বাংলা গান

 


বাংলা গান

       (১)

প্ৰেমে ঘোরে অ্ন্ধ হয়ে

কুড়াল মারলাম নিজের পায়

প্রেমের বিষে ভাঙল মাজা

ন প্রাণে বাঁচা হোল দায়।।

 

চোখ থাকিতে হইলাম কানা

না মাইনা পাড়পড়শির মানা

প্রেমের রশি পইরা গলে

এখন ভাবতে ভাবতে পরাণ যায়।।

 

কাচা বাঁশে গুণ ধইরাছে

যেমন চূণ খাইয়া মুখ পুইরাছে

বিষের জ্বালায় অঙ্গ জ্বলে

ঠেকেছি বিষম দায়।।

 

      (২)

কি বলব ভাই কলির কাহিনী

ভাই ঝরে চোখের পানি

এক পয়সার ছাগলে খায়

লাখের বাগান বাড়ি

কি বলব ভাই কলির কাহিনী।।

 

বাড়ীর নষ্ট বুঢ়ীরে ভাই

খিদার নষ্ট মূরি

বউ আনলে হয় ছেলে নষ্ট

বানায় ভিন্ন হাড়ি।।

 

গুষ্টিতে হয় ইষ্টি নষ্ট

শুধুই ঝগড়াঝাটি

মাচার ওপর মাচা তুললে

দাম থাকেনা কানা কড়ি।।

 

অতি আদরে ছেলে নষ্ট

শেষ বয়সে হয় কষ্ট

বিড়ির নেশা পড়লে পরে

সিন্ধুক ভাইঙ্গা করে চুরি।।

 

 

       (৩)

বন্ধু আমার পরাণের পরাণ

 তার ফর্সা মুখে চাপ দাড়ি

দেখিতে পূর্ণিমার চান

 

বন্ধুর হাতে বাসের বাঁশি

বাজায় বন্ধু দুপুর নিশি 

 তার বাশির সুরে মধু ঝরে

হরে নেয় অবলার প্রাণ।

 

বন্ধু আমার রসের হাড়ি

প্রেম নদীতে চালায় তরী

 তার বৈঠার টানে

উজান ধরে

প্রেম নদীতে উঠে বান।

 

ফুলের বুকে মধু থাকে

কালো ভ্রমর তার খবর রাখে

 বন্ধু আমার কালো ভ্ৰমর

করে ফুলের মধু পান।।

 

        ()

মাটির দেহ গড়াইছে কোন কারিগর

হাড়ের গাঁথনি ছালের ছাউনি

তার ভিতরে আগুন পানি

বাতাস ভরে ঘূরে ফিরে

চইসা বেড়ায় চরাচর।।

 

আপে আল্লাহ পরোয়ারে

নিজ ছুরতে মানুষ গঢ়ে

কলবেতে আসন করে

খেলা খেলছে চমৎকার।।

 

নয় দরজা আঠ কুঠুরি

দশ ইন্দ্রিয়ের টানাটানি

ষড়রিপুর পাল্লায় পরে

পঞ্চভূতের হয় দোসর।।

 

মাতা গুরু পিতা গুরু

শিক্ষা আর দীক্ষা গুরু

এই কয়জন বিমুখ হলে

ঘটে জীবের অথন্তর।।

 

      ()

দেহের মাঝে শ্রীবৃন্দাবন

রে আমার ভোলা মন

 তারে করলি না ভজন।।

 

রাধা কৃষ্ণের যুগল মিলন

নিত্য তারা করে কেতন

না জানিয়া সাধন ভজন

ঘুরিস গয়া বৃন্দাবন।।

 

এই দেহমন সঁপে দাও

হালাল থুইয়া হারাম খাও

তবেই দেখবি তার মহত্ব

দিলে বিরাজমান।।

 

গুরু নামের বাদাম দিয়া

আশেক যেজন যায় চলিয়া

গুরু বিনে এই ভবেতে

কেহ নয়রে আপনজন।।

 

       ()

পুণার জাকে লাথি মাইর না

পুণার জাকে লাথি মারলে

ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হইয়া যায় জাক

জাকে পোণা থাকে না।।

 

তুলার আঁশে হয় সূতা

সূতায় সূতা পাকাইলে

তবেই হয় রশি

রশি দিয়া রশি পাকাইলে

তাতেই হ কাছি

একে একে দুই না হইলে

মনের মিল তো হয় না

 

ফোটায় ফোটায় বৃষ্টি ঝরে

ঝরণা হয়ে বয়

ইটের বুকে ইট গাঁথিলে

তবেই বিল্ডিং হয়

এক ইটেতে হয়না মসজিদ

   বলি সত্য ঘটনা।।

 

       ()

আপন ভেবে দিলাম যারে

এই দেহ এই পরাণ

আপন তো হইলনা সে

কাইঢ়া নিলো শুধু প্রাণ।।

 

বিলের পানা গাঙে পড়লে

স্রোতের টানে ভাসে

বাগানেতে ফুল ফুটিলে

ভ্রমর ছুটে আসে

প্রেমের বাতাস লাগলে গায়ে

জাগে মান অভিমান।।

 

পর্বত চূড়ায় বরফ জমিলে

সূর্যের তাপে গলে

আকাশেতে মেঘ জমিলে

বাতাস ভরে চলে

প্রেমের জোয়ার ভাটা পরে

পড়লে দেহে ভাটার টান।।

 

      ()

 আমার প্রাণ প্রিয়া

কালো পায়ে কে দিল

আলতা পরাইয়া।।

কালো পায়ে আলতা পরে

ঘূর তুমি ঢ্যাংঙ ঢ্যাংঙ করে

প্রাণটা আমার বাইরাম বাইরাম

তোমার ঐ রূপ হেরিয়া

কালো পেতনী রূপটি তোমার

দেখলে প্রাণ যায় জুড়াইয়া।।

 

কুচকুচ কালো রূপ দেখিয়া

করিনাগ তোমায় ঘেন্না

কালো চুলে পাক ধরিলে

কেন কর তবে কান্না

মনে বলে তোমায় লইয়া

যাই কোথাও পালাইয়া।।

 

তুমি নাকি সুরে গান জুরিলে

শেয়াল কুকুর আসে ধেয়ে

আমি বড়ই সুখী হইগ প্রিয়ে

তোমায় কাছে পেয়ে

পাও ধরিযা সাধি প্রিয়া

যাইওনা আমায় ছা়ড়িয়া।।

 

      ()

কতদিন হয় খুজছি তোরে

আজও পেলাম না

মরেছ কি বেঁচে আছ

আজও বুঝলাম নারে

কতদিন হয় খুজছি তোরে....

 

মানুষরূপী আজরাইল এসে

মারল কত প্রাণ

ঘরবাড়ি পুরিল কত

কি করব বয়ান

চোখের জলে বু ভাসিল

ফিরা দেখল নারে.......

 

গুরুম গুরুম ফুটছে বোমা

পরাঁ কাঁপে ডরে

হাহাকার রব চিকার ধ্বনি

উঠল ঘরে ঘরে

মায়ের সামনে সন্তান মারল

দয়া করল নারে....

 

বাড়ি বাড়ি সন্ত্রাসী এসে

দিছিল যখন হানা

খেলিতে গিয়ছিল বাছা

বাড়ি ছিল না

প্রাণের ভয়ে পালিয়ে ছিলাম

তোর খবর নিলাম নারে...

 

        (১০)

রে কিভাবে ঘুমাই বাছা,

 মোর বাছারে কিভাবে ঘুমাই

তোর লাগি প্রাণ কান্দে

বাছা কিভাবে ঘুমাই

অরে বাছা কিভাবে ঘুমাই...

 

দুই হাত ধরিয়া আগুনে ফেলিয়া

হরেছিলো তোর প্রাণ

সে আগুন সর্বক্ষণ

জ্বালাইতেছে প্ৰাণ

সে আগুন বাছা কেমনে নিভাই.......

 

লকলক করিয়া জিব্বা মেলিয়া

তোর দেহ পুরে করে দিল ছাই

আমি মনের জ্বালা মন লইয়া

পালাইয়া ছিলাম প্রাণ লইয়া

আমার মনে শান্তি নাই

জ্বালা কি দিয়া জুড়াই.......

 

পাড়ায় পাড়ায় বন্দুক

ভয়ে কেঁপে উঠে বুক

সে বুঝান না যায়

কত মায়ের বুক খালী হলো

ঘরবাড়ি ছাই হলো

কতজনকে করল জবাই

মানুষ সাজিল কসাই.......

 

কবে সন্ত্রাস খতম হবে

মানুষে মানুষ চিনবে

এস সবে সন্ত্রাস তাড়াই

দেশ মাতৃর মান বাচাই

অরে কিভাবে ঘুমাই.........

 

      (১১)

ভ্রমর যখন ফুল বাগানে

উইরা উইরা মধু খায়

প্রাণটা আমার আনচান করে

গুনগুন সেই সুরের মায়ায়।।

 

ফুল স্পীডে বাইক চালাইয়া

বন্ধু যখন চইলা যায়

হাতের কাজ ফেলিয়া আমি

আসি বাড়ীর আঙিনায়

স্পীড কমাইয়া বন্ধু

কথা বলে ইশ্বারায়

 

বিকাল বেলা বন্ধু আমার

দ্বারায় পথের বাকে

জল আনিবার ছলে যাই

কলশী লইয়া কাষে

বন্ধুর চানমুখ হেরিয়া

আমার নয়ন জুরায়

 

আকাশ জুরে মেঘ ভেসে যায়

তলে পরে তার ছায়া

তৃষিত চাতক জানে শুধু

সেই কাজল মেঘের মায়া

বুকটা আমার জুরাইয়া যায়

বন্ধুর ছায়া লাগলে গায়

 

        (১২)

আয় তোরা কে যাবি সোনার মদিনায়

সেখানেতে শোয়ে আছে

দিনের নবী মোস্তফায়।।

 

আরবেতে ফুল ফুটিল

সারা জাহান মশগুল হলো

ধন্য হলো সারা জাহান

সেই ফুলেরই অছিলায়।।

 

আমেনার নয়নের মণি

দুজাহানের সোনার খনি

শান্তির ধর্ম প্রচার করে

ধন্য করলো দুনিয়ায়।।

 

নিজের কথা নাভাবিয়া

উম্মতি উম্মতি বলিয়া

নিজে পেটে পাথর বেধে

উম্মতে আহার যোগায়।।

 

    (১৩)

ভাবীটা মোর রসিয়া

বসেন বগল ঘেঁসিয়া

ফুচুর ফুচুর রসের কথা কন

এইবার শীতে বউ না পাইলে

চইলা যামু দেশ ছেড়ে

দেখি কেবা মোক কিবা কন।।

 

পূব পাড়ার কেতু মিয়া

তিন বছর আগে করছে বিয়া

তার ছাওয়রা বাবা মা ডাকেন

সে আমার পাঁচ বছরের ছোট

আমার হইলো কপাল মন্দ

কায়ো না মোর বিয়ার কথা কন।।

 

চেংরীরা যান রাস্তা দিয়া

মোক ইশ্বারায় কন ডাকিয়া

কেন বাহে তুমি কেমন ছাওয়া হন

কামাই রুজি সব শিখেছেন

কায় তবু একলা আছেন

এইবার বাহে ঘর সংসারী হন।।

 

        (১৪)

আমি বন্ধুর প্রেমের রশি

পইরাছি গলায়

সেযে পরাইয়া প্রেমের রশি

ভুইলা আছে অবলায়।।

 

শয়নে স্বপনে সর্বক্ষণে

দূরে বইসা রশি টানে

প্রাণে বাঁচা হলো দায়

আমি জীবন মরণ কূল মান ভয়

সঁপিয়াছি বন্ধুর পায়।।

 

ছটফট ছটফট করে যেমন

পিঞ্জিরার পাখি

ঐ রকম ছটফট করে

অবলার পরাণী

পাখা থাকলে উইড়া যেতাম

বন্ধু আমার যেথায় রয়।।

 

এই বিশ্ব ভূবনে আমি

হেরি শুধু তুমি ময়

তাইতো আমি ভুলে আছি

লোক লজ্জা ভয়

তোমার দেখা পাইলে বন্ধু

জগত হইত সুধাময়।।

 

     (১৫)

বড়ই সাধ করিয়া করছুং বিয়া

পাঁচ বছরে দুইটি ছাওয়া তিনটি মাইয়া

চাইল আনতে নুন ফোরায় মোর

নুন আনতে চাইল

সকাল বিকাল বউটায় মোক

পারে বেজায় গাইল

বউ পালা না হাতী পালা

কায় করে ভাই বিয়া।।

 

বউটায় কয় কাপড় নাই

নাই মাথায় তেল

ছাওয়া পুওয়া লেংটা ঘূরে

গেল লাজ মান গেল

বাপ মার ভিটা বেচিলুং

উপায় না দেখিয়া।।

বাপর ভিটা বেচিয়া মুই

টাউনেতে যাং

ঠেলা রিক্সা যাকে পাং

তাকে চালাং

হাউসের দেহা মাটি করলুং

পেডেল মারিয়া।।

 

     (১৬)

বন্ধুটা মো বড়ই বেহায়া

রাইত নিশির কালে আসিয়া

বন্ধু বেডায় দেয় টোকা।।

আমার বাড়ির সামনে দিয়া বন্ধু

সাইকেল লইয়া যান

মোক দেখিলেই জোরে জোরে

সাইকেলের বেল বাজান

চোখে চোখ পড়লেই বন্ধু

চোখ ইশ্বারায় কন কথা।।

মুই নারীটা সকাল বিকাল

পানী আনতে যান

ঘাটের উজানে বইসা বন্ধু

বাঁশরী বাজান

খেমটা তালে গান ধরিয়া

কাইড়া নেন মোর প্রাণটা।।

      (১৭)

ঘাটে বসিয়া বরশি ফালাইয়া

আড় নয়নে কেন চাও হে চেংড়া

তোমার কি আশা মনে।।

 

পতি হইল মোর দাদার বয়সী

বয়স সত্তর আসি

সাড়া রাত্রি জাগিয়া থাকে

খুকুর খুকুর কাঁসি হে চেংড়া

তোমার কি আশা মনে।।

মুই নারী শুইয়া থাকি

বালিশ বুকে ধরিহে চেংড়া

বালিশ বুকে ধরি

সারা নিশি জাগিয়া কাটে

ঘুম আসেনা চোখে হে চেংড়া

তোমার কি আসা মনে।।

আমার বাড়ী যাইও বন্ধু

রাত্রি নিশির কালে

চেংড়া রাত্রি নিশির কালে

কইব দুইটা মনের কথা

নিরালাতে বসে হে চেংড়া

তোমার কি আসা মনে।।

 

 (৮)

বন্ধুর বাঁসের মোহন বাঁসিরে

 বন্ধু বাজায় দুপর নিশি

সুর শুনিয়া আনচান করে

অ মোর অবলার পরাণীরে

বন্ধুর বাঁসের মোহন বাঁসিরে।।

 মোর কালরে কালা

একলা ঘরে শুইয়া থাকি

বালিশ বুকে ধরি

দুই চোখেতে ঘুম আসে না

বন্ধু তোমার বাঁসি শুনিরে।।

 মোর বন্ধুরে অ মোর কালা

নাম ধরিয়া বাজাও বাঁসি

রাধা রাধা বলি

না বাজাও না বাজাও বাঁসি

অ বন্ধু অভাগীর নাম ধরিরে।।

শাশুড়ী ননদী আমায়

রাখে পহরায়

পাণ হইতে চূণ খসিলেই

আমাকে হাশায়

কূলেতে কলংক রটলো

তোমার প্রেমে মজিরে

   

     (১৯)

মেয়ের বাপের ভাঙ্গা কপাল

যৌতুক ছাড়া বিয়া নাই

বিয়া দিয়াও শান্তি নাই

ভাইরে বাপের চোখে ঘুম নাই।।

শশুড় বাড়ি আইলে জামাই

শাশুড়ির গায় হুস নাই

কি রান্ধিব কি খাওয়াইব

ভাবনা চিন্তার শেষ নাই।।

শালা শালির হুরাহুরি

মাথায় তুলছে ঘরবাড়ি

কেউ টানছে কাপড় ধইরা

কেউ করছে হাত সাফাই।।

শালারা যায় টাপা লইয়া

লাল মোরগটা ধরছে যাইয়া

রাণ বাজা না পাইলা জামাই

বুবুজানকে করবে ধূলাই

খুটাখুটির অন্ত নাই।।

শালা সমুন্দির বউরা

ঢেকুচ ঢেকুচ কূটছে গুরা

চিতি পিঠা দুধ কুলি

জামাইর খাওয়ার অন্ত নাই

জামাইর পেটে জাগা নাই।।

       (২০)

কি বলব ভাই কলি কাহিনী

ভাই ঝরে চোখে পানী

এক পয়সার ছাগলে খায়

লাখের বাগান বাড়ি

কি বলব ভাই কলির কাহিনী।।

বাড়ির নষ্ট বুড়ীরে ভাই

ক্ষিদার নষ্ট মুরি

বউ আসলে হয় ছেলে নষ্ট

বানায় ভিন্ন হাড়ি।।

গুষ্টিতে হয় ইষ্টি নষ্ট

শুধুই ঝগড়া ঝাটি

মাচার ওপড় মাচা তুললে

দাম থাকেনা কানাকড়ি।।

অতি আদরে ছেলে নষ্ট

শেষ বয়সে হয় কষ্ট

সাদার নিশা পড়লে পরে

সিন্ধুক ভাইঙ্গা করে চুরি।।

     (২১)

এক নাগাড়ে বৃষ্টি পড়ছে

টাপুর টুপুর করিয়া

খালবিল গেল ভরিয়া

বৃষ্টির পানী পাইয়া।।

 

গরু বেবায় গোয়াইলে

ছাগল বেবায় খোয়ারে

বউ জীরা পড়ছে চিন্তায়

মূতের কেতা লইয়া।।

চাইলের মাইঠে চাইল নাই

ঢোলে সিদ্ধ ধান নাই

কয়দিন আর চলবরে ভাই

ধার কর্জ কইরা।।

 

বাপ মার চোখে ঘুম নাই

ছেলে মেয়ের চিন্তা নাই

ঘরবাড়ি মাথায় তুলছে

ঝগড়াঝাটি কইরা।।

 

    (২২)

হে পথিক কোন সাহসে তুমি

আমার পানে চাও

রাস্তায় চলার বেলা

কেন তুমি ফিরে ফিরে চাও?

ঘরে মোর আছে পতি

তার কি হবে গতি

যদি তুমি আমায় নিয়ে যাও।।

পাকা বেল গাছে ঝুলে

বাতাসে দুল খায়

কাকে কি কভূ সেই

বেলের নাগাল পায়

আমি পাকা বেল

কেন গোঁফে মাখ তেল

জেনে-শুনে আগুনে কেন

হাত দিতে চাও??

 

আকাশেতে চাঁদ উঠিলে

জ্যোৎস্না সবাই দেখে

মূর্খ বিনে কেবা চায়

চাঁদে কাছে পেতে

তুমি দিন কানা

আমায় কাছে ডেক না

সোজা পথ ধরে তুমি

সিধা চলে যাও।।

   (২৩)

বুক ফাটে বুক ফাটে বইলা

বল শুধু মুখে

ভালোবাসার নাম গোন্ধ নাই

তোমার পাষাণ বুকে।।

 

সেদিন আমি কলেজে গেলাম

বলতে মনের কথা

মুখ ফিরিযা চইলা গেলে

মনে পাইলাম ব্যথা

তোমায় ভালোবাসতে গিয়ে

কলংক কালি মাখিলাম মুখে।।

সেদিন তোমায় সাঝের বেলা

দেখে নদীর ঘাটে

চুপি চুপি গেলাম দেখা

করতে তোমার সাথে

কলস ভইরা  চইলা গেলা

তাকাইলা না ফিরা কোন দোষে??

    

       (২৪)

না না হাত দিওনা তুমি

কাঁচা ডালিমে

হাত লাগালে ফোস্কা পড়বে গায়ে

ঝরবে অকালে।।

বাগের শোভা ফুল ফুটিলে

মায়ের শোভা শিশু কোলে

রাতের শোভা পূর্ণিমার চাঁদ

চাঁদে কাছে ডেকো না।।

 

গাছের শোভা  পাকা ফলে

নারীর শোভা লম্বা চুলে

কালো চুলে এলো খোপা শোভা

খোপায় হাত দিও না।।

 

রাত কালো আকাশ কালো

সাদার চেয়ে কালোই ভালো

সাদা চোখের কালো মণি ছাড়া

চোখের হাসি ফুটেনা।।

     

       (২৫)

আসাম দেশের যুবতী আমরা

বশত বাড়ি চরে

মনের সুখে ঘূইরা বেড়াই

নদীর চরে চরে।।

 

কলের ছাপা শাড়ী পরি

পিন্ধি তাঁতের শাড়ী

পায়ে পায়েল মাথায় সিঁথি

হাতে কাঁচের চুরি

কাইসা বনের মতো (শাড়ীর)

আঁচল বাতাসে উরে।।

বুকে ভালোবাসার আগুন

জ্বলে ধিকি ধিকি

লোক নিন্দার ভয়ে আগুন

বুকে চেপে রাখি

ভাদরের ভরা গাঙ্গের মতো যৌবন

টলমল টলমল করে।।

       (২৬)

গুয়াহাটী যাই মুই চালাং রিক্সা

রাস্তায় রাস্তায় ঘূরি ঐ

রে দারুন নদী ভাইঙ্গা নিল বাড়ি।।

 

বাপের আছিল অনেক জমি

হাল আছিল চার হাল

গোয়াইল ভরা আছিল গরু

আছিল বেড়ার পাল

ভাইঙ্গা নিল  ঘর বাড়ি।।

ব্রহ্মপুত্র আসিল খাও খাও মূর্তি ধরি

পারের মাটি খসাই নিলে

ঝপর ঝপর করি ।। ভাইঙ্গা নিল ঘর বাড়ি

গুয়াহাটী আসিলু কাম করিবার থালা বাটি বেইচা

পুলিশ বেটা ধইরা নিলে বহিরাগত বইলা

ভাইঙ্গা নিল ঘরবাড়ি

সারাদিন না খাওইয়া

থানায় বসাইয়া রাখে

রাইত বারটায় ছাইড়া দিল

ভোটার লিষ্টি দেখে

মশার কামড় খাইয়া রাত কাটাইলাম

ফুটপাতে পরি।।ভাইঙ্গা নিল ঘর বাড়ি....

     (২৭)

ভালোবাসার এতো জ্বালা

আগে বুঝিনি

ভালোবেসে এই জগতে

হইলাম কলংকিনী।।

পাকা ধান কাইটা নিলে

পরে থাকে শুধু নাড়া

যার বুকে নাই ভালোবাসা

জীবন্তে সে মরা

তবে কেন ভালবেসে

নিন্দা বাক্য শুনি।।

 

আত্মার মিলন ভালোবাসা

যেমুন এক ডালে দুই ফুল

ঝরণা বয়ে যায় নিরবধি

খুজে নদীর কূল

তবে কেন ভালোবেসে

হইলাম কূল ত্যাগীনি।।

   

     (২৮)

শিশু কালে মরে গেছে মা

মায়ের আদর মনে পড়ে

মুখটা মনে পড়েনা।।

ক্ষিদার জ্বালায় কানতাম যখন

ধূলায় পড়ে গড়াইয়া

ধূলা ঝাইড়া বুকে নিয়া মায়

দুধের বোটা নিত মুখে

বাচা বাপ ধন বলিয়া।।

অসুখে বিসুখে মায়

সিঁয়রেতে বসি

মোনাজাত করিত আল্লায়

নিজে দুই হাত তুলিয়া

বাচার কষ্ট আমায় দিয়া

বাচায় দেও ভালো করিয়া।।

ঘুমের ঘোরে কখনো যদি

মূততাম আমি বিছানায়

শুকনা জায়গায়  শোয়াইয়া মায়

(নিজে )শোইত মূতের বিছানায়

স্থির থাকতে পারে না মায়

সন্তানের কষ্ট দেখিয়া।।

    

      (২৯)

ভবে ভাইয়ের মতো বন্ধু কেহ নাই

ভাইয়ের দরদ ভাইয়ে বুঝে

অন্যে কি তা বুঝে ভাই??

 

মা মরিলে মা পাওয়া যায়

বাপ মরিলে বাপ

গুণের ভাই মরিয়া গেলে

নাড়ি কাটা ভাইয়ের মতো

বন্ধু কোথায় পাই।।

 

একই পেটের নাড়ি ছিড়ে

জন্ম নিলে দুটি ভাই

মান অভিমান ঝগড়া ঝাটি

ঠেলা ঠেলির বিরাম নাই

একজনের বিপদে অন্যে

বসে থাকতে কি পারে ভাই? ?

 

দেহ ভিন্ন এক প্রাণ ভাই

যেমন গংগা যমুনা

ভাইয়ের প্রেম পিরিতির নাই

এই জগতে তুলনা

ক্ষিদার অন্ন ভাগ করে খায়

দুর্দিনে পড়িলে ভাই।।

   

    (৩০)

তোমার বিরহ অনলে গুরু

অন্তর যায় জ্বলে

জুরায়না সে অনল গুরু

নামলে গভীর জ্বলে।।

 

হেরিলে তোমার চান মুখ

সকল দুঃখ যায় দূরে

না দেখিলে তোমার চান মুখ

অন্তর যায় জ্বলে পোরে।।

 

আকাশেতে চাঁদ উঠলে যেমুন

জগত আলোকময়

তোমার চানমুখ হেরিলে গুরু

হৃদয় আলোকিত হয়

তোমার রূপের ছোয়া লাগলে

মনের আধার যায় দূরে।।

 

সাপের মাথায় মণি যেমুন

প্রকাশ করে জ্যোতি

তুমি আমার পূর্ণিমার চাঁদ

আন্ধার ঘরের বাতি

তোমার চরণের ছোয়া লাগলে

সকল দুঃখ যায় চলে।।

 

     (৩১)

দয়াল তুমি অগতির গতি

তোমার দয়া পাইলে দয়াল

আন্ধার ঘরে জ্বলে বাতি।।

তুমি প্রলয় তুমি সৃষ্টি

বৃদ্ধের লাঠি অন্ধের দৃষ্টি

তোমার বিরহে প্রলয় ঝঞ্জা

মিলনে হয় মন তুষ্টি।।

 

তোমার সাত্ত্বিক প্রেম করুণা

পাইলে দুরে যায় মনের যাতনা

পায়না যেজন তোমার কৃপা

চোখ থাকিতেও সে হারায় জ্যোতি।।

 

তোমার মুখের মধুর বাণী

শুনলে জুরায় অন্তরখানি

তাপিত পরাণ শীতল হয়

দুঃখ অনল যায় নিভি।।

      (৩২)

পুরুষ-কন্যা তোমার পায়ে পরি

      তুমি চল আমার বাড়ি

      তুমি হবে রঙ্গিলা নাও

     আমি হবো নাইয়া.....

মেয়ে- তোমরা কালো ভ্রমর

      ফুলে ফুলে মার ঠোকর

      ফুলের মধু শুকাইলে পরে

      তুমি যাবে চইলা...

পুরুষ- আমি পইরা প্রেমের ফাঁস

      হইব তোমার দাস

      পালঙ্কে বসিয়া খাবে

      ঠেঙেতে ঠেং তুইলা....

মেয়ে- তবে ধর আমার হাতে

      আমায় নিয়া চল তোমার সাথে

      কথার খেলাপ করলে পরে

      আমি যাব চইলা...

       (৩৩)

পুষ মাইসা শীতের ঠ্যালায়

শিয়াল যাইয়া গাঁতায় লুকায়

মোর দেওরাটা কেতা ছারিয়া শোয়।।

দেওরারে অ মোর দেওরা

তোর ভাই ঘুমায় নাক ডাকিয়া

আমি কাটাই রাইত জাগিয়া

শরীরটা মোর কসমস কসমস করে

তোমার মায়ে ডাকে সকাল বেলা

ওঠ বউ বলে ফাটায় গলা

চোখ মেলেনা ঘুমের জ্বালায়।।

 

তোমার ভাই যখন থাকেনা ঘরে

তখন এস আমার ঘরে

কইব দুইটা রসেরই কথা

আছে গরু বায়না হাল

থাকার চাইতে নাথাকাই ভাল

পতি থাকতেও আমার জমি 

পতিত পইরা রয়।।

        (৩৪)

ভাবে ঘোরে শোইয়া ছিলাম বেঘোরে

মন চোরা এসে নিলো মন চুরি করে।।

চড়ক পূজার মেলায় সেদিন

চুরি কিনতে গিয়া

দেখা হলো তোমার সাথে

বন্ধু বিনোদিয়া

মন সপিয়া তোমার পায়ে

আসলাম সেদিন ফিরে।।

তোমার আমার ভাবের কথা

জানলে বাপ মায়

বেরাজি হইলে হবে

প্রাণে বাঁচা দায়

তোমায় যদি না পাই বন্ধু

বাঁচব কেমন করে।।

 

      (৩৫)

সখিহে যৌবন বুজি আসিল দেহে

ছোট চেংরীটা যুবতী হইলাম

ফ্রক ছাইড়া শারী পড়লাম

মনটা আমার উরুং উরুং করে।।

 

আগে যারা (মোক) আদর করত

কোলে লইয়া চুমা খাইত

এখন তারা রাখে দূরে দূরে

এক সাথে করতাম খেলা

মারতাম কত ঠেলা গোঁতা

তারাও এখন চোখ ইশ্বারায় ডাকে।।

 

চেংরাদের সাথে গরু চড়াইতাম

নদীর জলে সাঁতার কাটতাম

বসতাম গিয়া চেংরাদের গা ঘেঁসে

এখন আমায় বাপ মায়

মাঠে না যাইতে দেয়

লোকের ডরে রাখে চোখে চোখে।।

 

খেলার সাথী যারা ছিল

একে একে সবার বিয়ে হল

চইলা গেল পরের ঘরে

যাদের সাথে খেলতাম খেলা

সবাই মোক ছাড়িয়া গেলা

কবে যাইব পরের ঘরে ।।

 

       (৩৬)

You darling, let us sing and dance

Beware of you, should not lost the chance.

Sing is joy

Dance is joy

Make the life joyous and balance.

 

Come to me and catch my hand

Make your feet and body speed movement

Look at my eye

Forget the sigh

Life will fly away at a glance.

 

What you would want in this life

You will get, only something in brief

You would take

What you get

Time and tide wait for none.

 

        সমাপ্ত

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছেলেবেলা সান্নিধ্যে আসা মুরব্বীদের সংক্ষিপ্ত পরিচয়।

ভাৰত তথা অসমৰ সাধাৰণ নিৰ্বাচনৰ সাৰাংশ-১৯৫২-২০২৪

শাস্তি (অনুবাদ উপন্যাস)