পাখির চোখে আসাম এবং আসামের জেলাসমূহ(Assam and it's District)

 

           


            পাখির চোখে আসাম এবং আসামের জেলাসমূহ

   আসাম হল উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি রাজ্য, পূর্ব হিমালয়ের দক্ষিণে, ব্রহ্মপুত্র ও বরাক নদীর উপত্যকায় অবস্থিত। আসামের আয়তন ৭৮,৪৩৮ বর্গকিলোমিটার (৩০,২৮৫ বর্গ মাইল)। এটি আয়তনের দিক থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং জনসংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তম রাজ্য। এর জনসংখ্যা ৩ কোটি ১১ লক্ষেরও বেশি। (২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে) রাজ্যটির উত্তরে ভুটান এবং অরুণাচল প্রদেশ, পূর্বে নাগাল্যান্ড এবং মণিপুর; দক্ষিণে মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম পশ্চিমে শিলিগুড়ি করিডোর এবং বাংলাদেশ। ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত (১৪ মাইল) ফিতার মতো পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডোরটি রাজ্যটিকে ভারতের বাকি অংশের সাথে স্থলভাগের মাধ্যমে সংযুক্ত করেছেঅসমীয়া এবং বড়ো হল সমগ্র রাজ্যের দুটি সরকারি ভাষা বরাক উপত্যকা এবং হোজাই জেলায় মেইতেই (মণিপুরী) ভাষা অতিরিক্ত সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। হোজাই জেলা এবং বরাক উপত্যকা অঞ্চলে অসমিয়ার পাশাপাশি বাংলা অতিরিক্ত সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃত

   আসাম রাজ্যে ৩৫টি জেলা এবং ৫টি বিভাগ রয়েছে। গুয়াহাটি(রাজ্যের রাজধানী দিশপুর নিয়ে গঠিত) উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃহত্তম শহর। আসাম তার চা এবং রেশমের জন্য সুপরিচিত। এই রাজ্যটি এশিয়ার প্রথম তেল খনন কেন্দ্র হিসেবেও জনাজাত আসাম এক শৃঙ্গযুক্ত ভারতীয় গণ্ডারের আবাসস্থল, বন্য মহিষ, পিগমি হগ, বাঘ এবং বিভিন্ন প্রজাতির এশীয় পাখিরও আবাসস্থলবন্যপ্রাণী প্ৰাণীর আবাসস্থল কাজিরঙ্গা জাতীয় উদ্যান এবং মানস জাতীয় উদ্যান প্ৰভৃতি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলি পর্যটনের কেন্দ্র পর্যটন কেন্দ্রগুলি আসামের অর্থনীতিতে প্রভূত সাহায্য করে ডিব্রু-সৈখোয়া জাতীয় উদ্যান বন্য ঘোড়ার জন্য বিখ্যাত। রাজ্যে শাল গাছের বন পাওয়া যায়, যেগুলি প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে সারা বছরই সবুজ দেখায়। ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চলের তুলনায় আসামে বেশি বৃষ্টিপাত হয়; এই বৃষ্টির পানি ব্রহ্মপুত্র নদে পানি সরবরাহ করে, যার উপনদী এবং বিলগুলি এই অঞ্চলকে একটি স্বতন্ত্র জল-ভূ-রূপক পরিবেশ প্রদান করে

   ভারত সরকারের একতরফাভাবে রাজ্যের সীমানা পরিবর্তন করার ক্ষমতা রয়েছে১৯৭০ সাল থেকে তৎকালীন আসামের সীমানার মধ্যে আসামকে কয়েকটি রাজ্যে বিভক্ত করেছে১৯৬৩ সালে নাগালেণ্ডকে ভারতের ১৬তম রাজ্যে পরিণত করেছেটোয়েন সাং-এর কিছু অংশ নাগাল্যান্ডের সাথে যুক্ত করা হয়েছিল। ১৯৭০ সালে মেঘালয় মালভূমির খাসি, জয়ন্তিয়া এবং গারো জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে, খাসি পাহাড়, জয়ন্তিয়া পাহাড় এবং গারো পাহাড় প্রভৃতি জেলাগুলিকে আসামের একটি স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যে পরিণত করা হয় ১৯৭২ সালে এটিকে মেঘালয় নামে একটি পৃথক রাজ্যে পরিণত করা হয়। ১৯৭২ সালে অরুণাচল প্রদেশ এবং মিজোরামকে আসাম থেকে পৃথক করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিলো; পরে উভয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ১৯৮৬ সালে রাজ্যে পরিণত করা হয়।

   স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আসামের পুনর্গঠনের পর থেকে, সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত উত্তেজনা এবং সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে জাতিগত ভিত্তিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমত্বের দাবি বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে আসামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে ১৯৬১ সালে আসাম সরকার অসমীয়া ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে আইন পাস করে। তবে কাছাড়ের বাংলাভাষী জনগণের চাপে পরে এটি প্রত্যাহার করা হয়। ১৯৮০-এর দশকে  ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ছয় বছর ব্যাপী আসাম আন্দোলন শুরু হয়এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিলো, প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে আসামে প্রবেশ করা বিদেশীদের চিহ্নিত করে তাদের বহিষ্কার করা এবং আদিবাসী অসমিয়া(?) সংখ্যাগরিষ্ঠদের জন্য সাংবিধানিক, আইনী, প্রশাসনিক এবং সাংস্কৃতিক সুরক্ষা প্রদান করার জন্য সরকারকে বাধ্য করানোর চেষ্টা করা ছবছর আন্দোলনের পর আন্দোলনের নেতা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি(১৯৮৫ সালের আসাম চুক্তি)স্বাক্ষরিত হয় কিন্তু সেই আসামচুক্তি এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি, যার ফলে আদিবাসী অসমিয়া(?)র মধ্যে তীব্র অসন্তোষ রয়ে গেছে

   ১৯৭৯ সালে ৭ এপ্ৰিলে ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ আসাম (উলফা) এবং ১৯৯৪ সালে ২৫ নভেম্বরে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অফ বড়োল্যান্ড (এনডিএফবি) এর মতো সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির উত্থান ঘটে। ১৯৯০ সালের নভেম্বরের ২৭ তারিখে ভারত সরকার আসামে ভারতীয় সেনাবাহিনী মোতায়েন করে এবং ২৮ নভেম্বরে ৰাষ্ট্ৰপতি শাসন জারি করে, যার পরে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সামরিক সংঘাত এবং রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড অব্যাহত ছিলোসাম্প্রতিক সময়ে, জাতিগত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আদিবাসী অসমীয়া(?) সম্প্রদায়ের উন্নয়নের গতি ধীর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এবং সম্প্রদায়ের বিক্ষোভের ফলে আসামে পঞ্চায়েতি রাজ আইন কার্যকর করা হয়েছে।

   আসামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য হল, এটি ভারতের ছয়টি ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগের মধ্যে তিনটি নিয়ে গঠিত যথা- উত্তর হিমালয়, উত্তর সমভূমি (ব্রহ্মপুত্র সমভূমি) এবং দাক্ষিণাত্য মালভূমি(কার্বি আংলং)। আসামে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রবাহিত হওয়ায় এখানকার জলবায়ু ঠান্ডা এবং বর্ষা ঋতুর বেশিরভাগ সময় বৃষ্টিপাত হয়। ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, আসামের জীবনরেখা ব্রহ্মপুত্র নদ, হিমালয়ের চেয়েও প্রাচীন একটি নদী যা আবহমান কাল থেকে আসামের বুক চিরে বয়ে চলেছে। দক্ষিণে, বরাক নদী বরাইল পর্বতমালা (আসাম-নাগাল্যান্ড সীমান্ত) থেকে উৎপন্ন হয়ে কাছাড় জেলার মধ্য দিয়ে ২৫-৩০ মাইল (৪০-৫০ কিমি) প্রশস্ত উপত্যকা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং সুরমা নদী নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে

   নগর কেন্দ্রগুলির মধ্যে রয়েছে গুয়াহাটি, যা বিশ্বের ১০০টি দ্রুত বর্ধনশীল শহরের মধ্যে একটি।গুয়াহাটি "উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার" নামেও পরিচিত। শিলচর (বরাক উপত্যকায় অবস্থিত) আসামের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল শহর এবং ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। অন্যান্য বৃহৎ শহরগুলির মধ্যে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পের কেন্দ্র ডিব্রুগড় রয়েছেব্যবসায়ের কেন্দ্র প্রাচীন শহর ধুবরিধুবরি ১৮৮৩ সালে ব্ৰিটিশের শসনামলে মিউনিসিপাল বোৰ্ড হিসাবে আত্মপ্ৰকাশ করেছিলো।

   জলবায়ু- গ্রীষ্মমন্ডলীয় মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে  আসাম নাতিশীতোষ্ণ(গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৯৫-১০০ °ফা0 বা ৩৫-৩৮ °সে এবং শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪৩-৪৬ °ফা বা ৬-৮ °সে) এবং এখানে ভারী বৃষ্টিপাত এবং উচ্চ আর্দ্রতা অনুভূত হয়। জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হল, ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাত, যা গ্রীষ্মের তাপমাত্রা হ্রাস করে এবং শীতকালে রাত কুয়াশাচ্ছন্ন থাকে বসন্ত (মার্চ-এপ্রিল) এবং শরৎ (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) সাধারণত মাঝারি বৃষ্টিপাত হয় এবং তাপমাত্রা মনোরম থাকে। আসামের কৃষিকাজ সাধারণত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভরশীলএখন কোন কোন অঞ্চলে অগভীর নলীনাদের জরিয়তে কৃষিকাজ করা হচ্ছে

      বন্যা:- গ্রীষ্মকালে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ব্রহ্মপুত্র এবং বরাকের মতো নদীগুলি উপচে পড়ে, যা আসাম জুড়ে ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি করে। ক্রমবর্ধমান জলস্তর বৃদ্ধির ফলে আশেপাশের এলাকাগুলিকে ডুবিয়ে দেয়, ঘরবাড়ি, গবাদি পশু ভেসে যায় এবং সেতু, রেলপথ এবং রাস্তার মতো অবকাঠামোর বিস্তর ক্ষতি সাধন হয়, যার ফলে অনেক অঞ্চলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে প্রতি বছর রাজ্য ব্যাপী অসংখ্য প্রাণহানি ঘটে ও বিস্তর শস্যহানি হয়

   প্রাণীজগৎ:- একশৃঙ্গ গণ্ডার ও বিপন্ন সোনালী ল্যাঙ্গুর সমৃদ্ধ কাজিরঙ্গা জাতীয় উদ্যান এবং সংরক্ষিত বন হিসাবে সুরক্ষিত।

   আসামে দুটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল- ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে অবস্থিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান এবং ভুটান সীমান্তের সমীপে অবস্থিত মানস বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। কাজিরাঙ্গা দ্রুত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ভারতীয় একশৃঙ্গ গন্ডারের আশ্রয়স্থল। এই রাজ্যটি অসংখ্য বিপন্ন এবং বিপন্নপ্রায প্রজাতির শেষ আশ্রয়স্থল, যার মধ্যে রয়েছে সাদা ডানাওয়ালা দেওহাঁস, বেঙ্গল ফ্লোরিকান, কালো ব্রেস্টেড প্যারটবিল, লাল মাথাওয়ালা শকুন, সাদা-রাম্পড শকুন, গ্রেটার অ্যাডজুট্যান্ট, জর্ডনের ব্যাবলার, রুফাস-নেকড হর্নবিল লো, ভারতীয় হগ হরিণ, হুলক গিবন, সোনালী ল্যাঙ্গুর, ক্যাপড ল্যাঙ্গুর, বারাসিঙ্গা, গঙ্গা নদীর ডলফিন, বার্সা স্নেকহেড, গঙ্গার হাঙর, বার্মিজ পাইথন, ব্রাহ্মণ নদীর কচ্ছপ, কালো পুকুরের কচ্ছপ, এশিয়ান বনের কাছিম এবং আসামের ছাদওয়ালা কচ্ছপ। আসামে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির মধ্যে রয়েছে ঘড়িয়াল, একটি অত্যন্ত বিপন্ন মাছ-খাওয়া কুমির এবং গোলাপী মাথাওয়ালা হাঁস (যা বিশ্বব্যাপী বিলুপ্ত হতে চলেছে)আসামে আরও তিনটি জাতীয় উদ্যান রয়েছে যথা ডিব্রু সৈ-খোয়া জাতীয় উদ্যান, নামেরি জাতীয় উদ্যান এবং ওরাং জাতীয় উদ্যান।

          আসাম পিগমি হগ, বাঘ এবং অসংখ্য প্রজাতির পাখির সাথে বিলুপ্তপ্ৰায় একশৃঙ্গ ভারতীয় গণ্ডারের আশ্রযস্থলকাজিরাঙ্গা এবং মানস উভয়ই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। রাজ্যে শালবন এবং বনজ সম্পদ রয়েছে, যা পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় অনেকটা কমে গেছে। উচ্চ বৃষ্টিপাতের দেশ আসামে প্রায় বারমাস সবুজের সমারোহ থাকেব্রহ্মপুত্র নদীর উপনদী এবং বিলসমূহ এই অঞ্চলকে জল-ভূ-রূপক পরিবেশ প্রদান করেছে

   এই রাজ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বন্য জলহস্তী রয়েছে।ভারতের মধ্যে এই রাজ্যে পাখির বৈচিত্র্য সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৮২০ প্রজাতির পাখি রয়েছে এই রাজ্যেউপ-প্রজাতির সাথে এই সংখ্যাটি ৯৪৬ পর্যন্ত দাঁড়ায়রাজ্যে প্রায় ১৯০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে উদ্ভিদকূল আর্কিডের ক্ষেত্রেও আসাম বৈচিত্রময়ভারতে পাওয়া আনুমানিক ১,৩১৪টি অর্কিড প্রজাতির মধ্যে ৫০০টিরও বেশি রয়েছে আসামে

   আসামে পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, চুনাপাথর এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র খনিজ পদার্থ যেমন রয়েছে, তোমন চৌম্বকীয় কোয়ার্টজাইট, কাওলিন, সিলিমানাইট, কাদামাটি এবং ফেল্ডস্পারও রয়েছে।পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে অল্প পরিমাণে লৌহ আকরিক পাওয়া যায়।১৮৮৯ সালে আবিষ্কৃত পেট্রোলিয়াম-গ্যাস আপার আসামে অবস্থিত। সাম্প্রতিক মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপে(USGS) এক হিসাব অনুযায়ী, আসাম রাজ্যে ৩৯৯ মিলিয়ন ব্যারেল (৬৩,৪০০,০০০ ঘনমিটার) তেল, ১.১৭৮ বিলিয়ন ঘনফুট (৩.৩৪×১০১০ ঘনমিটার) গ্যাস এবং ৬৭ মিলিয়ন ব্যারেল (১০,৭০০,০০০ ঘনমিটার) তরল প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ রয়েছে।

   এই অঞ্চলটি বার্ষিক বন্যা এবং ঘন ঘন হালকা ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। ১৮৬৯ ১৮৯৭ সালে শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হয়ে গেছে।

   জনসংখ্যা- ২০০১ সালে আসামের মোট জনসংখ্যা ছিল ২ কোটি ৬৬ লক্ষ ৬৬ হাজার এবং পরিবার ছিলো ৪৯ লক্ষ ১০ হাজারকামরূপ, নগাঁও, শোণিতপুর, বরপেটা, ধুবড়ি, দরং এবং কাছাড় জেলায় জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, আসামের মোট জনসংখ্যা ছিল ৩১,১৬৯,২৭২ জনগত দশ বছরে রাজ্যের মোট জনসংখ্যা ,৬৬,৩৮,৪০৭ থেকে বেড়ে ৩১,১৬৯,২৭২ হয়েছে, অৰ্থাৎ যার বৃদ্ধির হার ১৬.৯৩%।

   ৩৩টি জেলার মধ্যে, ধুবরি, গোয়ালপাড়া, বরপেটা, মরিগাঁও, নগাঁও এবং হাইলাকান্দিতে গত দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২০ শতাংশ থেকে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে শিবসাগর এবং যোরহাটে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ৯ শতাংশ। এই দুই জেলার সাথে কোনও আন্তর্জাতিক সীমানা নেই।

   সাক্ষরতা- ২০১১ সালে রাজ্যে সাক্ষরতার হার ছিল ৭৩.১৮%। যেখানে পুরুষদের সাক্ষরতার হার ছিল ৭৮.৮১% এবং মহিলাদের সাক্ষরতার হার ছিল ৬৭.২৭%।২০০১ সালের আদমশুমারি অনুসারে আসামের সাক্ষরতার হার ছিল ৬৩.৩%, যেখানে পুরুষদের সাক্ষরতার হার ছিলো ৭১.৩% এবং মহিলা সাক্ষরতার হার ছিলো ৫৪.৬%

   জনসংখ্যা বৃদ্ধি- বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি দশক থেকে আসামে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেড়েছে। ১৯০১ সালে জনসংখ্যা ছিলো ৩.২৯ মিলিয়ন, এই সংখ্যা বেড়ে ১৯৪১ সালে ৬.৭০ মিলিয়নে উন্নীত হয়েছিলো১৯৭১ সালে তা বেড়ে ১৪.৬৩ মিলিয়ন এবং ১৯৯১ সালে ২২.৪১ মিলিয়নে উন্নীত হয়।পশ্চিম ও দক্ষিণের জেলাগুলিতে পূর্ব পাকিস্তান( বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে প্রব্রজন করে আশা বিপুল সংখ্যক অবৈধ অভিবাসীর কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়

   ধর্ম- হিন্দুধর্ম ৬১.৪৭(৬১.৫%) ইসলাম ৩৪.২২(৩৪.২%) খ্রিস্টধর্ম ৩.৭৪(.৭৪%) বৌদ্ধধর্ম 0.১৮(0.১৮%) কোন ধর্মীয় নয় .১৬ (0.১৬%) উপজাতীয় ধর্ম 0.0 (0.0৯%) জৈনধর্ম 0.0 (0.0৮%) শিখধর্ম 0.0৭ (0.0%)

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, ৬১.৪৭% হিন্দু এবং ৩৪.২২% মুসলিম ছিল এবং খ্রিস্টান ছিলো (৩.৭%)আসামে তফসিলি উপজাতির জনসংখ্যা প্রায় ১৩%, যার মধ্যে বড়োরা ৪০%।অন্যান্য ধর্মের মধ্যে রয়েছে জৈন ধর্ম (০.১%), বৌদ্ধ ধর্ম (০.২%), শিখ ধর্ম (০.১%) হিন্দুধর্মের তিনটি জনপ্রিয় সম্প্রদায়, যথা, শৈবধর্ম, শক্তিধর্ম এবং বৈষ্ণবধর্ম এখানে প্রচলিত। অনেক অসমীয়া হিন্দু হিন্দুধর্মের একসরণ ধর্ম সম্প্রদায়েরও অনুসারী।

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে ধৰ্মীয় বৈচিত্ৰ- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে আসামহিন্দু (১৯,১৮০,৭৫৯), মুসলিম (১০,৬৭৯,৩৪৫), খ্রিস্টান(১,১৬৫,৮৬৭) বৌদ্ধ (৫৪,৯৯৩) জৈন (২৫,৯৪৯) শিখ (২০,৬৭২) অন্যান্য ধর্ম (২৭,১১৮) ধর্ম অঘোষিত ৫০,৮৭৩ মোট ৩১,২০৫,৫৭৬ জন।

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে আসামের ৩২টি জেলার মধ্যে নয়টি জেলা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। জেলাগুলি হল ধুবড়ি, গোয়ালপাড়া, বরপেটা, মরিগাঁও, নগাঁও, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি, দরং এবং বঙ্গাইগাঁও।

   ভাষাগত জনসংখ্যা- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে আসামে অসমীয়া ভাষী ১,৫০,৯৭,২৫৭ জন, বাংলাভাষী ৯০,২৪,৬৫২ জন, বড়োভাষী ১৪,০৭,৩৭১ জন হিন্দিভাষী ১০,০১,৬৯৮ জন1, সাদ্ৰিভাষী ৭,১৪,৬০৭ জন মিশিংভাষী ,১৭,৮৭০ জন, নেপালিভাষী ,৯৬,০২৬ জন, কার্বিভাষী ,১১,৭৭১ জন,এবং অন্যান্য ২২,৩৪,৩১৯জন মোট ৩,১২,০৫,৫৭৬জন

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, আসামে মোট ২ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষ অসমিয়া ভাষায় কথা বলে, যার মধ্যে ১ কোটি ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ মাতৃভাষা হিসেবে অসমীয়া ভাষা ব্যবহার করে যদিও আসামে অসমিয়া ভাষাভাষীর সংখ্যা বেড়ছে, তবুও মাতৃভাষা হিসেবে অসমিয়া ভাষা ব্যবহার করে এমন জনসংখ্যা কিছুটা কমেছেঅসমীয়া এই অঞ্চলের প্রথম ভাষা এবং জনসংখ্যার ৭১% এরও বেশি লোক অসমিয়ায় কথা বলে, যেখানে ৪৮.৩৮% লোক অসমিয়াকে তাদের মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহার করে। ২০১৬ সালের আসাম বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে যে, আসামে ১ কোটি মানুষ তাদের মাতৃভাষা হিসেবে অসমিয়া ভাষায় কথা বলে, যা ২০১১ সালের আদমশুমারির তুলনায় কম

   আসামে প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষ বিভিন্ন বাংলা উপভাষায় কথা বলে। তবে, বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা আদমশুমারির ফলাফলের চেয়ে বেশি বলে অনুমান করা হয়, কারণ ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী আসামের ৩৪.২২% মুসলিম জনসংখ্যার ৩০% তাদের মাতৃভাষা হিসেবে বাংলার বিভিন্ন উপভাষায় কথা বলে বলে মনে করা হব্রহ্মপুত্র উপত্যকার প্রধান বাংলা উপভাষা হল ময়মনসিংহীয়া (বর্তমানে বাংলাদেশে), অন্যদিকে বরাক উপত্যকা এবং হোজাই জেলার প্রধান উপভাষা হলো সিলেটি। বড়ো ভাষা তৃতীয় সর্বাধিক কথ্য ভাষা, তারপরে হিন্দি চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

   আসাম সরকারের ২০১১ সালের আদমশুমারি রিপোর্ট অনুসারে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার জনসংখ্যা ২,৭৫,৮০,৯৭৭ জন। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সরকারি ভাষা হল অসমিয়া এবং উপত্যকার জনসংখ্যার ৫৫.৬৫% অর্থাৎ ১ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ অসমিয়া ভাষায় কথা বলে। উপত্যকার ৬০.০৯ মিলিয়ন মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে, ২.১ মিলিয়ন মানুষ হিন্দি ভাষায় কথা বলে বড়ো ভাষায় কথা বলে ১.৪১ মিলিয়ন মানুষ। ২.৯৮ মিলিয়ন মানুষ মিশিং, কোচ, রাজবংশী, গারো, ডিমাসা, গোর্খা, হালাম, আও এবং মটক ভাষায় কথা বলে

   প্ৰশাসনিক বিভাগ- ২০২৪ সালের হিসাব অনুসারে ভারতের আসাম রাজ্যটি ৩৫টি প্রশাসনিক জেলায় বিভক্ত। ২০১১ সালের আদমশুমারির হিসেবে, জেলা অনুসারে আসামেজনসংখ্যা-

   1. বক্সা 950,075

   2. বরপেটা 1,693,622

   3. বঙ্গাইগাঁও 738,804

   4. কাছাড় 1,736,617

   5. চড়াইদেও 471,418

   6. চিরাং 482,162

   7. দরং 928,500

   8. ধেমাজি 686,133

   9. ধুবড়ি 1,949,258

   10. ডিব্রুগড় 1,326,335

   11. ডিমা হাসাও 214,102

   12. গোয়ালপাড়া 1,008,183

   13. গোলাঘাট 1,066,888

   14. যোরহাট 1,092,256

   15. কামরূপ মেট্রোপলিটন 1,253,938

   16. কামরূপ 1,517,542

   17. কার্বি আংলং 956,313

   18. করিমগঞ্জ 1,228,686

   19. কোকরাঝাড় 887,142

   20. লখিমপুর 1,042,137

   21. মাজুলি 1,67,304

   22. মরিগাঁও 9,57,423

   23. নগাঁও 2,823,768

   24. নলবাড়ি 771,639

   25. শিবসাগর 1,151,050

   26. সোনিতপুর 1,924,110

   27. দক্ষিণ সালমারা- মানকাচর 457918

   28. তিনসুকিয়া 1,327,929

   29. উদালগুড়ি 831,668

   30. পশ্চিম কার্বি আংলং 295,358

   31. বিশ্বনাথ 612,491

   32. হোজাই 931,218

   33. বজালি 324,739

   34. তামুলপুর 389,150

   35. হাইলাকান্দি 33,637

   বিভাগ অনুসারে বিভাগীয় অফিস, জেলা এবং জনসংখ্যা

   বিভাগের নাম              বিভাগীয় অফিস       জেলাসমূহ                           জনসংখ্যা         

বরাক উপত্যকা-  শিলচর-    কাছাড়, হাইলাকান্দি, এবং করিমগঞ্জ-             36,12,581

মধ্য আসাম এবং পার্বত্য জেলা-     নগাঁও-     ডিমা হাসাও, হোজাই, কার্বি আংলং, পশ্চিম কার্বি আংলং, মরিগাঁও এবং নগাঁও-       5,894,460

নিম্ন আসাম-গুয়াহাটি- বাক্সা, বরপেটা, বাজালি, বোঙ্গাইগাঁও, চিরাং, ধুবরি, গোয়ালপাড়া, নলবাড়ি, কামরুপ মেট্রোপলিটন, কামরুপ গ্রামীণ, কোকরাঝাড়, এবং দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর, তামুলপুর- 13,179,980

উত্তর আসাম-তেজপুর-   বিশ্বনাথ, দারাং, সোনিতপুর এবং উদালগুড়ি-    4,246,834

উচ্চ আসাম-   যোরহাট-    চরাইদেও, ধেমাজি, ডিব্রুগড়, গোলাঘাট, জোড়হাট, লখিমপুর, মাজুলি, শিবসাগর এবং তিনসুকিয়া- ৭,৮৪০,৯৪৩

 

   প্রস্তাবিত বিভাগ (নতুন)

   বিভাগের নাম                বিভাগীয়                    অফিস জেলাসমূহ

   আসাম পাহাড়--           ডিফু--                 ডিমা হাসাও, কার্বি আংলং এবং পশ্চিম কার্বি আংলং

   বরাক উপত্যকা--         শিলচর--                কাছাড়, হাইলাকান্দি, করিমগঞ্জ

   বডোল্যান্ড--          কোকরাঝার--                বাক্সা, চিরাং, কোকরাঝাড় এবং উদালগুড়ি

   মধ্য আসাম--            নগাঁও--                হোজাই, মরিগাঁও এবং নগাঁও

   কামরুপ--  গুয়াহাটি--দরং, পূর্ব কামরুপ, কামরুপ মেট্রোপলিটন, কামরুপ গ্রামীণ, এবং দক্ষিণ কামরুপ

   নিম্ন আসামের--বঙ্গাইগাঁও- বরপেটা, বাজালি, বঙ্গাইগাঁও, ধুবরি, গোয়ালপাড়া, নলবাড়ি এবং দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর

   উত্তর আসাম--  তেজপুর-- বিশ্বনাথ, লখিমপুর এবং সোনিতপুর

   উচ্চ আসাম-- যোরহাট- চরাইদেও, ধেমাজি, ডিব্রুগড়, গোলাঘাটযোড়হাট, মাজুলি, শিবসাগর এবং তিনসুকিয়া

১৯৯৪ সালের আসাম পঞ্চায়েত আইনের মাধ্যমে আসামে তিন স্তরের পঞ্চায়েতিরাজ ব্যবস্থা চালু হয়েছে:- গাঁও পঞ্চায়েত (গ্রাম স্তর), আঞ্চলিক পঞ্চায়েত (ব্লক স্তর) এবং জেলা পরিষদ (জেলা স্তর)।

      মূল আইন:

   ১৯৯৪ সালের আসাম পঞ্চায়েত আইন, তিন স্তরের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে।

   ১৯৮৬ সালের আসাম পঞ্চায়েত আইন, একটি তিন স্তরের ব্যবস্থাও চালু করে, তবে জেলা পরিষদের পরিবর্তে মহকুমা পরিষদের সাথে।

      কার্যাবলী এবং দায়িত্ব:

   অঞ্চলিক পঞ্চায়েতগুলি গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য তহবিল গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে প্রেরণের জন্য দায়ী।

   জেলা পরিষদগুলি গ্রামীণ এবং শহর উভয় অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে জেলার জন্য সমন্বিত বার্ষিক পরিকল্পনা তৈরি করে।

   নির্বাচন:

   ত্রি-স্তরের পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থার জন্য নির্বাচন প্রতিটি স্তরে প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য অনুষ্ঠিত হয়।

   স্বায়ত্তশাসিত জেলা:

   স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের আওতাধীন ৬টি জেলায় পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই।

   সাম্প্রতিক সংস্কার:

   আসাম সরকার জেলা পরিষদ এবং আঞ্চলিক পঞ্চায়েতের নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রতীক প্রবর্তনের প্রস্তাব করেছে, কিন্তু জিপি নির্বাচনের জন্য নয়।

   আসামের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে। আসামের গ্রামগুলিতে বহু আগে থেকেই বিভিন্ন নামে বা রূপে শক্তিশালী পঞ্চায়েত ছিল। আসাম ছিল ভারতের অন্যতম অগ্রণী রাজ্য যারা পঞ্চায়েত আইন প্রণয়ন করে এবং ১৯৪৮ সালে আসাম গ্রামীণ পঞ্চায়েত আইন পাস করার সময় রাজ্যে পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠা করেএই আইনটি সংশোধন করে ১৯৫৯ সালে আসাম পঞ্চায়েত আইন, ১৯৭২ সালের আসাম পঞ্চায়েতিরাজ আইন, ১৯৮৬ সালের আসাম পঞ্চায়েত আইন  এবং ভারতের সংবিধানের ৭৩তম সংশোধনী আইন, ১৯৯২ এর বিধানগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে অবশেষে ১৯৯৪ সালের আসাম পঞ্চায়েত আইন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়আসাম পঞ্চায়েত আইন, ১৯৯৪, ২২শে এপ্রিল ১৯৯৪ সালে রাজ্যপালের সম্মতি লাভ করে এবং ১৯৯৬ সালের অক্টোবরে রাজ্যে গ্রাম, আঞ্চলিক এবং জেলা পর্যায়ে ত্রি-স্তরীয় পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

   আসামের পিআরআইগুলির একটি ত্রি-স্তরীয় ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রাম পর্যায়ের গাঁও পঞ্চায়েত (জিপি) হল মূল একক, অন্যদিকে মধ্যম স্তরে ব্লক পর্যায়ের আঞ্চলিক পঞ্চায়েত (এপি) এবং শীর্ষ স্তরে জেলা পরিষদ (জেডপি) অন্তর্ভুক্ত। প্রকৃতপক্ষে, আঞ্চলিক পঞ্চায়েতগুলি হল সেই পথ যার মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য বেশিরভাগ তহবিল গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে সবরাহ করা হয়।অনেক প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন তহবিল সরাসরি কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার দ্বারা জেলা পর্যায়ের গ্রাম পঞ্চায়েত এবং জেলা পরিষদগুলিতে প্রেরণ করা হয়। শীর্ষস্থানীয় পিআরআই স্তরটি জেলা পরিকল্পনা কমিটি(ডিপিসি) মাধ্যমে গ্রামীণ এবং শহরাঞ্চলের জন্য সমন্বিত বার্ষিক পরিকল্পনা তৈরির জন্য দায়ী। কিন্তু এখন পর্যন্ত উন্নয়নের বার্ষিক পরিকল্পনা তৈরিতে তাদের প্রধান ভূমিকা সম্পর্কে প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং বোধগম্যতার অভাবের কারণে বিভিন্ন বিভাগ এই ভূমিকা পালন করে আসছে।

   পিআরআই(পঞ্চায়তী রাজ ইনস্টিটিউশন)এচেয়ার পার্সনের সংখ্যা

   জেলা পরিষদ- 21

   আঞ্চলিক পঞ্চায়েত- 185

    গাঁও পঞ্চায়েত- 2201

   রাজ্যে মোট নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং চেয়ারপারসনের সংখ্যা

   জেলা পরিষদ প্রতিনিধি-    420    চেয়ার পার্ছন      21

   আঁচালিক পঞ্চায়েত প্রতিনিধি- 2201   চেয়ার পার্ছন     185

   গাঁও পঞ্চায়েত প্রতিনিধি-   24,222   চেয়ার পার্ছন     2201

   ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবরের সংশোধনী প্ৰস্তাব অনুসারে আসামের গাঁও পঞ্চায়েতের তালিকা-

   আসামে ৩৫টি জেলা রয়েছে এবং এর প্রশাসনিক কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটছে। আসামে বর্তমানে মোট ২,১৯৭টি গাঁও পঞ্চায়েত রয়েছে। তবুও, ৮ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঘোষিত সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়ার পর এই সংখ্যা শীঘ্রই ২,১৯৩-এ নেমে আসবে।

   ছয়টি তফসিলি জেলা ছাড়া রাজ্যের সমস্ত জেলাকে এই সীমানা নির্ধারণের আওতায় আনা হবে:- বডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল, ডিমা হাসাও স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ এবং কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ।

   বডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল এবং কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদে গাঁও পঞ্চায়েতের পরিবর্তে গ্রাম পরিষদ উন্নয়ন কমিটি (ভিসিডিসি) রয়েছে।

   আসামের গাঁও পঞ্চায়েত তালিকা ২০২৫ সালের অনুসারে যা ২,১৯৭টি গাঁও পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত, নিচে দেওয়া হল।

    জেলা হিসাবে গাঁও পঞ্চায়েতের সংখ্যা

   1. বরপেটা 129

   2. কামরূপ (M) 21

   3. কামরূপ পল্লী 139

   4. দরং 75

   5. নলবাড়ি 65

   6. গোয়ালপাড়া 81

   7. ধেমাজি 65

   8. হোজাই 67

   9.মাজুলি 20

   10. বনগাইগাঁও 65

   11. মরিগাঁও 85

   12. হাইলাকান্দি 62

   13. নগাঁও 172

   14. চড়ইদেও 36

   15. ডিব্রুগড় 93

   16. জোড়হাট 110

   17. গোলাঘাট 102

   18. শিবসাগর 82

   19. ধুবড়ি 132

   20. দক্ষিণ সালামারা মানকচার 35

   21. লখিমপুর 81

   22. তিনসুকিয়া 85

   23. করিমগঞ্জ 95

   24. সোনিতপুর 82

   25. কাছাড় 163

   26. বিশ্বনাথ 76

   বিধান সভা- আসাম বিধানসভা হল ভারতের আসাম রাজ্যের এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা। এটি ভৌগোলিকভাবে বর্তমান এটি পশ্চিম আসাম অঞ্চলে আসামের রাজধানী দিসপুরে অবস্থিত। এই বিধানসভায় ১২৬ জন বিধানসভা সদস্য রয়েছেন, যারা একক আসনের নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি নির্বাচিত হন। এর মেয়াদ পাঁচ বছর, যদি কোন কারণ বশতঃ আগে না ভেঙে দেওয়া হয়।

      ইতিহাস- ১৯৩৭ সালের ৭ এপ্রিল প্রথম প্রতিষ্ঠার সময় আসাম বিধানসভার নির্বাচনী এলাকার সংখ্যা ছিল ১০৮। ১৯৫৭ সালে তা কমিয়ে ১০৫ করা হয়। ১৯৬২ সালে, নির্বাচনী এলাকার সংখ্যা আবার ১১৪-এ উন্নীত করা হয় এবং ১৯৭২ সাল থেকে তা ১২৬ আসন বিশিষ্ট বিধান সভায় উন্নীত হয়। ১৯৭৬ সাল থেকে, ৮টি নির্বাচনী এলাকা তফসিলি জাতি প্রার্থীদের জন্য এবং ১৬টি নির্বাচনী এলাকা তফসিলি উপজাতি প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। কামরূপ মহানগর জেলার দিসপুর নির্বাচনী এলাকা বর্তমান ৩.৫৩ লক্ষ ভোটার নিয়ে আসামের বৃহত্তম নির্বাচনী এলাকা।

 

   নির্বাচনী এলাকা-১৯৭৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের পর থেকে আসাম বিধানসভার নির্বাচনী এলাকার তালিকা নিচে দেওয়া হল।

   জেলা ভিত্তিক নির্বাচনী এলাকা

   1 রাতাবাড়ী (SC), করিমগঞ্জ 1,73,974 করিমগঞ্জ

   2 পাথরকান্দি, করিমগঞ্জ 1,91,022 করিমগঞ্জ

   3 করিমগঞ্জ, উত্তর করিমগঞ্জ 1,99,784 করিমগঞ্জ

   4 করিমগঞ্জ, দক্ষিণ করিমগঞ্জ 1,91,328 করিমগঞ্জ

   5 বদরপুর, করিমগঞ্জ 1,62,536 করিমগঞ্জ

   6 হাইলাকান্দি, হাইলাকান্দি 1,63,505 করিমগঞ্জ

   7 কাটলিছড়া, হাইলাকান্দি 1,80,247 করিমগঞ্জ

   8 আলগাপুর, হাইলাকান্দি 1,63,204 করিমগঞ্জ

   9 শিলচর কাছাড়, 2,34,821 শিলচর

   10 সোনাই কাছাড়, 1,84,450 শিলচর

   11 ধোলাই (SC), কাছাড় 1,91,374 শিলচর

   12 উদরবন্দ, কাছাড় 1,64,213 শিলচর

   13 লক্ষীপুর, কাছাড় 1,66,933 শিলচর

   14 বারখোলা, কাছাড় 1,52,761 শিলচর

   15 কাটিগোরা, কাছাড় 1,89,031 শিলচর

   16 হাফলং (ST), ডিমা হাসাও 1,47,384 স্বায়ত্তশাসিত জেলা

   17 বোকাজান (ST), কার্বি আংলং 1,50,392 স্বায়ত্তশাসিত জেলা

   18 হাওড়াঘাট (ST), কার্বি আংলং 1,32,468 স্বায়ত্তশাসিত জেলা

   19 ডিফু (ST) কার্বি, আংলং 2,00,287 স্বায়ত্তশাসিত জেলা

   20 বৈঠালাংসো (ST) ,পশ্চিম কার্বি আংলং 2,10,649 স্বায়ত্তশাসিত জেলা

   21 মানকাচর, দক্ষিণ সালমারা মানকাচর 2,26,709 ধুবরি

   22 সালমারা দক্ষিণ, দক্ষিণ সালমারা মানকচার 1,89,264 ধুবরি

   23 ধুবরি, ধুবরি 1,96,081 ধুবরি

   24 গৌরীপুর, ধুবড়ি 2,05,588 ধুবড়ি

   25 গোলকগঞ্জ, ধুবড়ি 2,03,940 ধুবরি

   26 বিলাসীপাড়া, পশ্চিম ধুবড়ি 1,73,884 ধুবরি

   27 বিলাসীপাড়া, পূর্ব ধুবরি 2,18,549 ধুবরি

   28 গোসাইগাঁও, কোকরাঝাড় 1,89,510 কোকরাঝাড়

   29 কোকড়াঝাড়, পশ্চিম (ST) কোকড়াঝাড় 1,84,635 কোকরাঝাড়

   30 কোকরাঝার, পূর্ব (ST) কোকড়াঝাড় 1,87,298 কোকরাঝার

   31 সিডলি (ST), চিরাং 2,05,936 কোকরাঝার

   32 বঙ্গাইগাঁও, বঙ্গাইগাঁও 1,77,417 বরপেটা

   33 বিজনি, চিরাং 1,62,014 কোকরাঝাড়

   34 অভয়পুরী উত্তর, বোঙ্গাইগাঁও 1,82,297 বরপেটা

   35 অভয়পুরী দক্ষিণ (SC), বোঙ্গাইগাঁও 2,07,844 বরপেটা

   36 দুধনই (ST) ,গোয়ালপাড়া 2,07,571 গৌহাটি

   37 গোয়ালপাড়া পূর্ব, গোয়ালপাড়া 2,23,041 ধুবরি

   38 গোয়ালপাড়া পশ্চিম, গোয়ালপাড়া 1,75,037 ধুবরি

   39 জলেশ্বর, গোয়ালপাড়া 1,59,967 ধুবরি

   40 সরভোগ, বরপেটা 2,30,013 কোকরাঝাড়

   41 ভবানীপুর, বাজালি 1,48,961 কোকরাঝাড়

   42 পাটাছারকুচি, বাজালি 1,46,084 বরপেটা

   43 বরপেটা, বারপেটা 2,08,957 বরপেটা

   44 জনিয়া বারপেটা 2,12,157 বরপেটা

   45 বাঘবার, বারপেটা 1,65,903 বরপেটা

   46 সরুক্ষেত্রী, বরপেটা 2,06,383 বরপেটা

   47 চেঙ্গা, বারপেটা 1,45,283 বারপেটা

   48 বকো (এসসি), কামরূপ 2,37,220 গৌহাটি

   49 ছয়াগাঁও, কামরূপ 1,92,780 গৌহাটি

   50 পলাশবাড়ী, কামরূপ 1,58,743 গৌহাটি

   51 জালুকবাড়ি, কামরূপ মেট্রো 2,04,691 গৌহাটি

   52 দিসপুর, কামরুপ মেট্রো 4,12,114 গৌহাটি

   53 গৌহাটি পূর্ব, কামরূপ মেট্রো 2,39,587 গৌহাটি

   54 গৌহাটি পশ্চিম, কামরূপ মেট্রো 2,97,063 গৌহাটি

   55 হাজো, কামরূপ 1,78,022 গৌহাটি

   56 কমলপুর, কামরূপ 1,80,737 মঙ্গলদই

   57 রঙ্গিয়া, কামরূপ 1,96,103 মঙ্গলদোই

   58 তামুলপুর, বক্সা 2,15,552 কোকরাঝাড়

   59 নলবাড়ি, নলবাড়ি 2,07,754 মঙ্গলদই

   60 বারক্ষেত্রী, নলবাড়ি 1,96,918 গৌহাটি

   61 ধর্মপুর, নলবাড়ি 1,41,911 বারপেটা

   62 বড়মা (ST), বক্সা 1,69,810 কোকরাঝাড়

   63 চাপাগুড়ি (ST), বক্সা 1,61,197 কোকরাঝাড়

   64 পানেরি, উদালগুড়ি 1,55,719 মঙ্গলদই

   65 কালাইগাঁও, দরাং 1,84,450 মঙ্গলদই

   66 সিপাজহার, দরাং 1,78,319 মঙ্গলদই

   67 মঙ্গলদই (SC), দরাং 2,37,615 মঙ্গলদই

   68 দলগাঁও, দরাং 2,40,796 মঙ্গলদই

   69 উদালগুড়ি (ST), উদলগুড়ি 1,58,724 মঙ্গলদই

   70 মাজবাট, উদালগুড়ি 1,60,324 মঙ্গলদই

   71 ঢেকিয়াজুলি, সোনিতপুর 2,17,766 তেজপুর

   72 বারচাল্লা, সোনিতপুর 1,74,036 তেজপুর

   73 তেজপুর, সোনিতপুর 1,88,449 তেজপুর

   74 রাঙ্গাপাড়া, সোনিতপুর 1,66,718 তেজপুর

   75 সুয়েতা, সোনিতপুর 1,90,981 তেজপুর

   76 বিশ্বনাথ, বিশ্বনাথ 1,65,903 তেজপুর

   77 বেহালি, বিশ্বনাথ 1,25,542 তেজপুর

   78 গহপুর, বিশ্বনাথ 2,04,613 তেজপুর

   79 জাগিরোড (SC), মারিগাঁও 2,38,898 নওগাঁ

   80 মরিগাঁও, মরিগাঁও 1,93,079 নওগাঁ

   81 লাহারিঘাট, মরিগাঁও 1,86,704 নওগাঁ

   82 রহা (SC), নগাঁও 2,21,878 নওগাঁ

   83 ধিং, নগাঁও 2,31,325 কলিয়াবর

   84 বটদ্রবা, নগাঁও 1,66,352 কালিয়াবর

   85 রূপোহিহাট, নগাঁও 2,02,820 কালিয়াবর

   86 নওগাঁ, নগাঁও 1,89,965 নওগাঁ

   87 বরহামপুর, নগাঁও 1,79,641 নওগাঁ

   88 জামুগুড়ি, নগাঁও 1,65,045 কালিয়াবর

   89 কলিয়াবর, নগাঁও 1,47,083 কালিয়াবর

   90 যমুনামুখ, হোজাই 2,21,863 নগাঁও

   91 হোজাই, হোজাই 2,66,431 নগাঁও

   92 লুমডিং, হোজাই 2,12,304 নগাঁও

   93 বোকাখাত, গোলাঘাট 1,47,846 কলিয়াবর

   94 সরুপাথার, গোলাঘাট 2,67,596 কলিয়াবর

   95 গোলাঘাট, গোলাঘাট 2,05,586 কলিয়াবর

   96 খুমতাই, গোলাঘাট 1,41,259 কলিয়াবোর

   97 দেরগাঁও, (SC) গোলাঘাট 1,74,870 কলিয়াবোর

   98 যোড়হাট, যোড়হাট 1,86,273 যোড়হাট

   99 মাজুলি (ST), মাজুলি 1,32,403 লখিমপুর

   100 তিতাবর, যোড়হাট 1,56,559 যোড়হাট

   101 মরিয়ান জোরহাট 1,23,568 যোড়হাট

   102 টিঅক, যোড়হাট 1,36,829 যোড়হাট

   103 আমগুড়ি, শিবসাগর 1,24,891 যোড়হাট

   104 নাজিরা, শিবসাগর 1,33,974 যোড়হাট

   105 মহমারা, চরাইদেও 1,38,108 যোড়হাট

   106 সোনারি, চড়াইদেও 1,78,790 যোড়হাট

   107 থৌড়া শিবসাগর 1,16,000 যোড়হাট

   108 শিবসাগর, শিবসাগর 1,52,087 যোড়হাট

   109 বিহপুরিয়া, লখিমপুর 1,53,050 তেজপুর

   110 নওবইচা, লখিমপুর 2,27,134 লখিমপুর

   111 লখিমপুর, লখিমপুর 1,90,056 লখিমপুর

   112 ঢাকুয়াখানা (ST), লখিমপুর 2,11,004 লখিমপুর

   113 ধেমাজি (ST), ধেমাজি 2,48,047 লখিমপুর

   114 জোনাই (ST),ধেমাজি 3,12,180 লখিমপুর

   115 মরান, ডিব্রুগড় 1,43,170 ডিব্রুগড়

   116 ডিব্রুগড়, ডিব্রুগড় 1,50,348 ডিব্রুগড়

   117 লাহোয়াল, ডিব্রুগড় 1,54,651 ডিব্রুগড়

   118 দুলিয়াজান, ডিব্রুগড় 1,66,137 ডিব্রুগড়

   119 টিংখং, ডিব্রুগড় 1,49,731 ডিব্রুগড়

   120 নাহরকাটিয়া, ডিব্রুগড় 1,42,035 ডিব্রুগড়

   121 চাবুয়া, ডিব্রুগড় 1,65,934 লখিমপুর

   122 তিনসুকিয়া, তিনসুকিয়া ১,৭৩,৫৬ তিনসুকিয়া

   123 ডিগবই, তিনসুকিয়া 1,40,259 ডিব্রুগড়

   124 মার্গেরিটা, তিনসুকিয়া 1,96,210 ডিব্রুগড়

   125 ডুমডুমা, তিনসুকিয়া 1,52,632 লখিমপুর

   126 সদিয়া, তিনসুকিয়া 1,89,854 লখিমপুর

   আসামের লোকসভা কেন্দ্রের তালিকা

   1. করিমগঞ্জ

   2. শিলচর

   3. স্বায়ত্তশাসিত জেলা

   4. ধুবড়ি

   5. কোকরাঝাড়

   6. বরপেটা

   7. গৌহাটি

   8. মঙ্গলদই

   9. তেজপুর

   10. নগাঁও

   11. কালিয়াবর

   12. যোরহাট

   13. ডিব্রুগড়

   14. লখিমপুর

   ডেলিটিমেশনে (সীমা পুনর নির্ধারণ)র পর আসামের বিধানসভা এবং লোকসভা কেন্দ্রসমূহ-

   1 নং কোকরাঝাড় (ST) লোকসভা সমষ্টি

      1 গোসাঁইগাঁও

   2 ডটমা (ST)

   3 কোকরাঝাড় (ST)

   4 বাওখুংরি

   5 পার্বতঝোড়া

   19 সিডলি চিরাং (ST)

   20 বিজনী

   41 মানস

   42 বাক্সা (ST)

   2 নং ধুবড়ি লোকসভা সমষ্টি

      6 গোলকগঞ্জ

   7 গৌরীপুর

   8 ধুবড়ি

   9 বীরসিং-জড়ুয়া

   10 বিলাসীপাড়া

   11 মানকচার

   12 জলেশ্বর

   14 গোয়ালপাড়া পূর্ব

   17 সৃজনগ্রাম

   22 মন্দিয়া

   23 চেঙ্গা

      3 নং বরপেটা লোকসভা সমষ্টি

      16 অভয়পুরী

   18 বনগাঁও

   21 ভবানীপুর-সরভোগ

   24 বারপেটা (SC)

   25 পাকাবেতবাড়ি

   26 বজালি

   30 হাজো-সুয়ালকুচি (SC)

   38 বরখেত্রী

   39 নলবাড়ি

   40 টিহু

      4 নং দরং-উদালগুড়ি লোকসভা সমষ্টি

      31 রঙ্গিয়া

   32 কমলপুর

   43 তামুলপুর (ST)

   44 গোরেশ্বর

   45 ভেড়গাঁও

   46 উদালগুড়ি (ST)

   47 মাজবাত

   48 টাংলা

   49 সিপাঝার

   50 মঙ্গলদই

   51 দলগাঁও

       5 নং গুয়াহাটি লোকসভা সমষ্টি

      13 গোয়ালপাড়া পশ্চিম (ST)

   15 দুধনই (ST)

   27 চমরিয়া

   28 বোকো-ছায়গাঁও (ST)

   29 পলাশবাড়ী

   33 দিসপুর

   34 ডিমোরিয়া (SC)

   35 নিউ গুয়াহাটি

   36 গুয়াহাটি সেন্ট্রাল

   37 জালুকবাড়ি

      6 নং ডিফু (ST) লোকসভা সমষ্টি

   108 বোকাজান (ST)

   109 হাওড়াঘাট (ST)

   110 ডিফু (ST)

   111 রংখাং (ST)

   112 আমরি (ST)

   113 হাফলং (ST)

   7 করিমগঞ্জ

   121 হাইলাকান্দি

   122 আলগাপুর-কাটলিচেরা

   123 করিমগঞ্জ উত্তর

   124 করিমগঞ্জ দক্ষিণ

   125 পাথরকান্দি

   126 রাম কৃষ্ণ নগর (SC)

      8 নং শিলচর (SC) লোকসভা সমষ্টি

      114 লক্ষীপুর

   115 উদরবন্দ

   116 কাটিগোড়া

   117 বরখোলা

   118 শিলচর

   119 সোনাই

   120 ধোলাই (এসসি)

   9 নং নগাঁও লোকসভা সমষ্টি

      52 জাগিরোড (SC)

   53 লাহারিঘাট

   54 মরিগাঁও

   55 ধিং

   56 রূপহীহাট

   58 সামাগুড়ি

   60 নগাঁও-বটদ্রবা

   61 রাহা (SC)

   10 কাজিরঙ্গা

   57 কালিয়াবর

   59 বরহমপুর

   62 বিন্নাকান্দি

   63 হোজাই

   64 লামডিং

   103 গোলাঘাট

   104 দেরগাঁও

   106 খুমতাই

   105 বোকাখাত

   107 সরুপাথার

   11নং সোনিতপুর লোকসভা সমষ্টি

      65 ঢেকিয়াজুলি

   66 বারচলা

   67 তেজপুর

   68 রঙ্গাপাড়া

   69 নাদুয়ার

   70 বিশ্বনাথ

   71 বেহালি (এসসি)

   72 গহপুর

   73 বিহপুরিয়া

      12 নং লখিমপুর লোকসভা সমষ্টি

      74 রঙ্গনদী

   75 নওবোইচা (এসসি)

   76 লখিমপুর

   77 ঢাকুয়াখানা (ST)

   78 ধেমাজি (ST)

   79 সিসিবোরগাঁও

   80 জোনাই (ST)

   81 সাদিয়া

   82 ডুমডুমা

   13 নং  ডিব্রুগড় লোকসভা সমষ্টি

      83 মার্গেরিটা

   84 ডিগবোই

   85 মাকুম

   86 তিনসুকিয়া

   87 চাবুয়া-লাহোয়াল

   88 ডিব্রুগড়

   89 খোয়াং

   90 দুলিয়াজান

   91 টিংখং

   92 নাহারকাটিয়া

   14 নং যোরহাট লোকসভা সমষ্টি

   93 সোনারি

   94 মাহমরা

   95 ডেমো

   96 শিবসাগর

   97 নাজিরা

   98 মাজুলি (ST)

   99 টিয়ক

   100 যোরহাট

   101 মরিয়ানি

   102 তিতাবর

        জেনে নিই-

   রাজধানী- দিছপুর

   লোকসভা আসন- ১৪

   বিধান সভা আসন-১২৬

   রাজহ চক্র-১৫৪

   খণ্ড উন্নযন- ২১৮

   আরক্ষী থানা- ৩৩১

   নদী আরক্ষী থানা-

   উপ আরক্ষী থানা- ২৭৭

   মহানগর- ১

   পৌরসভা- ১০৪

   জেলা পরিষদ-২১

   কৃষি মহকুমা- ৬৩

   আঞ্চলিক পঞ্চায়ত-১৮৫

   গাঁও পঞ্চায়ত-২২০২

   রাজ্যসভা-("রাজ্য পরিষদ") হল ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ। আসাম ১৯৫৬ সাল থেকে ৭টি আসন নির্বাচন করে (১৯৫২-১৯৫৬ সালের চেয়ে একটি বেশি)। সদস্যরা পরোক্ষভাবে আসামের রাজ্য আইনপ্রণেতাদের (নির্বাচিত রাজনীতিবিদদের) দ্বারা নির্বাচিত হন। প্রতিটি দলের জন্য বরাদ্দকৃত সাতটি আসনের সংখ্যা মনোনয়নের সময় আইনপ্রণেতাদের সংখ্যার সমানুপাতিক। আসামের প্রতিটি দল স্থানীয় আসনের ন্যূনতম ১/৭ কোটা পূরণ করে একজন সদস্যকে মনোনীত করে; যদি কোনও দলের স্থানীয় আসনের ২/৭ থেকে ৩/৭ ভাগ আসন থাকে তবে সেই আইনপ্রণেতারা দুজন সদস্যকে নির্বাচন করেন। • 

 

                                           বাকসা জেলা

   ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির মধ্যে বাকসা একটি প্রশাসনিক জেলা জেলাটি আসামের বড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অঞ্চলের অন্তর্গতজেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর মুষলপুরে অবস্থিত। মানস জাতীয় উদ্যান এই জেলার একটি অংশ।

   উৎপত্তি-"বাকসা" নামের উৎপত্তি বিতর্ক এবং জল্পনা-কল্পনার বিষয়। একটি জনপ্রিয় তথ্য থেকে জানা যায় যে, এটি জোনখা শব্দ "বংসা" এর ভুল বানান, যার অর্থ একটি খামারবাড়ি এবং করিডোর। এর কারণ হল ভুটানের রাজা এবং তার প্রজারা এই অঞ্চলটিকে বাণিজ্যের কারণে সমভূমিতে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করতেন। ঐতিহাসিকভাবে, ভুটিয়ারা এই অঞ্চলটিকে বাঁশকা ডুয়ার নামে উল্লেখ করত। একটি বড়ো সূত্র অনুসারে, "বাকসা" নামটি "বাগসা" নামে পরিচিত এক ধরণের ধানের শীষ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এই ধানের শীষ হল এক ধরণের ভাঙা এবং অপরিষ্কার পণ্য যা ধান কাটার পরে পাওয়া যায়।

   ইতিহাস- বাকসা জেলা কামরূপ ডুয়ার্সের (ডুয়ার্স হল উত্তর-পূর্ব ভারত এবং দক্ষিণ ভুটানের পলিমাটিযুক্ত প্লাবনভূমি যা হিমালয়ের পাদদেশের দক্ষিণে এবং ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকার উত্তরে অবস্থিত। এই অঞ্চলটি প্রায় 30 কিমি (19 মাইল) প্রশস্ত এবং পশ্চিমবঙ্গের তিস্তা নদী থেকে আসামের উদালগুড়ি জেলার ধনসিরি নদী পর্যন্ত প্রায় 350 কিমি (220 মাইল) জুড়ে বিস্তৃত। এই অঞ্চলটি ভুটানের প্রবেশদ্বার রূপে পরিচিত।জেলাটি মানস নদী এবং বরনাদী নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিতবাকসা জেলার অধীনে দুটি ডুয়ার্স হল বাঁশকা ডুয়ার্স এবং কামরূপ বিজনি ডুয়ার্স।

   ১৮৬৫ সালের ডুয়ার্স যুদ্ধের আগে ভুটানের দক্ষিণ সীমানায় বর্তমানের বাকসা জেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৭ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আহোম-মুঘল সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ভুটান রাজ্য তাদের পাহাড়ের দক্ষিণে গোহাঁই কমল আলি পর্যন্ত ডুয়ার্সের নিয়ন্ত্রণে আনে ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই ডুয়ার্স থেকে ভুটানের প্রভাব মুক্ত করে বাঁশকা ডুয়ার্স, কামরূপ বিজনি ডুয়ার্স, অন্যান্য কামরূপ এবং দরং ডুয়ার্সের সাথে সংযুক্ত করে।

   বর্তমান- বাক্সাকে ২০০৩ সালের অক্টোবরে বড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিলের একটি জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ১ জুন ২০০৪ থেকে কাজ শুরু করে যখন আসাম সিভিল সার্ভিসের ডঃ আনোয়ারউদ্দিন চৌধুরী এর প্রতিষ্ঠাতা ডেপুটি কমিশনার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জেলাটি ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে বরমার পিডব্লিউডি পরিদর্শন বাংলো থেকে কাজ শুরু করে ২০১০ সালের শেষের দিকে জেলার সদর মুষলপুরে স্থানান্তর করা হয়

   জেলাটি বরপেটা, নলবাড়ি এবং কামরূপ জেলার কিছু অংশ নিয়ে গঠন করা হয়েছিল। ২৩ জানুয়ারী ২০২২ তারিখে, বাক্সা জেলার তামুলপুর মহকুমাকে পৃথক করে তামুলপুর জেলা তৈরি করা হয়েছে।

   ভূগোল- এই জেলাটি উত্তরে ভুটান, পূর্বে উদালগুড়ি জেলা, দক্ষিণে বরপেটা, নলবাড়ি এবং কামরূপ জেলা এবং পশ্চিমে চিরাং জেলা দ্বারা বেষ্টিত। জেলার আয়তন ২,৪০০ বর্গকিলোমিটার (৯৩০ বর্গমাইল)। জাতীয় সুরক্ষিত এলাকা মানস জাতীয় উদ্যান এই জেলার অন্তর্গত

   জেলাটির তিনটি মহকুমা রয়েছে: মুলপুর, শালবাড়ি এবং তামুলপুর। এই উপ-বিভাগগুলিকে আরও ১৩ টি রাজস্ব বৃত্তে বিভক্ত করা হয়েছে: বাক্সা, বড়মা, তামুলপুর, গোরেশ্বর, বাগানপাড়া, ঘগরাপাড়, বরনগর, বজালি, জালাহ, পাথরিঘাট, রঙ্গিয়া, সরুপেটা এবং টিহু। জেলার সদর দপ্তর মুলপুর শহরে অবস্থিত

   এই জেলার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র হল- তামুলপুর, বড়মা এবং চাপাগুড়ি। এগুলি সবই কোকরাঝাড় লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত

    বাকসা জেলার শতকা ঐতিহাসিক জনসংখ্যা

   ১৯০১- ৭১,৬২০

   ১৯১১- ৮১,৬৬৬ +১.৩২%

   ১৯২১- ৯৫,১৬০ +১.৫৪%

   ১৯৩১- ১২৭,০১১ +২.৯৩%

   ১৯৪১- ১৬৭,৫৮৯ +২.৮১%

   ১৯৫১- ১৯৭,৮৮৯ +১.৬৮%

   ১৯৬১- ৩০৯,২২৪ +৪.৫৬%

   ১৯৭১- ৪৭৬,৬৫৫ +৪.৪২%

   ১৯৯১- ৭৬৯,৪০২ +২.৪২%

   ২০০১- ৮৫৭,৯৪৭ +১.১০%

   ২০১১- ৯৫০,০৭৫ +১.০৩%

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, বাকসা জেলার জনসংখ্যা ৯,৫০,০৭৫ জন। এটি ভারতের মোট ৬৪০ জেলার মধ্যে ৪৫৮তম স্থানে রয়েছে। জেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৭৫ জন (১,২৩০/বর্গমাইল)।২০০১-২০১১ দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১১.১৭%। বাকসা জেলার লিংগ অনুপাত প্রতি ১০০০ জন পুরুষের বিপরীতে ৯৬৭ জন মহিলা এবং সাক্ষরতার হার ৭০.৫৩%।

   বাকসা জেলা থেকে তামুলপুর জেলা তৈরি হওয়ার পর বাকসা জেলার অবশিষ্ট এলাকা "অবশিষ্ট জেলা" হিসেবে রয়ে গেছে। এই অবশিষ্ট বাকসা জেলার জনসংখ্যা ৫,৬০,৯২৫ জন, যার মধ্যে ৬,৬১১ জন (১.১৮%) শহরাঞ্চলে বাস করে। অবশিষ্ট জেলার লিঙ্গ অনুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৭৭ জন মহিলা তফসিলি জাতি ও উপজাতির জনসংখ্যা যথাক্রমে ৩০,৮৩৭ জন (৫.৫০%) এবং ২০৯,৬৮৬ জন (৩৭.৩৮%)।

বাকসা জেলার ভাষা (২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   অসমীয়া (৩৮.৩৪%)

   বডো (৩৬.৩৩%)

   বাঙালি (১৭.৬৯%)

   নেপালি (২.৪২%)

   সাদ্রি (১.৬১%)

   কুরুখ (১.৪৭%)

   অন্যান্য (২.১৪%)

   বক্সা জেলার প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হল:

   শালবাড়ী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শালবাড়ী

   বাগধর ব্রহ্ম কিষাণ কলেজ, জালাহ

   বড়মা কলেজ, বড়মা

   গোরেশ্বর কলেজ, গোরেশ্বর

   মুলপুর কলেজ, মুশলপুর

   তামুলপুর কলেজ, তামুলপুর

   কোকলাবাড়ি চাপাগুড়ি কলেজ, সিমলা হাজুয়া

   বড়মা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বড়মা

   বক্সা পলিটেকনিক, বেলগুড়ি পাথার

   জ্ঞানপীঠ ডিগ্রি কলেজ, নিকাশী

   বক্সা কলেজ, বাগানপাড়া

   বাথওউ আশ্রম ফোরাইসালি, বড়মা

   কোকলাবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সিমলা

   কুমারিকাটা জুনিয়র কলেজ, কুমারিকাটা

   কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, তামুলপুর

   একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়, ডালবাড়ি

   আঁচলী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আঁচলী

   জওহর নবোদয় বিদ্যালয়, মুশলপুর

   দক্ষিণ বিজনী ডিগ্রি কলেজ, আনন্দ বাজার

   দক্ষিণ বিজনী কলেজ (জুনিয়র), আনন্দ বাজার

   বারবাড়ি নেহরু উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় বারবাড়ি

   পর্যটনস্থল-

   বিশ্বখ্যাত মানস জাতীয় উদ্যানের একটি বড় অংশ এই জেলায় অবস্থিত। এই উদ্যানটি তার বাঘ,  এক শৃঙ্গযুক্ত গণ্ডার, বন্য জলমহিষ এবং সোনালী লঙ্গুরের জন্য সুপরিচিত। বোগমতি, ভুটান চৌকি এবং দারাগাঁও হল বিখ্যাত পিকনিক স্পট যার সৌন্দর্য মনোরমভাংতার হল ভুটান সীমান্তের কাছে অবস্থিত আরেকটি মনোরম স্থান। • 

                                        বরপেটা জেলা

  বরপেটা জেলা ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। জেলার সদর দপ্তর বরপেটায় অবস্থিত। জেলাটির আয়তন ৩,২৪৫ বর্গকিলোমিটার (১,২৫৩ বর্গমাইল)( রাশিয়ার ইতুরুপ দ্বীপের সমতুল্য।) এবং জনসংখ্যা ১,৬৪২,৪২০ জন (২০১ সালের হিসাব অনুযায়ী)। ১৯৮৩ সালে কামরূপ জেলা থেকে বিভক্ত করে বরপেটা জেলা গঠন করা হয়েছিল।২০২০ সালে, বজালি মহকুমাকে বরপেটা থেকে বিভক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা করা হয়েছে।

   জেলার গুরুত্বপূর্ণ শহর/নগরগুলি হল:

   বরপেটা- জেলার সদর দপ্তর এবং জেলা দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। শহরটি চারদিক থেকে নদী এবং খাল দ্বারা বেষ্টিত। আকর্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হল বৈষ্ণব সাধক মাধবদেব কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বরপেটা সত্র। ঐতিহ্য মণ্ডিত মাধব চৌধুি মহাবিদ্যালয়।

   হাউলি- বরপেটা রোড এবং বরপেটা শহরের মধ্যবর্তী এলেকার শহর। এটি একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক শহর যা জেলার ব্যবসায়িক রাজধানী হিসাবেও পরিচিত।হাউলিতে জেলা শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (ডায়েট)অবস্থিত

   বরপেটা রোড- জেলার বৃহত্তম শহর। এটি একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক শহর যা পশ্চিম আসামের ব্যবসায়িক রাজধানী হিসাবে পরিচিত।

   ভক্তডবা- ভক্তডবা হল ভারতের আসাম রাজ্যের বরপেটা জেলায় অবস্থিত একটি বাজার।

   রভোগ- ৩১ নম্বর জাতীয় মহাসড়কের পাশে একটি ছোট শহর।

   বহরি- এটি একটি ঐতিহ্যমণ্ডিত বাজারবরপেটা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে বরপেটা শহরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত। বহরির দক্ষিণ দিকে ব্রহ্মপুত্র নদী প্রবাহিত হচ্ছেএটি বরপেটা জেলার সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের বাণিজ্যিক কেন্দ্রবহরি মহাপুরুষ শ্রী শ্রী হরিদেব কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সত্ৰের জন্যও বিখ্যাত।

   সর্থেবাড়ি- কাঁসা ধাতুর কাজের জন্য পরিচিত একটি ছোট শহর।

   কলগাছিয়া- জেলার পশ্চিমে দিকে অবস্থিত একটি শহরবরপেটা জেলাপেটােই একটি গুুত্বপূৰ্ণ শহঐতিহ্যমণ্ডিত নবজ্যোতি মহাবিদ্যালয় উচ্চ শিক্ষা কেন্দ্ৰ।

   বরভিঠা-বরপেটা জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের একটি গ্রাম।

   মন্দিয়া- পেটা শহ থেকে ৮ কিলোমিটা দক্ষিণে অবস্থিত একটি শহরউচ্চ শিক্ষা কেন্দ্ৰ।বাঘবর রাজস্ব চক্র মন্দিয়ায় অবস্থিত

   কয়াকুছি বাজার- পেটা শহ থেকে ৮ কিলোমিটা উত্তে অবস্থিত। বরপেটা জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারসপ্তাহে দুইদিন হাট বসে।ঢারি শিল্পে জন্য বিখ্যাত।

   শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

   ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (FAAMCH) হল আসামের পঞ্চম মেডিকেল কলেজ, যা বরপেটায় অবস্থিত।ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলী আহমেদের নামে এই কলেজের নামকরণ করা হয়েছে। ভারতের মেডিকেল কাউন্সিলের অনুমতি পাওয়ার পর ২০১২ সালের আগস্ট মাসে আসামের তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাসগুলি উদ্বোধন করেছিলেন, যদিও হাসপাতাল বিভাগটি ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১১ সালে উদ্বোধন করা হয়েছিল।

   মাধব চৌধুরি মহাবিদ্যালয়,বরপেটা আসামের তৃতীয়টি কলেজ১৯৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত

   মন্দিয়া আঞ্চলিক কলেজ, মন্দিয়া।

   মন্দিয়া উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়

   ভক্তডবার হরেন্দ্র চিত্র কলেজ, যা এইচ.সি. কলেজ নামেও পরিচিত, ১৯৯২ সালে আসামের বরপেটা জেলার ভক্তদোবাতে প্রতিষ্ঠিত একটি স্নাতক কলেজ

   বরভিঠা উচ্চ বিদ্যালয়, 1947 সালে প্রতিষ্ঠিত, বরপেটা জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে অবস্থিত

   কাদং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাদং। স্থাপিত ১৯৫৬ সাল।

   বামুণ দংরা উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দংরা।

   মন্দিয়া উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মন্দিয়া।

   বাঘবর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাঘবর

   জনীয়া হাইস্কুল, জনীয়া।

   কে কে পাঠক উচ্চ বিদ্যালয়, কলগাছিয়া, 1975 সালে প্রতিষ্ঠিত, বারপেটা জেলার পশ্চিম অংশের কালগাছিয়া শহরে অবস্থিত

   পদ্মাপাড়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, 1981 সালে প্রতিষ্ঠিত, বারপেটা জেলার দক্ষিণ-পূর্ব অংশে পদ্মাপাড়া গ্রামে অবস্থিত

   সিবিএসই পাঠ্যক্ৰমের শিক্ষানুষ্ঠান

   আদর্শ বিদ্যালয়, দহলপাড়া

   আদর্শ বিদ্যালয়, মন্দিয়া

   আদর্শ বিদ্যালয়, গণকুচি

   আদর্শ বিদ্যালয়, চেঙ্গা

   আদর্শ বিদ্যালয়, পাকাবেতবাড়ী

   আদর্শ বিদ্যালয়, গোমাফুলবাড়ী

   জওহর নবোদয় বিদ্যালয়

   কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, বারপেটা

   খ্রিস্টান জ্যোতি স্কুল

   ডন বস্কো স্কুল

   মানস ভ্যালি একাডেমি

   পাঠশালা পাবলিক স্কুল

   শ্রীরাম একাডেমি

   কিশলয় শিশু নিকেতন, সরুপেটা, 1993 সালে স্থাপিত। সরুপেটায় অবস্থিত

   অর্থনীতি- ২০০৬ সালে ভারত সরকার দেশের (মোট ৬৪০টির মধ্যে) ২৫০টি সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলার মধ্যে বরপেটা জেলার নাম ঘোষণা করেছেএটি আসামের এগারোটি জেলার মধ্যে একটি যা বর্তমানে অনগ্রসর অঞ্চল অনুদান তহবিল কর্মসূচি (BRGF) থেকে অনুদান পাচ্ছে।

   বিভাগ- এই জেলায় আটটি আসাম বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা রয়েছে: বরপেটা, বাঘবর, ভবানীপুর, চেঙ্গা, জনিয়া, পাটাছারকুচি, সারুখেত্রী, সরভোগ সরভোগ, কোকরাঝাড় লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত, অন্য সাতটি বরপেটা লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত

   জনসংখ্যা- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, বরপেটা জেলার জনসংখ্যা ১৬,৯৩,৬২২ জন, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় সমান। জেলাটি ভারতেমোট ৬৪০ জেলার মধ্যে ২৯২তম স্থানে রয়েছে। জেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৬৩২ জন।২০০১-২০১১ দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২১.৪%। বরপেটা জেলার লিঙ্গ অনুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৫১ জন মহিলা সাক্ষরতার হার ৬৫.০৩%।

   বরপেটা জেলার শতকরা ঐতিহাসিক জনসংখ্যা(২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   ১৯০১- ১০০,২৫৮

   ১৯১১- ১২০,৩৩২ +১.৮৪%

   ১৯২১- ১৬১,২৯২ +২.৯৭%

   ১৯৩১- ২৭২,৬২৩ +৫.৩৯%

   ১৯৪১- ৩৯২,৭৫০ +৩.৭২%

   ১৯৫১- ৪৬৬,৪৭৫ +১.৭৪%

   ১৯৬১- ৬০৭,৪৩৪ +২.৬৮%

   ১৯৭১- ৮২৮,৪০৪ +৩.১৫%

   ১৯৯১-,১৬৩,১৬৬ +১.৭১%

   ২০০১-,৩৯৪,৭৫৫ +১.৮৩%

   ২০১১-,৬৯৩,৬২২ +১.৯৬%

   বিভক্ত জেলাটির জনসংখ্যা ১৪,৩৯,৮০৬ জন, যার মধ্যে ১,৩৬,১১১ জন (৯.৪৫%) শহরাঞ্চলে বাস করে। বরপেটা জেলার লিঙ্গ অনুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৪৯ জন মহিলা। তফসিলি জাতি এবং উপজাতির জনসংখ্যা যথাক্রমে ৭৬,১২৮ (৫.২৯%) এবং ১৫,৮৫৮ (১.১০%)।

   ভাষা-২০১১ সালে আদমশুমারি অনুসারে বরপেটা জেলার ভাষা-

   বাঙালি- (৬৮.৮৯%)

   অসমিয়া- (২৯.৩৯%)

   বড়ো- (১.০৩%)

   অন্যান্য- (০.৬৯%)

   ২০১১ সালে আদমশুমারি অনুসারে ধর্ম-

   ইসলাম-৭৭.৫৮%

   হিন্দুধর্ম- ২২.২৭%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখ না করা-০.১৫%

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, বরপেটা জেলায় ১,১১৭,০৩৩ জন (৭৭.৫৮%) মুসলিমহিন্দুধর্মের অনুসারী ৩২০,৫৭৮ জন (২২.২৭%)শিখ ধর্ম, জৈন ধর্ম এবং বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীও অল্প-বিস্তর রয়েছে। মুসলিমরা মূলত গ্রামীণ অঞ্চলে বসবাস করে। গ্রামীণ অঞ্চলে জনসংখ্যার ৮৩% এরও বেশি অন্যদিকে শহরাঞ্চলে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। বরপেটা জেলায় ইসলাম ধর্মের অনুসারী সর্বাধিক

   ব্লক অনুসারে জনসংখ্যা

       ব্লক         মুসলমান    হিন্দু     অন্য

   বরনগর-       49.48%   50.15%   0.37%

   কলগাছিয়া-     99.22%   0.71%    0.07%

   বাঘবর-       96.38%    3.53%   0.09%

   চেঙ্গা-         84.15%   15.76%   0.09%

   বরপেটা-       76.49%   23.37%   0.14%

   সর্থেবাড়ি-      57.32%   42.53%   0.15%

   পৰ্যটন স্থলী- বরপেটা জেলার একমাত্ৰ পাহাড় বাঘবর জেলার পৰ্যটনস্থলী। বাঘবর বরপেটা জেলার একমাত্র পাহাড়

                                                   

                                                  বঙ্গাইগাঁও জেলা

   বঙ্গাইগাঁও জেলা উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। জেলার সদর দপ্তর বঙ্গাইগাঁওতে অবস্থিত। জেলাটির আয়তন ১,০৯৩ বর্গকিলোমিটার। লোকগাঁথা অনুসারে, 'বঙ্গাইগাঁও' নামটি 'বন' (বন্য) এবং 'গাই' (গরু) শব্দ থেকে এসেছে। সুদূর অতীতে, বন্য গরু প্রায়শই এই এলাকার গ্রামবাসীদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিলো, যার কারণে জেলাটির নামকরণ বঙ্গাইগাঁও করা হয়েছে।

   বঙ্গাইগাঁও জেলা পূর্ব ডুয়ার্সের অধীনে পড়ে। সোনকোশ নদী এবং মানস নদীর মধ্যবর্তী এলাকাকে পূর্ব ডুয়ার্স বলা হয়। সপ্তদশ শতাব্দীর গোড়ার দিক থেকে বর্তমানের বঙ্গাইগাঁও জেলার কিছু অংশ ১৮৬৫ সালে সংঘটিত দুয়ার যুদ্ধের আগ পর্যন্ত ভুটান রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল  ব্রিটিশরা এই অঞ্চলটিকে ভুটানের প্রভাব থেকে মুক্ত করে এবং পরে ১৯৪৯ সালে এই অঞ্চলগুলি ভারতীয় ইউনিয়নের অবিভক্ত গোয়ালপাড়া জেলার সাথে একীভূত হয়।

কোচ রাজবংশ

   জেলাটি এক সময় কামরূপের অংশ ছিল। ১৪শ শতাব্দীতে এর শাসন বারো-ভূঁইয়াদের হাতে চলে যায়। পরবর্তীকালে ১৫৮০-এর দশকে কামতা রাজ্যের নর নারায়ণ এই অঞ্চলটি জয় করেন এবং পরবর্তীকালে এটি নর নারায়ণের বংশধর বিজনি পরিবারের জায়গিরত্বে পরিণত হয়। রাজা এবং তার ভাগ্নে রঘু রায়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে কামতা রাজ্য কোচবিহার এবং কোচ হাজোতে বিভক্ত হলে বঙ্গাইগাঁও কোচ হাজোর অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়। অতিশীঘ্রই কোচ হাজো এবং কোচবিহার রাজা যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং ঢাকার মুঘল নবাব কোচবিহারকে সমর্থন করে ১৬০২ সালে ধুবড়িতে রঘূ রায়কে পরাজিত করেন। তখন রঘূ রায়ের পুত্র পরীক্ষিত একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেন, কিন্তু ১৬১৪ সালে আবার উভয় রাজার মধ্যে শত্রুতা শুরু হয় এবং পরীক্ষিতকে আধুনিক গুয়াহাটিতে তাড়িয়ে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি আত্মসমর্পণ করেন এবং শীঘ্রই মারা যান। তার পুত্র বিজিত নারায়ণকে মানস এবং সোনকোশের মধ্যবর্তী অঞ্চলের জমিদার করা হয়: তার কাছ থেকে বিজনি রাজ পরিবারের উদ্ভব হয়। কোচ হাজো মুঘলদের অধীনে ছিল, কিন্তু সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দশকগুলিতে আহোম-মুঘল যুদ্ধের কারণে এই অঞ্চলে মুঘল প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়, যেখানে আহোমরা অবশেষে সফল হয়। বিজনির জমিদারিসহ কোচ হাজো আহোম স্বর্গদেওদের প্রভাবের অধীনে আসে।

   ১৭৫০-এর দশকের শেষের দিকে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা এবং নিম্ন আসামে তাদের প্রভাব জোরদার করে তোলে১৮২২ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বর্তমান নিম্ন আসাম, গারো পাহাড় এবং বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব রংপুর বিভাগ নিয়ে গোয়ালপাড়া জেলা গঠন করে। বিজনীর জমিদার বংশ ব্রিটিশদের প্রতি অনুগত হয়ে থাকে এবং ১৮৬৫ সালের ডুয়ার্স যুদ্ধের পরও অল্প পরিমাণে জমি লাভ করে। বিভিন্ন জেলা গঠনের জন্য শেষ পর্যন্ত রংপুর এবং গারো পাহাড়কে আলাদা করা হয়, কিন্তু গোয়ালপাড়া কোচবিহার প্রদেশের অংশ হিসেবে পরিচালিত হতে থাকে। অবশেষে ১৮৭৪ সালে আসাম উপত্যকা প্রদেশ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং গোয়ালপাড়া আসাম উপত্যকা প্রদেশের অন্তর্ভূক্ত হয়পরে গোয়ালপাড়াকে কোকরাঝাড়, ধুবড়ি এবং পরে বঙ্গাইগাঁও সহ কয়েকটা জেলায় বিভক্ত করা হয়।

   আধুনিক কাল- ১৯৮৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর গোয়ালপাড়া এবং কোকরাঝাড় জেলার কিছু অংশ নিয়ে বঙ্গাইগাঁও জেলা গঠন করা হয়। ২০০৪ সালে জেলার কিছু অংশ বিভক্ত করে চিরাং জেলা তৈরি করা হলে বঙ্গাইগাঁও জেলার আয়তন হ্রাস পায়।

   ভৌগোলিক অবস্থান- ২০১১ সালে আদমশুমারি অনুসারে বর্তমান বঙ্গাইগাঁও জেলার আয়তন ১,০৯৩ বর্গকিলোমিটার (৪২২ বর্গমাইল)বঙ্গাইগাঁও জেলার পূর্বে বরপেটা জেলা, দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদ এবং উত্তর ও পশ্চিম কোণে কোকরাঝাড় জেলা দ্বারা বেষ্টিত জেলা উত্তরে ভুটানের আন্তর্জাতিক সীমানা

      দর্শনীয় স্থান- বঙ্গাইগাঁওতে ভ্রমণের যোগ্য স্থানগুলি হল ইকো-পার্ক, বাঘেশ্বরী মন্দির, চা বাগান এবং সূর্যপাহাড়। বাঘেশ্বরী মন্দিরের ইতিহাস এরকম- একবার একজন পুরোহিতকে মা বাঘেশ্বরী স্বপ্নে দেখা দিয়ে তাকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে যেতে বলেছিলেন এবং সেখানে খনন করলে একটি তরবারি পাবেন বলেছিলেনপরের দিন সকালে পুরোহিত সেখানে খনন করতে গেলেন, তিনি সেখানে একটি তরবারিটি পেলেন।পরে সেই স্থানে একটি মন্দির নির্মাণ করা হয় এবং সেখানে তাঁরা তরবারি পূজা করেনমন্দিরের ভিতরে তরবারির বাইরে অন্য কোনও মূর্তি নেই।

   অর্থনীতি-২০০৬ সালে ভারত সরকার দেশের মোট ৬৪০টি জেলার ২৫০টি সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলার মধ্যে বঙ্গাইগাঁও জেলাকে একটি পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে ঘোষণা করেছেএটি আসামের এগারোটি জেলার মধ্যে একটি যা বর্তমানে পশ্চাদপদ অঞ্চল অনুদান তহবিল কর্মসূচি (BRGF) থেকে তহবিল পাচ্ছে।

   বিভাগ- জেলার তিনটি মহকুমা রয়েছে: বঙ্গাইগাঁও, বিজনি এবং উত্তর সালমারা। ২০০৪ সালে  বঙ্গাইগাঁও জেলার কিছু অংশ (প্রধানত বিজনি মহকুমার আওতাধীন এলাকা) নিয়ে বড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল (BTC) এর অধীনে চিরাং জেলা গঠন করা হয়েছেচিরাং জেলা সদর দপ্তর কাজলগাঁওতে অবস্থিত।

   এই জেলায় চারটি আসাম বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা রয়েছে: বঙ্গাইগাঁও, বিজনি, অভয়পুরী উত্তর এবং অভয়পুরী দক্ষিণ। দক্ষিণ অভয়াপুরী তফসিলি জাতিদের জন্য নির্ধারিত।বিজনি কোকরাঝাড় লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত, অন্য তিনটি বরপেটা লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত

   জনসংখ্যার তথ্য- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, জেলার মোট জনসংখ্যা ৭৩৮,৮০৪ জন, যার মধ্যে ৩৭৫,৮১৮ জন পুরুষ এবং ৩৬২,৯৮৬ জন মহিলা। গড় লিঙ্গ অনুপাত ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৬৬ জন মহিলাশহরাঞ্চলে গড় সাক্ষরতার হার ৮৭.৪% এবং গ্রামাঞ্চলে ৬৬.৪%। বঙ্গাইগাঁও জেলার মোট সাক্ষরতার হার ৬৯.৭৪%। বঙ্গাইগাঁও জেলা পুরুষ সাক্ষরতার হার ৬৩.০৯% এবং মহিলা সাক্ষরতার হার ৫৪.২৬%। জনসংখ্যার ১৪.৮৬% শহরাঞ্চলে বাস করে। তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতি জনসংখ্যার যথাক্রমে ১১.২১% এবং ২.৫৫%।

   ধর্ম- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে বঙ্গাইগাঁও জেলার ধর্ম

   ইসলাম- ৫০.২২%

   হিন্দুধর্ম- ৪৮.৬১%

   খ্রিস্টধর্ম- ০.৮০%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখ না করা- ০.৩৭%

   ২০১১ সালের আদমশুমারি রিপোর্ট অনুসারে জেলার ধর্মীয় গঠন নিম্নরূপ: হিন্দু ৩৫৯,১৪৫ জন, মুসলিম ৩৭১,০৩৩ জন, খ্রিস্টান ৫,৯২৪ জন, শিখ ৩৮৪ জন, বৌদ্ধ ২৩৬ জন এবং  জৈন ৮৭১ জন

   ভাষা- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে বঙ্গাইগাঁও জেলার ভাষা

   অসমীয়া- ৪৯.১ (৪৮.৮%)

   বাঙালি- ৪৩.৩৫ (৪৩.১%)

   হিন্দি- ৩.০৬ (৩.০৪%)

   কামতাপুরী- ১.৪৫ (১.৪৪%)

   বড়ো- ১.১৩ (১.১২%)

   অন্যান্য- ২.৫ (২.৪৯%)

   রাজস্ব সার্কেলের নাম- বঙ্গাইগাঁও, বৈঠামারি, মানিকপুর, ডাঙতোল এবং শ্রীজঙ্গম

   রাজস্ব সার্কেল অনুসারে গ্রামের সংখ্যা

   ১ বঙ্গাইগাঁও ৮৫

   ২ বৈঠামারি ১৪৬

   ৩ শ্রীজঙ্গম ২১২

   ৪ মানিকপুর ৮৩

   ৫ ডাঙতোল ৩৭

   মোট গ্রাম- ৫৬৩

   সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের সংখ্যা-

   সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের নাম-ঙতোল, বৈঠামারি, তাপাত্তারি, শ্রীজঙ্গম, মানিকপুর

   গাঁও পঞ্চায়েতের সংখ্যা- ৬৫

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে শহরের সংখ্যা -

   পুলিশ স্টেশনের বিবরণ- বঙ্গাইগাঁও, অভয়পুরী, মানিকপুর, যোগীঘোপা, মেরেরচর

      পুলিশ স্টেশন (আউট পোস্ট)- বিদ্যাপুর, বৈঠামারি, উত্তর শালমারা, বরঘোলা, সালবিল

   দমকল বাহিনী-

   জনসংখ্যা (২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে)

   মোট-,৩৮,৮০৪

   পুরুষ-,৭৫,৮১৮

   মহিলা-,৬২,৯৮৬

   জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে- ৩৬১ জন

   শিক্ষিতের সংখ্যা ৪,৩৫,৯২২ (৭০.৪৪%)

   পুরুষ-,৩৮,৩০৮ (৭৫.৪৮%)

   মহিলা-,৯৭,৬১৪ (৬৫.১৮%)

   পরিবারের সংখ্যা গ্রামাঞ্চলীয়-,২৫,০৯৫

   পরিবারের সংখ্যা শহরাঞ্চলীয়- ২৪,৯২৩

   স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান- টা

   বঙ্গাইগাঁও সিভিল হাসপাতাল (২০০ শয্যাবিশিষ্ট) ১

   সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র ২

   মডেল হাসপাতাল ২

   ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র ৪

   মিনি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং রাজ্য চিকিৎসালয় ২৪

   চর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ২

   নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১

   উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ৯১ • 

                                                                                                      কাছাড় জেলা

   কাছাড় জেলা ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। পূর্ব-বিদ্যমান অবিভক্ত কাছাড় জেলা স্বাধীনতার পর, চারটি জেলায় বিভক্ত করা হয়েছে: ডিমা হাসাও (পূর্বের নাম ছিলো উত্তর কাছাড় পাহাড়), হাইলাকান্দি, করিমগঞ্জ এবং বর্তমান কাছাড় জেলা। শিলচর হল কাছাড় জেলার সদর দপ্তর   কাচাহর শব্দটি ডিমাসা শব্দ কাছারি থেকে উদ্ভূত এবং এর উৎপত্তি কাছারি রাজ্য থেকে।

   স্বাধীনতা পূর্ব সময়কাল- ১৫৩৬ সালের দিকে, ডিমাসার কাছারির জ্যেষ্ঠ রাজপুত্র দ্রিকপতি এবং ছোট রাজপুত্র দাখিনের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। দাখিন এবং তার অনুসারীদের রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি বরাক উপত্যকায় একটি নতুন রাজ্য স্থাপন রে এবং তাঁরা নিজেদেরকে ডিব্রাসা বা বরাক নদীর সন্তান (দি অর্থ "নদী" এবং ব্রাসা অর্থ "বারাক") হিসাবে ঘোষণা করে ডিব্রাসা পরবর্তীতে ত্বিপ্রসা নামে পরিচিত হয় এবং বরাক উপত্যকায় ত্বিপ্র রাজ্য গঠন করে।

   ১৫৬২ সালে  কোচ রাজবংশের রাজা চিলারায় ত্বিপ্র রাজ্য থেকে বরাক উপত্যকা আক্রমণ করে দখল করেন। রাজা চিলারায় তার ভাই কমল নারায়ণকে এই অঞ্চলের শাসন কর্তৃত্ব দেন। কমল নারায়ণের বংশধররা ১৮ শতক পর্যন্ত এই অঞ্চল শাসন করেনকোচ রাজ্যের পতনের পর  কোন উত্তরাধিকারী না থাকায়  ডিমাসা রাজ্য অবিভক্ত কাছাড় জেলার বেশিরভাগ অংশ দখল করে এবং শাসন করে।

   রাজা শ্রী কৃষ্ণ চন্দ্র দ্বাজ নারায়ণ হাসনু কাছাড়ি খাসপুরে ডিমাসা রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজা ছিলেনকৃষ্ণ চন্দ্রের রাজত্বকালে মণিপুরী রাজা বার্মিজ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেনকৃষ্ণ চন্দ্র যুদ্ধে বার্মিজদের পরাজিত করেছিলেন এবং ধন্যবাদস্বরূপ তাঁকে মণিপুরী রাজকুমারী ইন্দুপ্রভাকে প্রদান করা হয়েছিল। যেহেতু কৃষ্ণ চন্দ্র ইতিমধ্যেই রাণী চন্দ্রপ্রভার সাথে বিবাহিত ছিলেন, তাই তিনি রাজকুমারী ইন্দুপ্রভাকে তার ছোট ভাই গোবিন্দ চন্দ্র হাসনুর সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন।এই সময়কালে, খাসপুর ছিল কাছাড়ের রাজধানী। কাছাড়ের শেষ রাজা ছিলেন রাজা গোবিন্দ চন্দ্র দ্বাজ নারায়ণ হাসনু।

   ব্রিটিশ আমল- ১৮২৪ সালে প্রথম অ্যাংলো-বার্মিজ যুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা আসামে প্রবেশ করে, যা তখন বার্মিজদের দখলে ছিল।সেই সময়ে কাছাড় রাজ্য দুই নেতার দ্বারা শাসিত ছিল- দক্ষিণ সমভূমিতে রাজা গোবিন্দ চন্দ্র দ্বাজ নারায়ণ হাসনু এবং উত্তর কাছাড় পাহাড়ে (ডিমা হাসাও) রাজা তুলারাম থাওসেন শাসন পরিচালনা করছিলেন১৮৪০ সালের ২৪ এপ্রিল হরিতিকারে রাজা গোবিন্দ চন্দ্রকে হত্যা করা হয়। যেহেতু তিনি কোনও উত্তরাধিকারী ছাড়াই মারা যান, তাই ব্রিটিশরা তাঁর অঞ্চলগুলিকে বিলোপের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এটিকে আসামের কাছাড় জেলা হিসাবে যুক্ত করে।

   ব্রিটিশরা এই অঞ্চলের তত্ত্বাবধানের জন্য সেনা কর্মকর্তা টি. ফিশারকে পাঠান; তিনি ১৮৩০ সালের ৩০ জুন চেরাপুঞ্জিতে এর সদর দপ্তর স্থাপন করেন।ফিশার ম্যাজিস্ট্রেট এবং কালেক্টর উভয় পদেই ছিলেন, পরে জেলার প্রথম সুপারিনটেনডেন্ট হয়েছিলেন। ১৮৩২ সালের ১৪ আগস্ট ব্রিটিশরা কাছাড় সমভূমি দখল করে। ১৮৩৩ সালে জেলার সদর দপ্তর দুধপাতিল এবং পরে বর্তমান শিলচরে স্থানান্তরিত হয়।

   উত্তর কাছাড় একটি পৃথক রাজ্য হিসেবে রয়ে যায়, কিন্তু ১৮৫৪ সালে তুলারামের মৃত্যুর পর ব্রিটিশদের দখলে চলে আসে; ব্রিটিশরা উত্তর কাছাড়ের শাসকদের অসদাচরণের" কারণে এই দখলকে ন্যায্যতা প্রদান করে১৮৭৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কাছাড় জেলা আসামের প্রধান কমিশনারের অংশ হয়ে ওঠে।

   দেশভাগ- ১৯৪৭ সালে গ্রেট ব্রিটেন থেকে ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর, অবিভক্ত সিলেট জেলার করিমগঞ্জ মহকুমা কাছাড় জেলার অংশ হয়ে ওঠে।১৯৬৩ সালে উত্তর কাছাড়কে কাছাড় জেলা থেকে আলাদা করে ডিমা হাসাও জেলা গঠন করা হয়, এরপর করিমগঞ্জকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।১৯৮৯ সালে কাছাড় জেলা থেকে হাইলাকান্দি জেলা গঠিত হয়।

   ভৌগোলিক অবস্থান- কাছার জেলার আয়তন ৩,৭৮৬ বর্গকিলোমিটার (১,৪৬২ বর্গমাইল)।জেলাটির দক্ষিণে মিজোরাম, পূর্বে মণিপুর, পশ্চিমে হাইলাকান্দি জেলা এবং করিমগঞ্জ জেলা এবং উত্তরে বরাইল এবং জয়ন্তিয়া পাহাড় শ্রেণী দ্বারা বেষ্টিত।বরাক নদী জেলার প্রধান নদী, এর উপনদীগুলি- উত্তরে জিরি নদী এবং জাটিঙ্গা নদী এবং দক্ষিণে সোনাই নদী এবং ধলেশ্বরী নদী।জেলাটি মূলত সমভূমি নিয়ে গঠিত, যদিও জেলা জুড়ে বেশ কয়েকটি পাহাড় শ্রেণীও রয়েছে। মাঝে মাঝে এই জেলার সমভূমির জলাভূমি প্লাবিত হয়ে হ্রদের সৃষ্টি করে।জেলাটির বেশিরভাগ এলকাতে গ্রীষ্মমন্ডলীয় চিরহরিৎ বনের সমারোহ জেলার উত্তর ও দক্ষিণে বিশাল রেইনফরেস্ট রয়েছে।

   জলবায়ু-কাছার জেলার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৩,০০০ মিলিমিটার (১২০ ইঞ্চি) এর বেশি।এর জলবায়ু গ্রীষ্মমন্ডলীয় আর্দ্র; জেলাটিতে গ্রীষ্মকাল গরম আর্দ্র থাকে এবং শীতকালে ঠান্ডা থাকে।

      কাছাড় জেলার শতকরা ঐতিহাসিক জনসংখ্যা- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে

   ১৯০১- ৩০১,৮৮৪

   ১৯১১- ৩৩৯,১০৭ +১.১৭%

   ১৯২১- ৩৫৯,৩৭৬ +০.৫৮%

   ১৯৩১- ৩৮৬,৬৯৫ +০.৭৪%

   ১৯৪১- ৪৩৭,২৮৪ +১.২৪%

   ১৯৫১- ৫৪১,৮৯১ +২.১৭%

   ১৯৬১- ৬৬৪,৩৫১ +২.০৬%

   ১৯৭১- ৮২৩,৫১৫ +২.১৭%

   ১৯৯১- ১,২১৫,৩৮৫ +১.৯৭%

   ২০০১- ১,৪৪৪,৯২১ +১.৭৪%

   ২০১১- ১,৭৩৬,৬১৭ +১.৮৬%

   জনসংখ্যা-২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, কাছাড় জেলার জনসংখ্যা ১৭,৩৬,৬১৭ জন।ভারতের মোট ৬৪০টি জেলার মধ্যে জেলাটি ২৭৮তম স্থানে রয়েছে।জেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৫৯ জন (১,১৯০/বর্গমাইল)। ২০০১ থেকে ২০১১ সালের দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২০.১৭%।কাছাড়ের লিঙ্গ অনুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপৰীতে ৯৫৮ জন মহিলাসাক্ষরতার হার ৮০.৩৬%। জনসংখ্যার ১৮.১৭% শহরাঞ্চলে বাস করে। তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতি জনসংখ্যার যথাক্রমে ১৫.২৫% এবং ১.০১%।

      ধর্ম-কাছারে হিন্দু প্রধান ধর্ম, যার জনসংখ্যা ৫৯.৮৩%। খ্রিস্টানদের মূলত উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে পাওয়া যায় এবং এই অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২.১৭% প্রতিনিধিত্ব করে খ্রীস্টানরাবাঙালিদের মধ্যে হিন্দুধর্ম এবং ইসলাম ধর্ম সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করে, যদিও এই অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩৭.৭১% মুসলমান। ১৫০৮ সালে গুরু নানকের পূর্ব ভারত ভ্রমণের পর কাছাড়ে শিখ ধর্মের আগমন ঘটে। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে, বেশিরভাগ শিখ কাছাড়ের উত্তর অংশে বাস করত, যেখানে তারা আসাম বেঙ্গল রেলওয়েতে কাজ করত।

   কাছাড় জেলার ধর্ম ২০১১ আদমশুমারি অনুসারে

   ধর্ম শতাংশ

   হিন্দুধর্ম -৫৯.৮৩%

   ইসলাম- ৩৭.৭১%

   খ্রিস্টধর্ম- ২.১৭%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখিত নয়- ০.২৯%

      ধর্ম অনুসারে সার্কেলে জনসংখ্য

                হিন্দু (%)   মুসলিম (%)      খ্রিস্টান (%)   অন্যান্য (%)

   কাটিগোড়া-   ৪৫.০০         ৫৩.৫৫         ১.৩২          ০.১৩

   শিলচর-     ৭২.১৯         ২৬.৪২         ১.০০          ০.৩৯

   উদারবন্দ-   ৭০.৪৫         ২৬.০৫         ৩.১৩          ০.৩৫

   সোনাই-     ৪১.১৭          ৫৬.৯২         ১.৭৬          ০.১৫

   লখিপুর-    ৬১.০৪          ৩২.৭১         ৫.৮৭          ০.৩৮

   কাছার জেলার ভাষা (২০১১) সালের আদমশুমারি অনুসারে

   বাংলা-  (৭৫.১৩%)

   হিন্দি-  (৮.৪৯%)

   মেইতেই- (৬.০৬%)

   ভোজপুরী- (৩.৩২%)

   বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী- (১.৩২%)

   ডিমাসা-   (১.১৯%)

   অন্যান্য-  (৪.৪৯%)

   বাংলা এবং মেইতেই কাছাড় জেলার সরকারী ভাষা।২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, মোট জনসংখ্যার ৭৫% বাংলা ভাষায় কথা বলে। যদিও বাংলা সরকারী ভাষা, তবে সবচেয়ে সাধারণ কথ্য ভাষা হল সিলেটিসিলেটি বাংলার সাথে উপভাষা হিসাবে গোষ্ঠীভুক্ত।সিলেটিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিগত সম্প্রদায়, তবে অন্যান্য জাতিগত গোষ্ঠীও জেলাটিতে বাস করে এবং তাঁরা মেইতেই, ভোজপুরি, বিষ্ণুপুরিয়া, ডিমাসা, রংমেই-নাগা, মিজো, খাসি ইত্যাদি ভাষায় কথা বলে। ভারতের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা অভিবাসীরাও এখানে উপস্থিত এবং তাঁরা মূলত হিন্দিভাষী।

   প্রশাসন-জেলাটিতে তিনটি মহকুমা রয়েছে: শিলচর, লক্ষ্মীপুর এবং কাটিগড়া। শিলচর হল জেলার সদর দপ্তরএই জেলায় সাতটি আসাম বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা রয়েছে: যথা- বরখোলা, ধোলাই, কাটিগড়া, লক্ষ্মীপুর, শিলচর, সোনাই এবং উধারবন্দ।এই সাতটি নির্বাচনী এলাকা নিয়ে শিলচর লোকসভা নির্বাচনী এলাকা গঠিত।ধোলাই ভারতের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত আর্থ-সামাজিকভাবে দুর্বল তফসিলি জাতি অধূষিত অঞ্চল

   অর্থনীতি-শিলচর জেলা সদর দপ্তর এবং আসামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি।আর্দ্র জলবায়ুর কারণে, জেলার প্রধান ফসল হল ধান এবং চা।

   ভারত সরকার ২০০৬ সালে কাছাড়কে দেশের ২৫০টি সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলার মধ্যে একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে ভারতে ৬৪০টি জেলা রয়েছে। কাছাড় বর্তমানে পশ্চাদপদ অঞ্চল অনুদান তহবিল কর্মসূচির (BRGF) মাধ্যমে তহবিল পায়।

         শিল্প ও সংস্কৃতি

   স্থাপত্য-শিলচর ও কাছাড়ে বেশ কিছু মন্দির ও ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে। শিলচর থেকে 20 কিলোমিটার (12 মাইল) দূরে খাসপুর গ্রামে সান গেট, সিংহ গেট, রাজার প্রাসাদ, একটি মন্দির এবং ১৭শতকের কাছারি রাজ্যের অন্যান্য অবশেষ রয়েছে। নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে ১৩ শতকের কাছারি দুর্গের ধ্বংসাবশেষ রযেছে। কাছাড় জেলার বারো দ্বারী বিষ্ণু মন্দির, কালী মন্দির, সিংহ দুয়ার এবং স্নান ঘর হল অন্যান্য প্রাচীন নিদর্শন। অন্যান্য স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে বদরপুরের বদরপুর দুর্গ, সোনাইয়ের চন্দ্রগিরিতে ভুবনেশ্বর শিব মন্দির, বরখোলার নৃমাতা মন্দির এবং বদরপুরের সিদ্ধেশ্বর মন্দির।

   জাদুঘর-শিলচরে বেশ কয়েকটি জাদুঘর রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আসাম রাজ্য জাদুঘর, ডিগবই শতবর্ষ জাদুঘর, রেলওয়ে হেরিটেজ পার্ক এবং জাদুঘর ও শোণিতপুর জেলা জাদুঘর।

   পার্ক এবং বিনোদন- বরাইল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হল জেলার একমাত্র বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং এটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।প্রকৃতিবিদ ডঃ আনোয়ারউদ্দিন চৌধুরী ১৯৮০ এর দশকের গোড়ার দিকে এই অভয়ারণ্য গঠনের জন্য কাজ করেছিলেন।অভয়ারণ্যে বিরল প্রজাতির হুলক গিবন, ফায়ারের পাতার বানর, শূকর-লেজযুক্ত ম্যাকাক, স্টাম্প-লেজযুক্ত ম্যাকাক, মুখোশযুক্ত ফিনফুট এবং সাদা ডানাওয়ালা কাঠের হাঁস রয়েছেঅভয়ারণ্যটি বাঘ, হুলক গিবন এবং গৌড়েরও আবাসস্থল। বাঘ বর্তমান বিলুপ্তপ্রায়জেলার দক্ষিণ অংশকেও ধলেশ্বরী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে মান্যতা প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল, কিন্তু এখনও সেই মর্যাদা পায়নি।

   পরিবহন- শিলচরে কুম্ভীরগ্রামে একটি বিমানবন্দর রয়েছেএখানে ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং স্পাইসজেট নিয়মিত বিমান পরিষেবা প্রদান করে। ব্রড-গেজ রেলপথ জেলাটিকে আসামের গুয়াহাটি এবং নয়াদিল্লি, কলকাতা, চেন্নাইসহ ভারতের অন্যান্য অংশের সাথে সংযুক্ত করেছে; এখান থেকে  উত্তর-পূর্ব ভারতের সমস্ত শহরগুলিতে নিয়মিত রেল পরিষেবা প্রদান করা হয়। নেচনেল রাস্তাগুলি জেলাটিকে দেশের বাকি অংশের সাথে সংযুক্ত করেছেএছাড়াও, উত্তর-পূর্ব ভারতের শহরগুলিতে নিয়মিত বাস পরিষেবা রয়েছে।

   শিক্ষানুষ্ঠান- কাছার জেলায় বেশ কয়েকটি সুপরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিলচর আসামের একটি প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র। জেলায় একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, আসাম বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যা শিলচর থেকে ১৮ কিলোমিটার (১১ মাইল) দূরে দোরগাকুনায় অবস্থিত। শিলচরে জাতীয় প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটও রয়েছে। অনুষ্ঠানটি ভারতের ত্রিশটি এনআইটি-র মধ্যে একটিশিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালও শিলচরে অবস্থিত এবং কলেজটি দক্ষিণ আসামের একমাত্র মেডিকেল কলেজ।

   জেলায় নয়টি ডিগ্রি কলেজ রয়েছে।

   আসাম বিশ্ববিদ্যালয়

   কাছাড় কলেজ

   গুরুচরণ কলেজ

   জগন্নাথ সিং কলেজ, উদরবন্দ

   জনতা কলেজ, কবুগঞ্জ

   মাধব চন্দ্র দাস কলেজ, সোনাই

   ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, শিলচর

   রাধামাধব কলেজ

   শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

   মহিলা কলেজ, শিলচর

   স্কুল- ২০২৩ সালের হিসাব অনুসারে  কাছাড় জেলায় ১,২৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং 158টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

   উল্লেখযোগ্য বিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে:- জওহর নবোদয় বিদ্যালয়, পাইলপুল

   কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়

   প্রণবান্দব বিদ্যা মন্দির

   অধরচাঁদ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

   পঞ্চায়েত-

   শিলচর পঞ্চায়েত সমিতি: এই সমিতির আওতাধীন ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ৪৩টি গ্রাম রয়েছে।

   বরখোলা পঞ্চায়েত সমিতি: এই সমিতির ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ৯৪টি গ্রাম রয়েছে।

   সোনাই পঞ্চায়েত সমিতি: এই সমিতির আওতাধীন ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ৬৭ টি গ্রাম রয়েছে। • 

                                         

                      চরাইদেও

   চরাইদেও জেলা ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। ১৫ আগস্ট ২০১৫ তারিখে আসামের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ চরাইদেওকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের একটি নতুন জেলা হিসাবে ঘোষণা করেছেন।শিবসাগর জেলা থেকে বিভক্ত করে চরাইদেও জেলা গঠন করা হয়েছে চৰাইদেও এই জেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তরজেলাটি উচ্চ আসাম বিভাগের অন্তর্গত

   ব্যুৎপত্তি- আহোম রাজা চাওলুং সুকাফা চরাইদেওকে প্রথম রাজধানী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।চরাইদেও নামটি তাই-আহোম শব্দ চে রাই দই বা দই চে রাই থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যার অর্থ পাহাড়ের উপর উজ্জ্বল শহর। চে-রাই-দই শব্দটি চরাইদেও বা চরাই-খোরং-এ রূপান্তরিত হয়েছিল।

   ইতিহাস- আহোম স্বর্গদেও সুকাফার আগমনের আগে এই স্থানটি মরান, বরাহি এবং সুতিয়াদের মতো স্থানীয় উপজাতিদের উপাসনালয় ছিল।

   ১২৫৩ সালে প্রথম আহোম রাজা চাও লুং সিউ-কা-ফা কর্তৃক চরাইদেওতে প্রথম আহোম রাজ্যের রাজধানী নির্মাণ করা হয়চরাইদেও পাহাড়ে ছোট পিরামিডের আকৃতির আহোম রাজা-রাণীদের মইদাম (টিউমুলাস)রয়েছে এই স্থানটিতে কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে, তবে তা ডাকাতদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এই স্থানটিকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত করার জন্য দাবি উত্থাপন হয়েছে

   সুদানংফার রাজত্বকালে (১৩৯৭-১৪০৭), অপেক্ষাকৃত ছোট আহোম রাজ্যটি মং কোয়াং দ্বারা আক্রমণ করা হয়েছিল জেনারেল তা-চিন-পাওয়ের নেতৃত্বে প্রেরিত একটি মং কোয়াং সেনাবাহিনী টিপাম পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছিলো, তবে পরবর্তীতে পরাজিত হয় এবং খাম জাং অঞ্চল পর্যন্ত পিছিয়ে যায়।দুই বাহিনীর সেনাপতিরা নং জেক হ্রদের তীরে একটি শান্তি চুক্তি সম্পাদন করেন এবং তাই রীতি অনুসারে হ্রদের জলে হাত ডুবিয়ে তাঁরা পাটকাই পাহাড় দুটি রাজ্যের সীমানা নির্ধারণ করেন।

জনসংখ্যা- চরাইদেও জেলার ধর্ম (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে

   হিন্দুধর্ম-৮৮.০০%

   খ্রিস্টধর্ম-৫.২৪%

   ইসলাম-৪.৫৮%

   অন্যান্য (উপজাতি ধর্ম)-১.২৫%

   বৌদ্ধধর্ম-০.৭২%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখিত নয়-০.২১%

   জনসংখ্যা ২০১১ সালে আদমশুমারি অনুসারে- জেলার জনসংখ্যা ৪,৭১,৪১৮ জন যার মধ্যে ২৯,৭২৩ জন(৬.৩১%) শহরাঞ্চলে বাস করে।চরাইদেও জেলা লিঙ্গ অনুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৫৫ জন মহিলা তফসিলি জাতি এবং উপজাতির জনসংখ্যা যথাক্রমে ৭,৬৪৩ (১.৬২%) এবং ১১,৯০৯ (২.৫৩%)।

   চরাইদেও জেলার ভাষা ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে

   অসমীয়া- (৭৫.৬৪%)

   সাদ্রি- (৭.৬৪%)

   বাঙালি- (৪.২২%)

   ওড়িয়া- (৩.২%)

   হিন্দি (১.৯২%)

   'অন্যান্য' হিন্দি-- (১.৮%)

   নেপালি (১.৩৮%)

   অন্যান্য- (৪.২%)

   ২০১১ সালের আদমশুমারির সময়, জনসংখ্যার ৭৫.৬৪% অসমীয়া, ৭.৬৪% সাদ্রি, ৪.২২% বাংলা, ৩.২০% ওড়িয়া, ১.৯২% হিন্দি, ১.৩৮% নেপালি। জনসংখ্যার ১.৮০% হিন্দির অধীনে 'অন্যান্য' ভাষায় কথা বলে

   জেলার মোট আয়তন ১০৬৯.১৫ বর্গ কিমি।

   মোট জনসংখ্যা- ,৭১,৪১৮ (২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে)

   সদর দপ্তর- সোনারী

   বনাঞ্চল

   ১. দিলি বন সংরক্ষিত এলাকা: ৩১০৮ হেক্টর

   ২. অভয়পুর বন সংরক্ষিত এলাকা: ৫৫৬০ হেক্টর

   ৩. সাপেখাটি বন সংরক্ষিত এলাকা: ৭৩৬ হেক্টর

   ৪. দিরোই বন সংরক্ষিত এলাকা: ৪৭৭৬ হেক্টর

   ৫. চালা বন সংরক্ষিত এলাকা: ৬৮৩.৬৪ হেক্টর

   চারণভূমি ও তৃণভূমি এলাকা ১৭০৮৩ বিঘা

      প্রশাসনিক বিভাগ:

   রাজস্ব বৃত্ত- ১. সোনারী ২. সাপেখাটি ৩. মহমোড়া ৪. নাজিরা (অংশ)

   উন্নয়ন ব্লক- ১. অভয়পুর (সোনারী) ২. মাহমোরা 3. সাপেখাটি 4. লাকওয়া

   গাঁও পঞ্চায়েত 36 টি

   রাজস্ব গ্রাম 327 টি

   মৌজা- বরুয়াশালি, সাপেখাটি, অভয়পুর, মাহমোরা, সিলাকুটু (একাংশ), ধোপাবর (একাংশ)

   থানা- 1. মথুরাপুর 2. সোনারী 3. সাপেখাটি 4. বোরহাট 5. চরাইপুং 6. নামটোলা 7. মোরানহাট 8. লাকুয়া 9. কাকোটিবাড়ি

   ফায়ার সার্ভিস স্টেশন- 1. সোনারী 2. বোরহাট

   শিক্ষাগত ব্লক-টি- সোনারী ও সাপেখাটি

   চা বাগান- 54 টি

   পৌরসভা বোর্ড- সোনারী পৌরসভা বোর্ড

   টাউন কমিটি- মোরান টাউন কমিটি

   পরিবহন- এয়ার কানেক্টিভিটি মোহনবাড়ি বিমানবন্দর, ডিব্রুগড় (নিকটতম)বিমানবন্দর জেলার সদর চরাইদেও সড়কপথে প্রায় 83 কিমি

    রেলওয়ে সংযোগ- 1. সিমলুগুড়ি রেলওয়ে স্টেশন জেলা সদর, সোনারি থেকে সড়কপথে ৩২ কিমি ২.ভোজো রেলওয়ে স্টেশন জেলা সদর, সোনারি থেকে সড়কপথে প্রায় ৬.৩ কিমি।

   সড়ক যোগাযোগ- চরাইদেওএর সাথে সড়ক পথে নাগাল্যান্ড, শিবসাগর, ডিব্রুগড় এবং মোন জেলার সাথে সুসংযুক্ত। ঐতিহাসিক ধোদর আলি সোনারি সদর দপ্তরের মধ্য দিয়ে গেছে এবং পূর্বে নামরূপ (ডিব্রুগড় জেলা), পশ্চিমে সিমলুগুড়ি, নাজিরা, জয়সাগর (শিবসাগর জেলা)এর সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে। দিসপুর থেকে সোনারি সদর দপ্তরের দূরত্ব সড়কপথে ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের মাধ্যমে প্রায় ৩৯৪ কিমি।

   শিক্ষানুষ্ঠান-

   বিশ্ববিদ্যালয় ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয় (নিকটতম)বিশ্ববিদ্যালয়

      ডিগ্রি কলেজ

   ১. সোনারি কমার্স কলেজ

   ২. বোরহাট বি.পি.বি.এম কলেজ

   ৩. মরান কলেজ

   ৪. মরান মহিলা মহাবিদ্যালয়

   ৫. সাপেখাটি কলেজ

   ৬. সোনারি কলেজ

   রাজনৈতিক ব্যবস্থা

      লোকসভা নিৰ্বাচনী এলেকা-যোরহাট (HPC-১২)

   বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা

   ১. মহমোড়া-১০৫

   ২. সোনারি-১০৬

   স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা

   জেলা হাসপাতাল মহকুমা সিভিল হাসপাতাল, রাজাপুখুরি, সোনারি

   প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র

   ১. সাপেখাটি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র

   ২. পাটসাকু প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র

   ধেমাজি দেশাংপানি চিকিৎসা কেন্দ্র

   ইউএইচসি সোনারি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র

                       

                                                                                                                                                                                                চিরাং জেলা

   চিরাং জেলা ভারতের উত্তর-পূর্বে আসাম রাজ্যের বড়োল্যান্ড অঞ্চলের একটি প্রশাসনিক জেলা। "চিরাং" শব্দটি গারো শব্দ থেকে এসেছে - "চি" অর্থ জল এবং "রং" অর্থ "বৃষ্টি" অন্যদিকে, বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন যে, চিরাং শব্দটি বড়ো শব্দ চিরাং বা সিরাং থেকে এসেছে। সি অর্থ জীবন এবং রং অর্থ ধন চিরাং জেলা পূর্ব ডুয়ার্সের অন্তর্গত, যার মধ্যে সোণকোশ নদী এবং মানস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত। গুমা, বিজনি এবং চিরাং ডুয়ার্স হলো, চিরাং জেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ডুয়ার্স(দুয়ার)

   জেলাটি আসামের বড়োল্যান্ড অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত একটি নতুন জেলা। ২০০৪ সালে বঙ্গাইগাঁও জেলাকে বিভক্ত করে চিরাং জেলা সৃষ্টি করা হয়েছে।চিরাং ছিল এমন একটি অঞ্চল যা মূল্যবান মাটি, গাছপালা, উদ্ভিদ এবং প্রাণীজগত বা মানুষের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস দ্বারা পরিপূর্ণসুতরাং, এটি এমন একটি স্থান যা মানুষের জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

   ভৌগোলিক অবস্থান- চিরাং আসামের নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত। এটি ২৬.৫৮° উত্তর ৯০.৬১° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। চিরাং অঞ্চলের ভূ-তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য সমতল। সমতলের পাশাপাশি এর ঢেউ খেলানো অঞ্চল রয়েছে এবং এই অঞ্চলের উত্তর অংশগুলি ভুটানের নিম্নাঞ্চলের উপর অবস্থিত, যার উচ্চতা কিছুটা বেশি, যা ক্রমশঃ দক্ষিণ অংশের দিকে হ্রাস পাচ্ছে। এখানে পাওয়া চার ধরণের মাটি হল এন্টিসল, ইনসেপ্টিসল, আলফিসল এবং আলটিসল। এই অঞ্চলটি নিম্ন ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার কৃষি-জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। চম্পাবতী নদী, আই নদী এবং মানস নদী এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এবং নদী কয়টি ব্রহ্মপুত্র জলপথে মিলিত হয়েছে

   জাতীয় সংৰক্ষিত এলাকা- মানস জাতীয় উদ্যান সংরক্ষিত এলাকা।

   উদ্ভিদ ও প্রাণী- মানস জাতীয় উদ্যান ১৯৯০ সালে চিরাং জেলা অন্তর্ভূক্ত হয়েছেমানস জাতীয় উদ্যানের আয়তন ৫০০ বর্গকিলোমিটার (১৯৩.১ বর্গ মাইল)।  

   চিরাংয়ের জলবায়ু মাঝারি। গ্রীষ্মকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং শীতকালে এটি আবার বেশ শুষ্ক থাকে। চিরাংয়ের গড় বার্ষিক তাপমাত্রা ৩৩° (ডিগ্রি) এবং বছরে প্রায় ২৪৮ মিমি বৃষ্টিপাত হয়। এটি বছরে ২৮২ দিন শুষ্ক থাকে এবং গড় আর্দ্রতা ৪২%।

      জনসংখ্যা- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, চিরাং জেলার জনসংখ্যা ৪,৮২,১৬২ জন। জেলাটি জনসংখ্যার দিক দিয়ে ভারতে ৫৪৭ তম স্থানে রয়েছে।জেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৪৪ জন (প্রতি বর্গমাইল ৬৩০)।২০০১-২০১১ এর দশকে জেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১১.২৬%।চিরাঙের লিংগ অনুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৬৯ জন মহিলাসাক্ষরতার হার ৬৪.৭১%জনসংখ্যার ৭.৩৩% শহরাঞ্চলে বাস করে। তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতিৰ জনসংখ্যা যথাক্রমে ৭.২৯% এবং ৩৭.০৬%।

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে চিরাং জেলার ধর্ম-

   হিন্দুধর্ম- 66.50%

   ইসলাম- 22.66%

   খ্রিস্টধর্ম--10.32%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখ না করা- 0.52%

 জেলায় হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, 66.50%মুসলিমরা 22.66% নিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠীখ্রিস্টানরা 10.32% নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে চিরাং জেলার ভাষা-

   বড়ো-    (37.82%)

   বাংলা-   (28.85%)

   অসমীয়া- (17.19%)

   সাঁওতালি- (4.72%)

   রাজবংশী- (4.22%)

   নেপালি-  (2.51%)

   কুরুখ-  (1.11%)

   হিন্দি-   (1.06%)

   অন্যান্য- (2.52%)

   পরিবহন ব্যবস্থা- ভারত-ভুটান আন্তর্জাতিক সীমান্ত গেলেফু ভারত-ভুটান ক্রসিং গেলেফু চিরাংয়ের সদর দপ্তর কাজলগাঁও থেকে ৪১ কিমি এবং, বঙ্গাইগাঁও থেকে ৭ কিমি দূরে অবস্থিত। শিলিগুড়ি থেকে গেলেফুর দূরত্ব ৩৪০ কিমি।

   দর্শনীয় স্থান-

   কালামাটি ঝর্ণা

   কালামাটির অন্ধকার দৃশ্য

   কালামাটির রঙিন পাহাড়

   কালো পাথর

   মুনবিলি পিকনিক স্পট এবং ইকো ট্যুরিজম

   মুনবিলি সন্ধ্যার ছায়া

   নিজলাগুড়ি নিজরা এবং ইকো ট্যুরিজম পিকনিক স্পট

   আইপোয়ালি পিকনিক স্পট

   ইন্দো-ভুটান সীমান্ত মাওরিয়া পিকনিক স্পট এবং ইকো ট্যুরিজম

   প্রশাসন- জেলার সদর দপ্তর কাজলগাঁওয়ে অবস্থিতজেলাটিতে ৪৭৯টি রাজস্ব গ্রাম রয়েছে।

   প্রধান শহর-বসুগাঁও, কাজলগাঁও, বিজনী, বেংত, কিষান বাজার, চাপাগুড়ি জনপদ, ঢালিগাঁও, বনগাঁও শোধনাগার

   গ্রাম-বেংল, সোলমারি, পাতাবাড়ি (দ্বীপ),কইলা মইলা,পানবাড়ি,সুবাইঝার, দাদগাড়ী, Gwbwr বাজার, লাইমুতি এফ.ভি, কাশিকোটরা

   শিক্ষা- জেলায় অসংখ্য কলেজ এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার মাঝে উল্লেখযোগ্য কলেজ হলো-

   বেতল কলেজ।

   বিজনি কলেজ।

   উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্ম কলেজ

   বাসুগাঁও কলেজ

   সমস্ত কলেজ এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বড়োল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সম্পর্কিত।

   শিল্প- বঙ্গাইগাঁও রিফাইনারি: আসামের তৃতীয় রিফাইনারি, ছালিগাঁওয়ে অবস্থিত।

   নদী- মানস নদী,আই নদী, আই নদীর সন্ধ্যার ছায়া, লঙ্কার নদী

   সরকারি ভাষা-অসমীয়া

   রাজস্ব সার্কেলের সংখ্যা-

   উন্নয়নমূলক ব্লকের সংখ্যা-

   শিক্ষা ব্লকের সংখ্যা-

   পৌরসভা বোর্ডের সংখ্যা-

   গাঁও পঞ্চায়েতের সংখ্যা-৭৪টি

   গ্রামের সংখ্যা- ৪৯৬

   রাজস্ব গ্রামের সংখ্যা-৪৭৯

   বন গ্রামের সংখ্যা-২২

   পুলিশ স্টেশনের সংখ্যা-

   ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা-

   লোকসভা নির্বাচনী এলাকা- কোকরাঝাড় (এসটি) (HPC-1)

   বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা- 2 (19-সিডলি চিরাং LAC, 20-বিজনি LAC)

   জেলা হাসপাতালের সংখ্যা-1

   প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সংখ্যা-3

   কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সংখ্যা-4

   উপকেন্দ্রের সংখ্যা-87

   শিক্ষা ব্যবস্থা

   বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা-বোডোল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়, কোকরাঝাড় (নিকটতম)

   ডিগ্রি কলেজের সংখ্যা-6

   ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সংখ্যা- CIT কোকরাঝাড় (নিকটতম)

   উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা-10

   উচ্চ বিদ্যালয়ের সংখ্যা-44

   উচ্চ প্রাথমিক (সরকারি)বিদ্যালয়- 88 টা এবং  নিম্ন প্রাথমিক (সরকারি)বিদ্যালয়- 777 টা

   মোট এলাকা- ১৪৬৮.৪২ বর্গ কিমি

   মোট জনসংখ্যা-৪,৮২,১৬২

   পুরুষ জনসংখ্যা-২৪৪,৮৬০

   মহিলা জনসংখ্যা-২৩৭,৩০২

   গ্রামীণ জনসংখ্যা-৪৪৬,৮২৫

   শহুরে জনসংখ্যা-৩৫,৩৩৭

   জনসংখ্যা বৃদ্ধির শতকরা হার-১১.৩৪

   ঘনত্ব-২৫১/বর্গ কিমি

   লিঙ্গ অনুপাত-১০০০ পুৰুষের বিপরীতে ৯৬৯ জন মহিলা

   গড় সাক্ষরতার শতকরা হার- ৬৩.৫৫

   পুরুষ সাক্ষরতার শতকরা হার-৭০.২৪

   মহিলা সাক্ষরতার হার-৫৬.৬৫

   মোট পরিবার-৯৭,৩৯৫ •                                                                                                                                                     দরং জেলা

   দরং ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। জেলার সদর দপ্তর মঙ্গলদইতে অবস্থিত। জেলাটি ১৫৮৫বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে রয়েছে পণ্ডিত স্বর্গীয় দীনেশ্বর শর্মার মতে, এই দরং নামটি এসেছে অসমীয়া শব্দ "দোয়ার" থেকে, যার অর্থ "দরজা যা পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের পলিমাটি প্লাবন ভূমিতে দীর্ঘকাল ধরে হিমালয় থেকে আসা ব্যবসায়ী এবং ভ্রমণকারীদের জন্য প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করে আসছে দরং চীন, তিব্বত, ভুটান এবং মধ্য এশিয়ার মতো অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করে আসছে এই ডুযার্স

   ইতিহাস- ১৮৬৫ সালের দুয়ার যুদ্ধের আগে পর্যন্ত বর্তমানের দরং জেলা ভুটানের দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত ছিল।

   প্রাক-মধ্যযুগীয় সময়ের দরং সম্পর্কে কোনও সুনির্দিষ্ট রেকর্ড পাওয়া যায় না। মহেশ্বর নেওগের মতে, রাজা নর নারায়ণের বিদ্রোহের পর থেকে দরংয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়। বিভিন্ন সময়ে দরং চুটিয়া রাজ্য, বড়ো এবং বারো-ভূঁইয়াদের শাসনাধীনে ছিলো ধর্মনারায়ণের রাজত্বকালে দরংয়ে ৩০০০ চুটিয়া পরিবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

   ১৬শ শতাব্দীতে, দরং কামতা রাজা নর নারায়ণের অধীন ছিল এবং পরে তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে রাজ্য ভাগাভাগি হওয়ার পর দরং কোচ হাজোর অংশ হয়ে ঠেছিলো১৭শ শতাব্দীর গোড়ার দিকে রাজা বলি নারায়ণ মুঘল আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে উচ্চ আসামের আহোমদের সাহায্য প্রার্থনা করেছিলে; ১৬৩৭ সালে বলি নারায়ণের পরাজয় এবং তাঁর মৃত্যুর পর আহোমরা সমগ্র জেলায় আধিপত্য বিস্তার করে। ১৭৮৫ সালের দিকে দরং রাজারা আহোম রাজ্যের পতনের সুযোগ নিয়ে তাদের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা করেন, কিন্তু ১৭৯২ সালে ব্রিটিশ অভিযানের কাছে তারা পরাজিত হন এবং ১৮২৬ সালে দরং আসামের বাকি অংশসহ  ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে

   ১৭শ শতাব্দীর গোড়ার দিকে  ভুটান রাজ্য গোহাই কমল আলি পর্যন্ত দরং ডুয়ার্সের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই অঞ্চলগুলির উপর ভুটানের নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, যাদেরকে ভুটানের প্রাদেশিক গভর্নররা শাসক হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেনতাঁদের পোনলপ বলা হতো১৮৬৫ সালের মধ্যে, ডুযার্স যুদ্ধের মাধ্যমে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ডুয়ার্সের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং এই এলাকা ভুটানের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়

   ১৭৮৫ সালে ধনী রাম গোহাই নামে একজন আহোম অফিসার দরং জরিপ করেন।

   ১৮৯৪ সালের ২৮ জানুয়ারী ব্রিটিশ রাজ কর্তৃক বর্ধিত ভূমি রাজস্বের বিরুদ্ধে দরং জেলার পাথারিঘাট গ্রামে কৃষক বিদ্রোহ দেখা দেয়। এরপর ব্রিটিশদের প্রতিক্রিয়ায় হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের ১৪০ জন কৃষক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং আরও ১৫০ জন আহত হন।

   ১৯৮৪ সালে দরংয়ের অংশ থেকে শোণিতপুর জেলা গঠিত হয়। আবার ১৪ জুন ২০০৪ সালে দরং থেকে কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন করে উদালগুড়ি জেলা গঠন করা হয়

   জাতীয় সংরক্ষিত এলাকা- ওরাং জাতীয় উদ্যান দরং এবং শোণিতপুর জেলার মধ্যে অবস্থিতওরাং জাতীয় উদ্যান ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর আয়তন ৭৯ বর্গ কিলোমিটার (৩০.৫ বর্গ মাইল)।

   এই জেলায় চারটি আসাম বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে: কালাইগাঁও, সিপাঝাড়, মঙ্গলদই এবং দলগাঁও।মঙ্গলদই তফসিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত এই চারটি বিধান সভা সমষ্টি মঙ্গলদ লোকসভা সমষ্টির অন্তর্গত।

   উল্লেখযোগ্য গ্রাম-বাহগড়া,দীপিলা,গাখীরখোয়া পাড়া,নামখোলা,পাথরিঘাট

   ঐতিহাসিক জনসংখ্যা

   ১৯০১- ৯৯,০০২

   ১৯১১- ৯,৮,৭৫৮ .০২%

   ১৯২১- ১,১০,৩৯১ +১.১২%

   ১৯৩১- ১,৩৯,০৮৯ +২.৩৪%

   ১৯৪১- ১,৮৮,১৮৯ +৩.০৭%

   ১৯৫১- ২,৩৩,৬০৭ +২.১৯%

   ১৯৬১- ৩,১০,৩২১ +২.৮৮%

   ১৯৭১- ৪,০৪,৯৬১ +২.৭০%

   ১৯৯১- ৬,১৮,৬৫৩ +২.১৪%

   ২০০১- ৭,৫৯,৮৫৮ +২.০৮%

   ২০১১- ৯,২৮,৫০০ +২.০২%

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে দরং জেলার জনসংখ্যা ৯,২৮,৫০০ জনজেলাটি ভারতের মোট ৬৪০টি জেলার মধ্যে ৪৬৩তম স্থানে রয়েছে।জেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৫৮৬ জন (১,৫২০/বর্গমাইল)।২০০১-২০১১ দশকে দরং-এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২২.১৯%। দরং-এ পুরুষ মহিলার লিঙ্গ অনুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৫৪ জন মহিলা সাক্ষরতার হার ৬৩.০৮%। জনসংখ্যার ৯৩.৯% গ্রামাঞ্চলে এবং ৬.১% শহরাঞ্চলে বাস করে।জেলার দারিদ্র্যের হার ৪৫.৫%। জনসংখ্যার ৫.৯৮%। তফসিলি জাতি এবং উপজাতি জনসংখ্যা যথাক্রমে ৪.৩৪% এবং ০.৯১%।

   ২০১১ সালের আদমশুমারি মতে ধর্ম অনুসারে দরং জেলার শতকরা জনসংখ্যা-

   ইসলাম- ৬৪.৩৪%

   হিন্দুধর্ম- ৩৫.২৫%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখ না করা-০.৪১%

   ধর্ম অনুসারে চার্কেলের জনসংখ্যা

    চার্কেল    মুসলিম  হিন্দু      অন্যান্য

   খৈরাবাড়ি-  ৪.৭৪%  ৯৫.১৯%    ০.০৭%

   পাথরিঘাট- ৩৫.১৮% ৬৪.৬৯%   ০.১৩%

   সিপাঝাড়-  ৪৬.২৩% ৫৩.৫৬%   ০.২১%

   মঙ্গলদই-  ৪২.৩৬%  ৫৭.২২%    ০.৪২%

   কলাইগাঁও- ১০.২৫%  ৮৯.৬০%   ০.১৫%

   দলগাঁও-   ৮৮.২৭%  ১১.২০% ০.৫৩%

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, দরং জেলায় ইসলাম ধর্মের অনুসারী সর্বাধিক ৫,৯৭,৩৯২ জন অর্থাৎ (৬৪.৩৪%) হিন্দু ধর্ম অনুসরণ করে ৩,২৭,৩২২ জন অর্থাৎ জেলার জনসংখ্যার ৩৫.২৫%। ১৯৭১ সালে পূর্বের অবিভক্ত দরং জেলায় (শোণিতপুর এবং উদালগুড়ি জেলাসহ) হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল, যা সমগ্র জনসংখ্যার ৭০.৩% ছিলো, যেখানে সেই সময়ে মুসলমানরা ছিল ২৩.৯%।

   দরং জেলার ভাষা (২০১১)এর আদমশুমারি অনুসারে

   অসমীয়া (৪৯.২৯%)

   বাঙালি (৪৮.৪%)

   হিন্দি (০.৬৮%)

   বড়ো (০.৪৫%)

   ভোজপুরী (০.৩৭%)

   সাদ্রি (০.১৯%)

   অন্যান্য (০.৬২%)

   ২০১১ সালের আদমশুমারির সময়, অসমীয়াভাষী জনসংখ্যা ছিল ৪,৫৭,৬৯৬ জন এবং বাংলাভাষী জনসংখ্যা ছিল ৪,৪৯,২০৫ জন

          রাজস্ব সার্কেল- আসামের দরং জেলায় বেশ কয়েকটি রাজস্ব সার্কেল রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মঙ্গলদই, দলগাঁও, সিপাঝার, পাথরিঘাট এবং কালাইগাঁও (PT), খইরাবাড়ি (PT)

          জেলাটি "দেবতাদের খেলার মাঠ" নামে পরিচিত।

   এটি হিমালয় এবং ব্রহ্মপুত্র নদীর মাঝখানে আসামের উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থিত।

   দরং কামরূপ হিন্দু রাজ্যের অংশ ছিল এবং পরে কোচ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলো

   জেলায় ৫৬৩টি রাজস্ব গ্রাম রয়েছে।

   দুটি শহর রয়েছে: মঙ্গলদই পৌর বোর্ড এবং খারুপেটিয়া শহর কমিটি।

   জেলাটি উদালগুড়ি, শোণিতপুর এবং কামরূপ জেলা দ্বারা বেষ্টিত।

   জেলা প্রশাসন- জেলাটির একটি মাত্র মহকুমা রয়েছে, যথা - মঙ্গলদই (সদর) মহকুমা

      রাজস্ব সার্কেল- মঙ্গলদই, চাপা,রাঙামাটি, দহি, কলাইগাঁও, সিপাঝার

      মৌজা- সিপাঝার, লোকরাই, হিন্দুঘোপা, পাথরিঘাট, দিপিলা, বনমাঝা, বৃষ্টিকুচি, সারাবাড়ি, চিনাকোনা, দলগাঁও, পাব-দলগাঁও, শ্যামাবাড়ি, পশ্চিম-দলগাঁও, খারুপেটিয়া, পূব-শিয়ালমারী, পচিম-শিয়ালমারী

   উন্নয়ন ব্লক-সিপাঝাড়, শ্চিম-মঙ্গলদাই, দলগাঁও-শিয়ালমারি, পুব-মঙ্গলদই, কালাইগাঁও (অংশ), বেছিমারি

   জেলা পরিষদ- দরং জেলা পরিষদ (১৪টি জেলা পরিষদ নির্বাচনী এলাকা সহ)

      আঞ্চলিক পঞ্চায়েত- প্রতিটি ব্লক একটি করে আঞ্চলিক পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। সুতরাং দরং জেলায় মোট ৬টি আঞ্চলিক পঞ্চায়েত রয়েছে

   গাঁও পঞ্চায়েত- দরং জেলায় মোট ৭৫টি গাও পঞ্চায়েত রয়েছে

   রজস্ব গ্রাম-দরংয়ে মোট ৫৬৩টি রাজস্ব গ্রাম রয়েছে।

   শহর (পৌরসভা/টিসি)-(১) মঙ্গলদই পৌর বোর্ড (২) খারুপেটিয়া শহর কমিটি • 

 

                                                 ধেমাজি জেলা

   ধেমাজি জেলা ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। জেলা সদর দপ্তর ধেমাজিতে অবস্থিত এবং বাণিজ্যিক সদর দপ্তর শিলাপাথরে অবস্থিত। ধেমাজি ৩,২৩৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং এর জনসংখ্যা ৬,৮৬,১৩৩ জন (২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী)। প্রধান ধর্ম হল হিন্দুধর্ম জনসংখ্যার প্রায় ৯৫.৪৭% হিন্দু। জেলা সদর দপ্তর ধেমাজিতে এবং বাণিজ্যিক সদর দপ্তর শিলাপাথারে অবস্থিত। 

   উৎপত্তি- জেলার নাম ধেমাজি চুটিয়া শব্দ ডেমা-জি থেকে এসেছে, যার অর্থ প্রচুর জল। অৰ্থাৎ নামটির দ্বারা বন্যাপ্রবণ অঞ্চল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে

   ইতিহাস- ১২ শতক থেকে ১৬ শতক পর্যন্ত বর্তমান জেলার এলাকাগুলি লখিমপুর, তিনসুকিয়া, যোরহাট, ডিব্রুগড় এবং শোণিতপুর জেলার সাথে বৃহত্তর চুটিয়া রাজ্যের অংশ ছিল ১৬ শতকের গোড়ার দিকে আহোম-চুটিয়া সংঘর্ষ শুরু হয়। চুটিয়া শাসনামলে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভগুলির মধ্যে রয়েছে মালিনিথান, গরখীয় থান, বরদলোনি থান এবং বাসুদেব মন্দির।

   ১৯৮৯ সালের ১৪ অক্টোবর লখিমপুর জেলা থেকে বিভক্ত করে ধেমাজিকে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলায় পরিণত করা হয়েছে ধেমাজি জেলার আয়তন ৩,২৩৭ বর্গকিলোমিটার (১,২৫০ বর্গমাইল), যা সলোমন দ্বীপপুঞ্জের মাকিরা দ্বীপের প্রায় সমান। জেলাটি আসামের পূর্বতম অংশে অবস্থিত।এটি ভারতের দ্রুততম উন্নয়নশীল জেলাগুলির মধ্যে একটি

   জেলাটি ব্রহ্মপুত্র নদী পাশে অবস্থিত এবং ব্ৰহ্মপুত্ৰের অসংখ্য উপনদী জেলাটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায়, এই অঞ্চলটি গ্রীষ্মঋতুতে বারবার বন্যার দ্বারা প্রভাবিত হয়।

   ধেমাজি জেলার প্রাণকেন্দ্র হল ধেমাজি

   দ্বিতীয়ত, শিলাপাথর হল ধেমাজি জেলার প্রধান ব্যবসায়িক স্থান।

   শিক্ষা-জেলার উল্লেখযোগ্য স্কুলগুলির মধ্যে রয়েছে বরপাটারিয়া এল.পি. স্কুল, ভৈরবপুর নেতাজি এম.ই. স্কুল, সেন্ট ফ্রান্সিস ডি সেলস স্কুল, ধেমাজি পাবলিক স্কুল, মরিধল হাইস্কুল, শঙ্কর দেব হাইস্কুল, মাদারস প্রাইড স্কুল, সিলাপাথর টাউন হনুমান গাধি হিন্দি হাইস্কুল এবং ধেমাজি উচ্চ বিদ্যালয়।

ধেমাজি জেলার কলেজগুলি হল:

   ধেমাজি কলেজ

   ধেমাজি কমার্স কলেজ

   ধেমাজি গার্লস কলেজ

   মরিধল কলেজ

   মাছখোয়া ডিগ্রি কলেজ

   সিসিবরগাঁও কলেজ

   পচিম ধেমাজি কলেজ

   সিমেন চাপরি কলেজ

   গোগামুখ কলেজ

   বরদলনী সেন্ট্রাল কলেজ

   ডিমৌ কলেজ

   শিলাপাথর কলেজ

   শিলাপাথর বিজ্ঞান কলেজ

   শিলাপাথর টাউন কলেজ

   পূর্বাঞ্চল কলেজ

   মুরকংসেলেক কলেজ

   জোনাই গার্লস কলেজ

   জোনাই বিজ্ঞান কলেজ

   আকজান কলেজ

   ধেমাজি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

   ধেমাজি পলিটেকনিক প্ৰতিষ্ঠান

   ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ধেমাজি

   DIET কলেজ, ধেমাজি

   ধেমাজি পিজিটি কলেজ (বেসরকারি)

   অর্থনীতি- ২০০৬ সালে, ভারত সরকার ধেমাজিকে দেশের মোট ৬৪০টি জেলার ২৫০টি সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলার মধ্যে একটি হিসেবে ঘোষণা করেছেএটি আসামের এগারোটি জেলার মধ্যে একটি যারা বর্তমানে পশ্চাদপদ অঞ্চল অনুদান তহবিল কর্মসূচি (BRGF) থেকে তহবিল পাচ্ছে।

   শিলাপাথর ধেমাজি জেলার সবচেয়ে উন্নত শহর। এর অর্থনীতি মূলত ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল।

   বিভাগ- এই জেলায় দুটি আসাম বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা রয়েছে: ধেমাজি এবং জোনাই। উভয়ই তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংৰক্ষিত নিৰ্বাচনী এলেকা দুটি লখিমপুর লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তৰ্গত। ধেমাজি জেলা রাজনৈতিকভাবে খুবই দরিদ্র। এর প্রধান কারণ হল সম্প্রদায়গত রাজনীতি।

   ঐতিহাসিক জনসংখ্যা

   1901- 21,324 -  -

   1911- 26,930 +2.36%

   1921- 36,106 +2.98%

   1931- 44,742 +2.17%

   1941- 54,896 +2.07%

   1951 64,745 +1.66%

   1961 113,439 +5.77%

   1971- 230,762 +7.36%

   1991- 478,830 +3.72%

   2001- 571,944 +1.79%

   2011- 686,133 +1.84%

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে ধেমাজি জেলার ভাষা

   অসমীয়া- (৩৯.২১%)

   মিশিং-   (৩২.৫৩%)

   বাঙালি-  (৯.৮%)

   বড়ো-   (৬.৯৫%)

   নেপালি-  (৫.২৬%)

   হিন্দি-   (১.৪৯%)

   হাজং-   (০.৯৫%)

   অন্যান্য- (৩.৮১%)

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে ধেমাজি জেলার জনসংখ্যা ৬৮৬,১৩৩ জন, যা নিরক্ষীয় গিনি জাতির অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ডাকোটা রাজ্যের প্রায় সমান। জেলাটি ভারতের ৬৪০ টি জেলার মধ্যে ৫০৪তম স্থানে রয়েছে। প্রতি বর্গকিলোমিটারে জেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব ২১৩ জন। ২০০১-২০১১ দশকে জেলাটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২০.৩%। ধেমাজি জেলার লিঙ্গ অনুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৪৯ জন মহিলা এবং সাক্ষরতার হার ৬৯.০৭%। জনসংখ্যার ৭.০৪% শহরাঞ্চলে বাস করে। তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতি যথাক্রমে ৬.৪৫% এবং ৪৭.৪৫%।

   হিন্দুরা জনসংখ্যার ৯৫.৪৭%। মুসলিম (১.৯৬%) এবং খ্রিস্টান (১.২৭%)মাজুলি জেলার পরে ধেমাজি আসামের হিন্দু প্রধান জেলা

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে জেলার জনসংখ্যার ৩৯.২১% অসমীয়া, ৩২.৫৩% মিসিং, ৯.৮০% বাংলা, ৬.৯৫% বড়ো, ৫.২৬% নেপালি, ১.৪৯% হিন্দি এবং ০.৯৫% হাজং

   শহরঞ্চল- ধেমাজি, Dimow, গোগামুখ, জোনাই বাজার, শিলাপাথর, সিমেন চাপরি, সিসিবরগাঁও, তেলাম

   উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত- বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের বরদইবুম-বিলমুখ ধেমাজি জেলার অন্তর্গত অভয়ারণ্যটির আয়তন 11 বৰ্গকিমি (4.2 বর্গ মাইল)।অভয়ারণ্যটির কিছু অংশ লখিমপুর জেলার অন্তর্গত

   ৰাজস্ব সাৰ্কেল- আসামের ধেমাজি জেলায় ছয়টি রাজস্ব সার্কেল রয়েছে: ধেমাজি, সিসিবরগাঁও, জোনাই, গোগামুখ, দলগাঁও এবং ঢকুয়াখানা।

   পঞ্চায়েত সমিতি: ধেমাজি জেলায় ৫টি পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে: ধেমাজি, সিসিবরগাঁও, মোরকংসেলেক, বোরদোলোনি এবং মাখখোয়া।

      গাঁও পঞ্চায়েত: জেলার মধ্যে মোট ৬৫টি গাঁও পঞ্চায়েত রয়েছে।

   গ্রাম: জেলায় ২২৪৩টি গ্রাম রয়েছে।

      উপ-বিভাগ: ধেমাজি জেলা দুটি উপ-বিভাগে বিভক্ত: ধেমাজি এবং জোনাই।

   ব্লক: জেলায় ৫টি ব্লক রয়েছে: ধেমাজি, সিসিবরগাঁও, মোরকংসেলেক উপজাতি উন্নয়ন ব্লক, বরদলোনি এবং মাখখোয়া ব্লক • 

 

                                               ধুবড়ি জেলা

   ধুবড়ি ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। কমতাপুর স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের অন্তর্ভুক্ত এই  জেলার সদর দপ্তর ধুবড়ি শহরে অবস্থিত শহটি গুয়াহাটি থেকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি পূর্ববর্তী অবিভক্ত গোয়ালপাড়া জেলার সদর দপ্তরও ছিল দপ্তরটি ১৮৭৬ সালে ব্রিটিশ সরকার গঠন করেছিল। ১৯৮৩ সালে গোয়ালপাড়া জেলাকে চারটি জেলায় বিভক্ত করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ধুবড়ি জেলা একটি। ধুবড়ি জেলা আসামের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলির মধ্যে একটি। ধুবড়ি জেলাকে বিভক্ত করে ২০১৬ সালে আবার দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর জেলা গঠন করা হয়েছে ০১১ সালের আদমশুমারির হিসাব অনুযায়ী, এটি আসামের (২৭টি জেলার মধ্যে) নগাঁও জেলার পরে দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল জেলা

   অতীতে জেলাটি পশ্চিম আসামের প্রবেশদ্বার ছিল বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর মিলনস্থল এই অঞ্চলে সকল মানুষ একত্রিত হয়ে একটি অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ঐতিহাসিক পটভূমি তৈরি করেছিল। এই অঞ্চলে আক্রমণকারী এবং অভিবাসীদের বিভিন্ন জাতি, বর্ণ এবং ধর্মের ক্রমাগতভাবে মিলনে কারণে বিশেষ করে স্থানীয় মানুষের মাঝে ভাষা, শিল্প এবং ধর্মের ক্ষেত্রে মিশ্র সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছে ধুবড়িতে গুরু শ্রী তেগ বাহাদুর সাহেবের মূর্তি অবস্থিতচিলারায়ে মূর্তিও রয়েছে ধুবড়ি শহরে

   আহোম স্বর্গদেও চক্রধ্বজ সিংহের বিদ্রোহ দমন করার জন্য ১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আওরঙ্গজেব আম্বরের কচ্ছওয়া রাজপুত রাজা রাম সিংহকে নিযুক্ত করেছিলেন। কিন্তু আসাম এই ধরনের অভিযানের জন্য একটি দূৰ্গম দেশ ছিলতাই রাজা রাম সিংহ গুরু তেগ বাহাদুরকে তার সাথে থাকার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। গুরু তেগ বাহাদুরের ভূমিকা রাজা রাম সিংহয়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রমাণিত হয়েছিল। এই অভিযানটি আসলে রাম সিংহের জন্য শাস্তিস্বরূপ ছিল, কারণ কয়েক বছর আগে শিবাজি এবং তার পুত্র রাম সিংহের হেফাজত থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

   দর্শনীয় স্থানসমূহ- ধুবরিতে ঐতিহাসিক পানবাড়ি মসজিদ অবস্থিতঐতিহাসিক নেতাই ধুবুনির ঘাটও ধুবরি শহরে অবস্থিত

   ঐতিহাসিক পানবাড়ি মসজিদ ধুবরি শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থিত মসজিদটি এটি ভারতের আসাম রাজ্যের প্রাচীনতম মসজিদ হিসেবে বিবেচিত। মসজিদটি বাংলার শাসক দক্ষ প্রশাসক হোসেন শাহ কর্তৃক ১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত হয়েছিলমসজিদটি মুঘল মুসলিম সৈন্যদের দ্বারা প্রার্থনা গৃহ হিসেবে ব্যবহৃত হত। এখানে একটি ঈদগাহ এবং একটি গভীর কূপও রয়েছে, যা সম্ভবত সেই সময়ে নির্মিত হয়েছিল। পানবাড়ি "পাহাড়", যা আসামে মুসলমানদের পবিত্র স্থান হিসাবে পরিচিত। বলা হয় যে, প্রায় ২০০ বছর আগে এই স্থানের স্থানীয় লোকেরা ঘন জংঘলের মাঝে পানবাড়ি "পাহাড়"-এ এই মসজিদটি খুঁজে পেয়েছিলেন। তারা এই স্থানটি পরিষ্কার করেছিলেন এবং সেখানে নামাজ পড়া শুরু করেছিলেন। ঈদের সময় এই মসজিদটি একটি বিশেষ চেহারা ধারণ করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ এই মসজিদটি পরিদর্শন করতে আসেন। কেবল ভারত থেকে নয়, যুক্তরাজ্য এবং জাপান থেকেও মানুষ এই মসজিদটি পরিদর্শন করতে আসেন। কিন্তু সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মসজিদটি দ্রুত তার গৌরব হারাতে চলেছে

   আহোম শাসনের বিরুদ্ধে মুঘল সংঘর্ষের সময় রাজা রাম সিংহের সাথে আসা পাঁচজন সুফি সাধকের মাজার শরীফ জেলাটিতে অবস্থিত

   আধুনিক ধুবড়ি জেলাটি ১৯৮৩ সালের ১ জুলাই গোয়ালপাড়া জেলা থেকে বিভক্ত করে গঠন করা হয়েছে।

   ভৌগোলিক অবস্থান- ধুবরী জেলার আয়তন ২,৮৩৮ বর্গকিলোমিটার (১,০৯৬ বর্গমাইল), যা তুলনামূলকভাবে রাশিয়ার জেমলিয়া জর্জিয়ার সমান।

   ধুবরী জেলা আন্তঃরাজ্য এবং আন্তর্জাতিক উভয় সীমানা দ্বারা বেষ্টিত জেলার পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ; পূর্বে বঙ্গাইগাঁও জেলা, গোয়ালপাড়া জেলা এবং মেঘালয়ের গারো পাহাড় জেলা; উত্তরে কোকরাঝাড় জেলা এবং দক্ষিণে বাংলাদেশ এবং মেঘালয় রাজ্য। জেলাটি ৮৯.৪২ থেকে ৯০.১২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২৬.২২ থেকে ২৫.২৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত জেলাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে ৩০ মিটার উপরে অবস্থিত। ধুবরী জেলার সাধারণ ভূ-প্রকৃতি সমতল টোকোরাবান্ধা, দুধনাথ, চন্দ্রডিঙ্গা, বকুয়ামারি, বড়পাহাড়, চক্রশিলা ইত্যাদি ছোট ছোট পাহাড়ও রয়েছে জেলাটিতেপাহাড়গুলির সবই জেলার উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত। এই জেলার মধ্য দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে দিকে প্রবাহিত হচ্ছে প্রবল ব্রহ্মপুত্র নদ চম্পাবতী, গৌরাঙ্গ, গদাধর, গঙ্গাধর, টিপকাই, সোনকোশ, শিলাই, জিঞ্জিরাম ইত্যাদি ব্ৰহ্মপুত্ৰের শাখানদীজেলার গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত ,৯১৬ মিমি।

    অর্থনীতি- ধুবড়ি জেলা মূলত কৃষি ও বনজ পণ্যের উপর নির্ভরশীল। আয়ের প্রধান উৎস ধান (শীতকালীন এবং শরৎকালীন উভয় মরশুমে)অর্থকরী ফসলের মধ্যে পাট এবং সরিষাও রয়েছেগম, ভুট্টা, ডাল এবং আখও মাঝারিভাবে চাষ করা হয়। বনজ সম্পদের মধ্যে কাঠ এবং বাঁশ রয়েছে যথেষ্টপাথর এবং বালিও পাওয়া যায় জেলাটিতেজেলাটির অর্থনীতিতে মাছ, দুধ, মাংস এবং ডিমের অবদান খুব কম। জেলাটিতে ১৩৬২.৩৩ হেক্টর এলাকা জুড়ে তিনটি চা বাগান রয়েছে, যদিও জেলার অর্থনীতিতে তাদের অবদান খুব নগণ্য  ভূমি রাজস্ব আদায় খুবই কম হয়। জেলাটিতে চেক গেট থেকে কর সংগ্রহের মাধ্যমে এবং আবগারি শুল্ক থেকে উল্লেখযোগ্য ধরণে আয় হয়শিল্প উৎপাদন বঞ্চিত  জেলাটি প্রশাসন, উন্নয়ন এবং কল্যাণমূলক কাজে সরবরাহের চেয়ে বেশি তহবিল ব্যবহার করে। এর সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদ এখনও অনুসন্ধান করা হয়নি এবং কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে, প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার অর্থনীতির জন্য ভালো পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

   কিছু গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন এবং আয় নিচে দেওয়া হল:

   কিছু গুৰুত্বপূৰ্ণ উৎপাদন ২০০০-২০০১সালে

   ধান- ১৫,০০০টন(আনুমানিক)

   বন- ৪০,০০০০০.০০ টাকা(আনুমানিক)

   আবগারি- ১,৭০,৮০,৭৪২.০০ টাকা

   বিক্রয় কর- ১০,১৩,৩৬,৯০২.০০টাকা

   ধুবড়ি আসামের ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে মেডিকেল কলেজ সাম্প্রতিক উন্নয়নে ধুবড়ি জেলার জন্য গেম চেঞ্জার হতে পারে। জেলার মধ্যে অনেক বড় সুযোগ-সুবিধাসহ মানুষ উন্নত মানের স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে ম্যাডিকেল কলেজ থেকেরাজ্যের আয় বৃদ্ধির জন্য শিল্প বিপ্লবের প্রয়োজন রয়েছেধুবড়ি জেলা ইতিমধ্যেই সড়ক, জলপথ, রেলপথ এবং বিমানবন্দর দিয়ে আসাম এবং ভারতের অন্যান্য স্থানের সাথে সংযুক্তধুবড়ির ঘন জনসংখ্যা জেলার অর্থনীতির জন্য সহায়ক হতে পারেপ্রতিবেশী রাজ্যগুলির মাধ্যমে ধুবড়ির কাঁচামালের চাহিদা পূরণ করা যেতে পারে।

   ধুবড়ি জেলায় বর্তমানে দুটি মহকুমা রয়েছে: ধুবড়ি (সদর) এবং বিলাসিপাড়া।

   জেলায় ৮টি রাজস্ব সার্কেল এবং ৭টি তহসিল রয়েছে। এতে ৮টি থানা এবং ৪টি শহর রয়েছে।

   এই জেলায় পাঁচটি আসাম বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা রয়েছে: ধুবড়ি, গৌরীপুর, গোলকগঞ্জ, বিলাসিপাড়া পশ্চিম এবং বিলাসিপাড়া পূর্ব। পাঁচটি সমষ্টিই ধুবড়ি লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

      বিমানপথ- কোকরাঝাড় জেলার রূপশী ধুবড়ির নিকটতম বিমানবন্দর, যা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিমি দূরে অবস্থিত। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। মূলত সামরিক উদ্দেশ্যে। ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত, ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স এবং কিছু বেসরকারি বাণিজ্যিক বিমান কলকাতা, গুয়াহাটির মধ্যে নিয়মিতভাবে চলাচল করত। এখন এটি UDAAN এর অধীনে পুনরায় চালু করা হয়েছে। রূপসী গুয়াহাটি এবং কলকাতার মধ্যে সপ্তাহে ৪ দিন সরাসরি বিমান চলাচল করে।

   জলপথ- ব্রহ্মপুত্রের তীরে অবস্থিত এই শহরে এক সময় অত্যন্ত ব্যস্ত নদী বন্দর ছিল, যা প্রতিবেশী দেশগুলির সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হত, বিশেষ করে ব্রিটিশ আমলে। বর্তমানে বন্দরটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

   রেলপথ- ১৯৪৭ সাল থেকে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) মধ্য দিয়ে কলকাতার সাথে সরাসরি রেলপথ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর রেলওয়ে স্টেশন এবং এমজি লাইনের গুরুত্ব হ্রাস পেয়েছে ২০১০ সাল থেকে ট্রেন পরিষেবাটি আবার নতুনভাবে শুরু হয়েছে এবং এটি সুষ্ঠুভাবে চলছে। তবে ধুবড়ি রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেন পরিষেবাগুলি ধুবড়ি থেকে কামাখ্যা এবং গুয়াহাটি জংশনের জন্য একটি নতুন রুট তৈরি করেছে। ধুবড়ি স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলি হল- ধুবড়ি-শিলঘাট (রাজ্য রানী এক্সপ্রেস), ধুবড়ি-শিলিগুড়ি (ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস) এবং ধুবড়ি ফকিরাগ্রাম প্যাসেঞ্জার।

    সড়ক পথ- এনএইচ-৩১ (নতুন এনএইচ-১৭) ধুবড়ি জেলার মধ্য দিয়ে যাওয়া রোডটি পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্যান্য রাজ্যের সাথে আসামকে সংযুক্ত করার অন্যতম মূল রোডপশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী বক্সিরহাট (ধুবড়ি-জেলা) এর নিকটে

   জনসংখ্যা- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে ধুবড়ি জেলার জনসংখ্যা ১,৯৪৯,২৫৮ জন, যা লেসোথো জাতি অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়া রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় সমান। জেলাটি ভারতে মোট ৬৪০ জেলার মধ্যে ২৪০তম স্থানে রয়েছেজেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১৭১ জন (৩,০৩০/বর্গমাইল)।২০০১-২০১১ দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২৪.৪%।ধুবড়িতে লিঙ্গ অনুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৫২ জন মহিলা এবং সাক্ষরতার হার ৫৯.৩৬%।

   ভাগ হওয়ার পর অবশিষ্ট জেলাটির জনসংখ্যা ১,৩৯৪,১৪৪ জন, যার মধ্যে ১৭৭,৫৩৯ জন (১২.৭৩%) শহরাঞ্চলে বাস করে। তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতি জনসংখ্যার যথাক্রমে ৬২,৬২৮ (৪.৪৯%) এবং ২,৩০০ (০.১৬%)।

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে ধুবড়ি জেলায় ধর্ম

   ইসলাম-৭৩.৪৯%

   হিন্দুধর্ম-২৬.০৭%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখিত নয়-০.৪৪%

   মুসলিমরা জনসংখ্যার ৭৩.৪৯% এবং হিন্দুরা ২৬.০৭%।

   ধুবড়ি জেলায় কথ্য ভাষা (২০১১) সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   অসমিয়া- (৩৭.৯৭%)

   'অন্যান্য' অসমীয়া- (৩১.১২%)

   বাঙালি- (১৮.৯৮%)

   রাজবংশী- (৫.৬৫%)

   হিন্দি- (২.১৫%)

   ভাটিয়া (১.২১%)

   'অন্যান্য' বাংলা- (০.৯১%)

   বড়ো ও অন্যান্য (২.০১%)

   অনুমান করা হয় যে বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা অনেক বেশি কারণ জেলায় অনেক বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলিম বাস করেন, যারা মিয়া নামে পরিচিত কিন্তু ২০১১ সালে আদমশুমারির সময় তারা তাদের মাতৃভাষা অসমিয়া হিসেবে ব্যাপকভাবে উল্লেখ করেছিলেন।

                                                 টেরাকোটা(এক ধরণের মৃৎশিল্প) এবং মৃৎশিল্প

   আসামের ধুবড়ি জেলা বিশ্বের টেরাকোটা বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে। আসামের টেরাকোটা শিল্প ধুবড়ি জেলার গৌরীপুর শহরের কাছে অবস্থিত ছোট গ্রাম আশারিকান্দিতে শুরু হয়েছিলোগ্রামের ৮০% এরও বেশি পরিবার এই জাতিগত শিল্প (হস্তশিল্প) এর সাথে জড়িত তাঁরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে এই পোড়ামাটির পণ্য বিক্রি করে তাদের জীবনযাপন করে।

   আকর্ষণীয় স্থান- ধুবড়ি জেলার প্রধান আকর্ষণীয় স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে পানবাড়ি মসজিদএটি সমগ্র উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের প্রাচীনতম মসজিদ, চক্রশীলা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, গুরুদ্বার শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর সাহেব, মহামায়া ধাম, বাগান এবং পাঁচপীরে দরগা

   ধুবড়ি জেলার প্রধান শহরগুলি হল ধুবড়ি, গৌরীপুর, বিলাসীপাড়া, গোলকগঞ্জ, তামারহাট, সপ্তগ্রাম, চাপড়, হাটসিঙ্গিমারী, মানকাচর, আগমণি সাগোলিয়া ইত্যাদি।

  উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ- ১৯৯৪ সালের ১৪ জুলাই আসাম সরকারের গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আসামের ধুবড়ি জেলার একটি কুমারী বনভূমিকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছেএই অভয়ারণ্যটির নামকরণ করা হয়েছে "চক্রশীলা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য"। এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচেয়ে কনিষ্ঠ অভয়ারণ্য, যার আয়তন ১১,২৬০.০০ একর (৪৫.৫৬৭৬ বর্গকিলোমিটার)। আসাম ও ভুটান সীমান্তের বাইরে চক্রশীলা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে সোনালী ল্যাঙ্গুর পাওয়া যায়এছাড়াও, চক্রশীলা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য কুমারী বন গাছ, গুল্ম, ঔষধি গাছ, স্তন্যপায়ী প্রাণী, সরীসৃপ, পাখি এবং পোকামাকড়ের বিরল নমুনা দ্বারা সমৃদ্ধ।

   চক্রশীলা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ভৌগোলিক অবস্থান ২৬° ১৫থেকে ২৬° ২৬উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০° ১৫থেকে ৯০° ২০পূর্ব দ্রাঘিমাংশেএটি আসামের পশ্চিমতম অঞ্চল ধুবড়ি জেলায় অবস্থিত। অভয়ারণ্যটি ধুবড়ি জেলা সদর ধুবড়ি থেকে ৬৮ কিমি এবং গুয়াহাটি শহরের বরঝার বিমানবন্দর থেকে ২১৯ কিমি দূরে অবস্থিত।

   পাহাড়ি বনের অভয়ারণ্যটিতে বন্যপ্রাণীদের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য বেশ কয়েকটি ছোট ছোট ঝর্ণা রয়েছে। তবে অভয়ারণ্যে দুটি প্রধান চিরস্থায়ী ঝর্ণা হল, হাওহোই ঝোরা এবং বামুনি ঝোরা, যা পাথরের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, সারা বছর ধরে ঝলমলে জল পাওয়া যায়, যা অভয়ারণ্যের দৃশ্যকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।

   চক্রশীলা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের মতো, যেখানে শুষ্ক মরশুমে শীত এবং গ্রীষ্মের মরশুমে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ থেকে ৪০০ সেমি। সারা বছর তাপমাত্রা সাধারণত ৮ °C থেকে ৩০ °C এর মধ্যে থাকে

   বাঘ, চিতাবাঘ, সোনালী ল্যাঙ্গুর, চিতা বিড়াল, গৌর, মঙ্গুস, শজারু, প্যাঙ্গোলিন, উড়ন্ত কাঠবিড়ালি, সিভেট বিড়ালের মতো বিভিন্ন স্তন্যপায়ীর আদর্শ আবাসস্থল চক্রশীলা প্রকৃতির এইসকল অমূল্য প্ৰাণী পাশাপাশি চক্রশীলায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের পাখির সমাহার।

   ধীর এবং দীপলাই নামে দুটি জলাভূমি এখনও আন্তর্জাতিকভাবে অভয়ারণ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে, জলাভূমি দুটি চক্রশীলা অংশ। আশা করা হচ্ছে যে, যথাসময়ে এগুলি অভয়ারণ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

   শিক্ষা- বর্তমানে জেলায় উচ্চশিক্ষার জন্য ১৫টি কলেজ রয়েছে। ধুবড়িতে অবস্থিত বি. এন. কলেজ (স্থাপিত ১৯৪৬) আসামের প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি। সপ্তগ্রাম শহরে অবস্থিত সপ্তগ্রাম কলেজটি কলা বিভাগে শিক্ষা প্রদান করে। বিলাসিপাড়া শহরে অবস্থিত বিলাসিপাড়া কলেজটি বিজ্ঞান ও কলা বিভাগে ডিগ্রি (বিএ এবং বিএসসি) এবং সার্টিফিকেট (এইচএসএসএলসি) প্রদান করে। চাপরের রত্নপীঠ কলেজটি জেলার আরেকটি বিশিষ্ট কলেজ। সরকারি বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বিদ্যাপাড়া বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হল ধুবড়ি শহরের দুটি প্রাচীনতম গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যালয় হ্যাপি কনভেন্ট স্কুলটি সিবিএসই অনুমোদিত সেরা স্কুলগুলির মধ্যে একটি।

   জেলাটিতে একটি শিল্প প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং প্রায় ৩০টি বেসরকারি কম্পিউটার ইনস্টিটিউট রয়েছে।শতাধিক উচ্চ ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে জেলাটিতেএশিয়ান মিশন ইনস্টিটিউট একটি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যা জনগণকে শিক্ষা প্রদান করছে।

   ধুবড়ি জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব- প্রমথেশ বড়ুয়া, ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পথিকৃৎ। স্বাধীনতা-পূর্ব যুগে অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় ও চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন।প্রতিমা বড়ুয়া পান্ডে, লোকসঙ্গীতের রানী। তিনি গোয়ালপাড়া লোকসঙ্গীতের একজন কিংবদন্তি শিল্পী রেবতী মোহন দত্ত চৌধুরী, সাহিত্য একাডেমি বিজয়ী ঔপন্যাসিক কালীচরণ ব্রহ্মতিনি বিংশ শতাব্দীর বড়ো সমাজের একজন সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কারক। শরৎ চন্দ্র সিনহা, আসামের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি তার সরলতা এবং সততার জন্য পরিচিত ছিলেন।আব্দুল হামিদ, প্রাক্তন সাংসদ। তিনি ধুবড়ি এম,পি নির্বাচনী এলাকায় তিনবার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

   ধুবরি জেলায় ৮ টি রাজস্ব বৃত্ত এবং ১৩ টি উন্নয়ন ব্লক যেছে।

   রাজস্ব সার্কেল: ধুবড়ি, গৌরীপুর, গোলকগঞ্জ, আগমনি, দক্ষিণ সালমারা (পিটি), আথানি, বিলাসীপাড়া, চাপড়।

   রাজস্ব গ্রাম: জেলায় মোট ১২০৪ টি রাজস্ব গ্রাম রয়েছে।

   উন্নয়ন ব্লক: আগমনি, গোলকগঞ্জ, রূপসী, গৌরীপুর, দেবীটোলা, মহামায়া, নায়েরলগা, বিলাসীপাড়া, চাপড়-সালকোচা, জমাদারহাট, বীরসিং জরুয়া, হাতিধুরা, দক্ষিণ সালমারা।

   মহকুমা: ধুবরি (সদর) এবং বিলাসিপাড়া

   তহসিল: ধুবরি জেলায় ৭টি তহসিল রয়েছে

   পুলিশ স্টেশন: ধুবরি জেলায় ৮টি থানা রয়েছে

   মৌলিক শহর: ধুবরি জেলায় ৮টি মৌলিক শহর রয়েছে • 

                                                                                                                                         ডিব্ৰুগড় জেলা

ডিব্রুগড় জেলা ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। জেলা সদর দপ্তর ডিব্রুগড়

o  বুৎপত্তি- ডিব্রুগড়ের নামকরণ হয়েছে দিবারুমুখ (আহোম-চুটিয়া যুদ্ধের সময় আহোমদের একটি বিখ্যাত শিবির) থেকে। "ডিব্রু" নামটি হয় দিবারু নদী থেকে উদ্ভূত হয়েছে অথবা তিব্বতি বর্মী শব্দ "ডিব্রু" থেকে এসেছে, যার অর্থ "ফোস্কা" এবং "গড়" বা "দুর্গ"। তিব্বতি বর্মীরা যেখানেই ছোট ঝর্ণা, নদী বা বৃহৎ নদী থাকে সেখানেই "দি-" (যার অর্থ "জল") উপসর্গটি যুক্ত করে।

o  ইতিহাস- ১৫২৩ খ্রিস্টাব্দে আহোমরা ডিব্ৰুগড় দখল করার আগ পর্যন্ত এই অঞ্চল চুটিয়া রাজ্যের অন্তর্গত ছিলোকাসিতোরা, আলঙ্গি চেটিয়া এবং বরপাত্র সেনাপতিদের নেতৃত্বে চুটিয়া সেনাবাহিনী ডিব্রুমুখে আহোমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পরাজিত হয়েছিলো১৫২৪ খ্রিস্টাব্দে আহোমরা সদিয়া দখল করার পর চুটিয়া রাজ্যের অবসান হয়। আহোম রাজা সুহুংমুং এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণের জন্য চাওলুং শুলুং নামে একজন কর্মকর্তাকে নিযুক্ত করেছিলেন।

o  গৌরীনাথ সিংহের রাজত্বকালে ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে ডিব্ৰুর অমরতলিতে রাজকীয় সৈন্যদের পরাজয়ের পর মোয়ামরিয়া বিদ্রোহের সময় এই অঞ্চল মোয়ামরিয়াদের অধীনে আসে এবং তাঁরা সেখানে একটি প্রভাবশালী ধর্মীয় সম্প্রদায়ও গঠন করে।২ অক্টোবর ১৯৭১ সালে লখিমপুর থেকে বিভক্ত করে ডিব্রুগড় পৃথক জেলায় পরিণত করা হয়েছে ১ অক্টোবর ১৯৮৯ সালে ডিব্রুগড় জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে আবার তিনসুকিয়া জেলা গঠন করা হয়েছে

o  ভূগোল- ডিব্রুগড় জেলার আয়তন ৩,৩৮১ বর্গকিলোমিটার (১,৩০৫ বর্গমাইল), যা তুলনামূলকভাবে রাশিয়ার ভাইগাচ দ্বীপের সমান। জেলাটি ২৭° ' ৩৮" উত্তর থেকে ২৭° ৪২' ৩০" উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৪° ৩৩'৪৬" পূর্ব থেকে ৯৫° ২৯'৮" পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। জেলাটির উত্তরে ধেমাজি জেলা, পূর্বে তিনসুকিয়া জেলা, দক্ষিণ-পূর্বে অরুণাচল প্রদেশের তিরাপ জেলা এবং উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমে শিবসাগর জেলা অবস্থিত। ব্রহ্মপুত্রের একটি প্রধান উপনদী বুড়ি দিহিং, যার উপনদী এবং জলাভূমির নেটওয়ার্ক জেলার মধ্য দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে প্রবাহিতএর পূর্ব এবং দক্ষিণ অঞ্চলে গ্রীষ্মমন্ডলীয় রেইনফরেস্টের একটি বিশাল অংশ রয়েছে, যা দেহিং পাটকাই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের একটি অংশ।

o  উদ্ভিদ ও প্রাণী- ডিব্রু-সইখোয়া জাতীয় উদ্যানে বিপন্ন সাদা ডানাওয়ালা হাঁস পাওয়া যায়

o  ১৯৯৯ সাল থেকে ডিব্রুগড় জেলা ডিব্রু-সইখোয়া জাতীয় উদ্যানের আবাসস্থল হয়ে উঠেছে, যার আয়তন ৩৪০ বর্গকিলোমিটার (১৩১.৩ বর্গ মাইল)। উদ্যানটি ডিব্ৰুগড় এবং তিনসুকিয়া জেলার মধ্যে বিস্তৃতএটি পদুমণি-ভেরজান-বোরাজান বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যেরও আবাসস্থল, যা ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এর আয়তন ৭.২ বর্গকিলোমিটার (২.৮ বর্গ মাইল)।২০২০ সালে ডিব্রুগড় জেলা দেহিং পাটকাই জাতীয় উদ্যানের আবাসস্থল হয়ে ওঠেছে, যার আয়তন ২৩১.৬৫ বর্গকিলোমিটার (৮৯.৪ বর্গ মাইল)উদ্যানটির কিছু অংশ তিনসুকিয়া জেলার মাঝেও বিস্তৃত

o  অর্থনীতি-চা এবং তেল জেলার রাজস্ব আদায়ের প্রধান উএর পাশাপাশি অনেক চাল এবং তৈলবীজ মিল রয়েছে। এছাড়াও কিছু কয়লা খনি এবং পেট্রোলিয়াম উৎপাদন শিল্প রয়েছে।

·       জনসংখ্যার অধিকাংশই ধান, আখ, ডাল এবং মাছ চাষে নিয়োজিত।ডিব্রুগড়ে বিশ্বের বৃহত্তম চা বাগান রয়েছে। পুরো জেলাটি চা বাগান দ্বারা বেষ্টিত এবং চা কারখানা রয়েছে। অনেক চা বাগান ১০০ বছরেরও বেশি পুরানো।

o  শিল্প- বিশ্বের প্রাচীনতম চলমান তেল শোধনাগারটি ডিগবোই (তিনসুকিয়া জেলা) তে অবস্থিত। পুরো জেলায় অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশনের মালিকানাধীন অনেক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস ভাণ্ডার রয়েছে। অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের সদর দপ্তর ডিব্রুগড় শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে দুলিয়াজানে অবস্থিত।

o  নামরূপ তার ৩টি প্রধান শিল্পের জন্য পরিচিত, যেমন: BVFCL (ব্রহ্মপুত্র ভ্যালি ফার্টিলাইজার কর্পোরেশন লিমিটেড), APL (আসাম পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড) এবং NTPS (নামরূপ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র)।

o  প্রশাসনিক ব্যবস্থা

·       জেলাটিতে গ্রাম (১৩৬১)টা

o  ব্লক (৭)টা

o  গাঁও পঞ্চায়েত (৯৩)টা

o  জেলা পরিষদ (১)

·       উল্লেখযোগ্য শহর ও গ্রাম

·       চাবুয়া

·       ডিব্রুগড়

·       ডুলিয়াজান

·       জামিরাহ পাত্র গাঁও

·       মরান

·       নাহারকাটিয়া

·       নামরূপ

·       রাজস্ব সার্কেল

·       ডিব্রুগড় পূর্ব

·       ডিব্রুগড় পশ্চিম

·       চাবুয়া

·       টেঙ্গাখাট

·       টিংখং

·       থানা

·       বরবরুয়া (শহর) থানা

·       চাবুয়া থানা

·       ডিব্রুগড় সদর শহর (শহর)

·       ডুলিয়াজান থানা

·       জয়পুর থানা

·       খোয়াং থানা

·       লাহোওয়াল (শহর) থানা

·       মরান থানা

·       নাহারকাটিয়া থানা

·       রাজগড় থানা

·       রোহমোরিয়া, ঘোড়ামোরা থানা

·       টেঙ্গাখাট থানা

·       টিংখং থানা

o  এই জেলায় একটি লোকসভা এলাকা এবং সাতটি আসাম বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা রয়েছে: মরান, ডিব্রুগড়, লাহোয়াল, দুলিয়াজান, টিংখং, নাহরকাটিয়া এবং চাবুয়া। চাবুয়া লখিমপুর লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত, যেখানে বাকি ছয়টি ডিব্রুগড় লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত।

·       পরিবহন- ডিব্রুগড় সড়ক পথ, রেলপথ (ডিব্রুগড় রেলওয়ে স্টেশন), বিমানপথ (মোহনবাড়ি বিমানবন্দর) এবং জলপথ দ্বারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সাথে সুসংযুক্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা বার্মায় জাপানি বাহিনীর বিরুদ্ধে চারটি বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছিল।

·       সেতু- ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর বগিবিল সেতু

·       জনসংখ্যা- ডিব্রুগড় জেলার ধর্মের ভিত্তিতে (২০১১)সালে আদমশুমারি অনুসারে

·       হিন্দুধর্ম- 90.35%

·       ইসলাম-4.86%

·       খ্রিস্টধর্ম-3.99%

·       অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখ না করা-0.80%

·       ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে ডিব্রুগড় জেলার জনসংখ্যা ১,৩২৬,৩৩৫,যা মরিশাস জাতি অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেইনে রাজ্যের প্রায় সমান।জেলাটি ভারতের মোট ৬৪০ জেলার মধ্যে ৩৬৭তম স্থানে রয়েছেজেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৯৩ জন (প্রতি বর্গমাইলে ১,০২০ জন) ২০০১-২০১১ দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১২.০৪%। ডিব্রুগড় জেলার লিঙ্গ অনুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৬১ জন নারী সাক্ষরতার হার ৭৬.০৫%, পুরুষ ৮২.৮২% এবং মহিলা ৬৮.৯৯%। জনসংখ্যার ১৮.৩৮% শহরাঞ্চলে বাস করে। তফসিলি জাতি এবং উপজাতি জনসংখ্যার যথাক্রমে ৪.৪৪% এবং ৭.৭৬%।

·       ডিব্রুগড় জেলার ভাষা (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে-

·       অসমিয়া- (৭৬.০১%)

·       বাংলা- (৫.৯৩%)

·       হিন্দি- (৫.৮%)

·       সাদ্রি- (৪.৮৩%)

·       নেপালি- (১.৭২%)

·       ভোজপুরী- (১.১৩%)

·       ওড়িয়া- (১%)

·       অন্যান্য- (৩.৫৮%)

·       শিক্ষা- জেলাটি সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতে উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। ব্রিটিশ ভারত আমল থেকেই জেলাটি শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। সিভিল সার্জন ডঃ জন বেরি হোয়াইট অবসর গ্রহণের পর তাঁর ব্যক্তিগত অনুদানে আসাম মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো"জন বেরি হোয়াইট মেডিকেল স্কুল" ১৯০০ সালে ডিব্রুগড়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অনুষ্ঠানটি চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন যুগের সূচনা করেছেআসাম মেডিকেল কলেজ ভারতে প্রথম রেডিওলজি বিভাগ স্থাপনের জন্য গর্ব করে, কারণ ১৮৯৫-৯৬ সালে অধ্যাপক উইলহেম কনরাড রোন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কারের মাত্র ১৫ বছর পরে ১৯১০ সালে ইংল্যান্ড থেকে দুটি এক্স-রে মেশিন (একটি ১০এমএ এবং আরেকটি ১৫এমএ) কেনা হয়েছিল। এই দুটি ছিল ভারতের প্রথম এক্স-রে মেশিন।

o  চিকিৎসা ছাড়াও, জেলার অন্যান্য উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রগুলি হল ফার্মাকোলজি, ভূতত্ত্ব এবং ফলিত ভূতত্ত্ব এবং পেট্রোলিয়াম প্রযুক্তিএই সমস্ত কোর্স ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা শিক্ষা প্রদান করা হয়, যা ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে

o  বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি, অন্যান্য শিক্ষা কেন্দ্রগুলি হল:ডিব্রুগড় পলি-টেকনিক, যা বৈদ্যুতিক, সিভিল এবং যান্ত্রিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ডিপ্লোমা কোর্সের শিক্ষা প্রদান করে

o  আঞ্চলিক চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র - RMRC, জৈব-চিকিৎসা বিজ্ঞানের বৈজ্ঞানিক ও গবেষণার একটি কেন্দ্র, যেখানে প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা এবং এর কারণগুলি অধ্যয়ন করা হয়।

  

                ডিমা হাসাও জেলা

ডিমা হাসাও জেলা ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। 2011 সালের হিসাবে, এটি আসামের সবচেয়ে কম জনবহুল জেলা।

আসামের দুটি স্বায়ত্তশাসিত পার্বত্য জেলার ডিমা হাসাও জেলা একটি। জেলা সদর হাফলং হাফলং রাজ্যের একমাত্র হিল স্টেশন।

ডিমাসা ভাষায় "ডিমা হাসাও" এর অর্থ "ডিমাসা পাহাড়"।

      ইতিহাস

   ডিমাসা রাজ্য- প্রায় ১৫০০ সাল থেকে, ডিমা হাসাও ডিমাসা রাজ্যের(বা কাছার রাজ্য) অংশ ছিল, যার রাজধানী ছিল মাইবং এবং ডিমাপুর। আহোম বুরাঞ্জির মতে, রাজ্যটি বর্তমানের নগাঁও জেলার কপিলি নদী থেকে বর্তমানে গোলাঘাট জেলার ধনসিরি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এর মধ্যে কাছাড় এবং উত্তর কাছার (ডিমা হাসাও), আসামের হোজাই, নগাঁও, গোলাঘাট এবং কার্বি আংলং জেলা এবং নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর জেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

   ১৮৬০ সালে ডব্লিউ. জি. ব্ল্যাকি কর্তৃক নির্মিত ব্রিটিশ ভারতের মানচিত্রে তুলারাম সেনাপতির ভূখণ্ড চিত্রিত ছিলো১৯০৭ সালে জে. জি. বার্থোলোমিউ কর্তৃক নির্মিত পূর্ব বাংলা ও আসামের মানচিত্র তুলারামের ভূখণ্ডের একটি অংশ (যমুনা নদী থেকে লামডিং পর্যন্ত বিস্তৃত) শিবসাগর জেলায় স্থানান্তরিত হয় এবং বাকি অংশ (লামডিং থেকে মাইবাং পর্যন্ত বিস্তৃত) কাছাড় জেলায় স্থানান্তরিত হয়।

   ঔপনিবেশিক আমলে, বর্তমান কাছাড় জেলার খাসপুর ছিল প্রশাসনিক কেন্দ্র। তবে অভ্যন্তরীণ বিরোধের ফলে পুরাতন কাছাড় রাজ্য দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। শেষ ডিমাসা রাজা গোবিন্দ চন্দ্র হাসনুসা প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে কাশিচন্দ্রকে কাছাড়ের পাহাড়ি অঞ্চল (অর্থাৎ দক্ষিণে মাহুর নদী এবং নাগা পাহাড়ের মধ্যবর্তী অঞ্চল, পশ্চিমে দোয়াং নদী, পূর্বে ধনসিরি নদী এবং উত্তরে যমুনা নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল) অর্পণ করেন। শীঘ্রই তিনি পাহাড়ি অংশের উপর স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর ফলে রাজা গোবিন্দ চন্দ্র হাসনুসা কাশীচন্দ্রকে বিশ্বাসঘাতকতা করে হত্যা করেনকাশীচন্দ্রের পুত্র তুলারাম সেনাপতি ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেন এবং কাছার রাজ্যের পাহাড়ি অংশের উপর তার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। অবশেষে, ব্রিটিশ সহায়তায়, তুলারাম কাছার রাজ্য থেকে তার নিজস্ব অঞ্চল ভাগ করে নিতে সফল হন। ১৮২৯ সালে ব্রিটিশ রাজের এজেন্ট ডেভিড স্কট তুলারামকে কাছারের পাহাড়ি অঞ্চলের শাসক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা করেন। ১৮৫০ সালে তুলারামের মৃত্যুর পর ঘন ঘন আঙ্গামি অভিযান এবং সেমখোর গ্রামে একটি গুরুতর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তুলারামের ভূখণ্ডের উপর ব্রিটিশ প্রভাব বিস্তারের জন্য ভিত্তি তৈরি করে। ১৮৫২ সালে তার অঞ্চলটি ব্রিটিশ আসামের নগাঁও জেলার একটি অংশে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং এর সদর দপ্তর হিসেবে আসালুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়

   ব্রিটিশ প্রশাসন- ১৮৬৬ সালে এই মহকুমাকে বিলুপ্ত করে কাছাড়, নাগা পাহাড় জেলা এবং নগাঁও জেলা হিসাবে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয় এবং ডিমা হাসাও জেলার বর্তমান এলাকাটি পুরাতন কাছাড় জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।১৮৮০ সালে, এই অংশটিকে কাছাড় জেলার অধীনে আনা হয় এবং গুনজুং-এ মহকুমার সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়।১৮৯৫ সালে এই সদর দপ্তরটি হাফলং-এ স্থানান্তর করা হয়। তারপর থেকে, ১৯৫১ সাল পর্যন্ত হাফলং সদর দপ্তর হিসেবে অব্যাহত ছিল।

   ভারতের স্বাধীনতার পর ১৯৫১ সালে১৭ নভেম্বর, ইউনাইটেড মিকির এবং উত্তর কাছাড় পাহাড় জেলা গঠন করা হয়, যার মধ্যে বর্তমান ডিমা হাসাও জেলা, কার্বি আংলং জেলা এবং পশ্চিম কার্বি আংলং জেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল।২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০ সালে, সরকার একটিকে স্বাধীন প্রশাসনিক উত্তর কাছাড় জেলা হিসাবে ঘোষণা করে ৩০ মার্চ ২০১০-এ, জেলার নামকরণ করা হয় ডিমা হাসাও জেলা।

   ভূগোল- জেলা সদর হাফলং এ অবস্থিত। ডিমা হাসাও জেলা 4,888 বর্গ কিলোমিটার (1,887 বর্গ মাইল)এলাকা ব্যাপী বিস্তৃত এটি কার্বি আংলং-এর পরে আসামের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা।ডিমা হাসাও জেলা উত্তর-পূর্বে কার্বি আংলং জেলা এবং নাগাল্যান্ড, পূর্বে মণিপুর, উত্তরে হোজাই জেলা, উত্তর-পশ্চিমে পশ্চিম কার্বি আংলং জেলা,  মেঘালয় এবং দক্ষিণে কাছাড় জেলা দ্বারা বেষ্টিত।

       ঐতিহাসিক জনসংখ্যা

   ১৯০১- ৪০,৮১২

   ১৯১১- ২৭,২৯৬ .৯৪%

   ১৯২১- ২৮,৯১৩ +০.৫৮%

   ১৯৩১- ৩২,৮৪৪ +১.২৮%

   ১৯৪১- ৩৭,৩৬১ +১.৩০%

   ১৯৫১- ৩৯,৬৬৩ +০.৬০%

   ১৯৬১- ৫৪,৩১৯ +৩.১৯%

   ১৯৭১- ৭৬,০৪৭ +৩.৪২%

   ১৯৯১- ১৫০,৮০১ +৩.৪৮%

   ২০০১- ১৮৮,০৭৯ +২.২৩%

   ২০১১- ২১৪,১০২ +১.৩০%

   জনসংখ্যা-২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, ডিমা হাসাও জেলার জনসংখ্যা ছিল ২,১৪,১০২, যা ভারতের মোট ৬৪০টি জেলার মধ্যে ৫৮৮তম স্থানে অবস্থিতএই জেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল প্ৰতি বৰ্গকিলোমিটারে ৪৪ জন (প্রতি বর্গমাইলে ১১০ জন)। ২০০১-২০১১ দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৩.৫৩%ডিমা হাসাওর লিঙ্গ অনুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৩১ জন মহিলা এবং সাক্ষরতার হার ৭৮.৯৯%।

   জাতিগত গোষ্ঠী- ডিমা হাসাও আসামের তিনটি পার্বত্য জেলার মধ্যে একটি যেখানে উপজাতিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ অন্য দুটি জেলা হল কার্বি আংলং এবং পশ্চিম কার্বি আংলং।২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে ডিমা হাসাওতে উপজাতি জনসংখ্যা জেলার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০.৯২%, যা রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ শতাংশ। তফসিলি জাতি ২.০২%।জেলায় বসবাসকারী প্রধান উপজাতি সম্প্রদায়গুলি হল ডিমাসা কাছারি, জেমে নাগা, হমার, কুকি, কার্বি, খাসি, হ্রাংখোল, বিয়াতে এবং আরও কিছু অন্য উপজাতি অ-উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে রয়েছে বাঙালি, নেপালি, হিন্দিভাষী এবং আরও কিছু সম্প্রদায়

   ভাষার তথ্য অনুসারে, সবচেয়ে বড় অ-উপজাতি সম্প্রদায় হল বাঙালি ২৫,২৬৪: ২০০১ সাল থেকে -৭.৫৩% পরিবর্তন), নেপালি (১৩,৬১৫: +৯.৭৬%), হিন্দি ভাষাভাষী (৯,৯২৬: +১৩.৮৩%), অসমিয়া ভাষাভাষী (৪,০৫৭: -২৬.৩২%), হালাম (রংলং)-কুকি/খেলমা/রিয়াম (১,৯৪০: +১৫.৪১%), বড়ো-কাচারি (১,৬০৪: -৭.৮২%), মেইতেই (১,৩৭৩: -২৪.৬৪%), ত্রিপুরি (৫২৭: -২১.১১%), এবং বিষ্ণুপ্রিয়া (৪০১: -১৪.৩২%)।

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে ডিমা হাসাও জেলার ধর্ম

   হিন্দুধর্ম-67.07%

   খ্রিস্টধর্ম- 29.57%

   ইসলাম- 2.04%

   অন্যান্য (উপজাতি ধর্ম)-0.55%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখিত নয়-0.77%

   ডিমা হাসাওর ভাষা (2011)অনুসারে ভাষা-

   ডিমাসা (35.72%)

   বাংলা (11.8%)

   জেমে (9.65%)

   Hmar (7.65%)

   নেপালি (6.36%)

   কুকি (5.11%)

   কার্বি (4.46%)

   হিন্দি (3.14%)

   খাসি (1.93%)

   অসমীয়া (1.89%)

   অন্যান্য (12.29%)

   2011 সালের আদমশুমারির সময়, জেলার 35.72% ডিমাসা, 11.80% বাংলা, 9.65% জেমে, 7.65% হামার, 6.36% নেপালি, 5.11% কুকি, 4.46% কার্বি, 3.14% হিন্দি, 1.93% খাসি, 1.93% খাসি।

 

   সরকার এবং রাজনীতি- ডিমা হাসাও জেলা হল একটি স্বায়ত্তশাসিত জেলা যার ষষ্ঠ তফসিলের মর্যাদা ভারতের সংবিধান দ্বারা প্রদত্ত। ডিমা হাসাও জেলা ডিমা হাসাও স্বায়ত্তশাসিত পরিষদ (DHADC) দ্বারা পরিচালিত হয়। স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের (MAC) সদস্যরা ডিমা হাসাওর জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হন। যে রাজনৈতিক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ MAC থাকে তারাই শাসক দল গঠন করে। স্বায়ত্তশাসিত পরিষদ একটি শক্তিশালী সংস্থা পুলিশ আইন শৃঙ্খলা ব্যতীত প্রায় সমস্ত সরকারী বিভাগ এর নিয়ন্ত্রণে থাকে।

   প্রশাসন- ডিমা হাসাওতে তিনটি মহকুমা রয়েছে: হাফলং, মাইবাং এবং দিয়ুংব্রা। জেলাটি পাঁচটি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে গঠিত: জাটিঙ্গা ভ্যালি, মাহুর; দিয়ুং ভ্যালি, মাইবাং; হারাঙ্গাজাও আইটিডি ব্লক

   অর্থনীতি- ২০০৬ সালে, ভারত সরকার দেশের ২৫০টি সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলার (ভারতের মোট ৬৪০টির মধ্যে) মধ্যে ডিমা হাসাওকে একটি হিসেবে ঘোষণা করেছেএটি আসামের এগারোটি জেলার মধ্যে একটি যা বর্তমানে পশ্চাদপদ অঞ্চল অনুদান তহবিল কর্মসূচি (BRGF) থেকে তহবিল পাচ্ছে।

   শক্তি- কপিলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হল উমরাংসোর কাছে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, যার মধ্যে কপিলি নদীর উপর দুটি বাঁধ এবং কপিলির একটি উপনদী উমরং নাল্লা রয়েছে। উচ্চ বিদ্যুৎ প্রকল্পের অংশ হিসাবে কপিলিতে দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছেখান্ডং স্টেজ ১ ও ২ (৭৫ মেগাওয়াট) এবং কপিলি স্টেজ ১ এবং ২ (২০০ মেগাওয়াট), যার মোট উৎপাদন ২৭৫ মেগাওয়াট।

   পর্যটন-আকর্ষণীয় স্থান- জাতিংগা গ্রাম-জাতিংগা গ্রামটি সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে 'পাখির রহস্যময় আত্মহত্যা'র জন্য প্ৰখ্যাতবছরের সেই সময় বিপুল সংখ্যক পর্যটক এই আত্মহত্যা ঘটনাটি দেখার জন্য আসেন।

   পানিমুর জলপ্রপাত-পানিমুর ভারতের আসামের ডিমা হাসাও জেলায় অবস্থিত। এটি পানিমুর জলপ্রপাতের জন্য সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত জলপ্ৰপাতটি উত্তর-পূর্বের নায়াগ্রা নামেও পরিচিত জলপ্ৰপাতটি কপিলি নদী থেকে উৎপন্ন হয় কারণ কপিলি পাথুরে ভূখণ্ডের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, যা একটি প্রশস্ত জলপ্রপাত তৈরি করে জলপ্ৰপাতটি পর্যটক এবং আলোকচিত্রীদের জন্য প্রধান আকর্ষণের স্থলএছাড়াও, আশেপাশের অঞ্চলগুলি ইকো-ট্যুরিজম এবং অ্যাডভেঞ্চার কার্যকলাপের জন্য বিখ্যাত। এগুলি পৰ্যটকদের জন্য খুবই আকৰ্ষণীয়

   মাইবাং- মাইবাং শহরটি ত্রিভুজাকার কালো বেলেপাথরে খোদাই করা মন্দিরের জন্য উল্লেখযোগ্য। এখানে হিন্দু দেবী রণচণ্ডী বা মহামায়া বাস করেন।

   উমরাংসো গলফ মাঠ- উমরাংসো গলফ মাঠটি নিকটবর্তী নিপকো বাঁধের একটি মালভূমি প্লাবিত এলাকা। এটি আমুর বাজপাখির জনপ্রিয় বিশ্রামস্থল, এখানে বার্ষিক ফ্যালকন উৎসবও আয়োজন করা হযএই দর্শনীয় স্থানটি, ক্যাম্পিং, ট্রেকিংয়ের জন্যও জনপ্রিয়।

   শিক্ষা- ২০১১ সালে ডিমা হাসাওয়ের গড় সাক্ষরতার হার ছিল ৭৭.৫৪%, যা ২০০১ সালে ৬৭.৬২% ছিল। ডিমা হাসাওয়ের সকল স্কুল রাজ্য সরকার এবং বেসরকারি সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হয়। বেশিরভাগ স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষার ভাষা ইংরেজি। স্কুলগুলি আসামের মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, আসাম উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কাউন্সিল, অথবা কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড দ্বারা স্বীকৃত। সমস্ত ডিমা হাসাও কলেজ আসামের বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারা অনুমোদিত, যা একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, এটি সাধারণ এবং পেশাদার উভয় ধারাতেই শিক্ষা প্রদান করে।

   কলেজ-হাফলং সরকারি কলেজ, হাফলং

   বিদ্যালয়-এভার গ্রিন হাই স্কুল, মাইবাং

   উল্লেখযোগ্য স্থান-হাফলং, মাইবাং, পানিমুর, উমরাংসো • 

 

                                                    গোয়ালপাড়া জেলা

   গোয়ালপাড়া জেলা হল ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। এটি কোচ রাজাদের দ্বারা শাসিত একটি রাজকীয় রাজ্য ছিলো বর্তমানে পূর্ববর্তী গোয়ালপাড়া জেলাটি কোকরাঝাড়, বঙ্গাইগাঁও, ধুবড়ি এবং গোয়ালপাড়া জেলায় বিভক্ত।

   গোয়ালপাড়া জেলার নামটি মূলত 'গোয়ালটিপ্পিকা' থেকে এসেছে বলে জানা যায় যার অর্থ 'গুয়ালি গ্রাম' বা দুধওয়ালাদের গ্রামগোয়ালপাড়ার ইতিহাস কয়েক শতাব্দী আগে৬৫ সালে জেলাটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে। এর আগে, এই অঞ্চলটি কোচ রাজবংশের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৮২৬ সালে ব্রিটিশরা আসামে প্রবেশ করে এবং ১৮৭৪ সালে গোয়ালপাড়া উত্তর-পূর্ব সীমান্তের সাথে সংযুক্ত হয়, সেই সাথে ধুবড়িতে জেলা সদর দপ্তর গঠন করা হয়।

   ১ জুলাই ১৯৮৩ সালে গোয়ালপাড়া থেকে বিচ্ছিন্ন কৰে দুটি জেলা গঠন করা হয়: ধুবড়ি এবং কোকরাঝাড়। ১৯৮৯ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর গোয়ালপাড়া এবং কোকরাঝাড়ের কিছু অংশ নিয়ে বঙ্গাইগাঁও জেলা গঠন করা হয়।

   ভূগোল-জেলা সদর দপ্তর গোয়ালপাড়ায় অবস্থিত। গোয়ালপাড়া জেলার আয়তন ১,৮২৪ বর্গকিলোমিটার (৭০৪ বর্গমাইল)

      অর্থনীতি- ২০০৬ সালে ভারত সরকার গোয়ালপাড়া জেলাকে দেশের ২৫০টি সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলার মধ্যে একটি হিসেবে ঘোষণা করেছে।এটি আসামের এগারোটি জেলার মধ্যে একটি যারা বর্তমানে অনগ্রসর অঞ্চল অনুদান তহবিল কর্মসূচি (BRGF) থেকে তহবিল পাচ্ছে।

   রাজনৈতিক বিভাগ- এই জেলায় চারটি বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা রয়েছে: দুধনই, গোয়ালপাড়া পূর্ব, গোয়ালপাড়া পশ্চিম এবং জলেশ্বর।দুধনই এবং গোয়ালপাড়া পশ্চিম তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংক্ষিতদুধনই এবং গোয়ালপাড়া পশ্চিম গৌহাটি লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত, যেখানে অন্য দুটি বিধান সভা সমষ্টি ধুবরি লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত।

   জনসংখ্যা-২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে গোয়ালপাড়া জেলার জনসংখ্যা ১,০০৮,১৮৩ জন,যা সাইপ্রাস জাতি বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় সমান। গোয়ালপাড়ায় প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৬৪ জন মহিলা রয়েছে। জেলার অসম্পূর্ণ সাক্ষরতার হার ৫৫.৯১% যেখানে ৭+ জনসংখ্যার কার্যকর সাক্ষরতার হার ৬৭.৪%। জনসংখ্যার ১৩.৬৯% শহরাঞ্চলে বাস করে। তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতি জনসংখ্যার যথাক্রমে ৪.৪৭% এবং ২২.৯৭%।

   ঐতিহাসিক জনসংখ্যা

   ১৯০১- ৯০,৪৮২

   ১৯১১- ১১৭,৬০২ +২.৬৬%

   ১৯২১- ১৪৯,২৬৩ +২.৪১%

   ১৯৩১- ১৭২,৭৮২ +১.৪৭%

   ১৯৪১- ১৯৮,৪০৭ +১.৩৯%

   ১৯৫১- ২১৬,৭৬৩ +০.৮৯%

   ১৯৬১- ২৯৭,১৭৮ +৩.২১%

   ১৯৭১- ৪৩৩,৫১৬ +৩.৮৫%

   ১৯৯১- ৬৬৮,১৩৮ +২.১৯%

   ২০০১- ৮২২,০৩৫ +২.০৯%

   ২০১১- ১,০০৮,১৮৩ +২.০৬%

   গোয়ালপাড়া জেলার ধর্ম (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে

   ইসলাম-৫৭.৫২%

   হিন্দুধর্ম-৩৪.৫১%

   খ্রিস্টধর্ম-৭.৭২%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখিত নয়-০.২৫%

   ধর্ম অনুসারে সর্কেলের জনসংখ্যা

    সার্কেল  মুসলিম    হিন্দু  খ্রিস্টান অন্যান্য

   লক্ষীপুর ৮০.৮৮% ১৭.৪২% ১.৪৯%  ০.২১%

   বালিজানা ৫৬.২২% ৩২.২৭% ১১.২৫% ০.২৬%

   মাটিয়া ৬১.৪৩% ৩২.৯০% ৫.৪১%  ০.২৬%

   দুধনই ৬.৫২% ৭০.৩৪% ২২.৮১%   ০.৩৩%

   রঙ্গজুলি ২৯.৫৬% ৬১.৩০% ৮.৯২% ০.২২%

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, গোয়ালপাড়া জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা ৫৭.৫২%, হিন্দু জনসংখ্যা ৩৪.৫১% এবং খ্রিস্টান জনসংখ্যা ৭.৭২% এবং অন্যান্য জনসংখ্যা ০.২৫%। গারোরা সকলেই খ্রিস্টান।১৯৭১ সালে, গোয়ালপাড়া জেলায় হিন্দুরা সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল এবং তাঁরা জনসংখ্যার ৫০.১% ছিল তখন মুসলমানরা ছিল ৪১.৫%।

   গোয়ালপাড়া জেলার ভাষা (2011) সালের আদমশুমারি অনুসারে

   অসমীয়া (51.78%)

   বাংলা (28.83%)

   গারো (7.56%)

   রাভা (5.16%)

   বড়ো (3.53%)

   হিন্দি (0.94%)

   অন্যান্য (2.2%)

   2011 সালের আদমশুমারির অনুসারে জনসংখ্যার 51.78% অসমীয়া, 28.83% বাংলা, 7.56% গারো, 5.16% রাভা, 3.53% বোরো এবং 0.94% হিন্দি তাদের প্রথম ভাষা হিসাবে কথা বলত। 2011 সালের আদমশুমারির ভাষা রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলা ভাষাভাষীদের সংখ্যা 28.8%, কিন্তু গোয়ালপাড়া জেলায় বাঙালি বংশোদ্ভূত একটি বৃহৎ সংখ্যক বাংলাভাষী মুসলিম জনসংখ্যার আবাসস্থল, যাদের অধিকাংশই 2011 সালের আদমশুমারিতে অসমীয়া ভাষাভাষী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়েছিলো

   জেলার পর্যটন স্থান- জেলার পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে: শ্রী সূর্য পাহাড় পাহাড়টি আসামের একটি উল্লেখযোগ্য পাহাড়, একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানশ্রী সূর্য পাহাড়টিতে ভারতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম বৌদ্ধ, জৈন এবং হিন্দুধর্মের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধ্বংসাবশেষ রযেছে দাদন পাহাড়ের চূড়ায় একটি শিব মন্দির রয়েছে। মন্দিরটি সোনিতপুরের বাণ রাজার দাদন নামক একজন সেনাপতি প্ৰতিষ্ঠা করেছিলেন।

   গোয়ালপাড়া শহরে পীরের মাঝার অবস্থিত, .যেখানে হযরত সৈয়দ আবুল কাসেম খোরাসানী নামে একজন সাধকের সমাধি। তিনি একজন সাধক ছিলেনযিনি হিন্দু এবং মুসলিম উভয়ের কাছেই সম্মানিত ছিলেন।

   পীর মাঝার গোলাপাড়ার কাটারিহারায় অবস্থিতসেখানে আল বাগদাদি নামে একজন মুসলিম সাধকের সমাধি।

   আসামের গোয়ালপাড়া জেলায় মোট

   মোট রাজস্ব গ্রাম: ৮৫৯

   উন্নয়ন ব্লক: ৮যথা- রাংজুলি, কুশধোয়া, মাটিয়া, কৃষ্ণাই, বালিজানা, খারমুজা, লক্ষীপুর এবং জলেশ্বর

   রাজস্ব সার্কেল: ৫

   পুলিশ স্টেশন: ১১

   পুলিশ আউট পোস্ট: ৯

   চা বাগান: ২

   মহকুমা: কোন মহকুমা নেই

   ফায়ার স্টেশন: ৩

   আসামের গোয়ালপাড়া জেলায় বিভিন্ন ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান -

   নিম্ন প্রাথমিক (L.P.) স্কুল: 1298

   ভেঞ্চার এলপি স্কুল: 203

   মধ্য ইংরেজি (ME) স্কুল: 171

   মিডল ভার্নাকুলার (এমভি) স্কুল: ৪২টি

   ভেঞ্চার মিডল স্কুল: 57

      কলেজ: গোয়ালপাড়া কলেজ, দুধনই কলেজ, হাবরাঘাট কলেজ, বিকালী কলেজ, লখিপুর কলেজ, পশ্চিম গোয়ালপাড়া কলেজ,

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট: গোয়ালপাড়া পলিটেকনিক • 

 

                                                                                   গোলাঘাট জেলা

      গোলাঘাট জেলা ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। এটি ১৯৮৭ সালে জেলার মর্যাদা লাভ করেছেজেলা সদর দপ্তর গোলাঘাটে অবস্থিত। জেলাটি ৩,৫০২ বর্গকিলোমিটার (১,৩৫২ বর্গমাইল) এলেকা জুড়ে বিস্তৃত এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০ মিটার (৩৩০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত।

   উৎপত্তি- গোলাঘাটনামটি ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ধানসিরি নদীর তীরে একজন মারোয়ারি ব্যবসায়ীর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত গোলা (বাজার) থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। গোলাঅর্থ বাজার এবং ঘাটঅর্থ নদী বন্দর।

   ইতিহাস- সরূপাথারের নাগাজারি-খনিকরগাঁও শিলালিপি, দুর্গের ধ্বংসাবশেষ, ইটের কাঠামো, স্মৃতিস্তম্ভ, মন্দির, পুকুর ইত্যাদির দ্বারা দোয়ং-ধনসিরি উপত্যকায় নবম শতাব্দীতে একটি রাজ্যে থাকার কথা প্রমাণ করে

   মিং রাজবংশ এবং আভা রাজ্য- পূর্বে এই অংশটি ডিমাসা রাজ্য দ্বারা শাসিত ছিল। ডিমাসাদের সাথে মিং রাজবংশের যোগাযোগ ছিল ১৪০৬ সালে ডিমাসা রাজ্যকে তুসি(বংশানুক্ৰমিক শাসক) হিসেবে সম্মানিত করা হয়।মিং রাজবংশ রাজ্যে রাজকীয় আদেশ, পেটেন্ট, সীলমোহর, কাগজের টাকা, সিল্ক ইত্যাদি প্রদানের জন্য ঝো রাংকে তত্ত্বাবধায়ক সচিব হিসেবে প্রেরণ করে এবং বিনিময়ে শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে ঝো রাং ঘোড়া এবং স্থানীয় পণ্য প্রেরণ করেন। ১৪২৫ সালে, ডি-মা-সা প্যাসিফিকেশন সুপারিনটেনডেন্সির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডিয়েদাওমাংপা মাজিয়াসাকে কাগজের টাকা, রেমি-সিল্ক, সিল্কের গজ এবং পাতলা সিল্ক প্রদান করেন।

   আহোমদের অধীনে- ষোড়শ শতাব্দীতে আহোমরা দোয়াং-ধানসিরি উপত্যকার শাসনভার গ্রহণ করেনতখন কাছারিদের কার্বি পাহাড়ের পশ্চিমে ঠেলে দেওয়া হয়। আহোম রাজা সুহুংমুং (১৪৯৭-১৫৩৯)মারাঙ্গি-খোয়া গোহাঁই নামে একজন শাসক নিযুক্ত করেন, যা আহোম প্রশাসনের গভর্নর/মন্ত্রীর পদমর্যাদার একটি প্রশাসনিক পদ ছিল। মারাঙ্গি-খোয়া গোহাঁইয়ের আহ্বানে, আহোম রাজ্যের বিভিন্ন অংশ থেকে বিপুল সংখ্যক লোক এসে পূর্ববর্তী কাছারি রাজ্যে বসতি স্থাপন করেএই বসতির একটি আকর্ষণীয় উদ্দেশ্য ছিল, যাতে বিভিন্ন বর্ণ/সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক লোক একত্রিত হয়ে নতুন অধিগ্রহণ করা এই অঞ্চলে বিদ্রোহের সূচনা না করতে পারেমোরোঙ্গি-খোয়া গোহাঁইদের বেশিরভাগই যদিও বুঢ়াগোহাঁই পরিবার থেকে নিযুক্ত করা হয়েছিল, অবশ্যে কিছু ব্যতিক্রমও ছিল।

   পরবর্তীতে ব্রিটিশরা আসামের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করলে, ১৮৪৬ সালে দোয়াং-ধনসিরি উপত্যকাকে শিবসাগর জেলার নবগঠিত গোলাঘাট মহকুমার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গোলাঘাট জেলা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলোকুশল কোঁয়র, কমলা মিরি, দ্বারকি দাস, বিজু বৈষ্ণব, শঙ্কর চন্দ্র বড়ুয়া, শ্রী তারা প্রসাদ বড়ুয়া, রাজেন্দ্র নাথ বড়ুয়া, গৌরীলাল জৈন, গঙ্গা রাম বরমেধি এবং দ্বারিকানাথ গোস্বামী হলেন এই অঞ্চলের বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী ১৯৮৭ সালের ১৫ আগস্ট শিবসাগর জেলা থেকে বিভক্ত করে গোলাঘাটকে আসামের একটি প্রশাসনিক জেলার মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে

   গোলাঘাট জেলার আয়তন ৩,৫০২ বর্গকিলোমিটার (১,৩৫২ বর্গমাইল), যা বাহামার উত্তর আন্দ্রোস দ্বীপের জনসংখ্যার (তুলনামূলকভাবে) সমান।

      অবস্থান- গোলাঘাট জেলার উত্তরে ব্রহ্মপুত্র নদী, দক্ষিণে নাগাল্যান্ড রাজ্য, পূর্বে যোরহাট জেলা এবং পশ্চিমে কার্বি আংলং ও নাগাঁও জেলা দ্বারা বেষ্টিত। ধনসিরি হল জেলার প্রধান নদী নদীটি নাগাল্যান্ডের লাইসাং শৃঙ্গ থেকে উৎপন্ন হয়েছে। নদীটি দক্ষিণ থেকে উত্তরে ৩৫২ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ব্রহ্মপুত্রে মিলিত হয়েছেএর জলাধার এলাকা ১,২২০ বর্গকিলোমিটার (৪৭০ বর্গমাইল)। দোয়ং, নামবর, দোয়গ্রুং এবং কালিওনি হল ধনসিরির চারটি শাখানদী। কাকডোঙ্গা নদী গোলাঘাট এবং যোরহাট জেলার সীমানা নির্ধারণ করে।

   জাতীয় সুরক্ষিত এলাকা

   কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানর (একটি অংশ)

   নামবর - দোয়গ্রুং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য

   জলবায়ু- এই জেলার জলবায়ু গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে বেশিরভাগ সময়ই উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করে। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৩০০ মিমি। জুন ও জুলাই মাসে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়। জুন মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.০ °সে এবং ডিসেম্বর মাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.০ °সে।

   বিভাগ-এই জেলাটিতে চারটি আসাম বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা রয়েছে: বোকাখাট, সরূপথর, গোলাঘাট এবং খুমটাই।চারটি বিধান সভা সমষ্টিই কালিয়াবর লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত

   প্রশাসন- জেলার সদর দপ্তর গোলাঘাট যদিও ধনসিরি, বোকাখাট এবং মেরাপানি থেকেও শাসনকার্য পরিচালিত হয়জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শাখাগুলি প্রশাসন, বেসামরিক প্রতিরক্ষা, গোপনীয়তা, উন্নয়ন, নির্বাচন, আবগারি, হোমগার্ড, ম্যাজিস্টেরিয়া, নজরত, কর্মী, নিবন্ধন, রাজস্ব, সরবরাহ, ট্রেজারি এবং জেলা সৈনিক বোর্ড নিয়ন্ত্ৰণ করে। জেলা ও দায়রা জজ আদালতগুলিও গোলাঘাটে এর সদর দপ্তরে অবস্থিত।

   জনসংখ্যা- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে গোলাঘাট জেলার জনসংখ্যা ১,০৬৬,৮৮৮ জন, যা সাইপ্রাস জাতি অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ড রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় সমান। এটি ভারতের মোট ৬৪০ জেলার মধ্যে ৪৩০তম স্থানে রয়েছে।জেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩০২ জন (৭৮০/বর্গমাইলে)২০০১-২০১১ দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১১.৮৮%। গোলাঘাট জেলায় প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৬১ জন মহিলা রয়েছে এবং সাক্ষরতার হার ৭৮.৩১%। জনসংখ্যার ৯.১৬% শহরাঞ্চলে বাস করে। তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতি জনসংখ্যার যথাক্রমে ৫.৮৪% এবং ১০.৪৮%।

   -ঐতিহাসিক জনসংখ্যা

   ১৯০১- ১৫৮,৪৭৪

   ১৯১১- ১৮৪,৭০১ +১.৫৪%

   ১৯২১- ২২১,৩২৮ +১.৮৩%

   ১৯৩১- ২৬১,৮১৬ +১.৬৯%

   ১৯৪১- ২৬৫,১৪৮ +০.১৩%

   ১৯৫১- ৩১৭,৫৫০ +১.৮২%

   ১৯৬১- ৪০০,২৩৮ +২.৩৪%

   ১৯৭১- ৫২৩,৭০৭ +২.৭৩%

   ১৯৯১- ৮২৮,০৯৬ +২.৩২%

   ২০০১- ৯৪৬,২৭৯ +১.৩৪%

   ২০১১- ১,০৬৬,৮৮৮ +১.২১%

   গোলাঘাট জেলার ধর্ম (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে

   হিন্দুধর্ম-85.99%

   ইসলাম-8.46%

   খ্রিস্টধর্ম-4.74%

   অন্যান্য বা ধর্ম না বলা- 0.81%

   শিব দৌল মন্দির গোলাঘাট জেলার একটি প্রধান মন্দির

   গোলাঘাট জেলার ভাষা (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে

   অসমীয়া- (৭৮.৪%)

   বাঙালি- (৪.৫৯%)

   মিসিং- (২.৭১%)

   নেপালি- (২.৫%)

   বড়ো- (১.৮৬%)

   হিন্দি- (১.৭৯%)

   সাদ্রি- (১.৫২%)

   ওড়িয়া- (১.৩৬%)

   অন্যান্য- (৫.২৭%)

   আঞ্চলিক বিরোধ- গোলাঘাট জেলার প্রায় ৪২০ বর্গকিলোমিটার (১৬০ বর্গমাইল) এলাকা নাগাল্যান্ড রাজ্যের (মেরাপানীর অঞ্চল) দখলে রয়েছে। ১৯৭৯ এবং ১৯৮৫ সালে উভয় পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়েছিলো, যেখানে যথাক্রমে ৫৪ এবং ৪১ জন লোক নিহত হয়েছিলোনিহতদের প্রায় সকলেই ছিলো অসমীয়া পক্ষের আক্রমণকারীরা ছিল এনএসসিএন জঙ্গি এবং নাগাল্যান্ড পুলিশ।

   সংস্কৃতি- গোলাঘাট জেলা অসমীয়া সাহিত্যে অসামান্য অবদান রয়েছে অনেক কার্তিমান সাহিত্যি রয়েছেন গোলাঘাট জেলায়গোলাঘাটের উনিশ শতকের সবচেয়ে বিশিষ্ট লেখক হলেন হেমচন্দ্র বড়ুয়া, যিনি প্রথম অসমীয়া অভিধান হেমকোষের লেখক। গোলাঘাটের দোয়ং আলেঙ্গি সত্রের সত্রাধিকারী রঘুনাথ মহন্ত, উনিশ শতকের আরেকজন লেখক ছিলেন, যিনি শত্রুঞ্জয় কাব্য, অদ্ভুত রামায়ণ এবং কথা রামায়ণ নামে তিনটি শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। আহোম যুগের একজন উল্লেখযোগ্য কবি ছিলেন দুর্গেশ্বর দ্বিজি। তিনি সংখোসুর বধ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। হেমচন্দ্র গোস্বামীকে উনিশ শতকের শেষের দিকে এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী লেখকদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি অসমীয়া ভাষার প্রথম সনেট লেখক। প্রথম অসমীয়া কবি এবং প্রথম অসমীয়া ছোটগল্প লেখকের কৃতিত্ব গোলাঘাটের যমুনেশ্বরী খাটোনিয়ারের। তাঁর পদ্য সংকলন অরুণ ছিল একজন মহিলা কবির দ্বারা লেখা প্রথম বই।

          গোলাঘাটের রায়বাহাদুর ঘনশ্যাম বড়ুয়া, যিনি আসামের প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসাবে রাজনীতির ক্ষেত্রে বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যিনি উইলিয়াম শেক্সপিয়রের দ্য কমেডি অফ এররস তার তিনজন সহযোগীর সাথে অসমিয়া ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন। গোলাঘাটের কমল চন্দ্র শর্মা 'অসমিয়া ভাষা উন্নয়ন সাধিনী সভার' সম্পাদকের প্রভাবশালী পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। অসমীয়া সাহিত্যের অজেয় লেখক সৈয়দ আবদুল মালিকের বাড়ি গোলাঘাটের নাহরনি গ্রামে। তিনি আসাম সাহিত্য সভার সভাপতি ছিলেন। মালিক সাহিত্য আকাদেমি, শঙ্কর দেব পুরস্কার, সাহিত্যাচার্য প্রভৃতি সহ অনেক উচ্চ পুরষ্কার পেয়েছিলেন।

   গোলাঘাটের অন্যান্য ব্যক্তিরা যারা অসমীয়া সাহিত্যের মহান লেখক হিসাবে তাদের নাম চিহ্নিত করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছে সুরেন্দ্রনাথ সইকিয়া, হরি প্রসাদ বড়ুয়া, কীর্তিনাথ হাজারিকা, ডঃ নগেন সাইকিয়া, ডাঃ দেবপ্রসাদ বড়ুয়া, নীলমনি ফুকন, সমীর তাঁতি, লক্ষীকান্ত মহন্ত, পূর্ণ চন্দ্র গোস্বামী, ডাঃ উপেন কাকতি, ললিত বড়ুয়া, গোলাপ খাউন্ড এবং প্রেমধর দত্ত। গোলাঘাট সাহিত্য সভা হল আসাম সাহিত্য সভার অন্যতম প্রাচীন সভা, যেটি 1918 সালে শুরু হয়েছিল।

   উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত- 1974 সালে গোলাঘাট জেলা কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের আবাসস্থল হয়ে ওঠেছে, যার আয়তন ৪৭২ বর্গকিমি(১৮২.২ বর্গ মাইল)। পার্কটির একটা অংশ নগাঁও জেলায় রয়েছেজেলাটিতে নামবর দোইগ্রাং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যও অবস্থিত

   উল্লেখযোগ্য মানুষ-কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের প্রাণী উদ্ধারকারী মনোজ গগৈ এবং অলিম্পিক পদক বিজয়ী ভারতীয় বক্সার লভলিনা বরগোঁহাইর গৃহ গোলাঘাট জেলায়

   জেলা গঠন: গোলাঘাট জেলা ৩টি বেসামরিক মহকুমা, ৮টি ব্লক এবং ১০২টি গাঁও পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত।

   রাজস্ব গ্রাম: জেলায় ৬২১টি রাজস্ব গ্রাম রয়েছে।

   গোলাঘাট জেলায় 102টি গাঁও পঞ্চায়েত রয়েছে।

   শিক্ষানুষ্ঠান- গোলাঘাট জেলার উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে রয়েছে, বরপাথার কলেজ, দয়াং কলেজ, জেডিএসজি কলেজ, মারঙ্গি মহাবিদ্যালয়, আবাসিক বালিকা পলিটেকনিক এবং গোলাঘাট আইটিআই, যেখানে শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং জেলা শিক্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান (ডায়েট) রয়েছে

   গোলাঘাট জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির আরও বিস্তারিত তালিকা নিচে প্রদান করা হলো:

   কলেজ:-বরপাথার কলেজ: বরপাথারের ৪ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত,

   দোয়াং কলেজ: মেরাপানিতে অবস্থিত,

   যোগানন্দ দেব সত্রাধিকার গোস্বামী (জেডিএসজি) কলেজ, বোকাখাট: ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সম্পর্কিত উচ্চশিক্ষার একটি বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান।

   মারঙ্গি মহাবিদ্যালয়: পুরবাংলা, পো.ও.-লেটেকুজান, মারাঙ্গি মৌজায় অবস্থিত একটি সরকারি প্রাদেশিক কলেজ।

   গোলাঘাট পূর্বাঞ্চলিক কলেজ: হাতিয়েখোয়ায় অবস্থিত

   গোলাঘাটের আবাসিক বালিকা পলিটেকনিক: পুলিবরে অবস্থিত রাজ্য কারিগরি শিক্ষা পরিষদ (এসসিটিই) দ্বারা অনুমোদিত একটি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠান।

   সরুপাথর কলেজ:

   গোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ:

   অন্যান্য প্রতিষ্ঠান:-শিল্প প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (আইটিআই), গোলাঘাট: পুলিবরে অবস্থিত আসামের কর্মসংস্থান ও কারিগর প্রশিক্ষণ অধিদপ্তরের অধীনে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান।

   এনবিসিটি দক্ষতা উন্নয়ন (কম্পিউটার ইনস্টিটিউট):

   এম.টেক কম্পিউটার শিক্ষা কেন্দ্র দেরগাঁও:

   এপিটোম: ক্যারিয়ার ইনফোটেক:

   দিল্লি পাবলিক স্কুল:

   ইন্দ্রাণী দেবী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়: • 

 

                                                                                      যোরহাট জেলা

          যোরহাট ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা, যা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত। জেলাটির উত্তরে মাজুলি, দক্ষিণে নাগাল্যান্ড রাজ্য, পূর্বে শিবসাগর এবং পশ্চিমে গোলাঘাট জেলা দ্বারা বেষ্টিত। জেলার উত্তরে ব্রহ্মপুত্র নদী বিশ্বের বৃহত্তম নদীমাতৃক দ্বীপ মাজুলি গঠন করেছেজেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর যোরহাট শহর। যোরহাট পূর্বে অবিভক্ত শিবসাগর জেলার একটি মহকুমা ছিল। ১৯৮৩ সালে, যোরহাট শিবসাগর জেলা থেকে বিভক্ত করে একটি পৃথক জেলায় পরিণত করা হয়েছে

   উৎপত্তি- যোরহাট বলতে টুইন হাট(বাজার)বা মাণ্ডি বোঝায়- মাচারহাট এবং চৌকিহাট যা ১৮ শতকে ভোগদই নদীর দুটি ভিন্ন তীরে অবস্থিত ছিল।

   বর্তমান জেলার উত্তরতম অঞ্চলটি ১৬ শতকে আহোম-চুটিয়া যুদ্ধের আগে পর্যন্ত চুটিয়া রাজ্যের অংশ ছিল। ১৭৯৪ সালে আহোম রাজা গৌরীনাথ সিংহ শিবসাগর (পূর্ববর্তী "রংপুর") থেকে রাজধানী যোরহাটে স্থানান্তরিত করেন। এই শহরটি একটি সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক মহানগর ছিল, কিন্তু ১৮১৭ সাল থেকে ১৮২৪ সাল পর্যন্ত বার্মিজদের ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে শহরটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো এবং ডেভিড স্কট ও ক্যাপ্টেন রিচার্ডের তত্ত্বাবধানে ব্রিটিশ বাহিনীর আগমনের ফলে শহরটি ধ্বংসের মুখ থেকে রক্ষা পড়েছিলো

   ব্রিটিশ শাসন বিদ্রোহ এবং বিপ্লব থেকে যদিও মুক্ত ছিল না,  তবু এই ঐতিহাসিক শহরের পুনরুত্থানে অবদান রেখেছিল। ব্রিটিশ শাসনের প্রথম দশক থেকেই  গোমধর কোঁয়র, জেউরাম এবং পিয়ালী বড়ুয়া নামক মহান বিপ্লবীদের আবির্ভাব ঘটেছিল এবং বিপ্লবীরা ব্রিটিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ১৮৩৯ সালে পুলিশ থানা আক্রমণ করেছিলোমহান সিপাহী বিদ্রোহের সময়, মণিরাম দেওয়ান এবং পিয়ালী বড়ুয়ার দ্বারা রচিত ব্রিটিশ বিরোধী চক্রান্তকে ধ্বংস করা হয়েছিল। ১৮৫৮ সালে এই নেতাদের এই স্থানেই জনসমক্ষে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

   ১৮৮৫ সালে, একটি ন্যারো-গেজ ট্রেন পরিষেবা (যোরহাট প্রাদেশিক রেলওয়ে) চালু হয়েছিলো এবং শেষ পর্যন্ত চা শিল্পের দ্রুত বিকাশে পরিষেবাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলো ১৮৬৯ সালে শিবসাগর জেলার অধীনে যোরহাটে সিভিল মহকুমা গঠিত হলেও, ১৯১১ সালে এই স্থানটিকে অবিভক্ত শিবসাগর জেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যার মধ্যে বর্তমান শিবসাগর, যোরহাট এবং গোলাঘাট এবং কার্বি-আংলং জেলার কিছু অংশ ছিল এবং মেজর এ. প্লেফেয়ার জেলার প্রথম ডেপুটি কমিশনার ছিলেন।আধুনিক যুগের যোরহাট জেলাটি ১৯৮৩ সালে শিবসাগর জেলা থেকে বিভক্ত করে গঠন করা হয়েছে

   জেলার উত্তরে অবস্থিত ব্রহ্মপুত্র নদ পৃথিবীর বৃহত্তম নদীমাতৃক নদীদ্বীপ মাজুলি গঠন করেছে মাজুলি দ্বীপটি ৯২৪.৬ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। ব্ৰহ্মপুত্ৰ নদের ক্রমাগত ভাঙনের কারণে বর্তমান প্রায় ১.৫০ লক্ষ মানুষ হুমকির মুখে। আহোম শাসনের সময়কাল থেকেই মাজুলি বৈষ্ণবদের প্রধান তীর্থস্থানশঙ্করদেব (১৪৪৯-১৫৬৮) কর্তৃক প্রবর্তিত বৈষ্ণব ধর্ম প্রচার ও শিক্ষাদানকারী সত্রাধিকারদের নেতৃত্বে মধ্যযুগীয় মঠের মতো বেশ কয়েকটি সত্র রয়েছে মাজুলিতেপ্রতিটি সত্রতে বৈষ্ণব ধর্মগ্রন্থ রয়েছে এবং সত্রগুলির অধীনে "ভক্ত"দের দ্বারা চাষ করা বিস্তৃত রাজস্বমুক্ত জমি রয়েছে।

   যোরহাট জেলার আয়তন ২,৮৫১ বর্গকিলোমিটার (১,১০১ বর্গমাইল), যা তুলনামূলকভাবে রাশিয়ার জেমলিয়া জর্জিয়ার জনসংখ্যার সমান। দ্বীপটিতে প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে বন্যা হয়। জেলার গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০২৯ মিমি।         

   জেলাটির একমাত্র বহির্মুখী সিভিল মহকুমা হলো তিতাবর।

   বিভাগ-এই জেলায় পাঁচটি আসাম বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা রয়েছে: যোরহাট, টিঅক, মরিযনি, তিতাবর এবং দেরগাঁও।দেরগাঁও তফসিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিতদেরগাঁও কালিয়াবর লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গতবাকি চারটি যোরহাট লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত

   জেলাটিতে প্রায় ১৩৫টি চা বাগান রয়েছে এবং প্রধান কৃষি ফসল হল ধান, যেখানে মাথাপিছু খাদ্যশস্য উৎপাদন বার্ষিক ২০৫ কেজি।

   উৎপাদন শিল্প- জেলাটিতে বেতের কাজ ও বাঁশের কাজ, রূপার গয়না, আসবাবপত্র তৈরি, পিতলের কারুকাজ, ছাতা তৈরি, সাবান তৈরি, প্যাকেজজাত খাদ্যসামগ্রীসহ বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প রয়েছে।

   পর্যটন- মাজুলি, কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান, শিবসাগর, গিবন বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, বিখ্যাত মোলাই বন ইত্যাদির মতো আন্তর্জাতিক গুরুত্বের অনেক আকর্ষণীয় স্থানগুলিতে পৌঁছানোর জন্য সুবিধা প্রদান করে যোরহাটজেলার মধ্যে ভ্রমণযোগ্য অসংখ্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হল, লাচিত বরফুকনের মৈদাম, রাজা মৈদাম, যোরহাট বিজ্ঞান কেন্দ্র ও প্ল্যানেটেরিয়াম, যোরহাট জিমখানা ক্লাব, চন্দ্রকান্ত হ্যান্ডিক ভবন, যোরহাট জেলা জাদুঘর, সুকাফা সমন্নয় ক্ষেত্র, কাজিরঙ্গা গলফ রিসোর্ট, শান্তি আশ্রম, জগন্নাথ মন্দির, ঠেঙ্গাল কালচারাল সেন্টার ও মিউজিয়াম, পাবলিক পার্ক, একাধিক চা বাগান, সুকাফা পার্ক, গাভরু পর্বত প্রভৃতি

   জনসংখ্যার তথ্য- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে যোরহাট জেলার জনসংখ্যা ১,০৯২,২৫৬ জন, যা সাইপ্রাস জাতির অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ড রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় সমান।জেলাটি ভারতের মোট ৬৪০ জেলার মধ্যে ৪১৮ তম স্থানে রয়েছে। জেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৮৩ জন (৯৯০/বর্গমাইল)।২০০১-২০১১ দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ৯.২১%। যোরহাট জেলায় প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে রয়েছে ৯৫৬ জন মহিলা এবং সাক্ষরতার হার ৮৩.৪২%।

   বিভক্ত জেলাটির জনসংখ্যা ৯,২৪,৯৫২ জন, যার মধ্যে ২২০,৫৩৪ জন (২৩.৮৪%) শহরাঞ্চলে বাস করে। বিভক্ত যোরহাট জেলার লিঙ্গ অনুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৬৩ জন মহিলা। তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতি যথাক্রমে 64,787 (7.00%) এবং 62,368 (6.74%)

   জেলার প্রধান অসমীয়া সম্প্রদায়গুলি হল চা উপজাতি (আদিবাসী), আহোম, চুটিয়া, সোনোয়াল কাচারি, ঠেঙ্গাল কাছারি।

   যোরহাট জেলার (2011)সালের আদমশুমারি অনুসারে ধর্মের শতকরা হার-

   হিন্দুধর্ম-91.09%

   ইসলাম-5.85%

   খ্রিস্টধর্ম-2.25%

   অন্য বা ধর্ম বিবৃত না করা-0.81%

   জোরহাট জেলার ভাষা (২০১১) সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   অসমিয়া (৮৮.৬৫%)

   বাঙালি (৩.৭৭%)

   হিন্দি (৩.০৪%)

   মিসিং (১.৬৩%)

   অন্যান্য (২.৯১%)

   সংস্কৃতি- প্রায় এক শতাব্দী আগে যোরহাটে বিরাজমান সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দশকের পর দশক ধরে মানুষকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত করেছে এবং ফলস্বরূপ যেরহাট অনেক সৃজনশীল লেখক, সঙ্গীতজ্ঞ, অভিনেতা, ইতিহাসবিদ এবং সাংবাদিক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে,  যার ফলে যোরহাটকে আসামের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

   উৎসব

   চা উৎসব- চা উৎসব ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য আসামের যোরহাট জেলায় অনুষ্ঠিত হয়। যোরহাট তার বিস্তৃত চা বাগানের জন্য সুপরিচিত এবং চা শিল্পের স্নায়ু কেন্দ্র। যোরহাটে বিশ্ব বিখ্যাত টোকলাই চা গবেষণা কেন্দ্র অবস্থিতএই স্থানে নতুন জাতের চা এবং সবুজ চায়ের নিরাময়মূলক প্রভাব খুঁজে বের করার জন্য গবেষণা করা হয়। ব্রহ্মপুত্র নদের বৃহত্তম নদীদ্বীপ মাজুলি এবং নামবর বন সংরক্ষণাগার যোরহাট থেকে পরিদর্শন করা যেতে পারে। মাজুলিতে অসংখ্য মঠ রয়েছে এবং নামবর বন সংরক্ষণাগার একটি পুনরুত্পাদনশীল উষ্ণ প্রস্রবণ হিসেবে বিখ্যাত।

   মাজুলি উৎসব- ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য আসাম নদীদ্বীপ মাজুলির জন্য বিশ্ববিখ্যাত, যা বিশ্বের বৃহত্তম নদী দ্বীপ দ্বীপটি পূর্বে যোরহাট জেলা প্রশাসনের একটি অংশ ছিল। মাজুলি নদীদ্বীপটি ব্রহ্মপুত্র নদীর মাঝখানে অবস্থিত এবং মাজুলি বৈষ্ণব সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল। ব্রহ্মপুত্র নদীর তীব্র ভাঙনের কারণে মাজুলির মোট আয়তন ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। আসামে মাজুলি উৎসবের সময়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রদর্শনীর মতো বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

   মাজুলি উৎসবের বর্ণনা- আসাম মাজুলি উৎসব লুইত নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয়, যার অবস্থান অপরিসীম সুন্দর এবং মনোরম পরিবেশে ভরা। লুইত নদী মাজুলি দ্বীপের মহকুমা সদর দপ্তর গড়মুর থেকে মাত্র ১.৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।মাজুলি উৎসব মাজুলির সাংস্কৃতিক দলগুলির পাশাপাশি দেশের অন্যান্য স্থানের দল এসে অনেক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত করে। প্রদর্শনীতে, অসমিয়া পণ্য প্রদর্শন করা হয়, যা শিল্পীদের দ্বারা বিশেষভাবে প্রস্তুত এবং ডিজাইন করা হয় পণ্যগুলি মাজুলির ঐতিহ্যবাহী মহিমার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আয়োজকরা আসামের মাজুলি উৎসবে একটি খাদ্য উৎসবেরও ব্যবস্থা করেন, যেখানে অসমীয়া এবং উপজাতিদের তৈরি খাবারও পাওয়া যায়। বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনার জন্য সেমিনারের আয়োজন করা হয়। দ্বীপে অবস্থিত বিভিন্ন জাদুঘরে বিভিন্ন শিল্পকর্ম এবং সাংস্কৃতিকভাবে চালিত মুখোশের প্রদর্শনী দেখা যায়।

   মাজুলি উৎসব উদযাপনের সময়- আসাম মাজুলি উৎসব শীতকালে, নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয়। মাজুলির জলবায়ু পরিস্থিতি এবং সড়ক যোগাযোগের সুবিধাগুলি মাথায় রেখে উৎসবটি আয়োজন করা হয়।

   ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থান

   ঢেকীয়াখোয়া বর্নমঘর

   বুড়ি গোসাঁনি দেবালয়

   বরভেটি থান

   গড়খিয়া দৌল

   ময়নাপোরিয়া নামঘর

   বুদ্ধ বিহার, যোরহাট

    উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

   যোরহাট অনেক সৃজনশীল লেখক, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক এবং আরও অনেককে তৈরি করেছে।

   বীরেন্দ্র কুমার ভট্টাচার্য, প্রথম অসমিয়া যিনি ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্ৰাপ্ত হয়েছিলেন।

   যাদব পায়েং, 'ভারতের বনমানুষ'

   কৃষ্ণ কান্ত সন্দিকৈ, শিক্ষাবিদ, গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য

   হীরেন ভট্টাচার্য, অসমীয়া কবি

   আসামের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ

   জুবিন গর্গ, সঙ্গীতজ্ঞ

   সোনারাম চুটিয়া, বৈষ্ণব পণ্ডিত

   মুনিন বরকটকি, লেখক

   উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত

   1997 সাল থেকে যোরহাট জেলা গিবন বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের আবাসস্থল হয়ে ওঠেছে, যার আয়তন 21 বর্গকিমি (8.1 বর্গ মাইল)। অভয়ারণ্যটি হুলক গিবনের জন্য সংরক্ষিত আবাসস্থল।

   মুলাই কাঠনি বা মোলাই ফরেস্ট নামে আরেকটি বন রয়েছে বনটি কোকিলামুখ এলাকার কাছে ব্রহ্মপুত্র নদের বালুচরে 550 হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত একটি মানবসৃষ্ট বন। এটির নামকরণ করা হয়েছে ভারতীয় পরিবেশকর্মী এবং বনকর্মী যাদব পায়েং-এর নামে।

   যোরহাট থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কাজিরঙ্গা জাতীয় উদ্যান অবস্থিত।

   শিক্ষা- যোরহাটকে রাজ্যের আধুনিক শিক্ষার জন্য সেরা স্থানগুলির মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যোরহাট শহরে এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। যোরহাট জেলার সাক্ষরতার হার কামরূপ মেট্রোপলিটনের পরেই।

   ১৮৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত যোরহাট সরকারি বালক বিদ্যালয় বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য বিশেষ সুবিধাসহ প্রাচীনতম বিদ্যালয়। জগন্নাথ বড়ুয়া কলেজ জেলার শীর্ষস্থানীয় এবং প্রাচীনতম কলেজ (১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত) এবং বলা হয় এটি উচ্চ আসামের প্রথম কলেজ। পরে একাধিক স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জেলার কিছু উল্লেখযোগ্য স্কুল হল, বালিয়া নিকেতন কাকজান, বাল্য ভবন, ডনবস্ক হাইস্কুল, বাগচুং আর্মি পাবলিক স্কুল যোরহাট, এয়ার ফোর্স স্কুল, কারমেল কনভেন্ট স্কুল, হেমলতা সন্দিকৈ মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট, ডন বস্কো হাইস্কুল, লিচুবাড়ি, জ্যোতি বিদ্যাপীঠ, টিয়ক, আসাম রাইফেলস পাবলিক স্কুল, দিল্লি পাবলিক স্কুল, স্প্রিং দলে উচ্চ বিদ্যালয়। সেন্ট মেরি হাইস্কুল, বেন গার্ডেন হাইস্কুল, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় এনইআইএসটি, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় ওএনজিসি, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় এয়ার ফোর্স স্টেশন, জওহর নবোদয় বিদ্যালয়, যোরহাট, জোনাকি সংঘ বিদ্যালয়, আসাম ভ্যালি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, শঙ্কর দেব বিদ্যানিকেতন, বহোনা বালক উচ্চ বিদ্যালয়, রয়েল ওক উচ্চ বিদ্যালয়। প্রাগজ্যোতিকা তিতবর, জাতীয় বিদ্যালয় তিতবর, সেন্ট অ্যান্টনিস হাইস্কুল, মান ইন্টারন্যাশনাল হাইস্কুল, মিহিরাম সইকিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শঙ্করদেব সেমিনারি স্কুল, যোরহাট সরকারি বালক উচ্চমাধ্যমিক ও এমপি স্কুল, যোরহাট সরকারি বালিকা উচ্চমাধ্যমিক ও এমপি স্কুল, যোরহাট মডেল কম্পোজিট স্কুল, গীতারথি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ডিসিবি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, দীপঙ্কর বিদ্যাপীঠ, ৪ নম্বর ওয়ার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাষ্ট্রভাষা স্কুল, রেবকান্ত বড়ুয়া স্কুল, বিদ্যাধর শৈকিয়া স্কুল ইত্যাদি।

   যোরহাট শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু যেখানে উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের প্রথম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়- আসাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়- ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেএ ছাড়াও এখানে অনেক বিশিষ্ট উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো - যোরহাট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (১৯৬০), নর্থ ইস্ট ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এনইআইএসটি) (১৯৬১), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজাইন, যোরহাট (২০১৯), আসাম উইমেন্স ইউনিভার্সিটি (২০১৩), এইচআরএইচ দ্য প্রিন্স অফ ওয়েলস ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (POWIET) (১৯২৬), টোকলাই টি রিসার্চ ইনস্টিটিউট(১৯১১), রেইন ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (১৯৮৮),  যোরহাট মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল (২০০৯), যোরহাট ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (জেআইএসটি) এবং কাজিরঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয়(২০১২)। যোরহাট জেলার আরও কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো - সিকেবি কমার্স কলেজ, যোরহাট কলেজ, যোরহাট ল কলেজ, ড. জে. কে. সইকিয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল, ডিসিবি গার্লস কলেজ, বাহনা কলেজ, যোরহাট কেন্দ্রীয় মহাবিদ্যালয়, কাকজান কলেজ, চন্দ্র কমল বেজবরুয়া কলেজ, নন্দনাথ সইকিয়া কলেজ এবং মারিয়ানি কলেজ।

   মিডিয়া- যোরহাটের সুস্থ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক জীবন সম্পর্কে সবচেয়ে ভালোভাবে বিচার করা যায়,  জেলার দুটি প্রকাশনা গোষ্ঠী থেকে প্রকাশিত পাঁচটি দৈনিক সংবাদপত্র থেকে।

   জন্মভূমি গ্রুপ অফ পাবলিকেশনস হল যোরহাটের প্রাচীনতম মিডিয়া গ্রুপ। সাপ্তাহিক জন্মভূমি, দৈনিক জন্মভূমি এবং ইস্টার্ন ক্লারিয়ন হল এর সহ-সংগঠন। সাপ্তাহিক জন্মভূমি প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর উদযাপন করা হয়েছে এবং দৈনিক জন্মভূমি ২৫ বছর অতিক্রম করেছে।

   জি.এল. পাবলিকেশন গুয়াহাটি এবং যোরহাট থেকে একই সাথে তিনটি সংবাদপত্র প্রকাশ করে। এগুলো হল নর্থ ইস্ট টাইমস (ইংরেজি), আমার অসম (অসমীয়া) এবং পূর্বাঞ্চল প্রহরী (হিন্দি)।

   যোরহাট থেকে প্রকাশিত অন্যান্য সংবাদপত্র হল দৈনিক অগ্রদূত, অসমিয়া খবর এবং দ্য টেলিগ্রাফ।

   আসামের যোরহাট জেলায়, যোরহাট জেলা পঞ্চায়েতের অধীনে ৯০টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে

   পঞ্চায়েত কাঠামো: য়োরহাট জেলা পঞ্চায়েত সমিতির অধীনে ৬০৫টি গ্রাম রয়েছে।

   গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যা: যোরহাট জেলায় মোট ৯০টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে।

   যোরহাট জেলার উল্লেখযোগ্য গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে রয়েছে কাকজান, মধ্য চৌহাট হাতিগোড়া, বাঘচুং চরাইবাহী এবং কাটনি গাঁও।

   ১৬টি জেলা পরিষদ (জেলা পরিষদ নির্বাচনী এলাকা) রয়েছে। • 

 

                                                          কামরূপ মেট্রো

   কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলা উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম রাজ্যের ৩৫টি জেলার মধ্যে একটি প্রশাসনিক জেলা২০০৩ সালের ফেব্রুযারী পূর্বতন অবিভক্ত কামরূপ জেলা থেকে বিভক্ত করে জেলাটি গঠন করা হয়েছে জেলাটি গুয়াহাটি মেট্রোপলিটন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলার ৩.৫৩ লক্ষ ভোটার নিয়ে দিসপুর বিধানসভা নির্বাচনী সমষ্টি গঠিত। নিৰ্বাচনী এলেকাটি আসামের বৃহত্তম নির্বাচনী এলাকা।

   আসাম সরকারের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের মুখ্যমন্ত্রীত্বকালে, এটিকে আরও বিভক্ত করে পূর্ব কামরূপ নামে একটি নতুন জেলা তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে, জেলা তৈরির প্রক্রিয়া শুরুও হয়েছিল।কিন্তু সেই বছরের শেষের দিকে, অবকাঠামোর অভাবে সৃজেলা গঠনের প্রক্রিয়া মাঝপথে বন্ধ হয়ে রয়েছে

   কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর গুয়াহাটি শহরজেলাটির আয়তন ১৫২৭.৮৪ বর্গকিলোমিটার।

   ঐতিহাসিক জনসংখ্যা

   ১৯০১- ৫২,৩৫১

   ১৯১১- ৫৮,১৬০ +১.০৬%

   ১৯২১- ৬২,২৬৪ +০.৬৮%

   ১৯৩১- ৬৮,১০২ +০.৯০%

   ১৯৪১- ৮১,১৮৩ +১.৭৭%

   ১৯৫১- ৯৫,১২৩ +১.৬০%

   ১৯৬১- ২১৬,৩৫৭ +৮.৫৬%

   ১৯৭১- ৩১৫,৪০৪ +৩.৮৪%

   ১৯৯১- ৭৭১,৪৭৭ +৪.৫৭%

   ২০০১- ১,০৫৯,৫৭৮ +৩.২২%

   ২০১১- ১,২৫৩,৯৩৮ +১.৭০%

   জনসংখ্যা- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলার জনসংখ্যা ১,২৫৩,৯৩৮ জন,যা এস্তোনিয়া রাষ্ট্রের অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যের জনসংখ্যার সমান।এর ফলে এটি ভারতের মোট ৬৪০ জেলার মধ্যে ৩৮৪তম স্থানে রয়েছেজেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২০১০ জন (৫,২০০/বর্গমাইল)। ২০০১-২০১১ দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৮.৯৫%। কামরূপ মেট্রোপলিটনে প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯২২ জন মহিলা এবং সাক্ষরতার হার ৮৮.৬৬%। জনসংখ্যার ৮২.৭০% শহরাঞ্চলে বাস করে। তফসিলি জাতি এবং উপজাতি জনসংখ্যার যথাক্রমে ৮.১২% এবং ৫.৯৯%।

      কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলায় ধর্ম (২০১১) সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   হিন্দুধর্ম-৮৪.৮৯%

   ইসলাম-১২.০৫%

   খ্রিস্টধর্ম-১.৫০%

   জৈনধর্ম-০.৭৪%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখিত নয়-০.৮২%

      কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলার ভাষা (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   অসমীয়া (৫৭.৮৭%)

   বাংলা (২০.৫%)

   হিন্দি (১০.৪৫%)

   নেপালি (২.৩৯%)

   বড়ো (১.৬৬%)

   কার্বি (১.৫৫%)

   অন্যান্য (৫.৫৮%)

   কামরুপ মেট্রোর বিধানসভা সমষ্টি-

   দিসপুর, কামরুপ মেট্রো

   গৌহাটি পূর্ব

   গৌহাটি পশ্চিম

   হাজো, কামরূপ

   কামরুপ মেট্রো জেলায় দক্ষিণ গুয়াহাটি বিএড কলেজ, গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আসাম সার্ভে ও সেটেলমেন্ট ট্রেনিং সেন্টারের মত উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে

   B.Ed কলেজ:- দক্ষিণ গুয়াহাটি বি.এড. কলেজ: ফটাসিল আমবাড়ি, গুয়াহাটিতে অবস্থিত।

   বাইহাটা চারিয়ালী বি-এড কলেজ

   কে আর ডি কলেজ অফ এডুকেশন

   বরনগর বি.এড. কলেজ

      চিলারাই কলেজ

      বিটি কলেজ

      কৃষ্ণ বরা বি.এড. কলেজ

   উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:

   গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়: অসংখ্য অধিভুক্ত কলেজ এবং ইনস্টিটিউট সহ একটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়।

   দিসপুর কলেজ: IQAC কমিটি সহ কামরূপ মেট্রোর একটি কলেজ।

   পাতিদরং কলেজ: কামরুপ (আর) নসত্র-এর উচ্চ শিক্ষার একটি প্রধান প্রতিষ্ঠান।

   প্রশিক্ষণ কেন্দ্র:-আসাম জরিপ ও বসতি স্থাপন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: দক্ষিণগাঁওয়ের রাজানগরে অবস্থিত।

   ডিস্ট্রিক্ট ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (DIET): কামরূপের মির্জায় অবস্থিত

   মহিলাদের জন্য শিল্প প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, গুয়াহাটি:

   AMTRON: একটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিভাগ।

   CEC: উত্তর-পূর্বে ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ একটি কম্পিউটার ইনস্টিটিউট।

   অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:-কটন কলেজিয়েট সরকারি এইচ.এস. স্কুল: উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাচীনতম স্কুল।

   কামরূপ একাডেমি এইচ.এস. স্কুল

   অ্যাসেন্ট একাডেমি জুনিয়র কলেজ

   বিশেষজ্ঞ একাডেমি এইচ.এস. জাতীয় বিদ্যালয়

   ২০০৩ সালে পূর্বতন অবিভক্ত কামরূপ জেলা থেকে তৈরি কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলাটি গুয়াহাটি মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির আওতাধীন এবং ৬০টি পৌর ওয়ার্ডে বিভক্ত।

   পৌর ওয়ার্ড: গুয়াহাটি মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশন (GMC) ৬০টি পৌর ওয়ার্ডে বিভক্ত।

   সদর দপ্তর: জেলা সদর দপ্তর গুয়াহাটিতে অবস্থিত।

   রাজস্ব সার্কেল: কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলায় ৫টি রাজস্ব সার্কেল রয়েছে: সোনাপুর আরসি, গুয়াহাটি আরসি, আজারা আরসি, চন্দ্রপুর আরসি এবং দিসপুর আরসি।

   উন্নয়ন ব্লক: কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলায় ৩টি উন্নয়ন ব্লক রয়েছে: চন্দ্রপুর, ডিমোরিয়া এবং রানি।

   জনসংখ্যা: ২০১১ সালে জনসংখ্যা ছিল ১,২৬০,৪১৯ জন।

   সাক্ষরতার হার: সাক্ষরতার হার ৭১%।

   ভৌগোলিক এলাকা: ভৌগোলিক এলাকা ১,৫২৮ বর্গ কিমি।

   রাজস্ব গ্রাম: ৩১৬টি রাজস্ব গ্রাম রয়েছে। • 

         

                                                                                                          কামরূপ (গ্রাম্য)

   কামরূপ গ্রামীণ জেলা ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা, যা ২০০৩ সালে পুরাতন কামরূপ জেলাকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে গঠিত হয়েছে অন্য জেলাটি হল, কামরূপ মহানগর জেলা। এই জেলা, নলবাড়ি, বরপেটা, কামরূপ মহানগর, বজালি এবং বাকসা জেলা সহ অবিভক্ত কামরূপ জেলা থেকে গঠন করা হয়েছে। রঙ্গিয়া হল কামরূপের উপ-জেলা।

   প্রয়াত তরুণ গগৈয়ের মুখ্যমন্ত্রীত্বকালে আসাম সরকার এটিকে আরও বিভক্ত করে দক্ষিণ কামরূপ নামে একটি নতুন জেলা তৈরির প্রস্তাব রেখেছিল। ২০১৬ সালে জেলা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।তবে, সেই বছরের শেষের দিকে, অবকাঠামোর অভাবে গঠনের প্রক্রিয়া মাঝপথে বন্ধ হয়ে গিয়েছে

   ভূগোল এবং পরিবেশ- কামরূপ জেলার আয়তন ৪,৩৪৫ বর্গকিলোমিটার (১,৬৭৮ বর্গমাইল)।কামরূপ জেলার সাথে মেঘালয়ের পশ্চিম খাসি পাহাড় জেলার কিছু আঞ্চলিক বিরোধ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে লাংপিহ গ্রাম।

   ব্রহ্মপুত্র নদের নিকটবর্তী এলাকার জমি নিচু, তাই বার্ষিক প্লাবনের ঝুঁকিতে রয়েছেএই জলাভূমিতে নল এবং বেত প্রচুর পরিমাণে জন্মায় এবং ধান চাষ হয়নদীর তীর থেকে তুলনামূলকভাবে অল্প দূরে উত্তরে ভুটান পাহাড় এবং দক্ষিণে খাসি পাহাড়ের দিকে ভূমি ঢালু হয়ে উপরের দিকে উঠে গেছেব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণের পাহাড়গুলি কিছু অংশে ৮০০ ফুট (২৪০ মিটার) উচ্চব্রহ্মপুত্র নদ জেলাটিকে প্রায় দুটি সমান অংশে বিভক্ত করেছেনদী নাব্য সারা বছর নৌকা চলাচলযোগ্য বেশ কয়েকটি উপনদী এসে মিসেছে ব্ৰহ্মপুত্ৰ নদে। উপনদীর মধ্যে উত্তরে দিক থেকে প্রবাহিত মানস, চাউলখোয়া এবং বরনাদি এবং দক্ষিণ দিক থেকে প্রবাহিত তীরে কুলসি এবং ডিব্রু।

   উদ্ভিদ ও প্রাণী-১৯৮৯ সালে কামরূপ জেলায় দিপর বিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য গঠন করা হয়েছে, যার আয়তন ৪.১ বর্গকিলোমিটার (১.৬ বর্গ মাইল)।এখানে একটি বাগানও রয়েছে যেখানে সেগুন, শাল, শিসু, সাম এবং নাহরের চারা লালন-পালন এবং কাউচৌক(রাবার)গাছের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়

   কামরূপে বৃহৎ সারসদের আবাসস্থলগ্রামবাসীরা আগে পাখিদের কীটপতঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করত, কিন্তু স্থানীয় মহিলাদের জন্য সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মসূচিসহ প্রচারণামূলক প্রচেষ্টার ফলে মানুষ সারস পাখিদের রক্ষা করতে উৎসাহিত করেছে।

   ঐতিহাসিক জনসংখ্যা

   ১৯০১- ২৭৩,৯৪৫

   ১৯১১- ৩০৪,৩৩৯ +১.০৬%

   ১৯২১- ৩২৫,৮১৬ +০.৬৮%

   ১৯৩১- ৩৫৬,৩৬৯ +০.৯০%

   ১৯৪১- ৪২৪,৮১৪ +১.৭৭%

   ১৯৫১- ৪৯৭,৭৬৩ +১.৬০%

   ১৯৬১- ৫৯৮,৩৫৭ +১.৮৬%

   ১৯৭১- ৮০৪,৭৭৫ +৩.০১%

   ১৯৯১- ১,০৯১,৬৫১ +১.৫৪%

   ২০০১- ১,৩১১,৬৯৮ +১.৮৫%

   ২০১১- ১,৫১৭,৫৪২ +১.৪৭%

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে কামরূপ জেলার জনসংখ্যা ১,৫১৭,৫৪২,যা পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গ্যাবনের অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় সমান।ভারতের মোট ৬৪০ টি জেলার মধ্যে কামরূপ(গ্রাম্য)জেলা ৩২৭তম স্থানে রয়েছে।জেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৩৬ জন (১,১৩০/বর্গমাইল)। ২০০১-২০১১ দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৫.৬৭%।কামরূপ গ্রাম্য জেলায় প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৪৬ জন মহিলা রয়েছে জেলার সাক্ষরতার হার ৭২.৮১%। তফসিলি জাতি এবং উপজাতি জনসংখ্যার যথাক্রমে ৭.১১% এবং ১২.০০%।

   কামরূপ জেলার ধর্ম (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে

   হিন্দুধর্ম-৫৭.৮২%

   ইসলাম-৩৯.৬৬%

   খ্রিস্টধর্ম-২.১৯%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখিত নয়-০.৩৩%

   সার্কেল অনুসারে ধর্মীয় জনসংখ্যা

        সার্কেল        হিন্দু    মুসলিম   খ্রিস্টান  অন্যান্য

   রঙ্গিয়া(পঞ্চমাংশ)  ৬৩.০৬% ৩৬.৩০%  ০.১২%  ০.৫২%

   কোয়া-         ৫৯.২১%  ৪০.৬০%  ০.০৭%  ০.১২%

   কমলপুর-       ৭৪.০১%  ২৫.৫১%   ০.১৭%  ০.৩১%

   হাজো-         ৫৫.৯২%  ৪৩.৬৮%  ০.০৬%  ০.৩৪%

   ছয়গাঁও-        ৭৭.৫৪%  13.73%   8.27%   0.46%

   গরাইমারী-       6.46%  93.31%   0.05%   0.18%

   চমরিয়া-        15.61%  84.28%   0.07%   0.04%

   নগরবেরা-       25.59%  74.28%   0.07%  0.06%

   বকো-          77.59%  7.07%    15.17% 0.17%

   পলাশবাড়ী-       83.93% 13.90%   1.57%   0.60%

   উত্তর গুয়াহাটি(Pt)- 67.93%  28.41%   3.40%  0.26%

   গোরেশ্বর (Pt)-    66.57%  33.26%   0.04%  0.13%

   ২০১১ সালের আদমশুমারির রিপোর্ট অনুসারে জেলার হিন্দু জনসংখ্যা (৮,৭৭,৪৯৫) ৫৭.৮২% হিন্দু জেলার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যা, দ্বিতীয় সর্বাধিক জনসংখ্যা ইসলাম (৬০১,৭৮৪) ৩৯.৬৬% এবং বাকি ২.৫২% অন্যান্য ধর্ম, যেমন শিখ ধর্ম, খ্রিস্টধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, জৈন ধর্ম এবং আদিবাসী উপজাতি ধর্মের অন্তর্ভুক্ত।জেলায় বিভিন্ন আদিবাসী অসমীয়া সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে, যেমন কেওট/কৈবর্ত, বড়ো, রাভা, তিওয়া/লালুং, আমরি কার্বি, ডোম/নদিয়াল, কোচ-রাজবংশী ইত্যাদি।

   কামরূপ জেলার ভাষা (2011)সালের আদমশুমারি অনুসারে

   অসমীয়া (74.43%)

   বাংলা (19.9%)

   গারো (1.86%)

   বড়ো (1.41%)

   হিন্দি (1.17%)

   অন্যান্য (1.23%)

   ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান-এই জেলায় হিন্দু, ইসলাম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধের অনুসারীরা বাস করেন। কামাখ্যা এবং হাজোর প্রাচীন মন্দিরগুলি সকল ধর্মের তীর্থযাত্রীকে আকর্ষণ করে।

   আসামের কামরূপ জেলায় বারোটি রাজস্ব সার্কেলের অধীনে ১,০২৭টি গ্রাম রয়েছে।

   গুরুত্বপূর্ণ স্থান: কামরূপ জেলা হাজো, শুয়ালকুচি, ছয়গাঁও, চমরিয়া, রঙ্গিয়া, পলাশবাড়ি, বকো এবং উত্তর গুয়াহাটির মতো ঐতিহাসিক স্থানের জন্য পরিচিত।

   কামরূপ মেট্রো: কামরূপ মেট্রো থেকে সাতটি রাজস্ব গ্রাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং কামরূপ জেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

   বিধানসভা সমষ্টি- ছয়াগাঁও,পলাশবাড়ী, কামরূপ মেট্রোপলিটন,জালুকবাড়ি, দিসপুর

   কামরূপ (গ্ৰামীন) জেলায় মোট ১৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত (যা গাঁও পঞ্চায়েত নামেও পরিচিত) রয়েছে।

   পঞ্চায়েত সমিতি: ১৪টি পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে।

   কামরূপ জেলা পঞ্চায়েতের আওতাধীন ১০৯৪টি গ্রাম রয়েছে।

   কামরূপ (গ্রামীণ) জেলায় ১৫৭৯টি স্কুল এবং ৫৭১৫ জন শিক্ষক রয়েছে।

   কামরূপ (গ্রামীণ) জেলায়, বামুন্ডি মহাবিদ্যালয়, পুঠিমারী কলেজ এবং বরভাগ কলেজের মতো কলেজ সহ অসংখ্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, এবং গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

   কলেজ:-বামুন্ডি মহাবিদ্যালয়: ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রাদেশিক কলেজ, যা গ্রামীণ সম্প্রদায়ের শিক্ষাগত চাহিদা পূরণ করে।

   পুঠিমারী কলেজ: পুঠিমারী নদীর তীরে সোনেশ্বরে অবস্থিত, যা জেলার বাইরেও বিস্তৃত শিক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য পরিচিত।

   বরভাগ কলেজ: ১৯৬৪ সালে কালাগ গ্রামের গ্রামীণ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা গ্রামীণ জনগণকে শিক্ষিত করার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।

   এম.এস. গার্লস কলেজ, রঙ্গিয়া: সমগ্র উত্তর কামরূপ অঞ্চলে মেয়েদের উচ্চশিক্ষার একমাত্র প্রতিষ্ঠান।

   শহিদ শোয়রানি কলেজ: ২০০১ সালে বামুনবরি গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ যুবকদের শিক্ষিত করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।

   জুরিয়া কলেজ: ১৯৮৯ সালে জুরিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে

   গরাইমারি কলেজ: ১৯৮৪ সালে ব্রহ্মপুত্র নদীর দক্ষিণ তীরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে

   নলবাড়ি আইন কলেজ: আইন শিক্ষার জন্য একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান।

   নীলামবাজার কলেজ: ১৯৯৪ সালে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

   দরং কলেজ ভোকেশনাল সেন্টার: দক্ষতা ভিত্তিক কোর্স প্রদান করে।

   এই কলেজগুলির অনেকগুলি গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে অনুমোদিত।

      অন্যান্য প্রতিষ্ঠান:-ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি, গুয়াহাটি (IIITG): গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। • 

                                                         

                                                                                                         কার্বি আংলং

   কার্বি আংলং জেলা ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলাএটি ভারতের সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের বিধান অনুসারে কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত কাউন্সিল (KAAC) দ্বারা পরিচালিত একটি স্বায়ত্তশাসিত জেলা। জেলার সদর দপ্তর ডিফুতে অবস্থিত।

   "কারবি আংলং" শব্দটি কার্বি ভাষা থেকে উদ্ভূত। কার্বি হল এই অঞ্চলে এবং এর আশেপাশে বসবাসকারী আদিবাসী উপজাতির নাম। কার্বি শব্দের উৎপত্তি অজানাকার্বি ভাষার একটি সমার্থক শব্দ হল পাহাড় এবং পর্বত। কার্বি আংলং শব্দটির আক্ষরিক অর্থ "কারবি পাহাড়"।

          স্বাধীনতার পূর্ববর্তী- আসামে ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপনের পূর্বে, অবিভক্ত আসামের প্রধান পাহাড়ি উপজাতিদের নিজস্ব পৃথক "রাজ্য" ছিল যেখানে তারা খুব বেশি বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়াই বাস করত। তারা কোনও সুপ্রতিষ্ঠিত বহিরাগত সরকার বা রাজ্যের অংশ ছিল না।১৮৮৪ সালের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনামলে, মিকির পাহাড় অঞ্চলকে নগাঁও প্রশাসনিক জেলার অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল। ততক্ষণ পর্যন্ত, পূর্ববর্তী মিকির পাহাড় বা বর্তমান কার্বি আংলং এবং পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার কোনও প্রশাসনিক সীমানা ছিল না। পরে ১৮৯৩ সালে, এই অঞ্চলের একটি অংশ শিবসাগর জেলার অধীনে রাখা হয়েছিল।

   পরবর্তীতে ১৯৩৫ সালে, ভারত সরকার আইন, ১৯১৯ এর ৫২এ(২) অনুচ্ছেদের অধীনে মিকির পাহাড়কে "অনগ্রসর অঞ্চল" হিসাবে ঘোষণা করেছিল। এই "অনগ্রসর অঞ্চল" ছিল সেই উপজাতি অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি যার প্রশাসনের জন্য ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল প্রণয়ন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৩৫ সালের ভারত সরকার আইনের অধীনে, মিকির পাহাড় অঞ্চলকে "আংশিকভাবে বাদ দেওয়া এলাকা" হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেএই অঞ্চলগুলি প্রদেশ বা ফেডারেল সরকারের প্রণীত আইন দ্বারা সরাসরি নিয়ন্ত্রিত ছিল না এবং প্রশাসনের ক্ষমতা মন্ত্রী পরিষদের উপর ন্যস্ত থাকলেও এটি রাজ্যপালের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল ছিল।

   স্বাধীনতার পর- ১৯৫১ সালের ১৭ নভেম্বর, বর্তমান মেঘালয়ের গোলাঘাট, নগাঁও, কাছাড় এবং সংযুক্ত খাসি পাহাড় এবং জৈন্তিয়া পাহাড় জেলার কিছু অংশ একত্রিত করে বর্তমানে বিলুপ্ত সংযুক্ত মিকির পাহাড় এবং উত্তর কাছাড় পাহাড় জেলা গঠন করা হয়েছিল।

   এরপর ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০ সালে পূর্ববর্তী সংযুক্ত মিকির এবং উত্তর কাছাড় পাহাড় জেলা দুটি পৃথক জেলায় বিভক্ত করা হয়- মিকির পাহাড় এবং উত্তর কাছাড় পাহাড় জেলা হিসাবেপরবর্তীতে ১৪ অক্টোবর ১৯৭৬ সালে মিকির পাহাড় জেলার আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয় কার্বি আংলং জেলা।

   সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আসামের কার্বি আংলং জেলা বেশ কয়েকটি জাতিগত সংঘাতের শিকার হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল কার্বি-কুকি সংঘাত যা ২০০৩ সালে শুরু হয়েছিল এবং ২০০৪ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল, যার ফলে কুকি রেভোলিউশনারি আর্মি (KRA) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক সলিডারিটি (UPDS) এর আলোচনা-বিরোধী গোষ্ঠীর হাতে কমপক্ষে ৮৫ জন মানুষ নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলো পুরুষ।এই সংঘাত প্রতিশোধমূলক আক্রমণের মাধ্যমে চিহ্নিত হয়েছিল, ২০০৪ সালের মার্চ মাসে KRA আর্মি ৩৯ জন কার্বি উপজাতিকে হত্যা করে, যা আসামে একদিনে সর্বোচ্চ বেসামরিক হতাহতের ঘটনা। মূল সমস্যা ছিল কুকি সম্প্রদায়ের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি এবং জাতিগত নির্মূলের ভয়, অন্যদিকে কার্বি সম্প্রদায় সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং কুকি অভিবাসন বন্ধ করতে চেয়েছিল।

   ২০১৬ সালে, জেলাটিকে আরও দুটি নতুন জেলায় বিভক্ত করা হয়েছেকার্বি আংলং জেলার হামরেন সিভিল সাব-ডিভিশনের অধীনে সমগ্র এলাকাকে পশ্চিম কার্বি আংলং নামে একটি নতুন জেলা গঠনের জন্য বিভক্ত করা হয়েছে, যার সদর দপ্তর হামরেন।

   রাজনীতি- ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপনের পর, ভারত সরকার আইন, ১৯৩৫, মিকির পাহাড়কে "আংশিকভাবে বাদ দেওয়া এলাকা" হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করে। এই অঞ্চলগুলি সরাসরি প্রাদেশিক এবং ফেডারেল সরকারের আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল না এবং মন্ত্রী পরিষদ দ্বারা শাসিত হত কিন্তু রাজ্যপালের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধীন ছিল।

   ১৯৪০ সালে, সেমসনসিং ইংতি, খোরসিং তেরং এবং সেং বে-এর মতো রাজনৈতিক নেতারা আসামের গভর্নর স্যার রবার্ট নীল রিডের কাছে একটি স্মারকলিপিতে মিকিরদের জন্য একটি পৃথক পাহাড়ি জেলার পক্ষে আবেদন করেনতাদের উদ্দেশ্যকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য, ১৯৪৬ সালে কার্বি-এ-দরবার নামে একটি সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন গঠিত হয়।

   ১৯৬০ সালে, আসাম সরকার আসাম সরকারী ভাষা আইন, ১৯৬০ পাস করে অসমিয়াকে রাজ্যের সরকারী ভাষা হিসেবে ঘোষণা করে।১৯৭২ সালে, গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করে যে, তাদের কলেজগুলির অধীনে শিক্ষার মাধ্যম এবং পরীক্ষার মাধ্যম ইংরেজি থেকে অসমিয়ায় পরিবর্তন করা হবে।এর প্রতিক্রিয়ায়, ১৯৭৩ সালের ৩১ মে তৎকালীন প্রধান নির্বাহী সদস্যের নেতৃত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভা চলাকালীন তারা কার্বি সাহিত্যকর্মের জন্য রোমান লিপি গ্রহণ করে এবং লিপি বাস্তবায়নের জন্য কমিটি গঠন করে। ১৯৭৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর কমিটির দ্বারা আয়োজিত একটি সমাবেশে, বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হন এবং রাজ্য পুলিশ বাহিনী কর্তৃক প্রতিশোধমূলকভাবে নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

   এই ঘটনাগুলি আসামের মধ্যে একটি স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের দাবিতে অবদান রাখেতৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল মহন্ত এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভৃগু ফুকন এই দাবিগুলির বিরোধিতা করেছিলেন কারণ উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে এটি রাজ্যকে আরও খণ্ডিত করতে পারে।

   ভূগোল- জেলা মালভূমিগুলি উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারতীয় প্লেটের (উপদ্বীপীয় ব্লক) একটি সম্প্রসারিত অংশ। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু থেকে এই অঞ্চলে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়।এই জেলাগুলিতে অসংখ্য নদী এবং উপনদী প্রবাহিত হয় যেমন ধনসিরি, লংনিট, যমুনা, কোলিওনি এবং নামবর।জেলাটির পূর্বে এবং উত্তরে গোলাঘাট জেলা, পশ্চিমে মেঘালয় রাজ্য এবং মরিগাঁও জেলা, দক্ষিণে নগাঁও এবং ডিমা হাসাও জেলা এবং নাগাল্যান্ড রাজ্য দ্বারা বেষ্টিত। জেলাটি ২৫° ৩৩° এবং ২৬° ৩৫° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২° ১০° থেকে ৯৩° ৫০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।

   উদ্ভিদ ও প্রাণী- ভারতের আসামের কার্বি আংলং জেলার ডেনগাঁও থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে কাংথি গ্রামে কাংথি ল্যাংসো জলপ্রপাত অবস্থিত

   কার্বি আংলংয়ের প্রায় ৪০% ভূমি বনভূমিতে আচ্ছাদিত।ডিফুর এমএসএমই-ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট অনুসারে, কার্বি আংলং জেলায় পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বনের ধরণগুলি হল: আর্দ্র আধা-চিরসবুজ বন, আর্দ্র মিশ্র পর্ণমোচী বন, নদীপ্রধান এবং বিবিধ ধরণের বাঁশের বিক্ষিপ্ত বিশুদ্ধ বা মিশ্র অংশ।এই বনাঞ্চলগুলি জীবন্ত বিশাল গাছের প্রাকৃতিক জাদুঘর, বিরল, স্থানীয় এবং বিপন্ন প্রজাতির ভান্ডার, ঔষধি গাছের একটি ডিসপেনসারি, উদ্ভিদবিদদের জন্য একটি বাগান, অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জীবের জন্য একটি জিন ব্যাংক, প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একটি স্বর্গ এবং পরিবেশবাদীদের জন্য একটি পরীক্ষাগার।এই এলাকার বিপন্ন প্রজাতির মধ্যে রয়েছে এশিয়ান হাতি, বেঙ্গল টাইগার, ক্লাউডেড লেপার্ড এবং লেপার্ড, হুলক গিবন, প্যাঙ্গোলিন, পর্কুপাইন স্লো লরিস ইত্যাদি। জেলায় পাঁচটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, দুটি হাতি সংরক্ষণাগার (ধনসিরি - লামডিং এবং কাজিরঙ্গা - কার্বি আংলং) এবং ১৭টি জেলা পরিষদ সংরক্ষিত বন (ডিসিআরএফ) রয়েছে১৯৫২ সাল থেকে কার্বি আংলং জেলা গরমপানি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের আবাসস্থল হয়ে ওঠেছে, যার আয়তন ৬ বর্গকিলোমিটার (২.৩ বর্গ মাইল)। অন্য চারটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হল, পূর্ব কার্বি-আংলং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, মারাত লংরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, নামবর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং উত্তর কার্বি-আংলং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।তবে, এই জেলার বন এবং বন্যপ্রাণী বন উজাড় এবং মানুষের কার্যকলাপের কারণে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে

   জলবায়ু- এই পাহাড়ি অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতির তারতম্যের কারণে  জেলার বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন জলবায়ু অনুভূত হয়। শীতকাল অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হয়। গ্রীষ্মকালে, আর্দ্রতা এবং উষ্ণতা উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। শীতকালে তাপমাত্রা 6-12° এবং গ্রীষ্মকালে 23-32° পর্যন্ত থাকে। বছরে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমান প্রায় 2416 মিমি

   প্রশাসন- জেলাটি কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের অধীনে। জেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর ডিফুকার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের সিইএম হলেন যথাক্রমে কাউন্সিল এবং জেলার চেয়ারপারসন এবং প্রধান নির্বাহী  কাউন্সিলের আরও ছাব্বিশ জন নির্বাহী সদস্যের দ্বারা সমর্থিত।কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের প্রধান সচিব হলেন জেলাগুলির প্রশাসনিক প্রধান।জেলা প্রশাসকরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশাসনের জন্য দায়ী। জেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহর হল বোকাজান। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, জেলার মোট গ্রামের সংখ্যা ২০৭৩ এবং জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম দেখাশোনা করার জন্য ১১টি উন্নয়ন ব্লক রয়েছে।

   নির্বাচনী এলাকা- জেলায় তিনটি বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা রয়েছে, যথা বোকাজান, হাওড়াঘাট এবং ডিফু। এগুলি সবই তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত আসামের ৩টি এস.টি. স্বায়ত্তশাসিত জেলা লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অংশ।

   অর্থনীতি- ২০০৬ সালে ভারত সরকার দেশের ২৫০টি সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলার মধ্যে কার্বি আংলংকে একটি হিসেবে ঘোষণা করেছেএটি আসামের এগারোটি জেলার মধ্যে একটি যা বর্তমানে পশ্চাদপদ অঞ্চল অনুদান তহবিল কর্মসূচি (BRGFP) থেকে তহবিল পাচ্ছে।

   ২০০৯-১০ সালের জন্য স্থির মূল্যের (২০০৪-২০০৫) ভিত্তিতে জেলার জিডিপি ছিল ২,১৯৮.৩৯ কোটি (আসামের জেলাগুলির মধ্যে ১৩তম)। উদ্যান, পশুপালন, বৃক্ষরোপণ, রেশম চাষ, তাঁত ইত্যাদির পাশাপাশি কৃষিই মানুষের আয়ের প্রধান উৎস। উপজাতিরা সাধারণত স্বয়ংসম্পূর্ণ। তারা বেশিরভাগই ঘরোয়া ব্যবহার এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পাহাড়ে পাওয়া বন্য সবজির উপর নির্ভর করে

   আদা- কারবি আংলংয়ের আদাকে ভারতের জিআই রেজিস্ট্রি দ্বারা জিআইয়ের মর্যাদা প্রদান করা হয়েছেকার্বি আংলংয়ে প্রায় ১০,০০০ কৃষক দ্বারা আদা চাষ করা হয়, বার্ষিক গড় আদার উৎপাদন ৩০,০০০ টন।

   রাবার- ২০১৭-১৮ সালে মোট ৮,৫৮৯.৮৫ হেক্টর জমিতে রাবার চাষ করা হয়েছিলো এবং ২,৯২৫ মিলিয়ন টন রাবার উৎপাদন হয়েছিলো এই উৎপাদন আসামের আন্তঃজেলাগুলির মধ্যে তৃতীয় এটি ২৬,৮০০ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

   চা- ২০১৮ সালের স্ট্যাটিস্টিক্যাল হ্যান্ড বুক, অসম অনুসারে, জেলায় ভারতের চা বোর্ডে নিবন্ধিত ১,৫৯০ জন চা চাষী রয়েছে, যার মোট জমির পরিমাণ ২,৪৮৮.২১ হেক্টর। ২০১৭ সালে, জেলার চা উৎপাদন ছিল ৪.৫৯ মিলিয়ন কেজি এবং আসামের অন্যান্য জেলার মধ্যে এটি ১২ নম্বরে ছিল।

   এই অঞ্চলটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সুপারি, বাদাম, বাকোরিয়া রামিফ্লোরা, বিনস, কাঁঠাল, ভুট্টা, কমলা (ফল), পীচ, আনারস, আলু এবং মিষ্টি আলু, বরই, আখ, ট্যাপিওকা, হলুদ ইত্যাদি উৎপাদন করে। বোকাজান সিমেন্ট কারখানা নামে CCI-এর একটি সিমেণ্ট কারখানা বোকাজানে অবস্থিত। জেলাটির পণ্য সারা দেশে রপ্তানি করা হয়।

   উন্নয়নের সম্ভাবনা- জেলাটি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এতে ফেল্ডস্পার এবং চুনাপাথর মজুদ রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ মন্ত্রণালয়ের মতে, কার্বি আংলং-এ কয়লা মজুদ রয়েছে। ৩০ মিটার ঘনক গ্রানাইট এবং ০.৭ মিটার ঘনক কাওলিনাইটও মজুদ রযেছে

   জনসংখ্যা- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, কার্বি আংলং জেলার জনসংখ্যা ৯,৬৫,২৮০ জন,  এটি ভারতে (মোট ৬৪০ জনের মধ্যে) ৪৫১ তম স্থানে রয়েছেজেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৯৩ জন (২৪০/বর্গমাইল)।২০০১-২০১১ দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৭.৫৮%।কার্বি আংলংয়ে প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৫১ জন মহিলা রয়েছে এবং সাক্ষরতার হার ৭৪%, যেখানে পুরুষ ও মহিলা যথাক্রমে ৮২% এবং ৬৫%৯৫,১০৩ জন মানুষ(১৪.৩৯%) শহরাঞ্চলে বাস করে। তফসিলি জাতি এবং উপজাতির জনসংখ্যা যথাক্রমে ৩৩,৫২৩ জন (৫.০৭%) এবং ৩৪৫,২২০ জন (৫২.২৩%)।

কারবি আংলং জেলায় ধর্ম (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   হিন্দুধর্ম-৮০.৩৬%

   খ্রিস্টধর্ম- ১৫.৩২%

   ইসলাম-২.৮৮%

   বৌদ্ধধর্ম-০.৮৭%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখিত নয়-১.০০%

   কার্বি আংলং জেলার ভাষা (2011) সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   কার্বি- (43.94%)

   বাংলা -(13.02%)

   অসমীয়া- (9.03%)

   বড়ো কাছারি- (6.04%)

   নেপালি- (4.67%)

   হিন্দি- (3.7%)

   ডিমাসা কাছারি- (2.65%)

   ভোজপুরি- (2.17%)

   সাদ্রি- (1.9%)

   কুকি- (1.39%)

   গারো কাছারি- (1.22%)

   অন্যান্য- (10.27%)

   জনসংখ্যা- ১৯৭১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, ভারতের উপজাতি জনসংখ্যা ছিল ৬৫%, এবং ২০১১ সালের হিসাবে, এটি ৫৬.৩% এ দাঁড়িয়েছে, যেখানে বাইরে থেকে বিপুল সংখ্যক অবৈধ লোক অনুপ্রবেশ করে প্রাকৃতিক ভূদৃশ্য এবং অর্থনৈতিক সুযোগ উভয়কেই ব্যাহত করছে। অবৈধভাবে জমি পাট্টা প্রদানও আদিবাসী উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে পড়েছে ৫ মার্চ ২০১৯ তারিখে পুলিশ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত কাউন্সিল, ভূমি রাজস্ব এবং কার্বি আংলংয়ের বন বিভাগ হোজাই জেলার সীমান্তবর্তী লঙ্কাইজান রিজার্ভ ফরেস্টে নির্মিত ৬০০ টিরও বেশি অবৈধ স্থাপনা এবং অনুপ্রবেশকারীদের বাসস্থান উচ্ছেদ করেছিলো৩১ আগস্ট সকাল ১০:০০ টা (ভারতীয় মান সময়) ভারতের বহু প্রতীক্ষিত জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (আসাম) ঘোষণা করা হয়েছিল। সমগ্র আসামের ৩.১১ কোটি মানুষের মধ্যে ১৯,০৬,৬৫৭ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, কার্বি আংলং (১০ম স্থান) এবং পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার (৭ম স্থান) ১৪.৩১% এবং ১৫.৪৭% মানুষ এই অঞ্চলগুলি জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (আসাম)থেকে বাদ পড়েছেন।

   আকর্ষণীয় স্থান- কর্বি আংলং আসামের একটি পাহাড়ি জেলা প্রাকৃতিক সবুজ বন এবং পাহাড় থাকা সত্ত্বেও এখনও পর্যটকদের কাছে কিছুটা অজানা। এর কিছু কারণ হল দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা।

   দিফু- এটি একটি পাহাড়ের উপর অবস্থিত একটি ব্যস্ত শহর। শহরের আশেপাশে পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে।

   তারালাংসো- এখানে একটি সাংস্কৃতিক জাদুঘর রয়েছে

   আকাশী গঙ্গা- আকাশী গঙ্গা ডোকমোকা থেকে ১৫ কিমি দূরে অবস্থিতউঁচু পাহাড় থেকে জলের স্রোত নেমে আসে। এর সামনে একটি শিব মন্দির রয়েছে।

   দিক্রুত জলপ্রপাত (যাকে পাকলংকামও বলা হয়)- এটি পাহাড়ের উপর অবস্থিত একটি জলপ্রপাত। বহিরাগতরা এটিকে ভেলুঘাট নামে চেনে।

   গরামপানি (যাকে লংকার-ওমও বলা হয়)- গরামপানি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য যা হুলক গিবন এবং সোনালী লঙ্গুরের আবাসস্থল। জাতীয় সড়ক-২৯ (এছাড়াও NH37) এর নিকটে। এখানে গরম জলের ঝর্ণা রয়েছে।

   কাইফোলাংসো- কারবি আংলং-এর ২৬ নং দুয়ারবাগোরি ম্যাক নির্বাচনী এলাকার অধীনে দোলামারার আশেপাশে-এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং মনোমুগ্ধকর পাহাড়ের জন্য বিখ্যাত। বহিরাগতরা এটিকে কাকোচাং জলপ্রপাত নামে চেনে।

   কাংথি ল্যাংসো জলপ্রপাত- এটি ডেন আরোং (ডেনগাঁও) থেকে প্রায় ১২ কিমি দূরে কাংথি গ্রামে অবস্থিত একটি জলপ্রপাত।

   লংসোকাংথু (যাকে সিলোনিও বলা হয়)- এটি পাহাড় এবং নদীর তীরে অবস্থিত সবুজে ঘেরা একটি পিকনিক স্পট।

   শিলভেটা (যাকে আরলং-রু-পাতও বলা হয়)-এটি ডিফু থেকে ৩৭ কিমি দূরে অবস্থিত একটি পিকনিক স্পট। রেইন ফরেস্টে ঘেরা জায়গা।

   বিনোদন পার্ক- বিনোদন পার্ক হল সরকার পরিচালিত একটি বিনোদনমূলক ও ঔষধি উদ্যান। এটি পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণের স্থান।

   ল্যাংভোকু জলপ্রপাত- ল্যাংভোকু জলপ্রপাত কার্বি আংলং (আসাম) এর মাঞ্জা (শহর) থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই স্থানটি নিঃসন্দেহে তার ঝর্ণাগুলির জন্য আকৰ্ষণীয়স্থানটি জেলার মাঞ্জা-দিলাই এলাকায় অবস্থিত।

   টোকোলাংসো জলপ্রপাত- টোকোলাংসো জলপ্রপাত পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। পাহাড়ের চূড়া থেকে সরাসরি জল নেমে আসে। জল খুবই ঠান্ডা এবং দেখতে স্ফটিক স্বচ্ছ। জায়গাটি বোকাজান থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে বালিপাথরে অবস্থিত।

   শিক্ষা প্ৰতিষ্ঠান- আসাম বিশ্ববিদ্যালয়, ডিফু ক্যাম্পাস কারবি আংলং স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বরাদ্দকৃত ২৭৩ বিঘা জমির উপর পাহাড়ি ভূখণ্ডে অবস্থিত। এটি ডিফু থেকে প্রায় ৮ কিমি পশ্চিমে জাতীয় সড়ক-৩২৯এ, ডিফু-লুমডিং সড়কে অবস্থিত।

   মেডিকেল কলেজ- ডিফু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

   কলেজ- জেলায় অনেক সুপ্রতিষ্ঠিত কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে ডিফু সরকারি কলেজ, জেলার একমাত্র NAAC অনুমোদিত সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কলেজগুলি হল, ডিফু আইন কলেজ; ডন বস্কো জুনিয়র কলেজ, ডিফু; ইস্টার্ন কার্বি আংলং কলেজ, সরিহজান; এবং থং নোকবে কলেজ, ডোকমোকা।

      কারিগরি প্রতিষ্ঠান-ডিফু পলিটেকনিক, ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট [আইটিআই]

   বিদ্যালয়-জেলার সরকারি স্কুলগুলি রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে। জেলার স্কুলগুলির ব্যবস্থাপনা তিনটি বিভাগে বিভক্ত: সরকারি, বেসরকারি এবং মিশনারি। কিছু সুপরিচিত স্কুল হল: ডন বস্কো উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডিফু; বদন মেমোরিয়াল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডিফু; ডিফু সরকারি বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডিফু; ডিফু সরকারি বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডিফু; হাওড়াঘাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাওড়াঘাট; জওহর নবোদয় বিদ্যালয়, ডিফু; কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, ডিফু ও বোকাজান; কিডজি, ডিফু; বিদ্যা সাগর উচ্চ বিদ্যালয়, বোকাজান; ক্রিস্ট জ্যোতি স্কুল, ডকমকা; মাউন্ট ক্যালভারি ইংলিশ হাইস্কুল, ডিফু; আতুরকিমি একাডেমি, ডিফু এবং প্রেসবিটেরিয়ান মিশন হাইস্কুল, ডিফু।

   সংবাদপত্র- ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কার্বি দৈনিক দ্য আরলেং ডেইলি, একটি ট্যাবলয়েড ফর্ম্যাট সংবাদপত্র যা কার্বি সংবাদপত্রের জন্য একটি নতুন যুগ সূচনা করেছেআরেকটি কার্বি দৈনিক থেকার, প্রথম আরএনআই নিবন্ধিত কার্বি সংবাদপত্র।তারপর থেকে, কার্বি ভাষায় বেশ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ২০০৫-০৬ সালে, কার্বি আংলংয়ের একটি ছোট শহর বাগুলিয়াঘাট থেকে একটি হিন্দি সংবাদপত্র জন প্রহরী চালু হয়েছে'হিল অবজারভার' হল ডিফু থেকে প্রকাশিত একটি ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র। দ্য ড্রঙ্গো এক্সপ্রেস, একটি ইংরেজি দৈনিক, কার্বি আংলংয়ের ডিফু থেকে প্রকাশিত হয়।২০০০ সালে প্রকাশিত "দ্য হিলস টাইমস" হল ডিফু থেকে প্রকাশিত সবচেয়ে বেশি প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক এবং এটি গুয়াহাটিতে মুদ্রিত হয়।

      টেলিভিশন

   দূরদর্শন টিভি রিলে সেন্টার, ডিফু

   ক্যাট নিউজ (কেবল চ্যানেল), ডিফু

   কারবি আংলং লাইভ (কেবল চ্যানেল), হ্যামরেন, পশ্চিম কার্বি আংলং

   কাকম (কেবল চ্যানেল) ২০১৫ সাল থেকে চালু নেই, বোকাজান

      রেডিও- অল ইন্ডিয়া রেডিও, ডিফু

   পরিবহন- জেলাটি NH-29, NH-39, এবং NH-329 এর মাধ্যমে অন্যান্য স্থানের সাথে সড়কপথে সংযুক্ত।

   রেলপথ- বোকাজান এবং ডিফু রেলওয়ে স্টেশন হল জেলার প্রধান রেলওয়ে স্টেশন।

      উল্লেখযোগ্য শহর

   আমলখি

   বোকাজান

   বোকুলিয়া

   দিফু

   ডকমকা

   হাওড়াঘাট

   মাঞ্জা

      উল্লেখযোগ্য মানুষ

   জয়রাম ইংলেং

   বীরেন সিং ইংতি

   সেমসনসিং ইংতি, কার্বি আংলং জেলার (তৎকালীন মিকির পাহাড়) প্রতিষ্ঠাতা।

   জয়ন্ত রংপি,

   সমীর তাঁতী, বই ফরিংবোরে বাটর কথা জানের জন্য সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার

   প্রফেসর রংবং তেরং, পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত।

   ভারতের আসামের কার্বি আংলং জেলায় অসংখ্য গ্রাম রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে লাংঘিন, শিকদামাখা এবং ডিফু, বোকাজান এবং হামরেনের আশেপাশের গ্রাম, যার প্রতিটিরই অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে।

   কারবি আংলংয়ের কিছু গ্রাম এবং অঞ্চল সম্পর্কে আরও বিস্তারিত আলোচনা এখানে দেওয়া হল:

   ডিফু:- জেলা সদর দপ্তর, ডিফু, একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর যার চারপাশে বিভিন্ন গ্রাম এবং বসতি রয়েছে।

   বোকাজান:- আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, বোকাজান, উন্নয়ন ব্লক এবং বিভিন্ন গ্রামের জন্য পরিচিত।

   হামরেন:- হামরেন পশ্চিম কার্বি আংলংয়ের একটি মহকুমা, এবং এতে অসংখ্য গ্রাম রয়েছে।

   লাংঘিন:- হাওড়াঘাট উপ-বিভাগের অধীনে একটি উন্নয়নশীল শহর, লাংঘিন পৌরসভা বোর্ড, স্থল পরিবহন দ্বারা সুসংযুক্ত।

   শিকদামাখা:- পশ্চিম কার্বি আংলংয়ের উমসওয়াই উপত্যকায় অবস্থিত, শিকদামাখা তার মনোরম সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত এবং আসামের সবচেয়ে পরিষ্কার গ্রামগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয়।

   অন্যান্য গ্রাম:

   লংমিলি, বরপাথর

   ল্যাংখাং, আংজোকপানি

   কালীভেটি, আংজোকপানি

   থেঙ্গুর রংফার, আংজোকপানি

   বোরদেকা লংমিলি, বোরপাথর

   কানিয়া রংফার, রংমংওয়ে

   হিদি সাজির

   রংমিলি

   নেপালি বস্তি, হাওড়াঘাট

   গারো বস্তি, দিফু

   রেংমা গাঁও, দিফু

   রংথার্ভে

   আমলকী, মাঞ্জা

   উদালী নং 2, বাকুলিয়া

   লম্বা কাঠার গাঁও, খাটখাটি

   ডিফু তোকবি গাঁও, লরিংথেপি

   ভেটাগাঁও, ধানসিড়ি

   যমুনা তেরং গাঁও, বালিজান

   বিড়লা জয়সিং তেরোঁ গাঁও, দিফু

   মোজাদার লাভ, কলঙ্গা

   বৈঠালাংসো

   খান্দুলি

   কামপুর

   স্বরগাঠি

   ফুলোনি গাঁও

   উল্টা পানি

   পামগাঁও ধানের মাঠ

   দিলজি মিথিফাং

   নাগা রেংমা মৌজা

   জংফা

   নেপারপেটি

   মোরাকর্দইগুড়ি

   মাটিপুল ইত্যাদি • 

 

                                                করিমগঞ্জ জেলা(শ্রীভূমি)

   করিমগঞ্জ জেলা, আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রীভূমি জেলা, ভারতের আসাম রাজ্যের ৩৫টি জেলার মধ্যে একটি প্রশাসনিক জেলাজেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর এবং জেলার বৃহত্তম শহর করিমগঞ্জ দক্ষিণ আসামে অবস্থিত, এই জেলার সীমানা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সাথে সংলগ্নহাইলাকান্দি এবং কাছাড়ের পাশাপাশি, এটি বরাক উপত্যকা অঞ্চলের অন্তর্গত। ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের আগে এই অঞ্চলটি সিলেট জেলার অংশ ছিল। ১৯৮৩ সালে এটিকে একটি পৃথক জেলা হিসেবে গঠন করা হয়েছে

   উৎপত্তি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই অঞ্চলটিকে *শ্রীভূমি* (শ্রীভূমি) নামে উল্লেখ করেছিলেন এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে ঠাকুরের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করার জন্য জেলাটির আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়েছে শ্রীভূমিপূর্বে করিমগঞ্জ নামে পরিচিত জেলাটির নাম মুহাম্মদ করিম চৌধুরীর নাম থেকে এসেছে, যিনি বর্তমানে করিমগঞ্জ শহরে একটি বাজার স্থাপন করেছিলেন, যার অর্থ গঞ্জ

   ইতিহাস

   ১৭০০ এবং ১৮০০ এর দশক- ১৭৭৮ সালে, করিমগঞ্জ অবিভক্ত সিলেট জেলার একটি মহকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো, তখন জেলাটিতে ৪০টি পরগনা ছিল"করিমগঞ্জ" নামটি মুহাম্মদ করিম চৌধুরীর নাম থেকে এসেছে,  একজন বাঙালি মুসলিম, যিনি নাটিখাল এবং কুশিয়ারা নদীর সঙ্গমের দক্ষিণে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে, শরৎকালে নাটিখাল শুকিয়ে যাওয়ার কারণে, ১৮৭০ এর দশকে বাজারটি বর্তমানে করিমগঞ্জ শহরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে

   ১৯০০ এর দশক- ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের সময়, করিমগঞ্জ সহ সিলেট অঞ্চল ভারতে থাকবে নাকি পূর্ব পাকিস্তানে যোগ দেবে তা নির্ধারণের জন্য একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আব্দুল মতলিব মজুমদার একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন, যারা এই অঞ্চলটিকে ভারতের সাথে থাকার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিলেনতবে, মুসলিম লীগের দাবি এবং তৎকালীন আসামের রাজনৈতিক নেতাদের সমর্থনের কারণে সিলেট খুব অল্প ব্যবধানে পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয়ছিলোনির্বাচনী জালিয়াতি এবং অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল, যদিও ফলাফল পরিবর্তন হয়নি

   দেশভাগের পর, সিলেট পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়, যেখানে করিমগঞ্জ বিভক্ত হয়,  ত্রিপুরার সাথে যোগাযোগ নিশ্চিত করার জন্য এর কিছু অংশ ভারতে থেকে যায়কুশিয়ারা নদীকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। বিয়ানী-বাজার, বড়লেখা, শাহপুর এবং জকিগঞ্জ সহ বৃহত্তর করিমগঞ্জের কিছু অংশ পাকিস্তানের অংশ থেকে যায়।

   ২০০০-এর দশক- ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর মাসে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্মানে  করিমগঞ্জ জেলার আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয় শ্রীভূমি, যিনি এই অঞ্চলটিকে দেবী লক্ষ্মীর ভূমি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

   ভূগোল- করিমগঞ্জ জেলার আয়তন ১,৮০৯ বর্গকিলোমিটার (৬৯৮ বর্গমাইল), যা তুলনামূলকভাবে আলাস্কার আফগনাক দ্বীপের জনসংখ্যার সমান। জেলার উত্তর-পূর্বে কাছাড় জেলা, পূর্বে ও দক্ষিণে হাইলাকান্দি জেলা, দক্ষিণে মিজোরাম, দক্ষিণ-পশ্চিমে ত্রিপুরা রাজ্য এবং পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে বাংলাদেশ অবস্থিত। জেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর করিমগঞ্জ করিমগঞ্জ জেলার প্রধান শহরকরিমগঞ্জ শহরটি কুশিয়ারা নদীর তীরে বাংলাদেশের সংলগ্ন জেলার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত

   আসামের বৃহত্তম শহর গুয়াহাটি থেকে করিমগঞ্জের দূরত্ব সড়কপথে প্রায় ৩৩০ কিমি এবং রেলপথে প্রায় ৩৫০ কিমি। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলির দূরত্ব হল: শিলচর- ৫৫ কিমি, শিলং- ২২০ কিমি, আগরতলা- ২৫০ কিমি। জেলাটি কুশিয়ারা এবং লঙ্গাই নদীর দুই পাশে অবস্থিত করিমগঞ্জ শহরটি বাংলাদেশ সীমান্তের ঠিক পাশে অবস্থিত এবং এর মাঝখান দিয়ে কুশিয়ারা নদী প্রবাহিত। এই স্থানের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল, নটি খাল নামক একটি দীর্ঘ এবং আঁকাবাঁকা খাল যা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। পূর্বে এটি কুশিয়ারা এবং লঙ্গাইয়ের মধ্যে একটি সংযোগকারী নদীপথ ছিল যা নদী যোগাযোগ এবং দুটি নদীর মধ্যে জলস্তরের ভারসাম্য বজায় রাখততবে, এখন, সড়ক পরিবহন এবং নির্মাণ কাজের জন্য বাঁধ এবং মাটিপূরণের মাধ্যমে এই খালটি বেশ কয়েকটি স্থানে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। করিমগঞ্জ এবং বরাক উপত্যকা কয়েক দশক ধরে মারাত্মক বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক বন্যায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছিল ১৯৭৬, ১৯৮৮ এবং ২০০৭ সালে।

   করিমগঞ্জের বন একসময় বন্যপ্রাণীতে সমৃদ্ধ ছিল, কিন্তু এখন মানুষের আক্রমণের কারণে বন্যপ্রাণী বিলীন হয়ে যাচ্ছে।বিরল প্রজাতির মধ্যে রয়েছে বাঘ, হুলক গিবন, শজারু, সোনালী ল্যাঙ্গুর (হনুমান), বানর, শিয়াল, এশিয়ান হাতি, নদীর দৈত্যাকার ভোঁদড়, ম্যাকাও তোতা, প্যারাকিট, হর্নবিল, ময়না, বিভিন্ন ধরণের স্থানীয় ও পরিযায়ী পাখি, সাপ, কোয়পুবারা (বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইঁদুর) ইত্যাদি।জেলার পাথারিয়া পাহাড়ের সংরক্ষিত বন অনেক স্তন্যপায়ী প্রাণীর আবাসস্থল

   অর্থনীতি- করিমগঞ্জ একটি কৃষিপ্রধান জেলাঐতিহাসিকভাবে, করিমগঞ্জ সহ কাছাড় অঞ্চলের প্রধান কৃষি পণ্য ছিল চা।

   করিমগঞ্জ শহর উত্তর-পূর্ব ভারতের ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এর নদী বন্দর, কার্গো-টার্মিনাল, জেটি, গুদাম ইত্যাদির মতো বিস্তৃত অবকাঠামো সহ, বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে নদীপথে চলাচলকারী স্টিমার দ্বারা বহন করা বিপুল পরিমাণে পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম। করিমগঞ্জ একটি সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্র এবং শহরের ডাকবাংলা ঘাটে অবস্থিত কাস্টম ট্রেড পয়েন্ট এবং সুতারকান্দি কাস্টম স্টেশনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা পরিচালিত হয়।

   প্রশাসন- করিমগঞ্জ জেলার একটি মহকুমা রয়েছে। মহকুমার নাম পাথরকান্দি

   ৰাজস্ব সাৰ্কেল-জেলার 5 টি তহসিল বা উন্নয়ন সার্কেল রয়েছে (করিমগঞ্জ, বদরপুর, নীলামবাজার, পাথরকান্দি এবং রামকৃষ্ণ নগর)

    দুটি শহুরে এলাকা (করিমগঞ্জ এবং পাথরকান্দি।

   প্রধান শহর- (করিমগঞ্জ, বদরপুর, রামকৃষ্ণ নগর এবং পাথারকান্দি),

   টি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক- করিমগঞ্জ, বদরপুর, দক্ষিণ করিমগঞ্জ, রামকৃষ্ণ নগর, পাথরকান্দি, রামকৃষ্ণ নগর, দুল্লাভচেরা এবং লোয়ারপোয়া

   7 টি থানা- (করিমগঞ্জ, বদরপুর, রামকৃষ্ণ নগর, পাথরকান্দি, রাতাবাড়ি, নীলমবাজার এবং বাজারিছড়া)

   95টি গ্রাম পঞ্চায়েত, এবং সাতটি আঁচলিক পঞ্চায়েত যেছে

   রাজনীতি- এই জেলায় পাঁচটি আসাম বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে: রাতাবাড়ি, পাথরকান্দি, করিমগঞ্জ উত্তর, করিমগঞ্জ দক্ষিণ, এবং বদরপুর। রাতাবাড়ি তফসিলি জাতির জন্য সংক্ষিতপাঁচটি বিধান সভা সমষ্টিই করিমগঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তৰ্গত

   পরিবহন- কাছাড় জেলার শিলচরের কাছে অবস্থিত কুম্ভীরগ্রাম(৮৫ কিমি) বিমানবন্দর জেলার নিকটতম বিমান বন্দরকরিমগঞ্জ শহরটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী বন্দর এবং বাংলাদেশ হয়ে নদীপথে কলকাতার সাথে মৌসুমী পণ্যসম্ভার এবং মালবাহী পরিবহনের সংযোগ রয়েছে।

   রেলওয়ে- নতুন বিজি স্টেশন, করিমগঞ্জ জংশনকরিমগঞ্জ শহর রেল এবং সড়ক পরিবহন উভয়ের মাধ্যমেই ভারতের বাকি অংশের সাথে সংযুক্ত। করিমগঞ্জ শহরে একটি রেল জংশন রয়েছে, আসামকে ত্রিপুরার সাথে সংযুক্ত করা ব্রডগেজ লাইন এই স্টেশনের মধ্য দিয়ে গেছে। বদরপুর রেলওয়ে স্টেশন জেলার বৃহত্তম জংশন।

   সড়ক- যাত্রী পরিবহনের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হল সড়ক। করিমগঞ্জ এবং গুয়াহাটির মধ্যে প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক বাস(বেশিরভাগ রাতের পরিষেবা) চলাচল করে। শিলং, আগরতলা, আইজল ইত্যাদির জন্য সরাসরি দূরপাল্লার বাস পরিষেবাও রযেছেশিলচর, বদরপুর, পাথরকান্দি এবং আশেপাশের অন্যান্য স্থানের সাথে যোগাযোগও মূলত সড়ক পরিবহনের উপর নির্ভরশীল, যেখানে ঘন ঘন সব ধরণের হালকা এবং ভারী যানবাহন চলাচল করে।

   সুতারকান্দি আন্তর্জাতিক সীমান্ত ক্রসিং- সুতারকান্দি আন্তর্জাতিক সীমান্ত ক্রসিংটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে করিমগঞ্জ-বিয়ানীবাজার রুটে অবস্থিত, যা ভারতের আসামের করিমগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।

      ঐতিহাসিক জনসংখ্যা

   ১৯০১- ২১৫,৫২১

   ১৯১১- ২৪৩,৩৯৯ +১.২২%

   ১৯২১- ২৫১,১৭২ +০.৩১%

   ১৯৩১- ২৬৬,০০৭ +০.৫৮%

   ১৯৪১- ২৯১,৩২০ +০.৯১%

   ১৯৫১- ৩৭৮,৩২৪ +২.৬৫%

   ১৯৬১- ৪৬৫,১৯৮ +২.০৯%

   ১৯৭১- ৫৮২,১০৮ +২.২৭%

   ১৯৯১- ৮২৭,০৬৩ +১.৭৭%

   ২০০১- ১,০০৭,৯৭৬ +২.০০%

   ২০১১- ১,২২৮,৬৮৬ +২.০০%

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে করিমগঞ্জ জেলার জনসংখ্যা ১,২২৮,৬৮৬ জন, যা বাহরাইন রাষ্ট্রের অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় সমান।জেলাটি ভারতের মোট ৬৪০ টি জেলার মাঝে ৩৯২তম স্থানে রয়েছ।জেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৬৭৩ জন (১,৭৪০/বর্গমাইল)।২০০১-২০১১ দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২০.৭৪%।করিমগঞ্জে প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৬১ জন মহিলা রয়েছে সাক্ষরতার হার ৭৯.৭২%। জনসংখ্যার ৮.৯৩% শহরাঞ্চলে বাস করে। তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতি জনসংখ্যার যথাক্রমে ১২.৮৫% এবং ০.১৬%

   করিমগঞ্জ জেলার ধর্ম (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   ইসলাম-56.36%

   হিন্দুধর্ম-42.48%

   খ্রিস্টধর্ম-0.98%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখিত নয়- 0.18%

   ধর্মীয় জনসংখ্যা নিম্নরূপ:

   মুসলিম - 692,489 জন।

   হিন্দু - 521,962 জন।

   খ্রিস্টান - 11,990 জন

   ধর্ম অনুসারে সার্কেলের শতকরা জনসংখ্যা

     সার্কেল   মুসলিম   হিন্দু  খ্রিস্টান  অন্যান্য

   করিমগঞ্জ- ৫৭.১৬- ৪২.৩৬- ০.২২- ০.২৬

   বদরপুর- ৬৪.৯১- ৩৪.৪৯-  ০.৩৭- ০.২৪

   নীলবাজার- ৭৫.৩০- ২৪.২৪- ০.৩৫- ০.১২

   পাথরকান্দি- ৪৫.৭৪- ৫১.৫৫- ২.৪৯- ০.২৩

   রামকৃষ্ণনগর-৪০.২৮- ৫৮.৪২- ১.২১- ০.০৯

   ২০১১ সালের ভারতীয় আদমশুমারি অনুসারে, জেলায় মুসলিমরা সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠ, যা জনসংখ্যার ৫৬.৪%, হিন্দুদের ৪২.৫%, এবং খ্রিস্টানদের সংখ্যা ১.০%। জৈন, বৌদ্ধ এবং শিখদেরও অল্প সংখ্যক জনগোষ্ঠী জেলায় বাস করে।

   করিমগঞ্জ জেলার ভাষা (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে

   বাংলা (৮৬.৮৪%)

   হিন্দি (৫.৭%)

   বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী (২%)

   ভোজপুরী (১.৬৫%)

   অন্যান্য (৩.৮১%)

   বাংলা এবং মেইতেই (মণিপুরী) এই স্থানের সরকারী ভাষা।

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, জেলার ৮৬.৮৪% মানুষ বাংলা, ৫.৭০% হিন্দি, ২.০০% বিষ্ণুপ্রিয়া এবং ১.৬৫% ভোজপুরী তাদের প্রথম ভাষা হিসেবে কথা বলে।বরাক উপত্যকার অন্যান্য দুটি জেলার সাথে বাংলা হল করিমগঞ্জের সরকারী ভাষা, যার মধ্যে রয়েছে হাইলাকান্দি এবং কাছাড়।যদিও বাংলা সরকারী ভাষা, তবে সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা হল সিলেটি, যা প্রায়শই বাংলার একটি উপভাষা হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি বরাক উপত্যকার অন্যান্য জেলাগুলিতেও কথিত ভাষা

   উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু ভাষার মধ্যে রয়েছে বিষ্ণুপ্রিয়া এবং মেইতি, দিমাসা এবং কোকবোরোক। হরাংখোল, কুকি, খাসি এবং সাকাচেপের মতো একটি ছোট উপজাতীয় সম্প্রদায়ও রয়েছে জেলাটিতে

   আসামের করিমগঞ্জ জেলায় ৯৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে।

   পঞ্চায়েত সমিতি: ৭টি পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে।

   গ্রাম: করিমগঞ্জ জেলা পঞ্চায়েতের অধীনে ৯৪৫টি গ্রাম রয়েছে।

   শিক্ষানুষ্ঠান- আসামের করিমগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জেলা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (DIET) (১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত), করিমগঞ্জ কলেজ (১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত), করিমগঞ্জ পলিটেকনিক (২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত), এবং বিবেকানন্দ কলেজ অফ এডুকেশন।

   কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়:

   করিমগঞ্জ কলেজ:- ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত আসামের একটি অগ্রণী কলেজ, যা কুশিয়ারা নদীর তীরে অবস্থিত বিজ্ঞান, শিল্পকলা এবং বাণিজ্যে বিভাগে শিক্ষা প্রদান করে।

   বিবেকানন্দ কলেজ অফ এডুকেশন (VCE):-করিমগঞ্জ শহরে অবস্থিত, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত, আসাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং NCTE এর সাথে অধিভুক্ত, B.Ed প্রোগ্রাম প্রদান করে।

   ডিস্ট্রিক্ট ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (DIET):-১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত, DIET প্রাক-সেবা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কর্ম গবেষণা এবং শিক্ষকদের হ্যান্ডবুক তৈরির মাধ্যমে ভবিষ্যতের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে।

   পলিটেকনিক:-করিমগঞ্জ পলিটেকনিক ২০১৭ সালে আসাম সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি পলিটেকনিক, যা মাইজগ্রামে অবস্থিত, যা সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা স্তরের কোর্স প্রদান করে।

   অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: এপিজে আব্দুল কালাম মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট

   IICD CAREER PVT.LTD - একটি অনন্য আইটি শিক্ষা কেন্দ্র

   রমণী মোহন ইনস্টিটিউট

   জাতীয় একাডেমী

   অবন্তী কুমার মহন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

   পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় আদর্শ মহাবিদ্যালয়

   ট্যালেন্ট একাডেমি

   অসিমিয়া এইচ এস স্কুল

   এপিজে আব্দুল কালাম জাতীয় কম্পিউটার ইনস্টিটিউট

   বিবেকানন্দ মিউজিক কলেজ

   শাইনিং স্টারস একাডেমি

   ঝুমা আর্ট একাডেমী

   টুকেরবাজার শিশু বিকাশ একাডেমী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য শিক্ষানুষ্ঠান • 

 

                                                                                                      কোকরাঝাড় জেলা

          কোকরাঝাড় জেলা আসামের বড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অঞ্চলের একটি প্রশাসনিক জেলা। এখানে প্রধানত বড়ো উপজাতি বসবাস করে। জেলার সদর দফতর কোকরাঝার শহরে অবস্থিত এবং জেলাটি 3,169.22 বর্গকিমি (1,223.64 বর্গ মাইল) এলাকা জুড়ে বিস্তৃতএর দুটি বেসামরিক মহকুমা রয়েছে, যথা পার্বতঝোরা এবং গোসাইগাঁও জেলার পাঁচটি রাজস্ব সার্কেল রয়েছে- কোকরাঝাড়, দোতমা, ভাওরাগুড়ি, গোসাইগাঁও এবং বাগরিবারিল

   ভুটান রাজ্যের অধীনে- ১৮৬৫ সালের ডুয়ার্স যুদ্ধের আগে কোকরাঝার জেলা ভুটানের দক্ষিণ সীমানার অন্তর্গত ছিল সপ্তদশ শতাব্দীর গোড়ার দিক থেকে বর্তমানর কোকরাঝাড় জেলা ভুটান রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল১৮৬৫ সালে ডুয়ার্স যুদ্ধের পর ব্রিটিশরা কোকরাঝারকে ভুটানের প্রভাব থেকে মুক্ত করে এবং পরে ১৯৪৯ সালে এই অঞ্চল ভারতীয় ইউনিয়নের অবিভক্ত গোয়ালপাড়া জেলার অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

   1947 সাল থেকে বর্তমান- কোকরাঝাড় জেলা অবিভক্ত গোয়ালপাড়া জেলার অন্তর্গত ছিলো1957 সালে আসামের মুখ্যমন্ত্রী বিমলা প্রসাদ চালিহার প্রশাসনের অধীনে তিনটি মহকুমা তৈরি করা হয়েছিল, যার মধ্যে কোকরাঝাড়ও একটি ছিলো১৯৮৩ সালের ১ জুলাই কোকরাঝারকে জেলায় পরিণত করা হয়। 1989 সালের 29 সেপ্টেম্বর কোকরাঝাড় এবং গোয়ালপাড়ার কিছু অংশ নিয়ে বঙ্গাইগাঁও জেলা গঠন করা হয়।

   ভূগোল- কোকরাঝার জেলা 3,129 বর্গ কিলোমিটার (1,208 বর্গ মাইল) এলাকা জুড়ে বিস্তৃতজেলাটি তুলনামূলকভাবে ইন্দোনেশিয়ার ওয়াইজিও দ্বীপের জনসংখ্যার সমতুল্য। কোকরাঝাড় জেলা ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর তীরে অবস্থিত। এটি সেভেন সিস্টার স্টেটের গেটওয়ে হিসাবে পরিচিতকোকরাঝার জেলার সীমানা বঙ্গাইগাঁও(বর্তমানে চিরাং নামে পরিচিত), ধুবরি, পশ্চিমবঙ্গ, বরপেটা এবং ভুটানের সাথে সংলগ্নমানস জাতীয় উদ্যানের কিছু অংশ কোকরাঝার জেলার অ্ন্তর্গত

   কোকরাঝাড় জেলার কৃষি- ২০০৬ সালে ভারত সরকার ভারতের মোট ৬৪০টি জেলার মধ্যে কোকরাঝাড়কে ২৫০টি সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে ঘোষণা করেছে আসামের এগারোটি জেলার মধ্যে কোকরাঝার বর্তমানে অনগ্রসর অঞ্চল অনুদান তহবিল কর্মসূচি (BRGF) থেকে অনুদান পাচ্ছে।

      বিভাগ- এই জেলায় চারটি আসাম বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা রয়েছে: গোসাঁইগাঁও, কোকরাঝাড় পশ্চিম, কোকরাঝাড় পূর্ব এবং সিডলি। গোসাঁইগাঁও ছাড়া বাকি সবগুলি সমষ্টি তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিতচারটি সমষ্টিই কোকরাঝার লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত।

   ঐতিহাসিক জনসংখ্যা

   ১৯০১- ৭৯,৩৭৮

   ১৯১১- ১০৩,১৭১ +৩০.০%

   ১৯২১- ১৩০,৯৪৭ +২৬.৯%

   ১৯৩১- ১৫১,৫৮১ +১৫.৮%

   ১৯৪১- ১৭৪,০৬০ +১৪.৮%

   ১৯৫১- ১৯০,১৬৪ +৯.৩%

   ১৯৬১- ২৭০,৯৩০ +৪২.৫%

   ১৯৭১- ৪১৬,৯৯৬ +৫৩.৯%

   ১৯৯১- ৭৪৪,৬০৯ +৭৮.৬%

   ২০০১- ৮৪৩,২৪৩ +১৩.২%

   ২০১১- ৮৮৭,১৪২ +৫.২%

   উৎস: ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে কোকরাঝাড় জেলার জনসংখ্যা ৮৮৭,১৪২ জন, প্রায় ফিজি জাতির জনসংখ্যার সমান।জেলাটি ভারতের মোট ৬৪০ টি জেলার মধ্যে ৪৬৭তম স্থানে রয়েছে।জেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৮০ জন(প্রতি বর্গমাইল ৭৩০)।২০০১-২০১১ দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ৫.১৯%। কোকরাঝাড় জেলায় প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৫৮ জন মহিলা এবং সাক্ষরতার হার ৬৬.৬৩%। জনসংখ্যার ৬.১৯% শহরাঞ্চলে বাস করে। তফসিলি জাতি এবং উপজাতি জনসংখ্যার যথাক্রমে ৩.৩৩% এবং ৩১.৪১%।

   কোকরাঝাড় বড়ো সংস্কৃতি ও ভাষার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতকোকরাঝাড় বড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিলের রাজধানীকোকরাঝারের বেশিরভাগ আদিবাসী সম্প্রদায় হিন্দুকিছু সংখ্যালঘু খ্রিস্টান এবং কিছু সংখ্যালঘু মুসলিম ঝাড়ুয়া (কোচ মুসলিম), গরিয়া এবং দেশি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। এদের ৯০% এরও বেশি সাঁওতাল খ্রিস্টান।

   কোকরাঝাড় জেলার ধর্ম (২০১১) সালের আদমশুমারি অনুসারে

   হিন্দুধর্ম-৫৯.৬৪%

   ইসলাম-২৮.৪৪%

   খ্রিস্টধর্ম-১১.৪০%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখিত নয়-০.৫২%

   ধর্ম অনুসারে সার্কেলর শতকরা জনসংখ্যা

    সার্কেল          হিন্দু      মুসলিম   খ্রিস্টান  অন্যান্য

   গোসাইগাঁও(অংশ)-  ৫৩.৬৮    ২১.০৭   ২৪.৯০  ০.৩৫

   ভৌরাগুড়ি-        ৩৭.২৯    ৬২.০৫   ০.৫১  ০.১৫

   দতমা-           ৬৯.৮৩   ২৬.৬০  ৩.১৮  ০.৩৯

   কোকরাঝাড়(অংশ)-  ৭৬.৩০    ১৫.৭৬  ৬.৮৬  ১.০৮

   গোলকগঞ্জ(অংশ)-   ৫৯.৫৭    ৩২.৫৩  ৭.৭১   .১৯

   ধুবরি(অংশ)-      ৩৫.৬৯    ৫৫.৭০ .৫৫   .

   বাগরিবাড়ি(অংশ)-   ৪৩.৩৯    ৪৬.৫৬ ৯.৬৯  .৩৬

   বিলাসীপাড়া (অংশ)-  ৩০.৫১   ৬৯.৩০  .০৭  .১২

   চাপড় (অংশ)-      ৩৮.৩২   ৫৪.৫৯ .৬৪   .৪৫

   কোকরাঝাড় জেলার শতকরা কথ্য ভাষা (2011)সালের আদমশুমারি অনুসারে

   বড়ো-      (28.39%)

   অসমীয়া-    (19.92%)

   বাংলা-      (17.78%)

   সাঁওতালি-    (11.9%)

   রাজবংশী-    (7.62%)

   'অন্যান্য' অসমীয়া- (3.86%)

   রাভা-      (2.58%)

   হিন্দি-      (1.76%)

   নেপালি-     (১.৬৫%)

   কুরুখ-     (১.৪২%)

   গারো-      (১.২১%)

   অন্যান্য-    (1.91%)

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে কোকরাঝাড় জেলার জনসংখ্যার ২৮.৩৯% বড়ো, ১৯.৯২% অসমীয়া, ১৭.৭৮% বাংলা, ১১.৯০% সাঁওতালি, ৭.৬২% রাজবংশী, ২.৫৮% রাভা, ১.৭৬% হিন্দি, ১.৬৫% নেপালি, ১.৪২% কুরুখ এবং ১.২১% গারো তাদের প্রথম ভাষা হিসেবে কথা বলে। জনসংখ্যার ৩.৮৬% অসমীয়া ভাষা হিসেবে তাদের ভাষা 'অন্যান্য' হিসেবে রেকর্ড করেছে।

   উদ্ভিদ ও প্রাণী- মানস জাতীয় উদ্যানের কিছু অংশ ১৯৯০ সাল থেকে কোকরাঝাড় জেলার অংশ হয়ে উঠেছে, যার আয়তন ৫০০ বর্গকিলোমিটার (১৯৩.১ বর্গ মাইল)।

   উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

   বিনেশ্বর ব্রহ্ম, কবি ও লেখক

   উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্ম, বোড়ো নেতা

   রঞ্জিত শেখর মুশাহারী, আইপিএস অফিসার, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক, মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল।

   কামেশ্বর ব্রহ্ম, লেখক, বড়ো সাহিত্য সভার সভাপতি এবং পদ্মশ্রী প্রাপক

   কালীচরণ ব্রহ্ম, পার্বতঝোরার বিখ্যাত সমাজ ও ধর্মীয় সংস্কারক

   আসামের কোকরাঝাড় জেলায় নিম্নলিখিত উন্নয়ন ব্লক রয়েছে: কোকরাঝাড় (টিটাগুড়ি), দোতমা, কচুগাঁও, গোসাইগাঁও, হাতিধুরা, বিলাসিপাড়া (একাংশ), চাপড়-সালকোচা (একাংশ), রূপশি(একাংশ), মহামায়া (অংশ), গোলোকগঞ্জ (অংশ), এবং দেবীটোলা (আংশিক)।

   আসামের কোকরাঝার জেলায় 5টি রাজস্ব সাৰ্কেল রয়েছে।

   রাজস্ব সাৰ্কেলগুলি হলো-: কোকরাঝাড়, দোতমা, ভৌরাগুড়ি, গোসাইগাঁও এবং বগরিবাড়ি৷

   ভারতের আসামের কোকরাঝাড় জেলা প্রশাসনিকভাবে ৩টি মহকুমায় বিভক্ত:-

   মহকুমা: কোকরাঝাড়, গোসাইগাঁও এবং পার্বতঝোড়া।

   রাজস্ব বৃত্ত:

   উন্নয়ন ব্লক: ১৩

   আয়তন:,১৬৯.২২ বর্গ কিমি

   জনসংখ্যা: ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে ৮,৮৬,৯৯৯জন

    সাক্ষরতার হার: ৭১%

    রাজস্ব গ্রাম: ৯৬০ টা • 

 

                                                                                                         খিমপুর জেলা

   লখিমপুর জেলা ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। জেলার সদর দপ্তর উত্তর লখিমপুরে অবস্থিত। জেলাটির উত্তরে অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং এবং পাপুম্পারে জেলা এবং পূর্বে ধেমাজি জেলা এবং শোবনসিরি নদী দ্বারা বেষ্টিত।দক্ষিণে মাজুলি জেলা এবং পশ্চিমে বিশ্বনাথ জেলা অবস্থিত।

   উৎপত্তি- ১৫ শতকের চুটিয়া শাসক রাজা লক্ষ্মীনারায়ণের নাম থেকে "লক্ষ্মীমপুর" নাম উদ্ভূত হয়েছে পরবর্তীতে চুটিয়া রাজাদের পরাজিত করার পর আহোমরা বারো-ভূঁইয়াদের এই অঞ্চলের সামন্ত প্রভুর ক্ষমতা প্রদান করে তখন বারো-ভূঁইয়ারা নাম পরিবর্তন করে লখিমপুর রাখে

   ইতিহাস- লখিমপুর জেলা অঞ্চলে পূর্ব থেকে উপজাতিরা এসে সর্বপ্রথম ব্রহ্মপুত্র এলেকায় পৌঁছেছিলোউপজাতিদের মধ্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট ছিলেন চুটিয়া শাসকরা, যারা ষোড়শ শতাব্দীতে আহোম-চুটিয়া দ্বন্দ্ব শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত দীর্ঘকাল ধরে বর্তমান জেলার অঞ্চলগুলি দখল করে রেখেছিলেন এবং অবশেষে এই অঞ্চলটি আহোম রাজবংশের শাসনাধীনে এসেছিলোআহোমরা অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য ভাটিয়ালিয়া গোহাঁই নামে নতুন অবস্থান সৃষ্টি করেছিলো পরে আহোমরা এই অঞ্চলটি বারো-ভূঁইয়াদের সামন্ত প্রভুদের মতো শাসন করার জন্য দিয়েছিলেন, কারণ বারো-ভূঁইয়ারা চুটিয়া এবং কাছারি রাজ্যগুলিকে পরাজিত করতে সহায়তা করেছিল। পঞ্চদশ শতাব্দীর শুরুতে রাজা লক্ষ্মীনারায়ণ কর্তৃক গঠিত একটি চুটিয়া রাজ্য ছিল, যার উপরে জেলার নামকরণ করা হয়েছে। ১৪০৩ খ্রিস্টাব্দে শোবনসিরি নদীর পশ্চিমে চুটিয়া রাজা কর্তৃক প্রদত্ত ভূমি অনুদানের তাম্রশাসন শিলালিপি এবং ধল ও ঘাগর নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে (বর্তমান উত্তর লখিমপুর শহরের কাছে) বসতি স্থাপনের ধ্বংসাবশেষে এই কথার প্রমাণ করে। ১৮ শতকের শেষের দিকে স্থানীয় রাজ্যগুলি থেকে ব্রিটিশ সরকার ১৮২৬ সালে ইয়ান্ডাবো চুক্তির অধীনে আক্রমণকারী বার্মিজদের বহিষ্কার করে। বার্মিজদের বহিষ্কার করার পর শিবসাগর সহ রাজ্যের দক্ষিণ অংশ পুরন্দর সিংহের শাসনাধীনে ছিলো এবং ১৮৩৮ সালের আগে পর্যন্ত পুরো এলাকাটি সরাসরি ব্রিটিশ প্রশাসনের অধীনে নেওয়া হয়নি।

   লখিমপুর জেলায় অরুণাচল প্রদেশের আরও বেশ কয়েকটি জেলা ছিলস্বাধীনতার পর  জেলাটি বর্তমান ডিব্রুগড় জেলা, তিনসুকিয়া জেলা এবং ধেমাজি জেলা নিয়ে গঠিত হয়েছিল।তখন জেলার সদর দপ্তর ছিল ডিব্রুগড়ে। ১৯৭১ সালে, ডিব্রুগড় জেলা লখিমপুর থেকে পৃথক করা হয়।১৯৮৯ সালের ১৪ অক্টোবর এই জেলা বিভক্ত করে পুনরায় ধেমাজি জেলা গঠন করা হয়

   ঐতিহাসিক জনসংখ্যা

   ১৯০১- ৭৩,৪০৯

   ১৯১১- ৯২,৭০৮ +২.৩৬%

   ১৯২১- ১২৪,২৯৬ +২.৯৮%

   ১৯৩১- ১৫৪,০২১ +২.১৭%

   ১৯৪১- ১৮৮,৯৭৭ +২.০৭%

   ১৯৫১- ২২২,৮৮৩ +১.৬৬%

   ১৯৬১- ৩৩৫,৩৪৬ +৪.১৭%

   ১৯৭১- ৪৮০,৮৩৮ +৩.৬৭%

   ১৯৯১- ৭৫১,৫১৭ +২.২৬%

   ২০০১- ৮৮৯,০১০ +১.৬৯%

   ২০১১- ১,০৪২,১৩৭ +১.৬০%

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে লখিমপুর জেলার জনসংখ্যা ১,০৪২,১৩৭, যা সাইপ্রাস রাষ্ট্রের অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ড রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় সমান। এটি ভারতেৰ মোট ৬৪০ জেলার মধ্যে ৪৩৫তম স্থানে যেছ।জেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৫৭ জন (১,১৮০/বর্গমাইল)। ২০০১-২০১১ দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৭.০৬%।লখিপুরে প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৬৫ জন মহিলা এবং সাক্ষরতার হার ৭৮.৩৯%।জনসংখ্যার ৮.৭৭% শহরাঞ্চলে বাস করে।তফসিলি জাতি এবং উপজাতি জনসংখ্যার যথাক্রমে ৭.৮৫% এবং ২৩.৯৩%

      লখিমপুর জেলার ধর্ম (২০১১) সালের আদমশুমারি অনুসারে

   হিন্দুধর্ম- ৭৬.৪৯%

   ইসলাম- ১৮.৫৭%

   খ্রিস্টধর্ম-৪.৪৩%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখিত নয়- ০.৫১%

   লখিমপুর জেলার শতকরা ভাষা (2011)সালের আদমশুমারি অনুসারে

   অসমীয়া- (57.8%)

   মিসিং- (17.64%)

   বাংলা- (12.96%)

   সাদ্রি- (2.46%)

   নেপালি- (2.35%)

   দেউরি- (1.21%)

   হিন্দি- (1.17%)

   অন্যান্য- (4.41%)

   2011 সালের আদমশুমারির অনুসারে জনসংখ্যার 57.8% অসমীয়া, 17.64% মিশিং, 12.96% বাংলা, 2.46% সাদরি, 2.35% নেপালি, 1.21% দেওরি এবং 1.17% হিন্দি তাদের প্রথম ভাষা হিসাবে কথা বলতেন।

   বিভাগ- এই জেলায় চারটি আসাম বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে: বিহপুরিয়া, নওবোইচা, লখিমপুর এবং ঢাকুয়াখানা। ঢাকুয়াখানা তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিতএর মধ্যে একমাত্র বিহপুরিয়া তেজপুর লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত, আর বাকি তিনটি লখিমপুর লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত।

   অর্থনীতি- লখিমপুর জেলার অর্থনীতি মূলত কৃষির উপর নির্ভরশীল। লখিমপুরই ছিল প্রথম জেলা যেখানে সরকার প্রথম চা চাষ শুরু করেছিলো এবং আসাম কোম্পানি ১৮৪০ সালে এখানে প্রথম চা চাষের কার্যক্রম শুরু করেছিলোজেলার প্রধান ফসল হল ধান, চা, সরিষা, আখ ইত্যাদি।

   উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত- 1996 সাল থেকে লখিমপুর জেলা বারদোইবুম-বিলমুখ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের আবাসস্থল হয়ে ওঠেছে, যার আয়তন 11 বৰ্গকিমি(4.2 বর্গ মাইল)।পাৰ্কটি কিছু অংশ ধেমাজি জেলায় অবস্থিত

   ভূগোল- লখিমপুর জেলা 2,277 বর্গ কিলোমিটার (879 বর্গ মাইল) এলেকা জুড়ে বিস্তৃত, তুলনামূলকভাবে ইন্দোনেশিয়ার ইয়াপেন দ্বীপের সমান।

   জেলাটি ভারতের আসাম রাজ্যের উত্তর-পূর্ব কোণে ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর তীরে অবস্থিত। জেলার উত্তরে অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যের নিম্ন শোবনসিরি এবং পাপুম্পার জেলা এবং পূর্বে ধেমাজি জেলা দ্বারা বেষ্টিতদক্ষিণে বৃহত্তম নদী-দ্বীপ জেলা মাজুলি এবং পশ্চিমে বিশ্বনাথ জেলা অবস্থিত। ব্রহ্মপুত্র নদ ডিব্রুগড় পর্যন্ত সকল ঋতুতে নৌযান চলাচলের উপযোগী, বর্ষাকালে সদিয়া পর্যন্ত নৌযান চলাচলের উপযোগী হয়ে ওঠে জেলার নৌযান চলাচলের উপযোগী উপনদীগুলি হল সুবানসিরি নদী, রঙ্গানদী এবং ডিক্রং নদী। জেলার সঠিক অবস্থান হল ২৬.৪৮' এবং ২৭.৫৩' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৩.৪২' এবং ৯৪.২০' পূর্ব দ্রাঘিমাংশ

   জেলায় তিনটি উপ-বিভাগ রয়েছে- ঢকুয়াখানা, নারায়ণপুর-বিহপুরিয়া এবং উত্তর লখিমপুর(সদর)।

   লখিমপুর জেলায় আটটি থানা রয়েছে- যেমন উত্তর লখিমপুর, বগিনদী, পানিগাঁও, ঢাকুয়াখানা, ঘিলামারা, নারায়ণপুর, লালুক এবং বিহপুরিয়া।

   জেলাটিতে গ্রীষ্মমন্ডলীয় রেইন ফরেস্ট রয়েছেগুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনের মধ্যে রয়েছে, রঙ্গা রিজার্ভ, কাকোই রিজার্ভ, ডুলুং রিজার্ভ এবং পাভো রিজার্ভ। বনাঞ্চলের কিছু প্রজাতি হল হোলোখ (টার্মিনালিয়া মাইরিওকারপা), আজার (লেগারস্ট্রোমিয়া স্পেসিওসা), সিমলু (বোম্বাক্স সিবা বা সালমালিয়া মালাবারিকা), সুম (মাচিলাস), গামারি (গ্মেলিনা আরবোরিয়া), শিসু (ডালবার্গিয়া সিসু), সিলিখা (টার্মিনালিয়া চেবুলা), নিম (আজাদিরাচ্টা ইন্ডিকা), নাহর (মেসুয়া ফেরিয়া) ইত্যাদিবনগুলোতে হাতি, মহিষ, বাঘ, হরিণ ইত্যাদি পাওয়া যায়। জলাভূমিতে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়।

   শোবনসিরি নদীর বালুতে একসময় সোনা ছিলো বলে কিংবদন্তি রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ঢাকুয়াখানার কাছে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কর্পোরেশন (ONGC) কর্তৃক পেট্রোলিয়ামের জন্য কিছু ছোটখাটো অনুসন্ধান ছাড়া জেলায় খনিজ পদার্থের কোনও বড় অনুসন্ধান করা হয়নি

   আসামের লখিমপুর জেলার দুটি মহকুমা রয়েছে: উত্তর লখিমপুর এবং ঢকুয়াখানা।

   উত্তর লখিমপুর: জেলার সদর, শহরটি 1914 সালে শহরের মর্যাদা লাভ করেছিলো

   রাজস্ব সার্কেল- জেলার টি রাজস্ব সার্কেল/তহসিল রয়েছে- যেমন উত্তর লখিমপুর, কদম, নওবইচা, বিহপুরিয়া, নারায়ণপুর, শোবনসিরি এবং ঢাকুয়াখানা।

   গ্ৰাম- আসামের লখিমপুর জেলা পঞ্চায়েতের অধীনে ১১৮০টি গ্রাম রয়েছে।

   প্রশাসনিক কাঠামো: জেলাটি ৩টি মহকুমায় বিভক্ত: উত্তর লখিমপুর, নারায়ণপুর-বিহপুরিয়া এবং ঢাকুয়াখানা।

   পঞ্চায়েত সমিতি: জেলাটিতে ৯টি পঞ্চায়েত সমিতি, ৮১টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে।

   শিক্ষানুষ্ঠান- লখিমপুর জেলার উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে রয়েছে উত্তর লখিমপুর কলেজ (স্বায়ত্তশাসিত), লখিমপুর পলিটেকনিক, লখিমপুর গার্লস কলেজ, লখিমপুর তেলাহি কমলাবাড়িয়া কলেজ এবং জেলা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (DIET) বিভিন্ন স্কুল কলেজের পাশাপাশি লখিমপুর জেলায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল এবং জওহর নবোদয় বিদ্যালয় রয়েছে • 

 

                                                                                               মাজুলি জেলা

          মাজুলি জেলা  উত্তর-পূর্ব আসামের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিতমাজুলি বিশ্বের বৃহত্তম নদী দ্বীপমাজুলি দেশের প্রথম নদীদ্বীপ জেলা।

   ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তারিখে, যোরহাটের উত্তর অংশ থেকে মাজুলিকে বিভক্ত করার পর সর্বানন্দ সোনোয়াল একটি অতিরিক্ত জেলা ঘোষণা করেন, যার ফলে মোট জেলা সংখ্যা ৩২ থেকে ৩৩ এ পৌঁছে।

   অর্থনীতি- মাজুলির প্রধান শিল্প হল কৃষি, যার প্রধান ফসল হল ধান। মাজুলির একটি সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যময় কৃষি ঐতিহ্য রয়েছে, যেখানে প্রায় ১০০ ধরণের ধান চাষ করা হয়, সবই হয় কীটনাশক বা কৃত্রিম সার ছাড়া

   গ্রামগুলির মধ্যে তাঁত একটি প্রধান পেশা। যদিও মূলত এটি একটি অ-বাণিজ্যিক পেশা তবুও এই কাজের সাথে অনেক লোক ব্যস্ত থাকেবিশেষ করে মুগা সিল্কের বয়ন শিল্পটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং জটিল যেখানে বিভিন্ন ধরণের রঙ এবং টেক্সচার ব্যবহার করা হয়

   উৎপাদিত আকর্ষণীয় চালের মধ্যে রয়েছে কোমল চাল, একটি অনন্য ধরণের চাল যা ১৫ মিনিটের জন্য গরম জলে ডুবিয়ে রাখার পরে খাওয়ার উপযোগী হয়ে যায় এবং সাধারণত এই চাল সকালের খাবার হিসাবে খাওয়া হয়; বাও ধান, যা পানির নিচে জন্মায় এবং দশ মাস পরে কাটা হয় এবং বরো চাল, এক রকমের আঠালো বাদামী চাল যা ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। গুকুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কাৰ্যকলাপের মধ্যে মাছ ধরা, দুগ্ধজাত দ্রব্য উৎপাদন, মৃৎশিল্প, তাঁত এবং নৌকা তৈরি প্রভৃতি

   জনসংখ্যার তথ্য- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, মাজুলি জেলার জনসংখ্যা ১,৬৭,৩০৪ জন জেলাটি সম্পূর্ণরূপে গ্রামীণ। মাজুলির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩০০ জন। মাজুলিতে প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৫৫ জন মহিলা রয়েছে। তফসিলি জাতি এবং উপজাতি জনসংখ্যার ২৩,৮৭৮ (১৪.২৭%) এবং ৭৭,৬০৩ জন (৪৬.৩৮%)।হিন্দুধর্ম হল জেলার প্রধান ধর্ম, যা জনসংখ্যার ৯৯.০৪%মাজুলি আসাম জুড়ে তার বিপুল সংখ্যক সত্রের জন্য বিখ্যাত।

   মাজুলি জেলার ভাষা (2011)সালের আদমসুমারি অনুসারে-

   অসমীয়া 54.47 (53.7%)

   অনুপস্থিত 41.01 (40.5%)

   বাংলা 1.66 (1.64%)

   দেওরি 1.22 (1.20%)

   হিন্দি ০.৯ (০.৮৯%)

   নেপালি 0.46 (0.45%)

   অন্যান্য 1.64 (1.62%)

   2011 সালের আদমশুমারির অনুসারে  জনসংখ্যার 54.47% অসমীয়া, 41.01% অনুপস্থিত, 1.66% বাংলা এবং 1.22% দেওরি ভাষা কথা বলত।

   রাজনীতি- মাজুলি (বিধানসভা কেন্দ্র) আসামের 99 নম্বর বিধানসভা কেন্দ্র আসনটি তফসিলি উপজাতিদের (ST) জন্য সংরক্ষিত আসন।

   মাজুলি হল যোরহাট (লোকসভা কেন্দ্র) এর ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি। বর্তমানে গৌরব গগৈ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সংসদ সদস্য। তিনি বর্তমানে লোকসভায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের উপনেতা হিসেবেও নিযুক্ত।

   জেলাটি মিসিং স্বায়ত্তশাসিত কাউন্সিলের অধীনে, যার অধীনে তিনটি নির্বাচনী এলাকা রয়েছে।

   আসামের মাজুলি জেলায় ২টি রাজস্ব সার্কেল রয়েছে- মাজুলি এবং কমলাবাড়ি।

   মহকুমা:

   সদর দপ্তর:ড়মুর, মাজুলি

   বিভাগ: উচ্চ আসাম

   আসামের মাজুলি জেলায় ২০টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে

   পঞ্চায়েত সমিতি: মাজুলিতে ২টি পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে।

   গ্রাম পঞ্চায়েত: মাজুলি জেলা পঞ্চায়েতের আওতাধীন ২০টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে।

   গ্রাম: মাজুলিতে ২৪৩টি গ্রাম রয়েছে।

   উন্নয়ন ব্লক: মাজুলিতে দুটি উন্নয়ন ব্লক রয়েছে: মাজুলি ব্লক এবং উজনি মাজুলি ব্লক।

   শিক্ষানুষ্ঠান- আসামের মাজুলি জেলায় কমপক্ষে ১৮টি অধিভুক্ত(এফিলিয়েটে্ড) কলেজ এবং মানবিকতা এবং পরিবেশন শিল্পকলার জন্য নিবেদিত মাজুলিতে সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

   অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:-মাজুলিতে স্কুল, আইটিআই এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঠিক সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়নি

 

                                                                                                                                                                নগাঁও জেলা

   নাগাঁও জেলা ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। ২০১১ সালের আদমশুমারির অনুসারে ২০১৬ সালে হোজাই জেলাকে এর থেকে বিভক্ত করার আগে পর্যন্ত নগাঁও আসামের সবচেয়ে জনবহুল জেলা ছিল

   নগাঁও জেলার বরদোয়া ছিল ১৫-১৬ শতকের বৈষ্ণব সংস্কারক শঙ্করদেবের জন্মস্থান, যিনি অসমিয়া সমাজে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিলেননগাঁও জেলা আসামের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিতব্রিটিশ প্রশাসন ১৮৩৩ সালে জেলাটি গঠন করেছিলেন ব্রিটিশ প্রশাসকরা মজা করে নগাঁওকে ৩ সি'র জেলা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেনপ্রাচীন রেকর্ডে এই অঞ্চলটিকে খাগরিজানও বলা হত।

   ১৯৮৩ সালে আসাম আন্দোলনের সময় নেলি গ্রামে এবং এর আশেপাশের অন্যান্য গ্রামে নেলি গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিলোএই গণহত্যায় ১,৬০০ থেকে ২,০০০ বাংলাভাষী মুসলমান নিহত হয়েছিলো গণহত্যাটি তিওয়া, বাঙালি হিন্দু এবং অসমিয়াদের একটি দল দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল। ১৫ আগস্ট ২০১৬ তারিখে নগাঁও জেলার তিনটি তহসিল, যথা হোজাই, ডবকা এবং লঙ্কাকে বিভক্ত করে হোজাই জেলা গঠন করা হয়েছে।

   ভূগোল- জেলার সদর দপ্তর নগাঁও শহরে অবস্থিত। কাজিরঙ্গা জাতীয় উদ্যানের একটি অংশ নগাঁও জেলার মধ্যে অবস্থিত। এই জেলাটি উত্তরে ব্রহ্মপুত্র নদী দ্বারা বেষ্টিত (নদীর ওপারে সোণিতপুর জেলা, দক্ষিণে পশ্চিম কার্বি আংলং জেলা এবং হোজাই জেলা, পূর্বে কার্বি আংলং জেলা এবং গোলাঘাট জেলা অবস্থিত। জেলাটি অক্সম্যান (অসমীয়া ভাষায় অসম) বা (অসমান)এর নিখুঁত উদাহরণ, যেখান থেকে আসাম শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে, কারণ এখানে নদী, নদী উপত্যকা, পাহাড়, জঙ্গল এবং সমভূমি রয়েছে।

   ঐতিহাসিক জনসংখ্যা

   ১৯০১ ১৯৪,৫৩৪

   ১৯১১ ২২৫,৩৪৪ +১.৪৮%

   ১৯২১ ২৯৭,৩২২ +২.৮১%

   ১৯৩১ ৪২০,২৬৩ +৩.৫২%

   ১৯৪১ ৪৮৪,৮৭৪ +১.৪৪%

   ১৯৫১ ৬৬২,৫৭৯ +৩.১৭%

   ১৯৬১ ৯০০,৫৩৭ +৩.১২%

   ১৯৭১ ১,২৫১,৬৩৬ +৩.৩৫%

   ১৯৯১ ১,৮৯৩,১৭১ +২.০৯%

   ২০০১ ২,৩১৪,৬২৯ +২.০৩%

   ২০১১ ২,৮২৩,৭৬৮ +২.০১%

   নবগঠিত হোজাই জেলা পৃথকীকরণের পর ২০১১ সালের ভারতীয় আদমশুমারি অনুসারে নগাঁও জেলার জনসংখ্যা ১,৮৯২,৫৫০। অবশিষ্ট জেলায় প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৬৬ জন মহিলা। তফসিলি জাতি এবং উপজাতির সংখ্যা যথাক্রমে ১৫৬,৯১৩ (৮.২৯%) এবং ৮৬,৪২২ (৪.৫৭%)

   (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে ধর্মের ভিত্তিতে নগাঁও জেলার শতকরা জনসংখ্যা-

   ইসলাম-৫৬.২০%

   হিন্দুধর্ম-৪২.৩৩%

   খ্রিস্টধর্ম-১.১৫%

   অন্যান্য বা না বলা-০.৩২%

   ধর্ম অনুসারে সার্কেলের জনসংখ্যা

       সার্কেল    মুসলিম     হিন্দু   অন্যান্য

   কালিয়াবর-   ২১.৬৭%   ৭৩.০৩%  ৫.৩০%

   চামগুড়ি-    ৫৯.৬৬%   ৩৮.৫৭%  ১.৭৭%

   রূপাহী-     ৯১.৭৯%   ৮.০০%   ০.২১%

   ধিং-       ৮৯.৮৬%  ৯.৮৯%   ০.২৫%

   নগাঁও-      ৪০.০২%    ৫৮.৯৮% ১.০০%

   রহা-       ২৮.৪১%    ৭০.২২%   ১.৩৭%

   কামপুর-     ৪৬.৭২%    ৫১.৬৪%  ১.৬৪%

   ২০১১ সালের ভারতীয় আদমশুমারি অনুসারে নগাঁও জেলায় মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, যাদের জনসংখ্যা ১০,৬৩,৫৩৮ জন (৫৬.২০%), হিন্দুদের সংখ্যা ৮,০১,১৮১ জন, এবং খ্রিস্টানদের সংখ্যা ১.১৫%। জেলায় শিখ, বৌদ্ধ এবং জৈনদেরও কিছু সংখ্যক লোক বাস করে। ১৯৭১ সালে, নগাঁও জেলায় (যার মধ্যে তখন হোজাই জেলাও অন্তর্ভুক্ত ছিল) হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল, যারা জনসংখ্যার ৪২.৬% ছিল, যেখানে মুসলিমরা ছিল ৩৯.২%।

   নগাঁও জেলায় কথ্য ভাষা (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে

   অসমীয়া (৭৭.১৭%)

   বাংলা (১৬.৭৫%)

   হিন্দি (১.৩১%)

   অন্যান্য (৪.৭৭%)

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, জনসংখ্যার ৭৭.১৭% অসমীয়া, ১৬.৭৫% বাংলা এবং ১.৩১% হিন্দি।

   অর্থনীতি- নগাঁও জেলা কৃষি প্রধান। কৃষি আসাম রাজ্যের মেরুদণ্ড। ধান হল প্রধান ফসল এবং খাদ্য। মৎস্য চাষ নগাঁওয়ের আরেকটি প্রধান অর্থনীতি। গ্রামে, কয়েকটি ইট তৈরির শিল্প খোলা হয়েছে

   সংস্কৃতি- নগাঁওয়ে অনেক নামঘর এবং এর সাথে সম্পর্কিত টেমপ্লেট(মঠ) রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভরালি নামঘর, যা হাটবার এবং বরদোয়া নামঘর অবস্থিত। এই নামঘরটি নগাঁও সত্রে অবস্থিত, যেখানে মহাপুরুষ শঙ্করদেব জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সৌভাগ্য মাধব, দুলাল মাধব এবং গোপাল মাধব হল আহোম রাজা শিব সিংহের আমলে নির্মিত মন্দির।

   ইসলামী সংস্কৃতি- এই জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জেলা জুড়ে (প্রধানত গ্রামাঞ্চলে) অনেক মসজিদ রয়েছে। প্রতি বছর মুসলমানরা ঈদ উদযাপন করে। রওজা মুসলিম সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ।কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠী সর্বপ্রাণবাদ থেকে ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছে।প্রায় সকল মুসলিম দ্বিভাষিক। তারা অনর্গল অসমীয়া এবং বাংলার উপভাষা কথা বলতে পারে।

    আকর্ষণ

       বরদোয়া-বরদোয়া মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শঙ্করদেব (1449-1568)এর জন্মস্থান তিনি শিল্পী, লেখক, বৈষ্ণব ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা এবং নাট্যকার ছিলেনবরদোয়াতে দুটি সত্ৰ রযেছে। নরোওয়া সত্ৰ এবং সালাগুড়ি সত্ৰমিনি মিউজিয়ামটি নরোওয়া সত্রতে অবস্থিত।

      গাটাঙ্গা মন্দিরের নাম কীর্তন উৎসব- নতুন গাটাঙ্গা নগাঁও জেলার একটি নতুন শহর। নগাঁও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নিউ গাটাঙ্গা পূর্ব বিভাগে অবস্থিত। গাটাঙ্গা মন্দিরের নাম কীর্তন উৎসব ও শীতলা পূজার জন্য বিখ্যাত নতুন গাটাঙ্গা। নতুন গাটাঙ্গায় অনেক মৎস্যসম্পদ রয়েছে, যেমন গাটাঙ্গা বিল, গাটাঙ্গা ফিশারিজ পয়েন্ট, গাটাঙ্গা-কুঠানি বিল ইত্যাদিব্রহ্মপুত্র নদীর একটি উপনদী কলং নদী নতুন গাটাঙ্গার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কলং নদী গাটাঙ্গাকে দুটি পৃথক অঞ্চলে বিভক্ত করেছে: নতুন গাটাঙ্গা এবং চৌকিটুপ।

   চম্পাবতী কুণ্ড-চম্পাবতী কুণ্ড হল নগাঁও জেলার চাপনালায় অবস্থিত একটি জলপ্রপাত।

   কালিয়াবর- অহোম শাসনে সময় বরফুকনদের সদর দপ্তর ছিল এই শহর।

   শিলঘাট- শিলঘাট হল ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণ তীরে অবস্থিত একটি নদী বন্দর।শিলঘাট আসাম সমবায় পাটকল এবং বেশ কয়েকটি মন্দিরের আবাসস্থল।

   রহা- রহা আহোম রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ চৌকি ছিল। এটি ধান, পাট এবং সরিষার মতো কৃষি পণ্যের বাণিজ্য কেন্দ্রে ছিল।রহাতে মৎস্য প্রশিক্ষণ কলেজ অবস্থিত।

   কামাখ্যা মন্দির- কামাখ্যা মন্দিরটি শিলঘাটে অবস্থিত। প্রতি বছর অশোক অষ্টমীতে মেলা অনুষ্ঠিত হয়। (এটি গুয়াহাটির কামাখ্যা মন্দির নয়।)

   ফুলাগুড়ি- ১৮৬১ সালের অক্টোবর মাসে ফুলগুড়ি ধাওয়া(ফুলগুড়ি ধাওয়া হলো অকার্যকর ব্রিটিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক ধরণের বিদ্রোহ)এই স্থানে সংঘটিত হয়েছিল। বলা হয়, এটি সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম কৃষক আন্দোলন ছিলোতৎকালীন ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক কৃষকদের উপর শোষণ এবং বিভিন্ন ধরণের কৃষি পণ্যের উপর অত্যধিক কর আরোপের কারণে কৃষকরা আন্দোলন করেছিলোধাওয়া যুদ্ধের সময় একজন ব্রিটিশ অফিসার ক্যাপ্টেন সিঙ্গারকে হত্যা করা হয়েছিল এবং তার মৃতদেহ কাছের কলং নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

   কাজিরঙ্গা জাতীয় উদ্যান- ১৯৭৪ সালে কাজিরঙ্গা জাতীয় উদ্যানকে অভয়ারণ্যের মর্যদা প্রদান করা হয়েছেএর আয়তন ১৭৫ বর্গকিলোমিটার (৬৭.৬ বর্গ মাইল)। পার্কটির কিছু অংশ গোলাঘাট জেলায়ও বিস্তৃতএটি লাওখোয়া বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যেরও আবাসস্থল। লাওখোয়া ৭০.১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এর প্রধান আকর্ষণ হল, ভারতীয় এক-শৃঙ্গযুক্ত গণ্ডার। অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে রয়েছে বাঘ, চিতাবাঘ, এশিয়াটিক মহিষ, বন্য শুয়োর, সিভেট বিড়াল, চিতাবাঘের বিড়াল এবং হগ হরিণ। বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এবং সরীসৃপও পাওয়া যায় পার্কটিতে

   ক্রীড়া- নগাঁওয়ের জুবিলি মাঠে ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

   রাজস্ব সার্কেল- নগাঁও জেলার ৭ (সাত)টি রাজস্ব সার্কেলের রয়েছে-  নগাঁও, রহা, কামপুর, ধিং, রূপহি, চামগুরি, কলিয়াবর

   উন্নয়ন ব্লক- আসামের নগাঁও জেলায় ১৩টি উন্নয়ন ব্লক রয়েছে। যথা- খাগরিজান, পাখিমরিয়া, দোলনঘাট, রহা, বটদ্রবা, জুরিয়া, রুপহিহাটত, বাজিয়াগাঁও, পশ্চিম কালিয়াবর, কালিয়াবর, লাওখোয়া, বরহমপুর এবং কাঠিয়াতলী।

   আসামের নগাঁও জেলায়-

   মোট গাঁও পঞ্চায়েত: ১৭২টি

   মোট পঞ্চায়েত সমিতি: ১৫টি

   মোট গ্রাম: ১০০৮টি

   মোট আঞ্চলিক পঞ্চায়েত: ১৩টি

   মোট জেলা পরিষদ: ১টি

   ভৌগলিক এলাকা- ২২৮৭ বর্গ কিমি

   জেলার সীমানা- উত্তর- ব্রহ্মপুত্র নদ ও সোনিতপুর জেলা পূর্ব- গোলাঘাট ও কার্বি আংলং জেলা পশ্চিম- মরিগাঁও জেলা দক্ষিণ- হোজাই ও ডিমা হাসাও জেলা

   বিধানসভা কেন্দ্র- বিধানসভা কেন্দ্র 8 টা-যথা- 82-রাহা 83-ধিং 84-বাতাদ্রবা 85-রূপাহিহাট 86-নাগাঁও 87-বরহামপুর 88-সামগুড়ি 89-কালিয়াবর

   শিক্ষানুষ্ঠান- আসামের নগাঁও জেলায় উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে রয়েছে, নগাঁ কলেজ (স্বায়ত্তশাসিত), ডিআইইটি নগাঁ, কলেজ অফ এডুকেশন, নগাঁ এবং খাগরিজান কলেজ।

   নগাঁ কলেজ (স্বায়ত্তশাসিত):-১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত, এটি আসামের একটি অগ্রণী কলেজ এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি নগাঁ জেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।

   জেলা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট:- ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০০৫ সালে এনসিটিই দ্বারা স্বীকৃত জেলা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে ব্লক স্তরের কর্মকর্তাদেরও প্রশাসনিক স্তরের প্রশিক্ষণ প্রদান করে।

   কলেজ অফ এডুকেশন, নগাঁ:- ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত, এটি আসামের একটি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, যা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করে।

   খগরিজান কলেজ:- নগাঁ জেলার উচ্চ শিক্ষার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান, যা সিলভান এলাকায় অবস্থিত।

   আসামের নগাঁও জেলায়-

   নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৩৩,৮৭৫টি

   উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৬,১৬০টি

   মোট প্রাথমিক বিদ্যালয় (নিম্ন এবং উচ্চ প্রাথমিক): ৪০,০৩৫টি • 

 

                                               

                                                     নলবাড়ি জেলা

   নলবাড়ি জেলা ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। জেলা সদর দপ্তর নলবাড়িতে অবস্থিত। "নল" এবং "বার" এই দুটি শব্দের সংমিশ্রণ থেকে এই জেলার নামকরণ করা হয়েছে।

জেলাটি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার নিম্ন অঞ্চলে অবস্থিত এবং বাক্সা, কামরূপ, বজালি, বরপেটা এবং তামুলপুর জেলার সাথে এর সীমানা সংলগ্ন

   ইতিহাস-১৮৬৫ সালের ডুয়ার্স যুদ্ধের আগে বর্তমান নলবাড়ি জেলার উত্তর অংশ ভুটান রাজ্যের অধীনে ছিল১৯৬৭ সালে নলবাড়িকে অবিভক্ত কামরূপ জেলার একটি মহকুমা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিলো১৯৮৫ সালের ১৪ আগস্ট কামরূপ জেলা থেকে বিভক্ত করে নলবাড়ি জেলা গঠন করা হয়েছে ১ জুন ২০০৪ সালে আবার নলবাড়ি সহ তিনটি জেলার অংশ নিয়ে বাক্সা জেলা গঠন করা হয়েছে

      ভূগোল- নলবাড়ি জেলা ২২৫৭ বর্গ কিলোমিটার (৮৭১বর্গ মাইল)এলেকা ব্যাপী বিস্তৃত নলবাড়ি জেলা ২৬ ডিগ্রি এবং ২৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১ ডিগ্রি পূর্ব এবং ৯৭ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিতনোনা, বুঢ়াদিয়া, পাগলদিয়া, ঘগরা, বরলিয়া এবং টিহু, ব্রহ্মপুত্রের উপনদী। উপনদী কয়টি নলবাড়ি জেলার কৃষি অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখে।

   জেলাৰ ঐতিহাসিক জনসংখ্যা

   ১৯০১- ৯১,৭২৪

   ১৯১১- ১০৩,৯৪৯ +১.২৬%

   ১৯২১- ১১৮,৭০৫ +১.৩৪%

   ১৯৩১- ১৫১,৮৪৬ +২.৪৯%

   ১৯৪১- ১৯৬,৫৩৫ +২.৬১%

   ১৯৫১- ২৩১,৬৯৮ +১.৬৬%

   ১৯৬১- ৩২৯,৭৩৬ +৩.৫৯%

   ১৯৭১- ৪২৯,৭৬০ +২.৬৮%

   ১৯৯১- ৬০৩,৩০৭ +১.৭১%

   ২০০১- ৬৮৯,০৫৩ +১.৩৪%

   ২০১১- ৭৭১,৬৩৯ +১.১৪%

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে নলবাড়ি জেলার জনসংখ্যা ৭৭১,৬৩৯ জন, জেলাটি ভারতেমোট ৬৪০ জেলার মধ্যে ৪৮৮তম স্থানে রয়েছে।এই জেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৭৬৩ জন (১,৯৮০/বর্গমাইল)।২০০১-২০১১ দশকে জেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১১.৭৪%।নলবাড়িতে প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৪৫ জন মহিলা এবং সাক্ষরতার হার ৭৯.৮৯%। জনসংখ্যার ১০.৭২% শহরাঞ্চলে বাস করে। তফসিলি জাতি এবং উপজাতির জনসংখ্যা যথাক্রমে ৭.৮০% এবং ৩.০৩%।

   ধর্ম অনুসারে নলবাড়ি জেলার শতকরা জনসংখ্যা (2011)সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   হিন্দুধর্ম-69.11%

   ইসলাম-30.56%

   অন্য বা ধর্ম বিবৃত করেনি-0.33%

   ধর্ম অনুসারে সার্কেলের জনসংখ্যা

   সার্কেল         হিন্দু     মুসলমান  অন্যান্য

   টিহু (Pt)-    96.44%    3.23%   0.33%

   পশ্চিম নলবাড়ি- 76.74%   23.07%  0.19%

   বরখেত্রী-     26.54%    73.23%  0.23%

   বরভাগ-      80.25%   19.56%  0.19%

   নলবাড়ি-     78.91%    20.28%  0.81%

   বানেকুচি-     66.59%    33.22%  0.19%

   ঘগরাপাড়-    ৬৫.০৪%    ৩৪.৭৮%  ০.১৮%

   বাগানপাড়া-    ৭৩.৬০%   ২৬.৩৪%  ০.০৬%

   বড়মা-       ৫৩.১৮%   ৪৬.৭৩%  ০.০৯%

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে জেলার হিন্দু জনসংখ্যা ৫৩৩,২৮০জন (৬৯.১১%), যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা ২৩৫,৮১৩জন (৩০.৫৬%)।১৯৭১ সালে, নলবাড়ি জেলায় হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল, যারা জনসংখ্যার ৮৩.৭% ছিল, যেখানে মুসলিমরা সেই সময়ে ১৫.৪% ছিল।

   নলবাড়ি জেলার কথিত ভাষা (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   অসমীয়া ৮৫.৮৭ (৮৫.৫%)

   বাংলা ১১ (১০.৯%)

   বড়ো ২.৫৩ (২.৫২%)

   হিন্দি ০.৪৮ (০.৪৮%)

   অন্যান্য ০.৬ (০.৬০%)

   ধর্মীয় স্থান- বিলেশ্বর দেবালয়-নলবাড়ি জেলার বেলসরে বিলেশ্বর দেবালয় অবস্থিতদেবালয়টি প্রাচীন হিন্দু মন্দির এবং এটি ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে নিবেদিত।

   বলিলেছা (বালিলেসা) কালী মন্দির- দেবী কালীর একটি প্রাচীন মন্দির। যদিও প্রাচীন মন্দিরটি ভগ্নপ্রায়, অবশ্যে পাশেই মন্দিরটি নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছেএটি নলবাড়ি জেলার একটি অত্যন্ত সন্মানীয় ধর্মীয় উপাসনালয়।

   বাসুদেব দেবালয়- নলবাড়ি জেলার বালিকারিয়ার বাসুদেব দেবালয় একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির এবং এটি বাসুদেবের উদ্দেশ্যে নিবেদিত

   গঙ্গা পুখুরী- গঙ্গা পুখুরি নলবাড়ি জেলার বারকুড়িহায় অবস্থিত একটি বড় পুকুর। প্রতি বছর অশোক অষ্টমীতে গঙ্গা পুখুরীতে একটি উৎসব হয় এবং প্রয়াত আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা এখানে এসে ভিড় করেন।

   থেথা গোহাঁই থান- নলবাড়ি জেলার দকোহায় থেথা গোহাই থান একটি হিন্দু মন্দির যা ভগবান কৃষ্ণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত

   শিক্ষা- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, নলবাড়ি জেলার মোট সাক্ষরতার হার ৭৯.৮৯%, যেখানে ২০০১ সালে ৮০.৯৫% ছিল। গ্রামীণ সাক্ষরতার হার ৭৮.৪৪%, যেখানে শহরে ৯১.৪৬%। পুরুষদের সাক্ষরতার হার ৮৫.৫৮%, যার মধ্যে গ্রামীণ ৮৪.৩৮% এবং শহরে ৯৫.২৪%। মহিলা সাক্ষরতার হার ৭৩.৮৫%, যার মধ্যে গ্রামীণ ৭২.১৪% এবং শহরে ৮৭.৪৮%। সমগ্র রাজ্যের মোট সাক্ষরতার হার ৭৩.১৮%।

   শিক্ষানুষ্ঠান- নলবাড়ি জেলায় নলবাড়ি কলেজ, নলবাড়ি কমার্স কলেজ, নলবাড়ি পলিটেকনিক এবং কুমার ভাস্কর বর্মা সংস্কৃত ও প্রাচীন স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে

   নলবাড়ি কলেজ:-একটি বহুমুখী সহ-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যা উচ্চমাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত শিক্ষাদান করে, যার মধ্যে রয়েছে মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম, পাশাপাশি অসমিয়া এবং ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম।

   নলবাড়ি কমার্স কলেজ:- বাণিজ্য শিক্ষার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, যা কৃষ্ণ কান্ত হ্যান্ডিক স্টেট ওপেন ইউনিভার্সিটি (KKHSOU) এবং ইনস্টিটিউট অফ ডিসট্যান্স অ্যান্ড ওপেন লার্নিং (IDOL), গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দূরশিক্ষণের বিকল্প সহ স্নাতকোত্তর এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষাদান করে।

   নলবাড়ি পলিটেকনিক:- একটি সরকারি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট যা আসামের কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর (DTE) এবং রাজ্য কারিগরি শিক্ষা পরিষদ (SCTE) এর সাথে সম্পর্কিত।

   কুমার ভাস্কর ভার্মা সংস্কৃত ও প্রাচীন স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়:- সংস্কৃত ও প্রাচীন স্টাডিজের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এটি একটি বিশ্ববিদ্যালয়।

   বরনগর বি. এড. কলেজ:- একটি বি. এড. কলেজ।

   এসডিপি কলেজ অফ টিচার এডুকেশন:-একটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ

   অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:-জেলা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (DIET), নলবাড়ি:

   রাজস্ব সাৰ্কেল- আসামের নলবাড়ি জেলায় ৭টি রাজস্ব সার্কেল রয়েছে। য়থা- নলবাড়ি, পশ্চিম নলবাড়ি, বরিগগ বনভাগ, বরভাগ, বারখেত্রী, টিহু, বড়মা (অংশ), এবং বানেকুচি।

   আসামের নলবাড়ি জেলার-

   মোট গ্রাম: ৬৮৭টি

   পঞ্চায়েত সমিতি: ৭টি পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে।

   গ্রাম পঞ্চায়েত: ৬৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। • 

 

                                                  

                                                   শিবসাগর জেলা

   শিবসাগর জেলা উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম রাজ্যের ৩৫টি জেলার মধ্যে একটি প্ৰশাসনিক জেলাশিবসাগর শহর এই জেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর। এই ঐতিহাসিক স্থানটি তার সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের জন্যও পরিচিত।জেলাটি ২,৬৬৮ বর্গকিলোমিটার (আসামের মোট ৭৮,৪৩৮ বর্গকিলোমিটার) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। জেলাটিতে দুটি মহকুমা রয়েছে - শিবসাগর এবং নাজিরা। শিবসাগর জেলা ২৬.৪৫° এবং ২৭.১৫° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৪.২৫° এবং ৯৫.২৫° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। জেলাটির উত্তরে ব্রহ্মপুত্র নদী, দক্ষিণে নাগাল্যান্ড, পূর্বে চরাইদেও জেলা এবং পশ্চিমে ঝাঞ্জি নদী দ্বারা বেষ্টিতবিভিন্ন জাতি, উপজাতি, ভাষা এবং সংস্কৃতির সহাবস্থানের কারণে শিবসাগর জেলার স্বতন্ত্র পরিচয় রয়েছে।

   ইতিহাস- ব্রিটিশ আমলের আগে, আসামের প্রশাসনের কেন্দ্র ছিল শিবসাগরের চারপাশে, যেখানে বিখ্যাত আহোমরা প্রায় ছয়শ বছর ধরে রাজত্ব করেছিলেন। আহোম স্বর্গদেউরাঁ বিভিন্ন দেবদেবীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত বিভিন্ন মন্দির নির্মাণের জন্য আগ্রহী ছিলেন এবং মন্দিরগুলি সাধারণত বড় বড় পুকুর দ্বারা বেষ্টিত থাকত যেগুলি আজও জেলা গৌরবের স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। শিবসাগর, অথবা রংপুর ১৬৯৯ থেকে ১৭৮৮ সাল পর্যন্ত আহোম রাজ্যের রাজধানী ছিল। রুদ্র সিংহ (১৬৯৬-১৭১৪) তাঁর মা জয়মতী কোঁয়রীর স্মরণে ৪৫ দিনের মধ্যে বিখ্যাত জয়সাগর পুকুরটি খনন করেছিলেন। জয়দৌল জয়সাগর পুকুরের তীরে অবস্থিত। প্রমত্ত সিংহ (১৭৪৪-১৭৫১) ১৭৪৫ সালে ইট দিয়ে রংঘর তৈরি করেছিলেন। গৌরীসাগর পুকুরটি শিবসাগর শহর থেকে প্রায় আট মাইল দূরে অবস্থিত। ১৭৩৩ সালে রানী অম্বিকা দেবী শিবসাগর পুকুরটি খনন করেছিলেন। শিবসাগর পুকুরের তীরে শিব দৌল, বিষ্ণু দৌল এবং দেবী দৌল অবস্থিত। রাজেশ্বর সিংহ (১৭৫১-১৭৬৯) গড়গাঁওয়ে করেংঘর নির্মাণ করেছিলেন। প্রথম আহোম স্বর্গদেউ সুকাফা ১২৫৩ সালে চরাইদেওতে তার রাজধানী নির্মাণ করেছিলেন। শিবসাগর পূর্বে রংপুর এবং রংপুর পূর্বে মেটেকা নামে পরিচিত ছিল।শিবসাগর জেলার আসল নাম ছিল শিবপুর। ১৮২৬ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারী, ইয়াণ্ডাবুর চুক্তির মাধ্যমে আসামে ব্রিটিশ দখলদারিত্ব সুসংহত হয়। ইয়াণ্ডাবুর চুক্তি আসামে প্রায় ছয়শ বছরের দীর্ঘ আহোম শাসনের অবসান ঘটায়। ১৮২৬ সালের চুক্তির পর, আসামে ব্রিটিশ সরকার জেলা গঠনের মতো বেশ কয়েকটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ১৮৩৯ সালে উচ্চ আসামে পুরন্দর সিংহের আধিপত্যের পর শিবসাগর জেলা গঠন করা হয়। ১৯১২-১৩ সালে শিবসাগরের সদর দপ্তর যোরহাটে স্থানান্তরিত হয়। অবিভক্ত পুরাতন শিবসাগর জেলায় শিবসাগর, যোরহাট এবং গোলাঘাট নামে তিনটি মহকুমা ছিল। ১৯৮৩ সালে যোরহাট জেলা ভেঙে শিবসাগর জেলা পুনর্গঠিত করা হয়।১৯৮৭ সালের ১৫ই আগস্ট গোলাঘাট জেলা গঠনের জন্য এটি আরও বিভক্ত করা হয়।

      ভূগোল- পূর্ব আসামের সবচেয়ে মনোরম শহরগুলির মধ্যে শিবসাগর শহরটি আসামের সবচেয়ে পরিষ্কার শহরগুলির মধ্যে একটি। জেলাটি ২৬.৪৫° এবং ২৭.১৫° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৪.২৫° এবং ৯৫.২৫° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। শিবসাগর জেলার আয়তন ২,৬৬৮ বর্গকিলোমিটার (১,০৩০ বর্গমাইল), যা তুলনামূলকভাবে এস্তোনিয়ার সারেমা দ্বীপের সমান।

   শিবসাগর জেলা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে যথাক্রমে নাগা পাহাড় এবং অরুণাচল প্রদেশ এবং উত্তরে ব্রহ্মপুত্র নদী দ্বারা বেষ্টিত। জেলাটির বেশিরভাগ অঞ্চল সমতল পলিমাটি দ্বারা গঠিত এবং নাগাল্যান্ড সীমান্তের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব এবং দক্ষিণ অঞ্চলে কিছু টিলা রয়েছে।

   অর্থনীতি- শিবসাগরের প্রধান শিল্প হল তেল শিল্প, চা শিল্প এবং পর্যটন শিল্প। জনসংখ্যার বেশিরভাগই কৃষিনির্ভর।

   জনসংখ্যার তথ্য- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে শিবসাগর জেলার জনসংখ্যা ১,১৫১,০৫০ জন। জেলাটি ভারতের মোট ৬৪০ জেলার মধ্যে ৪০৬ তম স্থানে রয়েছে।জেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৩১ জন (১,১২০/বর্গমাইল)।২০০১-২০১১ দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ৯.৩৭%।শিবসাগরে প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৫৪ জন মহিলা এবং সাক্ষরতার হার ৮১.৩৬%

   গোলাঘাট জেলা গঠনের পর শিবসাগর জেলার জনসংখ্যা ৬৭৯,৬৩২ জন, যার মধ্যে ৮০,৩৭৩ জন (১১.৮৩%) শহরাঞ্চলে বাস করে। অবশিষ্ট জেলাটিতে প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৫২ জন মহিলাতফসিলি জাতি এবং উপজাতি জনসংখ্যার যথাক্রমে ৩৪,৭০৪ (৫.১১%) এবং ৩৭,১৩০ (৫.৪৬%)।

   শিবসাগর জেলায় ধর্ম (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে

   হিন্দুধর্ম- ৮৭.১৭%

   ইসলাম-১০.৮৮%

   খ্রিস্টধর্ম-১.২৪%

   অন্যান্য বা ধ্মউল্লেখিত নয়-০.৭১%

   অবশিষ্ট জেলায়(গোলাঘাট জেলা গঠনের পরে) হিন্দু ৫৯২,৪৩৩ (৮৭.১৭%), মুসলিম ৭৩,৯৬১ (১০.৮৮%), খ্রিস্টান ৮,৪৩৩ (১.২৪%)। খামিয়াং এবং তুরুং জনগোষ্ঠীর মতো বৌদ্ধ উপজাতির কয়েকটি গ্রামও রয়েছে। তাছাড়া, জেলার কিছু অংশে তিওয়াস, কোনিয়াক, মেইতেই এবং নক্তের মতো কিছু ছোট ছোট জনগোষ্ঠীও বাস করে।শিবসাগর জেলায় অনেক রাজস্থানী পরিবারও বাস করে।

   শিবসাগর জেলার ভাষা (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে জনসংখ্যা-

   অসমিয়া (৯০.২৪%)

   মিশিং (২.৭৮%)

   হিন্দি (১.৯৬%)

   বাংলা (১.৫৮%)

   সাদ্রি (১.৩৮%)

   অন্যান্য (২.০৬%)

   উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ

   ১৯৯৯ সাল থেকে শিবসাগর জেলা পানি দিহিং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের আবাসস্থল হয়ে ওঠেছে, যার আয়তন ৩৪ বর্গকিলোমিটার (১৩.১ বর্গ মাইল)।অভয়পুর, দিল্লি, দিরোই, গেলেকি এবং সালেহের মতো অনেক সংরক্ষিত বনও রয়েছে। নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচল সীমান্তে কিছু অশ্রেণীবদ্ধ বনও রয়েছে। গাছপালা বেশিরভাগই গ্রীষ্মমন্ডলীয় চিরহরিৎ, যার মধ্যে হলং, তিতাচাপা, নাহর, মেকাই ইত্যাদি গাছপালা প্রাধান্যজেলাটি প্রাণীজগতেও সমৃদ্ধ। সংরক্ষিত বনে বাঘ, হাতি, সূর্য ভালুক, সম্বর, হুলক গিবনের মতো বিভিন্ন বিরল এবং বিপন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী পাওয়া যায়।

   উৎসব এবং মেলা- বিহু হল জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় কৃষি উৎসব।বহাগ বিহু/রঙ্গালি বিহু ফসলের মৌসুমের আগমনকে চিহ্নিত করে, মাঘ বিহু হল ফসল কাটার উৎসব এবং কৃষির দুর্বল সময়ে অনুষ্ঠিত কাতি বিহু কঙালি বিহু হিসাবেও পরিচিতকাতি বিহু কার্তিক মাসে অনুষ্ঠিত হয়। মিশিং এবং দেউড়ির মতো উপজাতি সম্প্রদায়গুলিও তাদের নিজস্ব রীতিতে বিহু পালন করে। ঈদ-উল-জোহা এবং ঈদ-উল-ফিতর হল মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব। জেলায় পালিত অন্যান্য হিন্দু উৎসব হল, অম্বুবাশী, দুর্গাপূজা এবং শিবরাত্রি। শিবসাগর শহরে শিব দৌলের শিবরাত্রি মেলা আহোম শাসনের সময় থেকে পালিত হয়ে আসছে। চা জনজাতি লোকেদের ঐতিহ্যবাহী ঝুমুর নৃত্য এবং ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত খুবই জনপ্রিয়।

   শিবসাগর দিবস- শিবসাগর জেলায় প্রতি বছর ১লা জুলাই শিবসাগর দিবস পালন করে। সমগ্র শিবসাগর জেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক সমাবেশের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়।

   রাজস্ব সার্কেল- আসামের শিবসাগর জেলায় ৪ (চারটি)টি রাজস্ব সার্কেল রয়েছে: শিবসাগর, আমগুড়ি, ডেমো এবং নাজিরা। 

   উন্নযন ব্লক- আসামের শিবসাগর জেলায় ৫টি উন্নয়ন ব্লক রয়েছে। যথা- শিবসাগর উন্নয়ন খণ্ড. খেলুয়া উন্নয়ন খণ্ড, গৌরীসাগর উন্নয়ন খণ্ড. আমগুড়ি উন্নয়ন খণ্ড,  ডেমো উন্নয়ন খণ্ড, এবং নাজিরা উন্নয়ন খণ্ড

   আসামের শিবসাগর জেলায় ৫টি পঞ্চায়েত সমিতির আওতাধীন মোট ৮২টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে।

   পঞ্চায়েত সমিতি: শিবসাগর জেলায় 5 টি পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে।

   গ্রাম পঞ্চায়েত: এই ৫টি পঞ্চায়েত সমিতি ৮২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের তত্ত্বাবধান করে।

   গ্রাম পঞ্চায়ত: 82 টি গ্রাম পঞ্চায়েত।

   জেলা পরিষদ: শিবসাগর হল শিবসাগর জেলা পরিষদের অংশ।

   আঞ্চলিক পঞ্চায়েত: আসামে 185 টি আঞ্চলিক পঞ্চায়েত রয়েছে।

   গ্ৰাম- 549 টি গ্ৰাম যেছে

   মহকুমা: শিবসাগর জেলা শিবসাগর (সদর), নাজিরা এবং চরাইদেও নামে তিনটি মহকুমা নিয়ে গঠিত। • 

 

                                                       

                                                                     শোণিতপুর জেলা

          শোণিতপুর জেলা ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। জেলার সদর দপ্তর তেজপুরে অবস্থিত। জেলার মহকুমা ঢেকিয়াজুলি

   উৎপত্তি- জেলার নামটি হিন্দু মহাকাব্য, বিশেষ করে ভাগবত পুরাণ এবং স্থানীয়ভাবে রচিত কালিকা পুরাণে ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের দ্বারা প্রাপ্ত একটি গল্প থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যেখানে বালির জ্যেষ্ঠ পুত্র বাণাসুর এই শহরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেনতিনি ভগবান শিবের তপস্যা করেছিলেনসংস্কৃত শব্দ "শোণিত" এর অর্থ রক্ত।

   ইতিহাস- শোণিতপুর জেলা দরং ডুয়ার্সের অধীনে পড়ে জেলাটি দী এবং ধনসিরি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল অবস্থিত

   তিব্বতের সাথে বাণিজ্য এবং সম্পর্ক- তিব্বতি ইতিহাস অনুসারে, দরং (বর্তমানে সোনিতপুর জেলা) এর শাসক থেমবাং (বর্তমানে পশ্চিম কামেং জেলা, অরুণাচল প্রদেশ) এর শাসক ওংমে পালদারকে শ্রদ্ধা জানাতেন, যিনি ৯ম শতাব্দীতে তিব্বতি শাসক রালপাকানের ভাই লাসে সাংমার বংশধর ছিলেন।কোরিয়াপার ডুয়ার শোণিতপুর জেলার অধীনে পড়ে এবং ভুটিয়ারা মোনপাস নামে পরিচিত ছিল এবং চীনাদের কাছে মোনবাস নামে পরিচিত ছিল।এই প্রধানরা তাওয়াংয়ের শাসকের অধীনস্থ ছিলেন, যারা পরবর্তীতে লাসায় তিব্বতি সরকারের একটি উপশাখা ছিল। কোরিয়াপার ডুয়াৰ্স ১৮৪৪ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দখল করে এবং আসাম প্রদেশের সাথে যুক্ত করে। কোরিয়াপার ডুয়াৰ্স শোণিতপুর জেলার অধীনে আসাম এবং তিব্বতের মধ্যে একটি বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত

   ১৬শ শতাব্দী- ষোড়শ শতাব্দীতে  আহোমরা জেলার পূর্ব অংশ  কামেং নদী পর্যন্ত দখল করেছিলো১৫২৩ সালে আহোমরাঁ কামেং নদীর পূর্ব তীরের একটি স্থানে বিপুল সংখ্যক চুটিয়া পরিবারকে নির্বাসিত করেছিলো১৫৩২ সালে তাঁরা কামেং নদীর তীরে মুঘল সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেছিলো

   ১৬শ শতাব্দী থেকে শুরু করে, নর নারায়ণের রাজত্বকালে, কোচ রাজ্য ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়। কামেংয়ে আহোমদের বিজয়ের কয়েক বছর পর, নর নারায়ণ আহোম রাজধানী গড়গাঁও দখল করেন এবং আহোমদের কর দিতে বাধ্য করেন। নর নারায়ণের কোনও পুত্রসন্তান না থাকায় পূর্বাঞ্চলীয় বিজয়গুলি রাজার ভাগ্নে এবং উত্তরাধিকারী রঘুদেব সম্পন্ন করেছিলেনতবে অবশেষে নর নারায়ণের একজন রানী লক্ষ্মী নারায়ণ নামক একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। তখন আহোমদের সমর্থনে রঘুদেব বিদ্রোহ ঘোষণা করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি পরাজিত হন। তবে, নর নারায়ণ সোনকোশ নদীর পূর্ব দিকের কোচ অঞ্চল রঘুদেবকে এবং বাকি অংশ লক্ষ্মী নারায়ণকে দান করেন। রঘুদেবের রাজ্য কোচ হাজো নামে পরিচিত হয় এবং দ্রুত আহোম আধিপত্যের অধীনে চলে যায়, অন্যদিকে পশ্চিমের কোচ বিহার রাজ্য মুঘলদের প্রভাবে পড়ে। আহোমদের সাথে কোচ হাজোর সীমানা ছিল কামেং নদী পর্যন্ত, নদীটি বরেলি নামেও পরিচিত ছিলো, যা বর্তমানে শোণিতপুর জেলার মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত

   শীঘ্রই রঘুদেব এবং লক্ষ্মী নারায়ণের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। লক্ষ্মী নারায়ণ পরাজিত হন এবং মুঘলদের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন জানান। ফলে মুঘলরা একটি বিশাল বাহিনী পাঠায় এবং রঘুদেবকে পরাজিত করে তবে শোণিতপুর পূর্ব সীমান্তে ছিল বলে শোনিতপু জয় করা হয়নি। রঘুদেবের ভাই বলি নারায়ণ সাহায্য প্ৰাৰ্থনার জন্য আহোম শাসকদের কাছে পালিয়ে যান তখন মুঘলরা তার প্রত্যাবর্তনের দাবি জানায়, তবে আহোমরা সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেএর ফলে আহোম এবং মুঘলদের মধ্যে বেশ কয়েকটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়যুদ্ধগুলির বেশিরভাগই নিম্ন আসামে সংঘটিত হয়েছিল। ১৬১৫ সালে, একটি মুঘল সেনাবাহিনী কামেং পর্যন্ত অগ্রসর হয়, কিন্তু শীঘ্রই স্থল এবং জল উভয় ক্ষেত্রেই তাঁরা পরাজিত হয়। ১৬৩৭ সালে মুঘলরা বলি নারায়ণকে পরাজিত ও হত্যা করে এবং পরবর্তীতে একটি চুক্তির মাধ্যমে সমগ্র শোণিতপুর আহোমদের দখলে আসে। ১৬৫৮ সালে বাদশাহ শাহজাহানের মৃত্যুর পর সংঘটিত বিশৃঙ্খলার সময়, আহোমরা তাদের সীমানা সোনকোশ নদী পর্যন্ত বিস্তৃত করার চেষ্টা করে, কিন্তু মীর জুমলা তাদের পিছু হটিয়ে দেন এবং তাঁরা গড়গাঁও দখল করেন। মুঘলরা শিলঘাটের কাছে একটি দুর্গ দখল করে এবং আহোমরা তেজপুরের কাছে চান্দারা দুর্গ খালি করে দেনতবে তাদের পশ্চাদপসরণের সময় বৃষ্টিপাত এবং রোগব্যাধির কারণে মুঘল সেনাবাহিনীর বিশাল ক্ষতি হয় এবং আহোমরা শীঘ্রই গুয়াহাটি পুনরুদ্ধার করে

   দরংয়ের রাজারা তখন মঙ্গলদইয়ের আশেপাশের একটি ছোট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। ১৭৯২ সালে, মোয়ামরিয়া বিদ্রোহ শুরু হয় এবং যুদ্ধের ফলে শীঘ্রই সমগ্র আহোম অঞ্চলে অরাজকতা সৃষ্টি হয়। মণিপুরসহ বেশ কয়েকটি বহিরাগত রাজ্য আহোমদের সাহায্য পাঠানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু খুব বেশি কিছু করতে পারেনি। মোয়ামরিয়ারা একজন আহোম রাজপুত্রকে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করে এবং ১৭৮৬ সালে আহোম রাজধানী রংপুর জয় করে। তখন আহোম রাজা গৌরীনাথ সিংহ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। মোয়ামোরিয়া বিদ্রোহের কবলে থাকাকালীন, দরং রাজা এবং বলি নারায়ণের বংশধর কৃষ্ণ নারায়ণ বাঙালি ভাড়াটে সৈন্যদের সাহায্যে তাদের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন। তবে ১৭৯২ সালে, আহোম রাজাদের সাহায্যের জন্য প্রেরিত একটি ব্রিটিশ বাহিনী গুয়াহাটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয় এবং কৃষ্ণ নারায়ণকে পরাজিত করে। ১৭৯৪ সালে তারা রংপুর পুনরুদ্ধার করে। তবে রাজ্যের বেশিরভাগ অংশ তখনও দুর্বল আহোমদের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং আশেপাশের পাহাড়ি উপজাতি নিশিদের দ্বারা ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হত১৮১৮ সালে, বর্মীরা তাদের পছন্দের রাজাকে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করার জন্য আহোমদের আক্রমণ করে এবং আহোম রাজাকে উৎখাত করে তাঁর জমি দখল করে। বর্মী দখলের ফলে ব্যাপক আসাম মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। ১৮২৬ সালে, ব্রিটিশরা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং প্রথম অ্যাংলো-বর্মী যুদ্ধে তাদের পরাজিত করে। পরবর্তীকালে ইয়াণ্ডাবু চুক্তির মাধ্যমে এই অঞ্চলটি ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে আসে।

   ১৮৩৩ সালে বর্তমানের শোণিতপুর জেলাসহ দরং একটি পৃথক জেলায় পরিণত হয় এবং ১৮৩৫ সালে রাজধানী তেজপুরে স্থানান্তরিত করা হয়। ব্রিটিশরা জেলায় চা বাগান চালু করে এবং ছোট নাগপুরের উপজাতি অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক শ্রমিককে শোণিতপুর এলাকায় আমদানি করে।

   প্রশাসন-

   রাজস্ব সার্কেল: ৫ টা- তেজপুর, ঢেকিয়াজুলি, ঠেলামরা, চারিদুয়ার এবং নাদুয়ার

      মৌজার সংখ্যা: ২৬

   সমাজ উন্নয়ন (সি.ডি.) ব্লকের সংখ্যা: ১৭

      পুলিশ স্টেশনের সংখ্যা: ১১

      গাঁও পঞ্চায়েতের সংখ্যা: ১৫৮

      গ্রামের সংখ্যা: ১৬১৫ (বিটিএডির অধীনে ১৯টি সহ)

      শহরের সংখ্যা:

      শহরের নাম: তেজপুর, ঢেকিয়াজুলি, রাঙ্গাপাড়া এবং জামুগুড়িহাট

      পৌরসভা বোর্ডের সংখ্যা:

      শহর কমিটির সংখ্যা: ৪

   ভূগোল- শোনিতপুর জেলা হিমালয়ের পাদদেশে এবং ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার মধ্যবর্তী সমভূমিতে অবস্থিত কার্বি আংলং জেলার পরে শোণিতপুর জেলাটি আসামের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা, যার আয়তন ৫,৩২৪ বর্গকিলোমিটার (২,০৫৬ বর্গমাইল)ব্রহ্মপুত্র নদ জেলার প্রধান নদী এবং জিয়াভারালী, গাভরু, বোরগাং এবং বুড়োই ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী

   জাতীয় সুরক্ষিত এলাকা- শোনিতপুর জেলায় বেশ কয়েকটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং জাতীয় উদ্যান রয়েছে। ১৯৯৮ সালে  শোনিতপুর জেলা নামেরি জাতীয় উদ্যানের আবাসস্থল হয়ে ওঠেছে, যার আয়তন ২০০ বর্গকিলোমিটার (৭৭.২ বর্গ মাইল)। জেলাটি ওরাং জাতীয় উদ্যানেরও আবাসস্থল, উদ্যানটি দরং জেলার সাথেও সংযুক্তওরাং জাতীয় উদ্যান ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এর আয়তন ৭৯ বর্গকিলোমিটার (৩০.৫ বর্গ মাইল)।

   শোনিতপুরে দুটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রয়েছে: বুঢ়াচাপরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং সোনাই রূপাই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।

   জলবায়ু- শোণিতপুর জেলা উপ-ক্রান্তীয় রেইনফরেস্ট জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত জেলার জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্রগ্রীষ্মকালে গরম এবং আর্দ্র থাকে; গড় তাপমাত্রা থাকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসজানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বর্ষাকালে ৩,০০০ মিমি (৯ ফুট) এর বেশি বৃষ্টিপাত হয়, যা মানুষের জন্য আশীর্বাদ এবং অভিশাপ উভয়ই। আশীর্বাদ হলো,বৃষ্টিপাতের ফলে প্রাকৃতিক সেচ হয়; এবং অভিশাপ হলো, অত্যধিক  বৃষ্টিপাতের ফলে নদীগুলি উপচে পড়ে ফলে বন্যার সৃষ্টি করে। সমস্ত মাসে গড় বৃষ্টিপাত কমপক্ষে ৬০ মিমি এবং ঠান্ডা মাসের গড় তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে থাকে।

   জনসংখ্যা- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে শোণিতপুর জেলার জনসংখ্যা ১,৯২৪,১১০ জন। নগাঁও এবং ধুবরির পরে এটি আসামের তৃতীয় সর্বাধিক জনবহুল জেলা।শোণিতপুর জেলার জনসংখ্যা সম্পূর্ণরূপে একজাতীয় নয়, কারণ শোণিতপুর জেলায় বেশ কয়েকটি ভাষাগত, ধর্মীয় এবং জাতিগত সম্প্রদায় এবং গোষ্ঠী বাস করে।

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে শোণিতপুর জেলার জনসংখ্যা ১,৯২৪,১১০ জনএটি ভারতের মোট ৬৪০ জেলার মধ্যে ২৪৫তম স্থানে রযেছে জেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৬৫ জন (৯৫০/বর্গমাইল)।২০০১-২০১১ দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৫.৬৭%। শোণিতপুরে প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৪৬ জন মহিলা এবং সাক্ষরতার হার ৬৯.৯৬%।

   জেলা বিভক্ত হওয়ার পর জেলাটির জনসংখ্যা ১৩,১১,৬১৯ জন, যার মধ্যে ১৪২,৪৭৭ জন (১০.৮৬%) শহরাঞ্চলে বাস করে। শোণিতপুরে প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৫০ জন মহিলাতফসিলি জাতি এবং উপজাতির জনসংখ্যা যথাক্রমে ৬৫,৩৬৭ জন (৪.৯৮%) এবং ১৩৯,০৩৩ জন (১০.৬০%)।

   শোনিতপুর জেলার ধর্ম (২০১১) সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   হিন্দুধর্ম-৬৯.২৭%

   ইসলাম-২২.৭৫%

   খ্রিস্টধর্ম-৭.৩০%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখ না করা-০.৬৮%

   শোনিতপুর জেলার জনসংখ্যার প্রধান ধর্ম হল হিন্দু এবং মুসলিম। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে জেলায় প্রায় ৯০৮,৫৬৫ (৬৯.২৭%) হিন্দু এবং ২৯৮,৩৮১ (২২.৭৫%) মুসলিম রয়েছে। জেলায় প্রায় ৯৫,৭৭৪ (৭.৩০%) খ্রিস্টান রয়েছে। বৌদ্ধধর্ম (০.৫%), জৈন ধর্ম এবং শিখ ধর্ম অনুসরণকারী অন্যান্য ছোট জনসংখ্যাও রয়েছে জেলাটিতে

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে শোণিতপুর জেলার ভাষা-

   অসমীয়া (৩৭.০১%)

   বাঙালি (১৯.২৭%)

   সাদ্রি (১২.৫২%)

   বড়ো (৮.৯৩%)

   নেপালি (৬.৬৩%)

   হিন্দি (৩.৭৯%)

   ওড়িয়া (২.৫৪%)

   মুন্ডারি (১.৯৮%)

   অন্যান্য (৭.৩৩%)

   জেলার প্রায় ৬,০০,০০০ মানুষ প্রাক-ঔপনিবেশিক কাল থেকে আসামে বসবাসকারী সম্প্রদায়ের, যা জনসংখ্যার প্রায় ৪৬%। এরা হলেন অসমীয়া ব্রাহ্মণ, কোচ রাজবংশী, আহোম, কার্বি, কেওট (কৈবর্ত), মিসিং, নাথ যোগী, বড়ো, ঠেঙ্গাল কাছারি, চুটিয়া, রাভা, গোর্খা এবং আসামের অন্যান্য সম্প্রদায়। ঔপনিবেশিক ও প্রাক-ঔপনিবেশিক যুগে বাঙালি (হিন্দু ও মুসলিম উভয়), বিহারী, মারোয়ারি ইত্যাদি সম্প্রদায়ের লোক এসে জেলায় বসতি স্থাপন করেছে

   বাঙলা ভাষী হিন্দুরা পূর্বতন অবিভক্ত বাংলা এবং বাংলাদেশ থেকে ব্রিটিশ প্রশাসন এবং চা শিল্পের কর্মকর্তা ও কেরানি হিসেবে এসেছিলেনতাদের প্রধান ভাষা বাংলা, তাদের বেশিরভাগই অসমিয়া ভাষায়ও সাবলীল। তারা বেশিরভাগই নগরায়িত, যাদের রাঙ্গাপাড়া, তেজপুর, ঢেকিয়াজুলি, বিশ্বনাথ চারিয়ালি এবং বালিপাড়া শহরে উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা রয়েছে। জেলায় বাঙালি হিন্দুদের জনসংখ্যা ১,০০,০০০ এরও বেশি। জেলায় ঔপনিবেশিক আমল থেকে বাংলাভাষী মুসলমানদের একটি উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা রয়েছে, যারা মূলত ব্রহ্মপুত্র নদীর চর এলাকা এবং ঢেকিয়াজুলি, ঠেলামরা এবং তেজপুর এর আশেপাশের এলাকায় বাস করে। জেলায় বর্তমানে বাঙালিদের মোট জনসংখ্যা প্রায় ২,৫০,০০০ জনসংখ্যার প্রায় ২০%।

   তৃতীয় বৃহত্তম সম্প্রদায় হল আদিবাসী, বা চা বাগানের উপজাতি। তাদের পূর্বপুরুষদের মধ্য ভারতের উপজাতি এলাকা থেকে চা বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করার জন্য আনা হয়েছিল। তারা এখন জেলা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেতবে, তারা বেশিরভাগই ঢেকিয়াজুলি, রাঙ্গাপাড়া, বালিপাড়া, জামুগুরিহাট, বিশ্বনাথ চারিয়ালি, বেহালি, গহপুর, হেলেম এবং জেলার উত্তর অংশের আশেপাশের অঞ্চলে বসবাস করেতারা তাদের মধ্যে প্রথম এবং প্রধান ভাষা হিসেবে হিন্দির একটি উপভাষা সাদ্রি এবং দ্বিতীয় বা তৃতীয় ভাষা হিসেবে অসমিয়া ব্যবহার করে।

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, জনসংখ্যার ৩৭.০১% অসমীয়া, ১৯.৩৬% বাংলা, ১২.৫২% সাদ্রি, ৮.৯৩% বড়ো, ৬.৬৩% নেপালি, ৩.৭৯% হিন্দি, ২.৫৪% ওড়িয়া এবং ১.৯৮% মুন্ডারিকে প্রথম ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে।

   পরিবহন- প্রধান রেলওয়ে স্টেশন: ডেকারগাঁও, রাঙ্গাপাড়া এবং বিশ্বনাথ চারিয়ালি।

          নিকটতম বিমানবন্দর: শালনিবাড়ি বিমানবন্দর, তেজপুর।

          আসাম রাজ্য পরিবহন কর্পোরেশন (ASTC) স্ট্যান্ড: তেজপুর শহরের মাঝখানে।

   শিক্ষানুষ্ঠান- শোণিতপুর জেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জেলা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (DIET), রাঙ্গাপাড়া কলেজ, এল.জি.বি. গার্লস কলেজ এবং তেজপুর এয়ার ফোর্স স্কুল।

   আসামের শোণিতপুর জেলায় মোট ২,১৬৯টি সরকারি এবং প্রাদেশিক স্কুল রয়েছে। • 

 

                                                 

                                                                                 দক্ষিণ শালমারা জেলা

          দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। জেলা সদর দপ্তর হাটসিঙ্গিমারী গ্রামে অবস্থিত হাটসিঙ্গিমারী গুয়াহাটি থেকে প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি পূর্বে ধুবড়ি জেলার একটি মহকুমা ছিল।

   ২০১৬ সালে পুরাতন ধুবড়ি জেলাকে দ্বিখণ্ডিত করে দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর জেলা গঠন করা হয়েছে১৫ আগস্ট ২০১৫ তারিখে আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ আসামে ৫টি নতুন প্রশাসনিক জেলা ঘোষণা করেছিলে; দক্ষিণ সালমারা মানকাচর তার মধ্যে একটি ছিল। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে নিম্ন আসাম এবং মধ্য আসাম বিভাগের কমিশনার মো. মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, আইএএস হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে দক্ষিণ সালমারা মানকাচরকে প্রশাসনিক জেলা হিসেবে উদ্বোধন করেছিলেনজেলায় ঐতিহাসিক খুব কম স্থান আছেতবে বিখ্যাত স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে মীর জুমলার সমাধি এবং মানকাচরের কামাখ্যা মন্দির।

   ভূগোল- দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর জেলা ৫৬৮ বর্গকিলোমিটার (২১৯ বর্গমাইল) এলাকা ব্যাপী বিস্তৃত। এর জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৯৮০ জন(২,৫০০/বর্গমাইলজেলার সদর দপ্তর হাটসিঙ্গিমারি শহরে অবস্থিত শহরটি রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটি থেকে প্রায় ২৪৫ কিমি দূরে অবস্থিত। পূর্বে হাটসিঙ্গিমারী ধুবড়ি জেলার একটি উপ-বিভাগ(মহকুমা) ছিল। জেলাটির পশ্চিমে বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ-পূর্বে মেঘালয় রাজ্যদক্ষিণ সালমারা মানকাচর জেলার সাধারণ ভূ-প্রকৃতি সমতল, যদিও বনসালি, রাঙ্গাতারি ইত্যাদি ছোট ছোট টুকরো পাহাড় রয়েছেটুকরো পাহাড়গুলির সবই জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। এই জেলার মধ্য দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হচ্ছে প্রবল ব্রহ্মপুত্র নদ এবং এর উপনদীগুলি জেলার জনসংখ্যার বেশিরভাগই নদীর চরে বাস করে। অন্যান্য নদীগুলির মধ্যে রয়েছে জিঞ্জিরাম, কালোনদী (গানোল নামেও পরিচিত) ইত্যাদি। জেলার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২,৯১৬ মিমি (১১৪.৮ ইঞ্চি)।

   অর্থনীতি- দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর জেলা মূলত কৃষি ও বনজ পণ্যের উপর নির্ভরশীল। আয়ের প্রধান উৎস হল ধান (শীতকালীন এবং শরৎ উভয় ঋতুতে)অর্থকরী ফসলের প্রধান অংশ হলো পাট এবং সরিষাগম, ভুট্টা, ডাল এবং আখও মাঝারিভাবে চাষ করা হয়। বনজ পণ্যের মধ্যে কাঠ এবং বাঁশই প্রধানপাথর এবং বালিও পাওয়া যায় জেলাটিতেমাছ, দুধ, মাংস এবং ডিমের উৎপাদন কম। বর্তমান জেলাটিতে ১৩৬২.৩৩ হেক্টর এলাকা জুড়ে  তিনটি চা বাগান রয়েছে। কিন্তু জেলার অর্থনীতিতে চা বাগানের অবদান নগণ্য ভূমি রাজস্ব আদায় ন্যূনতম চেক গেট থেকে কর এবং আবগারি শুল্ক সংগ্ৰহ থেকে সরকারি কোষাগারে মোটা অংকের ধন জমা হয়।শিল্প উৎপাদন বঞ্চিত  জেলাটিতে সরকার জেলার উন্নয়ন এবং কল্যাণমূলক কাজের জন্য জেলার আয়ের চেয়ে বেশি তহবিল ব্যয় করে।

   জেলাটির প্রাকৃতিক সম্পদ এখনও অন্বেষণ করা হয়নি তবে কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে, প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করতে পারলে জেলার সংগ্রামরত অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক ব্যবস্থা হতে পারে।

   বিভাগ- জেলার একমাত্র মহকুমা হল হাটসিঙ্গিমারি (যাকে জেলার সদরও বলা হয়) জেলাটিতে দুটি রাজস্ব সার্কেল রয়েছে: মানকাচর এবং দক্ষিণ সালমারা। জেলাটিতে তিনটি থানা রয়েছে।

   জেলাটিতে দুটি আসাম বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা রয়েছে; ২১ নং মানকাচর এবং ২২ নং দক্ষিণ সালমারা। উভয় বিধানসভা এলাকাই ধুবড়ি লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত

   জনসংখ্যার তথ্য- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে  জেলার জনসংখ্যা ৫,৫৫,১১৪ জন, যার মধ্যে ২৬,১৬২ জন (৪.৭১%) শহরাঞ্চলে বাস করে। দক্ষিণ সালমারা-মানকাচরে প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৬৮ জন মহিলা এবং সাক্ষরতার হার ৫০.৭৬%। তফসিলি জাতি এবং উপজাতি জনসংখ্যার যথাক্রমে ৭,৭৬৭ জন (১.৪০%) এবং ৪,০৩২ জন (০.৭৩%)।

   দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর জেলায় ধর্ম (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   ইসলাম- ৯৫.১৯%

   হিন্দুধর্ম- ৪.৪৯%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখিত নয়-০.৩২%

   জনসংখ্যার প্রায় ৯৫.১৯% মুসলিম, ৪.৪৯% হিন্দু এবং বাকি ০.৩% খ্রিস্টান ও শিখ।

   দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর জেলার ভাষা (২০১১) সালের আদমশুমারি অনুসারে

   অসমীয়া- ৫৮.৫৬ (৫৮.০%)

   বাঙালি- ৩৯.৩২ (৩৯.০%)

   হাজং- ০.৪৫ (০.৪৫%)

   হিন্দি- ০.৪৩ (০.৪৩%)

   অন্যান্য- ২.১২ (২.১০%)

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, জেলাটিতে ৩২৮,২৪২ জন লোক অসমিয়া ভাষায়, ২২০,৭৬১ জন বাংলা ভাষায় কথা বলে। হিন্দি এবং জনসংখ্যার ২.১২% হাজংয়ের মতো সংখ্যালঘু ভাষায় কথা বলে

   শিক্ষা- জেলায় বেশ কয়েকটি বিখ্যাত স্কুল এবং কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি স্কুল কলজ হলো:-

   হাটসিঙ্গিমারী জুনিয়র কলেজ, হাটসিঙ্গিমারী

   হাটসিঙ্গিমারী কলেজ, হাটসিঙ্গিমারী

   কুকুরমারা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চারবাড়ি

   মানকাচর কলেজ

   লিটল স্টার ইংলিশ একাডেমি, মানকাচার

   দক্ষিণ সালমারা কলেজ

   রাণী ভবানী প্রিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ সালমারা

   কয়েকটি বেসরকারি স্কুল কলেজও রয়েছে

   শহর- ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর জেলার মানকাচরই একমাত্র শহর। এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের একেবারে দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত।

   সংস্কৃতি- এই জেলার মানুষের মিশ্র সংস্কৃতি। জনসংখ্যার প্রায় ৯৫% মুসলিম, ৪% হিন্দু এবং ১% খ্রিস্টান। বেশিরভাগ মানুষ গোয়ালপাড়া (দেশী) উপভাষায় কথা বলে। এই উপভাষাটি বর্তমানে আসামিয়া ভাষার উপ-ভাষা হিসাবে বিবেচিততবে, এটি একটি ভিন্ন ভাষা, যার নিজস্ব শব্দভাণ্ডার এবং ব্যাকরণ রয়েছে। কিছু লোক বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, পাবনা, বরিশালের উপভাষায় কথা বলে। যারা দেশী (গোয়ালপাড়া উপভাষা)ভাষায় কথা বলে তাদের উজানী বা দেশী বলা হয় এবং যারা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, পাবনা এবং বরিশালের উপভাষায় কথা বলে তাঁদের ভাটিয়া বলা হয়। আজকাল ভাটিয়া শব্দটি "মিয়া" দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে। যদিও ধর্মীয়ভাবে দেশি (উজানি) এবং ভাটিয়ারা একই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, তবুও এই দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। দেশিরা হল আদিবাসী যারা সময়ে সময়ে স্থানীয় আদিবাসী গোষ্ঠী যেমন কোচ, রাজবংশী, মেচ, যোগী, রাভা, নাপিত, জেলে, কলিতা ইত্যাদি থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছিল। দেশিরা দাবি করে যে তারা আলী মেচের বংশধর। ঘটি এবং উপজাতি সম্প্রদায়, যাদের সংখ্যা খুব কম, তারাও জেলার সংস্কৃতিতে অবদান রেখেছে। জেলার পুরুষরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হিসেবে প্যান্ট, পায়জামা এবং কুর্তা পরেন, অন্যদিকে মহিলারা শাড়ি পরেন।

      পরিবহন

   বিমানপথ- কোকরাঝার জেলার রূপশি নিকটতম বিমানবন্দর, যা সদর দপ্তর হাটসিঙ্গিমারী থেকে প্রায় ৭২.৮ কিমি (৪৫.২ মাইল) দূরে অবস্থিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার বিমান বন্দরটি নির্মাণ করেছিল। মূলত সামরিক উদ্দেশ্যে। ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত, ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স এবং কিছু বেসরকারি বাণিজ্যিক বিমান কলকাতা, গুয়াহাটি এবং ধুবড়ির মধ্যে নিয়মিত চলাচল করত। এখন এটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ। তবে, সম্প্রতি দাতা সংস্থা, ভারত সরকার, বিমানবন্দরটি সংস্কার এবং কার্যকর করার জন্য কিছু উদ্যোগ নিয়েছে।

      জলপথ- ব্রহ্মপুত্রের তীরে অবস্থিত হাটসিঙিমারী শহরে ব্রিটিশ আমলে অত্যন্ত ব্যস্ত নদী বন্দর ছিল, যা প্রতিবেশী দেশগুলির সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হতবর্তমানে, বন্দরটি অচল পড়ে রয়েছেতবে, সুখচর (কোকড়াডাঙ্গা)থেকে ছোট ছোট ফেরিগুলি ধুবড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন চলাচল করে এবং মানুষ ও পণ্য পরিবহন করে।

      রেলপথ- জেলায় কোনও রেলওয়ে স্টেশন নেই।

   রাস্তা- জেলাটিতে মানকাচার থেকে গুযাহাটীসহ অন্যান্য জেলায় নিয়মিত বাচ চলাচল করে

   রাজস্ব সাৰ্কেল- দক্ষিণ শালমারা-মানকাচর জেলার সদর দপ্তর হাটসিঙ্গিমারি এবং  মানকাচর

   আসামের দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর জেলার-

   উন্নয়ন ব্লক:

   রাজস্ব সাৰ্কেল:

   ভৌগোলিক এলাকা: ৫৬৮ বর্গ কিমি

   জনসংখ্যা: ৩৮৮,৬৭৩ (২০১১ সালের আদমশুমারি)

   সাক্ষরতা: ৫০.৭৬% (২০১১ সালের আদমশুমারি)

   রাজস্ব গ্রাম: ১৫২

   গাঁও পঞ্চায়েত: ৩৫

   কয়েকটি বিশেষ গ্ৰাম-

   চরবাড়ি

   ফেকামারি

   হাটশিঙিমারী

   কোকড়াডাঙ্গা

   পিপুলবাড়ি Pt III

   হাজিরহাট

   পাটাকাটা

   কাকরিপাড়া

   চেঙ্গুরচর

   বোরোকালিয়া নাশকারা প্রভৃতি

 

                                             তিনসুকিয়া জেলা

   তিনসুকিয়া জেলা ভারতের আসাম রাজ্যের ৩টি প্রশাসনিক জেলার মধ্যে একটি। জেলাটির সদর দপ্তর তিনসুকিয়া শহরে অবস্থিত। জেলাটির আয়তন ৩৭৯০ বর্গকিলোমিটার।উচ্চ আসামে অবস্থিত। ১ অক্টোবর ১৯৮৯ সালে জেলা হিসাবে ঘোষণা কৰা হযেছে। জেলা আয়তন ৩,৭৯০ বর্গকিলোমিটার (১,৪৬০ বর্গকিলোমিটার)

   ৰাজস্ব সাৰ্কেল-তিনসুকিয়া সাদিয়া মার্ঘেরিতা ডুমডুমা

   জনসংখ্যা (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   মোট জনসংখ্যা ১,৩২৭,৯২৯

   ঘনত্ব ৩৫০/কিমি২ (৯১০/বর্গমাইল)

   সাক্ষরতার হার- ৭০.৯২%

   লিঙ্গ অনুপাত- ৯৪৮/১০০০

   তপশিলি জাতি- ২.৮৪% (৩৭,৬৮৮)

   তপশিলি উপজাতি- ৬.১৮% (৮২,০৬৬)

   ইতিহাস- ১৬ শতক- মধ্যযুগীয় সময়ে বর্তমান জেলার এলাকা চুতিয়া রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। চুতিয়াদের পরাজয়ের পর, আহোমরা এই অঞ্চল শাসন করার জন্য প্রসেংমুং বরগোহাঁইকে সদিয়া-খোয়া গোহাঁই হিসেবে নিযুক্ত করেন

   ১৯ শতক- পরবর্তীতে, মোয়ামোরিয়া বিদ্রোহের পর অঞ্চলটিতে মটক রাজ্য স্থাপিত হয়। তিনসুকিয়া শহরের পুরনো নাম ছিল বেঙ্গমারা। পরে এটিকে মটক রাজ্যের রাজধানী করা হয় রে সর্বানন্দ সিংহ নামক চুতিয়া রাজপরিবারের একজন সদস্য গুইজান নদীর তীরে অবস্থিত রঙ্গাগড়ে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন। ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে তিনি তার রাজধানী বেঙ্গমারা শহরে স্থানান্তর করেন। স্বৰ্গদেউ সর্বানন্দ সিংহ তার মন্ত্রী গোপীনাথ বরবারুয়া (ওরফে গোধা) এর সহায়তায় বেঙ্গমারা শহর নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমান তিনসুকিয়া শহরের মাঝখানে শহরটি নির্মিত হয়েছিল। ডিব্রুগড় জেলা থেকে বিভাজন করে অক্টোবর ১৯৮৯ তারিখে তিনসুকিয়াকে আসামের ২৩ তম জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

   সর্বানন্দ সিংহের সময়ে বেশ কয়েকটি পুখুরি খনন করা হয়েছিল অঞ্চলটিতে। চৌলধুয়া পুখুরি, কদমনি পুখুরি, দা ধারুয়া পুখুরি, মহধুয়া পুখুরি, বাটোর পুখুরি, লগনি পুখুরি, ন-পুখুরি, দেবী পুখুরি, কুম্ভি পুখুরি, এবং রূপহি পুখুরি। এই পুকুরগুলি ছাড়াও, মুত্তাক অঞ্চলের বিভিন্ন অংশে নির্মিত অনেক প্রাচীন রাস্তা রয়েছে। গোধা-বরবরুয়া সড়ক, রঙ্গাগড় সড়ক, রাজগড় সড়ক এবং হাতিয়ালি সড়ক ছিল এই অঞ্চলের প্রধান সড়ক।

   ১৮২৩ সালে, ব্রিটিশরা প্রথম সদিয়ায় চা গাছ আবিষ্কার করে এবং তিনসুকিয়ার কাছে চাবুয়ায় প্রথম চা বাগান শুরু করা হয়। চাবুয়া নামটি "চাহ-বুয়া"/চা বাগান থেকে এসেছে।

   ১৮৮২ সালে তিনসুকিয়াকে কেন্দ্র করে আসাম রেলওয়ে অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি ডিব্রু-সাদিয়া রেলপথটি যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং রেলপথটি উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়।

   উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ- ১৯৯৯ সালে তিনসুকিয়া জেলায় ডিব্রু-সাইখোয়া জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠিত হয়, যার আয়তন ৩৪০ বর্গকিলোমিটার (১৩১.৩ বর্গ মাইল)। পার্কটির একটি অংশ ডিব্রুগড় জেলায় অবস্থিত

   জেলার উল্লেখযোগ্য শহর-

   ডিগবই

   ডুমডুমা

   জগুন

   কাকপাথর

   লিডো শহর

   মাকুম

   মার্গেরিটা

   সদিয়া

   তিনসুকিয়া

   বাঁহবাড়ি গাঁও

   অর্থনীতি- তিনসুকিয়া আসামের একটি শিল্প প্রধান জেলা। ভারতের প্রাচীনতম তেল শোধনাগারটি তিনসুকিয়ার ডিগবইতে অবস্থিত এবং মার্গেরিটা ও লিডোর মতো স্থানগুলি কয়লা খনির জন্য বিখ্যাত। জেলাটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চা-উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াকরণ জেলাগুলির মধ্যে একটি। অতএব, তিনসুকিয়া জেলার চা, কয়লা, তেল, কাঠ, প্লাইউড শিল্প ও খনিজ তেলের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সমাজবিজ্ঞানী সঞ্জয় বরবরা এবং ভূতাত্ত্বিক শরৎ ফুকনের দাবির ফলে ১৯৯৬ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে, কাঠ এবং প্লাইউড শিল্প বন্ধ করে দিয়েছে।

   জেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম- চা বাগান, খনিজ তেল খনন এবং কয়লা খনি- এগুলি ঊনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীর উপনিবেশবাদের প্রতীক

   তিনসুকিয়া আসামের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। জেলাটি শিল্পপ্ৰধান হলেও এখানে প্রচুর পরিমাণে চা, কমলা, আদা, অন্যান্য লেবুজাতীয় ফল এবং ধান উৎপাদন হয়জেলায় হিন্দুস্তান ইউনিলিভার (HUL) এর একটি প্রসাধনী কারখানাও রয়েছে।

   পরিবহন- তিনসুকিয়া জেলা বিমান, জাতীয় মহাসড়ক এবং রেলপথ দ্বারা সুসংযুক্ত। আসামের রাজধানী দিসপুর থেকে জেলাটি সড়কপথে ৫৩২ কিমি দূরে অবস্থিত। নিকটতম বিমানবন্দর হল ডিব্রুগড়েমোহনবাড়িবিমানবন্দরটি তিনসুকিয়া থেকে প্রায় ৪০ কিমি দূরে অবস্থিত দিল্লি/গুয়াহাটি এবং কলকাতা থেকে মোহনবাড়ি পৰ্যন্ত প্রতিদিন বিমান চলাচল রেনিউ তিনসুকিয়া রেলওয়ে স্টেশনটি তিনসুকিয়াকে দেশের বাকি অংশের সাথে সংযুক্ত করেছে

   তিনসুকিয়া জেলায় অনেক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে-

   সরকারি হাসপাতাল

   সিভিল হাসপাতাল

   ইএসআইএস হাসপাতাল

   বেসরকারি হাসপাতাল

   সিটি হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্র

   ডেইস নার্সিং হোম

   বরঠাকুর নার্সিং হোম

   আরসি আগরওয়াল মেমোরিয়াল হাসপাতাল

   সেন্ট লুকস হাসপাতাল

   জীবন জ্যোতি নার্সিং হোম

   স্বস্তিক নার্সিং হোম

   পাইনউড হাসপাতাল

   বিরজা হাসপাতাল

   লাইফলাইন হাসপাতাল প্রভৃতি

      জেলাটি ঐতিহাসিক জনসংখ্যা ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   ১৯০১- ১২১,০৫২

   ১৯১১ ১৫২,৮৭৬ +২৬.৩%

   ১৯২১- ২০৪,৯৬৪ +৩৪.১%

   ১৯৩১- ২৫৩,৯৮২ +২৩.৯%

   ১৯৪১- ৩১১,৬২৬ +২২.৭%

   ১৯৫১- ৩৬৭,৫৩৬ +১৭.৯%

   ১৯৬১ ৪৯৯,৫৬৮ +৩৫.৯%

   ১৯৭১- ৬৫৪,৫১০ +৩১.০%

   ১৯৯১- ৯৬২,২৯৮ +৪৭.০%

   ২০০১-,১৫০,০৬২ +১৯.৫%

   ২০১১-,৩২৭,৯২৯ +১৫.৫%

   উৎস: ভারতের আদমশুমারি

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে তিনসুকিয়া জেলার জনসংখ্যা ১,৩২৭,৯২৯ জন, যা মরিশাস জাতির সমান এবং আসামের মোট জনসংখ্যার ৪.২২ শতাংশ। এর ফলে এটি ভারতেমোট ৬৪০ জেলার মধ্যে ৩৭১ তম স্থানে রয়েছে।এই জেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৪৭ জন (৯০০/বর্গমাইল)।২০০১-২০১১ দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৪.৫১%। তিনসুকিয়া জেলায় প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৪৮ জন মহিলা রয়েছে এবং সাক্ষরতার হার ৭০.৯২%। জনসংখ্যার ১৯.৯৪% শহরাঞ্চলে বাস করে। তফসিলি জাতি এবং উপজাতি জনসংখ্যার যথাক্রমে ২.৮৪% এবং ৬.১৮%।

   তিনসুকিয়া জেলার ধর্মের শতাংশ(২০১১)সালের আদ্মশুমারি অনুসারে-

   হিন্দুধর্ম-88.96%

   খ্রিস্টধর্ম-5.79%

   ইসলাম-3.64%

   বৌদ্ধধর্ম-1.22%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখিত নয়-0.39%

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসাে হিন্দু ছিল ১,১৮১,৩৪৭ (৮৮.৯৬%), খ্রিস্টান ৭৬,৮৭৭ (৫.৭৯%), মুসলিম ৪৮,৩৭৩ (৩.৬৪%)।

   তিনসুকিয়া জেলার ভাষা (২০১১)সালের আদ্মশুমারি অনুসারে-

   অসমীয়া (৪৭.৮১%)

   সাদ্রি (১৪.১%)

   বাঙালি (১০.২১%)

   হিন্দি (৮.৫৪%)

   নেপালি (৭.৫১%)

   ভোজপুরী (২.৩%)

   ওড়িয়া (২.১১%)

   মিসিং (১.৪৬%)

   অন্যান্য (৫.৯৬%)

   তিনিসুকিয়া একটি বহু-সাংস্কৃতিক জেলা। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে জনসংখ্যার ৪৭.৮১% অসমীয়া, ১৪.১০% সাদ্রি, ১০.২১% বাংলা, ৮.৫৪% হিন্দি, ৭.৫১% নেপালি, ২.৩% ভোজপুরি, ২.১১% ওড়িয়া এবং ১.৪৬% মিসিং ভাষাভাষীতিনসুকিয়া জেলায় খামতি এবং তাই ফাকের মতো আরও বেশ কয়েকটি ভাষা প্রচলিত রয়েছেপূর্বে মরান ভাষা জেলার প্রধান ভাষা ছিল।

   সংস্কৃতি-সংস্কৃতি

   বিহু

   দুর্গা পূজা

   কালী পূজা

   করম পূজা

   তুসু উৎসব

   ছঠ পূজা

   আলি আই লিগাং

   মরান বিহু

   মে-দাম মেফি

   পর্যটন- ডিব্রু সাইখোয়া জাতীয় উদ্যান পাখির জন্য বিখ্যাত এবং এটি একটি জীববৈচিত্র্যের হটস্পট যেখানে ৩৫০ টিরও বেশি বিপন্ন প্রজাতির পাখির জন্য অনন্য আবাসস্থলঅত্যন্ত বিরল সাদা ডানাওয়ালা কাঠের হাঁস এবং অনেক পরিযায়ী পাখির জন্য উদ্যানটি একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এর বন্য ঘোড়াগুলি দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দরবিন্দু

   দেহিং পাটকাই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য আসামের শেষ অবশিষ্ট নিম্নভূমি গ্রীষ্মমন্ডলীয় আর্দ্র চিরহরিৎ বনগুলির জন্য বিখ্যাত অভয়ারণ্যটি জেলার দক্ষিণ এবং পূর্ব অংশে ৩০০বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এটি হুলক গিবন, পিগ-লেজযুক্ত ম্যাকাক, স্লো লরিস, বাঘ, হাতি, মেঘলা চিতা এবং হর্নবিলের মতো বিভিন্ন ধরণের বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল।

   দর্শনীয় স্থান-

   ডিগবই- ডিগবইয়ে বিশ্বের দুটি আধুনিক আশ্চর্য বস্তু রয়েছে - একটি শত বছরের পুরনো তেলক্ষেত্র এবং বিশ্বের প্রাচীনতম তেল শোধনাগার। তেলক্ষেত্রটি নীল পাহাড় এবং পান্না সবুজ চা বাগানে মোড়ানো ঢেউ খেলানো সমভূমির মধ্যে অবস্থিতডিগবই এখনও তার ঔপনিবেশিক পরিবেশ বজায় রেখেছে। বিখ্যাত রিজ হিল পয়েন্ট থেকে পাখির চোখে ডিগবইয়ের দৃশ্য উপভোগ করাটা সত্যিই শ্বাসরুদ্ধকর। পরিষ্কার দিনে, পূর্ব হিমালয়ের তুষারাবৃত পাহাড়ও দেখা যায় জেলাটি থেকে

      ন্যাশনাল অয়েল পার্ক- ডিগবইতে একটি তেল জাদুঘর এবং অতুলনীয় সৌন্দর্যের একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যও রয়েছে। পাহাড়ের নিচে নামার সময়, দর্শনার্থীরা বিভিন্ন ধরণের তেলের ডেরিক এবং অন্যান্য ডিভাইস দেখতে পান, যা এখনও গত চল্লিশের দশকের পুরানো উদ্ভাবনের গৌরব এবং বিস্ময় ঘোষণা করেঅন্য দিকে পাহাড় থেকে নেমে আসলে আপনি জীবনের সেরা দৃশ্য দেখতে পাবেন। হাতির পাল বা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সাথেও দেখা হতে পারে, পাশাপাশি কিছু বিরল প্রজাতির পাখিও দেখা যেতে পারে।

   মার্গেরিটা- চা বাগান, প্লাইউড কারখানা এবং কয়লা খনির কেন্দ্রস্থল, দিহিং নদীর বালুকাময় তীরে অনেক পিকনিক স্পট রয়েছে। শীতল, কুয়াশাচ্ছন্ন এবং মূল ভূখণ্ড থেকে দূরে, তাজা চা পাতার সুবাসে শ্বাস নেওয়া একটি বিরল এবং হৃদয়গ্রাহী অভিজ্ঞতা। এখানকার চা বাগানগুলি সম্ভবত বিশ্বের সেরা।

   ক্রীড়া- স্কটিশ অগ্রগামীদের দ্বারা তাঁদের অপরিবর্তনীয় শৈলীতে তৈরি ১৮-গর্তের গলফ কোর্স নিৰ্মিত হয়েছিলো। প্রকৃতপক্ষে, ডিগবইয়কে প্রায় একটি গলফিং রিসোর্ট বলা যেতে পারে, যেখানে কাছাকাছি আটটি গলফ কোর্স রয়েছে, প্রতিটির নিজস্ব চরিত্র এবং বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

   তিনসুকিয়া বিধানসভা কেন্দ্রটি ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য আসামের ১২৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি। তিনসুকিয়া ডিব্রুগড় লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত

   রাজস্ব সার্কেল- আসামের তিনসুকিয়া জেলার চারটি রাজস্ব সাৰ্কেল রয়েছে: তিনসুকিয়া (সদর), ডুমডুমা, মার্গেরিটা এবং সদিয়া।

   ভৌগলিক এলাকা: জেলার মোট ভৌগলিক এলাকা ২৭৯০ বর্গ কিলোমিটার।

   রাজস্ব গ্রাম: জেলায় ২৫৩টি রাজস্ব গ্রাম রয়েছে।

   উন্নয়ন ব্লক: জেলায় টি উন্নয়ন ব্লক রয়েছে: কাকপাথার, গুইজান, হাপজান, ইটাখুলি, সইখোয়া, মার্গেরিটা এবং সদিয়া।

   পৌর বোর্ড: জেলাটিতে ৬টি পৌর বোর্ড রয়েছে: তিনসুকিয়া, ডিগবই, মাকুম, ডুমডুমা, মার্ঘেরিটা এবং চাপাখোয়া। • 

 

                                                                উদালগুড়ি জেলা

       উদালগুড়ি উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম রাজ্যের বড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অঞ্চলের একটি প্রশাসনিক জেলা। উদালগুড়ি জেলা ওদালগুড়ি নামেও পরিচিতউদালগুড়ি শহর জেলার সদর দফতর।

   ব্যুৎপত্তি-উদালগুড়ি নামটি উদাল গাছের চারপাশে অবস্থিত স্থানকে বোঝায় (উদাল, যার অর্থ একটি গাছ এবং গুরি অর্থ আশেপাশের এলাকা)। কিছু লেখকের অভিমত, যে উদ্দালক মুনি নামক একজন ঋষির আশ্রম থাকার কারণে এই স্থানের নাম উদালগুড়ি হয়েছে। তবে, অন্য একটি সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই শব্দটির উৎপত্তি বড়ো ভাষা থেকে এসেছেবড়ো শব্দ অর্দলা এবং গুন্ড্রি থেকে, নামটি অর্দলাগুন্ড্রি > অর্দলাগুন্ড্রি > ওদলগুড়ি > উগলগুড়ি হয়ে গেছে। বড়োরা এখনও নামটি ওদলগুড়ি হিসাবে উচ্চারণ করে। বড়ো ভাষায় অর্দলা মানে প্রশস্ত এবং গুন্ড্রি মানে গুঁড়ো বস্তু।

   ডুয়ার্স-উদালগুড়ি জেলা দরং ডুয়ার্সের আওতাধীন, যার মধ্যে বরনদী এবং ধনসিরি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত। উদালগুড়ি জেলার আওতাধীন ডুয়ার্সগুলি হল বুড়িগুমা ডুয়ার্স এবং কিলিং ডুয়ার্স।

   তিব্বতের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক- প্রাচীনকালে, উদালগুড়ি আসাম এবং তিব্বতের (বর্তমানে চীন) সোনা(Tsona)শহরের মধ্যে বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত।এই পথটি ন্যামজাং চু এবং তাওয়াং চু নদীর মধ্য দিয়ে ত্রাশিগং এবং দেওয়ানগিরি হয়ে যেত। তিব্বতের মোনপারা বড়ো এবং রাভাদের কাছ থেকে আলাইন নামে পরিচিত রেশম সংগ্রহ করতে টংলা এবং উদালগুড়িতে আসতগ্রামগুলিতে তাঁ১৯৪৭ চনত ভাৰত স্বাধীন হোৱাৰ আগতে অসমত ১৩খন জিলা আছিল। জিলা কেইখন আছিল কাছাৰ (১৪ আগষ্ট ১৮৩২), দৰং (১৮৩৩), গোৱালপাৰা, কামৰূপ, লখিমপুৰ, নগাঁও, শিৱসাগৰ, জয়ন্তীয়া পৰগনা, গাৰো পাহাৰ, লুছাই পাহাৰ, নগা পাহাৰ, চিলেট আৰু নেফা। অসম ৰাজ্যৰ অন্তৰ্গত ব্ৰিটিছ ভাৰতৰ ৰক্ষিত ৪ খন ৰাজকীয় ৰাজ্য আছিল ত্ৰিপুৰা, খাচী ৰাজ্য, কোচ বিহাৰ আৰু মণিপুৰ (স্বাধীনতাৰ সময়ত অন্তৰ্ভুক্ত)। বিভাজনৰ সময়ত চিলেট জিলা পূব পাকিস্তানক দিয়া হৈছিল। স্বাধীনতাৰ সময়ত আৰু পিছলৈ ১৯৭২ চনলৈকে বহু অন্তৰ্ভুক্ত আৰু বৰ্জনৰ পিছত অসমে নিজৰ প্ৰধান ৭ জিলাৰে বৰ্তমানৰ আকৃতি গঠন কৰিলে। বাকী ৬ খন জিলা অসমৰ বাহিৰলৈ বক্ৰ হৈ; জয়ন্তীয়া, গাৰো আৰু খাচী একত্ৰিত হৈ মেঘালয় ৰাজ্য হৈ পৰিল; লুছিয়াই পাহাৰবোৰ মিজোৰাম হৈ পৰিল; নগা পাহাৰ নাগালেণ্ড হৈ পৰিল; নেফা অৰুণাচল প্ৰদেশ হৈ পৰিল; ত্ৰিপুৰা আৰু মণিপুৰ দুয়োখন ৰাজকীয় ৰাজ্য অসমত অন্তৰ্ভুক্ত হয় আৰু পিছলৈ ৰাজ্য হিচাপে পৃথক হয় আৰু কোচ বিহাৰ পশ্চিম বংগৰ অংশ হৈ পৰে। তাঁ১৯৪৭ চনত ভাৰত স্বাধীন হোৱাৰ আগতে অসমত ১৩খন জিলা আছিল। জিলা কেইখন আছিল কাছাৰ (১৪ আগষ্ট ১৮৩২), দৰং (১৮৩৩), গোৱালপাৰা, কামৰূপ, লখিমপুৰ, নগাঁও, শিৱসাগৰ, জয়ন্তীয়া পৰগনা, গাৰো পাহাৰ, লুছাই পাহাৰ, নগা পাহাৰ, চিলেট আৰু নেফা। অসম ৰাজ্যৰ অন্তৰ্গত ব্ৰিটিছ ভাৰতৰ ৰক্ষিত ৪ খন ৰাজকীয় ৰাজ্য আছিল ত্ৰিপুৰা, খাচী ৰাজ্য, কোচ বিহাৰ আৰু মণিপুৰ (স্বাধীনতাৰ সময়ত অন্তৰ্ভুক্ত)। বিভাজনৰ সময়ত চিলেট জিলা পূব পাকিস্তানক দিয়া হৈছিল। স্বাধীনতাৰ সময়ত আৰু পিছলৈ ১৯৭২ চনলৈকে বহু অন্তৰ্ভুক্ত আৰু বৰ্জনৰ পিছত অসমে নিজৰ প্ৰধান ৭ জিলাৰে বৰ্তমানৰ আকৃতি গঠন কৰিলে। বাকী ৬ খন জিলা অসমৰ বাহিৰলৈ বক্ৰ হৈ; জয়ন্তীয়া, গাৰো আৰু খাচী একত্ৰিত হৈ মেঘালয় ৰাজ্য হৈ পৰিল; লুছিয়াই পাহাৰবোৰ মিজোৰাম হৈ পৰিল; নগা পাহাৰ নাগালেণ্ড হৈ পৰিল; নেফা অৰুণাচল প্ৰদেশ হৈ পৰিল; ত্ৰিপুৰা আৰু মণিপুৰ দুয়োখন ৰাজকীয় ৰাজ্য অসমত অন্তৰ্ভুক্ত হয় আৰু পিছলৈ ৰাজ্য হিচাপে পৃথক হয় আৰু কোচ বিহাৰ পশ্চিম বংগৰ অংশ হৈ পৰে। তাঁরা রঙিন রেশম বুনত এবং চূড়ান্ত পণ্যটি পরে বর্তমান অরুণাচল প্রদেশ এবং তিব্বতের মোনপা গ্রামে বিক্রি করা হত।

   উদালগুড়ি দরং রাজা এবং ভুটান রাজ্যের অধীনে- ১৮৬৫ সালের ডুয়াৰ্স যুদ্ধের আগে ভুটানের দক্ষিণ সীমান্তে বর্তমান উদালগুড়ি জেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল দরং রাজা গুন্তিয়া বড়ুয়া নামে একজন অফিসারকে ভুটিয়াদের সাথে লেনদেন পরিচালনা করার জন্য নিযুক্ত করেছিল গুন্তিয়া আবার লেনদেন পরিচালনা করার জন্য গুয়াহাটিতে বরফুকনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করত ভুটিয়ারা জংপোন নামক একজনকে একই কাজ করার জন্য নিযুক্ত করেছিল।

   ভুটানের ইতিহাস অনুসারে, ১১৮৯ সালে কিলিং ডুয়ার্সের পূর্ব পর্যন্ত অঞ্চলটি ভুটিয়াদের কর্তৃত্বে এসেছিলো।

   ১৭ শতকের গোড়ার দিক থেকে বর্তমান উদালগুড়ি জেলা ভুটানের ড্রুক দেশি এবং আহোম রাজ্যের সুতামলা দ্বারা যৌথভাবে শাসিত হত।ভুটান সরকারের অধীনে টংসো পেনলপ সুবাহকে নিযুক্ত করেছিলেন, যিনি পরবর্তীতে লস্কর, মন্ডল বা উজিরকে ডুয়ার্সের কার্যক্রম দেখাশোনা করার জন্য নিযুক্ত করেছিলেন। ১৮৪১ সালে ব্রিটিশ ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি উদালগুড়ি থেকে ভুটানের প্রভাব অপসারণ করে এবং পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে এই অঞ্চলটি ভারতীয় ইউনিয়নের আসামের অবিভক্ত দরং জেলার অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

   বর্তমান- উদালগুড়ি জেলা ১৪ জুন ২০০৪ সালে গঠন করা হয়েছেদরং জেলাকে দ্বিখণ্ডিত করে এই জেলাটি গঠন করা হয়েছিল। উদালগুড়ি অবিভক্ত দরং জেলার মহকুমা ছিল। জেলায় হিন্দু, খ্রিস্টান এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর লোক একসাথে বসবাস করে। আশির দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এটি একটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ স্থান ছিল যদিও সময়ে সময়ে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হত। প্রয়াত জোজারাম শর্মা আসামের বিশিষ্ট ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের একজন ছিলেন।

   পর্যটন- বিভিন্ন জাতিগত সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের বৈচিত্র্য ছাড়াও, জেলাটিতে বেশ কয়েকটি পর্যটন স্থান রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থান হল-

   ওরাং জাতীয় উদ্যানের অংশ

   ওদালগুড়ি জেলার বাথৌ মন্দির এবং গবেষণা কেন্দ্র (সমস্ত বাথৌ মহাসভা)

   উদালগুড়ি শহরের পুরাতন নামঘর (অসমীয়া উপাসনা স্থান)

   কচুবিলে চা বাগান

   উদালগুড়ি শহরে পুরাতন হনুমান মন্দির

   উদালগুড়ি শহরে পুরাতন ব্যাপটিস্ট খ্রিস্টান গির্জা

   ভৈরবকুণ্ড পিকনিক স্পট

   গেথসেমানে কৃত্রিম বন (ভৈরবকুণ্ড)

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে জেলাঐতিহাসিক জনসংখ্যা

   ১৯০-১ ৭২,৫১৫

   ১৯১১- ৭২,৬৩৪ +০.২%

   ১৯২১- ৮১,৬২৪ +১২.৪%

   ১৯৩১- ১০২,৭২৭ +২৫.৯%

   ১৯৪১- ১৩৮,৫৯৩ +৩৪.৯%

   ১৯৫১- ১৭২,০৪৬ +২৪.১%

   ১৯৬১- ২৭৮,৭৮৮ +৬২.০%

   ১৯৭১- ৪৩৯,০২২ +৫৭.৫%

   ১৯৯১- ৬৯২,৯১৯ +৫৭.৮%

   ২০০১- ৭৫৮,৭৪৬ +৯.৫%

   ২০১১- ৮৩১,৬৬৮ +৯.৬%

   উৎস: ভারতের আদমশুমারি

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে উদালগুড়ি জেলার জনসংখ্যা ৮৩১,৬৬৮ জন, যা ২০০১ সালের তুলনায় ৯.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।সাক্ষরতার হার ৬৬.৬% এবং লিঙ্গ অনুপাত ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৬৬ জন মহিলা জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৪৯ জন(১,১৬০/বর্গমাইল)।জনসংখ্যার ৪.৫২% শহরাঞ্চলে বাস করে। তফসিলি জাতি এবং উপজাতি যথাক্রমে জনসংখ্যার ৪.৫৫% এবং ৩২.১৫%।

   জেলাটি বহু-জাতিগত এবং বহু-ধর্মীয় প্রকৃতি নিয়ে গঠিত জেলার জনসংখ্যার ৩১.৭৬% বড়োবড়োরা জেলার বৃহত্তম জাতিগত গোষ্ঠীউল্লেখযোগ্য জনসংখ্যার অন্যান্য জাতিগত গোষ্ঠী হল, আদিবাসী সম্প্রদায় যাদের সংখ্যা প্রায় ২৩.১২% এবং জেলার জনসংখ্যার ১২% বাঙালি মুসলিমঅসমীয়া এবং বাঙালি হিন্দুরা মূলত শহরাঞ্চলে বাস করে। এছাড়াও জেলার জনসংখ্যার আনুমানিক ৫% নেপালি ভাষাভাষী গোর্খা সম্প্রদায়ের লোক, যারা উদালগুড়ি জেলা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

  উদালগুড়ি জেলার ধর্ম (২০১১)সালের আদ্শুমারি অনুসারে-

   হিন্দুধর্ম- 73.64%

   খ্রিস্টধর্ম- 13.25%

   ইসলাম-12.66%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখিত নয়- 0.45%

   হিন্দুরা জেলার বৃহত্তম গোষ্ঠী, যার সংখ্যা ৬১২,৪২৫ জন, শতকরা ৭৩.৬৪%। জেলায় ১,১০,২১৫ জন খ্রিস্টান (১৩.২৫%) এবং ১,০৮,৩১৯ জন মুসলিম (১২.৬৬%) রয়েছে।

   উদালগুড়ি জেলার ভাষা (2011) সালের আদ্শুমারি অনুসারে-

   বড়ো- (26.9%)

   অসমীয়া- (22.62%)

   বাংলা- (19.43%)

   সাদ্রি- (7.88%)

   নেপালি- (5.6%)

   সাঁওতালি- (2.79%)

   ওড়িয়া- (2.64%)

   কুরুখ- (2.08%)

   হিন্দি- (1.66%)

   মুন্ডারি- (1.57%)

   ভোজপুরি- (1.45%)

   অন্যান্য- (5.38%)

      ভূগোল- জেলাটি উত্তরে ভুটান এবং অরুণাচল প্রদেশের পশ্চিম কামেং জেলা, পূর্বে শোনিতপুর জেলা, দক্ষিণে দরং জেলা এবং পশ্চিমে তামুলপুর জেলাজেলার আয়তন ১৮৫২.১৬ বর্গকিমি

   প্রধান শহর- ওদালগুড়ি হল উদালগুড়ি জেলার বৃহত্তম শহর। অন্যান্য শহরের মধ্যে রয়েছে টাংলা, রৌতা, মাজবাট, কালাইগাঁও, পানেরি, খয়রাবাড়ি এবং ভেড়গাঁও।

   বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য

   বরনদী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য (অংশ)জেলাটিতে অবস্থিত

   উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত- হাতি, হগ ডিয়ার, বাঘ, বন্য শুয়োর, সিভেট ইত্যাদি প্রাণী পাওয়া যায়। বেঙ্গল ফ্লোরিকান, ব্ল্যাক-নেকড স্টর্ক, গ্রেটার অ্যাডজুডেন্ট স্টর্ক, প্যালাসের ফিশিং ঈগল এবং কিং কোবরা, পাইথন, প্যারাডাইস ফ্লাইং স্নেক, লেসেমিস পাঙ্কটেট ইত্যাদি সরীসৃপও পাওয়া যায়।

   প্রশাসন- জেলাটির দুটি মহকুমা রয়েছে: উদলগুড়ি এবং ভেরগাঁও। এই দুটি উপ-বিভাগকে আরও 5 টি রাজস্ব সার্কেলে বিভক্ত করা হয়েছে: উদালগুড়ি, মাজবাট, হরিশিঙ্গা, কলাইগাঁও, খয়রাবাড়ি।

   এই জেলার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র হল পানেরি, মাজবাত এবং উদালগুড়ি। এগুলি সবই মঙ্গলদই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত

   এই অঞ্চলের বৃহত্তম ধনসিরি সেচ প্রকল্প উদালগুড়িতে অবস্থিত।

   ভারতের আসামের উদালগুড়ি জেলায় ১,০৩৭টি গ্রাম রয়েছে।

   উদালগুড়ি জেলায় মোট ২৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে।

   শিক্ষানুষ্ঠান- আসামের উদালগুড়ি জেলায় উদালগুড়ি কলেজ, টাংলা কলেজ এবং মাজবাত কলেজ সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে একটি DIET (জেলা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট) সহ অন্যান্য স্কুল এবং প্রতিষ্ঠান।

   এখানে আরও বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হল:

   প্রাদেশিক কলেজ: উদালগুড়িতে পাঁচটি প্রাদেশিক কলেজ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে খৈরাবাড়ি, মাজবাট এবং ওরাং, উদালগুড়ি কলেজ এবং টংলা কলেজ।

   উদালগুড়ি কলেজ: কলা এবং বিজ্ঞান শাখায় পাঠদান করে।

   টাংলা কলেজ: কলা, বাণিজ্য এবং বিজ্ঞান শাখায় পাঠদান করে।

   অন্যান্য কলেজ: মাজবাত কলেজ, অক্সিলিয়াম কলেজ, প্রিমিয়ার জুনিয়র কলেজ, স্কলারস একাডেমি জুনিয়র কলেজ, ন্যাশনাল পাইওনিয়ার কলেজ, অরুণোদয় জুনিয়র কলেজ, প্রেসিডেন্সি জুনিয়র কলেজ, রয়্যাল ভিশন ইন্টিগ্রেটেড একাডেমি, উত্তর দরং জুনিয়র কলেজ

      স্কুল:

   বলিপাড়া কৃষক মুক্তি এইচ.এস

   বামুনঝার আমার স্কুল

   বাঙ্গারী উচ্চ বিদ্যালয়

   রামস্বরূপ আগরওয়ালা মেমোরিয়াল ইংলিশ স্কুল

   জওহর নবোদয় বিদ্যালয়

   অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:

   DIET উদালগুড়ি: ডিস্ট্রিক্ট ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং। অনুষ্ঠানটি উদালগুড়ি থেকে 9 কিলোমিটার পশ্চিমে আমবাগাঁওয়ে অবস্থিত রাজ্য সরকারের প্রতিষ্ঠান।

   উদালগুড়ি পলিটেকনিক: ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত।

   প্রাইমারি স্কুল- ৩৩,৯৩৭ টি • 

 

                                                                                                                                        পশ্চিম কাৰ্বি আংলং জেলা

   পশ্চিম কার্বি আংলং জেলা হল ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলাজেলাটি ২০১৬ সালে কার্বি আংলং জেলা থেকে বিভক্ত করে গঠন করা হয়েছেজেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর হামরেনে অবস্থিত। জেলাটি কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত কাউন্সিলের অংশ এবং ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের বিধান অনুসারে পরিচালিত হয়।

   ব্যুৎপত্তি- পশ্চিম কার্বি আংলং জেলাটি ২০১৬ সালে কার্বি আংলং জেলার পশ্চিম অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে গঠন করা হয়েছেকার্বি হল এই অঞ্চলে এবং এর আশেপাশে বসবাসকারী আদিবাসী উপজাতির নাম, অন্যদিকে কার্বি ভাষায় অ্যাংলং শব্দটি "পাহাড়" বা "পর্বত" বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই কার্বি আংলং শব্দটির আক্ষরিক অর্থ কার্বি পাহাড়।

   ইতিহাস- ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপনের আগে, এই অঞ্চলের উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি উপজাতিরা আশেপাশের রাজ্যগুলি থেকে তাদের স্বাধীনতা বজায় রেখেছিল, কারণ তাদের ভৌগোলিক অবস্থান ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বাকি অংশ থেকে তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্ন ছিল। সাইমন কমিশনের সুপারিশ অনুসরণ করে পাহাড়ি এলাকাকে (বর্তমানে কার্বি আংলং, পশ্চিম কার্বি আংলং এবং ডিমা হাসাও জেলা নিয়ে গঠিত) ১৯৩৫ সালে আইনের ৯২ ধারার অধীনে ভারত সরকার ভিন্ন মর্যাদা প্রদান করেছিলো

   ১৯৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে, "কার্বি জাতি ও জাতীয়তাবাদের জনক ও স্থপতি" হিসেবে বিবেচিত সেমসনসিং ইঙ্গতি, খোরসিং তেরাং, সেং বে এবং নিহাং রংফরের মতো ব্যক্তিত্বরাঁ কার্বিদের জন্য একটি পৃথক প্রশাসনিক জেলার দাবি তোলেছিলেন১৯৪০ সালে, ইঙ্গতি এবং তার সহকর্মীরা মোহুঙ্গোদিজুয়ায় তৎকালীন আসামের গভর্নর স্যার রবার্ট নীল রিডের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। আন্দোলনকে আরও তীব্রতর করার জন্য ১৯৪৬ সালে কার্বি-এ-দরবার নামে একটি সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন গঠন করা হয়।

   ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর, ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে ১৭ নভেম্বর ১৯৫১ সালে আসামের একটি প্রাক্তন পাহাড়ি জেলা নিয়ে ইউনাইটেড মিকির অ্যান্ড নর্থ কাছাড় হিলস গঠন করা হয়। ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০-এ, ইউনাইটেড মিকির অ্যান্ড নর্থ কাছাড় হিলসকে দুটি পৃথক জেলায় বিভক্ত করা হয়: কার্বি আংলং এবং উত্তর কাছাড় হিলস। বিভক্ত হওয়া সত্ত্বেও, ১৯৭০ সালে পূর্বের ইউনাইটেড মিকির ও উত্তর কাছার পাহাড় জেলা নামে পরিচিত এই অঞ্চলটিকে স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের জন্য দাবি করা হয়

   ২০১৬ সালে, কার্বি আংলং জেলাকে আরও দুটি ভাগে বিভক্ত করে পশ্চিম কার্বি আংলং নামে নতুন জেলা গঠন করা হয় যার মধ্যে হামরেন সিভিল মহকুমার সম্পূর্ণ এলাকা, যার মধ্যে ডংকামুকাম, হামরেন এবং বৈথালাংসো (ভোথালাংসো) এবং অন্যান্য সংলগ্ন অঞ্চলগুলি অন্তর্ভুক্ত ছিল হামরেনকে নবনির্মিত জেলার সদর দপ্তর করা হয়। তবে, পূর্বের বিদ্যমান কার্বি আংলং জেলার নাম পরিবর্তন করে পূর্ব কার্বি আংলং রাখা হয়নি।

   ভূগোল- কারবি আংলং মালভূমি হল ভারতের আসাম রাজ্যের ভারতীয় প্লেটের (উপদ্বীপীয় ব্লক) একটি সম্প্রসারিত অংশ। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু থেকে এই অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। জেলাটির পূর্বে ডিমা হাসাও জেলা, পশ্চিমে মরিগাঁও জেলা, উত্তরে মরিগাঁও, নগাওঁ এবং হোজাই জেলা এবং দক্ষিণে মেঘালয় রাজ্য এবং ডিমা হাসাও জেলা দ্বারা বেষ্টিত।

   পশ্চিম কার্বি আংলং জেলাটি ২৫° ৩৩' এবং ২৬° ০৯' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২° ০৮' এবং ৯৩° ০৪' পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত এবং জেলাটি ৩,০৩৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।এই জেলার গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলি হল: মিন্ত্রিয়াং নদী, কার্বি লাংপি নদী, কপিলি নদী এবং আমরেং নদী। এই নদীগুলির মধ্যে, মিন্ত্রিয়াং এবং কার্বি ল্যাংপি নদীর উপর জলবিদ্যুৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

   উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ- জেলাটিতে পাহাড় ও সমভূমির ঘন গ্রীষ্মমন্ডলীয় বনাঞ্চলে আচ্ছাদিত এবং আমরেং, রংখাং এবং জাকোটায় রাজ্য সংরক্ষিত বন রয়েছে। জেলাটির সারচিম, কোলোঙ্গা এবং আমরেং জেলা পরিষদে সংরক্ষিত বনও রয়েছেজেলায় অসংখ্য পাহাড় থাকা সত্ত্বেও, মাত্র কয়েকটি পাহাড়কে পাহাড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জেলাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,২৯০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত লারু সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

   জনসংখ্যার তথ্য-২০০১ সালে কার্বি আংলং-এর দোংকা উপ-জেলা, যা পরবর্তীতে পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার অংশ হয়ে ওঠেছে, এর জনসংখ্যা ছিল ২,৪৭,১৬৯ জন, যা ২০১১ সালে বেড়ে ২,৯৫,৩৫৮ জনে দাঁড়িয়েছিলোনিম্নলিখিত সারণীতে ২০০১-২০১১ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যার দশকীয় তারতম্য এবং ২০১১ সালের হিসাবে জেলার জনসংখ্যা বন্টন সম্পর্কে তথ্য রয়েছে:

   জনসংখ্যার শতাংশ-২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার জনসংখ্যা ২,৯৫,৩৫৮ জন। ২০০১-২০১১ দশকে এর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৯.৫০%। পশ্চিম কার্বি আংলং জেলায় প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৫৪ জন মহিলা এবং সাক্ষরতার হার ৬৩.৩৫%। মোট জনসংখ্যার ১৭,৮৬৩ জন (৬.০৫%) শহরাঞ্চলে বাস করে। তফসিলি উপজাতি জনসংখ্যার ৬৫.৫২% (১,৯৩,৫১৮) এবং তফসিলি জাতি ৩.৮৭% (১১,৪৩৮)

          পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার ধর্ম (2011) সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   হিন্দুধর্ম-79.51%

   খ্রিস্টধর্ম-19.14%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখিত নয়- 1.35%

   2011 সালের আদমশুমারির তথ্য অনুসারে, জেলার মধ্যে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ মোট জনসংখ্যার 79.51%। খ্রিস্টানরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় গোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার 19.14%বাকি 1.35% জনসংখ্যা হয় অন্য ধর্ম পালন করে অথবা তাদের ধর্ম উল্লেখ করেনি।

       (২০০১)সালের  শতকরা হার    (২০১১)সালের শতকরা হার

   হিন্দুধর্ম- ২,০০,২৫১ ৮১.০২%          ,৩৪,৮৩৩ ৭৯.৫১%

   খ্রিস্টধর্ম-  ৪৪,২২১ ১৭.৮৯%            ৫৬,৫৩৮ ১৯.১৪%

   অন্যান্য[খ] ২৬৯৭ ১.০৯%             ,৯৮৭ ১.৩৫%

   মোট জনসংখ্যা ২,৪৭,১৬৯ ১০০%        ,৯৫,৩৫৮ ১০০%

   ভাষা- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, ৪৯.৬৮% জনসংখ্যা কার্বিকে প্রথম ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে। অন্যান্য ভাষার মধ্যে রয়েছে ভোজপুরি (10.37%), নেপালি (6.98%), বাংলা (5.89%), গারো (5.73%), তিওয়া (5.43%), অসমীয়া (4.69%), খাসি (3.27%), হিন্দি (3.18%), দিমাসা (1.45%), এবং বড়ো (1.28%)

          প্রশাসন-  জেলাটি কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের অধীনে পরিচালিত হয়। জেলার সিইএম বা প্রধান নির্বাহী সদস্য কাউন্সিলের ১৪ জন নির্বাহী সদস্য দ্বারা সমর্থিত। কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের প্রধান সচিব (সাধারণত আইএএস/এসিএস ক্যাডার থেকে নির্বাচিত একজন কর্মকর্তা) জেলার প্রশাসনিক প্রধান। জেলা প্রশাসক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিচার প্রশাসনের জন্য দায়ী।

          হামরেন হল জেলার সদর দপ্তর। জেলার একটি মহকুমা রয়েছে, যথা হামরেন মহকুমা, এবং একটি রাজস্ব সার্কেল- ডংকামুকাম।

          নির্বাচনী এলাকা- পশ্চিম কার্বি আংলং-এ একটি বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা  বৈথালাংসো (এসটি) রয়েছে। পশ্চিম কার্বি আংলং-এ নয়টি স্বায়ত্তশাসিত পরিষদ নির্বাচনী এলাকাও রয়েছে: দুয়ার আমলা, আমরি, চিনথং, সোচেং, রংখাং, বিথুং রেংথামা, কপিলি, হামরেন এবং আমরেন।

    উন্নয়ন ব্লক- পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার অধীনে চারটি উন্নয়ন ব্লক রয়েছে: আমরি উন্নয়ন ব্লক, চিনথং উন্নয়ন ব্লক, রংখাং উন্নয়ন ব্লক এবং সোচেং উন্নয়ন ব্লক।

    থানা- পশ্চিম কার্বি আংলং জেলায় চারটি থানা রয়েছে: হামরেন, বৈথালাংসো, খেরোনি এবং জিরিকিনডেং। এছাড়াও পাঁচটি পুলিশ ফাঁড়ি(আউট পোস্ট) রয়েছে: দোনকামোকাম, উলুকুঞ্চি, আমতেরেং, মাইলু এবং মাকোইলাম।

   অর্থনীতি- পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার বাসিন্দাদের জন্য কৃষি হল প্রাথমিক অর্থনৈতিক কার্যকলাপ। জেলায় চাষ করা প্রধান ফসলের মধ্যে রয়েছে আদা, আখ, ভুট্টা, তুলা, নারকেল, মরিচ এবং কালো মরিচ।

   আসামে পশুপালন অত্যন্ত লাভদায়ক, জেলার 90% এরও বেশি পরিবার পশুপালনের সাথে জড়িত। শূকর পালন হল জেলার লাভদায়ক পেশা।আধা-শহর এবং গ্রামীণ এলাকার প্রায় প্রতিটি উপজাতি পরিবার স্থানীয় বা বিদেশী জাতের শূকর পালন করেদুগ্ধ চাষ বেকার শিক্ষিত যুবকদের জন্য একটি প্রধান পেশা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে জেলাটিতে এবং জেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, কৃষি শ্রমিক এবং মহিলাদের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিপূরক আয়ের উৎস দুগ্ধচাষ।

   পরিবহন- জেলা সদর দপ্তর হামরেন সড়কপথে অন্যান্য স্থানের সুসংযুক্ত। কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত কাউন্সিল পরিবহন বাসগুলি জেলা সদর থেকে গুয়াহাটি, নগাঁও, ডিফু, লঙ্কা, হোজাই এবং জোয়াইয়ের মতো প্রধান গন্তব্যস্থানগুলিতে নিয়মিত বাস চলাচল করে। রেলপথের ক্ষেত্রে বর্তমানে জেলার মধ্যে কোনও স্টেশন নেই। হামরেনের নিকটতম রেলস্টেশন হল হোজাই, যা সদর দপ্তর থেকে 48 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। জেলায় কোনও বিমানবন্দর নেই এবং নিকটতম লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গুয়াহাটিতে অবস্থিত।

   উল্লেখযোগ্য শহর এবং দর্শনীয় স্থান

   হামরেন

   বৈথালাংসো

   দংকামুকম

   শিকদমাখা

   উমসওয়াই প্রভৃতি

   পশ্চিম কার্বি আংলং হল কার্বি আংলং জেলা থেকে বিভক্ত করে গঠিত একটি নতুন জেলা।

   উপজাতীয় এলাকা: জেলাটি প্রধানত উপজাতীয় এলাকায় অবস্থিত

   উপ-বিভাগ: জেলায় একটি উপ-বিভাগ রয়েছে, হামরেন।

   সার্কেল: জেলায় ৬টি রাজস্ব সার্কেল রয়েছে।

   ব্লক: জেলায় ৪ টি উন্নয়ন ব্লক রয়েছে।

   আয়তন: জেলাটির আয়তন ৩,০৩৫ বর্গকিলোমিটার।

   জনসংখ্যা: ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে মোট জনসংখ্যা ২৭৯,৮৪৮ জন।

   সাক্ষরতার হার: মোট সাক্ষরতার হার ৬৯.৯৬%।

   প্রধান উপজাতি: জেলার প্রধান উপজাতীয় জাতিগত গোষ্ঠীগুলি হল, কার্বি, তিওয়াস, ডিমাসা, বড়ো এবং গারো।

   গ্রামের মধ্যে রয়েছে রংখাং, সোচেং, আমরি, চিনথং, খান্দুলি, মোকোইলুম, সাবুদা, মাকিরাম, বৈথালাংসো, হামরেন, খেরনি এবং জিরিকিন্দেং প্রভৃতি

   শিক্ষানুষ্ঠান- কার্বি আংলং জেলায় কমপক্ষে দুটি কলেজ তালিকাভুক্ত রয়েছে: রাংসিনা কলেজ এবং কাপিলি কলেজ।

      রাংসিনা কলেজ: ব্যাচেলর অফ আর্টস (বিএ) পাঠ্যক্রমের অধীনে ছয়টি পূর্ণকালীন কোর্স প্রদান করে।

   কপিলি কলেজ: কপিলি কলেজ পশ্চিম কার্বি আংলংয়ের খেরোনিতে অবস্থিত

     জেলাটিতে বেশ কয়েকটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং জুনিয়র কলেজ রয়েছে।

         ২০১৬ সালে পশ্চিম কার্বি আংলং জেলায় ১৯৭৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৮৭০টি গ্রামীণ, ১০৭টি শহরাঞ্চল) এবং ৩৫৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল।

      এখানে আরও বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হল:

      প্রাথমিক বিদ্যালয়: ২০১৬ সালে, জেলায় মোট ১৯৭৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল।

      এর মধ্যে ১৮৭০টি গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত ছিল, যেখানে ১০৭টি শহরাঞ্চলে ছিল।

      ২০১৬ সালে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৬ টিতে দাঁড়িয়েছে।

      জেলা পরিষদ গঠনের আগে, ১৯৫৩ সালে মাত্র ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল।

      ১৯৯২-৯৩ সালে মধ্য ইংরাজী বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে ২৭২ টিতে এবং ২০১৬ সালে ৩৫৬টিতে পৌঁছেছে। • 

 

                                                                        বিশ্বনাথ জেলা

          বিশ্বনাথ জেলা ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। জেলাটি ২০১৫ সালের মধ্যে নবনির্মিত জেলাগুলির মধ্যে একটি, যা ১৫ আগস্ট ২০১৫ তারিখে আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ ঘোষণা করেছিলেন।

   জেলাটি পূর্ববর্তী শোণিতপুর জেলা থেকে বিভক্ত করে গহপুর এবং বিশ্বনাথ মহকুমার বেশিরভাগ অংশ নিয়ে গঠন করা হয়েছে। জেলাটি উত্তরে অরুণাচল প্রদেশ, দক্ষিণে গোলাঘাট, ব্রহ্মপুত্র নদী, পূর্বে লক্ষ্মীপুর জেলা এবং পশ্চিমে শোণিতপুর জেলাজেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর বিশ্বনাথ চারিয়ালিতে অবস্থিত।

   ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে, রাজ্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়ার আগে জেলাটি শোণিতপুর জেলার সাথে একীভূত করা হয়েছিলোতবে, ২০২৩ সালের ২৫শে আগস্ট আসাম মন্ত্রিসভা বিশ্বনাথ জেলাকে আবার জেলার মর্যদা প্রদান করেছে

   ইতিহাস- ১৬ শতকে আহোমদের দ্বারা দখল করার পূর্বে বিশ্বনাথ জেলার বেশিরভাগ অঞ্চল চুটিয়া রাজ্যের অংশ ছিল জেলাটির পশ্চিম অংশ স্বাধীন ভূঁইয়া সর্দারদের শাসনাধীন ছিল। চুটিয়া রাজ্য এবং ভূঁইয়া রাজ্যের মধ্যে সীমানা ছিল দিকরাই এবং ঘিলাধারী নদী। চুটিয়া রাজারা এই অঞ্চলে অনেক দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন, যার মধ্যে বুড়োই দুর্গ (ন্যিশি পাহাড়ের কাছে)এবং রাজা প্রতাপ নারায়ণ কর্তৃক নির্মিত প্রতাপগড় দুর্গ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইটা দুর্গ বিশ্বনাথ চারিয়ালির উত্তরে অবস্থিত

   জেলার সদর দপ্তর বিশ্বনাথ চারিয়ালি এবং মহকুমা গহপুর

   রাজস্ব সার্কেল-৩ টি। বিশ্বনাথ চারিয়ালি, গহপুর, হেলেম

   উন্নয়ন (সি.ডি.) ব্লকের নাম- উন্নয়ন ব্লক ৭ টি। পূব চৈয়ার উন্নয়ন ব্লক, চৈদুয়ার উন্নয়ন ব্লক, বেহালি উন্নয়ন ব্লক, বাঘমোড়া উন্নয়ন ব্লক, বিশ্বনাথ উন্নয়ন ব্লক, সাকোমোথা উন্নয়ন ব্লক,চুটিয়া উন্নয়ন ব্লক

      পুলিশ স্টেশন- গহপুর থানা, হেলেম থানা, বেহালি পুলিশ স্টেশন, গিঞ্জিয়া পুলিশ স্টেশন, বিশ্বনাথ চারিয়ালি পুলিশ স্টেশন, চুটিয়া পুলিশ স্টেশন, হাওয়াজান পুলিশ ফাঁড়ি(আউটপোষ্ট), বরগাং পুলিশ ফাঁড়ি(আউটপোষ্ট)।

   রাজস্ব গ্রামের সংখ্যা- ৮৩২টি

   শহরের নাম- বিশ্বনাথ চারিয়ালি, গহপুর

   জনসংখ্যার তথ্য-২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে বিশ্বনাথ জেলার জনসংখ্যা ৬১২,৪৯১ জন, যার মধ্যে ৩১,৩৬৮ জন (৫.১২%) শহরাঞ্চলে বাস করে। বিশ্বনাথ জেলায় প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপৰীতে ৯৬৮ জন মহিলা। তফসিলি জাতি এবং উপজাতির জনসংখ্যা যথাক্রমে ৪৩,৭৬৩ (৭.১৫%) এবং ৯৩,১৭৪ (১৫.২১%)।

   ধর্ম অনুসারে বিশ্বনাথ জেলার (২০১১) সালের আদমশুমারি অনুসারে শতকরা জনসংখ্যা-

   হিন্দুধর্ম- 83.96%

   ইসলাম-8.52%

   খ্রিস্টধর্ম-6.92%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখিত নয়-0.60%

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে হিন্দুদের জনসংখ্যা ছিল ৫১৪,২৫৯ (৮৩.৯৬%), যেখানে মুসলমানদের জনসংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫২,১৫৫ (৮.৫২%) এবং খ্রিস্টানদের (৬.৯২%)।

   বিশ্বনাথ জেলার ভাষা শতকরা হার (2011)সালের আদমশুমারি মতে-

   অসমীয়া (34.06%)

   সাদ্রি (13.56%)

   বাংলা (8.58%)

   নেপালি (7.93%)

   বড়ো (7.23%)

   অনুপস্থিত (7.09%)

   ওড়িয়া (6.76%)

   মুন্ডারি (3.41%)

   কার্বি (2.56%)

   হিন্দি (1.84%)

   অন্যান্য (6.98%)

   2011 সালের আদমশুমারির অনুসারে জনসংখ্যার 34.06% অসমিয়া, 13.56% সাদ্রি, 8.58% বাংলা, 7.93% নেপালি, 7.23% বড়ো, 7.09% মিশিং, 6.76% ওড়িয়া, 3.41% মুন্ডারি, 2.41% এবং 2.41% হিন্দি ভাষায় কথা বলে।

   রেলওয়ে স্টেশন- দুবিয়া, গহপুর, ব্রহ্মজ, হেলেম, নিজ বরগাং, মোনাবাড়ি, বিশ্বনাথ চারিয়ালি ইত্যাদি

   আসামের বিশ্বনাথ জেলায় মোট -

   পঞ্চায়েত সমিতি: বিশ্বনাথ জেলার মধ্যে ৭টি পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে।

   গ্রাম পঞ্চায়েত: জেলায় ৭৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে।

   গ্রাম: এই গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি মোট ৯৬০টি গ্রাম নিয়ে গঠিত।

   রাজস্ব গ্রামের সংখ্যা: ৭৬৯ টা

   শহরের সংখ্যা: ২ টা

   পৌরসভা বোর্ডের সংখ্যা: ২ (বিশ্বনাথ চারিয়ালি এবং গহপুর)

   বিশ্বনাথ বিধানসভা কেন্দ্রটি- বিশ্বনাথ তেজপুর লোকসভা সমষ্টির অ্ন্তর্গত।

   শিক্ষানুষ্ঠান- আসামের বিশ্বনাথ জেলায় বিভিন্ন ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্বনাথ কলেজ, বিশ্বনাথ কৃষি কলেজ এবং বিশ্বনাথ কলেজ অফ এডুকেশন, বেশ কয়েকটি জুনিয়র কলেজ, সিবিএসই এবং এসইবিএ স্কুল এবং জওহর নবোদয় বিদ্যালয়।

   বিশ্বনাথ কলেজ:-শহরের একটি শীর্ষস্থানীয় কলেজ, যেখানে বিভিন্ন ধরণের স্নাতক প্রোগ্রাম রয়েছে।

   বিশ্বনাথ কলেজ অফ এগ্রিকালচার:- কৃষি শিক্ষা এবং গবেষণার উপর কাজ করে কলেজটি আসাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারা অনুমোদিত।

   বিশ্বনাথ কলেজ অফ এডুকেশন:- NCTE দ্বারা স্বীকৃতপ্রাপ্ত এবং গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারা অনুমোদিত বি.এড এবং ডি.এল.এড কোর্সের শিক্ষা প্রদান করে।

   কলাবাড়ি কলেজ:- বিশ্বনাথ জেলার উচ্চশিক্ষার একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান, গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারা অনুমোদিত।

   অন্যান্য জুনিয়র কলেজ:- ড্যাফনে জুনিয়র কলেজ, জেজেআর জুনিয়র কলেজ, ওরিয়েন্ট ফ্লাওয়ার জুনিয়র কলেজ এবং তরুণ চন্দ্র ভট্টাচার্য মেমোরিয়াল জুনিয়র কলেজ।

   স্কুল:- জওহর নবোদয় বিদ্যালয়: মেধাবী ছাত্রদের জন্য একটি আবাসিক বিদ্যালয়।

   সিবিএসই স্কুল:- মধুপুরে বিশ্বনাথ জ্ঞান ভারতী এবং নবপুরে ইস্ট ইন্ডিয়ান স্কুল।

   প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিশ্বনাথ জেলায় ৯০১টি স্কুল রয়েছে • 

 

                                                        হোজাই জেলা

   হোজাই জেলা ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্ৰশাসনিক জেলা। জেলাটি 15 আগস্ট 2015 এ গঠিত হয়েছেজেলার সদর দপ্তর শঙ্করদেব নগরে অবস্থিত হোজাই শহর থেকে শঙ্করদেব নগর প্রায় 8 (আঠ)কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নগাঁও জেলার তিনটি তহসিল থেকে হোজাই জেলা গঠিত হয়েছে, যথা হোজাই, ডবকা এবং লঙ্কা। হোজাই ছিল তৎকালীন আসাম প্রদেশের অবিভক্ত নগাঁও জেলার অন্তৰ্গত। ভৌগলিক এলাকা: 1685 বর্গ কিলোমিটার।

   31 ডিসেম্বর 2022-এ, জেলাটি অস্থায়ীভাবে নগাঁও জেলায় পুনর্বিন্যস্ত করা হয়েছিলো25 আগস্ট 2023-এ, আসাম মন্ত্রিসভা হোজাইকে পুনরায জেলার মর্যাদা প্রদান করেছে

   হোজাই একটি উপাধি, যা সাধারণত ডিমাসা সম্প্রদায়ের দ্বারা ব্যবহৃত হয়। 'হোজাই' শব্দটি ডিমাসা থেকে উৎপত্তি। ডিমাসাদের পুরোহিত শ্রেণীটি হোজাই বা হোজাইসা নামে পরিচিত এবং তারা যে স্থানটিতে বসবাস করত সেটি হোজাই নামে পরিচিত ছিলোএখনও হোজাই অঞ্চলে ডিমাসাদের একটি উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা রয়েছে এবং তাদের মধ্যে কিছু লোকের উপাধি 'হোজাই'

   ইতিহাস- বর্তমানের হোজাই জেলা এবং এর আশেপাশের অঞ্চলের অধীনে থাকা ভৌগোলিক অঞ্চলটি ডবকা রাজ্য বা কপিলি এবং ট্রিবেগ রাজ্য নামে পরিচিত ছিল। বিভিন্ন সূত্রে এই রাজ্যের উল্লেখ রয়েছে 'ডাবক', 'কপিলি' এবং 'ত্রিবেগ' নামে। খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দী পর্যন্ত এই রাজ্য স্বাধীন ছিলো

   মধ্যযুগীয় ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায় যে, বরাহি পাল রাজবংশের রাজা কাশ্যপের (১৩৬৫-১৪০০) রাজত্বকালে কপিলি-যমুনা উপত্যকায় কাছারি আধিপত্যের এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল। ব্রহ্মপুত্রের উত্তর তীরে অবস্থিত বেহালি অঞ্চলের রাজা ভৌমপালের সাথে কাছারি বংশোদ্ভূত একজন মন্ত্রী বিরোচন রাজার সাথে সংঘর্ষের পর বিরোচন তার রাজ্য ছেড়ে ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণ তীরে এসে কলং নদীর তীরে একটি নতুন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনি তখন 'বিচারপতিফা' নাম ধারণ করেন। শীঘ্রই কাছারি রাজত্ব সমগ্র কপিলী-যমুনা উপত্যকায় সম্প্রসারণ হয় এবং রাজ্যের নাম কাছারিপার নামে পরিচিত হয়।

   আহোম রাজ্যের তীব্র আঞ্চলিক সম্প্রসারণের কারণে কাছারি রাজারা তাদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। কাছারি রাজা তাম্রধ্বজ নারায়ণের শাসনামলে কাছারি শাসিত অঞ্চলগুলি স্বর্গদেও গদাধর সিংহের অধীনে আহোমদের হাতে চলে যায়।

   আধুনিক যুগে সিলেট পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পর হোজাইতে সিলেটী হিন্দু শরণার্থীদের আগমন ঘটেছে

   জনসংখ্যা- ২০১১ সালের ভারতীয় আদমশুমারি অনুসারে  নবগঠিত হোজাই জেলার তিনটি তহসিলের জনসংখ্যা ছিল ৯৩১,২১৮, যার মধ্যে ১৭২,৩৫০ জন (১৮.৫১%) শহরাঞ্চলে বাস করে। হোজাইয়ের লিঙ্গ অনুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৫৪ জন মহিলা। তফসিলি জাতি এবং উপজাতির সংখ্যা যথাক্রমে ১০৯,৪৩৭ (১১.৭৫%) এবং ২৮,৭৩১ (৩.০৯%)।

   হোজাই জেলার ধর্মের শতাংশ (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   ইসলাম- 53.65%

   হিন্দুধর্ম- 45.53%

   খ্রিস্টধর্ম- 0.55%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখিত নয়- 0.27%

   জনসংখ্যার মধ্যে, 499,565 জন মুসলিম এবং 424,065 জন হিন্দু, যা জেলার জনসংখ্যার যথাক্রমে 53.65% এবং 45.53%জেলাটিতে খ্রিস্টান 5,081 জন।

   হোজাই জেলার ভাষা (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   বাংলা- (৫২.৬৭%)

   অসমিয়া- (৩৩.৭২%)

   হিন্দি- (৪.৩১%)

   মেইতেই- (১.৯১%)

   দিমাসা- (১.৩১%)

   ভোজপুরী- (১.২১%)

   অন্যান্য- (৪.৮৭%)

   অসমিয়া এবং মেইতেই (মণিপুরী) জেলার সরকারি ভাষা।

   রাজনীতি- হোজাই জেলায় তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। কেন্দ্র কয়টি হলো- যমুনামুখ, হোজাই এবং লামডিং। হোজাই জেলা নগাঁও লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত

   আসামের হোজাই জেলা ৩ টি রাজস্ব বৃত্ত (সাৰ্কেল) রয়েছে: হোজাই, লঙ্কা এবং ডবকা।

   উন্নয়ন ব্লক: বিন্নাকান্দি, উদালী, জুগিজান, লামডিং এবং ধলপুখুরি

   রাজস্ব গ্রাম: 362 টি

   হোজাই জেলা পঞ্চায়েতে মোট ৬৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে।

   জাস্টডায়ালের মতে, আসামের হোজাই জেলায় স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

   স্কুল:- জাস্টডায়ালের মতে হোজাইতে ২০+ স্কুলে রয়েছে, যার মধ্যে সিবিএসই স্কুল এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

   কলেজ:- হোজাই কলেজ, লামডিং কলেজ এবং লঙ্কা মহাবিদ্যালয় জেলার কলেজগুলির মধ্যে অন্যতম

   বিশ্ববিদ্যালয়:- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয় হোজাইতে অবস্থিত।

   অন্যান্য প্রতিষ্ঠান:-নাজির আজমল মেমোরিয়াল কলেজ অফ এডুকেশন সহ আরও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে জেলাটিতে

   আজমল ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠান:-আজমল ফাউন্ডেশন হোজাইতে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছে, যার মধ্যে রয়েছে আজমল কলেজ অফ আর্টস, কমার্স অ্যান্ড সায়েন্স এবং আজমল ল কলেজ। (আজমল ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট অনুসারে) • 

 

                                                         বজালি জেলা

          বজালি জেলা ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের নেতৃত্বে আসাম মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তমর্মে ১০ আগস্ট ২০২০ তারিখে বরপেটা জেলা থেকে বিভক্ত করে বজালিকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসাবে অনুমোদন করেছে ১২ জানুয়ারী ২০২১ তারিখে বজালিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিলো৩১ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে  জেলাটি আবার বরপেটা জেলার সাথে যুক্ত করা হয়েছ্লো যাইহোক, ২৫ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে  আসাম মন্ত্রিসভা বজালি জেলাকে আবার জেলার মর্যদা প্রদানের কথা ঘোষণা করেছে এবং ১২ অক্টোবর বজালিকে আবার স্বতন্ত্র জেলার মর্যদা প্রদান করা হয়েছে

   বজালি জেলা জলাহ এবং সরুপেটা রাজস্ব সার্কেলের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছেদলর পর হল বজালি জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্রাম এবং পাঠশালা জেলার প্রধান শহর ও জেলার সদর দপ্তরশিক্ষিতে হার ৮৮.১৮%

   ধর্ম অনুসারে বজালি জেলার শতকরা জনসংখ্যা(২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   হিন্দুধর্ম- ৬৭.৯০%

   ইসলাম- ৩১.৯১%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখ না করা-০.১৯%

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে বজালি জেলার জনসংখ্যা ২,৫৩,৮৭৬ জন, যার মধ্যে ১১,২৪২ জন (৪.৪৩%) শহরাঞ্চলে বাস করে। বজালি জেলার লিঙ্গ অনুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৭৮ জন মহিলা। তফসিলি জাতি (বিশেষ করে কৈবর্ত-জলকেওট সম্প্রদায়) এবং তফসিলি উপজাতি (বিশেষ করে বড়ো সম্প্রদায়)জনসংখ্যার যথাক্রমে ১৯,১৯২ (৭.৫৬%) এবং ১১,৪৮৬ (৪.৫২%)।

   সার্কেল অনুসারে শতকরা ধর্মীয় জনসংখ্যা(২০১১)সাল অনুসারে-

       রাজস্ব সার্কেল  হিন্দু     মুসলিম      অন্যান্য

   বজালি (পঞ্চম)- ৯৪.৫১    ৫.৩৪        ০.১৫

   সরুপেটা (পঞ্চম)-৪৩.৮৯  ৫৫.৯২        ০.১৯

   লা (পঞ্চম)- ৮৬.৩২   ১৩.৫৪       ০.১৪

   ২০১১ সালের আদমশুমারির প্রতিবেদন অনুসারে জেলার ধর্মীয় গঠন নিম্নরূপ: হিন্দু ১৭২,৩৮৮ জন  মুসলিম ৮১,০০৩জন এবং অন্যান্য ৪৮৫ জন

   বজালি জেলার ভাষা (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   অসমীয়া (৭৪.৪৮%)

   বাঙালি (২০.৯%)

   বড়ো (৪.২৮%)

   অন্যান্য (০.৩৪%)

   জনসংখ্যার ১৮৯,০৭৫ জন অসমীয়া, ৫৩,০৫২ জন বাংলাভাষী, ১০,৮৭৭ জন বড়ো এবং ০.৩৬% জন অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষায় কথা বলে।

   আসামের বাজালি জেলায় মোট ৩১টি গ্রাম পঞ্চায়েত (গ্রাম পঞ্চায়েত) রয়েছে।

   পঞ্চায়েত সমিতি: বজালি জেলায় 2 টি পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে।

   গ্রাম পঞ্চায়েত: বজালি জেলা পঞ্চায়েতের অধিক্ষেত্রের অধীনে ৩১ টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে।

   গ্রাম: বজালি জেলা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের অধীনে ২০৬ টি গ্রাম রয়েছে।

   বরপেটা জেলা থেকে গঠিত বজালি জেলার জনসংখ্যা ২০১১ সালে ৩,২৪,৭৩৯ জন ছিল, প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ৭৬৮ জন এবং সাক্ষরতার হার ৮৮.১৮%।

   ২০১১ সালের আদমশুমারির উপর ভিত্তি করে বজালি জেলার জনসংখ্যা এবং বৈশিষ্ট্যগুলির আরও বিশদ বিবরণ এখানে দেওয়া হল:

   মোট জনসংখ্যা: ৩২৪,৭৩৯

   জনসংখ্যার ঘনত্ব: প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৭৬৮ জন

   সাক্ষরতার হার: ৮৮.১৮%

   লিঙ্গ অনুপাত: প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ১০০২ জন মহিলা

      তফসিলি জাতি: জনসংখ্যার ৬.৪৯%

   তফসিলি উপজাতি: জনসংখ্যার ২.৭৮%

   শহুরে জনসংখ্যা: ২৩,৫০১ (আনুমানিক)

   আয়তন: ৪২২.৯৫ বর্গকিলোমিটার

   রাজস্ব গ্রাম: ২১২

   পঞ্চায়েত: ৩১

   সদর দপ্তর: বজালি

   উপ-বিভাগ: ১

   রাজস্ব বৃত্ত:

   উন্নয়ন ব্লক:

   বিধান সভা সমষ্টি-নির্বাচনী এলাকা ৪১ ভবানীপুর, ৪২ পাটাছারকুচি

   বিভাগ: নিম্ন আসাম

   বজালি জেলার অর্থনীতি কৃষির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, বিশেষ করে মানস জাতীয় উদ্যানের কাছাকাছি থাকার কারণে বনায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ গৌণ ভূমিকা পালন করে।

   আরও বিস্তারিত বিবরণ এখানে দেওয়া হল:

   ১. কৃষি:-অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি: জেলার জনসংখ্যার প্রায় ৭০% কৃষির উপর নির্ভরশীল। জেলার মাটি এবং জলবায়ু কৃষিকাজের জন্য উপযুক্ত। প্রধান ফসল: জেলাটিতে ধান, গম, ভুট্টা, পাট, আলু এবং বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করা হয়।বজালি উচ্চমানের ধানের জন্য পরিচিত, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং তার বাইরের মানুষের জন্য একটি প্রধান খাদ্য।

   ২. বনায়ন:-বনায়ন জেলাটির গুরুত্বপূর্ণ গৌণ আয়ের উৎস, বিশেষ করে মানস জাতীয় উদ্যানের কাছাকাছি থাকার কারণে। জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ঘর তৈরির জন্য কাঠ, বাঁশ এবং অন্যান্য উপকরণের জন্য বনের উপর নির্ভর করে।বনগুলি বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা সহ সাধারণত চিরসবুজ

   ৩. অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড:

   ক্ষুদ্র শিল্প:-বজালিতে কাঠের কাজ, খেলনা তৈরি, পিতলের পণ্য এবং সোনার অলঙ্কার তৈরির কিছু ক্ষুদ্র শিল্প রয়েছে।

   দুগ্ধ চাষ:- দুগ্ধ খামারগুলি আয় এবং কর্মসংস্থানের একটি উৎস, যার ফলে দুধ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে

   পরিবহন:- বজালি রেলপথ এবং সড়ক পথ দ্বারা আসাম ও ভারতের অন্যান্য রাজ্যের সাথে সুসংযুক্ত, যার মধ্যে ৩১নং জাতীয় মহাসড়ক এবং ১২৯ নং রাজ্য মহাসড়ক যেছে

   মানস জাতীয় উদ্যান:-পার্কটি একটি প্রধান পর্যটন আকর্ষণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে যথেষ্ট অবদান রেখে চলেছে

   অনগ্রসর অঞ্চল অনুদান তহবিল কর্মসূচি:-বজালিকে ২০০৬ সালে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলাগুলির একটি হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং অনগ্রসর অঞ্চল অনুদান তহবিল কর্মসূচি (BRGF) থেকে অনুদান পাচ্ছে

   শিক্ষানুষ্ঠান- আসামের বজালি জেলায় ভট্টদেব বিশ্ববিদ্যালয়, ডিগ্রি কলেজ, জুনিয়র কলেজ এবং বিভিন্ন স্কুলসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে পাঠশালা আসামের শিক্ষা নগরী হিসাবে জনাজাত

   এখানে শিক্ষানুষ্ঠানের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হল:

   উচ্চশিক্ষা:-ভট্টদেব বিশ্ববিদ্যালয়পাঠশালায় অবস্থিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ববর্তী বজালি কলেজ থেকে উন্নীত করা হয়েছে

      কলেজ: উত্তর কামরূপ কলেজ, বিজনি হস্তিনাপুর ভবানীপুর কলেজ,নির্মল হালোই কলেজ, ভবানীপুর আঞ্চলিক কলেজ, আনন্দরাম বরুয়া ডিগ্রি কলেজ, পাঠশালা মহাবিদ্যালয়,মধ্য বজালি জুনিয়র কলেজ, কৃষ্ণকান্ত হান্ডিক জুনিয়র এবং ডিগ্রি কলেজ • 

 

                                                           তামোলপুর জেলা

          তামুলপুর জেলা ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির একটি আসামের বড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অঞ্চলের একটি প্রশাসনিক জেলা। প্রশাসনিক সদর দপ্তর তামুলপুরে অবস্থিত।২০২১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে আসামের মন্ত্রিসভা তামুলপুরকে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসাবে গঠন করার প্রস্তাব অনুমোদন করেন এবং ২৩ জানুয়ারী ২০২২ তারিখে তামুলপুর জেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসাবে ঘোষণা করা করা হয়।

   ৩০ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে, আসাম সরকার এটিকে বাকসা জেলার সাথে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলোফলে ১ জানুয়ারী ২০২৩ সাল থেকে জেলাটির অস্তিত্ব বন্ধ হয়ে যায়। রাজ্যে সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়ার আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যাইহোক, ২৫ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে সরকার তামুলপুর এবং গোরেশ্বর বিধানসভা এলেকার অঞ্চলগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে জেলাটি পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে

   জনসংখ্যার তথ্য- ২০১১ সালের আদমশুমারির অনুসারে, তামুলপুর জেলার জনসংখ্যা ছিল ৩৮৯,১৫০ জন, যার মধ্যে ৫,৬৩১ জন (১.৪৫%) শহরাঞ্চলে বাস করে। তামুলপুর জেলার লিঙ্গ অনুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৭০ জন মহিলা। তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতি জনসংখ্যার যথাক্রমে ৪২,২৪৬ জন (১০.৮৬%) এবং ১২১,৩২১ জন (৩১.১৭%)।

   ধর্ম অনুপাতে তামুলপুর জেলার শতকরা জনসংখ্যা(২০১১)অনুসারে-

   হিন্দুধর্ম- ৮৩.৩৬%

   ইসলাম- ১২.৯৭%

   খ্রিস্টধর্ম- ৩.২২%

   অন্যান্য বা ধর্ম উল্লেখ না করা-০.৪৫%

   হিন্দুধর্মের লোক ৩২৪,৩৯৬ জন (৮৩.৩৬%) এবং এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্ম। মুসলিম ৫০,৪৮৬ (১২.৯৭%) এবং খ্রিস্টান ১২,৫৩৩ (৩.২২%)।

   তামুলপুর জেলার ভাষা (২০১১) সালের আদমশুমারি অনুসারে-

   অসমীয়া (৩৬.৯৬%)

   বড়ো (২৫.৪%)

   বাঙালি (২২.৩৩%)

   নেপালি (৫.১৮%)

   সাঁওতালি (৪.৬৭%)

   সাদ্রি (০.৯৬%)

   রাজবংশী (০.৯৩%)

   অন্যান্য (৩.৫৭%)

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে জনসংখ্যার ৩৬.৯৬% অসমীয়া, ২৫.৪০% বড়ো, ২২.৩৩% বাংলা, ৫.১৮% নেপালি এবং ৪.৬৭% সাঁওতালি, ০.৯৬% সাদ্রি এবং ০.৯৩% রাজবংশী।

   তামুলপুর জেলায় ৩টি মহকুমা রয়েছে। এই মহকুমাগুলি হল- মুষলপুর, শালবাড়ি এবং তামুলপুর। এই মহকুমাগুলিকে আরও ১৩টি রাজস্ব সার্কেলে বিভক্ত করা হয়েছে- বাক্সা, বড়মা, তামুলপুর, গোরেশ্বর, বাঘমারা, ঘগরাপাড়, বরনগর, বজালি, জালাহ, পাথরিঘাট, রঙ্গিয়া, সরুপেটা এবং টিহু।

   তামুলপুর জেলায় বর্তমানে ৩টি উন্নয়ন ব্লক রয়েছে- তামুলপুর, নাগরিজুলি এবং গোরেশ্বর।

   আসামের তামুলপুর জেলায় ১০২টি গাঁও পঞ্চায়েত রয়েছে। এই গাঁও পঞ্চায়েতগুলি আসামের বৃহত্তর পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের কার্যক্রমের অংশ।

   আসামের নবগঠিত তামুলপুর জেলায় ৬৮৭টি গ্রাম রয়েছে।

   ভৌগোলিক এলাকা: তামুলপুরের ভৌগোলিক এলাকা ২৪০০ বর্গকিলোমিটার (প্রায়)।

   অন্যান্য তথ্য: জেলায় ১০টি আউট পোস্ট এবং ৪টি পেট্রোল পোস্ট রয়েছে।

   শিক্ষানুষ্ঠান- আসামের তামুলপুর জেলায় তামুলপুর কলেজ, এনআরডিএস জুনিয়র কলেজ এবং তামুলপুর কমার্স কলেজ সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তামুলপুর কলেজ, একটি সহ-শিক্ষামূলক অ-প্রাদেশিকৃত প্রতিষ্ঠান, ১৯৮৪ সাল থেকে এই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা প্রদান করে আসছে। এটি কলা স্নাতক এবং কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ডিগ্রি প্রদান করে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে তামুলপুর ডিগ্রি কলেজ এবং কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় তামুলপুর। • 

 

                                                                          হাইলাকান্দি জেলা

   হাইলাকান্দি জেলা উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম রাজ্যের ৩৫টি প্ৰশাসনিক জেলার মধ্যে একটি। জেলাটি কাছাড় এবং করিমগঞ্জের পাশাপাশি বরাক উপত্যকা নিয়ে গঠিত। ১৮৬৯ সালের ১ জুন এটি একটি বেসামরিক মহকুমা হিসেবে গঠিত হয়েছিলোপরবর্তীকালে, ১৯৮৯ সালে কাছাড় জেলা থেকে বিভক্ত করে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত করা হয়েছে

   ইতিহাস- ১৮৬৯ সালের ১ জুন এটি একটি বেসামরিক মহকুমা হিসেবে গঠিত হয়েছিলোপরবর্তীকালে ১৯৮৯ সালে এটিকে জেলায় উন্নীত করা হয়েছেকিছু পণ্ডিতের মতে, "হাইলাকান্দি" নামটি সিলেটি শব্দ "হাইলাকুন্ডি" থেকে এসেছে। হাইলাকান্দির পরবর্তী ইতিহাস আব্দুল মতলিব মজুমদার (১৮৯০-১৯৮০), প্রয়াত নগেন্দ্রনাথ চৌধুরী, প্রয়াত (ক্যাপ্টেন) মন্মথ চৌধুরী, প্রয়াত (ক্যাপ্টেন) সুবোধ কুমার দত্ত এবং প্রয়াত সুনীল চক্রবর্তী, যারা পূর্ববর্তী মহকুমায় স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। নগেন্দ্রনাথ চৌধুরী একজন বিশিষ্ট কংগ্রেস-নেতা ছিলেন; পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু ১৯৩৯ সালে হাইলাকান্দি সফরের সময় তাঁর বাড়িতে তাঁর সাথে দেখা করেছিলেন। তাঁর ভাই মন্মথ চৌধুরী সুভাষ চন্দ্র বোস কর্তৃক গঠিত আজাদ হিন্দ ফৌজের একজন ক্যাপ্টেন ছিলেন। ১৯৪৬ সালে, যখন ভারত ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল, জনাব আব্দুল মতলিব মজুমদার আসামের একজন এমএলএ এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রী ছিলেন।তিনি পূর্ব ভারতের অন্যতম বিশিষ্ট মুসলিম নেতা ছিলেন, যারা হিন্দু-মুসলিম ঐক্যকে সমর্থন করেছিলেন এবং সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে ভারত ভাগের বিরোধিতা করেছিলেন। ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ (যিনি পরে ভারতের ৫ম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন) এর সাথে মিলে মজুমদার পাকিস্তান নামে একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র দাবির ক্ষেত্ৰে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম বিরোধী হয়ে ওঠেছিলেন, বিশেষ করে দেশের পূর্বাঞ্চলে। মজুমদার ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ১৯২৪ সালে কলকাতা থেকে বি.এল. ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তিনি ১৯২৫ সালে হাইলাকান্দি বারে আইন অনুশীলন শুরু করেছিলেন। তিনি একজন আইনজীবী হিসেবে হাইলাকান্দির জনগণের সেবায় খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তৎকালীন সরকার তাকে ম্যাজিস্ট্রেট পদ প্রদান করেছিলো যদিও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।তিনি ১৯২৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন। তিনি ১৯৩৭ সালে হাইলাকান্দি কংগ্রেস কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর প্রথম সভাপতি হন। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু এবং পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু ১৯৩৯ সালে মজুমদারের আমন্ত্রণে হাইলাকান্দি সফর করেন এবং দক্ষিণ আসামে কংগ্রেস দলকে শক্তিশালী করেন। নেতাজিই এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী মুসলমানদের প্রস্তুত করার জন্য মৌলানা আবুল কালাম আজাদ এবং মতলিব মজুমদারের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের সূচনা করেছিলেন।মজুমদার ১৯৩৯ সালে হাইলাকান্দি শহরের প্রথম চেয়ারম্যান হন এবং ১৯৪৫ সালে তিনি হাইলাকান্দির স্থানীয় বোর্ডের প্রথম ভারতীয় চেয়ারম্যান হন, এই পদটি সর্বদা ইউরোপীয় চা চাষীদের দ্বারা অধিষ্ঠিত ছিল।

   ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ ভারতের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে তার শক্তি প্রমাণ করে। মুসলিম লীগের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা মোকাবেলায়, তিনি আসামে জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দ আন্দোলনকে সফলভাবে সংগঠিত করেন। জমিয়ত ছিল কংগ্রেসের একটি মিত্রদল ভারতীয় জাতীয়তাবাদী মুসলমানদের মধ্যে জমিয়তের ব্যাপক সমর্থক ছিল। ভারতের স্বাধীনতার ঠিক প্রাক্কালে ১৯৪৬ সালের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনে, তিনি মুসলিম লীগের হাত থেকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হাইলাকান্দি আসনটি ছিনিয়ে নেন। এই জয় মুসলিম লীগের দক্ষিণ আসামকে পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করার আশা এবং আকাঙ্ক্ষাকে কার্যত ধূলিস্যা করে দেয়। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, সেই নির্বাচনে, ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ (পরবর্তী বছরগুলিতে ভারতের ৫ম রাষ্ট্রপতি) সহ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মুসলিম মনোনীত প্রার্থীদের বেশিরভাগই মুসলিম লীগের প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিলেন।

   আসামের সুরমা উপত্যকায় (বর্তমানে আংশিকভাবে বাংলাদেশে)মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল। দেশভাগের প্রাক্কালে, মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেস উভয়ই তীব্র তৎপরতা বৃদ্ধি করে, যেখানে কংগ্রেসের অগ্রাধিকার ছিল। সিলেট জেলার (বর্তমানে বাংলাদেশে) জন্য একটি গণভোটের প্রস্তাব করা হয়েছিল। মজুমদার, বসন্ত কুমার দাস (তৎকালীন আসামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) এর সাথে উপত্যকা জুড়ে ভ্রমণ করেছিলেন এবং ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের পরিণতি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার জন্য সভাগুলিতে ভাষণ প্রদান করেছিলেন। ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মৌলভী মজুমদার শিলচরে একটি সম্মেলন -আসাম জাতীয়তাবাদী মুসলিম সম্মেলন - উদ্বোধন করেছিলেন। এরপর ৮ জুন ১৯৪৭ সালে শিলচরে আরেকটি বড় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় সভা, যেখানে মুসলমানদের একটি বিশাল অংশ উপস্থিত ছিল। আসামের বরাক উপত্যকা অঞ্চল ভারতের সাথে রাখার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছিলেন।মজুমদার সেই প্রতিনিধি দলের নেতা ছিলেন যারা র‍্যাডক্লিফ কমিশনের কাছে আবেদন করেছিলেন, যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ (বর্তমান করিমগঞ্জ জেলা) হওয়া সত্ত্বেও সিলেটের (বর্তমানে বাংলাদেশে) একটি অংশ ভারতের সাথে থাকতে চায়।

   মৌলভী মজুমদার ১৯৪৬ সালে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন, কৃষি এবং পশুচিকিৎসা মন্ত্রি হিসাবে যোগদান করেন। ১৯৪৭ সালে, ভারত ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়, যখন মজুমদার আবার গোপীনাথ বরদলৈর মন্ত্রিসভায় একই বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন একমাত্র মুসলিম মন্ত্রী হিসেবে (মৌলানা তৈয়বুল্লাহ ১৯৪৮ সালে অন্তর্ভুক্ত হন) এবং সমগ্র বরাক উপত্যকা অঞ্চলের একমাত্র সদস্য হিসেবে। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত ভাগ এবং স্বাধীনতার পর সমগ্র পূর্ব ভারত সহিংসতায় প্লাবিত হয়, নবনির্মিত পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) থেকে বহু হিন্দু পালিয়ে ভারতে চলে আসেন এবং মুসলিমরা আসাম থেকে পূর্ব পাকিস্তানে পালিয়ে যান। সহিংসতার কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারান, যা ১৯৫০ সালে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মন্ত্রিসভা একমাত্র মুসলিম মন্ত্রী মজুমদার তার মন্ত্রিসভা এবং দলীয় সহকর্মীদের সাথে হাইলাকান্দিতে হিন্দু ও মুসলিম উভয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং শরণার্থীদের জন্য শিবির ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।

   মৌলভী মজুমদার ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত বিষ্ণুরাম মেধির মন্ত্রিসভায় ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।তাঁর শেষ নির্বাচন ছিল ১৯৬৭ সালে, যখন ৭৭ বছর বয়সে, মজুমদার আসাম বিধানসভায় বিজয়ী হন। এরপর তিনি বিমলা প্রসাদ চালিহার মন্ত্রিসভায় আইন, সমাজকল্যাণ এবং রাজনৈতিক দুর্যোগ বিষয়ক মন্ত্রী হন। আইনমন্ত্রী হিসেবে তিনি জেলা পর্যায়ে নির্বাহী ও বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সূচনা করেন। ১৯৭০-৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার শরণার্থীর ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি আসাম মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান; রাজ্য হজ কমিটির চেয়ারম্যান এবং আসাম আইনসভার প্রোটেম স্পিকার (১৯৬৭ সালে) ছিলেন। তিনি গুয়াহাটিতে হজ হাউস [হাজি মুসাফির খানা] স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে, তিনি ধর্মতাত্ত্বিক স্কুলগুলির আধুনিকীকরণ শুরু করেন এবং আসামের মাদ্রাসাগুলির পাঠ্যক্রমে ইংরেজি এবং বিজ্ঞান প্রবর্তনের ব্যবস্থা করেনহাইলাকান্দিতে উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন মূল ব্যক্তি।

   হাইলাকান্দির আরেকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন প্রয়াত রাজ মোহন নাথ, একজন প্রখ্যাত প্রকৌশলী, যিনি ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে অনেক বই লিখেছেন। তাঁর একটি বই ছিল শিবপুর (পশ্চিমবঙ্গ)এর বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পাঠ্যপুস্তক। আজকের "আসাম-ধরণের বাড়ি" সম্পূর্ণরূপে তাঁর ধারণা যা ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। মস্কোর একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে রাজ মোহন নাথ-এর নামে।

   হাইলাকান্দি বিমানবন্দর হল ভারতের একটি প্রাক্তন যুদ্ধকালীন মার্কিন সেনাবাহিনীর বিমান ঘাঁটি, যা ১৯৪৪-১৯৪৫ সালে বার্মা অভিযানের সময় ব্যবহৃত হয়েছিল। এটি এখন পরিত্যক্ত। হাইলাকান্দি ভারতের আসাম রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা।

          ভূগোল- হাইলাকান্দি জেলার আয়তন ১,৩২৭ বর্গকিলোমিটার (৫১২ বর্গমাইল),যা তুলনামূলকভাবে ইরানের কেশম দ্বীপের সমান। এই এলেকায় আবার ৫০% এরও বেশি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। হাইলাকান্দি জেলায় মোট দুটি সংরক্ষিত বন রয়েছে, যথা ইনার লাইন রিজার্ভ ফরেস্ট এবং কাটাখাল রিজার্ভ ফরেস্ট। জেলার দক্ষিণে মিজোরামের সাথে আন্তঃরাজ্য সীমানা রয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ৭৬ কিমি এবং করিমগঞ্জ জেলা এবং কাছাড় জেলার সাথে আন্তঃজেলা সীমানা রয়েছে। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, জেলার জনসংখ্যা ছিলো ৫৪২৯৭৮ জন। জেলাটিতে দুটি বিজ্ঞপ্তিকৃত শহর রয়েছে যেমন হাইলাকান্দি (জেলা সদর দপ্তর) এবং লালা নামক একটি শিল্প শহর রয়েছে। পঞ্চগ্রাম পৌর বোর্ড হাইলাকান্দি শহর পরিচালনা করে এবং শহর কমিটি লালা পরিচালনা করে।

   জেলাটির পাঁচটি উন্নয়ন খণ্ড রয়েছে, যেমন আলগাপুর, হাইলাকান্দি, লালা, কাটলিচেরা এবং দক্ষিণ হাইলাকান্দি উন্নয়ন ব্লক। এই ৫টি উন্নয়ন খণ্ডকে কেন্দ্র করে হাইলাকান্দি মহকুমা পরিষদ নামে একটি মহকুমা পরিষদ রয়েছে। এই পাঁচটি উন্নয়ন খণ্ডের অধীনে মোট ৬২টি গাঁও পঞ্চায়েত রয়েছে।

   জেলাটি চারটি রাজস্ব সার্কেলে বিভক্ত, যার মধ্যে মোট ৩৯৩টি গ্রাম (২৭টি বন গ্রাম সহ) রয়েছে। জেলার প্রায় অর্ধেক বনভূমি। বাকি অর্ধেকের মধ্যে ৩৩.২% চাষাবাদাধীন। ধানই প্রধান ফসল। জেলায় ১৭ টি চা বাগান রয়েছে। জেলায় ৪টি থানা, ২টি পুলিশ ফাঁড়ি(আউটপোষ্ট), ২টি কলেজ, ৪৩টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৪৭টি উচ্চ বিদ্যালয়, ২৪৭টি এম, ই ও এমভি বিদ্যালয় এবং ৯৩৭ টি প্রাইমারী বিদ্যালয় রয়েছে।

   হাইলাকান্দি জেলার বন একসময় বন্যপ্রাণীতে সমৃদ্ধ ছিল, কিন্তু এখন মানুষের আক্রমণের কারণে বন্যপ্রাণী বিলুপ্তপ্রায়বনগুলোতে পাওয়া বিরল প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে রয়েছে, হুলক গিবন, ফায়ারের পাতার বানর, পিগ-টেইলড ম্যাকাক, সাদা ডানাওয়ালা কাঠের হাঁস, বেগুনি কাঠের পায়রা ইত্যাদি। বনভূমির দক্ষিণ অংশটিকে 'ধলেশ্বরী' বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল।

   অর্থনীতি- ভারত সরকার ২০০৬ সালে হাইলাকান্দিকে ভারতের মোট ৬৪০টি জেলার মধ্যে ২৫০টি সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলার একটি হিসেবে ঘোষণা করেছে জেলাটি আসামের অনগ্রসর এগারোটি জেলার মধ্যে একটি, যারা বর্তমানে অনগ্রসর অঞ্চল অনুদান তহবিল কর্মসূচি (BRGF) থেকে অনুদান পাচ্ছে।

   বিভাগ- জেলাটিতে তিনটি আসাম বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা রয়েছে: হাইলাকান্দি, কাটলিচেরা এবং আলগাপুর।পুরো জেলাটি করিমগঞ্জ লোকসভা নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত।

   ঐতিহাসিক জনসংখ্যা 2011 সালের আদমুমারি অনুসারে-

   ১৯০১- ১১২,৮৯৭

   ১৯১১- ১৩১,০৬০ +১.৫০%

   ১৯২১- ১৪১,০১২ +০.৭৩%

   ১৯৩১- ১৫০,৯৯২ +০.৬৯%

   ১৯৪১- ১৬৬,৫৩৬ +০.৯৮%

   ১৯৫১- ১৯৫,৬৫০ +১.৬২%

   ১৯৬১- ২৪৮,৯২৭ +২.৪৪%

   ১৯৭১- ৩০৭,৬৯৫ +২.১৪%

   ১৯৯১- ৪৪৯,০৪৮ +১.৯১%

   ২০০১- ৫৪২,৮৭২ +১.৯২%

   ২০১১- ৬৫৯,২৯৬ +১.৯৬%

   হাইলাকান্দি জেলায়(২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে ধর্মের শতকরা হার

   ইসলাম-60.31%

   হিন্দুধর্ম-38.10%

   খ্রিস্টধর্ম-1.29%

   অন্যান্য বা উল্লেখ না করা- 0.30%

   ধর্ম অনুসারে সার্কেলের জনসংখ্যা

   সার্কেল -   মুসলিম  হিন্দু  খ্রিস্টান  অন্যান্য

   আলগাপুর-  67.66 31.72 0.28  0.34

   হাইলাকান্দি- 71.08 28.28 0.44  0.2

   কাটলিছড়া- 50.00 47.01 2.58  0.41

   লালা-     55.61 42.61 1.51   0.27

   ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, হাইলাকান্দি জেলার জনসংখ্যা 659,296 জন। জেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৯৭ জন (১,২৯০/বর্গমাইল)। হাইলাকান্দিতে প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৪৬ জন মহিলাজনসংখ্যার ৭.৩০% শহরাঞ্চলে বাস করে। তফসিলি জাতি এবং উপজাতির জনসংখ্যা যথাক্রমে ৭০,৬৫৯ (১০.৭২%) এবং ৬৯১ (০.১০%)।

   ২০১১ সালের আদমশুমারির হিসেবে ৪০৭,৩৬৬ জন শিক্ষিত ছিল, যার ফলে এখানে অসম্পূর্ণ সাক্ষরতার হার ৬১.৮% এবং কার্যকর সাক্ষরতার হার ৭৪.৩%। ২০১১ সালের হিসাবে জেলাটিতে ১৪৩,৩৫০টি পরিবার ছিল

      হাইলাকান্দি জেলার (২০১১)সালের আদমশুমারি অনুসারে শতকরা ভাষীর সংখ্যা

   বাংলা-    (৮৪.৬৪%)

   হিন্দি-     (৭.৭৪%)

   কোকবরক- (২.১১%)

   মণিপুরী-   (১.৯২%)

   ভোজপুরী-  (১.৬৫%)

   অন্যান্য-   (১.৯৪%)

   বাংলা এবং মেইতেই (মণিপুরী) এই জেলার সরকারী ভাষা।যদিও বাংলা সরকারী ভাষা, তবে সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা হল সিলেটি, যা বাংলার সাথে একটি উপভাষা হিসেবে গোষ্ঠীভুক্ত। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, জনসংখ্যার বেশিরভাগই বাংলাভাষা (৮৪.৬৪%), হিন্দিভাষী (৭.৭৪%), তিপ্রাসা কাছারি (২.১১%), মণিপুরী (১.৯২%), ডিমাসা কাছারি (১.৮১%) এবং ভোজপুরী (১.৬৫%) ভাষায় কথা বলে।

   সিলেটি বাঙালিরা জেলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ, তবে জেলায় বিভিন্ন সম্প্রদায় ও জনগোষ্ঠী রয়েছেএখানে ডিমাসা কাছারি, রিয়াং কাছারি, মেইতেই, বিষ্ণুপ্রিয়া, কুকি, হ্রাংখোল, চাকমা এবং পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত অভিবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে।

   জেলা থেকে প্রকাশিত ম্যাগাজিন-

   প্রবাহ লিটল ম্যাগাজিন; আশীষ নাথ সম্পাদিত

   দৃঢ়বন্ধন ই ম্যাগাজিন; পম্পা গুহ ঠাকুরতা সম্পাদিত

   সাঁকো; সুশান্ত মোহন চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত

   সাহিত্য; বিজিতকুমার ভট্টাচার্য সম্পাদিত

   শিক্ষানুষ্ঠান- আসামের হাইলাকান্দি জেলায় স্কুল, কলেজ এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিছু উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এস. কে. রায় কলেজ, শ্রীকিষণ সারদা কলেজ, হাইলাকান্দি, জুনিয়র সায়েন্স কলেজ এবং পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় সরকারি মডেল কলেজ। জেলায় বিভিন্ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ভাষা শিক্ষার ইনস্টিটিউটও রয়েছে।

   স্কুল:- গ্লোবাল পাবলিক সেন্ট্রাল স্কুল: একটি সিবিএসই স্কুল, জওহর নবোদয় বিদ্যালয়,সেন্ট মেরি স্কুল, ব্লু ফ্লাওয়ার্স স্কুল(একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল)

   কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়: কেন্দ্রীয় সরকারি স্কুল।

      কলেজ:- এস. কে. রায় কলেজ: দূরশিক্ষা অধ্যয়ন কেন্দ্র সহ একটি সুপ্রতিষ্ঠিত কলেজ।

      শ্রীকিষণ সারদা কলেজ: হাইলাকান্দির প্রাচীনতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি।

   হাইলাকান্দি জুনিয়র সায়েন্স কলেজ: বিজ্ঞান শিক্ষার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।

   মঈনুল হক চৌধুরী মেমোরিয়াল সায়েন্স কলেজ: আলগাপুরে একটি বিজ্ঞান কলেজ।

   পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় সরকারি স্কুল- মডেল কলেজ: একটি নতুন প্রতিষ্ঠিত সরকারি কলেজ।

   বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান:কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্স প্রদানকারী বিভিন্ন কেন্দ্র।

   ভাষা প্রতিষ্ঠান: কথ্য ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এমন প্রতিষ্ঠান।

সংক্ষিপ্ত আসাম প্ৰফাইল-

   আসাম, ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত একটি রাজ্য - সাতটি রাজ্যের সীমানা - অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গ এবং দুটি দেশ - ভুটান এবং বাংলাদেশ। রাজ্যের ভৌগোলিক আয়তন ৭৮,৪৩৮ বর্গকিলোমিটার। যার মধ্যে ৯৮.৪ শতাংশ এলাকা গ্রামীণ। প্রশাসনিক ও রাজস্বের জন্য, রাজ্যে বর্তমানে ৩৫টি জেলা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্বনাথ, চরাইদেও, হোজাই, দক্ষিণ সালমারা, পশ্চিম কার্বি-আংলং, মাজুলি, বাজালি এবং তামুলপুর নামে ছয়টি নতুন জেলা। সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়ার কারণে আসামের চারটি জেলা - বিশ্বনাথ, হোজাই, বজালি এবং তামুলপুর- তাদের মূল জেলার সাথে একীভূত হয়েছে।

   আসাম সামাজিক-সাংস্কৃতিক এবং জাতিগত বৈচিত্র্য সহ বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যার একটি রাজ্য। আসামের জনসংখ্যা ৩১২.০৫ ​​লক্ষ, যার মধ্যে ১৫৯.৩৯ লক্ষ পুরুষ এবং ১৫২.৬৬ লক্ষ মহিলা। ২০২২ সালে আসামের জনসংখ্যা অনুমান ৩৫৩.৭৮ লক্ষ, যার মধ্যে ১৮০.০৬ লক্ষ পুরুষ এবং ১৭৩.৭১ লক্ষ মহিলা। ২০০১-২০১১ সালে রাজ্যের জনসংখ্যার দশকব্যাপী বৃদ্ধির হার ছিল ১৭.০৭%, যেখানে সমগ্র দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৭.৬৮%। রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ৮৬% গ্রামাঞ্চলে এবং ১৪% শহরাঞ্চলে বাস করত। রাজ্যের গ্রামীণ জনসংখ্যার শতাংশ সর্বভারতীয় গড় (৬৯%) এর চেয়ে বেশি ছিল। ২০১১ সালে আসামের জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৯৮ জন। আসামের লিঙ্গ অনুপাত (প্রতি হাজার পুরুষে নারীর সংখ্যা) ২০০১ সালে ৯৩৫ থেকে বেড়ে ২০১১ সালে ৯৫৮ হয়েছে। রাজ্যের সামগ্রিক লিঙ্গ অনুপাতের তুলনায়, শিশু লিঙ্গ অনুপাত (০-৬ বছর বয়স) ১৯৯১ সালে ৯৭৫ থেকে ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়ে ২০০১ সালে ৯৬৭ এবং ২০১১ সালে ৯৬২-এ নেমে এসেছে। অন্যদিকে, ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে আসামে জন্মের সময় লিঙ্গ অনুপাত ৯৫৭ ছিল।

আসামের রাজ্য প্রোফাইল

ভৌগোলিক অবস্থান-

অক্ষাংশ: ২৪ উত্তর° - ২৮ উত্তর°

দ্রাঘিমাংশ: ৯০ পূর্ব° - ৯৬ পূর্ব°

ভৌগোলিক এলাকা (বর্গ কিমি):

গড় বৃষ্টিপাত (মিমিতে):

টি জেলা

উপ-বিভাগ: ৮০টি

ব্লক: ২১৯

রাজস্ব বৃত্ত: ১৮৪

জেলা পরিষদ:

আঞ্চলিক পঞ্চায়েত: ১৮৯

গাঁও পঞ্চায়েত: ২২০২

শহর: ২১৪টি

গ্রাম: ২৬৩৯৫

পরিবার: ৬৪০৬৪৭১

মোট জনসংখ্যা [২০১১ সালের আদমশুমারি]: ৩১২০৫৫৭৬

৩৫৭১৩০০০ (২০২৩, অনুমিত)

পুরুষ জনসংখ্যা [২০১১ সালের আদমশুমারি]: ১৫৯৩৯৪৪৩

১৮১৭০০০ (২০২৩, অনুমিত)

নারী জনসংখ্যা [২০১১ সালের আদমশুমারি]: ১৫,২৬৬,১৩৩

,৭৫৪৩,০০০ (২০২৩, অনুমিত)

গ্রামীণ জনসংখ্যা [২০১১ সালের আদমশুমারি]: ২৬৮০৭০৩৪

৩০১৫৬০০০ (২০২৩, অনুমিত)

নগর জনসংখ্যা [২০১১ সালের আদমশুমারি]: ৪,৩৯৮,৫৪২

৫৫,৫৭,০০০ (২০২৩, অনুমিত)

লিঙ্গ অনুপাত [জনগণনা ২০১১ অনুসারে](প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে ৯৫৮ মহিলা)

জনসংখ্যার ঘনত্ব (প্রতি বর্গকিলোমিটারে) [২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে]:৩৯৮

শিশু জনসংখ্যা (০-৬ বছর) [২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে]: ৪৬৩৮১৩০

শিশু লিঙ্গ অনুপাত (০-৬ বছর) [২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে]:৯৬২

সাক্ষরতার হার [২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে]: ৭২.১৯

সাক্ষরতার হার (গ্রামীণ) [২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে]: ৬৯.৩৪

সাক্ষরতার হার (শহুরে) [২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে]: ৮৮.৪৭

পুরুষ সাক্ষরতার হার [২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে]:-

পুরুষ সাক্ষরতার হার (গ্রামীণ) [২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে]: ৭৫.৪

পুরুষ সাক্ষরতার হার (শহুরে) [২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে]: ৯১.৮

মহিলা সাক্ষরতার হার [২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে]:-

নারী সাক্ষরতার হার (গ্রামীণ) [২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে]:৬৬.২৭

নারী সাক্ষরতার হার (শহুরে) [২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে]: ৮৪.৯

জন্মহার (প্রতি ১০০০ জনে) [২০২০]:২১.৯

মৃত্যুহার (প্রতি ১০০০ জনে) [২০২০]:৬.২

বিপিএল জনসংখ্যা [তেন্ডুলকর পদ্ধতি (২০১১-১২)] ৩১.৯৮

বর্তমান মূল্যে মাথাপিছু NSDP (টাকায়) [২০২২-২৩ AE]:  ১১৮৫০৪

বর্তমান মূল্যে মাথাপিছু জিএসডিপি (টাকায়) [২০২২-২৩ এই]: ১৩৬৮১৯

মোট প্রাপ্তি (কোটি টাকায়) [২০২২-২৩ (আনুমানিক বাজেট)]: ১৩৯৪৪৪

রাজ্য কর রাজস্ব-৩০০০২

কেন্দ্রীয় করের ভাগ-৩১৯৫১

কর-বহির্ভূত রাজস্ব (রাজ্য কর্তৃক সংগৃহীত): ৭,০১১

অর্থ কমিশনের অনুদান- ১০১৮৯

মোট ব্যয় (কোটি টাকায়) [২০২২-২৩ (আনুমানিক বাজেট)]: ১৩৯৭৫৫

সাধারণ পরিষেবা: ৪২৬৯০

সামাজিক ও কমিউনিটি সেবা: ৫১৯১২

অর্থনৈতিক পরিষেবা: ১৫৭৩২

অনুদান-সহায়তা ও অবদান: ১,০০৩

ভূমি ব্যবহার, (হেক্টরে) [২০২০-২১(পি)]:-

মোট রিপোর্ট করা এলাকা:  ৭৮৩১০২৭

বনাঞ্চল: ১৮২৮৯৩৬

অকৃষি ব্যবহারের আওতাধীন এলাকা: ১৩২৩৯৫৫

মোট বপনের ক্ষেত্রফল: ২৭২৩৬১০

মোট ফসলি জমি: ৩,৮৮৮,

এলাকা ('000 হেক্টর) [2021-22(P)]:-

চাল: ২৩৬০৪৭০

গম: ৯৩৪২

ভুট্টা: ৪১১৫৭

ডাল: ১৪৪

মোট খাদ্যশস্য: (p) ২৫৫৪

মোট তৈলবীজ: ৩৩২

পশুচিকিৎসা সুবিধা:-

হাসপাতাল:২২

ডিসপেনসারি এবং ব্লক ডিসপেনসারি: ৩১১টি

কী ভিলেজ সেন্টার: ১৯

মৎস্য চাষের আওতাধীন মোট এলাকা (হেক্টর) [২০২১-২২]: ৭১৮৪৩.৫

নদী মৎস্য (কিলোমিটার) [২০২১-২২]: ১১০৬০.৬

মাছের বীজ উৎপাদন (মিলিয়ন সংখ্যা)[২০২১-২২]: ১৮২১৮.৭

মাছ উৎপাদন (টন) [২০২১-২২]: ৪১৬৯১৫

সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আওতাধীন এলাকা (হেক্টর) [২০২২]:

জাতীয় উদ্যানের সংখ্যা:

বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের সংখ্যা:২২

উৎপাদন কেন্দ্রের স্থাপিত ক্ষমতা (মেগাওয়াটে) [২০২০-২১]: ৩৪১.৯

মোট ইউনিট উৎপাদন (এম.ইউ.) [২০২০-২১]: ১৩৮৯,৫৯৫

জ্বালানির প্রয়োজন (এম.ইউ.) [২০২০-২১]: ১১৪৬৩

বিদ্যুতের প্রাপ্যতা (এম.ইউ.) [২০২০-২১]: ১১০০৪

বিদ্যুতায়িত গ্রামের শতাংশ:৮৮

বিদ্যুৎ সংযোগপ্রাপ্ত পরিবারের শতাংশ: ৩৭

উৎপাদন:-

পেট্রোলিয়াম (অশোধিত) (০০০ টন) [২০২১-২২]: ৩৯৮৮

কয়লা (০০০ টন): ২৮

চুনাপাথর ('০০০ টন) [২০২১-২২]: ১৬৮০

প্রাকৃতিক গ্যাস (MCM) [২০২১-২২]:৩১২৬

নিবন্ধিত কারখানা [২০২১]: ৭৮৭৩

কারখানা নিবন্ধিত কর্মী: ২০২১- ২৯৮৬৯০

রেশম গ্রাম [২০২১-২২]:

চেরিকালচার গ্ৰাম- ৮৬২৭

রেশম চাষে নিযুক্ত পরিবার [২০২১]: ২৯৯৯৩৬

রেশম সুতার উৎপাদন ('০০০ কেজি) [২০২১-২২]: ৫৬৫৫.০৯

চা বাগান (সংখ্যা) [২০২১-২২]:

ক্ষুদ্র চাষীরা:  ১২১৬৭৫

বড় চাষী: ৭৬৫

চা চাষের আওতাধীন এলাকা (হেক্টর) [২০২১-২২]:

ক্ষুদ্র চাষি: ১১৪৮০১.২৪

বড় চাষীরা: ২৩২৩৯৯

চা উৎপাদন (০০০ কেজি) [২০২১]: ৬৬৭.৭৩

গুয়াহাটি চা নিলাম কেন্দ্রে চা বিক্রি (প্রতি কেজি টাকা) [২০২১]: ১৯২.০৯

রাস্তায় মোট যানবাহন [২০২১-২২]:  ৪৮০৮১৮২

২০২১-২ সালে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা- ৩৮৯৪৫৮

ডাকঘরের সংখ্যা [২০২১-২২]: ৪০১১

পি.ডব্লিউ.ডি. রাস্তার দৈর্ঘ্য (কিমি.তে) [২০২১-২২]:-

সারফেসড (ব্ল্যাকটপড): ২৯৬৭০.৮

অপ্রকাশিত: ১২২৮১.০১

জাতীয় মহাসড়ক: ৩৮৮২.৮৮

রাজ্য মহাসড়ক: ২৫৪০.৩৬

মোট পি.ডব্লিউ.ডি. রোড: ৪৩০৯.৯৩

মোট রাস্তার দৈর্ঘ্য (এনএইচ সহ): ৫৯২০৩.৯৩

রেলপথের দৈর্ঘ্য (কিমিতে):- আসাম- ২৫১৯.৭৯

ব্রডগেজ: ০.৩৪

মিটার গেজ: ২৫২০.১৩

সকল তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংক (রিপোর্টিং) [২০২০-২১]:-

মোট অফিস (সংখ্যা): ২,৯২৫টি

মোট আমানত (কোটি টাকায়): ১৭৫৫৭৯

মোট ঋণ (কোটি টাকায়): ৮১৮৭০

ক্রেডিট ডিপোজিট অনুপাত: ৪৬.৬

প্রতি ব্যাংক অফিসে জনসংখ্যা (০০০ জন): ১১.৯৮

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা [২০২০-২১:-

নিম্ন প্রাথমিক: ৩৫৮৫৬

উচ্চ প্রাথমিক: ৫৬৬৮

উচ্চ ও উচ্চর মাধ্যমিক: ৪৩০০

সাধারণ শিক্ষা কলেজ: ৪১৭

জুনিয়র কলেজ: ৬২

পেশাগত শিক্ষার জন্য কলেজ:

কৃষি ও বনবিদ্যা-৭

পশুচিকিৎসা-৪

আইন কলেজ-২৭

প্রযুক্তি ও প্রকৌশল কলেজ- ৩৩

মেডিকেল কলেজ (হোমিও/আয়ুর্বেদিক/ডেন্টাল)-২৩

উচ্চশিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় (বেসরকারি+অনুমোদিত)-২০

সিভিল হাসপাতাল; ২০২১-২২-২৫

মহকুমা হাসপাতাল- ১৪টি

প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র- ৮৫০টি

কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র- ২০১

জারি করা জব কার্ডের সংখ্যা-৩৯৬১১১৫

১০০ দিনের কর্মসংস্থান প্রদানকারী পরিবারের সংখ্যা-৫২৩০০৮

  

                                                                                                সমাপ্ত

     বিঃদ্রঃ- তথ্য বিভ্রাটের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত সদাশয় পাঠক ভুল-ত্রুটিগুলি দেখিয়ে দিলে পরবর্তীতে সংশোধন করার প্রতিশ্রুতি রইল তথ্য গোগ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

 

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেলেবেলা সান্নিধ্যে আসা মুরব্বীদের সংক্ষিপ্ত পরিচয়।

ভাৰত তথা অসমৰ সাধাৰণ নিৰ্বাচনৰ সাৰাংশ-১৯৫২-২০২৪

শাস্তি (অনুবাদ উপন্যাস)