে
সাদা-কালা হিসাবে নির্মিত
তিনি অভিনীত চলচ্চিত্র
‘হাম দোনু’
রঙিন করে
পুনরায় প্রকাশ
করা হয়েছে।
দেব আনন্দ
‘ইস্ক ইক্স
ইস্ক' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে জরিনা
ওহাব, স্বামী দাদার মাধ্যমে
জেকি সুফ,
হাম নওজোয়ান
চলচ্চিত্র-এর মাধ্যমে টাবু
এবং রিচা
শর্মা(সঞ্জয় দত্তের প্রথম
স্ত্রী)কে চলচ্চিত্র জগতে
প্রবেশের সুযোগ
করে দিয়েছিলেন। তিনি জিন্নত আমান,
টিনা মুনিম
এবং সংগীতকার,
সুরকার রাজেশ
রোশনকে চলচ্চিত্র
জগতে প্রবেশের
সুযোগ করে
দিয়েছিলেন বলে
জানা যায়। ১৯৭১ সালে অমিত
খান্নাকে নবকেতনের
এক্সিকিউটিভ প্রযোজকের
দায়িত্ব দেওয়া
হয়েছিলো এবং
তিনি ১৯৭০এর
দশকে দেব
আনন্দের সেক্রেটারি
ছিলেন। অমিত খান্না
বলেছিলেন, নবকেতনই একমাত্র ফিল্ম
কোম্পানী, যিনি কোম্পানীটি জন্ম
দিয়েছিলেন, তিনিই
এখনও পরিচালনা
করছেন। শত্রুঘ্ন সিনহা
একটি সাক্ষাতকারে
উল্লেখ করেছেন-
‘দেব আনন্দ
‘প্রেম পূজারি'
চলচ্চিত্রের মাধ্যমে
আমাকে ফিল্ম
জগতে প্রবেশের
সুযোগ করে
দিয়েছিলো, যদিও চরিত্রটি ছোট
ছিলো। তিনি উল্লেখ
করেছেন, গেম্বলার-এ অন্য একটি চরিত্রে
অভিনয়ের সুযোগ
দিয়ে সেই
ক্ষতি পূরণ
করেছিলো। পরে আমরা
শরিফ বদমাশ-এ এক সাথে কাজ
করেছি। তাঁর সাথে
কাজ করাটা
সত্যিই সৌভাগ্যের
ব্যাপার ছিলো।’
নবকেতনের ব্যানার
থেকে গুরু
দত্ত, রাজ খোসলা, ওয়াহিদা রেহমান, এস, ডি,
বর্মন, জয়দেব, সাহির লুধিয়ানী,
মজরূহ সুলতানপুরি,
যশ জোহর,
শেখর কাপুর,
এবং কবীর
বেদির মতো
শিল্পীরা বেরিয়ে
এসেছিলো। দেব আনন্দ
জাহিরা, জাহিদা হোসেন, জরিনা ওহাব, নাতাশা সিনহা, একতা সোহনী এবং
সাব্রিনার মতো
শিল্পীদের অভিনয়ে
সুযোগ করে
দিয়েছিলো।
তথ্য অনুযায়ী
বোম্বে হাইকোর্ট
দেব আনন্দের
কালাকোট পরিধান
নিষিদ্ধ করে
দিয়েছিলো। কারণ কালাকোট
পরিধান করলে
তাঁকে এতো
সুন্দর দেখাতো
যে,
তাঁর মহিলা
ভক্তরা তাঁকে
এক ঝলক
দেখা পেলেই
আত্মহত্যা করতো।
হিন্দী চলচ্চিত্র
জগতে বিশেষ
অবদানের জন্য
ভারত সরকার
দেব আনন্দকে
২০০১ সালে
পদ্মভূষণ এবং
২০০২ সালে
দাদা সাহেব
ফালকে সন্মানে
ভূষিত করেছেন। ১৯৫৯ সালে কালাপানী
এবং ১৯৬৫
সালে গাইড
চলচ্চিত্র-এর জন্য তাঁকে
‘বেস্ট এক্টর’-এর ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার প্রদান
করা হয়েছিলো। ১৯৬৭ সালে গাইড
চলচ্চিত্র বেস্ট
ফিল্ম-এর পুরস্কারও অর্জন
করেছিলো। ১৯৯৩ সালে
তাঁকে লাইফ
টাইম ফিল্মফেয়ার
অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার
প্রদান করা
হয়েছে।
অন্যান্য পুরস্কার
-
১৯৯৫ সালে
স্টার স্ক্রিন
লাইভটাইম এচিভমেন্ট
অ্যাওয়ার্ড।
১৯৯৭ সালে
ভারতীয় চলচ্চিত্র
জগতে তাঁর
অসামান্য পরিষেবার
জন্য মুম্বাই
অ্যাকাডেমি অফ
মুভিং ইমেজ
পুরস্কার।
১৯৯৮ সালে
কলকাতার উজালা
আনন্দলোক ফিল্ম
অ্যাওয়ার্ড কমিটির
দ্বারা লাইফটাইম
অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার।
ভারতীয় চলচ্চিত্র
জগতে প্রচুর
অবদানের জন্য
১৯৯৯ সালে
নয়া দিল্লীতে
সানসুই লাইফটাইম
অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার।
২০০০ সালে
মুম্বাই-এ ফিল্ম গোয়ের্স
মেগা মুভি
মেট্রো অফ
দ্য মিলেনিয়াম
পুরস্কার। ২০০১ সালে
ভারতীয় সিনেমায়
তাঁর অবদানের
জন্য বিশেষ
স্ক্রিন পুরস্কার।
২০০১ সালে
নিউইয়র্কের নাসাউ
কালিজিয়ামে ২০০১-এর ২৮
এপ্রিলে জি
গোল্ড বলিউড
অ্যাওয়ার্ডসের চির
সবুজ স্টার
মিলেনিয়াম অ্যাওয়ার্ড।
২০০৩ সালে
ভারতীয় চলচ্চিত্র
জগতে অসামান্য
অবদানের জন্য
দক্ষিণ আফ্রিকার
জোহান্সবার্গ হতে
আইআইএএফ পুরস্কার
।
২০০৪ সালে
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক
সিটি থেকে
ভারতীয় কিংবদন্তি
সিনেমা পুরস্কার।
২০০৪ সালে
ফেডারেশন অফ
ইন্ডিয়ান চেম্বার্চ
অফ কমার্স
এন্ড ইন্ডাস্ট্রি
(এফআইসিসিআই)দ্বারা
লিভিং লেজেন্ড
অ্যাওয়ার্ড।
২০০৫ সালে
ছনি গোল্ড
অ্যাওয়ার্ড।
২০০৬ সালে
এক্কেনেনি ইন্টারনেশন্যাল ফাউন্ডেশন কর্তৃক এনএনআর
জাতীয় পুরস্কার।
২০০৬ সালে
আইআইএএফ কর্তৃক
গ্রোলরি অফ
ইন্ডিয়া অ্যাওয়ার্ড।
২০০৭ সালে
কলা এবং
বিনোদনের ক্ষেত্রে
আজীবন অবদানের
জন্য ‘দ্য ওয়ার্ল্ড পাঞ্জাব
অর্গেনাইজেশন' (ইউরোপীয়ান
শাখা)কর্তৃক পাঞ্জাব রতন
পুরস্কার।
২০০৮ সালে
ভিন্নিউজি ক্লাব-এর সহযোগিতায়
রামাইয়া কালচারেল
অ্যাকাডেমি কর্তৃক
লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট
অ্যাওয়ার্ড।
২০০৮ সালে
মুম্বাইর রটারি
ক্লাব কর্তৃক
লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট
অ্যাওয়ার্ড।
২০০৯ সালে
আইআইজেএস সটিলটায়ার
অ্যাওয়ার্ড।
২০০৯ সালে
ভারতীয় সিনেমায়
অসামান্য অবদানের
জন্য ম্যাক্স
স্টারডাস্ট অ্যাওয়ার্ড।
২০০৯ সালে
রজনীকান্ত কর্তৃক
লেজেন্ড অ্যাওয়ার্ড
প্রদান ।
২০১০ সালে
দাদা সাহেব
ফালকে অ্যাকাডেমি
কর্তৃক ফালকে
রত্ন পুরস্কার।
২০১০ সালে
রাষ্ট্রীয় গৌরব
পুরস্কার।
২০১১ সালে
মধ্য প্রদেশ
সরকার কর্তৃক
জাতীয় কিশোর
কুমার সন্মান।
২০১১ সালে
ইন্ডিয়ান এনডিটিভি
কর্তৃক লাইফটাইম
অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড।
২০১৩ সালে
ভারতীয় চলচ্চিত্র-এর ১০০
বছর পূর্তি
উপলক্ষ্যে ভারতীয়
ডাক টিকেট
বিভাগ কর্তৃক
২০১৩ সালের
৩ মে তারিখে তাঁর
নামে ডাক
টিকেট প্রচলন
।
আন্তর্জাতিক পুরস্কার
২০০০ সালের
জুলাই মাসে
ভারতীয় সিনেমায়
অসামান্য অবদানের
জন্য অ্যামেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক
সিটিতে তৎকালীন
প্রথম মহিলা
হিলারি কিল্টনের
পুরস্কার।
২০০০ সালে
নিউইয়র্কের সিলিকন
ভ্যালিতে ইন্দো-এশিয়ান এছাশিয়েশন
কর্তৃক স্টার
অফ দ্য
মিলেনিয়াম পুরস্কার।
অ্যামেরিকা স্টেট
এসেব্লির সদস্য
ডোনা ফেরার
২০০১ সালের
১ মে দেব আনন্দকে
‘গ্রেট স্টেট
অফ দ্য
নিউইয়র্ক' সন্মান।
২০০৫ সালে
নেপাল সরকার
কর্তৃক বিশেষ
ন্যাশনাল ফিল্ম
অ্যাওয়ার্ড প্রদান।
২০০৮ সালে
প্রভোস্ট অফ
হাইল্যান্ড কাউন্সিল
কর্তৃক অনুষ্ঠিত
নৈশভোজে স্কটল্যান্ডের
ইনভারনেসে আমন্ত্রিত
হয়েছিলেন।
দেব আনন্দ
৮৮ বছর
বয়েসে ৩রা
ডিসেম্বর-এ(ভারতীয় সময়ে
৪ই ডিসেম্বর)
লন্ডনের ওয়াশিংটন
মেফেয়ার হোটেল
কক্ষে হৃদরোগে
আক্রান্ত হয়ে
মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি
মেডিকেল চেকআপের
জন্য লন্ডন
গিয়েছিলেন ।
তাঁর চার্জশিট
চলচ্চিত্রটি মুক্তির
কয়েক মাস
পরে তিনি
মারা গিয়েছিলেন। ১০ ই ডিসেম্বর তাঁর অন্তেষ্টিক্রিয়া লন্ডনের একটি ছোট্ট
চেপেলে অনুষ্ঠিত
করা হয়েছিলো। পরে তাঁর ‘কেসকেটটি দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডন-এর পুটনি ভেল
শ্মশানে নিয়ে
যাওয়া হয়েছিলো। তাঁর ছাই গোদাবরি
নদীতে বিসর্জনের
জন্য ভারতে
ফেরত আনা
হয়েছিলো।•
রাজ কাপুর
প্রযোজক, নির্দেশক, কিংবদন্তি অভিনেতা
রাজ কাপুরের
জন্ম ব্রিটিশ
শাসিত ভারতের
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত প্রদেশের
পেশোয়ারের কিসা
খাওয়নি বাজারে
পাঞ্জাবি হিন্দু
পরিবারে ১৯২৪
সালের ১৪
ডিসেম্বর-এ। তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্র
ইতিহাসের মহান
শোম্যান হিসাবে
বিখ্যাত। তিনি তিনটি
জাতীয় ফিল্ম
পুরস্কার এবং
১১ টি
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
জিতেছেন। আজীবন ফিল্মফেয়ার
অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কারটিও
জিতেছেন তিনি। তিনি ‘আওয়ারা’(১৯৫১) এবং
‘বুট পালিশ’(১৯৫৪) চলচ্চিত্রের জন্য কেনেস
ফিল্ম ফেস্টিভেলে
‘পালমে ডিওর
গ্রান্ড' পুরস্কারের জন্য মনোনীত
হয়েছিলেন। রাজ কাপুর
অভিনীত আওয়ারা
চলচ্চিত্রটি টাইম
ম্যাগাজিন সর্বকালের
শ্রেষ্ঠ দশটি
চলচ্চিত্রের মাঝে
একটি বলে
বিবেচনা করেছিল। চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী, বিশেষ
করে এশিয়া
এবং ইউরোপের
দর্শকদের দৃষ্টি
আকর্ষণ করেছিল। চলচ্চিত্র জগতে বিশেষ
অবদানের জন্য
ভারত সরকার
তাঁকে ১৯৭১
সালে পদ্মভূষণ
সন্মানে সন্মানিত
করেছিলেন।
রাজ কাপুরের
পিতার নাম
পৃথ্বীরাজ কাপুর
এবং মার
নাম রামসার্ণি
দেবী কাপুর। পিতা-মাতার ছয়জন
সন্তানের মাঝে
তিনি জ্যেষ্ঠ
ছিলেন। তাঁর দাদুর
নাম দেওয়ান
বশ্বেশ্বর কাপুর
এবং পরদাদার
নাম ছিল
দেওয়ান কেশভমল
কাপুর। তাঁর দুই
ভাই শাম্মী
কাপুর এবং
শশী কাপুর
প্রখ্যাত চলচ্চিত্র
অভিনেতা ছিলেন। তাঁর বোনের নাম
ছিল উর্মিলা
সিয়াল। তাঁর দুই
ভাই শিশুকালেই
মারা গিয়েছিল। তাঁর বাবার সহোদর
প্রযোজক সুরিন্দর
কাপুরের ছেলে
অভিনেতা অনিল
কাপুর, সঞ্জয় কাপুর এবং
প্রযোজক বনি
কাপুর। তাঁর মামার
ছেলে যুগল
কিশোর মেহরা
একজন গায়ক
ছিলেন। যুগল কিশোর
কাপুরের সৎ
পিতামহী সালমা
আগা একজন
অভিনেত্রী ছিলেন। রাজ কাপুর দেরাদুনের
কলোনেল ব্রাউন
ক্যাম্ব্রিজ স্কুল
এবং কলকাতা
ও বোম্বাইর সেন্ট জেভিয়ার
কলেজিয়েট স্কুলে
পড়াশোনা করেছিলেন।
১৯৩৫ সালে
মাত্র দশ
বছর বয়সে
‘ইনকিলাব’চলচ্চিত্রের জরিয়তে রাজ
কাপুর চলচ্চিত্র
জগতে পদার্পণ
করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে
রাজ কাপুর
‘নীল কমল'
ছবিতে মধুবালার
বিপরীতে সর্বপ্রথম
মুখ্য চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। এই ছবিটির জরিয়তে
অভিনেতা হিসাবে
তাঁর জনপ্রিয়তা
বৃদ্ধি পায়। ১৯৪৮ সালে ২৪
বছর বয়সে
তিনি আর,
কে ফিল্ম
স্টুডিও প্রতিষ্ঠা
করেন এবং
সর্বকনিষ্ঠ ফিল্ম
পরিচালক হিসাবে
আত্মপ্রকাশ করেন। পরিচালক হিসাবে তিনি
সর্বপ্রথম 'আগ' ছবিটি পরিচালনা
করেছিলেন। সেখানে তিনি
নার্গিস, কামিনী কৌশল, প্রেমনাথের বিপরীতে অভিনয়
করেছিলেন। ১৯৪৯ সালে
তিনি মেহবুব
খানের ‘আন্দাজ’ ছবিতে দিলীপ
কুমার এবং
নার্গিসের বিপরীতে
সহ-অভিনেতা ছিলেন। আন্দাজ চলচ্চিত্রের জরিয়তে
তিনি অভিনেতা
হিসাবে প্রথম
বড় সাফল্য
পান। পরের বছর
তিনি নিজে
পরিচালিত ‘বরসাত’চলচ্চিত্রটি মুক্তি
পায়। প্রযোজক, পরিচালক এবং অভিনেতা
হিসাবে বরসাতই
ছিল তাঁর
প্রথম সফল
চলচ্চিত্র।
আর,
কে স্টুডিওর
বেনারে তিনি
আওয়ারা (১৯৫১), আহ(১৯৫৩), শ্রী ৪২০(১৯৫৫), জাগতে রহো(১৯৫৬) এবং জিস দেশ
মে গঙ্গা
বহতী হ্যায়(১৯৬০) প্রভৃতি চলচ্চিত্র নির্মাণ
করেন। জিস দেশ
মে গঙ্গা
বহতী হ্যায়
চলচ্চিত্রটি তাঁর
চলচ্চিত্র জগতের
দীর্ঘকালের সহযাত্রী
রাধু কর্মকার
পরিচালনা করেছিলেন। ছবিটি শ্রেষ্ঠ ছবির
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
অর্জন করেছিলেন। এই চলচ্চিত্রগুলিতে চার্লি
চেপলিনের ‘দ্য ট্রাম্প’- এর স্ক্রিনের আদলে
স্ক্রিন চিত্র
স্থাপন করেছিলেন। তাঁর নিজের স্টুডিওর
বাইরে তিনি
দাস্তান(১৯৫০), আহহুনি(১৯৫২), চুরি চুরি(১৯৫৬), দো ওস্তাদ(১৯৫৯), চালিয়া(১৯৬০), দিল হি
তু হ্যায়(১৯৬৩) প্রভৃতি ছবিতে মুখ্য
ভূমিকায় অবতীর্ণ
হয়েছিলেন। তিনি বুট
পালিশ(১৯৫৪), অব দিল্লী
দূর নেহী(১৯৫৭) শিরোনামে দুটি সামাজিক
ছবি প্রযোজনা
করেছিলেন।
১৯৬৪ সালে
তিনি রোমান্টিক
সংগীত প্রধান
ছবি
‘সঙ্গম' প্রযোজনা এবং পরিচালনা
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে তাঁর
বিপরীতে রাজেন্দ্র
কুমার এবং
বৈজয়ন্তীমালা অভিনয়
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটি তাঁর
প্রথম রঙীন
ছবি ছিল। ছবিটি বক্স অফিস
হিট ছিল।
‘দুলহা দুলহন
(১৯৬৪), এরাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড
(১৯৬৬), স্বপ্ন কা সৌদাগর(১৯৬৮) ছবিতে ক্রমে সাধনা,
রাজশ্রী এবং
হেমামালিনী প্রভৃতি
বিখ্যাত অভিনেত্রীরাঁ
অভিনয় করেছিল,
তবে ছবিগুলি
বক্স অফিসে
প্রভাব ফেলতে
পারেনি। ১৯৬৫ সালে
তিনি মস্কো
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র
মহোৎসবে জুরির
সদস্য ছিলেন।
১৯৭০ সালে
তিনি ‘মেরা নাম জোকার’শিরোনামে একটি
চলচ্চিত্র প্রযোজনা
এবং পরিচালনা
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে তিনি
নিজে অভিনয়ও
করেছিলেন এবং
চলচ্চিত্রটি শেষ
করতে ছয়
বছর লেগেছিল। এই ছবিতে তাঁর
ছেলে ঋষি
কাপুর তাঁর
(কাপুরের) ছোট সংস্করণটিতে অভিনয়
করে আত্মপ্রকাশ
করেছিল। ১৯৭০ সালে
ছবিটি মুক্তি
পাওয়ার পরে
বক্স অফিসে
ফ্লপ হয়েছিল
এবং তিনি
আর্থিক সংকটে
পড়েছিলেন। পরে ছবিটি
‘কাল্ট ক্লাসিক'
হিসাবে পরিচিত
হয়েছিল। ১৯৭১ সালে
‘কাল আজ
আউর কাল'
ছবিটির জরিয়তে
তাঁর ছেলে
বড় ছেলে
রণধীর কাপুর
ছবি জগতে
পদার্পণ করেছিল। ছবিটিতে তিনি নিজে
অভিনয় করার
সাথে তাঁর
বাবা পৃথ্বীরাজ
কাপুর এবং
রণধীর কাপুরের
ভাবী বউ
ববিতা অভিনয়
করেছিলেন। ১৯৭৩ সালে
রাজ কাপুর
‘ববী’
চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা
করেন। ছবিটির জরিয়তে
তাঁর ছোট
ছেলে ঋষি
কাপুর চলচ্চিত্র
জগতে পদার্পণ
করেন। ছবিটিতে ডিম্পল
কাপডিয়ার অভিষেক
ঘটেছিল। ডিম্পল কাপাডিয়া
পরে সফল
অভিনেত্রী হিসাবে
আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। ছবিটি বক্স অফিস
হিট হয়েছিল। ছবিটিতে ডিম্পল বিকিনী
পড়েছিল, যেটা হিন্দী সিনেমার
পরম্পরার বাইরে
ছিল। ১৯৭৫ সালে
রাজ কাপুর
‘ধরম করম’
ছবিতে ছেলে
রণধীর কাপুরের
সাথে অভিনয়
করেছিলেন।
১৯৭০ সালের
মাঝামাঝি থেকে
১৯৮০ দশকের
গোড়ার দিকে
রাজ কাপুর
কয়েকটি ছবি
প্রযোজনা এবং
নির্দেশনা করেছিলেন। তার মধ্যে ‘সত্যম শিবম সুন্দরম'
(১৯৭৮), প্রেমরোগ’(১৯৮২), ‘রাম তেরী গঙ্গা
মেইলী’(১৯৮৫) উল্লেখযোগ্য। সত্যম শিবম
সুন্দরম ছবিতে
জিন্নত আমান,
প্রেমরোগ ছবিতে
পদ্মিনী কোলাপুরে
এবং রামতেরী
গঙ্গা মেইলী
ছবিতে মন্দাকিনী
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৭০ দশকের শেষের
দিক থেকে
১৯৮০ দশকের
গোড়া পর্যন্ত
তিনি খুবই
কম ছবিতে
অভিনয় করেছেন। তিনি ১৯৮০ সালে
নৌকরী(১৯৭৮) ছবিতে রাজেশ
খান্নার সাথে,
১৯৮০ সালে
আবদুল্লাহ ছবিতে
সঞ্জয় দত্তের
সাথে অভিনয়
করেছেন। তিনি রাজেন্দ্র
কুমারের ভাই
নরেশ কুমার
পরিচলিত ‘দো জাসুস’(১৯৭৫), ‘গোপীচান্দ জাসুস'(১৯৮২) শিরোনামে দুটি কমেডি
ছবিতে গোয়েন্দা
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। ১৯৭৯ সালে
তিনি এঘার
সংখ্যক মস্কো
আন্তর্জাতিক ফিল্ম
ফেস্টিভেলে জুরির
সদস্য ছিলেন। রাজ কাপুর তাঁর
সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ
চলচ্চিত্র ভাকিল
বাবু (১৯৮২) ছবিতে ছোট
ভাই শশী
কাপুরের সাথে
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৮২ সালে তিনি
সহকর্মী প্রবীণ
অভিনতা অশোক
কুমারের সাথে
‘চোর মান্দালি’
ছবিতে অভিনয়
করেছিলেন। অবশ্যে আইনী
বিবাদের জন্য
ছবিটি মুক্তি
পায়নি। ১৯৮৪ সালে
তিনি ব্রিটিশ
নির্মিত টেলিভিছন
ফিল্ম 'কিম'-এ সর্বশেষ অভিনয় করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর আগে
তিনি ছেলে
ঋষি কাপুর
এবং পাকিস্থানী
অভিনেত্রী জেবা
বখতিয়ার অভিনীত
ছবি
‘হেনা’ পরিচালনার জন্য প্রস্তুত
হয়েছিলেন, তবে ১৯৮৮ সালে
তাঁর পরলোকপ্রাপ্তি
হওয়াতে তাঁর
ছেলে রণধীর
কাপুর ছবিটি
পরিচালনা করেছিলেন
এবং ছবিটি
১৯৯১ সালে
মুক্তি পেয়েছিল।
১৯৪৬ সালের
মে মাসে
রাজ কাপুর
কৃষ্ণা মালহোত্রার
সাথে বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হয়েছিলেন। বিবাহটি ভারতীয়
পরম্পরা অনুসারে
একটি ‘এরেঞ্জ’ বিবাহ ছিলো
এবং বিবাহটি
সারাজীবন স্থায়ী
হয়েছিলো। কৃষ্ণার ভাই
রাজেন্দ্র নাথ,
প্রেমনাথ এবং
নরেন্দ্রনাথ পরে
অভিনেতা হিসাবে
আত্মপ্রকাশ করেছিলো। তাঁর বোন উমা
অভিনেতা প্রেমচোপ্রার
সাথে বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হয়েছিলো। রাজ কাপুরের
বিয়ের খবর
১৯৪৭ সালের
জুন মাসে
চিনে ম্যাগাজিন
ফিল্মইন্ডিয়ায় এভাবে
প্রকাশিত হয়েছিলো-
পৃথ্বীরাজ কাপুরের
মেধাবী ও
বহুমুখী প্রতিভাবান
ছেলে মে
মাসের দ্বিতীয়
সপ্তাহে মধ্যপ্রদেশের
রেওয়াতে মিস
কৃষ্ণার সাথে
বিবাহ বন্ধনে
আবদ্ধ হয়ে
বেপরোয়া জীবন
শেষ করতে
যাচ্ছে।
রাজ কাপুর
এবং কৃষ্ণা
কাপুরের পাঁচটি
সন্তান ছিলো। তিনটি পুত্র রণধীর
কাপুর, ঋষি কাপুর এবং
রাজীব কাপুর
এবং দুটি
মেয়ে রিতু
নন্দা এবং
রীমা জৈন। রণধীর কাপুর অভিনেত্রী
ববিতার সাথে
বিবাহ বন্ধনে
আবদ্ধ হয়েছিলেন। রণধীর কাপুরের দুই
মেয়ে অভিনেত্রী
করিশ্মা কাপুর
এবং করীণা
কাপুর। ঋষি কাপুর
অভিনেত্রী নীতু
সিঙের সাথে
বিবাহ বন্ধনে
আবদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি দুটি সন্তানের
পিতৃ- মেয়ে ঋধিমা কাপুর
এবং ছেলে
রণবীর কাপুর। ছেলে রণবীর কাপুর
২০১০-এর দশক থেকে
বড় মাপের
অভিনেতা। রাজ কাপুরের
মেয়ে নীতু
নন্দ শিল্পপতি
রাজন নন্দের
সাথে বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হয়েছেন। নীতু নন্দ
দুই সন্তানের
জননী। তাঁর ছেলে
নিখিল নন্দ
অমিতাভ বচ্চন
ও জয়া বচ্চনের মেয়ে
শ্বেতার সাথে
বিবাহ বন্ধনে
আবদ্ধ হয়েছে। ছোট মেয়ে রীমা
জৈন ব্যাংকার
মনোজ জৈনের
সাথে বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হয়েছে। রীমা জৈন
উচ্চাভিলাষী অভিনেতা
আরমান জৈন
এবং আধার
জৈনের মাতৃ
। রাজ কাপুরের দুই
ভাই,
তিন ছেলে,
পুত্রবধূ এবং
তিন নাতি
অভিনয়ের সাথে
জড়িত।
রাজ কাপুর
বিবাহিত পুরুষ
হলেও ১৯৪০
এবং ১৯৫০-এর দশকে
প্রখ্যাত অভিনেত্রী
নার্গিসের সাথে
রোমান্টিক সম্পর্ক
ছিলো, যদিও কথাটি কখনও
প্রকাশ্যে স্বীকার
করা হয়নি। এই জুটি আওয়ারা
ও শ্রী ৪২০ সহ
একাধিক ছবিতে
অভিনয় করেছেন।
‘চুরি চুরি'
ছবির পরে
নার্গিস রাজ
কাপুরের সাথে
সম্পর্ক শেষ
করেছিলেন। ১৯৫৭ সালে
মাদার ইন্ডিয়া
ছবির শ্যুটিং
চলাকালীন সুনীল
দত্তের সাথে
নার্গিসের প্রেমের
সম্পর্ক গড়ে
উঠে এবং
তাঁরা বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হন। ১৯৬০ সালে
‘সঙ্গমে'র শ্যুটিং চলাকালীন
অভিনেত্রী বৈজয়ন্তীমালার সাথেও প্রেমের সম্পর্ক
গড়ে উঠেছিলো
বলে জানা
যায়। দক্ষিণ ভারতীয়
অভিনেত্রী পদ্মিনীর
সাথেও প্রেমের
সম্পর্ক গড়ে
উঠেছিলো বলে
২০১৭ সালে
ঋষি কাপুর
তাঁর আত্মজীবনী
‘খোল্লাম খোল্লা'য় নিশ্চিত
করেছেন।
প্রাণ, মুকেশ, দেবানন্দ, দিলীপ কুমার, রাজেন্দ্র কুমার, মান্না দে,
শংকর জয়কিষাণ,
ঋষিকেশ মুখার্জী,
খাজা আহম্মদ
আব্বাস এবং
রাজেশ খান্না
রাজ কাপুরের
নিকটতম বন্ধু
ছিলেন।
রাজ কাপুর
এবং তাঁর
পিতৃ-মাতৃর সমাধির নাম
‘রাজবৌ’। যার অর্থ
‘উদ্যানের রাজা’। রাজবৌ তাঁদের পারিবারিক
খামারে অবস্থিত। রাজবৌ মহারাষ্ট্রের পুণে
থেকে ৩০
কিলোমিটার দূরের
লুনি কালভোর
গ্রামে মুলা-মুথা নদীর
তীরে অবস্থিত। কাপুর পরিবার রাজবৌর
১২৫ একর
জমির কিছু
অংশ এমআইটি
এডিটিইউর কাছে
বিক্রী করেছে। এমআইটি এবং টেকনোলজি
ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে
কাপুর পরিবারের
জন্য একটি
স্মৃতিসৌধ নির্মাণ
করা হয়েছে। কুকিলকণ্ঠী সুগায়িকা লতা
মাঙ্গেশকর ২০১৪
সালে কাপুর
পরিবারের উপস্থিতিতে
স্মারকটি উন্মোচন
করেছেন। কাপুর পরিবারের
স্মৃতিসৌধে ৭
টি প্যাগোডা
রয়েছে। যেখানে রাজ
কাপুর ১৯৪৫
সাল থেকে
১৯৯০ সাল
পর্যন্ত নির্মিত
চলচ্চিত্রের উপাদান
এবং কাপুর
পরিবারের ফটো
রয়েছে। সেগুলো প্রদর্শনের
জন্য একটি
গ্যালারি আছে। এখানে সত্যম শিবম
সুন্দরম, মেরা নাম জোকার,
ববী,
প্রেমরোগ প্রভৃতি
অন্যান্য অনেক
চলচ্চিত্রের শ্যুটিং
করেছেন। 'হাম তুম
এক কমরে
মে বন্ধ
হো’জনপ্ৰিয় গীতটি
এখানে শ্যুটিং
করা হয়েছিল।
চলচ্চিত্রের সমালোচক
এবং ভক্ত
দ্বারা রাজ
কাপুর যথেষ্ট
প্রশংসিত হয়েছে। চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদ ও
সমালোচকরা রাজ
কাপুরকে ‘ভারতীয় চার্লি চেপলিন'
হিসাবে বর্ণনা
করেছেন। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও
তিনি সদা
প্রফুল্ল এবং
সৎ হিসাবে
থাকতেন। বিশ্বজুড়ে তাঁর
খ্যাতি রয়েছে। তিনি দক্ষিণ-মধ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, মধ্য-প্রাচ্য আফ্রিকার শ্রোতা-দর্শকদের দ্বারা
প্রশংসিত হয়েছেন। তাঁর চলচ্চিত্রগুলি ভালো
বাণিজ্যিক সাফল্য
পেয়েছে। তিনি চলচ্চিত্র
নির্মাণ এবং
বিপণনের জন্য
দক্ষ ছিলেন।
১৯৮৭ সালে
রাজ কাপুর
‘সিদ্ধার্থ কাক'
শিরোনামে একটি
ডকুমেন্টরি ফিশার
ফিল্ম নির্মাণ
করেছিল। চলচ্চিত্রটি ভারত
সরকারের ফিল্ম
বিভাগ প্রযোজনা
করেছিলো। ২০০১ সালের
১৪ই ডিসেম্বর-এ ভারত সরকারের পোস্টাল
বিভাগ দ্বারা
তাঁর মুখাকৃতি
সম্বলিত একটি
ডাক টিকেট
চালু করেছে। তাঁর সন্মানে ২০১২
সালের মার্চ
মাসে মুম্বাইর
বান্দ্রা বাসস্ট্যান্ডের ওয়াক অফ স্টার্স-এ তাঁর একটি পিতলের
মূর্তি নির্মাণ
করা হয়েছে।
রাজ কাপুরের
অনেক সিনেমায়
দেশাত্মবোধক ‘থীম’
ছিলো। তাঁর ‘আগ’, শ্রী ৪২০,
জিস দেশ
মে গঙ্গা
বেহতী হ্যায়'
প্রভৃতি চলচ্চিত্র,
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের দেশপ্রেমিক
হতে উৎসাহিত
করে। রাজ কাপুর
নির্মিত শ্রী
৪২০'র একটি বিখ্যাত গীত
হলো-
মেরা জোতা
হ্যায় জাপানী,
ইয়ে প্যাটলুন
হিন্দুস্থানী, সির
পে লাল
চুপী রুশি,
ফির ভি
দিল হ্যায়
হিন্দুস্থানী। গীতটি এখনও
চূড়ান্তভাবে জনপ্রিয়
এবং শ্রী
৪২০ মুক্তির
পর থেকে
বেশ কয়েকটি
সিনেমায় প্রদর্শিত
হয়েছে। ২০০৬ সালের
ফ্রাঙ্কফুট বইমেলায়
ভারতীয় লেখক
মহাশ্বেতা দেবী
হৃদয়গ্রাহী দেশপ্রেমমূলক
এই গীতটি
দিয়ে তাঁর
ভাষণ সমাপ্ত
করেছিলেন। রাজ কাপুর
ফিল্মী মিউজিক
এবং গীতের
সূক্ষ্ম বিচারক
ছিলেন। তিনি কমিশন
করা অনেক
গীত সুপার
হিট। সংগীত পরিচালক
জয়কিষাণ, গীতিকার হাসরত জয়পুরি
এবং শৈলেন্দ্রকে
তিনি জনসমক্ষে
পরিচয় করিয়েছিলেন। ভিজুয়েল স্টাইলের শক্তিশালী
বোধের জন্য
তাঁকে স্মরণ
করা হয়। তিনি সংগীতের সেট
সম্পূর্ণ করতে
ষ্ট্রাইকিং ভিজুয়েল,
বিস্তৃত সেট
এবং নাটকীয়
আলো ব্যবহার
করতেন। তিনি নিম্মি,
ডিম্পল কাপাডিয়া
এবং মান্দাকিনীর
অভিনয় কেরিয়ার
গড়ে তুলেছিলেন
এবং ঋষি
কাপুর ও
রাজীবের কেরিয়ার
পুনরুদ্ধার করেছিলেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে অভিনেত্রীদের
দেহ প্রদর্শনের
পরম্পরা তিনিই
চালু করেছিলেন। ১৯৬৭ সালে ভ্লাদিমির
তিস্রোতস্কি তাঁর
‘সংগীত সম্পর্কে
যোগী’ গ্রন্থে সোভিয়েত ইউনিয়নে
প্রচলিত ভারতীয়
সংস্কৃতির দুটি
বিখ্যাত প্রতীক
শিব ও
যোগীর পাশাপাশি
রাজ কাপুরকে
উল্লেখ করেছিলেন।
রাজ কাপুর
তাঁর পূরো
ক্যারিয়ার জুড়ে
অনেক পুরস্কার
অর্জন করেছেন। যার মধ্যে ৩
টি জাতীয়
চলচ্চিত্র পুরস্কার,
১১ টি
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
অর্জনের সাথে
২১ বার
মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তাঁর আওয়ারা (১৯৫১) এবং বুট
পালিশ(১৯৫৪) সালে কান
চলচ্চিত্ৰ মহোৎসবে
‘পালমে ডেওর’মনোনীত হয়েছিল। তাঁর অভিনয়কে টাইম
ম্যাগাজিন দ্বারা
‘সর্বকালের দশ
জন সেরা
পারফরম্যান্স হিসাবে
চিহ্নিত করা
হয়েছিলো। তাঁর চলচ্চিত্র
জাগতে রহো'
(১৯৫৬) ‘কলোভী ভেরি’ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মহোৎসবে
‘ক্রিস্টাল গ্লোব'
পুরস্কার জিতেছিলো। ভারত সরকার ১৯৭১
সালে পদ্মভূষণ
এবং ১৯৮৭
সালে দাদা
সাহেব ফালকে
পুরস্কর প্রদান
করেছে। ২০০১ সালে
তাঁকে স্টারডস্ট
অ্যাওয়ার্ড দ্বারা
‘মিলেনিয়াম সেবক
পরিচালক' সন্মানে ভূষিত করা
হয়েছে। ২০০২ সালে
স্টার স্ক্রিন
অ্যাওয়ার্ড দ্বারা
তাঁকে ‘মিলেনিয়াম শোম্যান' নাম দেওয়া হয়েছে।
খাজা আহম্মদ
আব্বাছ নিন্মে
প্রদত্ত রাজ
কাপুরের শ্রেষ্ঠ
ফিল্মের স্ক্রিপ্ট
রাইটার এবং
পরিচালক ছিলেন-
আওয়ারা(১৯৫১), আনহুনে(১৯৫২), শ্রী ৪২০(১৯৫৫), জাগতে রহো(১৯৫৬), চার দিল চার
রাহে(১৯৫৯), মেরা নাম
জোকার(১৯৭০), ববী(১৯৭৩), হেন্না(১৯৯১)।
শঙ্কর-জয়কিষাণ রাজ কাপুরের
পসন্দের সঙ্গীত
পরিচালক ছিলেন। রাজ কাপুরের নিজের
১০ টি
ফিল্ম বরাসাত
ও আজ কাল আউর
কালসহ ২০
টি ফিল্মে
তিনি শঙ্কর-জয়কিষাণের সাথে
কাজ করেছিলেন। জয়কিষাণের মৃত্যুর পর
তিনি লক্ষ্মীকান্ত-প্যায়ারেলালের সাথে
ববী,
সত্যম শিবম
সুন্দরম, প্রেমরোগ প্রভৃতি ফিল্মে
কাজ করেছিলেন। ধরম করম চলচ্চিত্রে
রাহুল দেব
বর্মন এবং
রাম তেরি
গঙ্গা মেইলি
চলচ্চিত্রে রবীন্দ্র
জৈনের সাথে
কাজ করেছিলেন। মদনমোহন সঙ্গীত পরিচালিত
ধুন(১৯৫৩)এবং আশিয়ানা (১৯৫২)চলচ্চিত্রে তিনি
অভিনয় করেছিলেন। একমাত্র ‘দো ওস্তাদ'
চলচ্চিত্রের সঙ্গীত
পরিচালনা করেছিলেন
ও.
পি নায়ার।
শঙ্কর-জয়কিষাণ সঙ্গীত পরিচালিত
১৮ টি
চলচ্চিত্র হোল-
বরসাত (১৯৪৯), আহ(১৯৫৩), আওয়ারা(১৯৫১), বুট পালিশ(১৯৫৪), শ্রী ৪২০(১৯৫),
চুরি চুরি(১৯৫৬), কানহাইয়া(১৯৫৯), মেই নশে মে
হু(১৯৫৯), জিস দেশ মে
গঙ্গা বেহতী
হায়(১৯৬০), আশ্বিক(১৯৬২), এক দিল
শৌ আফশানে(১৯৬৩), সঙ্গম (১৯৬৪), টিসরি কসম(১৯৬৬), এরাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড(১৯৬৭), দিওয়ানা(১৯৬৭), স্বপ্নো কা সৌদাগর(১৯৬৮), মেরা নাম জোকার(১৯৭০), কাল আজ আউর
কাল(১৯৭১)।
নারগিশের সাথে
অভিনয় করা
ফিল্মগুলো হোল-
আগ(১৯৪৮), আন্দাজ(১৯৪৯), বরসাত(১৯৪৯), প্যার(১৯৫০), জান পেহচান(১৯৫০), আওয়ারা(১৯৫১), আম্বর(১৯৫২), আনহুনে(১৯৫২), আশ্বিয়ানা(১৯৫২),
আহ(১৯৫৩), পাপী(১৯৫৩), ধুন(১৯৫৩), শ্রী ৪২০
(১৯৫৫), চুরি চুরি (১৯৫৬), জাগতে রহো(১৯৫৬)।
মুকেশ রাজ
কাপুরের প্রায়
প্রতিটি ফিল্মে
গীত গেয়েছিলেন। মুকেশের মৃত্যুর পরে
রাজ কাপুর
বলেছিলেন- ‘মেই আপনি আওয়াজ
কো খো
দিয়া।' মান্না দে-ও রাজ কাপুরের জন্য
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য
সুপার হিট
গীত গেয়েছেন।
যেমন- লাগা চুনরি মে
দাগ(দিল হি
তু হ্যায়),
এ ভাই জরা দেখকে
চলো(মেরা নাম
জোকার), দিল কা হাল
শুনে দিল
ওয়ালা(শ্রী ৪২০),
আজা শনম
মধুর চাদনি
মে হাম(চুরি চুরি),
জহা মেই
জাতী হু
ওহা চলে
আতে হু(চুরি চুরি),
ইয়ে রাত
ভিগি ভিগি
ইয়ে মস্তি
ফিজাইয়ে(চুরি চুরি), মস্তি ভরা হ্যায়
সামান(পারভরিশ), মুদমুদ কে
না দেখ(শ্রী ৪২০),
চালাত মুসাফির(টিসরি কসম),
বেলিয়া বেলিয়া
বেলিয়া(পারভরিশ), লাল্লাহ আল্লাহ
তেরা নেগাবান(আবদুল্লাহ), মামা ও মামা(পারভরিশ)।
রাজ কাপুর
শেষের দিকে
হাঁপানিতে আক্রান্ত
হয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে
এই রোগজনিত
কারণে ৬৩
বছর বয়সে
তিনি মারা
গিয়াছেন। দাদা সাহেব
ফালকে পুরস্কার
প্রদানের সময়
তিনি ঢলে
পড়েছিলেন এবং
তাঁকে চিকিৎসার
জন্য অল
ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট
অফ মেডিক্যাল
সায়েন্সে নিয়ে
যাওয়া হয়েছিলো। হাঁপানিজনিত কষ্টের কারণে
তিনি হাসপাতালে
এক মাস
ভর্তি ছিলেন। ১৯৮৮ সালের ২
জুন-এ তিনি মৃত্যুর কোলে
ঢলে পড়েন। •
রাজ কুমার
রাজ কুমারের
জন্ম ব্রিটিশ
শাসিত ভারতের
বেলুচিস্থান প্রদেশের
লরালাই-এ ১৯২৬ সালের
৮ অক্টোবর- এ কাশ্মিরী পন্ডিত পরিবারে। জন্মের সময় তাঁর
নাম রেখেছিলো
কুলভূষণ পন্ডিত। রাজ কুমারের বাবার
নাম জগদ্বীশ্বর
পন্ডিত এবং
মাতৃর নাম
ধনরাজ রাণী
পন্ডিত। তাঁরা তিন
ভাই,
আনন্দ বাবী
পন্ডিত, জীবনলাল পন্ডিত এবং
মহিন্দর নাথ
পন্ডিত এবং
তাঁর চার
বোন ছিলো। ১৯৪০ সালে তিনি
বোম্বাই চলে
আসেন এবং
বোম্বাই পুলিশের
অধীনে ‘সাব-ইন্সপেক্টর অফ
পুলিশ' পদে নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৬০ সালে
জেনিফার নামের
একজন এয়ার
হোস্টেজের সাথে
বিবাহ বন্ধনে
আবদ্ধ হন। বিয়ের পরে জেনিফার
তাঁর নাম
পরিবর্তন করে
হিন্দু পরম্পরা
অনুসারে গায়ত্রী
রাখেন। তাঁদের তিনটি
সন্তান, ছেলে পুরু রাজ
কুমার ও
পাণিনি রাজ
কুমার এবং
মেয়ে ভাস্তভিকা
পন্ডিত। পুরু রাজ
কুমার একজন
বলিউড অভিনেতা। মেয়ে ভাস্তভিকা চলচ্চিত্র
‘এইটঃ দ্য
পাওয়ার অফ
সানি'র মাধ্যমে ২০০৬
সালে চলচ্চিত্র
শিল্পে আত্মপ্রকাশ
করেছিলেন।
চলচ্চিত্র শিল্পের
সাথে জড়িত
একজন বন্ধুর
অনুরোধে রাজ
কুমার পুলিশের
চাকরি ছেড়ে
অভিনয় জীবনে
আত্মপ্রকাশ করেছিলেন
এবং কুলভূষণ
পন্ডিত নাম
পরিবর্তন করে
রাজ কুমার
রেখেছিলেন। তিনি প্রথমে
দৌলত’(১৯৪৯) চলচ্চিত্রের জন্য
সাক্ষাতকার দিয়ে
ব্যর্থ হয়েছিলেন। পরে তিনি ‘রঙ্গিলী'(১৯৫২) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ
পান। এর পরে
তিনি ‘আনমোল সাহারা’(১৯৫২),‘আবসার’(১৯৫৩), ‘গমন্ড’(১৯৫৫) এবং
‘লাখো মে
এক’,
কৃষ্ণ সুদামা
(১৯৫৭), 'মাদার ইন্ডিয়া’(১৯৫৭) প্রভৃতি চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেন। অস্কার মনোনীত ‘মাদার ইন্ডিয়া' চলচ্চিত্রে তিনি একটি
সংক্ষিপ্ত চরিত্রে
অভিনয় করে
সুনাম অর্জন
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে তিনি
নার্গিসের স্বামীর
ভূমিকায় অবতীর্ণ
হয়েছিলেন। তবে,
তিনি জনপ্রিয়
হোন সোহরাব
মোদির ‘নওশেরান-ই-আদিল’(১৯৫৭) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। তিনি ১৯৫৯ সালে
‘উজালা’ চলচ্চিত্রে শাম্মী কাপুরের
সাথে অভিনয়
করেছিলেন। ১৯৫৯ সালে
তিনি ‘পইগাম’-এ দিলীপ কুমারের পাশাপাশি
একজন মিল
শ্রমিকের চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। চলচ্চিত্রটির জন্য তিনি
সেরা সাপোর্টিং
অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কারের জন্য
মনোনীত হয়েছিলেন। ১৯৬৩ সালে তিনি
‘দিল এক
মন্দির’-এ একজন ক্যান্সার
রোগীর চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। চলচ্চিত্রটির জন্য তিনি
সেরা সাপোর্টিং
অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার অর্জন
করেছিলেন। তিনি ১৯৬৫
সালে যশ
চোপ্রা পরিচালিত
‘ওয়াক্ত' চলচিত্রে সুনীল দত্ত,
শশী কাপুর,
এবং বলরাজ
সাহনীর পাশাপাশি
অভিনয় করেছিলেন। চলচ্চিত্রটির জন্য তিনি
সেরা সাপোর্টিং
অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার অর্জন
করেছিলেন। ১৯৬৫ সালে
'কাজল' চলচ্চিত্রে মতির চরিত্রে
অভিনয়ের জন্য
তিনি সেরা
সাপোর্টিং অভিনেতার
ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের
জন্য মনোনীত
হয়েছিলেন। ১৯৬৮ সালে
‘নীল কমল'
চলচ্চিত্রে চিত্রসেনের
চরিত্রে অভিনয়ের
জন্য তিনি
আবার সেরা
সাপোর্টিং অভিনেতার
ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের
জন্য মনোনীত
হয়েছিলেন।
রাজ কুমার
১৯৬৭ সালে
বি,
আর,
চোপ্রা পরিচালিত
রোমান্টিক থ্রিলার
ফিল্ম হামরাজ-এ কেপ্টেইন রাজেশের চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে তাঁর বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন
সুনীল দত্ত,
ভিমি এবং
মমতাজ। ১৯৭০ সালে
চেতন আনন্দ
পরিচালিত হীর
রানঝা চলচ্চিত্রে
তিন রানঝার
চরিত্রে অভিনয়
করেছিনে। চলচ্চিত্রটিতে তাঁর
বিপরীতে অভিনয়
করেছিলেন প্রিয়া
রাজবংন্স, প্রাণ, পৃথ্বীরাজ কাপুর,
কামিনী কৌশল
প্রভৃতি অভিনেতারা। ১৯৭১ সালে অরবিন্দ
সেন পরিচালিত
মর্যদা চলচ্চিত্রে
তিনি রাজা
বাবুর চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে মালা সিনহা,
রাজেশ খান্না,
প্রাণ প্রভৃতি
অভিনেতা-অভিনত্রেীরা তাঁর বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি
সুশীল মজুমদার
পরিচালিত লাল
পাথর চলচ্চিত্রে
কুমার বাহাদুরের
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। তাঁর বিপরীতে
অভিনয় কৰেছিলেন
হেমা মালিনী,
রাখী গুলজার,
বিনোদ মেহরা
প্রভৃতি অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। ১৯৭২ সালে
তিনি কামাল
আমরোহী পরিচালিত
পাকিজা চলচ্চিত্রে
সেলিম আহমেদ
খানের চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। তাঁর বিপরীতে অভিনয়
করেছিলেন মীনা
কুমারী, অশোক কুমার, নাদিরা প্রভৃতি অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। চলচ্চিত্রটি ৬
কোটি টাকা
আয় করেছিলো
। ১৯৭০-এর দশকের
শেষের দিকে
এবং ১৯৮০-র দশকের গোড়ার দিকে
কয়েকটি ‘ফ্লপ’চলচ্চিত্রে অভিনয়ের
পরে তিনি
‘কুদরত’(১৯৮১), এক নই
পহেলি(১৯৮৪), মরতে দম
তর্ক(১৯৮৭), মুকদ্দর কা
ফয়সলা(১৯৮৭) এবং জং
বাজ(১৯৮৯) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সফলতা
পেয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে
তিনি প্রখ্যাত
অভিনেতা দিলীপ
কুমারের সাথে
আবার ৩২
বছর পরে
সুভাষ ঘাই
পরিচালিত ‘সৌদাগর’চলচ্চিত্রে এক
সাথে অভিনয়
করেন। তাঁর শেষ
হিট চলচ্চিত্র
ছিলো মেহুল
কুমার পরিচালিত
ত্রিরংগা(১৯৯২)। চলচ্চিত্রটিতে তিনি ব্রিগেডিয়ার
সূর্য্যদেব সিংয়ের
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। তাঁর সর্বশেষ
চলচ্চিত্র ছিলো
‘গড এন্ড
গান’(১৯৯৫)।
রাজ কুমার
দুলহন(১৯৫৭), পঞ্চায়েত (১৯৫৮), দূর্গামাতা(১৯৫৯),
শরারত (১৯৫৯), অর্দ্ধঙ্গিনী(১৯৫৯),
স্বর্গ সে
সুন্দর দেশ
হামারা(১৯৫৯), দিল আপনা
আউর প্রীত
পরায়ে(১৯৬০), ঘরানা(১৯৬১), গোদান(১৯৬৩), ফুল বনে
আঙ্গারে(১৯৬৩), প্যার কা
বন্ধন(১৯৬৩), জিন্দিগী(১৯৬৪), উচে লোগ(১৯৬৫), রিস্তে নাতে(১৯৬৫), হামরাজ(১৯৬৭), নই রশনি(১৯৬৭), মেরে হুজুর(১৯৬৮), বাসনা(১৯৬৮), দিল কা
রাজা(১৯৭২), হিন্দুস্থান কি
কসম(১৯৭৩), ৩৬ ঘন্টে(১৯৭৪), এক সে
বদকার এক(১৯৭৬), কর্মযোগী(১৯৭৮), চম্বল কী কসম(১৯৮০), বুলন্দি(১৯৮১), ধরমকান্ত(১৯৮২), রাজ তিলক(১৯৮৪), সাহারা(১৯৮৪), ইতিহাস(১৯৮৭), মহব্বত কে
দুশমন(১৯৮৮), সাজিশ(১৯৮৮), মহাবীর(১৯৮৮), দেশ কে
দুশমন(১৯৮৯), গলিও কা
বাদশাহ(১৯৮৯), সূৰ্য্যা(১৯৮৯), পুলিশ পাবলিক(১৯৯০), পুলিশ আউর মুজরিম(১৯৯২), ইনসানিয়ত কে দেবতা
(১৯৯৩), উলফত কি নই
মঞ্জিলে(১৯৯৪), বে-তাজ বাদশাহ(১৯৯৪), জবাব(১৯৯৫) প্রভৃতি ৭০ টিরও
অধিক হিন্দী
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছেন। দিল কা
রাজা এবং
কর্মযোগ চলচ্চিত্রে
তিনি দ্বৈত
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন।
রাজ কুমার
১৯৫২ সাল
থেকে ১৯৯৫
সাল পর্যন্ত
চলচ্চিত্র শিল্পের
সাথে জড়িত
ছিলেন। মাদার ইন্ডিয়ার’সামু’, দিল এক মন্দির-এ রাম, ওয়াক্ত চলচ্চিত্রে
রাজা, নীল কমল-এ চিত্রসেন, পাকিজায় সেলিম,
সৌদাগর-এ রাজেশ্বর সিং
এবং ত্রিংরগায়
ব্রিগেডিয়ার সূর্য্যদেব
সিংয়ের চরিত্রে
করা অভিনয়
চিরস্মরণীয় হয়ে
আছে।
রাজ কুমারের
সমসাময়িক অনেক
অভিনেতাই এক
সময়ে দুই
তিনটি চলচ্চিত্রে
অভিনয় করতেন। তবে, রাজ কুমার
এক সময়ে
শুধু একটি
চলচ্চিত্রেই অভিনয়
করতেন। তাঁকে একবার
একজন সাংবাদিকে
প্রশ্ন করেছিলেন,
আপনার কয়েকটি
পসন্দের চরিত্রের
বিষয়ে বলেন। তখন রাজ কুমার
উত্তরে বলেছিলেন,
এখন পর্যন্ত
আমি এমন
কোনো চরিত্রে
অভিনয় করিনি,
যেটা আমি
অপসন্দ করি। আমি সর্বদা আমার
পসন্দের চরিত্রে
অভিনয় করি
।
রাজ কুমার
তাঁর স্বতন্ত্র
সংলাপ প্রক্ষেপের
জন্য জনাজাত
ছিলেন। তিনি ঘোড়া
দৌড়াতে, গল্ফ খেলতে এবং
ক্লাসিক্যাল মিউজিক
শুনতে পসন্দ
করতেন। তিনি সময়ানুবর্তিতা এবং নিয়মানুবর্তিতা কঠোরভাবে
মেনে চলতেন।
রাজ কুমার
১৯৯৬ সালের
৩ জুলাই ৬৯ বছর
বয়সে গলার
ক্যান্সারে আক্রান্ত
হয়ে মুম্বাইয়ে
মারা গেছেন। প্রখ্যাত সাংবাদিক ফারহানা
ফারুককে দেওয়া
এক সাক্ষাতকারে
তাঁর ছেলে
পুরুরাজ কাপুর
বলেছিলেন, তাঁর বাবা হজকিন্সে(Hodgkins)
ভূগছিলেন, যার জন্য তিনি
কেমোথেরাপি নিয়েছিলেন।•
সুনীল
দত্ত
চলচ্চিত্র প্রযোজক,
পরিচালক, অভিনেতা, রাজনীতিবিদ সুনীল
দত্ত-এর জন্ম ব্রিটিশ
শাসিত ভারতের
পাঞ্জাব প্রদেশের
নাক্কা খুর্দ
গ্রাম-এ ১৯২৯ সালের
৬ জুন-এ। জন্মের সময়
তাঁর নাম
রাখা হয়েছিলো
বলরাজ দত্ত। চলচ্চিত্র শিল্পে প্রবেশের
সময় তাঁর
নাম বিশেষ
কারণে সুনীল
দত্ত রাখা
হয়। তাঁর পিতৃর
নাম দিওয়ান
রঘুনাথ দত্ত
এবং মাতৃর
নাম কূলবন্তী
দেবী দত্ত। সুনীল দত্ত-এর পাঁচ বছর
বয়সে তাঁর
পিতৃর মৃত্যু
হয় এবং
তাঁর ১৮
বছর বয়সে
দেশ বিভাগের
ফলে সমগ্র
দেশব্যাপী হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা
শুরু হয়। ইয়াকুব নামের একজন
মুসলিমের সাথে
সুনীল দত্ত-এর পিতৃর
খুব ভালো
বন্ধুত্ব ছিলো। তখন ইয়াকুব সেই
দাঙ্গার হাত
থেকে সুনীল
দত্তদের পরিবার
রক্ষা করে। গৃহহীন হয়ে তাঁরা
যমুনা নগরের
পাশে যমুনা
নদীর তীরে
অবস্থিত মান্দাউলি
নামের একটি
ছোট গ্রামে
বসতি স্থাপন
করে। পরে মাতৃ
কূলবন্তী দেবী
দত্ত-এর সাথে প্রথমে
দিল্লী এবং
দিল্লী থেকে
পরে লক্ষ্ণৌ
চলে আসেন। তাঁর কৈশোর কাটে
লক্ষ্ণৌর আমিনাবাদ-এ। স্নাতক ডিগ্রী
অর্জন করার
জন্য সুনীল
দত্ত আমিনাবাদ
থেকে বোম্বাই
চলে আসেন। তিনি বোম্বাইর জয়হিন্দ
কলেজে নাম
ভর্তি করেন
এবং পড়াশোনার
পাশাপাশি দক্ষিণ
এশিয়ার জনপ্রিয়
রেডিও সিলোন-এ উর্দু বিভাগে ঘোষক
হিসাবে যোগদান
করেন। রেডিওর বিখ্যাত
কলাকার আমিন
সিয়ানির মতে,
সুনীল দত্ত
একজন উৎসাহী
এবং উদ্যমী
রেডিও ঘোষক
ছিলেন।
১৯৫৪ সালে
সুনীল দত্ত
ইতিহাসে বিভাগে
স্নাতক(অনার্চ) ডিগ্রী অর্জন
করেন। ১৯৫৫ সালে
তিনি রমেশ
সাইগাল পরিচালিত
‘রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম'
চলচ্চিত্রে অভিনয়ের
সুযোগ পান। চলচ্চিত্রটিতে তিনি রামের
ভূমিকায় অবতীর্ণ
হয়েছিলেন। ফিল্ম জগতে
তখন বিখ্যাত
অভিনেতা বলরাজ
সাহনী নিজের
জায়গা করে
নিয়েছিলেন। তাই নামের
এই জটিলতা
দূর করার
জন্য বলরাজ
দত্ত নাম
পরিবর্তন করে
সুনীল দত্ত
রাখা হয়
৷ উক্ত সালেই তিনি
সোহরাব মোদি
পরিচালিত ‘কুন্দন' চলচ্চিত্রে অমৃতের
ভূমিকায় অবতীর্ণ
হন। ১৯৫৬ সালে
তিনি নরেশ
সাইগাল পরিচালিত
‘রাজধানী’, কিশোর সাহু পরিচালিত
‘কিসমৎ কা
খেল'
এবং বি,
আর,
চোপ্রা পরিচালিত
‘এক হি
রাস্তা' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ
পান"।
১৯৫৭ সালে
সুনীল দত্ত
মেহবুব খান
পরিচালিত 'মাদার ইন্ডিয়া' চলচ্চিত্রে বিরজুর চরিত্রে
অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটিতে প্রখ্যাত অভিনেত্রী
নার্গিস তাঁর
মাতৃর ভূমিকায়
অবতীর্ণ হয়েছিলেন। লক্ষ্যণীয় যে,
১৯৫৮ সালে
সুনীল দত্ত
নার্গিস-এর সাথে বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হন। তাঁদের এক
ছেলে বিখ্যাত
অভিনেতা সঞ্জয়
দত্ত এবং
দুই মেয়ে
প্রিয়া দত্ত
এবং নম্রতা
দত্ত। নম্রতা দত্ত
রাজেন্দ্র কুমারের
ছেলে কুমার
গৌরবের সাথে
বিবাহ বন্ধনে
আবদ্ধ হয়েছেন। রাজেন্দ্র কুমার এবং
সুনীল দত্ত
মাদার ইন্ডিয়া
চলচ্চিত্রে সহ-অভিনেতা ছিলেন।
১৯৫০ দশকের
গোড়া থেকে
১৯৬০-এর দশক পর্যন্ত
সুনীল দত্ত
অনেক সফল
চলচ্চিত্র উপহার
দিয়েছেন। যার মধ্যে
বি,
আর,
চোপ্রা পরিচালিত
সাধনা(১৯৫৮), শক্তি সামন্ত
পরিচালিত ইনসান
জাগ উঠা(১৯৫৯), বিমল রয় পরিচালিত
সুজাতা (১৯৫৯), মণি ভট্টাচার্য
পরিচালিত মুঝে
জীনে দো
(১৯৬৩), বি, আর চোপ্রা
পরিচালিত গুমরাহ(১৯৬৩), এ, ভীম সিংহ
পরিচালিত খানদান(১৯৬৫), রাজ খোসলা পরিচালিত
মেরা সায়া(১৯৬৬), জ্যোতি স্বরূপ পরিচালিত
পরোশন(১৯৬৭), অদুর্তি শোভা
রাও পরিচালিত
মিলন(১৯৬৭), সুনীল দত্ত
স্বপরিচালিত রেশমা
আউর সেরা(১৯৭১) প্রভৃতি চলচ্চিত্র উল্লেখযোগ্য। মুঝে জীনে দো
চলচ্চিত্রের জন্য সুনীল
দত্ত ১৯৬৪
সালে সেরা
অভিনতোর ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার অর্জন
করেছিলেন। খানদান চলচ্চিত্রের
জন্য ১৯৬৫
সালে তিনি
সেরা অভিনেতার
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
অর্জন করেছিলেন। মিলন চলচ্চিত্র-এর জন্য বেঙ্গল
ফিল্ম জার্নালিস্টস
এসোচিয়েশনের তরফ
থেকে সেরা
অভিনেতার পুরস্কার
অর্জন করেছিলেন।
সুনীল দত্তের
সহযোগিতায় পরিচালক
বি,
আর,
চোপ্রা গুমরাহ(১৯৬৩), ওয়াক্ত(১৯৬৫) এবং হামরাজ(১৯৬৭) প্রভৃতি সফল
চলচ্চিত্র পরিচালনা
করেছিলেন। ১৯৬৪ সালে
‘ইয়াদে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি
পরিচালক হিসাবে
আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। তিনি চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়
করেছিলেন এবং
অতি কম
সংখ্যক অভিনেতার
দ্বারা নির্মাণ
করার জন্য
চলচ্চিত্রটি গিনিজ
বুক অফ
রেকর্ডে স্থান
লাভ করেছিলো। ১৯৬৮ সালে তিনি
‘মন কা
মিত’
চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে
তাঁর ভাই
সোম দত্ত,
বিনোদ খান্না
এবং লীনা
চন্দ্রাভরকারের চলচ্চিত্র
শিল্পে অভিষেক
ঘটেছিলো। ১৯৭১ সালে
তিনি ‘রেশমা আউর সেরা'
চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা
এবং পরিচালনা
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের
দ্বারা প্রশংসিত
হয়েছিলো, তবে, বক্স অফিসে
অসফল হয়েছিলো।
১৯৭০-এর দশকের গোড়ার
দিকে সুনীল
দত্তের অভিনয়
ক্যারিয়ার প্রায়
স্থবির হয়ে
পড়েছিলো, তাই এই ধাক্কা
সামলে উঠতে
তিনি ১৯৭১
সালে এম,
ভি,
রমন পরিচালিত
‘জওয়ালা’ চলচ্চিত্রে মধুবালার বিপরীতে
নায়কের ভূমিকায়
অবতীর্ণ হয়েছিলেন। চলচ্চিত্রটি কয়েকটি কারণে
স্মরণযোগ্য হয়ে
আছে। চলচ্চিত্রটির শ্যুটিঙের
কাজ শুরু
হয়েছিলো ১৯৫৬
সালে এবং
মুক্তি পেয়েছিলো
১৯৭১ সালে
অর্থাৎ এক
দশকেরও অধিক
কাল পরে। চলচ্চিত্রটিতে প্রখ্যাত অভিনেত্রী
মধুবালা শ্যুটিঙের
কাজ শুরু
করেছিলেন, তবে তাঁর অসুস্থতার
জন্য চলচ্চিত্রটির
কাজ বন্ধ
রাখা হয়েছিলো। ১৯৬৯ সালে মধুবালা
মৃত্যু বরণ
করেন। মধুবালার মৃত্যুর
পরে চলচ্চিত্রটি
আবার অন্য
অভিনেত্রীর সহযোগে
সমাপ্ত করা
হয় এবং
১৯৭১ সালের
জুলাই মাসে
মুক্তি পায়। তবে, চলচ্চিত্রটি বাণিজ্যিকভাবে
অসফল হয়। জওয়ালাই ছিলো মধুবালার
প্রথম এবং
সর্বশেষ রঙিন
চলচ্চিত্র।
জওয়ালা চলচ্চিত্রটি
অসফল হওয়ার
পরে সুনীল
দত্ত ১৯৭২
সালে এ,
বীরাপ্পান পরিচালিত
'জমিন আসমান',
তপন সিন্হা
পরিচালিত 'জিন্দিগী জিন্দিগী' এবং মনোহর দীপক
পরিচালিত 'জয় জওয়ালা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৭৩ সালে বি,
এস,
থাপা পরিচালিত
‘মন জিতে
জাগ জিত'
এবং সুলতান
আহম্মদ পরিচালিত
‘হীরা' প্রভৃতি চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেন। তবে ১৯৭৪
সালে সাধনা
শিবদাসানি পরিচালিত
‘গীতা মেরা
নাম’
চলচ্চিত্রের মাধ্যমে
সুনীল দত্ত
আবার ‘লাইমলাইট’-এ আসেন। গীতা মেরা নাম-এ তিনি জনির চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন
এবং চরিত্রটি
দর্শক-শ্রোতারা খুব পসন্দ
করেছিলো। চলচ্চিত্রটিতে ফিরোজ
খান,
সাধনা এবং
হেলেন অভিনয়
করেছিলেন। এর পরে
সুনীল দত্ত
‘জান জায়ে
পর বচন
না জায়ে’(১৯৭৪), নাগিন(১৯৭৬), জানি দুশমন(১৯৭৯), মুকাবালা(১৯৭৯) এবং সান(১৯৮০) প্রভৃতি হিট চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেন। তিনি ১৯৭০-এর দশকের গোড়ার
দিক থেকে
কয়েকটি পাঞ্জাবী
ধর্মীয় চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। যেমন, মন জিতে
জাগ জিতে(১৯৭৩), দুখ ভঞ্জন তেরা
নাম(১৯৭৪), সাত শ্ৰী আকাল(১৯৭৭)। ১৯৮০- এর দশকে তিনি
দর্দ কা
রিস্তা(১৯৮২), বদলে কী
আগ(১৯৮২), রাজ তিলক(১৯৮৪), মংগল দাদা(১৯৮৬), বতন কে রখওয়ালে(১৯৮৭)এবং ধরমযুদ্ধ(১৯৮৮) প্রভৃতি কয়েকটি
সফল চলচ্চিত্রে
মুখ্য এবং
সাপোর্টিং উভয়
চরিত্রে অভিনয়
করেছেন।
সুনীল দত্ত
১৯৮১ সালে
‘রকি’
চলচ্চিত্র-এর মাধ্যমে ছেলে
সঞ্জয় দত্ত-এর ক্যারিয়ার
শুরু করিয়েছিলেন। চলচ্চিত্রটি সফল হয়েছিলো,
তবে চলচ্চিত্রটি
মুক্তির কয়েকদিন
আগে অগ্নাশয়ের
ক্যান্সারে সঞ্জয়ের
মাতৃ নার্গিস
মৃত্যু বরণ
করেছিলেন। নার্গিসের মৃত্যুর
পরে সুনীল
দত্ত ক্যান্সার
রোগীদের সহায়ের
জন্য 'নার্গিস দত্ত ফাউন্ডেশন'
প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ভারতীয় শিশুদের ফেসিয়াল
বিকৃতির চিকিৎসার
জন্য তিনি
অপারেশন ‘হাসি’র অনুরূপ একটি
ইন্ডিয়া প্রকল্প
স্পন্সর করেছিলেন।
১৯৮২ সালে
মহারাষ্ট্র সরকার
সুনীল দত্তকে
মুম্বাই-এর শেরিফ নিযুক্ত
করেছিলেন। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার
দিকে যশ
চোপ্রা পরিচালিত
‘পরম্পরা'(১৯৯২), জে,
পি,
দত্ত পরিচালিত
‘ক্ষত্রিয়’(১৯৯৩) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের
পরে তিনি
সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে
অংশগ্রহণের জন্য
চলচ্চিত্র শিল্প
থেকে অবসর
নিয়েছিলেন। তিনি ১৯৮৪
সালে ভারতীয়
কংগ্রেস-এ যোগদানের পরে
উত্তর-পশ্চিম মুম্বাই লোকসভা
ক্ষেত্র থেকে
পাঁচবার সংসদ
হিসাবে নির্বাচিত
হয়েছিলেন। তিনি ধর্মীয়
সহিংসতার প্রতিবাদে
১৯৯৩ সালে
সংসদ পদ
থেকে ইস্তফা
দিয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালের
এপ্রিল-এ অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র
রাখার অপরাধে
ছেলে সঞ্জয়
দত্তকে পুলিশ
গ্রেপ্তার করে। তখন সুনীল দত্ত
কিছুদিনের জন্য
রাজনীতি থেকে
বিরত ছিলেন। ২০০৪ সালে মনমোহন
সরকারের অধীনে
তিনি যুব
বিষয়ক ও
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
ছিলেন। তিনি ২০০৫
সালের ২৫
মে পর্যন্ত
অর্থাৎ মৃত্যুর
আগে পর্যন্ত
এই পদে
বাহাল ছিলেন।
চার দশক
ব্যাপী চলচ্চিত্র
শিল্পে অবদানের
জন্য ১৯৯৫
সালে সুনীল
দত্তকে লাইফটাইম
অ্যাচিভমেন্ট ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার প্রদান
করা হয়েছে। ১৯৮১ সালে ‘রকি’ এবং ১৯৯৩
সালে ‘ক্ষত্রিয়’ চলচ্চিত্রে সুনীল
দত্ত ছেলে
সঞ্জয়ের সাথে
একই চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেছিলেন
যদিও কোনও
দৃশ্যে একসাথে
উপস্থিত হননি
। ২০০৩ সালে রাজ
কুমার হিরানী
পরিচালিত ‘মুন্না ভাই এম,
বি,
বি,
এস'
চলচ্চিত্রে তাঁরা
একসাথে একই
দৃশ্যে অভিনয়
করেছিলেন।
ওপরে উল্লিখিত চলচ্চিত্রের
বাইরেও তিনি
১৯৫৭ সালে
জোসেফ তালিয়াদ
পরিচালিত ‘পায়েল’, ১৯৫৮ সালে
রবীন্দ্র ডাবে
পরিচালিত ‘পোস্ট বক্স নং
৯৯৯',
১৯৫৯ সালে
কে,
নারায়ন কালে
পরিচালিত ‘দিদি’, ১৯৬০ সালে
মণি ভট্টাচার্য
পরিচালিত ‘উসনে কহা থা',
রাম মুখার্জী
পরিচালিত ‘হাম হিন্দুস্থানী', বাপ্পি
সনি পরিচালিত
‘এক ফুল
চার কাঁটে'
জে,
বি,
এইস ওয়াদিয়া
পরিচালিত ‘দুনিয়া জুকতি হ্যায়',
১৯৬১ সালে
হৃষীকেশ মুখার্জী
পরিচালিত ‘ছায়া’, ১৯৬২ সালে
এ,
ভীমসিং পরিচালিত
‘মেই চুপ
রহোংগী’ কে শংকর পরিচালিত
‘ঝুলা’ ১৯৬৩ সালে বসন্ত
জোগলেকার পরিচালিত
‘আজ আউর
কাল',
আর,
কে নায়ার
পরিচালিত ‘ইয়ে রিস্তে হ্যায়
প্যার কি'
নিতীন বোস
পরিচালিত ‘নর্তকী’, ১৯৬৪ সালে
ভেড-মদন পরিচালিত
‘গজল’,
এল,
ভি প্রসাদ
পরিচালিত ‘বেটি-বেটে’, ১৯৬৬ সালে- বি, এস থাপা
পরিচালিত ‘মাইতিঘর’ হৃষীকেশ মুখার্জী
পরিচালিত ‘গবন’, লেখ টেন্ডন
পরিচালিত ‘অম্রপালি’ ১৯৬৭ সালে
অদুর্তি শোভা
রাও পরিচালিত
‘মিলন’, এ, ভীমসিংহ পরিচালিত
‘মেহেরবান’, ১৯৬৮ সালে-এ, ভীমসিংহ পরিচালিত
‘সাধু আউর
শয়তান’ এবং ‘গৌরি’, ১৯৬৯ সালে অমর
কুমার পরিচালিত
‘পিয়াসী শাম’,
খালিদ আকতার
পরিচালিত ‘মেরী ভাবী’, রাজ খোসলা পরিচালিত
‘চিরাগ’ এবং এ,
ভীমসিং পরিচালিত
‘ভাই-বেহেন’, ১৯৭০ সালে অদুর্তি
শোভা রাও
পরিচালিত ‘দর্পণ’ এবং রাজা
নওয়াথে পরিচালিত
‘ভাই-ভাই’,
১৯৭২ সালে
মনোহর দীপক
পরিচালিত ‘জয় জওয়ালা'। ১৯৭৩ সালে
সুলতান আহমদ
পরিচালিত ‘হীরা’, ১৯৭৪ সালে
বি,
এস গাদ
পরিচালিত ‘কোরা বদন'
এবং রাজ
তিলক পরিচালিত
‘৩৬ ঘন্টে’
প্রভৃতি চলচ্চিত্রে
সফলতার সাথে
অভিনয় করেছিলেন।
১৯৭৫ সালে
রাজা ঠাকুর
পরিচালিত 'জখমী', সিকান্দর খান্না
পরিচালিত ‘ওমর কয়েদ’, পুষ্পরাজ পরিচালিত ‘নীলিমা’, বি,
এস থাপা
পরিচালিত ‘হিমালয় সে উচা’। ১৯৭৬ সালে রাজ
খোসলা পরিচালিত
‘নেহলে পে
ডেহলে’। ১৯৭৭ সালে
কৌশল ভারতী
পরিচালিত ‘দরিন্দা’, চমন-নিলয় পরিচালিত
“জ্ঞান জী’,
ও,
পি রালহান
পরিচালিত ‘পাপী’, আনন্দ দাশানি
পরিচালিত ‘লড়কী জওয়ান হো
গয়ী’, বি, এস,
থাপা পরিচালিত
‘চরণদাস’ এবং শিবু মিত্র
পরিচালিত ‘আখরী গুলী' প্রভৃতি চলচ্চিত্রে সফলতার
সাথে অভিনয়
করেছিলেন।
১৯৭৮ সালে
চাঁদ পরিচালিত
‘রাম কসম’
এবং সুনীল
দত্ত স্বয়ং
পরিচালিত ‘ডাকু আউর জওয়ান'। ১৯৭৯
সালে চাঁদ
পরিচালিত ‘অহিংসা' এবং আসরানি
পরিচালিত ‘সালাম মেমসাহেব'। ১৯৮০ সালে
সিকান্দার খান্না
পরিচালিত ‘ইয়ারি দুশমনি’, আকতার-উল-ইমান পরিচালিত
'লহু পুকারেগা',
এ,
সালাম পরিচালিত
‘গঙ্গা আউর
সুরজ' এবং যোগী কাথুরিয়া
পরিচালিত ‘এক গুনাহ আউর
সহি’। ১৯৮১ সালে- সুনীল দত্ত স্বয়ং
পরিচালিত ‘রকি’। ১৯৮৪ সালে শাওয়ন
কুমার পরিচালিত
‘লাইলা’, শিবু মিত্র পরিচালিত
‘ইয়াদো কী
জঞ্জীর’। ১৯৮৫ সালে
যশ চোপ্রা
পরিচালিত ‘ফাসলে'। ১৯৮৬ সালে সঞ্জয়
খান পরিচালিত
‘কালা ধান্দা
গোরে লোগ'। ১৯৯১ সালে সুনীল
দত্ত স্বয়ং
পরিচালিত ‘ইয়ে আগ কব
বুজেগী', দীপক বাহরি পরিচালিত
‘কুরবান’, রবি চোপ্রা পরিচালিত
‘প্রতিজ্ঞাবদ্ধ’ এবং
রূপেশ কুমার
পরিচালিত ‘হ্যায় মেরী জান’। ১৯৯২ সালে রাজ
কুমার কোহলি
পরিচালিত ‘বিরোধী’। ১৯৯৩ সালে জে,
পি দত্ত
পরিচালিত ‘ক্ষত্রিয়’, যশ চোপ্রা
পরিচালিত 'পরম্পরা' এবং সংগীতম
শ্রীনিবাস রাও
পরিচালিত ‘ফুল’। ২০০৩ সালে রাজ
কুমার হিরানি
পরিচালিত ‘মুন্না ভাই এম,বি,
বি,
এস’। ২০০৬ সালে রাজ
কুমার হিরানি
পরিচালিত ‘লাগে রাহো মুন্না
ভাই'
প্রভৃতি চলচ্চিত্রে
সফলতার সাথে
অভিনয় করেছেন।
পুরস্কার এবং সন্মান
১৯৬৩ সাল-
‘মুঝে জীনে
দো'
চলচ্চিত্রে অভিনয়ের
জন্য সেরা
অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার ।
১৯৬৪ সাল-
হিন্দী ফিশার
ফিল্ম ‘ইয়াদে’চলচ্চিত্রে অভিনয়ের
জন্য জাতীয়
সেরা অভিনেতার
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
।
১৯৬৫ সাল-
‘খানদান’চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য
সেরা অভিনেতার
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।
১৯৬৭ সাল—‘মিলন' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য
বেঙ্গল ফিল্ম
জার্নালিস্টস এসোচিয়েশন
কর্তৃক সেরা
অভিনেতার পুরস্কার।
১৯৬৮ সাল-
ভারত সরকার
কর্তৃক পদ্মশ্রী
সন্মান প্ৰদান
৷
১৯৮২ সাল-
শেরিফ অফ
মুম্বাই।
১৯৯৫ সাল-
ফিল্মফেয়ার লাইফটাইম
অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার। ১৯৯৮ সাল-
রাজীব গান্ধী
জাতীয় সদ্ভাবনা
পুরস্কার ।
১৯৯৯ সাল-
স্ক্রিন লাইফটাইম
অ্যাওয়ার্ড।
২০০০ সাল-
লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট
আনন্দলোক অ্যাওয়ার্ড।
২০০১ সাল-লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট
জি চিনে
অ্যাওয়ার্ড।
সুনীল দত্তকে
আইআইএফএস, লন্ডন কর্তৃক ‘গ্লোরী অফ ইন্ডিয়া'
পুরস্কার প্রদান
করা হয়েছে।
সুনীল দত্ত
তাঁর ৭৬
তম জন্মদিনের
দুসপ্তাহ আগে
২০০৫ সালের
২৫ শে
মে মুম্বাইর
বান্দ্রায় তাঁর
বাসভবনে হৃদরোগে
আক্রান্ত হয়ে
মৃত্যু বরণ
করেছেন। মৃত্যুর সময়
তিনি মনমোহন
সিং সরকারের
যুব বিষয়ক
ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। মুম্বাইর সান্তাক্রুজ শ্মশান
ঘরে রাষ্ট্রীয়
মর্যদায় তাঁর
শেষকৃত্য সমাপন
করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পরে
মেয়ে প্রিয়া
দত্ত উক্ত
সাংসদ ক্ষেত্র
থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছিলেন
এবং ২০১৪
সাল পর্যন্ত
উক্ত সাংসদ
ক্ষেত্রে তিনি
বাহাল ছিলেন। আগাজানি কাশ্মিরী সুনীল
দত্তের প্রিয়তম
লেখক এবং
বন্ধু ছিলেন।•
রাজেন্দ্র কুমার
বলিউড অভিনেতা
রাজেন্দ্র কুমারের
জন্ম ব্রিটিশ
ভারতের পাঞ্জাব
প্রদেশের শিয়ালকোটের
একটি পাঞ্জাবী
হিন্দু পরিয়ালে
১৯২৯ সালের
২০-ই জুলাই। তাঁর পিতামহ একজন
সফল সামরিক
ঠিকাদার এবং
পিতা ব্রিটিশ
ভারতের সিন্ধু
প্রদেশের করাচীতে
টেক্সটাইল ব্যবসা
চালাতেন। ভারত বিভাগের
সময় তাঁদের
পরিবার সমস্ত
জমি-সম্পত্তি রেখে
ভারতে চলে
আসেন। চলচ্চিত্র জগতে
ভাগ্য অন্বেষণের
জন্য রাজেন্দ্র
কুমার বোম্বাই
চলে আসেন
এবং পরিচালক
হিসাবে এস,
এস,
রাওয়াইলের সহকারী
হিসাবে কাজ
শুরু করেন। প্রায় পাঁচ বছরের
মতো তিনি
এস,
এস রাওয়াইলের
সহকারী হিসাবে
কাজ করেন
এবং পতংগ,
সাগাই এবং
পকেটমারের মতো
চলচ্চিত্রে কাজ
করেন।
১৯৪৯ সালে
‘পতংগ' চলচ্চিত্রে একটি ক্যামিওর
মাধ্যমে রাজেন্দ্র
কুমার চলচ্চিত্র
শিল্পে আত্মপ্রকাশ
করেন। তাঁর পরে
কিদার শর্মা
পরিচালিত ‘জোগান' চলচ্চিত্রে দিলীপ
কুমার এবং
নার্গিসের বিপরীতে
একটি ছোট্ট
চরিত্রে অভিনয়
করেন। প্রযোজক দেবেন্দ্র
গোয়েল জোগান-এ তাঁর অভিনয় লক্ষ্য
করেছিলেন এবং
তিনি ১৯৫৫
সালে ‘বচন' চলচ্চিত্রে তাঁকে
অভিনয়ের সুযোগ
দেন। রাজেন্দ্র কুমারকে
তখন সেই
অভিনয়ের জন্য
পনেরশত টাকা
দেওয়া হয়েছিলো। চলচ্চিত্রটি হিট হয়েছিলো। চলচ্চিত্রটি রূপালীজয়ন্তী বর্ষ
উদযাপন করেছিলো
এবং রাজেন্দ্র
কুমারকে ‘জন্মগত তারকা' আখ্যা দেওয়া হয়েছিলো। ১৯৫৭ সালে তিনি
মেহবুব খান
পরিচালিত ব্লকবাস্টার
চলচ্চিত্র ‘মাদার ইন্ডিয়া'য় নার্গিসের ছেলের
ভূমিকায় অভিনয়
করে সাফলতা
অর্জন করেন। তাঁর বিশেষ সফলতা
আসে বিজয়
ভাট পরিচালিত
সংগীত প্রধান
রোমান্টিক চলচ্চিত্র
‘গুঞ্জ উঠি
সেহনাই'(১৯৫৯) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। চলচ্চিত্রটিতে তিনি কিষানের
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন এবং
তাঁর বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন
অমিতা।
১৯৬০-এর দশকে রাজেন্দ্র
কুমার জনপ্রিয়তার
শিখরে আরোহণ
করেছিলেন। তাঁর ছয়-সাতটা চলচ্চিত্র
পঁচিশ সপ্তাহেরও
অধিক কাল
একটি সিনেমাগৃহে
সগৌরবে চলতো। যার জন্য তিনি
'জুবিলী কুমার'
নামে পরিচিত
হয়েছিলো। ‘ধুল কা
ফুল’(১৯৫৯), ঘরানা(১৯৬১), দিল এক মন্দির(১৯৬৩), মেরে মেহবুব(১৯৬৩), সংগম(১৯৬৪), আয়ি মিলন
কি বেলা(১৯৬৪), আরজু(১৯৬৫), সুরজ(১৯৬৬), ঝোঁক গয়া আশমান(১৯৬৮), তালাশ(১৯৬৯), গাওয়ার(১৯৭০) প্রভৃতি হিট চলচ্চিত্রে
তিনি অভিনয়
করেছিলেন। দিল এক
মন্দির, আয়ি মিলন কী
বেলা, আরজু চলচ্চিত্রের জন্য
তিনি সেরা
অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কারের জন্য
মনোনীত হয়েছিলেন। সংগম চলচ্চিত্রের জন্য
তিনি সেরা
সহযোগী অভিনেতার
পুরস্কারের জন্য
মনোনীত হয়েছিলো। চলচ্চিত্রটিতে তাঁর বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন
রাজ কুমার
এবং মমতা। তিনি কে,
আসিফ- এর অসম্পূর্ণ চলচ্চিত্র
‘সস্তা খুন
মহংগা পানী'
চলচ্চিত্রে সায়রা
বানুর বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন। তাঁর ভ্রাতা নরেশ কুমার
একজন পরিচালক
ছিলেন এবং
রাজেন্দ্র কুমার
অভিনীত ‘গোরা আউর কালা’(১৯৭২) এবং দো জাসুস(১৯৭৫) চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছিলেন।
রাজেন্দ্র কুমার
১৯৭২ সাল
থেকে রাজেশ
খান্নার সাথে
প্রতিযোগিতার সন্মুখীন
হয়েছিলেন এবং
তাঁর বেশ
কয়েকটি চলচ্চিত্র
ফ্লপ হয়েছিল। তখন তিনি ১৯৭০
সাল থেকে
১৯৮০ সাল
পর্যন্ত চরিত্র
অভিনেতা হিসাবে
আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি
‘সাজন বিনা
সুহাগন' চলচ্চিত্রে নুতন-এর বিপরীতে অবতীর্ণ
হয়েছিলেন। চলচ্চিত্রটি সফল
হয়েছিলো। তিনি ‘দো শের’(১৯৭৪) এবং ‘তেরি এক
জিনদ্রি’(১৯৭৫)র মতো কয়েকটি পাঞ্জাবী
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছিলেন।
১৯৮১ সালে
রাজেন্দ্র কুমার
ছেলে কুমার
গৌরবকে ‘লাভ স্টোরি’ চলচ্চিত্র-এর মাধ্যমে
চলচ্চিত্র জগতে
অভিষেক ঘটিয়েছিলেন। চলচ্চিত্রটি তিনি নিজে
প্রযোজনা করেছিলেন
এবং অভিনয়ও
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটি ব্লকবাস্টার
হিসাবে ঘোষণা
করা হয়েছিলো। রাজেন্দ্র কুমার তাঁর
পুত্র অভিনীত
আরও কয়েকটি
চলচ্চিত্র প্রযোজনা
করেছিলেন, তবে ১৯৮৬ সালে
প্রযোজিত ‘নাম’ চলচ্চিত্রের বাইরে
অন্য চলচ্চিত্রে
লাভ স্টোরির
মতো সফলতা
পাননি। নাম চলচ্চিত্রটিতে
তাঁর ছেলে
সঞ্জয়ও অভিনয়
করেছিলো। তাঁর সর্বশেষ
প্রযোজিত চলচ্চিত্র
ছিলো ‘ফুল’(১৯৯৩)। চলচ্চিত্রটি তেমন
সফল হয়নি। ১৯৯৫ সালে তিনি
‘আন্দাজ’ ও ‘বংশ’-এ অভিনয় করেছিলেন। এটাই ছিলো
তাঁর শেষ
অভিনয়।
রাজেন্দ্র কুমার
এবং সুনীল
দত্ত ‘মাদার ইন্ডিয়া’(১৯৫৭) চলচ্চিত্রে নার্গিসের
ছেলের ভূমিকায়
অভিনয় করেছিলেন। সুনীল দত্তের সাথে
তাঁর সম্পর্ক
ভালো ছিলো
এবং যখনই
সুনীল দত্ত
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন তখন রাজেন্দ্র
কুমার সক্রিয়ভাবে
সহায় করতেন। সুনীল দত্ত উল্লেখ
করেছেন- ‘যদিও রাজেন্দ্র কুমার
কোনো পুরস্কার
জিততে পরেননি,
তবে তিনি
আমাদের মধ্যে
ভালো মানুষ
ছিলেন। আমি যখন
ছেলে সঞ্জয়
দত্তকে গ্রেপ্তারের
সাথে সম্পর্কিত
সমস্যা নিয়ে
লড়াই করছিলাম
এবং বাড়িতে
পুলিশ এসে
অসংখ্য বার
তল্লাশী চালাচ্ছিল,
তখন রাজেন্দ্র
কুমারই বাড়িতে
অবস্থান করতেন
এবং নিশ্চিত
করতেন যে,
তল্লাশী যথাযথ
এবং আইন
মাফিক হয়েছে,
বাড়িতে মিথ্যা
প্রমাণাদি লাগানো
হয়নি এবং
মূল্যবান জিনিস-পত্র যা
ছিলো তা
চুরি করা
হয়নি।'
রাজ কাপুরের
সাথে রাজেন্দ্র
কুমারের সম্পর্ক
ভালো ছিলো। ছেলে কুমার গৌরব
রাজ কাপুরের
মেয়ে রিমার
সাথে সম্পর্কে
জড়িয়ে ছিলো। তবে, তাঁদের সম্পর্ক
ভেঙে গিয়েছিলো
এবং পরে
সুনীল দত্ত-এর মেয়ে
নম্রতার সাথে
বিবাহ বন্ধনে
আবদ্ধ হয়েছিলেন।
রাজেন্দ্র কুমার
পিএইসডি করেছিলেন
এবং তাঁর
নামের পাশে
ডক্টর ব্যবহার
করতেন।
তিনি ও,পি রালহানের
বোন শুক্লার
সাথে বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হয়েছিলেন। তাঁদের এক
ছেলে, দুই মেয়ে। ছেলে কুমার
গৌরব চলচ্চিত্র
অভিনেতা এবং
তাঁর মেয়ে
ডিম্পল হলিউডের
চিত্র নির্মাতা
রাজু প্যাটেলের
সাথে বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হয়েছিলেন।
সন্মান ও স্বীকৃতি
১৯৬৯ সালে
ভারত সরকার
তাঁকে পদ্মশ্রী
সন্মান প্রদান
করেছেন।
তাঁকে ‘কানুন’(হিন্দী, ১৯৬০) এবং
‘মেহেন্দি রং
লাগাও’(গুজরাটি, ১৯৬০)-এর জন্য নেহরু
জাতীয় পুরস্কার
অর্জন করেছেন।
তিনি লাল
বাহাদুর শাস্ত্রী
জাতীয় পুরস্কার
এবং বেশ
কয়েকটি দাতব্য
প্রকল্পের সাথে
যুক্ত ছিলেন।
রাজেন্দ্র কুমার
১৯৬৪ সালে
‘দিল এক
মন্দির' চলচ্চিত্রের জন্য, ১৯৬৫ সালে ‘আয়ি মিলন কি
বেলা’ চলচ্চিত্রের জন্য এবং
১৯৬৬ সালে
‘আরজু’ চলচ্চিত্রের জন্য সেরা
অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার এবং
১৯৬৫ সালে
‘সংগম’ চলচ্চিত্রের জন্য সেরা
সাপোর্টিং অভিনেতার
ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের
জন্য মনোনীত হয়েছিলেন।
১৯৬৯ সালে
তাঁকে জাসিটিস
অফ পিস
সন্মান প্রদান
করা হয়েছিলো
এবং সন্মানিত
মেজিষ্ট্রেট হিসাবে
দায়িত্ব পালন
করেছেন।
রাজেন্দ্র কুমার
অভিনীত চলচ্চিত্র
সাল চলচ্চিত্র অভিনীত চরিত্র বিশেষত্ব
১৯৪৯ পতংগ ছোট চরিত্র
১৯৫০ জোগান বিজয়ের বন্ধু
১৯৫৫ বচন কিশোর
১৯৫৬ তোফান আউর
দিয়া- সতীশ শর্মা/মাস্টারজী
আওয়াজ অশোক
১৯৫৭ মাদার ইন্ডিয়া রামু
এক ঝলক
দুনিয়া রং রঙ্গেলী শ্যাম
১৯৫৮ দেবর ভাবী রামু
ঘর সংসার দীপক
খাজাঞ্চী হরীশ মোহন
তালাক রবি শংকর
চুবে
১৯৫৯ চিরাগ কাহা রোশনি
কাহা
ধুল কা ফুল মহেশ কাপুর
দো বেহেন রমেশ
১৯৫৯ গুঞ্জ উঠি সেহনাই কিষান
সন্তান মোহনলাল ভার্মা
১৯৬০ কানুন এডভোকেট কৈলাশ শৰ্মা
মা বাপ রাজ কুমার (রাজু)
মেহেন্দী রং লাগাও-
অনিল গুজরাটী
ফিল্ম
পতংগ ড০ আনন্দ
১৯৬১ জিন্দিগী আউর
খোয়াব ইন্সপেক্টর মনোজ
আজ কা পক্ষী রাজন‘রাজু’ খান্না
ধরমপুরা পার্টী লিডার
অমর রহে
ইয়ে প্যার এডভোকেট ইকবাল হোসেন
ঘরানা কামাল
প্যার কা সাগর কিষান চান্দ গুপ্তা
শশুড়াল শেখর
সংযোগ গস্ট রোল
১৯৬৩ অকেলী মত
যাইয়ো প্রিন্স অমরদীপ
দিল এক মন্দির শংকর
হামরাহি শেখর
মেরে মেহবুব আনওয়ার
১৯৬৪ সংগম মেজিষ্ট্রেটগোপাল ভার্মা
ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারের জন্য মনোনীত
আয়ি মিলন কি
বেলা শ্যাম সেরা অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার
জিন্দগী ‘রাজন্দ্ৰ রাজন’
১৯৬৫ আরজু গোপাল/সরজু সেরা অভিনেতার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
পুরস্কারের জন্য মনোনীত
১৯৬৬ সুরজ সুরজ সিংহ
১৯৬৭ পাল্কী নাসিম বেগ
আমন ড০ গৌতমদাস
১৯৬৮ সাথী রবি
ঝোঁক গয়া আশমান-
সঞ্জয় সাক্সেনা
১৯৬৯ আনজান
রাজু
সতরঞ্জ রাজু জয়/বিজয়/শিনরাঞ্জ
তালাশ রাজ কুমার ‘রাজু’
১৯৭০ মেরা নাম জোকার মহেন্দ্ৰ কুমার
গীত সুরজ ‘সরজু’ কুমার
গওয়ার গোপাল রায়/গরীব দাস
ধরতী ভারত
১৯৭১ আপ আয়ি বাহার
আয়ি কুমার ভাৰ্মা
১৯৭২ টাঙ্গেওয়ালা রাজু
গোরা আউর কালা করন সিংহ দ্বৈত চরিত্র
গাঁও হামারা শহর
তোমহারা ব্ৰিজভূষণ
সাল অভিনীত চলচ্চিত্ৰ বিশেষত্ব
১৯৭২ আনবান সুরজ
লালকার উইং কমাণ্ডার রাজন কাপুর
১৯৭৪ দুখ ভঞ্জন তেরা
নাম বোটসম্যান
দো শের শেরা পাঞ্জাবী ফিল্ম
১৯৭৫ দো জাসুস করমচান্দ জাসুস
রাণী আউর লালপরী রাণীর বাবা
সুনহেরা সংসার চন্দ্রশেখর
তেরি মেরি এক
জিন্দ্রী জাগ্গার সিংহ
ফৌজি বিশেষ চরিত্র
১৯৭৬ মজদুর জিন্দাবাদ রাম সিংহ
১৯৭৭ ডাকু আউর মহাত্মা
দো শোলে পাঞ্জাবী মুভি
সিরদি কে সাঁই
বাবা ডক্টর (পূজার স্বামী)
১৯৭৮ সোনে কা দিল
লোহে কা
হাত শংকর
আহুতি সিইডি ইন্সপেক্টর
সাজন বিনা সুহাগন রাজ কুমার
১৯৭৯ বিন ফেরে হাম
তেরে জগদীশ শর্মা
১৯৮০ গুনেগার
বদলা আউর বলিদান- ব্যারিস্টার অবিনাশ
কুমার
ধন দৌলত রাজ সাক্সেনা
ওহ বেওয়াফা আর, কে
১৯৮১ ইয়ে রিস্তা না
টুটে পুলিশ ইন্সপেক্টর বিজয়
কুমার
সাজন কি সহেলী ব্যারিস্টার বিজয় কুমার
লাভ স্টোরি বিজয় মেহরা
১৯৮২ রুস্তম জে, ডি মেহতা
১৯৮৩ লাভারস খ্রিস্টিয়ান প্রিস্ট
১৯৮৮ মেই তেরে লিয়ে শিবা
১৯৮৯ ক্লার্ক রহিম উদ্দিন খান
১৯৯১ ইনসাফ কা কানুন জাজ কুমার
১৯৯৩ ফুল ধরমরাজ প্রযোজক
টিভি শ্বো
১৯৯৫ আন্দাজ জী টিভি একটি ইপিসোড
বংশ জী টিভি
প্রযোজনা
সাল চলচ্চিত্র পরিচালক বিশেষত্ব
১৯৮১ লাভ স্টোরি রাহল
রাওয়াইল কুমার
গৌরবের চলচ্চিত্র
শিল্পে অভিষেক
১৯৮৩ লাভারস ভারতীরাজ
১৯৮৬ নাম মহেশ ভাট
১৯৯১ জুররত ডেভিড ধাওয়ান
১৯৯৩ ফুল সংগীতন শ্রীনিবাস রাও
১৯৯৪ জংঘল মে মংগল-
রাজেন্দ্র ভাটিয়া সহযোগী প্ৰযোজক
রাজেন্দ্র কুমার
ওষুধ সেবন
করতে অনিচ্ছুক
ছিলেন। তিনি তাঁর
ছেলের ৩৯তম
জন্মদিনের একদিন
পরে এবং
তাঁর নিজের
৭০তম জন্মদিনের
কয়েকদিন আগে
১৯৯৯ সালের
১২-ই জুলাই ঘুমের মাঝে
হার্ট অ্যাটেক
হয়ে মারা
গিয়াছেন।•
কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্ৰ
চলচ্চিত্র প্রযোজক,অভিনেতা, রাজনীতিবিদ ধর্মেন্দ্র-এর
জন্ম ১৯৩৫
সালের ৮
ডিসেম্বর ব্রিটিশ
শাসিত ভারতের
পাঞ্জাব প্রদেশের
লুধিয়ানা জেলার
নাসরালি নামের
একটি গ্রামে
পাঞ্জাবী জাঠ
শিখ পরিবারে। জন্মের সময় তাঁর
নাম রাখা
হয়েছিলো ধরম
সিংহ দেউল। তাঁর পিতার নাম
কেয়ল কিষান
সিংহ দেউল
এবং মাতৃর নাম
সতবন্ত কৌর। তাঁর পিতৃপুরুষদের বসবাস
ছিলো লুধিয়ানার
রাজকোটের পাখোয়াল
তহশীলের ডাংগন
গ্রামে। তিনি তাঁর
শৈশব কাটিয়েছেন
সাহনেওয়াল গ্রামে
এবং পড়াশোনা
করেছেন লুধিয়ানার
লালটন কালানের
সরকারী সিনিয়র
সেকেন্ডারী স্কুলে। তাঁর বাবা সেই
স্কুলের প্রধান
শিক্ষক ছিলেন। তিনি পাগুয়ারার রামগড়িয়া
কলেজ থেকে
১৯৫২ সালে
ইন্টারমিডিয়েট উত্তীর্ণ
হয়েছিলেন। ইন্টারমিডিয়েট উত্তীর্ণ
হওয়ার পরে
১৩৫ টাকা
মাসিক বেতনে
রেল বিভাগে
কেরানির চাকরিতে
যোগদান করেছিলেন।
ধর্মেন্দ্র ছেলেবেলা
থেকেই সিনেমার
প্রতি আকর্ষিত
ছিলেন এবং
স্কুল ক্ষতি
করে সিনেমা
দেখতে যেতেন। তাঁর জন্য তিনি
বাবার হাতে
মারও খেতেন। কথিত আছে যে,
১৯৪৯ সালে
তিনি ‘দিললাগি' চলচ্চিত্রটি ৪০
বারেরও বেশি
দেখেছিলেন। তাঁর অভিনেতা
হওয়ার শখ
ছিলো ছেলেবেলা
থেকেই। তাই তিনি
মাকে অভিনেতা
হওয়ার কথা
বলতেন, তবে মা তাঁর
এই কথায়
সন্মত ছিলেন
না। তাঁর বাবাও
চাইতেন ছেলে
পড়শোনা করে
ভালো চাকরি
করুক। তবে,
একবার একটি
সুযোগ এসে
যায়! সেবার ফিলমফেয়ার মেগাজিন
জাতীয়ভাবে নুতন
প্রতিভা সন্ধানী
একটি অনুষ্ঠান
অনুষ্ঠিত করেছিলো। তখন মার কাছ
থেকে অনুমতি
নিয়ে ধর্মেন্দ্র
সেই প্রতিযোগিতায়
অংশ গ্রহণ
করেন এবং
তিনি সেই
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী
হন। তখন তিনি
পাঞ্জাব থেকে
বোম্বাই চলে
আসেন এবং
পুরস্কার বিজয়ী
হিসাবে তিনি
একটি চলচ্চিত্র-এ অভিনয়ের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন। তবে, চলচ্চিত্রটি কখনো
নির্মাণ করা
হয়নি। তিনি ১৯৬০
সালে অর্জুন
হিংরাণি পরিচালিত
‘দিল ভি
তেরা হাম
ভি তেরা'
চলচ্চিত্রে তিনি
একটি ছোট
চরিত্রে প্রথম
অভিনয় করার
সুযোগ পান। ১৯৬১ সালে তিনি
‘বয় ফ্রেন্ড’
চলচ্চিত্রে একটি
সাপোর্টিং চরিত্রে
অভিনয় করেন। পরে তিনি ১৯৬০
সাল থেকে
১৯৬৭ সাল
পর্যন্ত কয়েকটি
রোমান্টিক চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেন।
ধর্মেন্দ্র ‘সুরত
আউর সিরাত’(১৯৬৩), বন্দিনী(১৯৬৩), দিলনে ফির ইয়াদ
কিয়া’(১৯৬৬) এবং দুলহন
এক রাত
কী(১৯৬৭) চলচ্চিত্রে খ্যাতনামা অভিনেত্রী
নুতনের বিপরীতে
অভিনয় করেন। আনপথ (১৯৬২), পূজা কে ফুল(১৯৬৪), বাহারেঁ ফির ভী
আয়েগী(১৯৬৬), এবং আঁখে(১৯৬৮) চলচ্চিত্রে মালা সিনহার
বিপরীতে অভিনয়
করেন। অভিনেত্রী নন্দার
বিপরীতে আকাশদ্বীপ(১৯৬৫), সায়রা বানুর বিপরীতে
সাদী(১৯৬২)এবং আয়ি
মিলন কী
বেলা(১৯৬৪) চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেন। ধর্মেন্দ্র খ্যাতনামা
অভিনেত্রী মিনা
কুমারীর সাথে
সফল জুটি
বেধে মেই
ভী লাড়কী
হু(১৯৬৪), কাজল(১৯৬৫), পূর্ণিমা(১৯৬৫), ফুল আউর পাথর(১৯৬৬), মাজলী দিদি(১৯৬৭), চন্দন কা
পালনা(১৯৬৭) এবং বাহারোঁ
কী মঞ্জিল(১৯৬৮) প্রভৃতি সাতটি সফল
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেন। ‘ফুল আউর
পাখর’ চলচ্চিত্রে তিনি একক
মুখ্য চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। চলচ্চিত্রটি প্রথম ‘এক্সন’ মুভি ছিলো। ১৯৬০ সালে ধর্মেন্দ্র
এবং মিনা
কুমারীর সাথে
অন্তরংগ সম্পর্ক
ছিলো বলে
ধারণা করা
হতো ।
মিনা কুমারী
তাঁকে ‘এ’ক্লাস হিরো
হিসাবে প্রতিষ্ঠিত
করেছিলো। ‘ফুল আউর
পাথর' চলচ্চিত্রটি ১৯৬৬ সালের
সর্বোচ্চ উপার্জনকারী
চলচ্চিত্র ছিলো
এবং চলচ্চিত্রটির
জন্য ধর্মেন্দ্র
প্রথম সেরা
অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কারের জন্য
মনোনীত হয়েছিলো। ১৯৬৬ সালে হৃষীকেশ
মুখার্জী পরিচালিত
‘অনুপমা’চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য
তিনি সমালোচক
কর্তৃক প্রশংসিত
হয়েছিলো। চলচ্চিত্রটি সেরা
ফিশার ফিল্ম
জাতীয় ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার অর্জন
করেছিলো। তাঁর সাবলীল
অভিনয়ের স্বীকৃতি
হিসাবে তাঁকে
একটি স্মারক
চিহ্নও প্রদান
করা হয়েছিলো। চলচ্চিত্রটিতে তাঁর বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন
শর্মিলা টেগোর
।
আয়ে মিলন
কী বেলা(১৯৬৪), আয়া শাওণ ঝুমকে(১৯৬৯), মেরে হামদম মেরে
দোস্ত(১৯৬৮), ইস্ক পর
জোর নেহি(১৯৭০), প্যার হি প্যার(১৯৬৯)এবং জীবন- (১৯৭০)-এর মতো
চলচ্চিত্রে তিনি
রোমান্টিক চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। শিকার(১৯৬৮), ব্ল্যাকমেল(১৯৭৩), কব কিয়ো আউর
কাঁহা (১৯৭০), কিমত(১৯৭৩) প্রভৃতি সাসপেন্স
থ্রিলার চলচ্চিত্রে
তিনি অভিনয়
করেছেন। ১৯৭১ সালে
নির্মিত ‘মেরা গাঁও মেরা
দেশ’চলচ্চিত্রে অভিনয়ের
জন্য তিনি
সেরা অভিনেতার
ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের
জন্য মনোনীত
হয়েছিলেন। রোমান্টিক চরিত্রের সাথে
এক্সন থ্রিলার
চলচ্চিত্রে অভিনয়-এর জন্য
১৯৭৫ সালের
মাঝামাঝি থেকে
তিনি বহুমুখী
প্রতিভাবান অভিনেতা
হিসাবে পরিচিত
হতে শুরু
করেছিলেন।
ধর্মেন্দ্র সবচেয়ে
সফল জুটি
বেধেছিলো হেমা
মালিনীর সাথে। পরে ১৯৮০ সালে
তাঁরা বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হয়েছিলেন। এই দম্পত্তি
রাজাজানি(১৯৭২), সীতা আউর
গীতা(১৯৭২), শরাফত(১৯৭০), নয়া জামানা(১৯৭১), পাথর আউর পায়েল(১৯৭৪), তুম হাসিন মেই
জওয়ান(১৯৭০), জগনু(১৯৭৩), দোস্ত(১৯৭৪), চরস(১৯৭৬), মা(১৯৮১), চাচা ভাতিজা(১৯৭৭), আজাদ(১৯৭৮) এবং শ্বোলে(১৯৭৫)- এর মতো অনেক
হিট চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেছেন। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য
অভিনয়ের মাঝে
সত্যকাম(১৯৬৯) এবং শ্বোলেকে
অন্তর্ভূক্ত করা
হয়েছে। যা ইন্ডিয়ানটাইমস কর্তৃক সর্বকালের সেরা
২৫ টি
চলচ্চিত্রের মাঝে
অন্তর্ভূক্ত করা
হয়েছে। ২০০৫ সালে
শ্বোলে চলচিত্রিটিকে
৫০ বছরের
সেরা ফিল্মফেয়ার
বিশেষ পুরস্কার
প্রদান করা
হয়েছে।
ধর্মেন্দ্র ১৯৭৬
সালে থেকে
১৯৮৪ সাল
পর্যন্ত ধরমবীর(১৯৭৭), চরস(১৯৭৬), আজাদ(১৯৭৮), কাতিলো কী কাতিল(১৯৮১), গজব(১৯৮২), রাজপুত(১৯৮২), ভাগাবত(১৯৮২), জানি দোস্ত(১৯৮৩), ধরম আউর
কানুন(১৯৮৪), মেই ইন্তেকাম
লুংগা(১৯৮২), জীনে নেহী
দুংগা(১৯৮৪), হুকুমত(১৯৮৭) এবং রাজ
তিলক(১৯৮৪) প্রভৃতি এক্সন
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছেন। রাজেশ খান্নার
পাশাপাশি তিনি
টিংকু(১৯৭৭), রাজপুত্র(১৯৮২) এবং ধরম
আউর কানুন
প্রভৃতি হিট
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছেন। তবে,
১৯৮৬ সালে
নির্মিত রাজেশ
খান্নার পাশাপাশি
অভিনীত ‘মহব্বত কী কসম'
চলচ্চিত্রটি ফ্লপ
হয়েছিলো। তিনি জিতেন্দ্রর
সাথে ধরমবীর,
সম্রাট, বার্নি ট্রেইন(১৯৮০), জান হাথেলি
পে(১৯৮৭), কিনারা(১৯৭৭), ধরম করম(১৯৭৫) এবং নফরত কী
আন্ধি(১৯৮৯) চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছেন। তিনি শালিমার(১৯৭৮), কিয়ামত(১৯৮৩), জান হাথেলি পে(১৯৮৭), ঝুটা সঁচ(১৯৮৪), সিতমগর(১৯৮৫), প্রফেসর প্যারেলাল(১৯৮১), ফান্ডেবাজ(১৯৭৮) প্রভৃতি চলচ্চিত্রে
‘ক্যান ম্যান
বা গুন্ডা'
চরিত্রে সফল
অভিনয় করেছেন।
ধর্মেন্দ্র বিভিন্ন
স্টাইলের পরিচালকের
সাথে কাজ
করেছেন। অর্জুন হিঙ্গোরানির
সাথে তিনি
১৯৬০ সাল
থেকে ১৯৯১
সাল পর্যন্ত
দীর্ঘদিন কাজ
করেছেন। ‘দিল তেরা
মেই ভি
তেরে(১৯৬০) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে
ধর্মেন্দ্র মুখ্য
নায়ক হিসাবে
আত্মপ্রকাশ করেছিলেন
এবং ধর্মেন্দ্রকে
মুখ্য নায়ক
হিসাবে নিয়ে
অর্জুন হিঙ্গোরানির
প্রথম পরিচালিত
চলচ্চিত্র ছিলো।
‘কব কিউ
আউর কাঁহা(১৯৭০), কাহানি কিসমত কী(১৯৭৩), খেল খিলাড়ী কা(১৯৭৭), কাতিলো কে কাতিল(১৯৮১), কৌন করে কোরবানি(১৯৯১) প্রভৃতি চলচ্চিত্রে অর্জুন
হিঙ্গোরানি পরিচালক
এবং প্রযোজক
ছিলেন। ধর্মেন্দ্ৰ অভিনীত
সুলতানাত এবং
করিশ্মা কুদরত
কা চলচ্চিত্র
অর্জুন হিঙ্গোরানি
প্রযোজনা করেছিলেন। তিনি পরিচালক প্রমোদ
চক্রবর্তীর সাথে
নয়া জামানা,
ড্রিম গার্ল,
আজাদ এবং
জগনু চলচ্চিত্রে
কাজ করেছেন। তিনি ইয়াকীন(১৯৬৯), সমাধি(১৯৭২), গজব(১৯৮২), ঝুটা সঁচ,
‘জীউ সান
সে’
প্রভৃতি চলচ্চিত্রে
দ্বৈত চরিত্রে
অভিনয় করেছেন। ইয়াকীন চলচ্চিত্রে তিনি
নায়ক এবং
খলনায়কের ভূমিকায়
অবতীর্ণ হয়েছিলেন। সমাধি চলচ্চিত্রে পিতা
এবং পুত্রের
ভূমিকায় অবতীর্ণ
হয়েছিলেন। গজব চলচ্চিত্রে
যমজ ভ্রাতার
অভিনয় করেছিলেন। ঝুটা সঁচ,
‘জীউ সান
সে'
চলচ্চিত্রে তিনি
ট্রিপল চরিত্রে
অভিনয় করেছেন।
পৃথ্বীরাজ কাপুর
এবং করিণা
কাপুরকে বাদ
দিয়ে কাপুর
পরিবারের সকল
সদস্য-এর সাথে ধর্মেন্দ্র
অভিনয় করেছেন। তিনি তাঁর মাতৃভাষা
পাঞ্জাবীতে কংকন(১৯৭০, বিশেষ চরিত্রে), দো শের(১৯৭৪), দুখ ভঞ্জন তেরা
নাম(১৯৭৪), তেরি মেরি এক
জিন্দ্রী(১৯৭৫), পুত্ত জাত্তন
দে(১৯৮২), কোরবানি জাত্ত দি(১৯৯০) প্রভৃতি চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছেন। ১৯৮০ সাল
থেকে ১৯৯০
সাল পর্যন্ত
তিনি অনেক
চলচ্চিত্রে নায়ক
এবং সাপোর্টিং
চরিত্রে অভিনয়
করেছেন ।
১৯৯৭ সালে
ধর্মেন্দ্র লাইফটাইম
অ্যাচিভমেন্ট ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার অর্জন
করেছেন। পুরস্কারটি তিনি প্রখ্যাত অভিনেতা দিলীপ
কুমার এবং
তাঁর স্ত্রী
সায়রা বানুর
কাছ থেকে
গ্রহণ করেছিলো। পুরস্কারটি গ্রহণ করে
তিনি আবেগিক
হয়ে বলেছিলেন
যে,
তিনি এতগুলি
সফল এবং
শতাধিক চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেও
সেরা অভিনেতা
বিভাগে কোনো
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
জিততে পারেনি। এই উপলক্ষে বক্তব্য
রেখে দিলীপ
কুমার মন্তব্য
করেছিলেন- ‘আমি যদি সর্বশক্তিমান-এর সাথে
দেখা করতে
পারি, তাঁর সামনে আমি
একটাই অভিযোগ
জানাব, কেন আপনি আমাকে
ধর্মেন্দ্র-এর
মতো সুদর্শন
বানালেন না
৷”
ধর্মেন্দ্র চলচ্চিত্র
প্রযোজনা নিয়ে
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তিনি তাঁর
দুই পুত্রের
অভিনয় সূচনা
করেছিলেন। বেতাব(১৯৮৩)-এর মাধ্যমে
পুত্র সানি
দেউল এবং
বরাসাত(১৯৯৫)-এর মাধ্যমে
ববি দেউলের
চলচ্চিত্র অভিনয়
সূচনা করেছিলেন। তিনি সোচা না
থা(২০০৫) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর
ভাগ্নে অভয়
দেউলের চলচ্চিত্র
ক্যারিয়ার শুরু
করিয়েছিলেন। তিনি সত্যকাম(১৯৬৯) এবং কঁব কিউ
আউর কাঁহা(১৯৭০) চলচ্চিত্রের উপস্থাপক ছিলেন। এক সাক্ষাতকারে অভিনেত্রী
প্রীতি জিন্টা
উল্লেখ করেছেন,
‘ধর্মেন্দ্র তাঁর
প্রিয় অভিনেতা
।'
তিনি জাহ্নু
বরুয়া পরিচালিত
‘হর পল’(২০০৮) চলচ্চিত্রে প্রীতি জিন্টার
বাবার ভূমিকায়
অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ২০০৩ সাল থেকে
চার বছবের
জন্য তিনি
অভিনয় থেকে
বিরত ছিলেন। ২০০৭ সালে অনুরাগ
বসু পরিচালিত
‘লাইফ ইন
এ..
মেট্রো' এবং অনিল শর্মা
পরিচালিত ‘আপনে' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে
আবার তিনি
অভিনয়ে ফিরে
এসেছিলেন। 'লাইফ ইন
এ মেট্রো' চলচ্চিত্রটি ফিল্মফেয়ার,
জী চিনে
পুরস্কার অর্জন
করেছিলো এবং
সমালোচকদের দ্বারা
প্রশংসতি হয়েছিলো। বাণিজ্যিকভাবেও চলচ্চিত্রটি সফল
হয়েছিলো। ‘আপনে’চলচ্চিত্রে তিনি দুই
পুত্র সানি
দেউল এবং
ববী দেউলের
সাথে অভিনয়ে
অবতীর্ণ হয়েছিলেন। উক্ত সালেই তাঁর
অন্য মুক্তিপ্রাপ্ত
চলচ্চিত্র ছিলো
শ্রীরাম রাঘবন
পরিচালিত ‘জানি গাদ্দার’। ২০১১ সালে
তিনি আবার
দুই পুত্র
সানিদেউল এবং
ববী দেউলের
সাথে ‘য়ামলা পাগলা দিওয়ানা'
চলচ্চিত্রে অবতীর্ণ
হয়েছিলেন। ২০১৩ সালে
‘য়ামলা পাগলা
দিওয়ানা -২ চলচ্চিত্রটির আবার
সিকুয়্যাল প্রকাশিত
হয়েছিলো। তিনি তাঁর
স্ত্রী হেমা
মালিনী পরিচালিত
‘টেল মি
অ’গড'(২০১১) চলচ্চিত্রে মেয়ে এশা
দেউলের সাথে
অভিনয়ে অবতীর্ণ
হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে
তিনি পাঞ্জাবী
‘ডাবল দি
ট্রাবল' চলচ্চিত্রে দ্বৈত ভূমিকায়
অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
২০১১ সালে
ধর্মেন্দ্রকে জনপ্রিয়
টিভি শো
'ইন্ডিয়া'স গট ট্যালেন্ট'
রিয়েলিটি শ্বোর
তৃতীয় সিরিজে
সাজিদ খানের
পরিবর্তে বিচারকের
ভূমিকায় নিয়োগ
করা হয়েছিলো। ২০১১ সালের ২৯
জুলাই-এ ধর্মেন্দ্রকে নুতন
বিচারক হিসাবে
নিয়োগ করার
পরে রিয়েলিটি
শ্বোটি আগের
দুটি মরসুমের
রেকর্ড ছাড়িয়ে
গিয়েছিলো।
১৯৮৩ সালে
ধর্মেন্দ্র ‘বিজয়তা
ফিল্ম’ নামে একটি ফিল্ম
প্রযোজনা সংস্থা
গঠন করেছিলো। সংস্থাটি ১৯৮৩ সালে
সর্বপ্রথম ‘বেতাব' চলচ্চিত্রটি নির্মাণ
করেছিলো। সংস্থাটি সানি
দেউলকে প্রথম
মুখ্য চরিত্রে
প্রক্ষেপ করেছিলো
। চলচ্চিত্রটি ১৯৮৩ সালের
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ
উপার্জনকারী চলচ্চিত্র
ছিলো। ১৯৯০ সালে
সংস্থাটি ‘ঘায়েল’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ
করেছিলো। চলচ্চিত্রটিতে সানি
দেউল অভিনয়
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটি সাতটি
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
সহ সেরা
মুভির পুরস্কারও
অর্জন করেছিলো। চলচ্চিত্রটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র
সরবরাহকারী জাতীয়
চলচ্চিত্র পুরস্কারও
অর্জন করেছিলো। ধর্মেন্দ্র সংস্থাটির সহযোগে
বরসাত চলচ্চিত্র-
এর মাধ্যমে
ছোট ছেলে
ববী দেউলের
ফিল্ম ক্যারিয়ার
শুরু করিয়েছিলেন।
ধর্মেন্দ্র ২০০৪
সাল থেকে
২০০৯ সাল
পর্যন্ত রাজস্থানের
বিকানীর লোকসভা
সমষ্টি থেকে
ভারতীয় জনতা
দলের সংসদ
হিসাবে প্রতিনিধিত্ব
করেছেন। ২০০৪ সালে
তাঁর নির্বাচনী
প্রচারের সময়
তিনি একটি
আক্রমণাত্মক মন্তব্য
করেছিলেন যে,
‘গণতন্ত্রের মৌলিক
শিষ্টাচার শেখানোর
জন্য তাঁকে
স্বৈরশাসক হিসাবে
নির্বাচন করা
উচিত।' যার জন্য
তিনি সমালোচনার
সন্মুখীন হয়েছিলেন। অধিবেশন চলাকালীন তিনি
খুব কমই
সংসদে উপস্থিত
থাকতেন। তিনি চলচ্চিত্রের
শ্যূটিং অথবা
তাঁর খামার
হাউসে খামারের
কাজ নিয়ে
ব্যস্ত থাকতেন।
ধর্মেন্দ্র ১৯৫৪
সালে মাত্র
১৯ বছর
বয়সে প্রকাশ
কৌরের সাথে
বিবাহ বন্ধনে
আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের
দুটি ছেলে,
সানিদেউল এবং
ববী দেউল। দুজনই সফল চলচ্চিত্র
অভিনেতা। দুটি কন্যা
বিজিতা এবং
অজিতা। তাঁর ভাজিতা
অভয় দেউলও
একজন অভিনেতা।
বোম্বাই আসার
পর ধর্মেন্দ্র
চলচ্চিত্র জগতে
প্রবেশের পরে
প্রথমা স্ত্রীর
সাথে বিবাহ
বিচ্ছেদ নাকরেই
অভিনেত্রী হেমা
মালিনীর সাথে
বিবাহ বন্ধনে
আবদ্ধ হয়েছিলেন। যার জন্য তিনি
ইসলাম ধর্ম
গ্রহণ করেছেন
বলে প্রচার
হয়েছিলো। তবে তিনি
কথাটা অস্বীকার
করেছেন। তিনি এবং
হেমা মালিনী
১৯৭০-এর দশকের গোড়ার
দিকে শ্বোলে
সহ বেশ
কয়েকটি জনপ্রিয়
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। এই দম্পত্তির
দুটি কন্যা,
এশা দেউল
এবং অহনা
দেউল। এশা দেউল-এর জন্ম
১৯৮১ সালে
এবং তিনি
একজন চলচ্চিত্র
অভিনেতা ।
অহনা দেউলের
জন্ম ১৯৮৫
সালে এবং
তিনি একজন
সহকারী চলচ্চিত্র
পরিচালক ।
ববী দেউলের
ছেলে অর্থাৎ
ধর্মেন্দ্র-এর
নাতির নাম
ধর্মেন্দ্র-এর
নাম অনুসারে
‘ধর্মসিংহ দেউল'
নামকরণ করা হয়েছে।
২০১৯ সালে
ধর্মেন্দ্র-এর
নাতি তথা
সানি দেউলের
ছেলে করণ
দেউল ‘পল পল’
চলচ্চিত্রের মাধ্যমে
চলচ্চিত্র জগতে
আত্মপ্রকাশ করেছে।
অসামরিক সন্মান
১৯৯০ সাল-
জনপ্রিয় চলচ্চিত্র(ঘায়েল) প্রযোজনার জন্য সেরা
জনপ্রিয় জাতীয়
ফিল্ম পুরস্কার
অর্জন করেছেন।
২০১২ সাল-
ভারত সরকার
কর্তৃক তৃতীয়
সর্বোচ্চ অসামরিক
সন্মান পদ্ম
ভূষণ সন্মান
প্রদান করা হয়েছে।
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার-
সাল বিভাগ চলচ্চিত্র সিদ্ধান্ত
১৯৬৫ সেরা সাপোর্টিং অভিনেতা আয়ি মিলন কী
বেলা মনোনীত
১৯৬৭ সেরা অভিনেতা ফুল আউর
পাখর মনোনীত
১৯৭২ ঐ মেরা গাঁও
মেরা দেশ মনোনীত
১৯৭৪ ঐ ইয়াদো কী
বরাত মনোনীত
১৯৭৫ -ঐ- রেশম
কী ডোরী মনোনীত
১৯৮৪ কমিক চরিত্রে
সেরা অভিনয়-নৌকর বিবি
কা মনোনীত
১৯৯১ সেরা চলচ্চিত্র ঘায়েল পুরস্কৃত
১৯৯৭ লাইভটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার পুরস্কৃত
অন্যান্য পুরস্কার এবং
স্বীকৃতি
১৯৭০ দশকের
মাঝামাঝি ধর্মেন্দ্রকে
বিশ্বের অন্যতম
সুদর্শন পুরুষ
হিসাবে নির্বাচিত
করা হয়েছিলো।
ধর্মেন্দ্র বিশ্বের
‘আয়রন ম্যান'-এর খেতাব
অর্জন করেছিলো।
ভারতীয় সিনেমায়
অবদানের জন্য
বিশেষ কলাকার
পুরস্কার অর্জন
করেছিলো।
ভারতীয় চলচ্চিত্র
শিল্পে অসামান্য
অবদানের জন্য
ফেডারেশন অফ
ইন্ডিয়ান কমার্স
এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি
(এফআইসিসিআই)কর্তৃক
সন্মানীত ‘জীবন্ত কিংবদন্তি' সন্মান প্রদান ।
২০০৩ সাল-
সানসুই ভিউয়ারস
মুভি চয়েজ
অ্যাওয়ার্ড কর্তৃক
লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট
পুরস্কার প্রদান
।
২০০৪ সাল-
ভারতীয় চলচ্চিত্রে
সেরা অবদানের
জন্য সন্মানীত।
২০০৭ সাল-
পুণে ইন্টারনেশন্যাল ফিল্ম ফেস্টিভেলে লাইফটাইম
অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কারে
ভূষিত হয়েছেন।
২০০৭ সাল-
আইআইএফএ কর্তৃক
লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট
পুরস্কার প্রদান
করা হয়েছে।
২০০৭ সাল-
ভারতীয় জাতির
জন্য মানবোচিত
পরিষেবার জন্য
পুরস্কৃত হয়েছেন।
২০০৭ সাল-
ডিবিআর ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট
পুরস্কার প্রদান
করা হয়েছে।
২০০৭ সাল-
ভারতীয় সিনেমায়
অবদানের জন্য
পাঞ্জাবী নিউজ
পেপার কর্তৃক
‘কওমী একতা'
সন্মান প্রদান
করা হয়েছে।
২০০৮ সাল-
ম্যাক্স স্টারডাস্ট
পুরস্কার কর্তৃক
‘এক্টর প্যার
এক্সসেলেন্স' সন্মান
প্রদান করা
হয়েছে।
২০০৮ সাল-
দশম মুম্বাই
অ্যাকাডেমি অফ
মুভিং ইমেজ
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র
উৎসবে ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার
প্রদান করা
হয়েছে।
২০০৯ সাল-
নাসিক ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভেলে ‘লাইফটাইম
অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার'
প্রদান করা
হয়েছে।
২০১০ সাল-
বিগ স্টার
ইন্টারটেইনমেন্ট অ্যাওয়ার্ডসে
চলচ্চিত্র শিল্পে
অর্ধশত বছর
পূর্ণ করার
জন্য “বিগ স্টার ইন্টারটেইনার'
হিসাবে সন্মানিত
করা হয়েছে।
২০১১ সাল-
অপ্সরা ফিল্ম
এন্ড টেলিভিশন
প্রডিউসার গিল্ড
অ্যাওয়ার্ডসে 'লাইফটাইম
অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার'
প্রদান করা
হয়েছে।
২০১১ সাল-ভারতীয় টেলিভিশন
অ্যাকাডেমি ‘দি
আইটিএ স্ক্রোল
অফ অনার'
সন্মানে ভূষিত
করেছেন ।•
মনোজ কুমার
চলচ্চিত্র পরিচালক,
অভিনেতা মনোজ
কুমারের জন্ম
ব্রিটিশ শাসিত
ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত
প্রদেশ-এর(বর্তমান খাইবার
পাখতুনখোয়া, পাকিস্থান)
এবাটাবাদ-এ ১৯৩৭ সালের
২৪ জুলাই। তাঁর প্রকৃত নাম
হরিকিষান গিরি
গোস্বামী। দেশপ্রেমমূলক অনেক
চরিত্রে অভিনয়
করার জন্য
তিনি ভারত
কুমার নামেও
পরিচিত। তাঁর পিতৃর
নাম এইস,
এল,
গোস্বামী এবং
মাতৃর নাম
কৃষ্ণা কুমারী
গোস্বামী। তাঁরা চার
জন ভাই-
বোন। ভায়ের নাম
রাজীব গোস্বামী
এবং মনিশ
আর গোস্বামী। বোনের নাম নীলম
গোস্বামী। ভারত বিভাজনের
পরে তাঁদের
পরিবার জান্ডিয়ালা
শের খান
থেকে দিল্লী
চলে এসেছিলো। তখন তাঁর বয়স
ছিলো মাত্র
১০ বছর। তাঁদের পরিবার দিল্লীর
বিজয় নগরের
কিংসওয়ে ক্যাম্পে
কিছুদিন বসবাস
করার পরে
নতুন দিল্লীর
রাজেন্দ্র নগরে
চলে আসে। তিনি দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু কলেজ থেকে
স্নাতক ডিগ্রী
অর্জন করার
পর চলচ্চিত্র
জগতে প্রবেশ
করার সিদ্ধান্ত
নিয়েছিলেন।
মনোজ কুমার
যখন ছোট
ছিলেন, তখন তিনি দিলীপ
কুমার, অশোক কুমার এবং
অভিনেত্রী কামিনী
কৌশলের অনুরাগী
ছিলেন। অভিনেতা দিলীপ
কুমার ‘শবনম' চলচ্চিত্রে মনোজ
কুমারের চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। তাই তিনি মনোজ
কুমার নামটি
বেচে নিয়ে
ছিলেন এবং
পরবর্তীতে তিনি
মনোজ কুমার
হিসাবেই চলচ্চিত্র
জগতে পরিচিত
হয়েছিলেন। ১৯৫৭ সালে
‘ফেশন' চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম
অভিনয় করার
সুযোগ পেয়েছিলেন। ফেশনে তিনি একজন
৮০ বছরের
বৃদ্ধের চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সাহারা’ চলচ্চিত্রে মীনা কুমারীর
বিপরীতে শ্যামের
চরিত্রে এবং
‘পঞ্চায়েত' চলচ্চিত্রে শ্যামার বিপরীতে
গোপালের চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৫৯ সালে ‘চাঁদ' চলচ্চিত্রে মীনা
কুমারীর বিপরীতে
গোকুলের চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে বলরাজ সাহনীও
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৬০ সালে 'হানিমুন’, ‘কাঁচ কি
গুড়িয়া’ চলচ্চিত্রে সাইদা খান
এবং
‘পিয়া কি
মিলন আস’
চলচ্চিত্রে অভিনেত্রী
অমিতার বিপরীতে
মুখ্য ভূমিকায়
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৬১ সালে 'সুহাগ সিঁদুর'-এ মালা সিনহা,
‘রেশমী রুমাল'-এ শাকিলা এবং ১৯৬২
সালে বিজয়
ভাট পরিচালিত
‘হরিয়ালি আউর
রিস্তা' চলচ্চিত্রে মালা সিনহার
বিপরীতে মুখ্য
ভূমিকায় অবতীর্ণ
হয়েছিলেন। সোহাগ সিঁদুরে
বলরাজ সাহনীও
অভিনয় করেছিলেন।
১৯৬২ সালে
‘শাদি’চলচ্চিত্রে সায়রা বানু,
'বনারসি ঠগ’-এ বৈজয়ন্তী মালা, ‘মা-বেটা’চলচ্চিত্রে অমিতা, ‘নকলি নবাব’-এ শাকিলা এবং
‘আপনা বনা
দেখো' চলচ্চিত্রে আশা পারেখের
বিপরীতে মুখ্য
ভূমিকায় অবতীর্ণ
হয়েছিলেন। সাদি চলচ্চিত্রে
বলরাজ সাহনী
এবং ধর্মেন্দ্রও
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৬৩ সালে ‘ঘর বসাকে দেখো'
ও
‘গৃহস্তী' চলচ্চিত্রে রাজশ্রী, ‘আপনে হোয়ে পরায়ে’
চলচ্চিত্রে মালা
সিনহার বিপরীতে
অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯৬৪ সালে রাজ
খোসলা পরিচালিত
‘ওয়ো কৌন
থি’-এ সাধনা, ‘ফুলো কি
সেজ’-
এ ও শহিদ-এ বৈজয়ন্তী মালা’
বেদাগ-এ নন্দার বিপরীতে
মুখ্য ভূমিকায়
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৬৫ সালে বিজয়
ভাট পরিচালিত
‘হিমালয় কি
গুদ মে’চলচ্চিত্রে মালা
সিনহার বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন।,
‘গুমনাম’- এ নন্দা, পুনম কি রাত'-এ কুমুদ চুগানীর বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৬৬ সালে রাজ
খোসলা পরিচালিত
‘পিকনিক’-এ কল্পনা, দো বদন-এ আশা পারেখের বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন
। দো বদনের গীত
লিখেছিলেন শাকিল
বাদাউন। উক্ত সালেই
তিনি ‘শাওন কি ঘন্টা'
চলচ্চিত্রে শর্মিলা
টেগোর, ‘পাখর কি শনম’-এ ওয়াহিদা রেহমান ও
মমতাজ, ‘অনিতা' চলচ্চিত্রে সাধনার
বিপরীতে অভিনয়
করেছিলেন।
১৯৬০-এর দশকে মনোজ
কুমার হানিমুন,
আপনা বনা
কে দেখো,
নকলি নবাব,
পাথর কি
শনম,
সাজন এবং
সাঁওন কি
ঘন্টা প্রভৃতি
রোমান্টিক চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। সাদি, গৃহস্তী, আপনে হোয়ে পরায়ে
এবং আদমি
প্রভৃতি সামাজিক
চলচ্চিত্র অভিনয়
করেছিএলন। গুমনাম, অনিতা এবং ওয়হ
কৌন থি
প্রভৃতি থ্রিলার
ফিল্ম-এ অভিনয় করেছিলেন। পিকনিক শিরোনামে একটি
কমেডি চলচ্চিত্রেও
তিনি অভিনয়
করেছিলেন।
১৯৬৫ সালে
ইন্ডো-পাকিস্থান যুদ্ধের পরে
তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী
লাল বাহাদুর
শাস্ত্রী ‘জয় জোয়ান জয়
কিষান' শ্লোগানের আধারে একটি
ফিল্ম নির্মাণ
করার জন্য
বলেছিলো। মনোজ কুমার
সেই নির্দেশ
রক্ষা করে
১৯৬৫ সালে
শহিদ ভগত
সিংয়ের স্বাধীনতা
সংগ্রামের আধারে
নির্মিত ‘শহিদ’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ
করেছিলেন এবং
চলচ্চিত্রটিতে তিনি
শহিদ-ই-আজম ভগত
সিংয়ের চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন।
১৯৬৭ সালে
‘উপকার' চলচ্চিত্রে আশা পারেখ,
প্রাণ, কামিনী কৌশল এবং
‘নীল কমল'
চলচ্চিত্রে ওয়াহিদা
রেহমানের বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে তিনি একজন
সৈনিক এবং
কিষানের চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে অন্যান্য অভিনেতা
ছিলেন প্রাণ
ও প্রেম চোপ্ৰা। চলচ্চিত্রটি সেরা
স্টোরি ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার,সেরা ডায়লগ-এর ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড,
সেরা ডায়লগের
বিএফজেএ পুরস্কার
অর্জন করেছিলেন। চলচ্চিত্রটির জন্য মনোজ
কুমার সেরা
অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কারের জন্যও
মনোনীত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় সেরা জাতীয়
ফিল্মফেয়ার ফিশার
ফিল্ম পুরস্কার
এবং সেরা
মুভি ফিল্মফেয়ার
অ্যাওয়ার্ড অর্জন
করেছিলেন এবং
মনোজ কুমার
সেরা পরিচালকের
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
অর্জন করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে ‘মেরা দেশ
কে ধরতী’
শিরোনামে একটি
দেশপ্রেমমূলক বিখ্যাত
গীত ছিলো। গীতটি লিখেছিলেন গুলশন
বাউরা, সুর করেছিলেন কল্যাণজি-আনন্দজি এবং
কণ্ঠদান করেছিলেন
মহেন্দ্র কাপুর।
১৯৬৮ সালে
তিনি ‘আদমি' চলচ্চিত্রে ওয়াহিদা
রেহমানের বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন। আদমি চলচ্চিত্রটির জন্য
তিনি সেরা
সাপোর্টিং অভিনেতার
পুরস্কারের জন্য
মনোনীত হয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালে ‘সাজন’-এ আশা পারেখ, এবং ১৯৭০ সালে
‘পূরব আউর
পশ্চিম’চলচ্চিত্রে সায়রা বানুর
বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন। পূরব আউর চলচ্চিত্রটি
দেশপ্রেমমূলক ছিলো
এবং তিনি
নিজে চলচ্চিত্রটি
পরিচালনা করেছিলেন। ১৯৭০ সালে ইয়াদগার-এ নুতনের বিপরীতে, পেহচান-এ ববিতার বিপরীতে এবং
মেরা নাম
জোকার-এ সাপোর্টিং চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৭১ সালে ‘বলিদান-এ সায়রা বানুর বিপরীতে,
‘সুর’-এ নন্দা এবং জয়া
বচ্চনের বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন। সুর চলচ্চিটি বক্স
অফিসে তেমন
বড় প্রভাব
ফেলতে না
পারলেও সেরা
এডিটিং ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার, সেরা পরিচালকের ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার এবং
সেরা স্টোরির
জন্য মনোনীত
হয়েছিলেন। সুর চলচ্চিত্রটির
চির সবুজ
‘এক প্যার
কা নাগমা
হ্যায়' শীর্ষক গীতটি লিখেছিলেন
সন্তোষ আনন্দ। সুরারোপ করেছিলেন লক্ষ্মীকান্ত-প্যারেলাল এবং
গীতটি ডুয়েট
গেয়েছিলেন কুকিলকণ্ঠী
গায়িকা লতা
মাঙ্গেশকর এবং
মুকেশ। ১৯৭২ সালে
বে-ইমান চলচ্চিত্রটিতে
তিনি মোহনের
চরিত্রে রাখীর
বিপরীতে অভিনয়
করেছিলেন। তিনি প্রেমনাথ,
প্রাণ, প্রেম চোপ্ৰা, কামিনী কৌশল এবং
হেমা মালিনীর
সাথে অভিনয়
করতে অধিক
পসন্দ করতেন
।
১৯৭০-এর দশকে মনোজ
কুমার তিনিটি
হিট ফিল্ম
উপহার দিয়েছিলেন। ১৯৭৪ সালে তিনি
‘রুটি, কাপড়া আউর মকান'
চলচ্চিত্রে জিন্নাত
আমান এবং
মৌসুমি চ্যাটার্জির
বিপরীতে অভিনয়
করেছিলেন। ১৯৭৪ সালে
তিনি সেরা
অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার অর্জন
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে জিন্নত
আমান, শশী কাপুর, এবং অমিতাভ বচ্চনও
অভিনয় করেছিলেন। চলচ্চিত্রটি তিনি পরিচালনা
করেছিলেন এবং
চলচ্চিটির জন্য
সেরা পরিচালকের
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
অর্জন করেছিলেন
এবং সেরা
মুভি ফিল্মফেয়ার
অ্যাওয়ার্ড, সেরা
স্টোরি ফিল্মফেয়ার
অ্যাওয়ার্ড এবং
সেরা অভিনেতার
ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডের
জন্য মনোনীত
হয়েছিলেন। ১৯৭৪ সালে
তিনি ধর্মীয়
কমেডি চলচ্চিত্র
‘সন্ন্যাসী’চলচ্চিত্রে হেমা মালিনীর
বিপরীতে অভিনয়
করেছিলেন এবং
সেরা অভিনেতার
ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের
জন্য মনোনীত
হয়েছিলেন। চলচ্চিত্রটি ‘হিউজ
বক্স অফিস'
সফল হয়েছিলো। ১৯৭৬ সালে ‘দশ নম্বরি’ চলচ্চিত্রে তিনি হেমা
মালিনীর বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে মনোজ কুমার,
প্রাণ, প্রেমনাথ এবং হেমা
মালিনীর মাননি
সর্বাধিক ছিলো।
১৯৭৭ সালে
তিনি ‘শিরদি কে সাই
বাবা’চলচ্চিত্রে হেমা মালিনীর
বিপরীতে, আমানত চলচ্চিত্রে সাধনার
বিপরীতে অভিনয়
করেছিলেন। শিরদি কে
সাই বাবা
চলচ্চিত্রটিতে রাজেন্দ্র
কুমারও অভিনয়
করেছিলেন। আমানত চলচ্চিত্রটিতে
বলরাজ সাহনী,
মেহমুদ, অরুণা ইরানী এংব
অসিত সেনও
অভিনয় করেছিলেন। ১৯৭৯ সালে তিনি
‘জাঠ পাঞ্জাবী'
চলচ্চিত্রে রাজেন্দ্র
নাথ,
মদন পুরি
এবং রাজা
মুরাদের বিপরীতে
অভিনয় করেছিলেন।
১৯৮১ সালে
মনোজ কুমার
ক্রান্তি চলচ্চিত্রটি
পরিচালনা করে
জনপ্রিয়তার শীর্ষে
আরোহণ করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে তিনি তাঁর
আদর্শ অভিনেতা
দিলীপ কুমারকে
নির্দেশনা করেছিলেন।
‘ক্রান্তি’ চলচ্চিত্রটিতে তিনি দিলীপ
কুমার, শশী কাপুর, শত্রুঘ্ন সিনহা, হেমা মালিনী, পারবিন বাবি, নিরূপা রয় এবং
প্রেম চোপড়ার
বিপরীতে অভিনয়
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে তিনি
ভারতের চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন।
১৯৮১ সালের
পর থেকে
মনোজ কুমারের
জনপ্রিয়তা হ্রাস
পেতে থাকে। ১৯৮৭ সালে তিনি
‘কালযুগ আউর
রামায়ন' চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
‘কালযুগ আউর
রামায়ন'-এ তিনি পবন
পুত্র শ্রী
হনুমান-এর চরিত্রে মাধবীর
বিপরীতে অভিনয়
করেছিলেন। ১৯৮৯ সালে
তিনি ‘সন্তোষ’ এবং
‘ক্লার্ক' চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সন্তোষ চলচ্চিত্রে তিনি
সন্তোষ সিংয়ের
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে তাঁর
বিপরীতে অভিনয়
করেছিলেন নিরূপা
রয়,
রাখী, প্রেম চোপ্রা এবং
হেমা মালিনী। ক্লার্ক চলচ্চিত্রটিতে তিনি
ভারতের চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন
এবং তিনি
চলচ্চিত্রটি পরিচালনাও
করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে তাঁর
বিপরীতে অভিনয়
করেছিলেন অশোক
কুমার, রাজেন্দ্র কুমার, রেখা, পাকিস্থানী অভিনেতা
মহম্মদ আলী,
শশী কাপুর,
অনিতা রাজ,
জেবা এবং
প্রেম চোপ্রা। ১৯৯১ সালে তিনি
‘দেশবাসী' চলচ্চিত্রে সংগ্রাম সিংয়ের
চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ১৯৯৫ সালে ময়দান-ই-জংগ চলচ্চিত্রে
তিনি মাস্টার
দীননাথের চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। তাঁর বিপরীতে অন্যান্য
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন ধর্মেন্দ্র,
অক্ষয় কুমার
এবং করিশ্মা
কাপুর। ময়দান-ই-জংগের পরে
তিনি আর
কোনো চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেননি। ১৯৯৯ সালে শুধু
দেশপ্রেমমূলক ‘থিম’-এর উপর
নির্মিত ‘জয়হিন্দ’ চলচ্চিত্রটি শুধু
পরিচালনা করেছিলেন।
অন্যান্য অভিনেতাদের
মতো অবসরের
পরে মনোজ
কুমার ২০০৪
সালের লোকসভা
নির্বাচেনর আগে
আগে ভারতীয়
জনতা দলে
যোগদান করেছিলেন।
মনোজ কুমার
তাঁর ক্যারিয়ারে অনেক পুরস্কার অর্জন
করেছেন।
১৯৬৮ সালে
উপকার চলচ্চিত্রের
জন্য তিনি
দ্বিতীয় সেরা
ফিশার ফিল্ম
অ্যাওয়ার্ড, সেরা
পরিচালকের ফিল্মফেয়ার
অ্যাওয়ার্ড, সেরা
স্টোরির ফিল্মফেয়ার
অ্যাওয়ার্ড, সেরা
ডায়লগ ফিল্মফেয়ার
অ্যাওয়ার্ড অর্জন
করেছিলেন।
১৯৭২ সালে
বে-ইমান চলচ্চিত্রের
জন্য সেরা
অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার।
১৯৭২ সালে
সুর চলচ্চিত্রের
জন্য সেরা
এডিটিং ফিল্মফেয়ার
অ্যাওয়ার্ড।
১৯৭৫ সালে
‘রুটি কাপড়া
আউর মকান'-এর জন্য
সেরা পরিচালকের
ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড।
১৯৯৯ সালে
লাইফটাইম ফিল্মফেয়ার
অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড
অর্জন করেছিলেন।
১৯৬৮ সালে
উপকার চলচ্চিত্রের
জন্য সেরা
অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কারের জন্য
মনোনীত হয়েছিলেন।
১৯৬৯ সালে
আদমি চলচ্চিত্রের
জন্য সেরা
সাপোর্টিং অভিনেতার
ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের
জন্য মনোনীত
হয়েছিলেন।
১৯৭৩ সালে
সুর চলচ্চিত্রের
জন্য সেরা
পরিচালকের ফিল্মফেয়ার
পুরস্কারের জন্য
মনোনীত হয়েছিলেন।
১৯৭৫ সালে
রুটি কাপড়া
আউর মকান
চলচিত্রের জন্য
সেরা মুভি
ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের
জন্য মনোনীত
হয়েছিলেন।
১৯৭৫ সালে
রুটি কাপড়া
মকান চলচ্চিত্রের
জন্য সেরা
অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কারের জন্য
মনোনীত হয়েছিলেন।
১৯৭৬ সালে
সন্ন্যাসী চলচ্চিত্রের
জন্য সেরা
অভিনেতার ফিল্মফেয়ার
পুরস্কারের জন্য
মনোনীত হয়েছিলেন।
অন্যান্য পুরস্কার -
১৯৬৮ সালে
উপকার চলচ্চিত্রের
জন্য সেরা
ডায়লগের বিএফজেএ
(বোম্বে ফিল্ম
জার্নালিস্টস অ্যাওয়ার্ড)
পুরস্কার।
১৯৯২ সালে
ভারত সরকার
কর্তৃক পদ্মশ্রী
সন্মান ।
২০০১ সালে
চলচ্চিত্র শিল্পে
লাইফটাইম পরিষেবার
জন্য কলাকার
পুরস্কার।
২০০৭ সালে
সরদার প্যাটেল
লাইফটাইম আন্তর্জাতিক
পুরস্কার।
২০০৮ সালে
স্টার স্ক্রিন
লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট
পুরস্কার।
২০০৯ সালে
দাদা সাহেব
ফালকে অ্যাকাডেমি
কর্তৃক ফালকে
রত্ন পুরস্কার।
২০১০ সালে
১২ সংখ্যক
মুম্বাই ফিল্ম
ফেস্টিভেলে লাইফটাইম
অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার।
২০১২ সালে
লাইফটাইম পরিষেবার
জন্য অপ্সরা
ফিল্ম এন্ড
টেলিভিজন প্রডিউসার
গাইড পুরস্কার।
২০১২ সালে
নাসিক আন্তর্জাতিক
ফিল্ম ফেস্টিভেল
কর্তৃক লাইফটাইম
পরিষেবার জন্য
পুরস্কার।
২০১২ সালে
ইউনাইটেড স্টেটের
নিউ জার্ছিতে
ভারত গৌরব
পুরস্কার ।
২০১৩ সালে
জাগরণ ফিল্ম
ফেস্টিভেলে লাইভটাইম
অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার।
২০১৬ সালে
লাইফটাইম পরিষেবার
জন্য দাদা
সাহেব ফালকে
অ্যাওয়ার্ড।
২০১৯ সালে
পাওয়ার ব্যান্ড
অ্যাট বিএফজেএ(বলিউড ফিল্ম
জার্নালিস্টস অ্যাওয়ার্ড।)
কর্তৃক লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার ।
২০২০ সালে
ডব্লিউবিআর কর্তৃক
বলিউডের গোল্ডেন
ইরা পুরস্কার
।
অন্যান্য সন্মান-
২০০৮ সালে
মধ্য প্রদেশ
সরকার মনোজ
কুমারের সন্মানে
তাঁর নামে
১,০০,০০০ টাকা
পুরস্কার প্রদান
করেছিলো এবং
ভারত রত্নের
জন্যও কেন্দ্রীয়
সরকারের কাছে
প্রস্তাব প্রেরণ
করেছিলো।
২০১১ সালে
শিরদির সাই
বাবা সতনাম
ট্রাস্ট পিম্পালয়াডি
রোড
‘মনোজ কুমার
গোস্বামী রোড'
নামকরণ করেছেন।
মনোজ কুমার
গোস্বামী হারিয়ানার
শিরসা জেলার
শশী গোস্বামীর
সাথে বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হয়েছিলেন। তাঁদের দুজন
ছেলে, বিশাল এবং কুনাল। কোনো মেয়ে সন্তান
নেই। বিশাল গায়ক
হিসাবে এবং
কুনাল অভিনেতা
হিসাবে প্রতিষ্ঠিত
হওয়ার চেষ্টা
করেছিলো এবং
তাঁর ভ্রাতা
রাজীব গোস্বামীও
চলচ্চিত্র শিল্পে
প্রবেশ করেছিলো,
তবে তাঁরা
কেউ তেমন
সফল হতে
পারেনি।•
শশী কাপুর
চলচ্চিত্র প্রযোজক,
অভিনেতা শশী
কাপুরের জন্ম
১৯৩৮ সালের
৪ ডিসেম্বর ব্রিটিশ শাসিত
ভারতের কলকাতায়
। তাঁর পিতার নাম
পৃথ্বীরাজ কাপুর
এবং মাতৃর
নাম রামসার্ণি
দেবী কাপুর
। তিনি রাজ কাপুর
এবং শাম্মী
কাপুরের ছোট
ভাই। জন্মের সময়
তাঁর নাম
রাখা হয়েছিলো
বলবীর রাজ
কাপুর। চলচ্চিত্র শিল্পে
প্রবেশের সময়
তাঁর নাম
রাখা হয়েছিলো
শশী কাপুর।
পিতা পৃথ্বীরাজ
কাপুর নির্দেশিত
এবং প্রযোজিত
ভ্রাম্যমান থিয়েটার
সংস্থা পৃথ্বী
থিয়েটারে শশী
কাপুর প্রথমে
অভিনয় ক্যারিয়ার
শুরু করেছিলেন,
যখন তিনি
পৃথ্বী থিয়েটারের
সাথে ভ্রমণ
করতেন। ১৯৪০-এর দশকের শেষের
দিকে তিনি
শিশুশিল্পী হিসাবে
শশীরাজ নামে
চলচ্চিত্র শিল্পে
তাঁর ভ্রাতা
রাজ কাপুর
অভিনীত এবং
পরিচালিত আগ(১৯৪৮) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর
অভিনয় ক্যারিয়ার
শুরু করেছিলেন। তখন একই নামে
অন্য একজন
শিশুশিল্পী পৌরাণিক
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করতেন। আগ(১৯৪৮) এবং ‘আওয়ারা’(১৯৫১) চলচ্চিত্রে তিনি
জ্যেষ্ঠভ্রাতা রাজ
কাপুরের শিশু
সংস্করণের ভূমিকায়
অবতীর্ণ হয়েছিলেন। শিশুশিল্পী হিসাবে তিনি
সংগ্রাম(১৯৫০) চলচ্চিত্রে অশোক
কুমারের এবং
দানাপানী(১৯৫৩) চলচ্চিত্রে ভারত
ভূষণের শিশু
সংস্করণের ভূমিকায়
অভিনয় করেছিলেন। যশ চোপ্রা পরিচালিত
রাজনৈতিক নাটক
ধর্মপুত্র(১৯৬১)তে তিনি
প্রথম প্রাপ্তবয়স্কদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
শশী কাপুর
১৯৫৮ সালে
সুনীল দত্ত
অভিনীত ‘পোসটবক্স ৯৯৯'
চলচ্চিত্র সহকারী
পরিচালক হিসাবে
পরিচালনা করার
সুযোগ পেয়েছিলেন।
‘পোস্টবক্স ৯৯৯'
সুনীল দত্তের
অভিষেক চলচ্চিত্র
ছিলো। ১৯৫৯ সালে
রবীন্দ্র দাভে
পরিচালিত ‘গেস্টহাউস’(১৯৫৯), দুলহা-দুলহন(১৯৬৪) এবং এস,
এম আব্বাস
পরিচালিত শ্রীমান
সত্যবাদী(১৯৬০) চলচ্চিত্রে সহকারী
পরিচালক হিসাবে
কাজ করেছেন। দুলহা-দুলহন(১৯৬৪) এবং শ্রীমান
সত্যবাদী(১৯৬০) চলচ্চিত্রে জ্যেষ্ঠ
ভ্রাতা রাজ
কাপুর মুখ্য
ভূমিকায় অভিনয়
করেছিলেন।
শশী কাপুর
‘ধর্মপুত্র’(১৯৬১) চলচ্চিত্রে প্রথম
মুখ্য ভূমিকায়
অভিনয় ক্যারিয়ার
শুরু করে
১১৬ টি
হিন্দী চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে ৬১
টি চলচ্চিত্রে
একক মুখ্য
চরিত্রে, ৩৪ টি চলচ্চিত্রে
মাল্টি স্টারকাস্ট
হিসাবে, ২১ টি চলচ্চিত্রে
সহযোগী এবং
৭ টি চলচ্চিত্রে বিশেষ
চরিত্রে অভিনয়
করেছেন। তিনি ১৯৬০,১৯৭০ এবং
১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি
পর্যন্ত বলিউডে
খুবই জনপ্রিয়
অভিনেতা ছিলেন। শশী কাপুরের প্রথম
দিকের চলচ্চিত্র
যশ চোপ্রা
পরিচালিত ধর্মপুত্র(১৯৬১), বিমল রায় পরিচালিত
প্রেমপত্র(১৯৬২) এবং কৃষ্ণন
চোপ্রা পরিচালিত
চার দিওয়ারি(১৯৬১) বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়নি। ১৯৬১ সাল থেকে
তিনি ইংরেজি
ভাষার চলচ্চিত্রে
অভিনয় শুরু
করেছিলেন। যার মধ্যে
জেমস আইভরি
পরিচালিত হাউসহোল্ডার(১৯৬৩) এবং শেক্সপিয়ের-ওয়াল্লাহ(১৯৬৫) উলেখযোগ্য। তিনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে
ভারতের প্রথম
অভিনেতা ছিলেন। তখনকার প্রতিষ্ঠিত তারকা
নন্দার সাথে
তিনি ৮
টি হিন্দী
চলচ্চিত্রে স্বাক্ষর
করেছিলেন। তাঁদের প্রথম
দুটি রোমান্টিক
চলচ্চিত্র চার
দিওয়ারি(১৯৬১) এবং মেহেন্দি
লাগি মেরি
হাত(১৯৬২) সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত
হয়েছিলো। অভিনেত্রী নন্দার
বিপরীতে শশী
কাপুর বেশ
কয়েকটি রোমান্টিক
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছেন, যার মধ্যে মহব্বত
ইসকো কহতে
হ্যায়(১৯৬৫), জব জব
ফুল খিলে(১৯৬৫), নিন্দ হামারী খোয়াব
তুমহারে(১৯৬৬), রাজা সাব(১৯৬৯) এবং রুথা না
করো(১৯৭০) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ১৯৯০ সালে
একটি সাক্ষাতকারে
শশী কাপুর
স্মৃতি রোমন্থন
করে মন্তব্য
করেছিলেন যে,
নন্দা তাঁর
জনপ্রিয় নায়িকা
এবং তাঁর
পরামর্শদাতা ছিলেন। অন্য একটি সাক্ষাতকারে
নন্দা উল্লেখ
করেছিলেন যে,
শশী কাপুর
তাঁর জনপ্রিয়
নায়ক ছিলেন।
ষাটের দশকের
শেষের দিক
থেকে আশির
দশকের মাঝামাঝি
পর্যন্ত রাখী,
শর্মিলা টেগোর,
জিন্নত আমানের
সাথে শশী
কাপুর জুটি
বেঁধেছিলেন। এছাড়াও হেমা
মালিনী, পারভীন বাবি এবং
মৌসুমী চ্যাটার্জির
সাথেও অভিনয়
করেছেন। রাখীর সাথে
জুটি বেঁধে
তিনি প্রথমে
সমীর গাংগুলি
পরিচালিত শর্মিলী(১৯৭১)তে অভিনয় করেছিলেন। শর্মিলী চলচ্চিত্রটি ব্লকবাস্টার
হয়েছিলো। পরে তাঁরা
জানোয়ার আউর
ইনসান(১৯৭২), কভি কভি(১৯৭৬), বসেরা(১৯৮১) এবং তৃষ্ণা (১৯৭৮) প্রভৃতি চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেন। তৃষ্ণা চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের
দ্বারা খুবই
প্রশংসিত হয়েছিলো। তবে, রাখীর সাথে
অভিনীত দোসরা
আদমী(১৯৭৭), বন্ধন কাঁচে
দাগোঁ কা(১৯৮৩), বন্ধ হাথ(১৯৮৪) এবং জমিন আশমান(১৯৮৫) প্রভৃতি চলচ্চিত্র তেমন
সফল হয়নি।
তিনি শর্মিলা
টেগোরের সাথে
জুটি বেঁধে
অভিনীত ওয়াক্ত(১৯৬৫),আমনে সামনে(১৯৬৭), সুহানা সফর(১৯৭০), আ গলে লাগ
যা(১৯৭৩), বচন(১৯৭৪), পাপ আউর পূণ্য(১৯৭৪), স্বাতি(১৯৮৬) এবং নিউ দিল্লী
টাইমস(১৯৮৫) চলচ্চিত্র খুবই
সফল হয়েছিলো। নিউ দিল্লী টাইমস(১৯৮৫) সমালোচকদের দ্বারা খুবই
প্রশংসিত হয়েছিলো
এবং চলচ্চিত্রটির
জন্য তিনি
সেরা অভিনেতার
জাতীয় ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার অর্জন
করেছিলেন। তবে,
শর্মিলা টেগোরের
সাথে অভিনীত
অন্য চলচ্চিত্র
মাই লাভ(১৯৭০), অনারি(১৯৭৫), গেহেরি চোট(১৯৮৩), মা বেটি(১৯৮৬) এবং ঘর-সংসার(১৯৯৮) চলচ্চিত্র তেমন
সফল হয় নি।
জিন্নত আমানের
সাথে জুটি
বেঁধে অভিনীত
চুরি মেরা
কাম(১৯৭৫), দিওনয়াগী(১৯৭৬), রুটি কাপড়া আউর
মকান(১৯৭৪), হীরালাল পান্নালাল(১৯৭৮)পাখন্ডী(১৯৮৪), ভবানী জংসন(১৯৮৫), সত্যম শিবম
সুন্দরম(১৯৭৮) প্রভৃতি সফল
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছেন। তবে,
জিন্নত আমানের
সাথে অভিনীত
ক্রোধী(১৯৮১), উকিল বাবু(১৯৮২) এবং বন্ধন কাঁচে
দাগোঁ কা(১৯৮৩)চলচ্চিত্র ফ্লপ হয়েছিলো।
শশী কাপুর
এবং হেমা
মালিনী জুটি
বেঁধে সুবোধ
মুখার্জী পরিচালিত
অভিনেত্রী(১৯৭০), মোহন কুমার
পরিচালিত আপ
বেটি(১৯৭৬), যশ চোপ্রা
পরিচালিত ত্রিশূল
(১৯৭৮), বব্বর-সুভাষ পরিচালিত
আন্ধি তুফান(১৯৮৫), আপনা খুন(১৯৭৮), শিবু মিত্র পরিচালিত
মান গয়ে
ওস্তাদ(১৯৮১), রাকেশ কুমার
পরিচালিত দো
আউর দোপাঁচ(১৯৮০) প্রভৃতি সফল চলচ্চিত্র
উপহার দিয়েছেন। তবে, লেখ টেন্ডন
পরিচালিত জঁহা
প্যার মিলে(১৯৬৯), ইয়াকুব হাসান রিজবি
পরিচালিত নাচ
উঠে সংসার(১৯৭৬) এবং টি,
হরিহরন পরিচালিত
আঞ্জাম(১৯৮৭) চলচ্চিত্র সফল
হয়নি।
শশী কাপুরের
অন্যান্য সফল
চলচ্চিত্র হলো-
হাসিনা মান
জয়েগী(১৯৬৮) এবং এক
শ্ৰীমান এক শ্রীমতী(১৯৬৯)। চলচ্চিত্র দুটিতে
নায়িকা ছিলেন
ববিতা। আশা পারেখের
সাথে জুটি
বেঁধে অভিনীত
সফল চলচ্চিত্র
দুটি হলো-কন্যাদান(১৯৬৮) এবং প্যার
কা মৌসম(১৯৬৯)। মমতাজের সাথে
জুটি বেঁধে
অভিনীত চোর
মচায়ে শোর(১৯৭৪), রীণা রায়ের সাথে
জুটি বেঁধে
অভিনীত বেজুবান(১৯৮২), রেখার সাথে জুটি
বেঁধে অভিনীত
চক্কর পে
চক্কর(১৯৭৬), কালি ঘাটা(১৯৮০), কালযুগ(১৯৮১), বিজেতা(১৯৮২) এবং প্যার কি
জিত(১৯৮৭), রতি অগ্নিহোত্রীর সাথে
জুটি বেঁধে
অভিনীত বেপনাহ(১৯৮৫) প্রভৃতি চলচ্চিত্র সফল
হয়েছিলো। তাঁর অন্যান্য
চলচ্চিত্রের মধ্যে
ছিলো, দিল নে পুকারা
(১৯৬৭), ত্রিশূল (১৯৭৮), নিয়ত(১৯৮০), আন্ধি তুফান(১৯৮৫), নাইনা(১৯৭৩), ফাঁসি(১৯৭৮), শালাখে(১৯৭৫), ফাকিরা(১৯৭৬) এবং জুনুন(১৯৭৮) প্রভৃতি। তিনি রাজেশ খান্নার
সাথে প্রেম
কাহানি(১৯৭৫) চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছিলেন।
শিশুশিল্পী হিসাবে
শশী কাপুর
তৎকালীন প্রখ্যাত
অভিনেতা অশোক
কুমারের সাথে
সংগ্রাম(১৯৫০) এবং সমাধি(১৯৫০) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্র দুটি বক্স
অফিসে হিট
হয়েছিলো। তিনি অশোক কুমার
মুখ্য চরিত্রে
অভিনীত বেনজির(১৯৬৪) চলচ্চিত্রে অশোক কুমারের
ছোট ভ্রাতার
চরিত্রে অভিনয়
করেছিলেন। ১৯৭৫ থেকে
১৯৮৫ সাল
পর্যন্ত শশী
কাপুর মুখ্য
চরিত্রে অভিনীত
৭ টি চলচ্চিত্রে অশোক
কুমার সহযোগী
অভিনেতা ছিলেন। এই সাতটি চলচ্চিত্র
ছিলো ‘চুরি মেরা কাম’,আপ বিতি,
শংকর দাদা(১৯৭৬), আপনা খুন,
মান গয়ে
ওস্তাদ, হীরা আউর পাথর
(১৯৭৭) এবং দো মুসাফির
(১৯৭৮)। তাঁদের অভিনীত
পাঁচটি চলচ্চিত্র
সফল হলেও
হীরা আউর
পাথর(১৯৭৭)এবং দো
মুসাফির(১৯৭৮) চলচ্চিত্র দুটি
ফ্লপ হয়েছিলো। শশী কাপুর ‘মান জয়েগী হাসিনা'
এবং
‘শংকর দাদা'
চলচ্চিত্রে দ্বৈত
ভূমিকায় অভিনয়
করেছিলেন। চলচ্চিত্র দুটি
বক্স অফিসে
হিট হয়েছিলো। শংকর দাদা চলচ্চিত্রে
তিনি মহিলার
পোশাক পরে
একটি গান
চিত্রায়িত করেছিলো। গানটি খুবই হিট
হয়েছিলো।
১৯৭০-এর দশক থেকে
শুরু করে
১৯৮০-এর দশকের শুরু
পর্যন্ত শশী
কাপুর প্রাণের
সাথে ৯
টি চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। যার মধ্যে ছিলো-
বিরাদরি(১৯৬৬), চুরি মেরা
কাম,
ফাঁসি, শংকর দাদা, চক্কর পে চক্কর,
রাহু-কেতু(১৯৭৮), মান গয়ে ওস্তাদ। এর আগেও তিনি
শিশুশিল্পী হিসাবে
সংস্কার(১৯৫১) চলচ্চিত্রে প্রাণের
সাথে অভিনয়
করেছিলেন। শশী কাপুর
অভিনেতা অমিতাভ
বচ্চনের সাথে
জুটি বেঁধে
১২ টি
চলচ্চিত্রে অভিনয়
করেছেন। যার মধ্যে
হিট চলচ্চিত্র
ছিলো- রুটি কাপড়া আউর
মকান(১৯৭৪), দিওয়ার(১৯৭৫), কভি কভি(১৯৭৬), ত্রিশূল(১৯৭৮), কালা পাথর(১৯৭৯), সুহাগ(১৯৭৯), দো আউর
দো পাঁচ(১৯৮০), শান(১৯৮০) এবং নমক-হালাল(১৯৮২)। তবে, তাঁদের অভিনীত
ইমান-ধরম(১৯৭৭), সিলসিলা(১৯৮১) এবং অকেলা(১৯৯১) চলচ্চিত্র ফ্লপ
হয়েছিলো ।
সেলিম-জাভেদ রচিত ‘দিওয়ার’ চলচ্চিত্রে শশী
কাপুর একজন
পুলিশ অভিসারের
ভূমিকায় অভিনয়
করেছিলেন এবং
তাঁর ডায়লগ-
‘মেরে পাশ
মা হ্যায়'
বাক্যাংশটি ভারতীয়
সংস্কৃতির জনপ্রিয়
অংশ হয়ে
উঠেছে।
মুক্তি(১৯৭৭), ত্রিশূল(১৯৭৮), মুকদ্দর কা
সিকান্দার(১৯৭৮), স্বয়ম্বর(১৯৮০), সওয়াল(১৯৮২)এবং পাখন্ডি(১৯৮৪) প্রভৃতি প্রশংসিত চলচ্চিত্রে
তিনি সঞ্জীব
কুমারের সাথে
অভিনয় করেছেন। ১৯৮৪ সালে স্ত্রী
জেনিফারের মৃত্যুর
পরে শশী
কাপুরের ওজন
বেড়ে যাওয়াতে
কিছুদিন অভিনয়
থেকে বিরত
ছিলেন। তবে,
১৯৮৫ সালে
রাজেশ খান্না
অভিনীত ‘অলগ অলগ’(১৯৮৫) চলচ্চিত্র-এর মাধ্যমে
তিনি চরিত্র
অভিনেতা হিসাবে
আবার অভিনয়
শুরু করেছিলেন।
শশী কাপুর
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে
অভিনয়ের জন্যও
সুপরিচিত ছিলো। তিনি ব্রিটিশ এবং
অ্যামেরিকান চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেছেন। ইসমাইল মার্সেন্ট এবং
আইভরি মার্সেন্ট
পরিচালিত এবং
প্রযোজিত ‘দি হাউসহোল্ড’(১৯৬৩), শেক্সপিয়ের ওয়াল্লাহ(১৯৬৫), বোম্বে টকি(১৯৭০) এবং হিট এন্ড
ডাস্ট(১৯৮২) চলচ্চিত্রে স্ত্রী জেনিফারের
সাথে অভিনয়
করেছিলেন। জেনিফারের মৃত্যুর
পরে তিনি
‘নিকোলাস মেয়ের'
পরিচালিত দি
ডিসেইভারস(১৯৮৮) এবং টমি
গ্রেবার পরিচালিত
সাইড স্ট্রিট(১৯৯৮) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি অন্যান্য আরও
ব্রিটিশ এবং
অ্যামেরিকান চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেছেন। যার মধ্যে ‘গায় গ্রীন’ পরিচালিত এবং হিলী
মিলস অভিনীত
‘প্রেট্টি পলি’(এ ম্যাটার অফ ইনোসেন্স(১৯৬৭),), কনরাড রকস পরিচালিত
এবং সিমি
গারেয়াল অভিনীত
সিদ্ধার্থ(১৯৭২), স্টিফেন ফ্রিয়ারস
পরিচালিত এবং
ফ্রান্সিস বারবার
অভিনীত ‘সাম্মি এন্ড রোজি
গেট লেইড
(১৯৮৭) এবং ইসমাইল মার্সেন্ট
পরিচালিত এবং
সাবানা আজমি
অভিনীত মাহফুজ(১৯৯৪) প্রভৃতি ইংলিশ চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেছেন। হলিউড এবং ব্রিটিশ
উভয় চলচ্চিত্রে
ব্যাপকভাবে অভিনয়
করা তিনিই
প্রথম ভারতীয়
ছিলেন।
১৯৭৮ সালে
শশী কাপুর
তাঁর নিজস্ব
প্রযোজনা সংস্থা
‘ফিল্ম ভালাস'
গঠন করেছিলেন। প্রযোজনা সংস্থাটি জুনুন(১৯৭৮), কালযুগ(১৯৮১), ৩৬ চৌরংগী লেন(১৯৮১), বিজেতা(১৯৮২) এবং উৎসব(২০০০) প্রভৃতি উচ্চ
প্রশংসতি চলচ্চিত্র
উপহার দিয়েছে। ১৯৯১ সালে তিনি
একটি ফ্যান্টাসি
চলচ্চিত্র আজুবা
পরিচালনা করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে অমিতাভ বচ্চন
এবং তাঁর
ভাতিজা ঋষি
কাপুর অভিনয়
করেছিলেন।
শশী কাপুর
হিন্দী চলচ্চিত্র
শিল্পে দ্বিতীয়
সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকভোগী অভিনেতা ছিলেন। ১৯৭০ সাল
থেকে ১৯৭৫
সাল পর্যন্ত
দেব আনন্দ
এবং ১৯৭৬
সাল থেকে
১৯৮২ সাল
পর্যন্ত বিনোদ
খান্না তৃতীয়
সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকভোগী অভিনেতা ছিলেন। ১৯৭০ সাল
থেকে ১৯৮৭
সাল পর্যন্ত
রাজেশ খান্না
সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকভোগী অভিনেতা ছিলেন। সহ-অভিনেতা বিনোদ
খান্না, অমিতাভ বচ্চন, জিতেন্দ্র, ঋষি কাপুর
এবং রণধীর
কাপুরের চেয়ে
তিনি বেশি
পারিশ্রমিক পেতেন। সঞ্জীব কুমার, প্রাণ এবং ধর্মেন্দ্র
তাঁর সমান
পারিশ্রমিক পেতেন। একমাত্র রাজেশ খান্না
তাঁর চেয়ে
বেশি পারিশ্রমিক
পেতেন।
শশী কাপুর
অভিনেতা রাজেশ
খান্না এবং
সঞ্জীব কুমারকে
তাঁর সমসাময়িক
হিন্দী চলচ্চিত্র
অভিনেতাদের মধ্যে
সবচেয়ে বহুমুখী
অভিনেতা হিসাবে
বিবেচনা করতেন। ১৯৩০ সাল থেকে
২০০০ সাল
পর্যন্ত অশোক
কুমার এবং
প্রাণ হিন্দী
চলচ্চিত্রের সবচেয়ে
বহুমুখী অভিনেতা
ছিলেন বলে
বিবেচনা করতেন
শশী কাপুর
। তিনি তামিল চলচ্চিত্র
অভিনেতা রামচন্দ্রন
এবং শিবাজী
গনেশনকে সন্মান
করতেন। তিনি অমিতাভ
বচ্চনকে রাগন্বিত
যুবক এবং
১৯৭৫ সাল
থেকে ১৯৯৯
সাল পর্যন্ত
বহুমুখী তারকা
এবং ২০০০
সালের পর
থেকে বহুমুখী
অভিনেতা হিসাবে
বিবেচনা করতেন।
অভিনেত্রী নন্দা,
প্রাণ, ধর্মেন্দ্র, দেব আনন্দ,
ইসমাইল মার্সেন্ট,
মনোজ কুমার,
রাজেশ খান্না,
অমিতাভ বচ্চন
এবং সঞ্জীব
কুমার চলচ্চিত্র
শিল্পে শশী
কাপুরের সবচেয়ে
ঘনিষ্টতম বন্ধু
ছিলেন। চলচ্চিত্র শিল্পে
প্রবেশের পর
থেকে যশ
চোপ্রা, এমজিআর, কিশোর কুমার,
মহম্মদ রফী,
লতা মাঙ্গেশকর
এবং তাঁর
সহকর্মীদের সাথে
ঘনিষ্ট সম্পর্ক
রেখে চলতেন।
কাপুর পরিবারের
সবচেয়ে বেশি
প্রচারিত সদস্য
ছিলেন শশী
কাপুর। তিনি ৬১
টি চলচ্চিত্রে
একক নায়ক
হিসাবে অভিনয়
করেছেন। তিনি তাঁর
ভাতিজা ঋষি
কাপুর, রনধীর কাপুরের চেয়ে
বেশি চলচ্চিত্রে
মুখ্য চরিত্রে
অভিনয় করেছেন,
এমনকি তার
জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা
রাজ কাপুর,
শাম্মী কাপুর
এবং ভাতিজা-ভাতিজীর চেয়েও
বেশি চলচ্চিত্রে
অভিনয় করেছেন
।
শশী কাপুর
১৯৮৭ সাল
থেকে অল্প
কয়েকটি চলচ্চিত্রে
চরিত্র অভিনেতা
হিসাবে অভিনয়
করেছেন। তিনি পিয়ার্স
ব্রোসনানের মতো
অভিনেতার সাথে
‘দি ডিচিয়েভারস(১৯৮৮) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
শশী কাপুর
পরিচালক হিসাবে
অভিষেক ‘অজুবা' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের
জন্য অমিতাভ
বচ্চনকে অনুরোধ
করেছিলেন। অমিতাভ বচ্চন
তখন কোনো
নুতন চলচ্চিত্রে
অভিনয় না
করলেও বন্ধুর
অনুরোধে চলচ্চিত্রটিতে
অভিনয়ের জন্য
রাজি হয়েছিলেন। বড় বাজেট এবং
একজন মেগাস্টার
চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়
করলেও চলচ্চিত্রটি
দেশের বক্স
অফিসে তেমন
সফল হতে
পারেনি, তবে বিদেশে হিট
চলচ্চিত্র হিসাবে
বিবেচিত হয়েছিল। তবে চলচ্চিত্রটির
গল্প, অমিতাভ বচ্চন, ঋষি কাপুর, শাম্মী কাপুর এবং
অমরীশ পুরীর
অভিনয় বছরের
পর বছর
ধরে প্রশংসিত
হয়ে আসছে।
শশী কাপুর
১৯৯৩ সালে
কাস্টোডি' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য
একটি জাতীয়
(বিশেষ জুরি
পুরস্কারও অর্জন
করেছিলেন এবং
গুলিভারস ট্রেভেলস(১৯৯৬) টিভি অভিযোজনে রাজার
ভূমিকায় অভিনয়
করেছিলেন।
জিন্নাহ এবং
সাইড ষ্ট্রীটে
অভিনয়ের পরে
১৯৯৮ সালে
তিনি অভিনয়
থেকে অবসর
নিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে
ওম্মানের মাসকাটে
অনুষ্ঠিত শশী
কাপুর ফিল্ম
ফেস্টিভেলে তাঁকে
একবার লাইমলাইটে
দেখা গিয়েছিলো। ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত
৫৫ তম
বাৎসরিক ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার অনুষ্ঠানে
তাঁকে লাইফটাইম
অ্যাচিভমেন্ট ফিল্মফেয়ার
পুরস্কার প্রদান
করা হয়েছে। শশী কাপুর এবং
শ্রীদেবী(২০১৮ সালে ডুবাইতে
মারা গিয়েছেন)কে মরণোত্তরভাবে
৯০ তম
অ্যাকাডেমি পুরস্কারে
সন্মানিত করা
হয়েছে। শুধু এই
দুজন ভারতীয়কেই
মরণোত্তরভাবে অ্যাকাডেমি
পুরস্কারে সন্মানিত
করা হয়েছে। চলচ্চিত্র শিল্পে বিশেষ
অবদানের জন্য
ভারত সরকার
২০১১ সালে
শশী কাপুরকে
পদ্ম ভূষণ
সন্মানে সন্মানিত
করেছেন।
শশী কাপুর
মুম্বাইর মাতুংগার
ডন বস্কো
হাইস্কুলে পড়াশোনা
করেছেন। ১৯৫৬ সালে
ইংরাজ অভিনেত্রী
জেনিফার কেন্ডালের
সাথে তাঁর
সাক্ষাত হয়েছিলো। তখন উভয়ে নিজ
নিজ থিয়েটার
দলের হয়ে
কাজ করছিলেন। শশী কাপুর তাঁর
বাবার থিয়েটার
দল পৃথ্বী
থিয়েটারের মঞ্চ
ব্যবস্থাপকের পাশাপাশি
অভিনেতা ছিলেন। জেফ্রি কেন্ডালের শেক্সপিয়ের
থিয়েটার দল
একই সময়ে
কলকাতায় উপস্থিত
ছিলো। জেনিফার ছিলেন
জেফ্রি কেন্ডালের
মেয়ে। উভয়ে প্রেমে
পড়ে এবং
জেফ্রির বিরোধিতা
সত্ত্বেও ভগ্নীপতি
গীতা বালির
সমর্থনে উভয়ে
১৯৫৮ সালে
বিবাহ বন্ধনে
আবদ্ধ হোন। তাঁরা বিশেষ করে
মার্সেন্ট আইভরির
প্রযোজনায় কয়েকটি
চলচ্চিত্রে একসাথে
অভিনয় করেছিলেন। উভয় দম্পত্তির তিনটি
সন্তান, কুনাল কাপুর, করণ কাপুর এবং
মেয়ে সঞ্জনা
কাপুর। শশী কাপুর
এবং জেনিফার
কেন্ডাল মিলে
ভারতীয় শেক্সপিয়ের
থিয়েটার সংস্থা
‘শেক্সপীয়ারিনা’এবং
ভ্রাম্যমান থিয়েটার
সংস্থা পৃথ্বী
থিয়েটার এক
সাথে একীভূত
করে ১৯৭৮
সালের ৫
নভেম্বরে মুম্বাইয়ে
পৃথ্বী থিয়েটার
নামে একটি
স্থায়ী প্রেক্ষগৃহের
শুভ উদ্বোধন
করেছিলেন। পৃথ্বী থিয়েটারের
সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে
ভারতীয় ডাক
বিভাগ ১৯৯৬
সালে দুই
টাকার ডাক
টিকিট জারি
করেছিল। ডাক টিকিটটিতে
থিয়েটারের লগো
এবং পৃথ্বীরাজ
কাপুরের ফটো
প্রদর্শন করা
হয়েছিল।
১৯৮৪ সালে
কেন্সারে আক্রান্ত
হয়ে জেনিফার
মারা যাওয়ার
পরে শশী
কাপুর হতাশাগ্রস্ত
হয়ে পড়েন
এবং যা
থেকে তিনি
কোনো দিন
মুক্ত হতে
পারেনি। ইংলিশ অভিনেত্রী
ফিলিসিটি কেন্ডাল
তাঁর শ্যালিকা।
শশী কাপুরের
ছেলে-মেয়েরা অভিনয় জগতে
পদার্পণ করেছিলেন
যদিও তাদের
ইউরোপীয় চেহেরা
এবং হিন্দী
উচ্চারণে জটিলতার
জন্য চলচ্চিত্র
শিল্পে অভিনেতা
হিসাবে সফল
ক্যারিয়ার গড়ে
তোলতে পারেনি। তাঁর বড় ছেলে
কুনাল কাপুর
রমেশ সিপ্পির
মেয়েকে বিয়ে
করেছেন। কুনাল কাপুর
চলচ্চিত্র নির্দেশক
এবং তিনি
প্রযোজনা সংস্থা
এডফিল্ম-ভালাস প্রতিষ্ঠা করেছেন। মেয়ে সঞ্জনা থিয়েটারের
সাথে জড়িত
এবং তিনি
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবাদী
ভাল্মিক থাপারের
সাথে বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ
হয়েছেন। তাঁদের ‘হামী’র নামে একটি ছেলে
রয়েছে। ছোট ছেলে
সঞ্জয় মডেলিঙে
সফল হয়ে
লন্ডনে একটি
ফটোগ্রাফি সংস্থা
চালায় ।
বুকে ইনফেকশন
হওয়াতে শশী
কাপুরকে মুম্বাইর
কোকিলাবেন হাসপাতালে
ভর্তি করা
হয়েছিলো এবং
২০১৭ সালের
৪ ডিসেম্বর-এ তিনি উক্ত হাসপাতালে
মারা যান। গার্ডিয়ান পত্রিকার মতে,
লিভার এবং
হার্টের জটিলতার
জন্য তিনি
দীর্ঘদিন হাসপাতালে
ছিলেন এবং
হাসপাতালে থাকাকালীন
তিনি অন্যান্য
রোগীদের সহায়তা
করতেন। তাঁর মৃত্যুর
কারণ লিভার
সিরোসিস বলে
আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা
করা হয়েছিলো।•
সমাপ্ত

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন