চীনের ঐতিহাসিক মসজিদ
চীনের ঐতিহাসিক মসজিদ
প্রস্তাবনা-
নিউজি মসজিদ
হাংঝো মসজিদ
কিংজিং মসজিদ,
কোয়ানঝো
ডানহুয়াং মসজিদ,
ডানহুয়াং
হুয়াসি মসজিদ
হুয়াইশেং মসজিদ
নানিং মসজিদ
দাওয়াই মসজিদ, হেইলংজিয়াং
বুকুই মসজিদ, কিকিহার
হোহোটের গ্রেট
মসজিদ
ম্যাকাও মসজিদ
টংক্সিন গ্রেট মসজিদ
ডংগুয়ান মসজিদ
হুয়াজু জিয়াং
মসজিদ
জিনান গ্রেট সাউদার্ন মসজিদ
ফুয়ু রোড মসজিদ
জিয়াওতাওয়ুয়ান মসজিদ
লাসা গ্রেট মসজিদ
ইদ কাহ মসজিদ
নাজিয়াইং মসজিদ
প্রস্তাবনা- মসজিদ হল ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের জন্য পবিত্র উপাসনালয়। চীনের প্রথম মসজিদ ছিল
গুয়াংজুতে অবস্থিত হুয়াইশেং মসজিদ। মসজিদটি ৬২৭ খ্রিস্টাব্দে তাং রাজবংশের সময়
নির্মিত হয়েছিল। ২০১৪ সালে চীনে ৩৯,১৩৫টি মসজিদ ছিল, ২০০৯
সালে উত্তর-পশ্চিম স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল জিনজিয়াংয়ে আনুমানিক ২৫,০০০টি
মসজিদ ছিল, যেখানে প্রতি ৫০০
জন মুসলমানের জন্য একটি মসজিদ ছিলো।
চীনে, মসজিদগুলিকে বলা হয় কিং ঝেন সি "বিশুদ্ধ সত্যের
মন্দির")।এই নাম চীনা ইহুদিরা সিনাগগগুলির জন্যও ব্যবহার করত। অন্যান্য নামের
মধ্যে রয়েছে হুই হুই টাং"হুই
পিপলস হল"), হুই
হুই সি "হুই
পিপলস টেম্পল"), লাই
বাই সি "উপাসনার
মন্দির", ঝেন
জিয়াও ট্রুপল শিক্ষণ" বা কিং জিং সি ( "বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন মন্দির")।
কিং
রাজবংশের সময়, হুই
মসজিদের প্রবেশপথে, একটি
ফলক স্থাপন করা হয়েছিল যার উপর "Huáng Dì Wàn Suì, Wàn Suì, Wàn Wàn Suì" খোদাই করা ছিল, যার অর্থ, "সম্রাট, তিনি চিরকাল বেঁচে থাকুন"।
ওয়ানসুই অর্থ দশ হাজার বছর, যার
অর্থ চীনা ভাষায় চিরকাল। পশ্চিম অঞ্চলের চীন ভ্রমণকারীরা ইউনান এবং নিংবোর মসজিদগুলিতে এই ফলকগুলির উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন।
বেশিরভাগ
মসজিদের একে অপরের সাথে কিছু মিল রয়েছে,
তবে অন্যান্য অঞ্চলের মতো চীনা ইসলামী স্থাপত্য স্থানীয় নিজস্ব চীনা শৈলীতে প্রতিফলিত করে। চীন তার মন্দিরের মতো
সুন্দর মসজিদগুলির জন্য বিখ্যাত। তবে, পশ্চিম চীনে মসজিদগুলি ইরান এবং মধ্য এশিয়ার মসজিদগুলির সাথে
সাদৃশ্যপূর্ণ,যেমন, লম্বা, সরু
মিনার, বক্র খিলান এবং
গম্বুজ আকৃতির ছাদের পাশাপাশি
অনন্য বহু-স্তরযুক্ত প্রবেশদ্বার। উত্তর-পশ্চিম চীনে যেখানে চীনা হুইরা তাঁদের মসজিদ তৈরি করেছে, সেখানে পূর্ব এবং পশ্চিমা শৈলীর
সংমিশ্রণ রয়েছে। মসজিদগুলিতে বৌদ্ধ শৈলীর ছাদ রয়েছে, যা প্রাচীরযুক্ত উঠোনে স্থাপন করা হয়েছে এবং ক্ষুদ্র গম্বুজ এবং
মিনার সহ খিলানপথ দিয়ে প্রবেশ করেছে।•
চীনে ইসলাম
ধর্ম- ৭ম শতাব্দী
থেকে চীনে ইসলাম ধর্ম পালন করা হচ্ছে। চীনে আনুমানিক ১৭-২৫ মিলিয়ন মুসলিম রয়েছে, যা মোট
জনসংখ্যার ২ শতাংশেরও কম। চীনে হুই মুসলিমদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মুসলিমদের
সর্বাধিক জনসংখ্যা উত্তর-পশ্চিম
চীনের জিনজিয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে বাস করে, যেখানে উল্লেখযোগ্য উইঘুর মুসলিম জনসংখ্যা
রয়েছে। মুসলিমদের উল্লেখযোগ্য
জনসংখ্যা নিংজিয়া, গানসু এবং
কিংহাই অঞ্চলে বাস করে। চীনের সরকারীভাবে স্বীকৃত ৫৫টি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে
দশটি প্রধানত সুন্নি সম্প্রদায়ের মুসলিম।•
নিউজি মসজিদ
নিউজি মসজিদ চীনের বেইজিংয়ের প্রাচীনতম
মসজিদ। এটি প্রথম ৯৯৬ সালে লিয়াও রাজবংশের সময় নির্মিত হয়েছিল এবং কিং রাজবংশের
কাংজি সম্রাট (শাসনকাল ১৬৬১–১৭২২) এর অধীনে পুনর্নির্মাণ এবং সম্প্রসারিত করা হয়েছিল।
মসজিদটি বেইজিংয়ের জিচেং জেলার নিউজি এলাকায়
অবস্থিত।মসজিদটি আশেপাশে
বসবাসকারী ১০,০০০ মুসলিমের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র এবং এটি
বেইজিংয়ের সবচেয়ে বড় এবং প্রাচীনতম মসজিদ। ২০১০ সালে জিচেং-এ একীভূত হওয়ার আগে
এটি জুয়ানউ জেলার মধ্যে ছিল। জিচেং জেলার নিউজি বেইজিংয়ের
মুসলিম অধ্যুষিত বৃহত্তম এলাকা।
নিউজি মসজিদটি প্রায় ১০,০০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। মসজিদটিতে ইসলামী এবং হান চীনা সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্যের
মিশ্রণ প্রতিফলিত হয়। বাইরে থেকে, এর স্থাপত্যে
ঐতিহ্যবাহী চীনা প্রভাব দেখা যায় এবং ভিতরে ইসলামী ক্যালিগ্রাফি এবং চীনা নকশার
মিশ্রণ রয়েছে। প্রধান প্রার্থনা কক্ষটি ৬০০ বর্গমিটার আয়তনের এবং এতে ১,০০০ জনেরও বেশি মুসল্লি ধারণ করতে পারে। কাঠ দিয়ে নির্মিত এই মসজিদটিতে কিছু
গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক নিদর্শন এবং ফলক রয়েছে। যেমন ১৬৯৪ সালে কিং রাজবংশের সম্রাটের ঘোষিত ফরমানের
খাড়া ফলক।
ইতিহাস- বেইজিংয়ের সকল মসজিদের মধ্যে বৃহত্তম
নিউজি মসজিদ। মসজিদটি প্রথম নির্মিত হয়েছিল ৯৯৬ সালে লিয়াও রাজবংশের (৯১৬-১১২৫) সময়ে।স্থানীয় মুসলিম
সম্প্রদায় ঐতিহ্যবাহী চীনা স্থাপত্য ব্যবহার করে মসজিদটি নির্মাণ করেছিল, তবে এর অভ্যন্তরে আরবি ক্যালিগ্রাফি রয়েছে। এটি মূলত একজন
ইমামের পুত্র নাজারউদ্দিন দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছিল। ১২১৫ সালে চেঙ্গিস খানের
সেনাবাহিনী দ্বারা মসজিদটি ধ্বংস হওয়ার পর, মিং রাজবংশের
সময় ১৪৪৩ সালে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
১৪৯৬ সালে মুসলিম নপুংসকরা নিউজি মসজিদ মেরামতের
জন্য অর্থ প্রদান করেছিলেন।
১৬৯৬ সালে কিং রাজবংশের অধীনে এটি
উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত করা হয়। কিং রাজবংশের সময়ে পার্শ্ববর্তী
বাজারগুলি গরুর মাংস এবং খাসির মাংসের জন্য পরিচিত ছিল। এমনকি আজও, রাস্তার ধারে
আরবি সাইনবোর্ড সহ মুসলিম মুদি দোকানগুলির উপস্থিতি এখনও বেশ ভালো। মসজিদটির আসল নাম
লুবাইসি, যা ১৪৭৪ সালে চেংহুয়া সম্রাট কর্তৃক প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু এটি অক্সেন
স্ট্রিটে অবস্থিত (নিউ মানে বলদ এবং জি মানে রাস্তা), তাই এই মসজিদটিকে কেবল নিউজি বলা হয়। এটি বর্তমান উত্তর
চীনের অন্যতম প্রধান মসজিদ।
১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর
থেকে মসজিদটি তিনবার সংস্কার করা হয়েছে, যথাক্রমে ১৯৫৫, ১৯৭৯ এবং ১৯৯৬ সালে।
২০০২ সাল পর্যন্ত, নিউজি মসজিদ সংস্কারের জন্য মাস্টার প্ল্যানে করা হয়েছিল। যেখানে বলা হয়েছিলো যে,
মসজিদটি তার বর্তমান অবস্থানেই থাকবে এবং মসজিদের চারপাশে একটি ঘাসযুক্ত এলাকা এবং
বৃহৎ বর্গক্ষেত্র তৈরি করা হবে।
স্থাপত্য- মসজিদটিতে ঐতিহ্যবাহী চীনা
স্থাপত্যের আদর্শ অনুসরণ করে নির্মাণ করা কয়েকটি ভবন রয়েছে। সিহেয়ুয়ান বিন্যাস
অনুসারে এর দুটি উঠোন রয়েছে। সুবিধাগুলির মধ্যে রয়েছে একটি উপাসনা হল, ওয়াংইউ ভবন, প্রচার শিষ্টাচার
ভবন, একটি বক্তৃতা হল, ট্যাবলেট
প্যাভিলিয়ন, টুইন প্যাভিলিয়ন এবং বাথরুম। মসজিদটিতে ৩০০
বছরেরও বেশি পুরনো একটি প্রাচীন কুরআন, আরব ঋষিদের সমাধি
এবং মিং রাজবংশের একটি ধূপ জ্বালানোর যন্ত্র রয়েছে। মসজিদটিতে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি
সহ একটি গ্রন্থাগারও রয়েছে। প্রার্থনা হলটি ক্রুশফর্ম পরিকল্পনায় প্রয়োগ করা
হয়েছিল।
পর্যটন এবং সরকারী পরিদর্শন- গণপ্রজাতন্ত্রী
চীন সরকার প্রায়শই ইসলামী দেশগুলি থেকে আগত প্রতিনিধিদের জন্য নিউজি মসজিদকে একটি
দর্শনীয় স্থান হিসেবে ব্যবহার করে। হান চীনা এবং হুই পর্যটক এবং চীনের বাইরের
মুসলিমরা পর্যটনের কারণে আসলে নিউজি মসজিদ পরিদর্শন করেন।
যদিও অমুসলিমদের নামাজের ঘরে প্রবেশের অনুমতি
নেই, মসজিদে কর্মরত লোকেরা সকল দর্শনার্থীর সাথে বেশ
বন্ধুত্বপূর্ণ করেন এবং যারা চীনা ভাষা বলতে পারেন তাঁদের সাথে কথা বলতে পেরে খুশি
হোন। মসজিদে আসা
দর্শনার্থীরা নানহেং ডব্লিউ রোড এবং জিয়াওজি হুটংয়ের কোণে অবস্থিত চীনা ইসলামিক
ইনস্টিটিউট দর্শনের জন্যও আগ্রহী হতে পারেন।
পরিবহন- বেইজিং সাবওয়ের
কাইশিকো স্টেশনের দক্ষিণ-পশ্চিমে হাঁটার দূরত্বে মসজিদটি অবস্থিত।•
হাংঝো মসজিদ
হাংঝো মসজিদ ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝোতে অবস্থিত। হাংঝো মসজিদটি চীনের বৃহত্তম মসজিদগুলির মধ্যে একটি।
মসজিদটিতে হাংঝো ইসলামিক সোসাইটিও রয়েছে।
ইতিহাস- পূর্বে হাংঝোতে শুধুমাত্র
ফিনিক্স মসজিদটি ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে হাংঝোতে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি
পাওয়ার ফলে একটি নতুন মসজিদের প্রয়োজনীয়তা জরুরি হয়ে পড়েছিলো। সেজন্য হাংঝো মসজিদটি
২০১১ সালে প্রধান নির্মাণ প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং পরের
বছর এটি হাংঝো উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছিল। ২০১২ সালের ১২ অক্টোবর
তারিখে মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদটির নির্মাণ কাজ ২০১৬ সালে সম্পন্ন হয়েছে
এবং ২০১৭ সালের মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের জন্য খোলা হয়েছে।
পরিবহন- হাংঝোর পূর্ব রেলওয়ে স্টেশনের
দক্ষিণে হাঁটার দূরত্বে হাংঝো মসজিদটি অবস্থিত।•
কিংজিং
মসজিদ, কোয়ানঝো
কিংজিং মসজিদটি আসহাব মসজিদ নামেও পরিচিত। মসজিদটি চীনের ফুজিয়ানের
কোয়ানঝো শহরের তুমেন স্ট্রিটে অবস্থিত। সং এবং ইউয়ান রাজবংশের ধর্মীয় তাৎপর্য, চীনের মধ্যযুগীয়
সামুদ্রিক বাণিজ্যের গুরুত্ব এবং সেই সময়ে বিশ্বব্যাপী সংস্কৃতির আদান-প্রদানের
কারণে মসজিদটি কোয়ানঝো এবং এর আশেপাশের অন্যান্য স্থানের সাথে ২০২১ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব
ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইতিহাস- ১০০৯ সালে আরব শৈলীতে নির্মিত মসজিদটি
চীনের প্রাচীনতম মসজিদগুলির একটি।
স্থাপত্য- মসজিদটির আয়তন ২,৫০০ বর্গমিটার।উপকূলীয় শহরগুলিতে আরব বণিক সম্প্রদায়ের উপাসনার কারণে সং
রাজবংশের মসজিদ দ্বারা এই মসজিদটি আরব শৈলীতে নির্মাণ করা হয়েছিল।কোয়ানঝো
কিংজিংসি মসজিদের শিলালিপিতে আরবি ভাষার প্রাধান্য ছিল।•
ডানহুয়াং
মসজিদ, ডানহুয়াং
ডানহুয়াং মসজিদটি চীনের গানসু প্রদেশের
ডানহুয়াং শহরের একটি মসজিদ।
ইতিহাস- মসজিদটি মূলত মিং রাজবংশের
আমলে নির্মিত হয়েছিল এবং ১৯১৭ সালে পুনর্নির্মিত হয়েছে।
স্থাপত্য- মসজিদটিতে একটি প্রধান হল
এবং দুটি পার্শ্ব হল রয়েছে। প্রধান হলটি পশ্চিমে অবস্থিত। হলের উত্তর এবং দক্ষিণ
দিকগুলি মূল হলের সাথে সংযুক্ত। প্রধান হলের পিছনে দ্বিতল ভবন এবং
ইমামদের জন্য বসার ঘর রয়েছে।•
হুয়াসি মসজিদ
হুয়াসি মসজিদটি চীনের মিং রাজবংশের চেংহুয়া
সম্রাটের (শাসনকাল ১৪৬৫-১৪৮৭) রাজত্বকালে নির্মিত হয়েছিল। বৌদ্ধ মন্দির এবং
রাজপ্রাসাদ ছিল মসজিদটির নির্মাণের স্থাপত্য। এটি পশ্চিম ফিনিক্স উড টাউনে
বসবাসকারী মুসলমানদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল, যা বর্তমানে
গানসুর লিনক্সিয়া শহরের বাফাং এলাকায় অবস্থিত। ১৯২৭ সালে মুসলিম জেনারেলদের একটি জোঁট
গুওমিনজুনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলে গানসুতে মুসলিম সংঘাত শুরু হয়েছিলো। সেই সংঘাতের সময় ১৯২৮ সালে ভবনটি ধ্বংস করে দিয়েছিলো। ১৯৪১ সালে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। পুনর্নির্মাণের পর মসজিদটি ৫ মিউ ("৫ মিউ" বলতে ৩,৩৩৩.৩৫ বর্গমিটার (অথবা ০.৩৩ হেক্টর) বোঝায়, কারণ এক মিউ হল চীনের মূল ভূখণ্ডে প্রায় ৬৬৬.৬৭
বর্গমিটারের সমান ভূমির ঐতিহ্যবাহী চীনা একক।) আয়তনের হয়েছে এবং বর্তমান ২০০০ মুসুল্লি ধারণ করতে সক্ষম।•
হুয়াইশেং মসজিদ
হুয়াইশেং মসজিদটি লাইটহাউস মসজিদ এবং
ক্যান্টনের গ্রেট মসজিদ নামেও পরিচিত। মসজিদটি গুয়াংজুর প্রধান
মসজিদ। কিছু ঐতিহাসিক গ্রন্থ দাবি করে যে, মসজিদটি ৭ম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল, তবে আধুনিক পণ্ডিতদের
মতানুসারে অনুসারে মসজিদটির ভিত্তি তাং বা সং রাজবংশের পরবর্তী সময়ে স্থাপন করা
হয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে
মসজিদটি বহুবার পুনর্নির্মিত হয়েছে ।
চীনের মসজিদের সবচেয়ে
অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হল এর সূক্ষ্ম ৩৬ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট মিনার। এই মিনারগুলি সাধারণত
মসজিদের সাথে সংলগ্নভাবে নির্মিত হয়। মিনারগুলি সাধারণত মুয়াজ্জিনের আযানের জন্য
ব্যবহৃত হয়। তবে এগুলি ইসলামের উপস্থিতির ল্যান্ডমার্ক এবং প্রতীক হিসেবেও কাজ করে।
ইতিহাস- পুরাতন চীনা মুসলিম পাণ্ডুলিপি
অনুসারে মসজিদটি ৬২৭ সালে সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস
দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।তিনি নবীর একজন সাহাবী ছিলেন এবং সম্ভবত ৬২০-এর দশকে চীনে এসেছিলেন। কিন্তু আধুনিক
ধর্মনিরপেক্ষ পণ্ডিতরা সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস
প্রকৃতপক্ষে চীন ভ্রমণ করেছিলেন বলে এমন কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ খুঁজে পাননি। তাঁরা একমত যে, মুসলিমরা প্রথম ৭ম শতাব্দীর
মধ্যে চীনে এসেছিলেন এবং গুয়াংজু, কোয়ানঝো এবং
ইয়াংঝো-এর মতো প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্রগুলিতে সম্ভবত ইতিমধ্যেই তাং রাজবংশের সময়
প্রথম মসজিদ নির্মিত হয়েছিল।তবে, এই বিষয়ে প্রমাণ দেওয়ার মতে কোনও নির্ভরযোগ্য সূত্র
এখনও পাওয়া যায়নি।
মিনারের উচ্চতা ৩৬ মিটার এবং এতে দুটি তলা
রয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত এটি শহরের সবচেয়ে উঁচু ভবন ছিল। মধ্যযুগে মিনারটি বিভিন্ন
কাজে ব্যবহৃত হত, যেমন বাতিঘর, বায়ুচলাচল
যন্ত্র এবং নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার হিসাবে।
খুব সম্ভবত সং রাজবংশের প্রাথমিক বছরগুলিতে মসজিদটি
বিদ্যমান ছিল। ১৩৪৯ সালে প্রথম কোরিয়ান মুসলিম রমজান ইবনে আলাউদ্দিনকে মসজিদের
কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছিল। আগুনে ধ্বংস হওয়ার পর ১৩৫০ সালে এবং তারপর ১৬৯৫
সালে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। হুয়াইশেং লাইট টাওয়ার বা মিনারটি আরও
আগে নির্মিত হয়েছিল। ১৯ শতকের শেষের দিকে, মিনার টাওয়ারটি
গুয়াংজুর অন্যতম প্রধান নিদর্শন ছিল।
তাতার ভ্রমণকারী আবদুর রশিদ ইব্রাহিম, যিনি মসজিদের একজন আখুন্দ(আখুন্দ হলো ইসলামী পণ্ডিতদের
ফারসি উপাধি, যা ইরান, আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আজারবাইজানে প্রচলিত। অনুরূপ মুসলিম পণ্ডিতদের
অন্যান্য উপাধির মধ্যে রয়েছে শেখ এবং মোল্লা।) পরিচিত ছিলেন। তিনি এই মসজিদটি সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস দ্বারা নির্মিত হয়েছিলো,
এই দাবি অস্বীকার করেছিলেন। তিনি এটিকে একটি অদ্ভুত ধারণা বলে অভিহিত করেছেন:-
এই ইতিহাস চীনাদের কাছে অবিসংবাদিত এবং তাঁদের
বোঝানো অসম্ভব বলে মনে হয় যে এটি সত্য নয়..... সা'দ বিন ভাক্কাস
ছিলেন একজন মহান সাহাবী এবং জান্নাতের প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর মধ্যে একজন
বিখ্যাত ব্যক্তি। সেজন্য তাঁর জীবনী মুসলমানদের কাছে সুপরিচিত। যদি ভাক্কাস আরব থেকে চীনে একজন
দূত হিসেবে আসতেন, তাহলে মহান হাদিস পণ্ডিতরা এই বিষয়টি লিপিবদ্ধ
করতেন... কারণ আমাদের নবী মুহাম্মদ(সাঃ)এর যুগে যা কিছু ঘটেছিল তা সামান্যতম বিবরণ
উপেক্ষা না করেই লিখে রাখতে হত। যদি এভাবে চীনে একজন দূত পাঠানো হত, তাহলে হাদিস পণ্ডিতরাঁ তা লিপিবদ্ধ করা উচিত ছিল।"
পরিবহন- মসজিদটি গুয়াংজু মেট্রোর
জিমেনকো স্টেশনের দক্ষিণ-পূর্বে হাঁটার দূরত্বে অবস্থিত।•
নানিং
মসজিদ
নানিং মসজিদ চীনের জিংনিং জেলার গুয়াংজির
নানিং সিটির ঐতিহাসিক মসজিদ।
ইতিহাস- মসজিদটি মূলত ১৬৪৪ থেকে ১৬৬১
সালের মধ্যে চিং রাজবংশের শুনঝি সম্রাটের রাজত্বকালে নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৭১৭
সালে মসজিদটি তার বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়েছিলো। ১৯৬৬-১৯৭৬ সালে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময়
মসজিদটি বন্ধ এবং ধ্বংস করা হয়েছিলো এবং ১৯৮১ সালে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থাপত্য- মসজিদটি একটি তিনতলা ভবন। মসজিদটি ১,৮৯০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। মসজিদটিতে প্রায় ২০০ জন মুসুল্লি একসাথে নামাজ পড়তে পারে। এটি আরবি শৈলীতে নির্মিত। মসজিদটির ছাদ শঙ্কু
আকৃতির এবং দরজা এবং জানালা খিলান-শৈলীর। প্রথম তলাটি রেস্তোরাঁ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় তলাটি
সভা কক্ষ,
অফিস কক্ষ এবং ছাত্রাবাস কক্ষের জন্য ব্যবহৃত
হয়। তৃতীয় তলাটি প্রার্থনা কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।•
দাওয়াই মসজিদ, হেইলংজিয়াং
দাওয়াই মসজিদ বা হারবিন মসজিদ চীনের হারবিন, হেইলংজিয়াং, দাওয়াই জেলার
একটি মসজিদ। মসজিদটি হেইলংজিয়াং-এর বৃহত্তম মসজিদ।
ইতিহাস- মসজিদটি মূলত ১৮৯৭
সালে কিং রাজবংশের গুয়াংজু সম্রাটের সময়ে
নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০০৩ সালে মসজিদটি সম্প্ৰসারণ করা হয়েছে।
স্থাপত্য- মসজিদটিতে নামাজের জন্য নামাজ
কক্ষ, অফিস এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। মসজিদটি ৪২৬ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে
বিস্তৃত। নামাজের
জন্য নির্দ্ধারিত কক্ষটি (হলটি) মূল ফটকের
বিপরীতে ভবনের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। মসজিদটিতে এক সাথে ৬০০ জন পর্যন্ত মুসুল্লি নামাজ পড়তে
পারেন।•
বুকুই মসজিদ, কিকিহার
বুকুই মসজিদটি চীনের হেইলংজিয়াংয়ের কিকিহারে
অবস্থিত। মসজিদটি বুকুই
স্ট্রিটের কাছে মসজিদ রোডে অবস্থিত। মসজিদটি চিং রাজবংশের সময় নির্মিত হয়েছিল এবং
২০০৬ সালে জাতীয় পর্যায়ে এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যের জন্য সুরক্ষিত প্রধান
স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মসজিদটি হেইলংজিয়াংয়ের বৃহত্তম এবং প্রাচীনতম মসজিদ।
ইতিহাস এবং কাঠামো- "বুকুই"
নামটি "পবিত্র" অর্থে "দাউর" চীনা শব্দের প্রতিলিপি। বুকুই
মসজিদ মূলত দুটি পৃথক মসজিদ নিয়ে গঠিত:
পূর্বের মসজিদটি তিন তলা বিশিষ্ট ৩৭৪ বর্গমিটার এলেকা জুড়ে বিস্তৃত একটি ভবন। ভবনটি কিকিহার শহরের চেয়ে
সাত বছর আগে ১৬৮৪ সালে নির্মিত হয়েছিল।
পশ্চিমের মসজিদটি একটি দুই তলা
বিশিষ্ট ১৭৩ বর্গমিটারের একটি ভবন। ভবনটি ১৮৫২ সালে গানসু থেকে অভিবাসী জাহরিয়া মেনহুয়ানের অনুসারীদের
দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।
মসজিদটি প্রায় ২০০০ বর্গমিটার এলেকা জুড়ে
বিস্তৃত এবং পুরো প্রাঙ্গণটি প্রায় ৬৪০০বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। দুটি নামাজের স্থানে একসাথে মোট প্রায় ৪৫০ জন মুসুল্লি ধারণ করতে পারে।
মসজিদটির দীর্ঘ ইতিহাসে কিকিহারে একটি কথা
প্রচলিত আছে:- "বুকুই শহরের অনেক আগে থেকেই মসজিদটির অস্তিত্ব ছিল"। ১৯৫৮
সালে দুটি মসজিদকে একটি একক মসজিদ হিসেবে পুনর্গঠিত করা হয়েছিলো এবং নামকরণ করা
হয়েছিলো "কিকিহার মসজিদ"। ১৯৮০ সালে মসজিদটিকে শহর-স্তরের সুরক্ষিত
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ১৯৮১ সালে প্রাদেশিক-স্তরের সুরক্ষিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এরপর মসজিদটির নাম "বুকুই মসজিদ" রাখা হয়েছে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে পূর্বের মসজিদটি তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায়
থাকলেও পশ্চিমের মসজিদের গুরুতর কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। ১৯৮৯-১৯৯০ সালে মসজিদটি পুনর্গঠন
করা হয়েছে। ২০০৬ সালের ২৫
জুনে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাজ্য পরিষদ জাতীয় পর্যায়ে সুরক্ষিত প্রধান
স্থানগুলির ষষ্ঠ ব্যাচের তালিকায় বুকুই মসজিদকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।•
হোহোটের
গ্রেট মসজিদ
হোহোটের গ্রেট মসজিদ চীনের মঙ্গোলিয়ার
হোহোটের হুইমিন জেলার একটি মসজিদ। মসজিদটি মঙ্গোলিয়ার প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম
মসজিদ।
ইতিহাস- হোহোটের গ্রেট মসজিদটি ১৬৯৩
সালে হুই জনগণ দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছিলেন। এরপর মসজিদটি ১৭৮৯ এবং ১৯২৩ সালে
সংস্কার করা হয়েছিল।
স্থাপত্য- চীনা-ইসলামিক স্থাপত্য
ব্যবহার করে মসজিদটির নকশা করা হয়েছিল এবং মসজিদটি কালো ইট দিয়ে নির্মাণ করা
হয়েছিল। মসজিদটি ৪,০০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। মসজিদটিতে
১৫ মিটার উঁচু একটি মিনার এবং একটি পাবলিক স্নানাগার রয়েছে।
মসজিদের অভ্যন্তরের স্থাপত্য- মসজিদে
একটি বক্তৃতা হল এবং একটি প্রার্থনা হল রয়েছে। মসজিদটিতে একটি চারতলাবিশিষ্ট
টাওয়ার রয়েছে।•
ম্যাকাও মসজিদ
ম্যাকাও মসজিদ এবং কবরস্থান- ম্যাকাও
মসজিদ এবং মুসলিম কবরস্থান চীনের নোসা সেনহোরা দে ফাতিমার প্যারিশে অবস্থিত।
ইতিহাস- বিশ্বাস করা হয় যে ম্যাকাও
মসজিদটি পর্তুগিজ সেনাবাহিনীর সাথে আসা মুসলমানদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। মূলত, এই মুসলিমদের সেনাবাহিনী দক্ষিণ এশিয়া থেকে নিয়োগ করা হয়েছিল।
মসজিদ এলাকার মধ্যে মুসলিম কবরস্থানও রয়েছে, যার কিছু সমাধি শত শত বছর পুরানা। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, ইসলাম শত
শত বছর আগে থেকেই ম্যাকাওতে ছিল।
১৯৯৬ সালে, আইএএম(IAM (পরিচয় এবং অ্যাক্সেস ম্যানেজমেন্ট) হল নীতি, প্রক্রিয়া এবং প্রযুক্তির কাঠামো) মসজিদটির পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা প্রস্তুত করে পর্তুগিজ
ম্যাকাও সরকারের কাছে জমা দিয়েছিল, কিন্তু তা তখন অনুমোদিত হয়নি। ম্যাকাওতে
ক্রমবর্ধমান মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ২০০৬ সালে আইএএম
বর্তমান মসজিদ ভবনের সংলগ্ন এলাকায় একটি নতুন বৃহত্তর মসজিদ নির্মাণের জন্য
সরকারি অনুমতির জন্য আবেদন করে এবং ২০০৭ সালের শেষের দিকে ম্যাকাও মসজিদটি
সংস্কার করা হয়।
ম্যাকাওর জন্য দ্বিগুণ আকারের ৫০ মিটার উঁচু
নতুন মসজিদ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। যার মোট আয়তন হবে ১,৮৮১ বর্গমিটার এবং ৬০০ জন
পর্যন্ত মুসল্লি এক সাথে নামাজ পড়তে পারবে।মসজিদটিতে একটি ইসলামিক সেন্টার, সস্তা রেস্তোরাঁ, ৩০ কক্ষ বিশিষ্ট
হোস্টেল এবং শ্রেণীকক্ষ এবং ১২৭ মিটার উঁচু ৩৮ তলা আবাসিক ভবনও নির্মিত হবে।
কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে ম্যাকাও সরকার
মসজিদটি এক মাসের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলো।
স্থাপত্য- ম্যাকাও মসজিদ ও কবরস্থান
এলাকা, মসজিদের বর্ধিত এলাকা, কবরস্থান, ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অফ ম্যাকাওর সদর দপ্তর, ওযু স্থান, ব্যাডমিন্টন
কোর্ট এবং খেলার মাঠ নিয়ে গঠিত। ম্যাকাও মসজিদের আয়তন প্রায় ৬.৫ মিটার x ১২ মিটার, যেখানে প্রায় ১০০ জন মুসল্লি এক সাথে নামাজ আদায়
করতে পারে। ম্যাকাও মসজিদ এবং কবরস্থানের প্রবেশদ্বারটি হালিমা বিন্তে শেখ কর্তৃক
১৯৭৩ সালের ২৭ জুন আদম শেখের স্মরণে দান করা হয়েছিল।
কার্যক্রম- ম্যাকাও মসজিদে ইসলামিক
অ্যাসোসিয়েশন অফ ম্যাকাও এর সদর দপ্তর অবস্থিত। এই সমিতি মসজিদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা
করে। এই সমিতিটি ১৯৩৫ সালে পর্তুগিজ ম্যাকাও(চীনের শহর ম্যাকাও যখন পর্তুগিজদের
উপনিবেশ ছিল, তখন এর নাম ছিল পর্তুগিজ
ম্যাকাও, ১৫৫৭ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল
পর্যন্ত এটি এই মর্যাদা বজায় রেখেছিল।)তে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই সমিতিটি হংকংয়ের ইসলামিক ইউনিয়ন অফ হংকং দ্বারা
আর্থিকভাবে সহায়তা প্রাপ্ত।
সপ্তাহের দিনগুলিতে বিবাহের জন্য এবং ঈদুল
আযহার মতো বড় বড় ইসলামিক উৎসবের সময় এবং রবিবারের ছুটির দিনে মসজিদে অনেক বেশি
লোক আসেন। তাঁদের বেশিরভাগই কুরআন পাঠ বা ইসলামিক অধ্যয়নের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
ঈদুল আযহার সময়, মুসলমানরা গরু কোরবানি করে এবং ম্যাকাও স্লটার
হাউসে(কসাই খানা) জবাই করে।
পরিবহন- ভবিষ্যতে ম্যাকাও মসজিদ
এবং কবরস্থানের জন্য ম্যাকাও এলআরটি(ম্যাকাও এলআরটি প্রকল্প হল একটি হালকা
দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা যা ম্যাকাও জুড়ে দক্ষ, স্বয়ংক্রিয় গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রদানের জন্য ডিজাইন করা
হয়েছে)-এর জোনা দো নর্ডেস্ট
স্টেশন থেকে পরিষেবা প্রদান করা হবে। তবে, বর্তমান এলআরটি
ম্যাকাও লাইন প্রকল্পটি স্থগিত রাখা হয়েছে।•
টংক্সিন গ্রেট মসজিদ
টংক্সিন গ্রেট মসজিদ চীনের টংক্সিন কাউন্টি, উঝং সিটি, নিংজিয়া হুই
স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলত অবস্থিত। মসজিদটি নিংজিয়ার প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম মসজিদ।
ইতিহাস- মসজিদটি সম্ভবত চৌদ্দ শতকে
ইউয়ান রাজবংশের সময় নির্মিত হয়েছিল। এটি মূলত একটি মঙ্গোলীয় বৌদ্ধ মন্দির ছিল,
যা ১৩৬৮ সালে ইউয়ান রাজবংশের পতনের পর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিলো। মিং রাজবংশের
প্রথম দিকে এটিকে মসজিদ হিসেবে পুনর্নির্মাণ করা হয়। ষোড়শ শতাব্দীতে ১৭৯১ এবং ১৯০৭
সালে মসজিদটির বড় ধরনের সংস্কার করা হয়েছে।১৯৩৬ সালে মসজিদটি অধিক সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ১৯৩৬ সালে চীনা শ্রমিক ও কৃষকদের লাল বাহিনী নিংজিয়ার এলাকা মুক্ত করার জন্য
পশ্চিম দিকে অভিযান চালানোর সময় তারা এই মসজিদে স্থানীয় জনগণের সাথে একটি বৈঠক
করেছিলো। তারা শাঙ্গানিংএ
ইউহাই কাউন্টি পিপলস গভর্নমেন্টও প্রতিষ্ঠা করেছিলো। ১৯৮৩ সালে মসজিদটিকে রাজ্য পরিষদ কর্তৃক জাতীয়
মূল সাংস্কৃতিক ধ্বংসাবশেষ সুরক্ষা ইউনিট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।বর্তমান মসজিদটি
ইহিওয়ানি সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্কিত।
স্থাপত্য- মসজিদটি হান শৈলীতে নির্মিত এবং ইসলামী
শৈলীতে সজ্জিত। মসজিদটি হান এবং হুই সংস্কৃতির সংমিশ্রণ প্রদর্শন করে। ভবনটি
সাত মিটার উঁচু একটি নীলাভ প্ল্যাটফর্মের উপর নির্মিত হয়েছিল।সামনের গেটে একটি
কাঠের কাজের প্রবেশ প্রাচীর রয়েছে।
প্রধান প্রার্থনা হল এবং দুটি সংযোগকারী
হল নিয়ে গঠিত মূল ভবনটিতে ১,০০০ জন মুসুল্লির নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে।মসজিদের
পিছনে একটি কবরস্থান রয়েছে যেখানে দুই সুফি সাধকের মাজারও রয়েছে।
পরিবহন- ইঞ্চুয়ান রেলওয়ে স্টেশন থেকে বাসে করে মসজিদে যাওয়া
যায়।•
ডংগুয়ান মসজিদ
ডংগুয়ান মসজিদ চীনের কিংহাই প্রদেশের জিনিং-এ
অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ।মসজিদটি কিংহাইয়ের বৃহত্তম মসজিদ।
ইতিহাস- মসজিদটি মূলত ১৩৮০ সালে নির্মিত
হয়েছিল এবং প্রশস্ত ভবনের বাইরের দিকে রঙিন সাদা খিলান(ইট বা পাথরের অর্ধ
গোলাকার গাঁথনি) ছিল। মসজিদটিতে একটি সবুজ এবং সাদা গম্বুজ এবং দুটি উঁচু
মিনার ছিল। ১৯ শতকের শেষের দিকে এবং ২০ শতকের গোড়ার দিকে মসজিদটির সংস্কার করা
হয়েছিল। এর কিছুদিন পরেই, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে মসজিদটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিলো। তবে, ২০ শতকের বাকি সময়
জুড়ে মসজিদটির সংস্কার অব্যাহত ছিল।
জেনারেল মা কিউ এবং মা বুফাং যখন কিংহাইয়ের
সামরিক গভর্নর ছিলেন, তখন তাঁরা গ্রেট ডংগুয়ান মসজিদটি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন।
১৯৮৯ সালে ইসলাম এবং চীনা মুসলমানদের
অবমাননাকারী একটি বইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য কয়েক হাজার মুসলিম মসজিদের
চারপাশে জড়ো হয়েছিল। ১৯৯৩ সালের অক্টোবরে, মসজিদের এলেকাধীন মুসলমানরা আরেকটি বইয়ের বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল করেছিল; তখন চীনা সেনাবাহিনী মসজিদে হামলা চালিয়েছিলো এবং
বিক্ষোভকারীদের উচ্ছেদ করেছিলো।
জানা যায় যে ২০০০ সালে নির্মিত মসজিদের সবুজ
গম্বুজ এবং মিনারগুলি পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে ২০২১ সালে অপসারণ করা হয়েছে। কিছু
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সিসিপি কর্তৃক চীনাকরণের প্রচেষ্টায় কাঠামোটিকে আরও
"চীনা" দেখানোর জন্য এই অপসারণ করা হয়েছে এবং অন্যরা বলেছে যে, এটিকে
তার মূল চীনা স্থানীয়করণ শৈলীতে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের ব্যবস্থাপনা
কমিটি বলেছে যে, অপসারণ করা অংশ সাংস্কৃতিক নিদর্শন হিসাবে মূল কাঠামোর অংশ ছিল না,
সেজন্য অপসারণ করা হয়েছে। সেজন্য
গুজব না ছড়ানোর জন্য এবং বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য লোকদের তাঁরা সতর্ক করেছিলেন।•
হুয়াজু জিয়াং মসজিদ
৩০ হুয়াজু লেনে অবস্থিত হওয়ার জন্য মসজিদটি
হুয়াজু জিয়াং মসজিদ বা হুয়াজু জিয়াং কিংঝেনসি মসজিদ নামেও পরিচিত। মসজিদটিকে
কখনও কখনও গ্রেট ইস্টার্ন মসজিদ দং দাসিও বলা হয়, কারণ
এটি শি'আন মুসলিম কোয়ার্টারের পূর্ব অংশে অবস্থিত। শি'আন মুসলিম কোয়ার্টারের "পূর্ব অংশ" একটি
সুনির্দিষ্ট সরকারী শব্দ নয়,
তবে এটি সম্ভবত হুয়াজুয়ে লেনের
(হুয়াজুয়ে জিয়াং) আশেপাশের এলাকাকে বোঝায়, যেখানে
শি'আনের গ্রেট মসজিদটি অবস্থিত।
ইতিহাস এবং
ব্যবহার- চীনের তাং রাজবংশের বিশ্বজনীন রাজধানী
হিসেবে চাং'আনে বণিক এবং কারিগর সম্প্রদায়ের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা
ছিল। তাঁদের অনেকেই আজকের পশ্চিম এশিয়া থেকে চীনে এসেছিলেন। সম্রাট জুয়ানজং ৭৪২
খ্রিস্টাব্দের দিকে আদেশ দিয়েছিলেন যে, শহরে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি
উপাসনালয় নির্মাণ করা হবে। যুক্তি দেওয়া হয়েছিলো যে, প্রায় একই সময়ে, কোয়ানঝো এবং
গুয়াংজুতে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছিল। প্রমাণ রয়েছে যে,
সং রাজবংশের সময় প্রাথমিক মসজিদটি ব্যবহৃত হত কারণ সং সরকার কর্তৃক জারি করা
মসজিদে একটি রাজকীয় ফলক স্থাপন করা হয়েছিল।
তাং রাজবংশ এবং পরে সং রাজবংশের পতনের কারণে তাং রাজবংশ দ্বারা নির্মিত মূল মসজিদের বেশিরভাগ অংশ টিকে
থাকেনি। আধুনিক রূপ নেওয়ার আগে মসজিদটি কমপক্ষে চারবার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল।
১২৬০ সালের দিকে তৎকালীন ক্ষয়িষ্ণু
মসজিদটি ইউয়ান সরকার হুইহুই ওয়ানশানসি নামে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিলো।
সং রাজবংশের সম্রাট শেনজং কর্তৃক লিখিত
"তাওয়ের মঞ্চ" ফলক রয়েছে।
এই ফলকটি প্রমাণ করে যে, মূল তাংমিংসি প্রাথমিক
ভবনটি সং রাজবংশের সময় ব্যবহৃত হয়েছিল। এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের মূলধারার হান
চীনা সম্প্রদায়ের সাথে একীভূত হওয়ার জন্য যথেষ্ট চেষ্টাও করেছিলো এবং তাঁরা
এই কাজে সফলও হয়েছিলো।
চীনের মঙ্গোল বিজয়ের ফলে চীনে মুসলমানদের
একটি বিশাল অভিবাসন দেখা গিয়েছিলো।
মঙ্গোল ইউয়ান শাসকরা তাঁদের অনেককে
চীনে আমলা এবং বণিক হিসেবে স্থানান্তরিত করেছিলো। মঙ্গোল
শাসক দ্বারা চীনে আনা বিদেশীরা প্রায়শই
মুসলিম সম্প্রদায়ের হত এবং চীনা ভাষায় তাঁরা রঙিন চোখের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিল। তাঁদের অনেককেই কারা-খানিদ জিনজিয়াং এবং পারস্যের মতো
ইসলামীকরণকৃত অঞ্চল থেকে আনা হয়েছিল। চীনে স্থানান্তরিত হওয়া এবং স্থায়ীভাবে
বসতি স্থাপন করা সত্ত্বেও, অনেক মুসলিম অভিবাসী তাঁদের বংশধর তাঁদের ইসলামী বিশ্বাস
বা "বিদেশী" পরিচয় ত্যাগ করেননি। এই নতুন চীনা বাসিন্দাদের অনেকেই
স্থানীয় হান জনগোষ্ঠীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং চীনে জিনগতভাবে জাতিগত
বৈচিত্র্যময় হুই জনগোষ্ঠীর ভিত্তি গঠন এবং সুসংহত হয়।
মিং রাজবংশের সময় পুনর্গঠন- তাং রাজবংশের
পতনের সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত জিয়ান শহরটি ১৩৭৮ খ্রিস্টাব্দে মিং রাজবংশের সময়
পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। সম্রাট হংউয়ের রাজত্বকালে সাম্রাজ্যবাদী সরকার মূল
মসজিদটিকে তার সমসাময়িক রূপে পুনর্নির্মাণের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল। কিং রাজবংশের
সময়ে মসজিদটিতে আরও কিছু সংযোজন করা হয়েছিলো, যার মধ্যে মসজিদের সামনের ফটক, পাইফাং(পাইফাং, যা
পাইলু নামেও পরিচিত, চীনা স্থাপত্যের একটি ঐতিহ্যবাহী শৈলী, যা
প্রায়শই খিলান বা প্রবেশপথের কাঠামোতে ব্যবহৃত হয়।) এবং সেবিল(সেবিল হলো একটি পাবলিক ওয়াটার ডিসপেনসারি, যা অনেক শহরে, বিশেষ করে অটোমান এবং
মামলুক সাম্রাজ্যের মধ্যে পাওয়া যায়। এগুলি
ইসলামী স্থাপত্যের একটি ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্য।) অন্তর্ভুক্ত ছিল। মসজিদে সরকারী
পৃষ্ঠপোষকতার প্রমাণ হিসেবে মসজিদে স্থাপন করা ফলক রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মিং রাজবংশের সময়
১৬০৬ সালে মসজিদ পুনর্গঠনের ঘোষণাপত্র উল্লেখ করে একটি ফলক সেখানে স্থাপন করা হয়েছিল।
১৭৬৮ সালে কিং সরকার মসজিদটি ঠিক করার সময়ে আরেকটি ঘোষণাপত্র ফলক স্থাপন করেছিল।
ব্যাপকভাবে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, যদিও হুই সম্প্রদায়
মূলত তাদের ধর্মীয় পরিচয় মেনে চলে, তারা মিং এবং পরবর্তীকালে চিং সরকারের উৎসাহিত মূলধারার
হান চীনা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আকর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে গ্রহণ করে।[5] তবে, ডুঙ্গান বিদ্রোহের
(১৮৬২-১৮৭৭) পরে ইসলাম পালনের উপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা মুসলিম এবং হান
চীনাদের মধ্যে জাতিগত ও ধর্মীয় উত্তেজনার কারণে শুরু হয়েছিল। এই বিদ্রোহ উভয়
পক্ষ থেকে দাঙ্গা এবং গণহত্যার দিকে পরিচালিত করে। ডুঙ্গান বিদ্রোহের পর চিং সরকার
মুসলিমদের উপাসনার স্বাধীনতা সীমিত করে। পশু জবাই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। নতুন মসজিদ
নির্মাণ এবং মক্কায় তীর্থযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল,[5] যদিও চিং রাজবংশের
পতনের পর এই বিধিনিষেধগুলি তুলে নেওয়া হয়েছিল। আজ, শি'আনের গ্রেট মসজিদ এবং এর আশেপাশের এলাকা শি'আনের হুই জনগোষ্ঠীর
কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।
১৯৫৬ সালের ৬ আগস্ট তারিখে শি'আনের গ্রেট মসজিদকে
শানসি প্রদেশ পর্যায়ে সুরক্ষিত ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিলো
বলে ফলকটি থেকে জানা যায়।
১৯৫৬ সালে, গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকার মসজিদটিকে শানসি প্রদেশ পর্যায়ে
সুরক্ষিত একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছিলো যদিও সাংস্কৃতিক
বিপ্লবের সময়, চীনের মূল ভূখণ্ডের অন্যান্য সমস্ত ধর্মীয় স্থাপনার মতো, এই মসজিদটিও
সাময়িকভাবে বন্ধ করে ইস্পাত কারখানায় রূপান্তরিত করা হয়েছিলো।১৯৭৬
সালে মাও সে তুংয়ের মৃত্যুর পর, ধর্মীয় কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয় এবং ১৯৮৮ সালে
মসজিদটিকে জাতীয় পর্যায়ে সুরক্ষিত প্রধান ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান হিসেবে
উন্নীত করা হয়। ১৯৯৭ সালে, এটি শি'আনের শীর্ষ ১০টি পর্যটন আকর্ষণের মধ্যে একটি হিসেবে
নির্বাচিত হয়েছিলো।
আধুনিক ব্যবহার- বর্তমান মসজিদটি চীনা মুসলমানদের, মূলত হুই সম্প্রদায়ের, উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শি'আনের গ্রেট মসজিদটি
হানাফি সম্প্রদায়ের সুন্নি ইসলামিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে।
শি'আনের গ্রেট মসজিদের প্রধান প্রার্থনা কক্ষে ১,০০০ জন লোকের এক সাথে
নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে যদিও বর্তমান মাত্র ১০০ জন উপাসক শুক্রবারের নামাজে অংশগ্রহণ
করেন। দর্শনার্থী এবং পর্যটকরা প্রবেশের জন্য সামান্য প্রবেশমূল্য দিতে হয় এবং পর্যটকরা
বাগান এবং স্টিলগুলি(ভাস্কুলার উদ্ভিদের কাণ্ড এবং মূলের কেন্দ্রীয় কেন্দ্র, যা ভাস্কুলার টিস্যু
(জাইলেম এবং ফ্লোয়েম) এবং সংশ্লিষ্ট সহায়ক টিস্যু নিয়ে গঠিত।) দেখতে পারেন। তবে
অমুসলিমদের প্রার্থনা কক্ষে প্রবেশের অনুমতি নেই।
বর্তমান মসজিদটি কেবল শহরের মুসলমানদের জন্য
একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং শি'আনের সকল নাগরিকের জন্য একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থান।
মসজিদটি অতীতে শহরের জাতিগত এবং ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য
ব্যবহৃত হত।
স্থাপত্য- চীনা সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে মসজিদ স্থাপত্যের
অভিযোজনযোগ্যতার একটি উদাহরণ হল শি'আনের গ্রেট মসজিদ। মসজিদটিতে এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা
বিশ্বজুড়ে মসজিদগুলিতে সাধারণত থাকে, যেমন কিবলা এবং মিহরাব, তবে এতে চীনা স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য এবং সাংস্কৃতিক প্রতীকও
রয়েছে।
চীনা শৈলীতে একটি
মসজিদ- সামগ্রিকভাবে, মিং এবং কিং যুগের মধ্যে নির্মিত বেশিরভাগ চীনা মসজিদের
মতো মসজিদটিও ঐতিহ্যবাহী চীনা স্থাপত্যের সাথে ইসলামী স্থাপত্যের সমন্বয় সাধন করেছিলো। কমপ্লেক্স
জুড়ে চীনা এবং ফার্সি-আরবি উভয় লিপিতে ক্যালিগ্রাফি দেখা যায়। শাহাদা(শাহাদা
হলো ইসলামের ঈমানের ঘোষণা এবং ইসলামের একটি মৌলিক স্তম্ভ, যার
অর্থ "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ
আল্লাহর রাসূল"।)র
মতো আরবি লেখাগুলি সিনি ক্যালিগ্রাফিক(সিনি ক্যালিগ্রাফি হল আরবি লিপির একটি
অনন্য চীনা শৈলী যা আরবি লেখার ঐতিহ্যকে চীনা শৈল্পিক নীতির সাথে মিশ্রিত করে)স্টাইলে
লেখা দেখা যায় এবং লেখার জন্য চীনা কালির ব্রাশের ব্যবহার করেছিলো।
উঠোন- মসজিদটি চারটি উঠোনের একটি প্রাচীরঘেরা।
চতুর্থ এবং পশ্চিমতম উঠোনে প্রার্থনা
কক্ষ অবস্থিত। প্রথম এবং দ্বিতীয় উঠোনটির বেশিরভাগই ঐতিহ্যবাহী চীনা বাগান, যেখানে তৃতীয় এবং
চতুর্থ উঠোনটিতে মসজিদের প্রধান কাঠামো অবস্থিত। উঠোনগুলি দেয়াল দ্বারা বিভক্ত
এবং প্রবেশপথ দ্বারা সংযুক্ত। উঠোনে উপস্থিত বেশিরভাগ স্থাপত্য মিং রাজবংশের সময়ে
বা পরে নির্মিত হয়েছিল। তবে, মিং রাজবংশের আগের সময়ের নিদর্শনও রয়েছে, যেমন দ্বিতীয় উঠোনের
দরজার ফলক, যা সং রাজবংশের সময়কার খোদাই করা ফলক। প্রতিটি
উঠোনে একটি কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে, যেমন একটি গেট, এবং সবুজ রঙের পাশাপাশি সহায়ক ভবন দিয়ে সারিবদ্ধ।
পাইফাং(পাইফাং যা পাইলু নামেও পরিচিত, কাঠ, ইট
বা পাথর দিয়ে তৈরি একটি ঐতিহ্যবাহী চীনা স্থাপত্য প্রবেশদ্বার বা খিলানপথ। যা
প্রায়শই খোদাই, টাইলস এবং শিলালিপি দিয়ে সজ্জিত।)দিয়ে সমস্ত উঠোনকে ফ্রেম করা। কিছু
পণ্ডিত দাবি করেন যে, উঠোনে পাইফাংয়ের সংখ্যা থেকে বোঝা যায় যে মুসলিম হুই
সম্প্রদায়কে হান নাগরিকদের মতোই সমান নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হত। উদাহরণস্বরূপ, প্রথম উঠোনে কিং
রাজবংশের একটি স্মৃতিস্তম্ভের গেট রয়েছে, যেখানে চতুর্থ উঠোনে ফিনিক্স প্যাভিলিয়ন রয়েছে, যা একটি ষড়ভুজাকার
গেজেবো(গেজেবো হল একটি ছোট, ছাদযুক্ত বহিরঙ্গন কাঠামো যা সাধারণত চারদিকে খোলা থাকে, যা
বিশ্রাম নেওয়ার, বাইরের পরিবেশ উপভোগ করার এবং রোদ ও বৃষ্টি থেকে আশ্রয়
দেওয়ার জায়গা প্রদান করে।)। পুরো কমপ্লেক্সের দেয়ালগুলিতে উদ্ভিদ এবং বস্তুর নকশা
এবং চীনা এবং আরবি উভয় ভাষায় শিলালিপি খোদাই করা রয়েছে। পাথরের স্টিল(পাথরের
স্টিল হল একটি খাড়া, সাধারণত লম্বা এবং সরু, পাথরের
স্ল্যাব বা স্তম্ভ যা একটি স্মৃতিস্তম্ভ, সমাধি চিহ্ন বা জনসাধারণের ঘোষণা হিসাবে কাজ করে।)গুলিতে মসজিদের মেরামতের কাজ রেকর্ড করা হয়েছে এবং
ক্যালিগ্রাফিক কাজগুলি দেখানো হয়েছে। দ্বিতীয় উঠোনে, দুটি পাথরের স্টিল
জাতিগত সম্প্রীতি প্রচার করে এমন লেখা প্রদর্শন করে।
যার মধ্যে একটিতে সং রাজবংশের
ক্যালিগ্রাফার মি ফু-এর লিপি রয়েছে বলে মনে করা হয়।
ফিনিক্স
প্যাভিলিয়নের ভিতরে- শেংজিনলু অথবা "হৃদয় টাওয়ার পরীক্ষা করা," তৃতীয়
উঠোনে একটি তিনতলা, অষ্টভুজাকার প্যাগোডা রয়েছে। কাঠামোটিতে
তাং রাজবংশের সময়কালের বেশ কয়েকটি স্টিল রয়েছে। এই কমপ্লেক্সটিকে মসজিদ হিসেবে
ব্যবহার করা সত্ত্বেও, জিয়ানের গ্রেট মসজিদে কোনও মিনার নেই। তবে, পেনসিলভানিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর ন্যান্সি স্টেইনহার্ডের মতো কিছু পণ্ডিত অনুমান করেন যে,
জিংজিন টাওয়ার মূলত মসজিদের মিনার হিসেবে কাজ করত, যা পূর্বে আজানের জন্য ব্যবহৃত
হত।এই উঠোনটি দর্শনার্থীদের প্রার্থনা পরিষেবায় যোগদানের জন্য। বর্তমান তৃতীয়
উঠোনটিতে মসজিদ সম্প্রদায়ের অনেক দৈনন্দিন কার্যকলাপ সংঘটিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, মসজিদের কেন্দ্রীয়
রান্নাঘর, আবাসিক ইমামের অফিস এবং অন্যান্য সরকারী প্রশাসনিক বিভাগ
এখানে অবস্থিত। চতুর্থ উঠোনে একটি বৃহত্তর প্রার্থনা কক্ষ রয়েছে।
যেখানে এক হাজারেরও বেশি লোক এক সাথে
বসতে পারে।
প্রার্থনা কক্ষ- বিশ্বাস করা হয় যে, প্রার্থনা কক্ষটি মিং রাজবংশের সময়
নির্মিত হয়েছিল, যদিও কিং যুগে উল্লেখযোগ্য পুনর্গঠন করা হয়েছিল। প্রার্থনা
কক্ষে অবস্থিত অসংখ্য কাঠের স্তম্ভ দ্বারা এই যুক্তিটি সমর্থন করা হয়েছে।
কারণ কাঠের স্তম্ভের ব্যবহার ইটের স্তম্ভের আগেকার, যা সাধারণত কিং
রাজবংশের ভবনগুলিতে ছিল। প্রার্থনা কক্ষটি একটি স্মৃতিস্তম্ভ কাঠের ভবন যার একটি
ফিরোজা হিপ ছাদ(একটি ফিরোজা হিপ ছাদ হল একটি হিপ ছাদ (একটি ছাদ যার সমস্ত দিক
দেয়ালের দিকে ঢালু), যা ফিরোজা রঙের ছাদ উপকরণ দিয়ে আবৃত থাকে, রঙ করা ডুগং (কাঠের
বন্ধনী), একটি ছয়-স্তম্ভযুক্ত বারান্দা এবং পাঁচটি দরজা রয়েছে।অনেক
মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যের বেশিরভাগ মসজিদের বিপরীতে, প্রার্থনা কক্ষটিতে
গম্বুজ আকৃতির ছাদ নেই, তবে সিরামিক আলংকারিক টাইলস দিয়ে আবৃত একটি চীনা ঐতিহ্যবাহী সূক্ষ্ম
সিলিং রয়েছে। এদিকে, প্রার্থনা কক্ষটি গাছপালা এবং ফুলের ছবি দিয়ে সজ্জিত। কাঠের বালাস্ট্রেড দিয়ে সারিবদ্ধ একটি বৃহৎ পাথরের
প্ল্যাটফর্মের উপর ছাদটি উত্থিত। বিস্তৃত প্রার্থনা কক্ষটিতে তিনটি সংযুক্ত ভবন
রয়েছে, একটির পিছনে আরেকটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে। নামাজ
কক্ষের সবচেয়ে দূরবর্তী অংশে পিছনের কিবলা দেয়ালটি অবস্থিত, যেখানে ফুল এবং কাঠের
ক্যালিগ্রাফিক নকশা খোদাই করা রয়েছে।•
জিনান গ্রেট সাউদার্ন মসজিদ
জিনান গ্রেট সাউদার্ন মসজিদ চীনের শানডং
প্রদেশের জিনান শহরের প্রাচীনতম মসজিদ। এটি ইউয়ান রাজবংশের সময় (১২৯৫ সালে) নির্মাণ
করা হয়েছিল। বর্তমান বেশিরভাগ কাঠামো মিং রাজবংশের সময়ে (১৪৩৬ এবং ১৪৯২ সালে)
নির্মিত হয়েছিল। মসজিদের মূল বিন্যাস হল একটি চীনা মন্দিরের মতো, যেখানে মসজিদ
হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলি একত্রিত করা হয়েছে।
ইতিহাস- কিংবদন্তি অনুসারে, গ্রেট সাউদার্ন মসজিদটি তাং রাজবংশের সময় নির্মাণ করা
হয়েছিল, তবে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য কোনও উল্লেখযোগ্য নথি নেই।
লিখিত রেকর্ড অনুসারে, , তেমুর খানের (ইউয়ানের সম্রাট চেংজং) রাজত্বের প্রথম বছরে
বর্তমানের স্থানে মসজিদটি ১২৯৫ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল।
বর্তমান কাঠামোর নির্মাণ কাজ ১৪২০ এবং ১৪৩০ এর
দশকে শুরু হয়েছিল। হংঝি সম্রাটের রাজত্বের পঞ্চম বছরে, ১৪৯২ সালে
উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। মিং রাজবংশের জিয়াজিং (১৫২১-১৫৬৭) এবং
ওয়ানলি (১৫৭২-১৬২০) সম্রাট, চিং রাজবংশের জিয়াকিং (১৭৯৬-১৮২০), দাওগুয়াং
(১৮২০-১৮৫০) এবং টংঝি (১৮৬১-১৮৭৫) সম্রাটদের রাজত্বকালে এবং প্রাথমিক রিপাবলিকান
যুগে রেকর্ডকৃত সংস্কার করা হয়েছিল।
স্থাপত্য- মসজিদের মূল বিন্যাসটি একটি
ঐতিহ্যবাহী চীনা মন্দিরের উঠোনের স্টাইলে নির্মিত।
সাধারণত যেখানে একটি চীনা মন্দিরে, প্রধান অক্ষ(একটি বস্তুর মাঝখান দিয়ে আমরা কল্পনা করি
এমন একটি রেখা, যার চারপাশে বস্তুটি ঘোরে)টি সাধারণত উত্তর-দক্ষিণ দিকে অবস্থিত থাকে, সেখানে গ্রেট
সাউদার্ন মসজিদের প্রধান অক্ষটি পূর্ব-পশ্চিম দিকে অবস্থিত। যাতে প্রধান প্রার্থনা
কক্ষে প্রবেশের সময় একজন ব্যক্তি পশ্চিম দিকে (মক্কার দিকে) মুখ করে প্রবেশ করতে
পারে।
চীনা ঐতিহ্য অনুসারে, মসজিদের প্রধান
প্রবেশদ্বারটি একটি আত্মার(চীনে মন্দির, পবিত্র স্থান এবং ব্যক্তিগত বাসস্থানের প্রবেশপথের সামনে
আত্মার দেয়াল বা আত্মার পর্দা স্থাপন করা হত। আত্মার দেয়াল তাঁদের স্থাপনায় মন্দ
আত্মাদের প্রবেশ রোধ করতে সাহায্য করত।) প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত। মসজিদটি মোট ৬৬৩০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, যার মধ্যে ২৮৩০ বর্গমিটার ভবন দ্বারা আচ্ছাদিত।•
ফুয়ু রোড মসজিদ
ফুয়ু
রোড মসজিদ উত্তর মসজিদ নামেও পরিচিত।
মসজিদটি চীনের সাংহাইয়ের হুয়াংপু জেলায় অবস্থিত।
ইতিহাস- মসজিদটি নির্মাণের আগে নানজিংয়ের মুসলমানরা নামাজের জন্য
দুটি ঘর ভাড়া নিয়েছিল। ১৮৭০ সালে ৩১ জন মুসলমানের একটি দল তহবিল সংগ্রহ করে ৪০০ বর্গমিটার
জমি কিনে এবং কিং রাজবংশের টংঝি সম্রাটের রাজত্বের ৯ম বছরে ফুয়ু রোড মসজিদটি
নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে
১৮৯৭, ১৯০৫, ১৯৩৬ এবং ১৯৭৯ সালে মসজিদটি বেশ কয়েকবার সংস্কার ও
সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
স্থাপত্য- চিং রাজবংশের রীতিতে নির্মিত তিনতলাবিশিষ্ট ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি
১,৫২০
বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
ভবনটিতে প্রার্থনা কক্ষ, দর্শক কক্ষ, ডিনের কক্ষ, গ্রন্থাগার, সম্মেলন কক্ষ, বাথরুম এবং অন্যান্য
সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ভবনের প্রবেশপথের ঠিক পরেই একটি আয়তাকার আঙিনা(উঠোন)
রয়েছে। উঠোনের উত্তরে ওযু কক্ষ এবং দক্ষিণে প্রার্থনা কক্ষ অবস্থিত।মসজিদের ভেতরে
বিভিন্ন ধরণের নকশাসহ অনেক সাজসজ্জা রয়েছে।
কার্যক্রম- পূর্বে সাংহাইয়ের মুসলিমদের রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং
সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে মসজিদটি ব্যবহৃত হত। সাংহাইয়ের আধুনিক ইতিহাসের প্রথম
ইসলামী বিদ্যালয় উ বেন প্রাথমিক বিদ্যালয় এখানে অবস্থিত ছিল। তবে, বর্তমানে মসজিদটি
শহরের নামাজ এবং অন্যান্য মুসলিম কার্যকলাপের সেবা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। মসজিদটি
১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সাংহাই ইসলামিক বোর্ড অফ ডিরেক্টরসের বাসভবন।
পরিবহন- সাংহাই মেট্রোর ইউয়ুয়ান গার্ডেন স্টেশনের পূর্ব দিকে
হাঁটার দূরত্বে মসজিদটি অবস্থিত।•
জিয়াওতাওয়ুয়ান মসজিদ
জিয়াওতাওয়ুয়ান মসজিদ পূর্বে ইসলামিক
ওয়েস্টার্ন মসজিদ বা সাংহাই ওয়েস্টার্ন মসজিদ নামে পরিচিত।
মসজিদটি চীনের
সাংহাইয়ের হুয়াংপু জেলায় অবস্থিত। এটি
সাংহাইয়ের বৃহত্তম মসজিদ।
ইতিহাস- জিয়াওতাওয়ুয়ান মসজিদটি মূলত ১৯১৭ সালে সাংহাই ইসলামিক
বোর্ড অফ ডিরেক্টরস-এর পরিচালক জিন জিয়ুন দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।
জমিও জিন জিয়ুন কিনেছিলেন। এরপর মসজিদটি ১৯২৫ সালে পুনর্নির্মাণ করা হয় এবং দুই
বছর পরে বর্তমানের আকারে মসজিদটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। মসজিদটি নির্মাণের
স্থানটি মূলত সাংহাই ইসলামিক নরমাল স্কুলের ছিলো।
স্কুলটি পরবর্তীতে কিংলিয়ান স্ট্রিটে স্থানান্তরিত করা হয় এবং এর নামকরণ করা হয়
পিংলিয়াং ইসলামিক নরমাল স্কুল। মসজিদগুলি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য স্কুলগুলির
মধ্যে রয়েছে ইসলাম নরমাল স্কুল, মুসলিমদের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিংচেং প্রাথমিক
বিদ্যালয়, চংবেন প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাংহাই ইসলাম এতিমখানা ইত্যাদি।
১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর গণপ্রজাতন্ত্রী চীন
প্রতিষ্ঠার পর, সাংহাইয়ের মেয়র চেন ই মসজিদটি পরিদর্শন করেন এবং এর
রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উপযুক্ত তহবিল অনুমোদন করেন। ১৯৯৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, সাংহাই পৌর সরকার
মসজিদটিকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
স্থাপত্য- ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি চীনা স্থাপত্যের সংমিশ্রণে পশ্চিম
এশীয় ইসলামী রীতিতে নির্মাণ করা হয়েছিল। মসজিদটির
বাইরের অংশ সবুজ এবং সাদা রঙে রঙ করা হয়েছে। এর প্রবেশপথের উপরে ক্যালিগ্রাফার
লুও জুন্তির চীনা ভাষায় 'মসজিদ' শব্দটি আঁকা রয়েছে। প্রধান দ্বিতল নামাজ কক্ষটি ৫০০
বর্গমিটার আয়তনের, ৫০০ জন পর্যন্ত মুসুল্লি এক সাথে নামাজ পড়তে পারে। মসজিদটির
চার কোণে একটি করে মিনার এবং চারটি গম্বুজ রয়েছে।
মসজিদটিতে একটি আয়তক্ষেত্রাকার উঠোন রয়েছে। উঠোনের
পূর্ব দিকে একটি তিনতলাবিশিষ্ট চীনা শৈলীর ভবন রয়েছে যেখানে বক্তৃতা কক্ষ, অফিস, গ্রন্থাগার, পাঠাগার, খুতবা কক্ষ এবং অজু
করার সুবিধা রয়েছে। উঠোনের দক্ষিণ দিকে ইমামের কক্ষ, অভ্যর্থনা কক্ষ এবং
বাথরুম রয়েছে। মূল মসজিদ ভবনের পাশেই ২৪ জিয়াওতাওয়ুয়ান স্ট্রিটে মহিলাদের জন্য
জিয়াওতাওয়ুয়ান মসজিদ রয়েছে। ভবনটি ১৯২০ সালে নির্মিত হয়েছিল এবং ১৯৯৪ সালে
সংস্কার করা হয়েছে।
কার্যক্রম- ১৯২০-১৯৪০ সালে মসজিদটি চীনের আশেপাশের অঞ্চল থেকে সৌদি আরবে হজ্জে
যাওয়ার জন্য আসা মুসলিমদের সেবা প্রদান করত। মসজিদটিতে
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত সাংহাই ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন এবং সাংহাই মসজিদ পরিচালনা
কমিটিও অবস্থিত। মহিলাদের মসজিদটি সাংহাইতে মুসলিম মহিলাদের জন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের
আয়োজন করে। অনেক চীনা এবং বিদেশী মুসলিম নামাজে অংশগ্রহণ করতে মসজিদেটিতে সমবেত
হন। অনেক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং ইসলামী দেশগুলির মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিরাও
মসজিদটি পরিদর্শন করেছেন এবং নামাজে অংশগ্রহণ করেছেন।
পরিবহন- সাংহাই মেট্রোর লাওক্সিমেন স্টেশনের পূর্ব দিকে হাঁটার
দূরত্বে মসজিদটি অবস্থিত।•
লাসা গ্রেট
মসজিদ
লাসা গ্রেট মসজিদ হেবালিন মসজিদ নামেও পরিচিত।
মসজিদটি চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের লাসায় অবস্থিত।
ইতিহাস- মসজিদটি মূলত ১৭১৬ সালে নির্মিত হয়েছিল। ১৭৯৩ সালে
মসজিদটি আরও সম্প্রসারিত হয়। মসজিদটি মূলত কাশ্মীরের লাসায় বসতি স্থাপনকারী
ব্যবসায়ীদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। ১৯৫৯ সালের তিব্বতি বিদ্রোহের সময় তিব্বতি
জনতা দ্বারা মসজিদটি ধ্বংস হওয়ার পরপরই, মসজিদটি পুনর্নির্মাণ এবং সংস্কার করা হয়েছিলো।
সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় একটি কমিটি
অফিস এবং কৃষি সমবায় স্থান হিসাবে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯৭৮
সালে, মসজিদটিকে একটি ধর্মীয় স্থান হিসাবে পুনঃস্থাপন করা হয়। ২০০৮
সালের তিব্বতি অস্থিরতার সময়(তিব্বতি অস্থিরতা বলতে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির
(সিসিপি) শাসনের বিরুদ্ধে তিব্বতিদের বিভিন্ন প্রতিবাদ, বিদ্রোহ
এবং বিক্ষোভকে বোঝায়, বিশেষ করে ১৯৫৯ সালের তিব্বতি বিদ্রোহ, যার ফলে দালাই লামা
ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন এবং ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকের সময় ব্যাপক বিক্ষোভ
প্রদর্শিত হয়েছিলো।) তিব্বতি জনতা মসজিদটি পুড়িয়ে দিয়েছিলো।
স্থাপত্য- মসজিদের তিনটি প্রবেশপথ এবং বিশিষ্ট একটি উঠান রয়েছে।
উঠোনটি মোট ২,৬০০ বর্গমিটার এলাকা
জুড়ে বিস্তৃত। মসজিদটির নির্মাণ এলাকা ১,৩০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। যার মধ্যে রয়েছে প্রার্থনা কক্ষ, পাই ভবন(পাই
বিল্ডিং" কোনও আদর্শ বা স্বীকৃত শব্দ নয়, তবে
"পাই" সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করে এমন বেশ কয়েকটি স্বতন্ত্র ধারণা
রয়েছে:), বাঙ্কার ভবন, ওযু হল, বাথরুম এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। প্রার্থনা কক্ষটি
পশ্চিমে অবস্থিত, যা ২৮৫ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। যার মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ হল, খোলা হল এবং প্রধান
প্ল্যাটফর্ম। ভবনটির স্থাপত্য ঐতিহ্যবাহী জাং স্থাপত্য শৈলী এবং ধর্মীয় এবং
স্থানীয় বৈশিষ্ট্যগুলিকেও একত্রিত(সন্মিলিত)করেছে।•
ইদ কাহ
মসজিদ
ইদ কাহ মসজিদ চীনের জিনজিয়াংয়ের কাশগরে
অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ এবং পর্যটন স্থান।
ইতিহাস- মসজিদটি ১৪৪২ সালে
নির্মিত হয়েছিল যদিও এতে ৯৯৬ সালের পুরনো কাঠামো অন্তর্ভুক্ত ছিল। আমির
সাইয়্যিদ আলীর দুই পুত্রের মধ্যে বড় পুত্র সাকসিজ মির্জা তাঁর পূর্বপুরুষদের
স্মরণে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। মসজিদটি প্রায় ১৬,০০০ বর্গমিটার এলাকা
জুড়ে বিস্তৃত।"আমির সৈয়দ আলী" নামে পরিচিত দুজন বিশিষ্ট ঐতিহাসিক
ব্যক্তিত্ব ছিলেন, এবং তাদের কেউই কেবল চীনের বাসিন্দা ছিলেন না, তবে একজন চীনে মঙ্গোল
শাসনের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং অন্যজন ছিলেন একজন পারস্য পণ্ডিত যিনি মধ্য এশিয়ার
কিছু অংশ ভ্রমণ করেছিলেন বলে জানা যায়। মীর সাইয়্যেদ আলী হামাদানি (আনুমানিক ১৩১৪-১৩৮৪) ছিলেন
একজন পারস্যের সুফি সাধক, পণ্ডিত এবং কবি যিনি কুবরাউই তরিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং
মধ্য এশিয়া ও কাশ্মীরে ইসলামের প্রসারে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।
৯৯৬ সালের পুরনো ভবনটি প্রতিস্থাপন করে আধুনিক সোনালী ইটের মসজিদ
কাঠামোটি ১৭৯৮ সালে নির্মিত হয়েছিল এবং ১৮৩৮ সালে বর্তমান আকারে আরও সম্প্রসারিত
করা হয়েছে। ১৯৩৩ সালের ৯ আগস্ট, চীনা মুসলিম জেনারেল মা ঝানচাং ইদ কাহ এই মসজিদটিতে উইঘুর
নেতা তৈমুর বেগকে হত্যা করে শিরশ্ছেদ করেছিলেন।
জানা যায় যে, ১৯৩৪ সালের মার্চ মাসে উইঘুর
আমির আবদুল্লাহ বুগরারও শিরশ্ছেদ করা হয়েছিছলো এবং তাঁর মাথাটি ইদ কাহ মসজিদে
প্রদর্শিত হয়েছিলো।
১৯৩৪ সালের এপ্রিল মাসে, চীনা মুসলিম জেনারেল
মা ঝংইং কাশগরের ইদ কাহ মসজিদে একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন এবং তিনি উইঘুরদের চীন প্রজাতন্ত্রের নানজিংয়ের কুওমিনতাং সরকারের প্রতি
অনুগত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ১৯৮১ সালে মসজিদটি সংস্কার করা হয়েছে এবং ২০০৪
থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে মসজিদের সম্মুখভাগ টাইলস দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রপতি আকবর রাফসানজানি ১৯৯২ সালের
সেপ্টেম্বরে মসজিদটি পরিদর্শন করেছিলেন। ২০১৪ সালের ৩০ জুলাই তৎকালীন মসজিদের ইমাম
জুমে তাহিরকে ফজরের নামাজে যোগদানের পরপরই চরমপন্থীরা ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছিলো। তাঁর
অজ্ঞাত উত্তরসূরীকে উগ্রবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালে চীনা কর্তৃপক্ষ ১৫
বছরের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে । মসজিদের বর্তমান ইমাম হলেন মেমেত জুমে।
মসজিদে মুসুল্লির
সংখ্যা হ্রাস- ২০০৯ সালে পর্যন্ত ইদ
কাহ ছিল জিনজিয়াং এবং চীনের বৃহত্তম মসজিদ। প্রতি শুক্রবার মসজিদটিতে প্রায় ১০,০০০ মুসল্লি থাকতেন
এবং কোন কোন সময় ২০,০০০ পর্যন্ত মুসল্লিও মসজিদে জমায়েত হতেন। সপ্তাহের
অন্যান্য দিনগুলিতে প্রায় ২,০০০ মুসলিম মসজিদে নামাজ পড়তে আসতেন।
২০১১ সালে, ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ মুসুল্লি মসজিদে শুক্রবারের নামাজে অংশগ্রহণ করতেন।তবে, বর্তমান মসজিদের ইমাম, মেমেত জুমে, ২০২১ সালে
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, ২০২১ সালে মসজিদটিতে
শুক্রবারের নামাজে অংশগ্রহণ করা মুসল্লির সংখ্যা ৮০০ থেকে ৯০০-এর মধ্যে নেমে এসেছে; তিনি মুসুল্লির এই
হ্রাসের কারণ হিসেবে চীনা সরকারের নীতির পরিবর্তে "মূল্যবোধের স্বাভাবিক
পরিবর্তন"কে দায়ী করেছেন।
স্থাপত্য- মসজিদটির স্থাপত্যে মধ্য এশীয়, পশ্চিম এশীয় এবং কম
পরিমাণে চীনা স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্যগুলি পরিলক্ষিত হয়। মসজিদটি প্রার্থনা কক্ষকে
কেন্দ্র করে অবস্থিত এবং এর উভয় পাশে একটি উঠোন রয়েছে।
ঈদ কাহ মসজিদে একটি চ্যাপেল, একটি সূত্র কক্ষ, একটি গেট টাওয়ার এবং
কিছু অন্যান্য সহায়ক ভবন রয়েছে। মসজিদের গেটটি হলুদ ইট দিয়ে তৈরি। গেটটি
৪.৭ মিটার উঁচু, ৪.৩
মিটার প্রশস্ত। গেট টাওয়ারের উভয় পাশে
দুটি ১৮ মিটার উঁচু মিনার
অসমভাবে নির্মিত এবং টাওয়ারের উপরে একটি অর্ধচন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিন
ভোরবেলা থেকে এশ্বার নামাজ পর্যন্ত মসজিদের ইমাম পাঁচবার টাওয়ারে আরোহণ করেন এবং মুসলমানদের
ইবাদত করতে আসার জন্য আহ্বান জানান অর্থাৎ আযান দেন। গেট টাওয়ারের পিছনে একটি বড়
খিলান রয়েছে, যার উপরে একটি মিনার রয়েছে।
প্রবেশপথের ফলক- রেডিও ফ্রি এশিয়া ২০১৮ সালে রিপোর্ট করেছিল যে, মসজিদের
সামনের প্রবেশপথের বাইরে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা কুরআনের আয়াত সম্বলিত
একটি ফলক কর্তৃপক্ষ সরিয়ে ফেলেছে। ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেসের তুরঘুনজান আলাউদুন
বলেন যে, এই পদক্ষেপ "চীনা শাসনের দুষ্ট নীতির একটি দিক যার লক্ষ্য ছিল
উইঘুরদের মধ্যে ইসলামী বিশ্বাস, উইঘুর বিশ্বাস, সাহিত্যকর্ম এবং ভাষা নির্মূল করা।" ২০২০ সালের মে
মাসে, রেডিও ফ্রি এশিয়া আবার ফলকটি অপসারণের বিষয়ে রিপোর্ট
করেছিল।
বর্তমান অবস্থা- দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল
জানিয়েছে যে, ঈদ কাহ মসজিদটি একটি কার্যকর মসজিদ থেকে একটি পর্যটন আকর্ষণে
রূপান্তরিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক উইঘুর মানবাধিকার প্রকল্পের
হেনরিক সাদজিউস্কি রেডিও ফ্রি এশিয়াকে বলেছেন যে, মসজিদটি দাঁড়িয়ে থাকলেও, "এর
গুরুত্ব বিবেচনা করে এর অন্তর্ধান ক্ষোভের সৃষ্টি করবে। চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে এর
অস্তিত্বের তাৎপর্য হল বিশ্বকে উইঘুরদের ধর্মীয় উৎসব পালনের স্বাধীনতার বিষয়টি
প্রদর্শন করা।" ২০১২ সালে চীন থেকে পালিয়ে আসা উইঘুর ইমাম আলী আকবর
দুমাল্লাহর মতে, ঈদ কাহ এবং অন্যান্য মসজিদে ছোট ছোট মানুষের নামাজ পড়ার
দৃশ্য সরকার দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করে। বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেসের মতে, ২০২১ সালের ঈদুল ফিতর
উদযাপনের সময় ইদ কাহ মসজিদের বাইরে যে, গণউৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছিল তা চীনা কর্তৃপক্ষের
প্রচারণার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছিল, যাতে জিনজিয়াংকে শক্তিশালী ধর্মীয় স্বাধীনতার অঞ্চল
হিসেবে মিথ্যাভাবে চিত্রিত করা যায় এবং এই অঞ্চলে তাদের ধর্মীয় নিপীড়নকে সাদা
করে তোলা যায়।•
নাজিয়াইং মসজিদ
নাজিয়াইং মসজিদটি চীনের ইউনান প্রদেশের
ইউক্সি শহরের টোংহাই কাউন্টিতে অবস্থিত।
ইতিহাস- মসজিদটি মূলত ১৩৭০ সালে নির্মিত হয়েছিল। গত ৬০০ বছরে
মসজিদটি বেশ কয়েকবার সম্প্রসারিত হয়েছে। ২০০৪ সালে একটি নতুন মসজিদ ভবন নির্মাণ
করা হয়েছে। ২০১৯ সালে, মসজিদের কিছু অংশকে একটি সংরক্ষিত সাংস্কৃতিক নিদর্শন
হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে সরকার কর্তৃপক্ষ দ্বারা মসজিদের
গম্বুজযুক্ত ছাদ ভাঙার প্রচেষ্টা থামাতে স্থানীয়রা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত
হয়েছিলো।
স্থাপত্য- স্থানীয় পাহাড়ি স্থাপনা অনুসারে, নতুন মসজিদ ভবনটিতে
পাঁচ তলাবিশিষ্ট। মসজিদটিতে চারটি মিনার এবং একটি গম্বুজ রয়েছে। প্রার্থনা হলটি ১০,০০০ বর্গমিটার (১১০,০০০ বর্গফুট) এলাকা
জুড়ে বিস্তৃত। মিনারগুলির উচ্চতা ৭২.৪ মিটার (২৩৮ ফুট)। দ্বিতীয় তলায় ৩,০০০ মুসল্লি এক সাথে
নামাজ পড়তে পারেন। পুরাতন ভবনটি ঐতিহ্যবাহী চীনা শৈলীতে তৈরি এবং
নতুন মসজিদ ভবনটি নির্মাণ হওয়ার পর থেকে মসজিদটি মহিলাদের জন্য ব্যবহার হচ্ছে,
যেখানে ৮০০ মুসল্লি ধারণক্ষমতা রয়েছে।•
সমাপ্ত
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন